মেঘলা আকাশে রংধনু হবো পর্ব-১৫+১৬

0
258

#মেঘলা_আকাশে_রংধনু_হবো
#লেখনীতে_তাইয়েবা_বিনতে_কেয়া
#পর্ব_১৫

হিয়া নিজের রুমে চলে আসে আয়নায় তার হাতে পড়া বালাটা দেখে কি সুন্দর এইটা। আর মায়ের পরা জিনিস সবসময় সুন্দর হয় হিয়ার মায়ের কিছু জিনিস ওর কাছে রয়েছে তবে সেটা মামার বাড়ি কারণ বাড়ি থেকে আসার সময় কোনো কিছু নিয়ে আসতে পারে নাই। আজকে মাকে খুব মনে পড়ছে যদি ওই জিনিস গুলো ছুয়ে দেখতে পারতো তাহলে হয়তো ভালো লাগতো। কিন্তু সেটা আর সম্ভব না।

মামি কখনো তাকে বাড়িতে ঢুকতে দিবে না আচ্ছা ও কি আর মামার বাড়িতে যেতে পারবে না। একটু নিশ্বাস ফেলে পড়াশোনা করতে থাকে শহরে যা চাপ ওদের মধ্যে টিকে থাকতে হলে হিয়াকে বেশ কষ্ট করতে হবে তাই পড়াশোনা করতে থাকে। হৃদান তার অফিসের ফাইল দেখতে থাকে বাট সব জায়গায় হিযার মুখ মনে পড়ে। রাতে পড়াশোনা করে ঘুমিয়ে পড়তে যাবে তখন পানির পিপাসা লাগে ওর কিন্তু জগে পানি নাই।

পানি নিয়ে আসতে নিচে যায় হৃদান অনেক সময় ধরে কাজ করে মাথাটা বেশ ধরেছে ঘরের কফি মেশিনটা নষ্ট হয়ে গেছে। আজকে মনে করেছে কিনে নিয়ে আসবে কিন্তু ভুলে গেছে তাই কফি খেতে রান্নাঘরে যায়। হিয়া পানি নিয়ে আসতে যাবে তখন কারো সাথে ধাক্কা খায় ভয় পেয়ে যায়। এতো রাতে আবার কে হতে পারে হিয়া বলে –

“- কে আপনি “।

হৃদান মোবাইলের লাইটা জ্বালিয়ে দেখে হিয়া মোবাইলের আলোতে ওকে অনেক সুন্দর লাগছে।হৃদান বলে-

“- আমি হৃদান কিন্তু আপনি এতো রাতে এখানে কি করছে।

হিয়া বুকে একটু থুঃথুঃ দেয় ভয় পেয়ে গেছে তবে হৃদানকে দেখে একটু সাহস এসেছে ওর মনে। হিয়া বলে –

“- আসলে আমার জগে পানি শেষ হয়ে গেছে তাই নিচে এসে নিতে এসেছি। কিন্তু আপনি “।

“- আমার অফিসের কাজ করে মাথা ব্যাথা করছে তাই কফি খেতে এসেছি। আপনি ঘরে যান সকালে উঠে পড়াশোনা করতে হবে আমি দেখি জুলেখা খালা জেগে আছে নাকি। মাথাটা বেশ ব্যাথা করছে “।

হিয়ার একটু মায়া হয় হৃদানের উপর লোকটার মনে হয় সত্যি মাথা ব্যাথা করছে হৃদান ওর জন্য কতো কিছু করেছে আর হিয়া কিছু করতে পারে নাই। জুলেখা খালার কমোড়ে ব্যাথা নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে পড়েছে যদি এখন ডাক দেয় তাহলে একবার উঠে পড়লে হয়তো সারারাত ব্যাথার জন্য ঘুমাতে পারবে না। হিয়া বলে –

“- জুলেখা খালার কমোড়ে ব্যাথা তাই ঘুমের বড়ি খেয়ে ঘুমিয়ে গেছে এখন যদি উঠে তাহলে শুধু শুধু কষ্ট পাবে। আপনার মাথা কি বেশি ব্যাথা করছে “।

