#মেঘলা_আকাশে_রংধনু_হবো
#লেখনীতে_তাইয়েবা_বিনতে_কেয়া
#পর্ব_১৩ ( প্রথম ভালোবাসার ছোঁয়া)
হিয়া অনেক কাপড় কিনে খুশি হয়ে যায় এতো কাপড় তার হৃদান ওকে আরো কসমেটিক কিনে দিতে চাই কিন্তু হিয় এইসব ব্যবহার করে না। ও গ্রামের মেয়ে তাই সাদামাট থাকতে পছন্দ করে ওরা যখন চলে আসবে তখন হিয়ার কিছু মনে পড়ে। হিয়া ডাক দেয় হৃদানকে –
“- শুনুন আমাকে কি আপনি কি আরেকটা জিনিস কিনে দিতে পারবেন “।
হৃদান পিছনে ফিরে তাকায় হিয়াকে এতোখন বলব কি লাগবে তখন কিছু বললো না কিন্তু কি চাই কিনতে। মনে হয় আসার সময় কিছু পছন্দ হয়েছে ওর হৃদান বলে-
“- হুম বলেন কি কিনবেন যদিও মেয়েদের কি কি লাগে সেটা আমি জানি না “।
হিয়ার নাকফুলের কথা মনে পড়ে মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে নাকে গয়না পড়তে হয়। গ্রামের সবাই এইটা মেনে চলে না হলে স্বামীর অমঙ্গল হয় যদিও বিয়েটা হিয়া বা হৃদান মানে না। কিন্তু হৃদানের কোনো সমস্যা হোক সেটা হিয়া চাই না কারণ হৃদান ওর কাছে এতো খারাপ মানুষ না। আর যেহেতু ও বিবাহিত সেহেতু কিছু জিনিস মেনে চলতে হবে ওর। হিয়া বলে –
“- আমার একটা নাকের ফুল কিনতে হবে সেইজন্য দাঁড়াতে বলছি “।
হঠাৎ নাকের ফুল কোনো কিনতে হবে শহরে কেউ এই নাক ফুল পড়ে থাকে না তাই হিয়া পড়লে একটা অদ্ভুত লাগতে পারে। তবে হিয়া যখন চেয়েছে তখন কিনে দিতে কি সমস্যা রয়েছে কিন্তু হিয়া মাথা নিচুঁ করে দাঁড়িয়ে রয়েছে কোনো। হৃদান বলে –
“- ওকে তাহলে চলুন কিনে দেয় আপনাকে “।
হিয়াকে হৃদান একটা সুন্দর নাকের ফুল কিনে দেয় এইটা হিয়া পড়ে বেশ ভালো মানিয়েছে ওকে। একদম খাঁটি বিবাহিত মহিলা লাগছে হিয়া নিজেকে একটু আয়নায় দেখে সত্যি গয়না পড়লে নারীর সৌন্দর্য আরো বেড়ে দশগুণ হয়ে যায়। হিয়া আর হৃদান তারপর চলে আসে। হিয়া একজোড়া বালা কিনতে চেয়েছে কারণ বিয়ের পর এইটাও পড়তে হয়।
তবে হৃদান ওকে অনেক জিনিস কিনে দিয়েছে এমনি নিজেকে ছোট্ট ছোট লাগছে তারপর আর কিছু বলতে পারবে না সে। অন্যসময় যদি নিজের টাকা হয় তাহলে কিনে নিবে সে হিয়া বাহিরে দেখতে থাকে। গাড়ি ট্রাফিকের জন্য থেমে যায় সামনে একজন বৃদ্ধ লোক তার বউকে হাত ধরে পার করিয়ে দেয় কিন্তু সুন্দর দৃশ্য তাই না। আচ্ছা হৃদান ও কি তাকে সারাজীবন এভাবে আগলে রাখবে।
হিয়াকে কেউ কখনো ভালোবাসা দেয় না হৃদান কি তাকে দিবে নিজের বুকের মধ্যে একটু ঠাই দিবে। কিন্তু হৃদান ওকে শুধু দায়িত্ব হিসাবে দেখে আর সারাজীবন তাই মনে হয় দেখবে কিন্তু কোয়ার কোনো করে তার। হিয়া একটু মায়া নিয়ে হৃদানের দিকে তাকায় কি সুন্দর লোকটা চোখ নাক সব সুন্দর। একটা পুরুষ মানুষের কি এতো সৌন্দর্য থাকা উচিত তাহলে হিয়া কোনো যেকোনো নারী ওর প্রেমে পড়ে যেতে বাধ্য। কিন্তু হিয়া কি ওর প্রেমে পড়ে গেছে?
