মায়াকুমারী পর্ব-৩২/খ

0
100

#মায়াকুমারী ❤️
#মেহেরিন_আনজারা
#পর্বসংখ্যা-(৩২/খ)
___________________

“বয়রা আম্বানি! এক্সকিউজ মি! কী বলছেন আপনি এইসব?”

“হ্লার ঘরের হ্লা নাটক করোস?”

“হাউ ডেয়ার ইউ!”

“বাংলা কুত্তা ইংরেজি ঘেউয়ায়!”

দাঁতে দাঁত চাপলো তানজিল।

“সিরিয়াসলি আপনি এইসব কী বলছেন?”

“আমার হবু বউ ফুল ছিঁড়লে তোমার সমস্যা তুমি যে প্রেম করতে করতে পাতা ছিঁড়ো ওইটা সমস্যা না? ফিরিতে জ্ঞান দিতাছো?”

হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো তানজিল।

“সিরিয়াসলি আপনি এইসব কী বলছেন আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না!”

“কয়টা মাইয়ার লগে টাইম পাস করো?”

“এক্সকিউজ মি! কী বলছেন এইসব?”

“এই দুই-তিনটা ইংরেজি ছাড়া আর কিছু পারো না?”

মেজাজ খারাপ হলো তানজিলের।

“আপনি একটা পাগল!”

“আমার হবু বউ ফুল ছিঁড়লে তোমার এত সমস্যা ক্যান?”

“আশ্চর্য! কী বলছেন আপনি?”

“একটু আগে যে বললা,গাছের ফুল গাছে সুন্দর মনে নাই কিছু?”

চমকিত নয়নে তাকায় তানজিল। ও তারমানে এই কাহিনী! হবু বউ বলতে ঠিক কী বুঝতে পারলো না। ফের কল আসায় আর কিছু না বলে পিক করে হাঁটতে লাগলো।

“হ্লার ঘরের হ্লা! আমার বউ ফুল ছিঁড়লে তোর বাপের কী! ভাড়াটিয়া ভাড়াটিয়ার মতো থাকবি তা না ফাইজলামি করোস! সুন্দরী মাইয়া দেখলেই জ্বীভ লকলকায়!”

শুনতে পেয়ে চোয়াল শক্ত করলো তানজিল।

“ওর ভাই আরেকটা আছে কী জানি নাম! ও পরকীয়া আম্বানি! হ্লা বিবাহিত মেয়ে দেখলেই প্রেমে পড়ে। এবার সেটা যার বউই হোক! মনে করো আমার শালা বৌয়ের প্রেমে পড়ছে! হ্লা পরকীয়ার রাজা সরি পরকীয়া আম্বানি।”

বাসায় ফোন করে সব জানালো বুশরা। তা শুনতেই একের পর এক কল দিতে লাগলো তার বাবা-মা কিন্তু পিক না করে ফোন সাইলেন্ট করে রাখলো অনিক।
__

রাত তখন প্রায় আটটা। সেদিকের ঝুট-ঝামেলা শেষে ঠিক প্রথমবারের মতো আরো একবার গ্রাউন্ড ফ্লোরের শপটি উদ্বোধন করলো ওরা দু’জন। শপটির নাম হলো,নিশুতি এন্ড দ্যুতিধারা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে আসাদ সাহেবকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ কাঁদলো নিশু। কখনো ভাবতে পারেনি রাজধানীর বুকে তার নামেও কিছু একটা থাকবে। হতে পারে সেটা তুচ্ছ কিছু তবুও অতীব আনন্দে খুব কান্না করলো নিশু। শান্তনা দিলেন আসাদ সাহেব। ভোজের আয়োজন করা হয়েছে গেস্টদের জন্য। ডাক পড়তেই সেদিকে যেতে বললেন। সায় দিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করার চেষ্টা করলো নিশু। একটু আড়াল হয়ে চোখের জল মুছে স্বাভাবিক হলো। আচমকা টান পড়তেই চমকে উঠে পড়লো বুকে। ভড়কায় নিশু। মাথা তুলতেই দেখলো ধ্রুব। মুখে বাঁকা হাসি। কোমর পেঁচিয়ে ধরলো।

“কী শুরু করলে তুমি? ছাড়ো বলছি! কেউ আসবে দেখে ফেলবে!”

