মেঘভেজা দুপুরের নিমন্ত্রণে ফিরে এসো পর্ব-১২

0
274

#মেঘভেজা_দুপুরের_নিমন্ত্রণে_ফিরে_এসো
#পর্ব-১২

“ভেতরে এসো দুপুর।”
সারোয়ার দরজা থেকে সরে দাঁড়ালো। আমি ভেতরে ঢুকলাম। তিতুন আমাকে দেখতেই দৌড়ে এলো-“মাম্মা, তুমি এসেছ? বাবাকে দেখতে এসেছ তাই না? কি মজা? বাবা মাম্মা আমি দিদুন সবাই মিলে খেলবো।”
“সবাই মিলে খেলবো তিতুন। তার আগে মাম্মা একটু বাবার সাথে কথা বলবে। তুই একটু খেলা করো তিতুন।”
সারোয়ার তিতুনকে ডাকলো-“তিতুন, এই যে নতুন গাড়ি আছে এখানে। দেখতো চালাতে পারো কিনা?”
তিতুন নতুন খেলনা পেয়ে ডুবে গেলো। আমি সারোয়ার আর তিতুনের দিদুন তিনজনে মুখোমুখি বসে আছি। ওনার মুখচোখ ভীষণ ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে। উনি বললেন-“কি ঘটেছে আমি বলছি দুপুর।”
সারোয়ার হাত দেখাল-“তুমি অসুস্থ মানুষ এতো চাপ নিয় না মা। দুপুর কি জানতে চায় তার জবাব আমিই দেব।”
আমি হাসলাম-“তোমাদের দু’জনার ঠেলাঠেলি শেষ হলে আমি কিছু বলি?”
সারোয়ার মাথা দুলালে আমি বলি-“তুমি কি সত্যিই এতোদিন নিখোঁজ ছিলে?”
সারোয়ার মুখ খুললো-“উত্তরটা হ্যা বা নাতে দেওয়া সম্ভব না। তোমার ডিটেইলস শুনতে আপত্তি নেই তো?”
আমি মাথা নাড়ি-“শুনবো বলেই তো এলাম। বলো কি ঘটনা। আমার পালিয়ে যাওয়ার দিনই কেন তুমিও পালালে সেটা জানতে খুব উৎসাহি আমি।”
সারোয়ার আমার চোখে চোখ রাখে। টের পেলাম ওর চোখের তারা খানিকটা জ্বলে উঠে উঠলো। নিজেকে যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে সে। নরম গলায় বললো-“তুমি আমাকে ছেড়ে পালাবে এই কথাটা প্রথম আমাকে জানায় রেবা। তাও আবার রঙ্গনের সাথে, অসম্ভব। শুনে আমি বিশ্বাস করিনি মোটেও। রেবার কনফিডেন্সের সাথে শর্ত দিয়েছিল, যদি তোমার পালিয়ে যাওয়ার খবর সত্যি হলে ওকে বিয়ে করতে হবে। তোমার উপর প্রচন্ড বিশ্বাস থেকেই আমি ওর শর্ত মেনে নেই। আমি জানতাম রঙ্গন তোমাকে না পেয়ে ওর মায়ের উপর রাগে ক্ষোভে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। কাজেই রেবার কথা মিথ্যে ধরে নিয়ে ওর শর্তে সম্মতি দিয়েছিলাম। কিন্তু তুমি আমার বিশ্বাসকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সেদিন রাতে রঙ্গনের সাথে পালিয়ে গেলে।”
সারোয়ারের কথা শুনতে শুনতে আমার ভ্রু কুঁচকে গেলো। আমি রাগান্বিত হয়ে বলি-“কি বলতে চাইছো সারোয়ার? এমনভাবে বলছো যেন আমি পরকীয়া করে পালিয়ে এসেছি। ব্যাপারটা কি তাই? নাকি তোমার পরকীয়ায় অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমি পালিয়ে এসেছি? বিশ্বাস শব্দটা যায় তোমার সাথে? কারো বিশ্বাস কিভাবে ভাঙতে হয় সেটা তোমার চাইতে ভালো কে জানে? আমার কথা বাদ দাও তুমি জানতে রঙ্গন আমাকে পছন্দ করে তবুও খালাতো ভাইয়ের পছন্দকে নিজের পছন্দ বানাতে দু’বার ভাবোনি তুমি। সেই তুমি কিনা আমার বিশ্বাস ভাঙা নিয়ে জ্ঞান ঝাড়ছো? ব্রাভো।”
সারোয়ার অসহায় চাহুনি দিয়ে তাকিয়ে থেকে আমায় বললো-“আমার ভুল আমি স্বীকার করছি দুপুর তাই বলে তুমিও কেন সেই একই পথে হাঁটবে? কেন আমার থেকে পালিয়ে আসবে?”
