#তাসনিম_তামান্না
#ভালোবাসি_প্রিয়তম
#পর্ব_৭
🍁🍁🍁
কলেজের ব্রেক টাইমের কুয়াশা কেন্টিনে যাওয়ার জন্য শিরি দিয়ে নিচে যাচ্ছিল সবার লাস্টে আর আনমনে হাটায় সিলিপ কেটে পড়ে যেতে নিলেই কেউ এসে কুয়াশার কোমড় জড়িয়ে ধরে। কুয়াশা ভয়ে চোখ বন্ধ করে নেই।কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে কোনো ব্যাথা অনুভব না করাই পিটপিট করে চোখ খুলে একটা অপরিচিত ছেলেকে দেখে ছিটকে দূরে সরে যেয়ে ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে থাকে ছেলেটার দিকে।
-আর ইউ ওকে মিস(রাজ)
কুয়াশা উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে বলল ‘হ্যাঁ’
-তোমার নাম কি?(রাজ)
-কু কুয়াশা(কুয়াশা)
-হোয়াট!!(অবাক+চিল্লিয়ে বলল রাজ)
কুয়াশা রাজের চিল্লানিতে ভয় আরো বেড়ে যায়।
-এই তুমি আমাকে ভয় পাচ্ছো? ভয়ের কোনো কারণ নেই আ’ম রাজ ইউর সিনিয়ার ওকে বাই তোমার সাথে পরে কথা হবে(ঘড়ি দেখে তাড়াহুড়া করেই বাঁকা হেসে চলে গেলো রাজ)
রাজ চলে যেতেই স্তরতির শ্বাস নিলো।তখনি হঠাৎ পিছন থেকে বলে উঠলো
-ছেলেদের সাথে গা ঘেঁষাঘেষি করতে খুব ভালো লাগে তোমার।(তুষার)
কুয়াশা পিছনে ফিরে দেখলো তুষার আর রুকাইয়া দাড়িয়ে আছে। কিন্তু কি বলল ওর বোধগাম্য হলো না।
-এসব কি বলছিস তুষার ওর তো কোনো দোষ নাই ওতো সিলিপ কেটে পড়ে যাচ্ছিলো আর রাজ ও….(রুকাইয়া)
-সাট আপ! কখনো কারোর সাথে ধাক্কা লাগে,কখনো ও পড়ে যেতে নিলে কেউ ওকে ধরে ফেলে আর তো কারোর সাথে এমন হয় না আসলে তোমার ইনোসেন ফেসের পিছনে কি আছে বলবে?আবার কথায় কথায় কাঁদোও, কাঁদলে সাত খুন মাফ।কেঁদে নিজেকে ইনোসেন্ট বানানোর কোনো দরকার না আমার সামনে অন্তত নাই। নিজের রুপ দেখিয়ে ছেলেদের পাগল বানাতে চাও। তোমার আসল রুপ এতোদিনে বুঝতে পারলাম।(তুষার)
কু্যাশা তুষারের কথা শুনে খুব খারাপ লাগলো।চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তেছে।
-এই আবার কাঁদছ কেনো তোমার আসল রুপ জেনে গেছি বলে।ডোন্ট ওয়ারি তোমার আসল রুপ কাউকে বলবো না তুমি তোমার কাজ চালিয়ে যাও।তুমি বললে আমি তোমাকে হেল্প করতে পা…………(তুষার)
তুষার আর কিছু বলতে পারলো না তার আগেই কুয়াশা ওখান থেকে দৌড়ে চলে গেলো।তুষার রাগে ওর মাথা দপদপ করছে। হাত মুঠো করে জোরে জোরে শ্বাস নিলো।
-এটা কি করলি তুই বাচ্চা মেয়ে সাথে এমন….(রুকাইয়া)
-তুই চুপ কর এই মেয়ে ইনোসেন্ট সাজার চেষ্টা করে আর তার জালে তোরাও ফেঁসেছিস।(তুষার)
-দেখ এখানে আমি তো কুয়াশার কোনো দোষ দেখছি না তুই অযথায় ভুল বুঝছিস(রুকাইয়া)
-আমি কোনো ভুল বুঝছি না তোদের চোখে ঔ মেয়েকেই ঠিক মনে হচ্ছে দুদিনের পরিচয়ে মাথায় উঠে বসছে তোদেরকে কিভাবে ফাঁসাইছে সেটা দেখ আমি আর এই নিয়ে একটা কথাও শুনে চাছি না(বলে চলে গেলো তুষার)