হৃদান ওর কথা বুঝতে পারে আসলে জুলেখা খালা অসুস্থ এতো রাতে ওনাকে ডাকা ঠিক হবে না। আর সময় পেলে খালাকে ডক্টরের কাছে নিয়ে যেতে হবে সে না পারলে তানিয়াকে বলবে। হৃদান বলে –

“- হুম এতো রাতে ডাক দেওয়া ঠিক হবে না আচ্ছা কি করার ঘুমিয়ে পড়ি। আমি যান “।

“- শুনুন আপনার যদি অসুবিধা না হয় তাহলে আমি কফি বানিয়ে দেয় খুব খারাপ বানায় না আমি কফি। মাথা নিশ্চয়ই ব্যাথা করছে সারারাত ঘুমাতে পারবেন না আপনি ”

“- না দরকার নাই আপনি যান। আমি ম্যানেজ করে নিবো “।

হিয়ার রাগ হয় হৃদানের উপর মানে লোকটা এমন কোনো যদি মাথা ব্যাথা করে সেটা ওকে বললে কি হয়। আর এতো জেদ কোনো ওনার যদি অন্য কেউ হতো তাহলে এতো জেদ সয্য করতো না হিয়া। কিন্তু এইটা ওনি যদি সত্যি সারারাত মাথা ব্যাথার জন্য ঘুমাতে না পারে তখন কি হবে। হিয়ার খুব খারাপ লাগে। হিয়া বলে –

“- এতো বেশি জেদ কোনো করেন আপনি একটা কথা শুনলে কি আপনার নাক কাটা যাবেন। চলুন কফি বানিয়ে দেয় আমি যেতে বলছি চলেন না হলে খুব খারাপ হয়ে যাবে “।

হৃদানের এই অধিকার বোধ খারাপ লাগে নাই এই বাড়িতে হৃদানের কথার উপর কথা বলবে তার সাহস কারো নাই। আর হিয়া ওকে হুমকি দিচ্ছে সত্যি বাচ্চা মেয়েটার কতো সাহস। তবে মা মারা যাওয়ার এই প্রথম ওকে কেউ ধমক দিয়ে ওর যত্ন নিতে চাই বিষয়টা খারাপ না। আর কালকে অফিস রয়েছে সারারাত যদি মাথা ব্যাথার জন্য ঘুমাতে না পারে অফিসে যাবে কি করে। হৃদান বলে –

“- আপনি আমাকে হুমকি দিচ্ছেন যদি না যায় কি করবেন ”

হিয়া হৃদানের হাত ধরে বাচ্চাদের মতো চেহারা করে একটা কিউট লুক দিয়ে বলে –

“- চলুন না দয়া করে “।

হৃদানের হাত ধরে হিয়া রান্নাঘরে নিয়ে যেতে থাতে হৃদান শুধু তাকিয়ে ওর হাত ধরা দেখছে। হৃদান রান্না ঘরো যায় হিয়া হাত ছেড়ে কফির কাপ বের করে কফি বানায় সেইদিন জুলেখা খালার কফি বানানো সে দেখেছে তাই আজকে পারবে। হৃদান শুধু ওকে দেখছে কিন্তু সুন্দর মেয়েটা।

হিয়া কফি বানিয়ে দেয় আর বলে-

“- আপনার কফিতে কি চিনি দিবো দিলে কতটুকু দিবো “।

“- দরকার নাই একটা সিপ নিয়ে নেন “।

“- মানে “।

“- এক চুমুক কফি খান “।

লোকটা কি বলছে এইসব মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি তবুও হিয়া কফিতে একটা চুমুক দেয়। এরপর বলে –

“- হুম খেলাম “।

“- নাউ আর কোনো সুইট লাগবে না অনেক মিষ্টি হয়েছে। আমি যায় ঘুমাতে হবে “।

হিয়া লজ্জা পেয়ে যায় মাথা নিচু করে গাল দুটো লাল হয়ে গেছে হৃদান হেসে চলে যায় যাওয়ার সময় বলে –

“- ঘরে চলে যান এতো লজ্জা পেতে হবে না সকালে ঘুম থেকে উঠতে হবে “।

হিয়া তাড়াতাড়ি সব গুছিয়ে রান্নাঘরে থেকে বের হয়ে যায় তবে গালদুটো এখনো লাল রয়েছে। হৃদান উপরে উঠে দেখে রায়হান চৌধুরীর দাঁড়িয়ে রয়েছে এতো রাতে ওর বাবা এখানে কি করে। হৃদান বলে –

