#তাসনিম_তামান্না
#ভালোবাসি_প্রিয়তম
#পর্ব_৮
🍁🍁🍁
আজ সাত দিন পর কুয়াশা কলেজে আসলো। কলেজের চারিদিকে একটা আনন্দ আনন্দ ভাব সবাই এদিক ওদিক ছুটাছুটি করে কোনো না কোনো কাজ করছে। কুয়াশা এসব দেখে একটু অবাক হলো কি হচ্ছে এসব ওর মাথায় ডুকছে না শুধু ড্যাবড্যাব করে দেখছে।
-কি হচ্ছে রে কলেজে(কুয়াশা)
-মনে হয় কোনো অনুষ্ঠান হবে(ঈশান)
-মনে হয় না অনুষ্ঠানই হবে সংস্কৃতি অনুষ্ঠান(মেঘা)
-তুই কেমন করে জানলি?জানলি তো জানলি আমাকে একবারও বললি না?(কুয়াশা)
-আরে আমিও জানতাম না স্যার ভাইয়ার(মেঘ) কাছে ফোন দিয়েছিলো তাই একটু একটু শুনছি(মেঘা)
-আচ্ছা আর এখন ঝগড়া লাগাস না(রাহুল)
-আমরা ঝগড়া লাগায়(মেঘা)
-আরে সেটা কখন বললাম দূর আর কথায় কমু না(রাহুল)
-এই চুপ কর।আজকে তো তাহলে ক্লাস হবে না তাই না? (অনু)
-চল ভিতরে গিয়ে দেখি(ঈশান)
ঈশানের কথায় সবাই ভিতরে গেলো। কলেজেটা নানান রকমের বেলুন, রঙিন কাগজ দিয়ে সাজাছে। ওরা চারিদিকে দেখতে দেখতে হলরুমের সামনে এসে দেখলো হলরুমটাও সাজাচ্ছে।ওরা হলরুমে ডুকে দেখলো এখানে তুষার আর তুষারের ফেন্ডরা আছে।রুকাইয়া ওদেরকে দেখে খুশি হয়ে ওদের কাছে এসে বলল
-কেমন আছো তোমরা?এতোদিন আসোনি যে?(রুকাইয়া)
রুকাইয়াকে দেখে ওদের সব ফেন্ডরাও একে একে আসলো।তুষারও কুয়াশাকে দেখে ঠোঁটের কোণে হাসি আসলো কিন্তু ও কুয়াশাদের কাছে আসে নি দূর থেকে তুষার তার মনে ও চোখের তৃষ্ণা মিটাছে একমনে চেয়ে রইলো কুয়াশার পানে। ওর মনে হচ্ছে কত যুগ পড়ে ওর প্রাণটা যেনো ফিরে পেলো।কিন্তু কুয়াশার দিকে ভালো করে দেখে ওর বুকটা কেমন করে উঠলো।
-ভালো আছি আপনারা কেমন আছেন?(মেঘা)
-আমরাও ভালো আছি তোমাদের দেখে আরো ভালো হয়ে গেলাম!(রিদ)
-কুয়াশা তোমার কি শরীর খারাপ? না মানে তোমাকে ঠিক লাগছে না!(রুকাইয়া)
-না আপু ঠিক আছি!(কুয়াশা)
-তোমার চোখ-মুখ বলে দিচ্ছে তুমি অসুস্থ(সাদাফ)
-একটু জ্বর ছিলো(কুয়াশা)
ঈশান ফোঁড়ন কেটে বলল
-একটু জ্বর ছিল তাই তিনদিন অজ্ঞান ছিলো(ঈশান)
সবাই অবাক হয়ে বলল
-মানে!!