রুকাইয়া দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে সেও চলে গেলো।
★★★
কুয়াশা কাউকে কিছু না বলে বাসায় এসে দরজা বন্ধ করে ইচ্ছে মতো কান্না করছে। পাখি অনেক বার ডাকছে কিন্তু কুয়াশা দরজা খুলে নি।কুয়াশা দরজা খুলছে না দেখে পাখি ভয় পেয়ে কুশানকে ফোন দিয়ে বাসায় আসতে বলল।কুশান বাসায় এসে বোনের দরজা এসে আদুরে স্বরে বলল
-বাবুইপাখি কি হইছে আমার বোনটার দেখি দরজা খোলো(কুশান)
কুয়াশা সবার ডাক উপেক্ষা করতে পারলেও তার ভাইয়ের ডাক কখনো উপেক্ষা করতে পারবে না।চোখমুখ ভালো করে মুছে গুটিগুটি পায়ে দরজা খুললো মুখে কৃত্রিম হাসি আনার চেষ্টা করছে কিন্তু সে ব্যাথ।কুশান কুয়াশাকে দেখে বুকে মোচর দিয়ে উঠল কুয়াশার ফোলাফোলা লাল চোখ,নাকটাও লাল,চুলগুলো এলোমেলো। কুশান রুমে ডুকে কুয়াশাকে পাশে বসিয়ে বলল
-কি হইছে বাবুইয়ের কান্না করছে কেনো?(কুশান)
-কি কিছু হহইনি তো ভাইয়া আর কই কান্না করছি(কুয়াশা)
-এখন ভাইয়াকেও মিথ্যা বলা শিখে গেছিস(কুশান)
কুয়াশা আর নিজে আটকে রাখতে পারলো না কুশানকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে দিলো। কুশানও পরম স্নেহে জড়িয়ে ধরলো।
-কি হইছে বল ভাইয়াকে(কুশান)
কুয়শা ফুপাতে ফুপাতে বলল
-ভাইয়া আমি কি খুব খারাপ একটা মেয়ে (কুয়াশা)
কুশান কুয়াশার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল
-কে বলে তুই তো আমার বেষ্ট বোন(কুশান)
-না ভাইয়া তুমি সত্যি কথা বল আমি খারাপ মেয়ে তাই না(কুয়াশা)
-এসব কে বলছে বোন তুই কেনো খারাপ হবি তুই তো আমার ভালো বোন যে বলেছে সে খারাপ মানুষকে চিনতে পারেনা(কুশান)
কুয়াশা কিছু বললো না চুপটি করে ভাইয়ের বুকে মাথা দিয়ে গুটিগুটি হয়ে বসে আছে।পাখি সুপ নিয়ে এসে বলল
-বাহ এতোক্ষণ আমি ডাকলাম শুনলি না যেই ভাই ডাকলো ওমনি দরজা খুলে দিলি আমি তো কেউ না তাই না আমার কথা কেনো শুনবি(পাখি)
পাখির কথায় কুয়াশা মিটমিট করে হেসে উঠলো।কুয়াশার হাসি দেখে কুশান যেন শান্তি খুঁজে পেলো।
পাখি অভিমান করে সুপের বাটিটা টি-টেবিলে রেখে চলে আসতে নিলেই কুয়াশা পিছন দিক থেকে জড়িয়ে ধরে বলল
-ভাবিপু তুমি তো আমার বেষ্ট আপু এভাবে রাগ করো কেনো কষ্ট হয় তো(কুয়াশা)
-থাক থাক আর ঢং করতে হবে না সুপটা খেয়ে নে অনেকক্ষণ তো কিছু খাসনি(পাখি)
-খাইতে ইচ্ছে করছে না তুমি খাইয়ে দিলে ইচ্ছে হবে খেতে(কুয়াশা)
পাখি হেসে দিয়ে বলল
-যা ফ্রেশ হয়ে আই দিচ্ছি
‘ওকে’ বলে পাখি আর কুশানকে কিস দিয়ে ফ্রেশ হতে গেলো।
-কি হলো মেয়েটার এমন তো কখনো করেনি(পাখি)
-কারোর কথায় কষ্ট পাইচ্ছে মনে হয়(কুশান)
-কে কি বলবে ওকে(পাখি)
-জানি না মেঘার কাছে শুনো তো(কুশান)