“দেখুক!”

ছোড়াছুড়ি করলো কিন্তু পারলো না শক্ত করে ধরে রাখলো। লাল টুকটুকে ঠোঁট দুটো দেখতেই আবারও চোখজোড়া চকচক করে উঠলো। ঠোঁটে ঠোঁট ডুবালো। হতভম্ব হলো নিশু। উম উম করতে লাগলো। শব্দটা শুনতেই ঘাবড়ে গিয়ে দ্রুত ছুটে এলো ধূসর। ওদের ওমন অবস্থায় দেখতেই দ্রুত সরে গেল। কিছুই বুঝতে পারছে না তার ভাইয়ের। আশ্চর্য! ডিভোর্স না দিলে সোজা সংসার শুরু করবে তা না করে রাস্তা-ঘাটে,চিপায়-চাপায় কী যে শুরু করলো! মেজাজ খারাপ হলো। এইসব রোমান্স করার জায়গা! আজব! টেবিলে গিয়ে গম্ভীর হয়ে বসলো। মাথা নুয়ে ফোন চাপতে লাগলো। দ্যুতির ডাক পড়তেই ছেড়ে দিলো নিশুকে। ভীষণ রাগ হলো নিশুর।

“কী শুরু করলে যেখানে সেখানে চুমু খাচ্ছ! নির্লজ্জ!”

কোমড় পেঁচিয়ে ধরে আবারও টান দিয়ে কাছে এনে দেয়ালের সঙ্গে সেঁটে ধরলো। তর্জনী রাখলো ঠোঁটে। স্লাইড করতে লাগলো। চোখ বুজে ফেললো নিশু।

“তোমার ঠোঁট আর আমার ঠোঁট পারফেক্ট কম্বিনেশন! তাই যেখানে-সেখানে তোমাকে চুমু খেতে ইচ্ছে করে মায়াকুমারী!”

চমকিত নয়নে তাকায় নিশু। তুমি সম্বোধন করায় শ্বাস আঁটকে এলো। পকেট থেকে লিপস্টিক বের করলো। ঠোঁটে লাগিয়ে দিলো নিশুর। হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো।

“কোথায় পেলে?”

“আমার বউয়ের ইউজ করা জিনিস আমার কাছেই তো থাকবে তাই না!”

শ্বাস আঁটকে রইলো নিশু।

“লিপস্টিকটা চেনা চেনা মনে হচ্ছে!”

বাঁকা হেসে চলে গেল ধ্রুব। সোজা টেবিলে এসে গম্ভীর হয়ে বসলো। একপলক তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিলো ধূসর। কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে ধীরাজ বলল,”তোমার মুখে আবারও লিপস্টিক লেগেছে। তাড়াতাড়ি মুছো!”

কান গরম হয়ে গেল ধ্রুবর। নিজেকে ঠিক করে চেয়ারে এসে বসলো নিশু।

“এতক্ষণ কই ছিলি?”

“ওদিকে।”

“খাওয়া শুরু কর। তোদের জন্য অপেক্ষা করছি! বাসায় গিয়ে রোমান্স করতে পারবি।”

মাথা নুয়ে খাবার খাওয়ায় মনোযোগ দিলো নিশু। একটু আগে একটা পোস্ট দিয়েছিল দ্যুতি। কমেন্টগুলো চেক করতেই দেখলো,”ঢাকা শহরে কোনো আপু বা আন্টি আজ রাতে রিয়েল বা ফোন সার্ভিস লাগলে ইনবক্সে আসেন। আমি ফ্রী আছি।”

মেজাজ খারাপ হলো দ্যুতির। সেও রিপ্লাই দিলো,”যদি তোর মা-বোন নক করে বসে তাহলে তুই কি তাদের সার্ভিস দিবি নাকি তোর অন্য ফ্রেন্ডদেরকে কল করে বলবি কোনটা করবি বল বজ্জাত?”

হঠাৎ ভিডিও কল এলো বুশরার। চটুল মেজাজে পিক করে গ্লাসের সঙ্গে মোবাইল রাখলো। স্ক্রীনে ভেসে উঠলো ওদের দু’জনের মুখ।

“কী করছিস তোরা?”