কুয়াশা ঈশানের দিকে কোনা চোখে তাকালো ঈশান সেটা দেখে গলা ঝাড়লো। কুয়াশা নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না সহজে।ওদের মধ্যে একজন মিসিং থাকলে ওরা সেদিন কেউই আর কলেজে আসে না তাই কুয়াশা অসুস্থ থাকায় কেউই আর কলেজে আসে নি।
-মানে তুমি এই এক সপ্তাহ অসুস্থ ছিলে(তন্নি)
-একটু! বাদ দেন আপু! আচ্ছা আপু কলেজে কি হচ্ছে?(কুয়াশা)
– কাল সংস্কৃতি অনুষ্ঠান? (মুন)
-ওহ!তাহলে তো আজ ক্লাস হবে না তাই না?(অনু)
-না আজ কলেজ সাজাবে কাল তো বেশি সময় পাওয়া যাবে না তাই(হাসান)
-আচ্ছা ফুল দিয়ে সাজাবেন না?(ঈশান)
-হ্যাঁ সেটা কালকে না হলে ফুল নষ্ট হয়ে যাবে।তোমরা কাল আসছো তো(রুকাইয়া)
-হ্যাঁ হ্যাঁ অবশ্যয়! কাল অনেক মজা হবে আসতে তো হবেই(মেঘা)
মেঘার বাচ্চামো তে সবাই হেসে দিলো
-ছেলেদের হলুুদ পানজাবি আর মেয়েদের নীল শাড়ি পড়তে হবে(তন্নি)
-হিমু-রুপা?(কুয়াশা)
-হুম এটা তুষারের প্লান(সাদাফ)
কুয়াশা তুষারের নাম শুনে মুখ মলিন করে ফেললো
-শাড়ি-ই পড়তে হবে অন্য কিছু পড়লে হবে না(মেঘা)
-কেনো শাড়ি পড়লে প্রবলেম কি?(রিদ)
মেঘা রিদের দিকে একবার তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিলো। রিদ মেঘাকে প্রোপজ করছিলো কিন্তু মেঘা রিজেক্ট করে দিয়ে ছিলো সেখান থেকে দু’জন দু’জনের চোখে চোখ রাখতে পারে না। এ ঘটনা ওরা দুজন ছাড়া কেউ-ই জানে না।রিদ নিজে ফান করতে করতে কখন যে মেঘাকে ভালোবেসে ফেলছে ও নিজেও জানে না।
-না আসলে বাসা থেকে মানবে বলে মনে হয় না(মেঘা)
-একটা দিনেইতো ব্যাপার মেনেজ করে নিও(রুকাইয়া)
-ওকে ট্রাই করবো(মেঘা)
ওরা আরো কিছুক্ষণ থেকে কলেজ থেকে চলে আসলো। কুয়াশার অসুস্থতার কথা শুনে ওরা বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছে।তুষার কুয়াশার অসুস্থতার কথা শুনে বুকে চিনচিনে ব্যথা অনুভব করলো।কিন্তু কাউকে কিছু বুঝতে দিলো না।নিজের মনে কাজ করতে লাগলো এমন একটা ভাব করলো যেনো ওর কিছুই যায় আসে না।
.
কুয়াশা আর মেঘা বাসায় এসে কিচেনে পাখিকে বোঝাতে গেলো
মেঘা আর কুয়াশা পাখির পাশে দাড়িয়ে বলল
-ভাবিপু(মেঘা)
পাখি আড়চোখে ওদের দুজনের দিকে তাকালো।
-ও ভাবিপু গো(কুয়াশা)
-কি হইছে বলে ফেলো(পাখি)
-ভাবিপু ও ভাবিপু(মেঘা)
-কি লাগবে বলে ফেলো(পাখি)
ওরা দুজন দাঁত কেলিয়ে একসাথে বলল
-শাড়ি!
-হোয়াট?শাড়ি নিয়ে কি করবি?(পাখি)
-শাড়ি পরবো(মেঘা)
-কি? পাগল না মাথা খারাপ(পাখি)
-প্লিজ ভাবিপু না করো না প্লিজ(কুয়াশা)
-তেল মাখিয়ে লাভ নাই শাড়ি পড়ে সামলাতে পাড়বি না(পাখি)
-ভাবিপু কাল কলেজে অনুষ্ঠান প্লিজ না করো না(মেঘা)
-শাড়ি বাদে অন্য কিছু পর গাউন আছে,লেহেঙ্গা আছে সেগুলা পড়(পাখি)
-ভাবিপু সবাই শাড়ি পড়বে প্লিজ না করো না প্লিজ প্লিজ প্লিজ (কুয়াশা)
-শাড়ি সামলাতে পারবি না পড়ে টড়ে গেলে ব্যাথা পাবি দরকার নাই(পাখি)
পাখিকে অনেক বোঝানোর পর রাজি হলো।বিকালে শপিং করতে যাবে সেই আনন্দে ওদের ফেন্ডেদের কাছে ফোন দিয়ে শুনলো ওরা যাবে কি না ওরা বলল যাবে না।
★★★
বিকালে ওরা সবাই মিলে শপিং করতে গেলো।কুয়াশা আর মেঘা, কুশ আর শানকে নিয়ে পাখিকে শাড়ি চূজ করার দয়ীত দিয়ে অন্য দিকে চলে গেলো।