-মেঘা ফোন দিয়ে ছিলো ওরাও কেউ জানে না কুয়াশার কি হইছে(পাখি)
-আচ্ছা ওকে আর এসব নিয়ে কিছু শুনো না(কুশান)
-আচ্ছা তুমি কি আবার অফিসে যাবে(পাখি)
-হ্যাঁ আমার ইনপটেন মিটিং আছে যেতে হবে কুশ, শান কই ওরা(কুশান)
-ওরা খেলছে(পাখি)
কুশান পাখি কপালে কিস দিয়ে বলল
-সবার সাথে নিজের খেয়াল রেখো বউ আসছি(কুশান)
বলে চলে গেলো কুশান।এটা নতুন কিছু না যত বারি বাইরে যায় এমনটাই করে কুশান।
কুয়াশা খেয়ে ঘুমালো এতো কান্না করার জন্য ওর মাথা ব্যাথা করছে, আর ক্লান্ত ও লাগছে। ঘুমানোর আগেও তুষারের কথা গুলো ভেবে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
★★★
তুষার আর তুষারের ফেন্ডরা সবাই বসে গল্প করছে।
-আজ দু’দিন কুয়াশা, মেঘা বা ওদের কোনো ফেন্ডরা কলেজে আসছে না কেনো?(তন্নি)
-তুষারের কথায় কষ্ট পাইছে তাই আসছে না(মুন)
-কুয়াশা কষ্ট পাইছে কিন্তু ওর ফেন্ডেরা কেনো আসছে না?(রিদ)
-ওদিন ওভাবে বলা উচিত হয়নি তোর(তুষারের উদ্দেশ্য করে বলল সাদাফ)
-তোদের কাছ থেকে শিখতে হবে কিভাবে কথা বলবো আমি(তুষার)
-আজব তো এভাবে ওভার রিয়াক্ট করছিস কেনো তুই সব দেখেও তুই…থাক তোরকে বোঝানোটাই বেকার(রুকাইয়া)
-মেয়েটা কিছু হলো না তো মেয়েটা আর যায় করুক পড়াশোনায় কোনো ফাঁকি দেবে না(হাসান)
হাসানে ‘মেয়েটার কিছু হলো না তো’ কথাটা শুনে তুষারের বুকটা ধক করে উঠলো।তুষার মুখে যত যায়ই বলুক না কেনো এই দু’টো দিন ওর দু-চোখ শুধু কুয়াশাকেই খুঁজেছে।কুয়াশাকে তুষার মিস করছে ও নিজেও সেটা উপলোভধী করতে পেরেছে।
-হুম কুয়াশা অনলাইনেও আসে নি এই দু’দিন (রিদ)
-ওরদের কারোর ফোন নাম্বার ও নাই বাসার ঠিকানাও জানি না তো(তন্নি)
-হুম ঢংগী আসছে চুপ কর(মুন)
সবাই দেখলো রিমা এদিকে আসছে
-কি নিয়ে কথা বলছো তোমরা(তুষারের গা ঘেঁষে দাড়িয়ে বলল রিমা)
-সেটা তোমার না জানলেও চলবে(রুকাইয়া বলে চলে গেলো)
রুকাইয়ার পিছনে পিছনে সবাই-ই গেলো তুষার যেতে নিলে।রিমা আটকে দেই।
-তুমি কোথায় যাচ্ছো বাবু(রিমা তুষারের হাত ধরে বলল)
তুষার রিমার হাত ঝাড়া দিয়ে বলল
-তুই আমার বোন হোস বোন থাক আর বলছি না এভাবে গা ঘেঁষেবি না বেহাইয়াদের মতো(তুষার)
-ভালোবাসা পাওয়ার বেহায়া,নিলজ্জ হতেও রাজী(রিমা)
-হাহাহা হাসালি ভালোবাসার মানে জানিস যে তুই ভালোবাসতে আসছিস তুই তো আমার বাবার টাকা,আর সম্পত্তির জন্য আমি শত অপমান করার পরেও আসিস(তুষার)
-তুষার তুমি যেটা ভাবছো সেটা না আমি তোমাকে সত্যি ভা…..(রিমা)
-আমাকে ভাইয়া বলে ডাকবি। আর আমি যেটা ভাবছি সেটা ঠিক আমিও জানি তুইও জানিস তাহলে এতো এক্টিং করার করো মানে হয় না(তুষার)
বলে তুষার ওখান থেকে চলে গেলো। রিমা রীতিমত রাগে ফোঁস ফোঁস করছে।
#চলবে
#tasnim_tamanna
[ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।]