#মায়াকুমারী ❤️
#মেহেরিন_আনজারা
#পর্বসংখ্যা-(৩০)
❌[সর্তকতা: বাস্তব জীবনে স্বামীকে ভাইয়া ডাকা থেকে দূরে থাকুন। এটি শুধুমাত্র গল্পের প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়েছে। স্বামীকে ভাই ডাকা প্রমোট করছি না।
___________________
চায়ে চুমুক বসালেন আসাদ সাহেব। পাঞ্জাবি ইস্ত্রি করে সামনে রাখলেন দিলরুবা খাতুন।
“দিলরুবা কিছু বুঝচ্ছ?”
“এত বুঝার দরকার নেই। চলতে থাকুক।”
ফোন,চাবি,ওয়ালেট বের করে একসঙ্গে রাখলেন। কাপ রেখে পাঞ্জাবি পরে তৈরী হলেন।
“কালকের বিষয়টির জন্য তুমি কি অসন্তুষ্ট?”
“আপনার কী মনে হয়?”
“কিছু না।”
তৈরী হয়ে বেরিয়ে গেলেন।
__
নক পড়লো ধ্রুবর দরজায়। দরজা খুলতেই দেখলো ধূসর।
“কী হয়েছে?”
কার্ড বাড়িয়ে ধরলো।
“ওদের শপিংয়ে নিয়ে যাও।”
“আমার সময় নেই।”
“তো কে নিবে?”
“তুই কী করিস?”
“সবসময়ই আমিই নিই। আজ তুমি নাও।”
“আমার ইম্পরট্যান্ট কাজ আছে তুই নিয়ে যা।”
মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিলো। চোয়াল শক্ত করে তাকিয়ে রইলো ধূসর। ওর এই ডোন্ট কেয়ার ভাবের জন্য ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় নিশুকে সঙ্গ দিতে হয় তার। এই ডোন্ট কেয়ার ভাবের জন্য নিশুর প্রতি উইক হয়েছে সে। জায়গা খালি করবে না আবার সরবে নাও। এক রকম দখল করে বসে রয়েছে। স্টেইট ফরওয়ার্ড যদি বলতো,ডিভোর্স হয়েছে সংসার করবে না। তাহলে সে নিশুকে নিয়ে বিদেশে সেটেল্ড হয়ে যেতো। সব জায়গা দিয়ে আঁটকে রেখেছে। রুমে ফিরে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরালো। নেশাটা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয় সংসার করবে নাকি করবে না? না করলে চেপে ধরে চুমু খাওয়ার মানে কী? আবার বাসর করতেও জোর করে। ডিভোর্সের ব্যপারটি ক্লিয়ার করে না।
“ভাইয়া তোমার কফি!”
খুঁক খুঁক করে কেশে উঠলো নিশু। সিগারেট ফেলে দিলো।
“রেখে যা।”
ধূসরের গলা কেমন শক্ত শোনালো। একপলক তাকিয়ে পা বাড়ালো।
“শোন।”
থমকে দাঁড়ায়।
“শপিংয়ে যাবি রেডি হো।”
সায় দিয়ে চলে গেল।
__
ভার্সিটিতে আজ গেল না দু’জন। দ্রুত রেডি হয়ে শপিংয়ে চলে গেল। সর্বপ্রথম শাড়ির দোকানে ঢুকলো। নানারকম শাড়ি পছন্দ করতে লাগলো ওরা। অবশ্য নিশুকে কেন জানি শাড়িতেই ভালো লাগে। অনেকক্ষণ শাড়ি দেখলো দু’জন কিন্তু পছন্দ করতে পারলো না। মেজাজ খারাপ হলো ধূসরের। এদের দু’জনের সঙ্গে এই কারণে শপিংয়ে আসতে চায় না সে। বিরক্ত হয়ে নিজেই শাড়ি পছন্দ করতে লাগলো। আচমকা চোখ আঁটকালো একটি লাল খয়েরী রঙের শাড়ির উপর। একপলক তাকায় ব্যস্ত হয়ে অন্য শাড়ি দেখায় নিশুকে। হঠাৎই তারার মতো জ্বলতে থাকা নাকফুলের উপর দৃষ্টি পড়লো। কেমন চিকচিক করে উঠলো। ধূসরের মনে হচ্ছে শাড়িটা নিশুকে মানাবে। ভালো করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলো। লাল খয়েরি রঙের শাড়িটিতে জবা ফুল। ফুলের চারিপাশে সোনালি জরি সুতা আর দুইপাশের লেইস বসানো। জবাফুলগুলো এমব্রয়ডারি করা এবং জবা ভর্তি স্টোন। সোনালি রঙের আভা ছড়িয়ে পড়তেই শাড়িটা কেমন চিকচিক করে উঠলো।
“শাড়িটা ট্রায়াল দিয়ে আয় তো নিশু।”
চমকে তাকায় নিশু।
“ওয়াও কি সুন্দর!”