“ডিনার করছি তুই করবি?”

“দেশে থাকলে চলে আসতাম বলা লাগতো না।”

“ভার্সিটি নেই?”

“আজ যেতে ইচ্ছে করছে না। আমার খুব মনখারাপ!”

“কেন?”

“তোদের সঙ্গে আমি নেই। একা একা এখানে থাকতে ইচ্ছে করছে না। মন চাচ্ছে পাখির মতো ডানা মেলে উড়ে চলে আসি।”

“আর কয়টা দিনই তো!”

“একটা দিন এক বছরের মতো পার হচ্ছে আমার।”

মৃদু হাসলো ওরা।

“নিশুর কী খবর?”

“ভালো।”

“তোর সঙ্গে কে?”

“মেজ ভাইয়া।”

“কই দেখি!”

“এই তো!”

“অনেকদিন দেখি না দেখা তো।”

মুখ টিপে হেসে মোবাইল রাখলো ধূসরের সামনে। মেজাজ খারাপ হলো তার। গুরুত্ব না দিয়ে নিজের মতো খেতে লাগলো। মন ভরে দেখতে লাগলো বুশরা। একপলক তাকাতেই মেজাজ খারাপ হলো ধূসরের। দ্রুত চোখ সরিয়ে নিলো। নাইটি পরে রয়েছে বুশরা তাও আবার ফিতা খোলা। এত কেয়ারলেস কেন যে মেয়েটা!

“নিশু ফোনটা সরা।”

“এই সরাবি না।”

চোয়াল শক্ত করলো ধূসর।

“রাগ দেখাচ্ছেন কেন?কেমন আছেন আপনি?”

প্রতিত্তোর করলো না।

“কী খাচ্ছেন? আপনি খুব সুন্দর করে খাবার খান। আপনাকে খাবার খেতে দেখে এখন আমারও খেতে ইচ্ছে করছে!”

নীরব রইলো ধূসর।

“আপনার টেম্পার সবসময়ই কি হাই থাকে নাকি আমাকে দেখলে কোনটা?”

“ফাজলামো না করে ড্রেস ঠিক করো।”

“দেখতে খারাপ লাগছে?”

“আয়নায় দেখো।”

“আপনিই তো আমার আরেক আয়না।”

“নিশু ফোন সরা।”

“এই সরাবি না।”

“সরা বলছি!”

“সরাবি না।”

“পাগলের বোন পাগলি।”

“আপনার জন্য।”

মিটিমিটি হাসতে লাগলো নিশু। খাবার অসমাপ্ত করে উঠে গেল দ্যুতি।

“কীরে খাবি না?”

“ওয়াশরুমে যাবো।”

“আচ্ছা,আমি আসবো?”

“না। ভাইয়া ওয়াশরুম কোন দিকে?”

“ওদিকে।”

সেদিকে এগিয়ে গেল দ্যুতি। বকবক করতে লাগলো বুশরা। কতশত প্রশ্ন করতে লাগলো নীরবে হজম করতে লাগলো ধূসর। অনেকক্ষণ হলো ওয়াশরুমে গেল দ্যুতি কিন্তু ফিরলো না। খাবার রেখে সেদিকে এগিয়ে গেল নিশু। দেখলো কেউই নেই। চমকায় নিশু। অস্থির হয়ে খুঁজতে লাগলো। লক্ষ্য করলো শপিংমল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে দ্যুতি। ছুটে দ্যুতিকে ফলো করতে লাগলো নিশু। হাঁটতে হাঁটতে চতুর্দিকে তাকালো দ্যুতি। জানে এখানে কোথাও অনিক আছে। সত্যিই তাই। ফুটপাতে বাইকের উপর শুয়ে গান গাইছে ওর গ্যাংরাও ঠিক তেমন। এগিয়ে গেল দ্যুতি। আচমকা অনিকের মাথার তালুর চুলগুলো মুঠ করে ধরতেই ভড়কে উঠে লাফিয়ে উঠলো।

“কোন শালিরে!”