আমি রেগে গেলাম। চেচিয়ে বললাম-“আমি পালিয়ে এসেছি? আমি! নাকি তুমি বাধ্য করেছিলে আমাকে? কি করা উচিত ছিলো আমার? পালিয়ে না এসে তোমার তালাকের অপেক্ষা করতাম? তারপর ডিভোর্সী হয়ে সমাজের মানুষের বাঁকা নজরে পড়ে নিজেকে শেষ করতাম? কিন্তু শুধু আমি কেন সহ্য করবো বলো তো? আমার একার কেন দায় হবে? বিয়ে তুমি আমি দু’জনই করেছিলাম তাই আমি একা সাফার করবো এটা মেনে নিতে মন সায় দেয়নি কিছুতেই। সেদিনই ঠিক করলাম পালিয়ে যাব। তুমি যাকে খুশি বিয়ে করো কিন্তু মনে যেন এই ভয় থাকে তোমার বউ ফিরে আসবে। যে তোমাকে বিয়ে করবে সেও যেন এই ভয়ে থাকে তোমার ভাগিদার বর্তমান আছে। যে কোন সময় ফিরে আসতে পারে। আমাকে ছেড়ে তুমি অন্য কারো সাথে সুখে থাকবে আর আমি ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকবো এটা কি করে হতে দেই বলো?”
আমার কথা শুনে সারোয়ার অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। স্তিমিত কন্ঠে বললো-“আমার না হয় ভুল ছিলো দুপুর তাই বলে তুমি আমাকে ছেড়ে আসবে? আমার মেয়েকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে দেবে? বাবা হিসেবে আমাকে বঞ্চিত করার অধিকার কোথায় পেলে দুপুর?”
“যে অধিকারে তুমি আরেকটা বিয়ে করতে চাইছিলে সেই অধিকারে সারোয়ার। আমারই বান্ধবীর সাথে ফ্লাটিং, রেবার সাথে ইনিয়েবিনিয়ে প্রেম তারপর আমাকে বিয়ে। আবার আমাকে ফেলে অফিসের কর্মচারীর সাথে প্রেম। জীবনটা মনেহচ্ছে তোমারই।”
সারোয়ার চোখ গোল করে তাকাতেই হেসে দিলাম-“তুমি কি ভেবেছিলে আমি কোনদিন জানবো না রেবার কথা? বিয়ে করবে বলেই মেয়েটার সাথে প্রেম প্রেম খেলা খেলে তারপর আমাকে বিয়ে করা। ব্যাপারটা দারুণ সারোয়ার। আজ বুঝতে পারি শুধু রঙ্গনকে হারিয়ে দেওয়ার জন্য তুমি আমাকে বিয়ে করেছিলে, প্রেমের নাটক করেছিলে। এতোটা হিংসা আপন খালাতো ভাইয়ের জন্য! কেন সারোয়ার?”
সারোয়ার নরম গলায় বললো-“তুমি আলোচনা অন্য দিকে টেনে নিচ্ছ দুপুর। যেটা বলছিলাম সেটাই বলি।”
আমি আমার মেজাজের লাগাম টেনে ধরি। কোনরকমে নিজেকে শান্ত করে বলি-“হ্যা বলো। শুনি তোমার আরেকটা মিথ্যে।”
সারোয়ার মেজাজ খারাপ না করে নরম গলায় বলতে শুরু করে-“সেদিন তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফেরার পরই রেবা আমাকে জানায়, সে রাতে তুমি পালাবে। আমি বিশ্বাস করিনি। রেবা বললো, বিশ্বাস না হলে নাই। তবে বিশ্বাস হয়ে যাবে। তুমি শুধু আমার কথা অনুযায়ী কাজ করো। রেবার কথাতেই সেদিন সকাল সকাল শুয়ে পড়ি। সাড়ে বারোটায় রেবার কল পেলাম। বললো, তুমি কেবল বাসা থেকে বের হয়েছ। তোমার পিছু নিতে হবে। রুমে তোমাকে না পেয়ে বুঝলাম রেবার কথা হয়তো সত্যি হয়েছে। ছুটলাম তোমার পিছু পিছু। একটা হাসপাতালের সামনে তুমি দাঁড়ালে। একজন এসে তোমার হাতে কিছু কাগজ দিলো, পাঁচ মিনিট কথা হলো তোমাদের। তারপর তুমি আবার সিএনজিতে উঠে বসলে। নামলে কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে। সেখানেই রঙ্গনকে দেখলাম। তোমাদের দু’জনকে একসাথে দেখে আমার মাথা খারাপ হয়ে গেলো। চিৎকার করে তোমাদের ডাকবো এমন সময় চোখে আঁধার নেমে এলো। কেউ আমার মাথায় জোরে আঘাত করলে আমি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি।”
আমি হেসে দিলাম-“ফিল্মের কাহিনি বলছো নাকি সারোয়ার? সত্য মিথ্যা যাইহোক শুনতে বেশ লাগছে কিন্তু। বলো তারপর কি হলো? জেগে উঠে কি দেখলে? চেয়ারে বাঁধা পড়ে আছো? রেবা তোমাকে বিয়ে করার জন্য কাজী নিয়ে অপেক্ষা করছে?”