হৃদান হঠাৎ খেয়াল করলো হিয়া ওর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে হৃদানের ওর তাকিয়ে থাকা খারাপ লাগছে না। অন্যসময় হলে এভাবে তাকানোর কারণ জিজ্ঞেস করতো বাট এখন করতে ইচ্ছে করছে না। হিয়া যে লাজুক মেয়ে যদি জিজ্ঞেস করে তাহলে লজ্জা পেয়ে আর তাকাবে না। হৃদান হেঁসে গাড়ি চালাতে থাকে। রাস্তায় পুরো সময় হিয়া হৃদানকে দেখতে থাকে এই প্রকৃতির চেয়ে হৃদান আরো বেশি মোহনীয় ওর কাছে।
গাড়ি খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছে যায় চৌধুরী বাড়িতে হিয়া নিজের চোখ নামিয়ে নিচে নেমে পড়ে। হিয়া যখন বাড়ির ভিতরে ঢুকতে যাবে তখন কি মনে করে গাড়িতে বসা হৃদানকে হিয়া ডাক দেয় –
“- শুনুন “।
“- বলুন “।
হিয়া চোখের কাজল থেকে একটু কালি নিয়ে হৃদানের কাছে যায় ওর ঘাড়েন কাছে একটা ফোঁটা দিয়ে দেয় আর বলে –
“- আপনি অফিসে যাবেন তাই নজর ফোঁটা দিয়ে দিলাম যাতে কারো নজর না লাগে “।
“- আমি কি ছোট বাচ্চা নজর লাগবে আর যদি নজর লাগে তাহলে মনে হয় আপনারটা বেশি লাগবে। গাড়িতে যেভাবে দেখছিলেন “।
“- আমি ভিতরে যায় “।
হিয়া লজ্জা পেয়ে দৌড়ে বাড়ির ভিতরে চলে যায় হৃদান হেঁসে গাড়িতে উঠে পরে। ঘাড়ে হাত দিয়ে অনুভব করে সে হিয়ার হাত ধরেছে কিন্তু হিয়া কখনো তার গায়ে টার্চ করে নাই এবার প্রথম।
হৃদান অফিসে চলে যায় হিয়া বাসায় ফিরে আসে তারপর দুপুরো কোচিং জন্য চলে যায়। আজকে হৃদান কোনো ভুল করে নাই ড্রাইভারকে হিয়াকে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দিয়েছে যতখন না ওর কোচিং শেষ হবে ততক্ষণ অপেক্ষা করতে বলছে। হিয়া কোচিং যায় তবে আজকে ও ওকে পিছনে বসতে হয় যেখানে অনি বসে থাকে।
অনি মুখে রুমাল দিয়ে ঘুমিয়ে রয়েছে হিয়া গিয়ে সেখানে বসে যায় এক নজরে ওকে দেখে। কি অদ্ভুত বাড়িতে কি রাতে ঘুমায় না এখানে এসে ঘুমাতে হয় যদি পড়াশোনা করতে ভালো না লাগে তাহলে করে কোনো বুঝতে পারে না সে। রাব্বি স্যার ভিতরে ঢুকে আসে তারপর সবাইে পড়া ধরতে থাকে অনিকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করে –
“- অনি দাঁড়াও আর আজকে যা পড়া দিয়েছি সেটা পড়ো “।
অনি মুখ থেকে রুমাল সরিয়ে নেয় কি সুন্দর একটা ঘুম দিলো কিন্তু স্যার ভেঙে দিয়েছে। অনি দাড়িয়ে যায় এরপর পড়া সব সুন্দর করে বলে দেয় হিয়া শুনে অবাক এই ছেলে সারাদিন ঘুমিয়ে থাকে আর কালকে ক্লাসে ঘুমিয়ে থেকে কি করে আজকে পড়া সব বলতে পারলো। অনি বসে যায় আবার ঘুমিয়ে পড়ে।
রাব্বি এবার হিয়াকে পড়া ধরে ওর বই কিনা হয়েছে তাই পড়া বলতে পাড়ে আর হিয়া ভালো ছাএী তাই সুন্দর করে বলে পড়া। হিয়া তার হাতে থাকা কলম দেখে কালকে যেটা অনি ওকে দিয়েছে হিয়া বলে –