“ভাইয়া এটা আমি নিবো।”
“মনে হচ্ছে নিশুকে মানাবে।”
চুপসে গেল দ্যুতি।
“তুমি সবসময়ই নিশুকে প্রায়োরিটি দাও। সবসময়ই সুন্দর জিনিসটি নিশুর জন্য চুজ করো।”
অভিমানী হয় দ্যুতি।
“আশ্চর্য এখানে রাগ করার কী আছে?”
নীরব রইলো দ্যুতি।
“নিশু বউ মানুষ তাকে লাল রঙ মানাবে। তুই মেয়েমানুষ তোকে পিংক কালারে মানবে।”
“কোথায় লেখা আছে এমন কথা?”
“লেখা নেই আমি বলছি।”
মুখ গোঁজ করলো দ্যুতি।
“আচ্ছা দ্যুতি নিক শাড়িটা।”
“না এটা তোর জন্য।”
সেলসম্যানকে জিজ্ঞেস করলো একই ডিজাইনের আর শাড়ি আছে কিনা! সেলসম্যান একই ডিজাইনের আরো দুটি শাড়ি বের করলো তবে কালার ভিন্ন। ভাগ্যিস পিংক কালারও পেয়ে গেল। দ্যুতির কাঁধের উপর রেখে ট্রায়াল করে দেখতে নিতেই ফেলে দিতেই ধমকে উঠলো। চুপসে রইলো দ্যুতি।
“ভাইয়া পিংক কালারটা দারুণ! আমি এটা নিই?”
“না।”
দুই ভাইবোনে জেদ ধরলো।
“ভাইয়া ল্যাভেডার কালারটাও দারুণ!”
“নিবি?”
কাচুমাচু করলো নিশু।
“নিলে নে।”
“বলছিলাম এটা বুশরার জন্য নাও।”
চমকে তাকায় ধূসর।
“ওর জন্য কেন?”
“আমার কেন জানি মনে হচ্ছিল ওকে এই কালারটায় মানাবে। আর আমরা তিনজন তো সবসময়ই ম্যাচিং ড্রেস কিনি।”
নীরবে তিনটি শাড়িই প্যাক করতে দিয়ে বিল পে করে অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিনে বাসায় ফিরলো ওরা।
__
ডিনার করতে বসলো সবাই। ডিনারের জন্য দু’জনই রান্না করলো। মুডিবয় ধ্রুব বাজার করলোই না করলো না! এই তো শপিং শেষে ক্লান্ত দেহটা টেনেহিঁচড়ে আবারও বাজার করতে গেল ধূসর। সত্যি বলতে ভীষণ মায়া হয় নিশুর। শপিং করতে করতে প্রায় বিকেল হয়ে গিয়েছিল। বললেই তো শপিং হয়ে যায় না! মেয়েলি ঝামেলা! ধ্রুবর উপর চাপা ক্ষোভ তৈরি হলো নিশুর। একটা মানুষ আর কত বোবা হয়ে থাকতে পারে তা সত্যিই তার জানা নেই। ঠিক কী করবে বুঝে পায় না! দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইলিশের টুকরোগুলো কড়কড়া করে ভেজে নিলো। টেবিল সাজানো শেষ। মাছ এনে টেবিলের মাঝখানে রাখলো। শক্ত মুখে খেতে বসেছে ধ্রুব। সবাইকে সার্ভ করতে লাগলো। ইলিশের ঘ্রাণ ছড়ালো। সবার প্লেটে ধোঁয়া ওড়া গরম ভাত দিলো নিশু।
“ভাইয়া নিন ইলিশ ভাজা। আশা করি ভালো লাগবে।”
দম আঁটকে রইলো ধ্রুব।
“সাবধানে খাবেন ভাইয়া ইলিশে প্রচুর কাঁটা থাকে।”
ইলিশে কাঁটা থাকে এটা কে না জানে মেয়েটা ইচ্ছে করে জব্দ করছে তাকে। নিঃশব্দে খেতে লাগলো।
“নিন ভাইয়া এটা ইলিশের ডিম।”
সবার পাতে তুলে দিতে লাগলো। প্লেট বাড়িয়ে ধরে বলল,”মেজ ভাইয়াকে দাও ফুপি।”
প্লেট হাতে নিয়ে এক টুকরো মাছ এবং ডিম ধূসরের পাতে তুলে দিলেন।
“ডিমটা নিশুর জন্য রেখে দাও আম্মা।”
ধূসরের দিকে তাকায় ধ্রুব।
“নিশুর জন্য আছে তো।”
“সমস্যা নেই। ও খাবে।”
প্লেটে রেখে দিলো।
“ভাইয়া আরো আছে তো!”
