#মেঘলা_আকাশে_রংধনু_হবো
#লেখনীতে_তাইয়েবা_বিনতে_কেয়া
#পর্ব_১১ ( প্রথম অনূভুতি)
হৃদান মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে হিয়ার দিকে এতো মুগ্ধ দৃষ্টিতে আর মায়া নিয়ে জীবনে কখনো কোনো মেয়েকে দেখে নাই সে। শহরে পার্টি করা মেয়েদের দেখছে কিন্তু নামাজ পড়া অবস্থায় একটা মেয়েকে এতো সুন্দর লাগতে পারে। এই রূপ দিয়ে যোকোন পুরুষ মানুষের হৃদয়ে ঝড় তুলে দিতে পারবে। হিয়ার নামাজ শেষ করে উড়না খুলে ফেলে।
হিয়া যানে না তার পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা দুইটি চোখের পলক শুধু তার দিকে রয়েছে। হিয়া উড়না খুলে পিছনে তাকিয়ে হৃদানকে দেখে অবাক হয়ে যায় এই লোকটা কখন আসলো তার রুমে নামাজ পড়ার সময় হয়তো। কিন্তু এভাবে তাকিয়ে রয়েছে কোনো মনে হচ্ছে সামনে কোনো সুন্দর জিনিস সামনে রাখা। কিন্তু এই রুমে হিয়া ছাড়া আর দেখার বিশেষ কিছু নাই তাহলে কি হৃদান হিয়াকে দেখছে।
হিয়ার চোখে চোখ পড়তেই হৃদান চোখ সরিয়ে নেয় এরপর একটু স্বাভাবিক হয়ে রুমে ঢুকে। হৃদান বলে –
“- হিয়া আই এম সরি “।
হিয়া যতটা না অবাক হয়েছে হৃদানের তাকিয়ে থাকা নিয়ে তার চেয়ে বেশি অবাক হয়েছে সরি কথাটা শুনে। মানে হৃদান ওকে সরি বলছে হঠাৎ করে কি হলো লোকটা জিনে ভুতে ভর করলো নাকি। হিয়া বলে –
“- আচ্ছা আপনার কি জ্বর এসেছে বা পেট গরম হয়েছে যে আপনি আমাকে সরি বলছেন। আমাদের গ্রামে সরি মানে মাফ চাওয়া ভুল মেনে নেওয়া বুঝায়। আপনাদের শহরে কি সরি মানে অর্ডার করা বুঝায় “।
হৃদান ওর কথা শুনে একটু ভ্রু কুচঁকে তাকায় এই হলো মেয়ে মানুষের সমস্যা যদি কখনো ভালো করে কথা বলতে যায় তাহলে বলবে মতলব কি সন্দেহ করবে। আর যদি খারাপ করে ধমক দিয়ে কথা বলে তাহলে কান্না করতে করতে চোখকে নদীতে পরিণত করবে। যদিও নিজের জীবনে খুব কম সরি বলেছে সে যদি বাড়ির সবার সামনে সরি বলতো তাহলে সবার এই রিয়েকশন হতো। হৃদান বলে –
“- সরি মানে মাফ চাওয়া আসলে আজকে অফিসে অনেক কাজ ছিলো দুইদিন ধরে যাওয়া হয় নাই। তাই আপনাকে কোচিং থেকে নিয়ে আসতে পারি নাই আর কোনো টাকা বা ফোন দেয় নাই। তবুও ভালো মতো আপনি বাড়ি ফিরেছেন সেটায় অনেক তাই নিজের ভুলের জন্য সরি বলছি “।
হৃদানের মুখ থেকে সরি শুনতে খুব একটা খারাপ লাগছে হিয়ার সবসময় শুধু ধমক আর অর্ডার শুনে। কিন্তু আজকে সরি শুনছে বাহ ভালো কথা। হিয়া বলে –
“- যানেন আজ অবদি অনেকে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে কোনো জিনিসে আমার দোষ ছিলো না। তবুও আমাকে সরি বলতে হয়েছে তবে আজ প্রথম কেউ আমাকে সরি বলছে। আমার বাড়ি ফিরা নিয়ে টেনশন করেছে ধন্যবাদ আপনাকে। হিয়ার মতো একটা তুচ্ছ মেয়েকে নিয়ে টেনশন করার জন্য “।
