#তাসনিম_তামান্না
#ভালোবাসি_প্রিয়তম
#পর্ব_৯
🍁🍁🍁
কুয়াশা, মেঘা আর অনু আজ একি রকম সেজেছে অনুর শাড়িটা আলাদা কিন্তু সাজ একি। নীল শাড়ি,চোখে কাজল,ঠোঁটে নুড কালরের লিপস্টিক, কানে ছোট ছোট ইয়ার রিং,গলায় লাভ সেডের লকেট,চুলগুলো খোঁপা করে বেলি ফুল লাগানো।পাখি সুন্দর করে অনেক গুলা পিন দিয়ে শাড়িটা ভালো করে পড়িয়ে দিয়েছে যাতে খুলে না যায় ওরাও কুচি উঁচু করে হাটছে। ঈশান আর রাহুল হলুদ পাঞ্জাবি,সাদা প্যান্ট। ওরা পাঁচজন গল্প করতে করতে আসছিলো। তুষার গেটের সামনে দাড়িয়ে ছিলো। কুয়াশাকে দেখে থমকে গেলো। ওর চোখ যেনো আর সরছেই না। কুয়াশা গল্পের মাঝে তুষারের দিকে চোখ যেতে একপলক তাকিয়ে সাথে সাথে অন্য দিকে তাকালো। তুষার হলুদ পাঞ্জাবি, কালো প্যান্ট, ফর্সা হাতে কালো ঘড়িটা চোখে পড়ছে। কুয়াশারা ভিতরে চলে গেলো তাও তুষার হা করে সে দিকেই তাকিয়ে আছে।
-কি রে ওদিকে ওভাবে হা করে তাকিয়ে আছিস কেনো মশা ডুকে যাবে তো(রিদ)
রিদের কথায় তুষারের ঘোর কাটলো। জোরে জোরে বার কয়েক শ্বাস নিলো।
-ঔ হাপানি রোগীর মতো হাপাছিস কেনো? কেসটা কি বলতো?(রিদ)
তুষার রাগী চোখে তাকিয়ে বলল
-তুই কিন্তু আজ কাল বেশি পটরপটর করছি এতো পটর পটর করলে পটল তুলবি কবে তুই নিজেও জানিস না(তুষার)
কথাটা বলে রিদের হাত থেকে কোকের বোতলটা নিয়ে খেতে খেতে চলে গেলো ভিতরে। রিদ কিছুক্ষন বোকার মতো চেয়ে। যখন বুঝতে পারলো তুষার ওকে বোকা বানিয়ে কোকের বোতল নিয়ে চলে গেছে তখন ও, ও তুষারের পিছনে ছুটলো।
★★★
কুয়াশারা হলরুমের দিকে যাচ্ছিল তখন কোথা থেকে রাজ এসে ওদের সামনে দাঁড়িয়ে বলল
-ওহ ওয়াও কুয়াশা ইউ আর লুকিং সো বিউটিফুল (রাজ)
কুয়াশা অসস্তি নিয়ে বলল
-থ্যাংকস ভাইয়া(কুয়াশা)
-আরে আমার নাম রাজ। রাজ বলে ডাকো।ভাইয়া টাইয়া এখন চলে না(রাজ)
বলে কুয়াশার হাত ধরলো
-কুয়াশা তোমার সব কিছুই এতো কিউট কেনো(রাজ)
কুয়াশা হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না। ওদের আর বুঝতে বাকি হইলো না রাজ একটু গাইয়ে পড়া ছেলে। তুষার পিছনে রাগী চোখে তাকিয়ে ওদের কাছে এসে কোনো কথা না বলে কুয়াশার হাত একঝটকাই ছাড়িয়ে নিয়ে কুয়াশার হাত ধরে হল রুমে এসে ছেড়ে দিয়ে বলল
-রাজের আশেপাশে জেনো তোমাকে না দেখি মাইন্ড ইট (তুষার)
কথাটি বলে কুয়াশাকে কোনো কথা বলতে না দিয়ে চলে গেলো। পিছনে পিছনে কুয়াশার ফেন্ডরাও আসলো।
-ঠিক সময় ভাইয়া এসেছিলো না হলে কি হতো কে জানে(মেঘা)
-হু চল গিয়ে বসি(ঈশান)
বসার আগে তুষারের ফেন্ডদের সাথে একটু কথা বললো। তুষারের ফেন্ডদের সাথে এখন ওরা অনেকটা ফ্রী হয়ে গেছে।
রিমা নীল কালারের পাতলা শাড়ি আর ভারি মেকাপ করেছে। রিমাকে দেখে ভালো ছেলেগুলো চোখ নামিয়ে নিচ্ছে। আর বাজে ছেলেগুলো তাকিয়ে আছে।
.