“- এইযে আপনার কলম অনি “।
“- অনি যেই জিনিস একবার কাউকে দিয়ে দেয় সেটা ফিরত নেয় না তোমার কাছে রেখে দেও “।
“- আর হিয়া যদি কারো কাছ থেকে কোনো কিছু নেয় তাহলে সেটা ফিরত দিয়ে দেয়। অন্যর জিনিস রাখে না নিজের কাছে সো এই নেন আপনার কলম “।
“- ভালো জেদ আছে তোমার মধ্যে আসলে হৃদান কাজিনতেন তুমি জেদ থাকবে “।
হিয়া কোনো কথা না বলে আবার পড়াশোনা করতে থাকে হৃদান অফিসে যায় জাহিদ দেখে হৃদান বেশ খুশি। বিয়ের পর মুখে হাসি লেগে থাকে নতুন নতুন বিয়ে হলে এমন হয়। জাহিদ বলে –
“- বাহ হৃদান নতুন নতুন বিয়ে হয়েছে তাই কি এতো হাসিখুশি থাকা হচ্ছে “।
“- হাসিখুশি থাকবো না কি করব সারা মুখে লিপস্টিকের দাগ নিয়ে ঘুড়ে বেড়াবে না বউকে কোলো নিয়ে হানিমুনে যাবো “।
#চলবে
#মেঘলা_আকাশে_রংধনু_হবো
#লেখনীতে_তাইয়েবা_বিনতে_কেয়া
#পর্ব_১৪ ( একসাথে সময় কাটানো).
হৃদানের কথা শুনে জাহিদের কান গরম হয়ে যায় এই ছেলেটা কি কখনো সোজা কথার সোজা উত্তর দিতে পারে না। জাহিদ বলে –
“- আচ্ছা তুমি কি সোজা কথা সোজা উত্তর দিতে পারো না।
“- এখানে ভুল কি হলো বউকে নিয়ে মানুষ তাই করে “।
জাহিদ আর কোনো কথা বলে না হৃদান আর ও জমি দেখতে যায় আসলে এইটা একটা সরকারি কাজ। আর বিশাল টাকার তাই হৃদানকে দেখতে যেতে হচ্ছে। হিয়া কোচিং পড়াশোনা করতে থাকে আর পাশে অনি ঘুমিয়ে থাকে। কোচিং শেষ হয়ে গেলে সামনে থাকা গাড়িতে উঠে বসে যায় হৃদান গাড়ি ঠিক করে রেখেছে।
অনিল বাইক দিয়ে বাড়িতে চলে যায় তার বাড়িতে বাবা থাকে অনি বাড়িতে ঢুকে যায়। তখন তার বাবা বলে –
“- অনি তুমি নাকি কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা না করে ঘুমিয়ে থাকো কথাটা কি সত্যি “।
অনি থেকে যায় তার বাবার কথা উত্তর দিতে ইচ্ছা করছে না তার আসলে অনি গান করতে পছন্দ করে । তাই সে বড়ো হয়ে গায়ক হতে চাই কিন্তু তার বাবা তাকে বিজনেস সামলাতে বলে। ছোটবেলা থেকে তার অনুভূতি তার কথার কোনো দাম নাই তার বাবার কাছে। অনি বিরক্ত হয়ে বলে-
“- তোমার কানে যেহেতু খবর এসেছে সেটা ভুল কি করে হতে পারে হুম আমি কোচিং সেন্টারে ঘুমিয়ে থাকি। শুনে খুশি হলে “।
তার বাবা রেগে যায় কোচিং সেন্টারে ঘুমিয়ে থাকে সেই কথা শুনে নিশ্চয়ই সে সত্যি খুশি হবে না। বাবা বলে –
“- মানে কি এইসবের তুমি পড়াশোনা না করলে ভালো রেজাল্ট কি করে করবে। কোচিং সেন্টারে কি তোমাকে ঘুমিয়ে থাকার জন্য পাঠানো হয়েছে “।
“- ভালো রেজাল্ট করার জন্য কোচিং সেন্টারে যাওয়া কি দরকার তোমার কাছে টাকা আছে। সেই টাকা দিয়ে যোকোন কলেজে এডমিশন করিয়ে দিতে পারে। আর তোমার জীবনের গোল মানে টাকা কামনো টাকা দিয়ে সব কিনা যায় “।