হৃদান হিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখে কথাগুলো বলার সময় মেয়েটার চোখে এক বিন্দু পানি জমে রয়েছে। আর কি ভীষণ মায়া আর কষ্ট নিয়ে কথা বলছে কোনো হিয়ার কথা এতো ভালো লাগে। ইচ্ছে করে ওর সব কথা শুনতে আগে কখনো কারো উপর মায়া কাজ করে নাই কারো কথা শুনতে ভালো লাগে নাই হৃদানের। হৃদান বলে –
“- আপনার জীবনে যা কখনো হয় নাই তাই হবে এখন সব খুশি আপনাকে ঘিরো থাকবে। সব দুঃখ দূর হয়ে সুখ আসবে আপনার জীবনে সেই জন্য দায়িত্ব নিয়েছি আমি আপনার “।
“- আপনি সুখ বলতে কি টাকা বোঝাতো চান কিন্তু আমার কাছে সুখ মানে হলো ভালোবাসা। সেটা কি দিতে পারবেন আমাকে আপনি শত দুঃখের মাঝে বুকে আগলে রাখতেন সুখের সময় হাসির কারণ হতে পারবেন। দায়িত্ব কি শুধু টাকা দিলে শেষ হয়ে যায় “।
হিয়ার এই কথার উত্তর নাই হৃদানের কাছে সত্যি কি দায়িত্ব শুধু টাকা দিলে শেষ হয়ে যায় কিন্তু হিয়া যা চাই তা কি করে দিবে হৃদান। এই মায়াবতীর মায়ার নিজেকে কি করে সপে দিবে সে কারণ ভবিষ্যতে ঘৃণার পাল্লা এই মায়ার চেয়ে ভারী হয়ে যাবে। হৃদান নিজের হাতে থাকা একটা ব্যাগ দেয় আর বলে –
“- এই নেন আপনার জন্য একটা ফোন রয়েছে এখানে যদি কখনো ফোন করার দরকার হয় তাহলে করবেন।বিপদ এলে ফোন যাতে প্রথমে আমার কাছে আসে “।
হৃদানের এতো অধিকার কোথা থেকে আসে বিয়েটা সে মানে না তাহলে শুধু কি দায়িত্ব থেকে এতো অধিকার আসতে পারে। হিয়া বলে –
“- ঠিক আছে সমস্যা হলে ফোন করব “।
“- আচ্ছা আপনি কোচিং থেকে বাড়ি কি করে ফিরে আসলেন “।
হৃদানের কথা শুনে হিয়ার অনির কথা মনে পড়ে ওই ছেলেটা কি সত্যি হৃদানের বন্ধু। হিয়া বলে –
“- ওহ আমাদের কোচিং একটা ছেলে পড়ে ও নাকি আপনার বন্ধু এই চৌধুরী বাড়ি চিনে। ওর সাথে এসেছি নাম হলে ওহ অনিল “।
হিয়ার মুখে অনিলের নাম শুনে হৃদান সন্দেহ নিয়ে তাকায় অনিল মানে অনি একই কোচিং পড়ে।তাহলে আজকে সকালে যখন কোচিং গিয়েছে তখন ওর সাথে দেখা করে নাই কোনো। অবশ্য সেই ছোটবেলা ওর সাথে বন্ধু ছিলো কিন্তু বড়ো হওয়ার পর ও এই বাড়িতে আসে নাই তাই হয়তো ভুলে গেছে। তবে অনি আর হিয়া একসাথে পড়ে বিষয়টা জেনে ভালো লাগে হৃদানে৷। হৃদান বলে –
“- হৃম ও হলো অনি ছোটবেলা আমাদের বাসায় আসতে আমার থেকে ছোট ছিলো কিন্তু আমার বন্ধু ও। যাক আপনাকে ভালো করে বাসায় নিয়ে এসেছে এইটাই অনেক “।
কথা শেষ হতে হিয়া হাতে থাকা ফোন দেখে কি সুন্দর ফোন অনেক দামী মনে হয়। ফোন ভালো কি খারাপ সেটা চেক করার একটা উপায় আর তা হলো সেলফি হিয়া তাড়াতাড়ি ছবি তুলে আর দেখে হিয়া বলে –
“- ওয়াও এই ফোনে কতো সুন্দর ছবি উঠে আমাকে একদম নায়িকার মতো দেখতে লাগছে। গ্রামের সকিনার চেয়ে বেশি সুন্দর লাগছে কি সুন্দর ফোন “।