অনেক বসে থেকে কুয়াশার মাঝা ব্যাথা করছে তাই ও অনুষ্ঠান রেখে একটু বাইরে এসে হাঁটাচলা করে। বাইরে কেউ নেই বলে চলে মাঝে মাঝে দুই একজন চলাচল করছে। কুয়াশা রেলিং ধরে আকাশে দিকে তাকালো সূর্য আর মেঘেরা লুকোচুরি খেলছে। কুয়াশা সেটা মনোযোগ সহকারে দেখছে। পাশে শব্দ হতে সেদিকে তাকিয়ে ভয় পেয়ে গেলো। তুষার রাজের হাত মুচড়ে ধরে আছে। রাজ চোখমুখ কুচকে বলল
-আহ তুষার হাত ছাড়(রাজ)
-তোর হাত ঠিক থাকলে তো হাতে লাগতো না(তুষার)
তুষার আর রাজের সাপ আর নেউলের মতো সম্পর্ক কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না সুযোগ পেলে দু’জন দু’জনকে দুঘা লাগিয়ে দেই। রাজ কলেজের মেয়েদের বিভিন্ন ভাবে ডিস্টার্ব করে। সেটা তুষার সহ্য করতে পারে না তাই তো এতো দিন হসপিটালে ছিলো সুস্থ হয়ে আবার শুরু করে দিয়েছে।
তুষার হাত ছেড়ে দিয়ে রাজের নাকে একটা ঘুসি মারলো। রাজ পড়ে গিয়ে নাকে হাত দিয়ে দেখলো রক্ত। রক্ত মুছে উঠে দাড়িয়ে বলল
-তোকে তো আমি পরে দেখে নিবো(রাজ)
বলে চলে গেলো। তুষার রেগে কুয়াশাকে একটা ফাঁকা ক্লাস রুমের এনে বলল
-তুমি শাড়ি পড়তে জানো না তো শাড়ি পড়ছো কেনো?নিজের শরীর দেখতে ভালো লাগে তাই না? তোমাকে আমি এতোটাও খারাপ ভাবিনি!! যতটা তুমি পদে পদে প্রুফ করছো।তোমার বাবা-মা তোমাকে এই শিক্ষা দিয়েছে।(তুষার)
কুয়াশাও আর সহ্য করতে পারলো না রেগে বলল
-কি যাতা বলছেন আপনি। যা মুখে আসছে তাই বলে যাচ্ছেন আমি কিছু বলি না বলে আপনি পাড় পেয়ে যাচ্ছেন আমার বাবা-মা কেও ছাড় দিলেন না। আপনার সাহস কি করে হয় আমার বাবা-মাকে নিয়ে বাজে কথা বলার। আমার ফ্যামেলিকে নিয়ে বাজে কথা আমি টলারেট করবো না। আপনি কোন অধিকারে আমাকে যা নয় তাই বলেন?আপনার কোনো রাইট নাই আমার ব্যাপারে কথা বলার, আমি যা ইচ্ছে তাই করবো, আপনি কোন অধিকারে আমাকে আটকান। আপনার সাথে তো আমি কথা বলতে যায় না বা আপনার ব্যাপারে আমি কোনো কথা বলি না তাহলে কেনো আপনি আমার ব্যাপারে এতো কথা বলেন। আমি মানছি অসাবধানতার জন্য আপনার সাথে ধাক্কা লাগছে সেজন্য তো আমি সরি বলছি। তাও আপনি সেটা কে নিয়ে খারাপ ভাবলেন? যা ইচ্ছে তাই ভাবুন আমার কিছু যায় আসে না(কুয়াশা)