অনি এই কথা বলে রুমে চলে যায় গিয়ে গিটার বের করে গান করতে থাকে।হিয়া বাড়িতে ফিরে আসে পড়ে নামাজ পড়ে নেয় আর শরীর অনেক টার্য়াড লাগছে তাই একটু বিশ্রাম নিয়ে নেয়। হৃদান জমি দেখতে গিয়েছে সেখানে কাজ ও শুরু হয়ে গেছে অনেক মহিলারা কাজ করছে। হৃদান বলে-
“- কি কাজ কেমন চলছে সব ঠিক ইট বালি যোনো ভালো মানের হয় না হলে পরের কাজ আর আপনারকে দেওয়া হবে না। কারণ এইটা সরকারি কাজ তাই যদি কোনো ভুল হয় অনেক মানুষের সমস্যা হবে সো বি কেয়াফুল “।
“- ওকে স্যার খুব ভালো করে করব না করলে আপনি কি করতে পারেন সেটা আমি যানি “।
“- হুম ঠিক বলেছেন আসলে আমি খুব ভদ্রতো। আচ্ছা এখন চলুন কাজের জায়গা ভালো করে দেখি আসি “।
হৃদান আর তার সাথের লোক কাজের জায়গা দেখতে যায় জাহিদ কি করবে সেও যায়। সেখানে অনেক মহিলা শ্রমিক কাজ করছে তবে একটা জিনিস কিন্তু অদ্ভুত সেখানেের সব মহিলা গ্রামের তাই তারা সবাই নাকের ফুল পরে রয়েছে। আর হাতের চুরি হৃদানের শপিং করতে গিয়ে হিয়ার কথা মনে পড়ে যায়। হৃদান একজন মহিলাকে ডেকে আনে আর বলে –
“- আচ্ছা আপনারা সবাই নাকফুল পড়ে রয়েছেন কোনো “।
“- ওহ মা স্যার আপনি যানেন না বিবাহিত মহিলারা নাকফুল আর হাতের বালা পড়ে স্বামীর মঙ্গলের জন্য “।
হৃদান এখন বুঝতে পারে হিয়ার নাকফুল কিনার আসল কারণ আর লজ্জা কোনো পেয়েছে সেটা বুঝতে পারে। হৃদান একটু হেঁসে ওর কাজে মনোযোগ দেয় অনেক সময় বিভিন্ন জিনিস চেক করে অফিসে ফিরে আসে। তাকে উপরের মহলে রিপোর্ট করতে হবে তাই পরে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে আসে।
হিয়া বিকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে পড়তে বসে পরে পড়াশোনা করে বাহিরে যায়। হৃদান বাড়ি ফিরে খাওয়া দাওয়া শেষ হরে ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে যায় একটু বিশ্রাম নেয়। হিয়া যখন সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে থাকে তখন ওর নুপুরের আওয়াজ শুনে হৃদান বুঝতে পারে হিয়া যাচ্ছে। হৃদান দরজা খুলে দেয় আর বলে –
“- হিয়া শুনুন আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে “।
হিয়া পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখে হৃদান ওকে ডাকছে সে থেমে গিয়ে আবার দরজার সামনে দাঁড়ায়। হিয়া বলে –
“- জি বলুন কি বলবেন “।
“- বলবো না কিছু দিবো রুমে আসেন “।
হিয়া অবাক হয় লোকটা নিজে রুম থেকে বাহির করে দেয় হিয়াকে আবার নিজে রুমে যেতে বলে। একটা মানুষ এতো অদ্ভুত কি করে হয় তার পুরো কাজকর্ম মাথায় উপর দিয়ে যায়। হিয়া কোনো কথা না বলে রুমে ঢুকো যায়। হৃদান আলমারি থেকে একজোড়া বালা বাহির করে। হিয়ার হাত ধরে আর বলে –