শক্ত চোখে তাকায়। আমতা আমতা করলো নিশু। ধূসর সবসময়ই এমন। নিশুর বুক আদ্র হয়ে আসে।
“আম্মু জানো ভাইয়া আজকে আমাকে লাল শাড়িটা দেয়নি। তোমার ছেলে কী বলে জানো?”
“কী?”
“লাল শাড়ি নাকি বউ মানুষদের জন্য।”
মৃদু হাসলেন তিনি।
“ঠিকই তো বলেছে।”
“ঠিক বলেনি। নিশুর জন্য লাল শাড়ি,নিশুর জন্য ইলিশের ডিম ব্যপার কী?”
“খাবি তুই নাকি চটকাবো গাধী কোথাকার! আউল-ফাউল বকবক!”
“নিশুর জন্য তোমার এত দরদ কেন?”
বিষাক্ত লাগছে ধ্রুবর। গলা দিয়ে খাবার নামছে না। নিজেকে ধাতস্থ করলো নিশু।
“আচ্ছা ডিম খেও না। তোমার পছন্দের সরিষা ইলিশ করেছি নাও।”
চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। ধূসরের পছন্দের সরিষার ইলিশ করলো তার জন্য কী করলো! তবুও নীরব রইলো। বড় দেখে এক পিস মাছ তুলে দিলো।
“কেমন হয়েছে ভাইয়া?”
“কেকা ফেরদৌসির মতো!”
“তোমার মাথা।”
ওদের এইসব কথপোকথনে শরীর জ্বালাপোড়া করছে ধ্রুবর। একপলক তাকায় দ্যুতি। ধ্রুবর মুখভঙ্গি বুঝে চিমটি কাটলো নিশুকে। বৃদ্ধা আঙ্গুল তুলে ইশারা দিলো সব ঠিক হচ্ছে।
“ভাইয়া আরেকটু ভাত নিবেন?”
নীরব রইলো ধ্রুব।
“রান্নাটা কেমন হয়েছে ভাইয়া একটুও বললেন না যে?”
ক্রোধে ফেটে যাচ্ছে মস্তিষ্ক! তপ্তশ্বাস ফেলে খাবার খেতে লাগলো।
“ফুপি তোমার ছেলে আমার উপস্থিতি পছন্দ করছে না বোধহয়!”
দ্যুতি বলল,”কে বললো! ওতো এমনই ইগোওয়ালা।”
খাবার খেয়ে উনারা দু’জন দ্রুত চলে গেলেন।
“সরি ভাইয়া আপনার ফিউচার অন্ধকার করার জন্য। আসলেই এভাবে অন্ধকার করে ফেলবো ভাবতে পারিনি। আপনি বোধহয় সেইজন্য আমার উপর এখনও রেগে আছেন।”
“তোকে নিয়ে আবার লাইট জ্বালাবো রেডি থাকিস।”
উঠে গেল ধ্রুব। বেসিনে হাত ধুয়ে নিশুকে হতভম্ব করে পা বাড়ালো ধ্রুব।
___
চলবে~
রিচেইক করিনি। রেসপন্স করবেন সবাই।