সারোয়ার স্থির হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে একদৃষ্টিতে। ওর চোখে কোন অনুভূতি নেই। আমিও ভয় না পেয়ে তাকিয়ে থাকি। চোখ ফিরেয়ে নেই না। সারোয়ার হতাশ কন্ঠে বললো-“তুমি ফান মনে করে বললেও কথাগুলো আসলে সত্য দুপুর। ঠিক এমন কিছুই হয়েছিল। এর সাথে আরেকটা সারপ্রাইজিং ব্যাপার ছিলো। সেটা হলো জেগে উঠে রেবার সাথে মাকে দেখা। পুরো ব্যাপারটা মা জানতো তবুও তোমাকে আটকানোর চেষ্টা করেননি। কারণ সে মনে মনে চাইছিল তোমার সাথে আমার ছাড়াছাড়ি হোক। আমি রেবাকে বিয়ে করি। আমি রাজি হলাম না। মা বললেন-‘তোমার অনেক পাগলামি সহ্য করেছি সারোয়ার। আর না। দুপুর চলে গেছে ভালো হয়েছে
আপন একা বিদায় হয়েছে সেই ভালো। এবার অন্তত রেবাকে বিয়ে করো।’
‘পাগল হয়েছ মা? ওকে কেন বিয়ে করবো? চেহারা দেখেছ ওর? আমি অফিসের জিনিয়াকে বিয়ে করবো।’
আমার কথা শুনে রেবা রেগে গেলো-‘তাহলে আমার সাথে প্রেম করেছিলে কেন সারোয়ার ভাই?’
‘ইচ্ছে হয়েছিল। কিন্তু তুইও বা কেমন? ভাই ডেকে আবার বর বানাতে চাস? ছিহ।’
রেবা তীব্র ঘৃনা নিয়ে আমায় দেখে-‘তোমাকে এতো সহজে ছাড়বোনা সারোয়ার ভাই। আমাকে তুমি চেননা।’
‘আমাকে কিছু করলে মা তোকে ছেড়ে দেবে?’
‘কিছু করার মতো পরিস্থিতিতে থাকলে তো কিছু করবে? দেখো তোমার চোখের সামনে মামাীর কি হাল করি।’
বলেই রেবা মায়ের মুখে রুমাল চেপে ধরলো। মা সাথে সাথে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। আমি ভয় পেয়ে কয়েকবার করে মাকে ডাকি মা সারা দেয় না।রেবা আমাকে দিকে তাকিয়ে ক্রুর হাসি দিলো-‘এবার তোমার পালা। তারপর তোমাকে নিয়ে এমন জায়গায় আঁটকে রাখবো যে কোনদিন কেউ খোঁজ পাবে না তোমার। তারপর তুমি থেকো একা একা আর দুপুরকে মনে করো।’
বলেই রেবা পুনরায় আমাকে অজ্ঞান করে। নিজেকে গ্রামের এক বাড়ির ঘরে পাই। খাবার নেই পানি নেই বাথরুম নেই। এভাবেই কাটলো কয়েকদিন। তারপর রেবা এসে আবারও বিয়ের কথা বললো। আমি বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেতেই ওকে বিয়ে করতে রাজি হলাম।”
আমি হেসে দিলাম-“বাহ চমৎকার গল্প। তাহলে গত কয়েকবছর সুখে শান্তিতে সংসার করলে? আর এদিকে তোমার মা তোমাকে খুঁজে বেড়ানোর নাটল করছে। দু’জনই ভালো গল্প বলতে পারে। অস্কারজয়ী গল্প।”
এবার উনি এগিয়ে এলেন-“আমি কোন নাটক করিনি দুপুর। সেদিনের পর সত্যি সারোয়ারের সাথে যোগাযোগ ছিলো না আমার। রেবা ওকে নিয়ে কোথায় চলে গেছিল সেটা আর জানতে পারিনি আমি। কখনো বলেনি। রেবা হুমকি দিয়েছিল, কোন ধরনের মামলা মোকদ্দমা করলে সারোয়ারকে হারাতে হবে। তাই ভয়ে কোনদিন কিছু করার সাহস পাইনি।”