“- এই বালা আর এখানে থাকা শাড়ি আমার মা তার ছেলের বউয়ের জন্য রেখে গেছে। আপনি যদি চলে যান আমার জীবন থেকে তখন এই বালা পরার মতো কেউ থাকবে না তাই আপনি পড়েন “।
“- আমি চলে যাবো না আপনি তাড়িয়ে দিবেন। আর যাকে বউ হিসাবে মানেন না তাকে বালা দিয়ে কি করবে “।
“- আমি মানি না কিন্তু বিয়েতো হয়েছে তাই পড়িয়ে দিলাম খুব সুন্দর লাগছে আপনাকে “।
হিয়া এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে লোকটা কি সুন্দর করে আসতে আসতে চুড়ি পড়িয়ে দিচ্ছে। যদি বউ হিসাবে না মানে তাহলে এতো কেয়ার করো কোনো সত্যি কথা স্বীকার করতে কি সমস্যা ওনার।
হিয়া একটু লজ্জাময় হাসি দিয়ে নুপুরের শব্দে যাতে সেইজন্য আসতে আসতে হেঁটে চলে যায়। তখন হৃদান ওর হাত ধরে ফেলে একটান দিয়ে নিয়ে কাছে নিয়ে আসে নেশন জড়ানো চোখে তাকিয়ে বলে –
“- হিয়া আপনার নুপুরের আওয়াজ কম করতে হবে না এখন এই শব্দ আর আপনি দুটো ভালো লাগে আমার কাছে “।
হিয়া মাথা উঁচু করে তাকিয়ে দেখে হৃদানকে দেখে এই প্রথম এতো কাছে আছে ওর। হৃদানের হার্টবিট শুনতে পারছে ও ইচ্ছে করছে যতটা কাছে এসেছে তাতে হবে। আর একটু কাছে এসে ওকে জড়িয়ে ধরতে বুকের সাথে মিশে যেতে। হৃদানের বুকের মধ্যে যোনো হিয়ার ঠাই রয়েছে এইসব চিন্তা করতে করতে কখন হৃদানের কাছে চলে গেছে বুঝতে পারে নাই। হৃদান ওর কানে কানে ফিসফিস করতে করতে বলে –
“- কি করছেন হিয়া আমি হাত ধরেছি বলে কি এখন একা পেয়ে আমার সাথে যা ইচ্ছা তাই করবেন। একটা পুরুষ মানুষের সাথে খারাপ কিছু করার শাস্তি কিন্তু আইন দিবে আপনাকে “।
“- কি বলছেন এইসব কি করছি “।
“- এইযে একটা অসহায়, অবলা” ভীতু একটা ছেলেকে রুমে একা পেয়ে তার সাথে এইসব করছেন “।
“- আপনি অসহায়, অবলা “।
“- আপনি এতো কাছে যদি থাকেন তাহলে আমি আপনার কাছে অসহায় হয়ে যাবো। পুরুষ মানুষের কিন্তু মতলব আর চরিত্র যোকোন সময় খারাপ হবে পারে আর যদি খারাপ হয় তাহলে “।
হৃদানেন পুরো কথাটা শুনার আগে হিয়া ওকে একটা ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়। হৃদান হাসতে থাকে এই মেয়ে এতো লজ্জা কোনো পায় সেটা ও বুঝতে পারে না।হিয়া রুমে চলে যায় জীবনে কখনো কোনো পুরুষ ওর এতো কাছে আসে নাই মনে হচ্ছে শরীরে একটা অদ্ভুত শিহরণ বয়ে যাচ্ছে। আর হৃদানের কথাগুলো একদম কানের লতি ছুঁয়ে যাচ্ছিল ও রুমে এসে একটা শুকনো ঢুক গিলে। আর মনে মনে বলে –
“- আরে হিয়া তোর কি হচ্ছে এইসব হুম নিজেকে নিয়ন্ত্রণ কর মনে হচ্ছে সব এলেমেলো হয়ে যাচ্ছে। আচ্ছা প্রেমে পড়লে কি এমন হয় ধুর আমি কি প্রেমে পড়েছি “।
#চলবে