চোয়াল শক্ত করে তাকালো দ্যুতি। শান্ত তবে চোখ দিয়ে আগ্নেয়গিরি বেরুচ্ছে।

“তোমার চোখের মরণ ফাঁদে যেই দিয়েছি ডুব,
আর পারিনি উঠতে তলিয়ে গেছি খুব!”

দাঁতে দাঁত চাপলো।

“ওহে বালিকা! তুমি ময়দা মেখে গায়ের রং বদলালে কিন্তু মন তো বদলালে না! আমার চুল কেন ধরলে?”

“এখানে কী?”

“তুমি এত সন্দেহ করো কেন আমাকে? আমার বাকি গার্লফ্রেন্ডগুলো তো এমন করে না!”

“তোকে সন্দেহ করতে আমার বয়েই গেছে। এই তুই ভালো হবি না?”

চমকায় অনিক।

“মাইন্ড ইওর ল্যাংগুয়েজ।”

“তুই যদি করোনা ভাইরাসের সময় মাস্ক ব্যবহার না করতি তাহলে আজ তোকে দেখা লাগতো না। এত ঝামেলা দেখতে হতো না। বল তখন মাস্ক কেন ব্যবহার করলি?”

“কী বললে?”

“ঠোঁটকাটা আম্বানি।”

“আর ভালো নাম পাইলা না?”

“আমাকে তখন কী বললি?”

“মিথ্যা বললাম কই! ফিতা কাটছো তাই ফিতা আম্বানি।”

হাত মুষ্টিবদ্ধ করলো দ্যুতি।

“আচ্ছা তোরা কি বুঝিস না তোদের যে ছাপড়ির মতো লাগে?”

“একদম না।”

“মানুষ হবি কবে?”

“আশ্চর্য আমি ঘোড়া নাকি আমি তো মানুষই।”

“তখন এমন করলি কেন?”

“কেমন করলাম?”

“আমার প্রেস্টিজ কেন নষ্ট করলি?”

“এত সাজসজ্জা করে কাকে দেখাতে এলে?”

“তোকে বলবো কেন?কে তুই?”

কলার চেপে ধরলো।

“একবার জিন্সের প্যান্ট পড়লা কিছু বলিনি এখন আবার পাবলিক প্লেসে এত সেজেগুজে কেন এলে?”

“তাতে তোর বাপের কী?”

“অনেক কিছু।”

আরো জোরে কলার চেপে ধরলো।

“আমার পারসোনাল ব্যপারে ইন্টারফেয়ার করবি না।”

ছুটে এলো নিশু।

“দ্যুতি কী হচ্ছে এইসব?”

“ওকে শিক্ষা দিবো।”

“পাগল নাকি এটা রোড। আরে মানুষ দেখছে তো!”

“দেখুক!”

“ছেড়ে দে। সিনক্রিয়েট করিস না প্লিজ।”

গুরুত্ব দিলো না।

“বল আমার ব্যপারে কেন নাক গলাস?”

“আমার ইচ্ছে হয়েছে।”

আচমকা চোখ পড়লো একটা ভাঙা ইটের টুকরোর উপর। ছুটে গিয়ে নিয়ে এসে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে অনিকের মাথায় আঘাত করতেই হতভম্ব হলো সবাই।

“দ্যুতি কী করছিস?”

শুনলো না পরপর আঘাত করতে লাগলো। ব্যথাতুর চোখে তাকিয়ে রইলো অনিক। ওর গ্যাংরা ছুটে আসতেই ইটের টুকরো ছুঁড়ে মারতেই মাথা ফেটে গেল। অনিক দাঁড়িয়েই রইলো। যেই আসছে তাকেই ইটের টুকরো দিয়ে মাথা ফাটিয়ে ফেললো। মাথা ধরে কাতরাতে লাগলো ওরা। চোখে-মুখে সর্ষেফুল দেখতে লাগলো নিশু।

“এইসব কী হচ্ছে দ্যুতি!”

“সর।”

ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে ছুটে গিয়ে ফের আঘাত করলো অনিকের মাথায়।

“মে’রে ফেলবো তোকে! তোর বুদ্ধি কেন হয় না! তোকে আজ সত্যিকারের পাগল বানিয়ে ছাড়বো!”