কথাটা বলে কুয়াশা চলে গেলো। তুষার রাগের মাথায় কি যাতা বলেছে ও নিজেও জানে না। কিন্তু কুয়াশাকে এভাবে কথা বলতে দেখে অবাক হয়ে শুধু শুনছিলো। তুষার জানে কুয়াশার প্রতিটা কথায় ঠিক! ওর কোনো অধিকারে কুয়াশাকে যাতা বলে? কুয়াশা তো ওর ব্যাপারে কিছু বলে না তাহলে?কেনো তাহলে ও কুয়াশাকে নিয়ে এতো কথা ভাবে কেনো বার বার চোখ বন্ধ করলে কুয়াশার মুখ ভেসে ওঠে?কেনো? কেনো?এই কেনো এর উত্তর নাই কেনো?
তুষার রেগে দেওয়ালে ঘুসি মারলো দুবার তারপর হনহনিয়ে চলে গেলো।
কুয়াশা তখন ক্লাস রুম থেকে হলরুমে গিয়ে ফেন্ডদের সাথে মাথা ব্যাথার নাম করে বাসায় চলে যায়। বাসায় যেতেই পাখি বলল
-কি রে তেরা এতো তাড়াতাড়ি চলে আসলি যে শরীর টরীল ঠিক আছে তো?(পাখি)
-হ্যাঁ তুমি টেনশন নিও না এমনি মাথা ব্যাথা করছিলো ওতো শব্দে তাই চলে আসলাম(কুয়াশা)
-আচ্ছা যা ফ্রেশ হয়ে নে তোরা আমি তোদের জন্য গরম দুধ নিয়ে যাচ্ছি(পাখি)
ওরা দুজনই চোখ মুখ কুচকে বলল
-ওটা খেতে ভালো লাগে না কফি দাও(মেঘা)
-মারবো টেনে একচড় যা ফ্রেশ হয়ে নে পাটকাঠির মতো শরীর নিয়ে কফি খাবি দাড়া নিয়ে আসছি(পাখি)
কুয়াশা আর মেঘা কিছু বললো না কাঁদো কাঁদো মুখে রুমে চলে গেলো
.
কিছু বুঝলেন না তো কেনো তুষার তখন রাজকে মারলো আসলে তখন কুয়াশার পেট থেকে শাড়ি সরে গিয়েছিলো। আর রাজ সেটা দেখে সেদিকে হাত বাড়ায় তখনি তুষার একটা কাজে এদিক দিয়ে যাচ্ছিলো কুয়াশার পিছনে রাজকে দেখে ওদের কাছে আসতে ব্যাপারটা বুঝতে পেরে রাজের হাত মুচড়ে ধরে। তারপর তো জানেনই।
.
রিমা কুয়াশাকে দেখে রাগে ফুসছে। তুষারের সাথে কুয়াশাকে সহ্য করতে পারছে না। রিমা ওদের দু’জনকে একসাথে দেখেছে কিন্তু কিছু বলছে না রাগ পুসে রাখছে। হিংসা, রাগ, অহংকার মানুষকে নিঃশেষ করে দেয়। মানুষকে ভুল পথে ধাবিত করে। তখন সে ভালো খারাপের পার্থক্য ভুলে যায়। নিজের ক্ষতি করতেও দু’বার ভাবে না।
#চলবে
#tasnim_tamanna
[ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠন মূলক কমেন্ট করবে]