আমি খিলখিল করে হেসে দিলাম-“গল্পটা বেশি গাঁজাখুরি লাগছে। রেবা আপনাদের বাড়িতেই থাকতো। হুট করে কোথায় চলে যাবে? গল্পের এই অংশটা দূর্বল হয়ে গেছে। পাঠক ধরে রাখতে পারবেন না।”
উনি কিছু বলতে চাইছিলেন সারোয়ার থামিয়ে দিলো-“ওকে কিছু বলে লাভ হবে না মা। বাদ দাও।”
আমি হাসি থামিয়ে গম্ভীর হলাম-“বিশ্বাস হবে না কেন? বিশ্বাস হওয়ার মতো করে বললে অবশ্যই বিশ্বাস হবে।”
উনি বললো-“নিজের কাছের লোকজন বিশ্বাসঘাতক হলে তাদের সাথে ডিল করা কঠিন। রেবা আমার নাড়ীনক্ষত্র জানতো। জানতো সারোয়ারকেউ। আমাদের কিভাবে কাবু করা যাবে সেটার পরিকল্পনা করেই ও কাজটা করেছিল। অনেকদিনের জমানো রাগ ছিলো ওর। সারোয়ারকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেনি ও। তবে প্রতিমাসে একটা বড় অংকের টাকা ওকে পাঠাতে হতো। তারপর একদিন ওর ফোন এলো, এককোটি টাকা দাবী করে। আর বাড়ীটা ওর নামে লিখে দিতে। না দিয়ে উপায় ছিলো না। সারোয়ারকে জখম করেছিল খুব বাজে ভাবে। ভিডিও পাঠিয়ে ব্লাকমেল করেছিল। বাধ্য হয়ে আমাকে ওর সব কথা মেনে নিতে হয়। তারপর থেকে রেবা আর কোনদিন ফোনও দেয়নি আমাকে।”
“তাহলে এটা কে বসে আছে? সারোয়ারের ভুত?”
আমার প্রশ্নে এবার সারোয়ারের চেহারায় বিরক্তি ফুটে উঠলো। আমি মৃদুস্বরে হেসে বলি-“সব দোষ রেবার ঘাড়ে দিয়ে এখন নিজেদের সাফসুতরা বললেই কি আমি মেনে নেব? না আমার মেনে নেওয়া উচিত হবে?”
সারোয়ার বললো-“তুমি মেনে না নিলেও সত্য পাল্টে যাবে না দুপুর। রেবা আমাকে নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছিল। সেখানে আমাকে বাড়িতে আঁটকে রাখতো যেন আমি পালিয়ে দেশে না আসতে পারি। আমার জীবনটা নরক বানিয়ে ফেলেছিল রেবা। কিভাবে আমি দেশে ফিরেছি নিজেরই এখন বিশ্বাস হয় না।”
আমার মুখে প্রশান্তি ফুটে উঠলো-“নিজের কর্মের সাজা পেয়েছ তবে?”
সারোয়ার এবার হাসলো-“আমি না হয় আমার কর্মের সাজা পেয়েছি দুপুর। তুমি কি পাবে না? স্বামী সংসার ফেলে পরপুরুষের কাছে আশ্রয় নিয়েছ তার সাজা কি হবে দুপুর?”
আমি রেগে বলি-“উল্টো পাল্টা বকবে না সারোয়ার। নিজের মতো সবাইকে ভাবো নাকি?”
সারোয়ার হাসলে-“না তা ভাবি না। আমি অন্তত লুকিয়ে চুরিয়ে কিছু করি না। এবার তোমাকে মজার একটা কথা বলি। রেবা আমাকে নিয়ে আমেরিকা গেছিল। ওকে কে সাহায্য করেছিল জানো? তোমার প্রানপ্রিয় বন্ধু রঙ্গন।”
আমি অবিশ্বাস নিয়ে চিৎকার করে উঠি-“বিশ্বাস করি না। কিছুতেই বিশ্বাস করি না। রঙ্গন এমন কাজ করতেই পারে না।”
সারোয়ার হা হা করে উচ্চস্বরে হাসলো-“তোমার অবিশ্বাসে সত্য পাল্টে যাবে না দুপুর। সত্য সত্যই রবে। তোমার রঙ্গন তোমার স্বামীকে কিডন্যাপ করেছিল।”

চলবে—
© Farhana_Yesmin