আত্মরক্ষার চেষ্টা করলো না অনিক নির্লিপ্ত রইলো। আরেকবার মাথায় আঘাত করতেই রোডের উপর পড়ে গেল অনিক। জোরে চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠলো দ্যুতি।

“তোর জন্য একের পর এক বিয়ে ভাঙ্গলাম আর তুই আমাকে ডোন্ট কেয়ার ভাব দেখাস! তুই আমাকে ইগনোর করিস! তোর থেকেও কোটি কোটি টাকার মালিকের ছেলে আমাকে বিয়ে করার জন্য পাগল। আমি সবাইকে ফিরিয়ে দিয়েছি তোর মতো একটা পাগলের জন্য। ভাবলাম আমার ভালোবাসা পেলে তুই ঠিক হয়ে যাবি কিন্তু তুই একটা অমানুষ। পিএইচডি করে আসলি এরপরেও তুই পাগলই রইলি। জীবন নিয়ে তুই সিরিয়াস না।”

“তুমি তো আমাকে আইলাবিউ বলো নাই!”

এই মুহূর্তে এই কথায় যেন শতসহস্র আগুন ঢাললো দ্যুতির কানে। একের পর এক আঘাত করতেই লাগলো।

“তোর আই লাউ ইউ তাই না!”

ছুটে এসে আবারও থামানোর চেষ্টা করলো নিশু।

“দ্যুতি থাম না মরে যাবে তো! থাম!”

“মরুক!”

কাঁড়াকাঁড়ি করতে লাগলো। ক্ষেপে উঠে ধাক্কা দিতেই পিলারের উপর উল্টো হয়ে পড়তেই পিঠের পিছনে ব্যথা পেতেই চিৎকার করে উঠলো নিশু। সঙ্গে সঙ্গে তলপেটের এক সাইটে ব্যথা শুরু হলো। পেট চেপে ধরে ছুটে এলো।

“কেউ আছেন বাঁচান! বাঁচান!”

অ.টি শেষ করে হসপিটাল থেকে বাসায় ফিরছিল তানজিল সঙ্গে তাহমিদও ছিল। ফুটপাতে নিশুকে চিৎকার করতে দেখে গাড়ি থেকে নেমে ছুটে এলো ওরা। দ্যুতির দিকে চোখ পড়তেই আঁতকে উঠলো। নিশু আবারও ছুটে এসে আঁটকাতে চাইলো।

“আরে আরে কী করছেন? পাগল হয়েছেন?”

ইটের টুকরোটা হাতে নিয়ে ফেলে দিলো।

“আপনি মানুষ নাকি অন্য কিছু?”

জ্ঞান হারিয়েছে অনিক। তার পাশে বসে দ্যুতির দিকে তাকাতেই চমকালো।

“আপনি!”

পাথুরে মূর্তির মতো স্থির রইলো দ্যুতি। নিজের হাতে অনিককে আঘাত করেছে সে! দ্যুতিকে এসে ধরলো নিশু।

“উনাকে হসপিটালে নিয়ে যান প্লিজ। উনার অবস্থা শোচনীয়!”

এগিয়ে এলো তাহমিদ। নিশুকে দেখতেই চমকায়। দু’জনের সে-কি বিধস্ত অবস্থা!

“আপনারা এখানে কী করছেন?”

চমকে তাকায় নিশু। তাহমিদকে দেখতেই অপ্রস্তুত হলো।

“আমাদের একটা প্রোগ্রাম ছিল।”

ওদেরকে খুঁজতে লাগলো তিনভাই। শপিংমল থেকে বেরিয়ে ফুটপাতের দিকে চোখ পড়তেই ছুটে এলো। অনিককে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতেই চমকালো।

“দ্যুতি কী হয়েছে?”

ধূসরের বুকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো দ্যুতি।

“আমি ওকে মে’রে ফেলেছি ভাইয়া। মে’রে ফেলেছি!”

চমকালো। ধ্রুবকে ইশারা দিলো।

“দাঁড়িয়ে রইলে কেন হসপিটালে নাও।”

অনিককে হসপিটালে নিয়ে গেল এবং আইসিসিইউতে রাখা হলো।
____

চলবে~