হৃদান ওর দিকে তাকিয়ে থাকে মেয়ে গ্রামের হোক বা শহরের ফোন দেখলে ছবি সবাই তুলবে। হৃদান ওর কাণ্ড দেখে মনে মনে ভাবে পিকুকে ফোন দিলে ও এমন বাচ্চামি করতো না। হৃদান বলে –
“- এই সকিনা কে “।
“- আমাদের গ্রামের সয়তান বেডি আছে নাম সকিনন সারাদিন ফোন আর সাজ নিয়ে বিজি থাকে। আজ আমাকে তার চেয়ে বেশি সুন্দর লাগছে হিহিহি “।
“- ওকে আপনি ফোন দেখেন কেমন হয়েছে আমি রুমে যায় ফ্রেশ হতে হবো “।
হৃদানের যাওয়া দেখে হিয়ার মামা আর মামির সাথে কথা বলার কথা মনে পড়ে। কতোদিন হলো তাদের সাথে কথা বলি নাই হিয়া বলে –
“- আচ্ছা আমি কি মামা আর মামির সাথে কথা বলতে পারি “।
“- হুম ঠিক আছে বলেন “।
হিয়া খুশি হয়ে তার মামির কাছে ফোন করে রান্নাঘরে রান্না করছে তার মামি। আগে হিয়া থাকতে সেই করতো কিন্তু এখন সব রান্না তার মামিকে করতে হচ্ছে। হঠাৎ করে ফোন বেজে উঠে তাই রিসিভ করে বলে –
“- হ্যালো কে বলছেন “।
“- মামি আমি হিয়া বলছি “।
“- কে হিয়া আমি কোনো হিয়াকে চিনি না যখন বিয়ে থেকে পালিয়ে গিয়েছিলি তখন হিয়া আমাদের কাছে মা*রা গেছে।
সমাজের সবার সামনে নাক কাটা গিয়েছে আমাদের ছোটবেলা থেকে বড়ো করে এই প্রতিদান। আর কখনো ফোন করবি না আমাদের যেখানে পালিয়ে গেলি সেখানে থাক “।
মামি ফোন রেখে দেয় হিয়ার চোখে পানি চলে আসে হৃদানের হিয়ার হাসিখুশি মুখ দেখতে ভালো লাগছে। এতোখন অফিসে কাজ করার পর এই মেয়ের হাসি মুখ দেখে সব দুবর্লতা দূর হয়ে গেছে কিন্তু এখন কান্না করা দেখে। মনে কষ্ট হচ্ছে হৃদান একটু এগিয়ে গিয়ে বলে –
“- হিয়া কান্না করছেন কোনো আপনার মামি হয়তো রাগ করেছে পরে সব ঠিক হয়ে যাবে “।
“- মামি আর কখনো আমার সাথে কথা বলবে না মামা ও বলবে না। আর কখনো গ্রামে যেতে পারব না আমি “।
হৃদান হাত দিয়ে গাল টার্চ করে চোখের নোনা পানি মুছে দেয় এরপর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় আর শান্ত হতে বলে। হিয়া কান্না বন্ধ করে ছোটবেলা যখন কান্না করতো তখন মা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতো। হিয়ার কান্না বন্ধ হয়ে যেতো আজকে অনেকদিন পর কেউ কান্নার সময় তাকে এমন করে শান্ত করেছে।
হৃদান ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে ওকে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়তে বলে যতখন না হিয়া ঘুমিয়ে পড়ে তখন অবদি মাথায় হাত রাখে৷ মাথার কাছে বসে থাকে পরে ঘুমন্ত এক পরীকে রেখে নিজের রুমে চলে আসে এক অদ্ভুত শান্তি লাগছে মনে। শরীরের সব দুর্বলতা শেষ হয়ে গেছে বিশ্রাম হয়ে গেছে ওর চোখের ঘুমন্ত হিয়াকে দেখে। একটা মেয়ে এতো মায়াবী কেমন করে হয় মন কেড়ে নেওয়া ঘুমন্ত রাজকন্যা।
#চলবে