-দেখছো তোমার বোনদের কান্ডটা দেখছো ওরা শাড়ি পরবে ওরা পছন্দ করে নিবে তা না(পাখি)
-ওরা জানে আমার বউয়ের চয়েস বেস্ট নাহলে কি কি আমার মতো জামাই পেতে(কুশান)
-ওমনি না নিজেকে হেন্সাম বানিয়ে দিলা(পাখি)
-আরে আমি সেটা কখন বললাম বাই দা ওয়ে তাহলে মানছো আমি হেন্সাম(কুশান)
-একদম চুপ কর আমাকে বেস্টটা চূজ করতে দাও যদি ওদের পছন্দ না হয় তাহলে সব তোমার দোষ(পাখি)
কুশান আর কিছু বললো না পাখি শাড়ি দেখতে লাগলো।
কুয়াশা আর মেঘা দুটা পাস নিয়ে একটাতে কুশকে আর একটাতে শানকে বসিয়ে ঠেলে বেবিদের শপে ডুকলো।ওদের যে ড্রেস, খেলনা,চকলেট পছন্দ হচ্ছে সেটা নিয়ে নিচ্ছে। কুশ আর শান পাসে বসে মজা পেয়ে খিলখিল করে হেসে যাচ্ছে। আর বার বার বলছে ‘ইয়ে কি মচা(মজা)’।ওরা কিনে বেবি শপ থেকে বেরিয়ে একটু পাশে দাঁড়ালো এদিক ওদিক তাকিয়ে মেঘকে খুজতে লাগলো।
-কিরে ভাইয়া কই গেলো?(মেঘা)
-আমি কেমনে জানবো তুইও যেখানে আমিও সেখানে(কুয়াশা)
-ফোন দে আবার(মেঘা)
-তুই দে (কুয়াশা)
-আরে দে না(মেঘা)
-ওফফ তুই দিলেই হয়(কুয়াশা)
ওরা যখন কথা কাটাকাটি করছিলো তখন ওদের কেউ ডেকে উঠলো।ওরা দু’জন সামনে তাকিয়ে দেখলো তুষার আর তুষারের ফেন্ডরা।
-আরে তোমরা এখানে শপিং করতে এসেছো বুঝি(মুন)
-হ্যাঁ আপু(মেঘা)
-এমা এতো সব বেবিদের ড্রেস, এই বাবু তোমাদের নাম কি?(হাসান)
কুশ আর শান ড্যাবড্যাব করে ওদের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে কুয়াশা আর মেঘার কোলে ওঠে গলা জড়িয়ে ধরে আবার ড্যাবড্যাব করে তাকালো।
-এই বাবু তোমরা কি ভয় পাচ্ছো?(তন্নি)
ওরা তাও কিছু বললো না।
-ওদের নাম কি,ওরা টুইন তাই না?(রুকাইয়া)
-হ্যাঁ কুশ আর শান(কুয়াশা)
-বাহ কিউট নাম(সাদাফ)
তখন ফোনে কথা বলতে বলতে মেঘ আসলো।
-ওপর মহল থেকে চাপ দিলে তো শুধু হবে না সঠিক ইনফরমেশন লাগবে তো?
-……
মেঘ কিছু বলতে যাবে তার আগে কুয়াশা আর মেঘার সাথে কিছু ছেলে মেয়েকে দেখে কপাল কুচকে বলল-পরে কথা বলছি(মেঘ)
-এরা কারা(মেঘ)
-ভাইয়া তুমি পাড়া লেখা করো তো(মেঘা)
-হটাৎ এ কথা(মেঘ)
-ভাইয়া এরা তোমার ক্লাসমেট(কুয়াশা)
-ওহ আমি তো কলেজ করি না তাই জানি না।হাই আমি মেঘ(মেঘ)
-হ্যালো আমি তুষার(তুষার)
ওরা একএক করে পরিচয় হলো
-তোমাদের সাথে৷ পরিচয় হয়ে ভালো লাগলো(মেঘ)
-আমাদেরও ভালো লাগছে(তন্নি)
তুষারের ফেন্ডরা একটু তন্নির দিকে তাকালো কিন্তু কেউ কিছু বলল না।
মেঘ কিছু বলতে যাবে তার আগে আবার ফোন আসলো ওর
-ওহ নো!! এই ভাইয়ারা কই(মেঘ)
-জানি না তো (মেঘা)
-আমাকে যেতে হবে ভাইয়ার কাছে ফোন দে(মেঘ)
-আবার কই যাবা ভাইয়া তুমি না বললে আজ সবাই একসাথে ঘুরবো(কুয়াশা)
-আজ কাজ পড়ে গেছে অন্য একদিন যাবো রাগ করিস না বোন(মেঘ)
-সত্যি তো(মেঘা)
-সত্যি(মেঘ)
ভাইবোনের ভালোবাসা দেখে তুষারের চোখে কোনে পানি এসে জমলো সব ঠিক থাকলে তার বোনটাও তার সাথে থাকতো তার সাথেও এমন মান অভিমান করতো দুষ্টুমি করতো। তারও একটা খুশি পরিবার থাকতো।কিন্তু কি আর করার ও চাইলেই তো আর ইচ্ছেটা পূরণ হবেনা।
মেঘ কুয়াশা, মেঘা,কুশ,শানকে কুশানের কাছে রেখে ওওর কাজে চলে গেলো।ওরাও আরো কিছু শপিং করে।ফুচকা, আইসক্রিম খেয়ে বাসায় আসলো।
#চলবে
#tasnim_tamanna
[ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।]