“- বাবা তুমি এখানে কি করো “।

রায়হান চৌধুরীর সেম কি করে হৃদান এখানে সেটা জিজ্ঞেস করে –

“- তুই এতো রাতে রান্না ঘরে কোনো আর হিয়ার সাথে কি তোর “।

হৃদান জানে ওর বাবা এখন কতো কথা জিজ্ঞেস করবে কিন্তু এখন এতো কথার জবাব দিতে চাই না সে। রাত অনেক হয়ে গেছে ঘুমাতে হবে তাই হৃদান জানে কি বলতে হবে –

“- রাতে বউয়ের দরকার হয় সেটা তুমি বুঝতে পারবে না “।

“- আমি বুঝতে পারব না মানে কি বলতে চাও তুমি হৃদান “।

“- একতো তোমার বউ নাই আর বউ থাকলে ও কি করে ফেলতে রাতে সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে আমার। তাই তুমি বুঝতে পারবে না “।

“- রাতে বউয়ের দরকার হয় মানে “।

“-ছিঃ ছিঃ বাবা নিজের ছেলের সামনে এইসব কি কথা বলো তুমি হুম। আর মধ্যে মধ্যে আমি বুঝতে পারি না তুমি কি সত্যি কিছু বুঝতে পারো না নাটক করো। ভালো হয়ে যাও বাবা “।

রায়হান চৌধুরীর কান গরম হয়ে যায় এইরকম ছেলে কি করে জন্ম দিয়েছে তার বউ থাকলে জিজ্ঞেস করতো সত্যি এই ছেলে কি তার। যথেষ্ট না পুরো সন্দেহ রয়েছে তার। রায়হান চৌধুরী বলে –

“- বেয়াদব “।

#চলবে

#মেঘলা_আকাশে_রংধনু_হবো
#লেখনীতে_তাইয়্যেবা_বিনতে_কেয়া
#পর্ব_১৬

হৃদান ঘরে চলে যায় রায়হান চৌধুরীর ওর কথা শুনে রেগে নিজের চলে যায়। হৃদান কফির কাপ হাতে নিয়ে হিয়া যেদিকে কফি খেয়েছে সেই দিকে মুখ ডুবায় আর হেঁসে কফি খেতে থাকে। হিয়া লজ্জা পেয়ে রুমে আসে আর বিছানায় শুয়ে পড়ে হিয়া মনে মনে বলে –

“- এইরকম লজ্জা পাওয়ার কি আছে শুধু কফি খেতে বলেছে। হিয়া মনে হচ্ছে প্রেমে যাবি তুই এই রাগী লোকটার নিজেকে নিয়ন্ত্রণ কর হুম। এখন ঘুমিয়ে যাহ সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে হবে।

সকাল হয়ে যায় জানালা দিয়ে এক মুঠো আলোর ঝিলিক হিয়া মুখে পড়ছে হিয়া ঘুম থেকে উঠে পড়ে যদিও বেশি সকাল হয় নাই মাএ পাঁচটার দিকে। হিয়া উঠে পড়ে আর পড়তে বসে যায় এরপর একটু পড়ে সে বাহিরে যায় রায়হান চৌধুরীর বসার ঘরে বসে রয়েছে। হিয়া গিয়ে সালাম দেয় –

“- বাবা আপনার কি কিছু দরকার আমি রান্নাঘরে গিয়ে তৈরি করে দিবো “।

রায়হান চৌধুরীর হাসে তার ছেলেটা যতটা অভদ্র হয়েছে তার ছেলের বউ ততটা ভদ্র কিন্তু সুন্দর মার্জিত ব্যবহার তার। আর হৃদানকে কিছু বলতে গেলে এমন উত্তর দিবে ইচ্ছা করে একে জন্ম না দিলে বেশি ভালো হতো বেয়াদব একটা। রায়হান চৌধুরী বলে –

“- আমার তেমন কিছু লাগবে না রে মা তবে জুলেখা অসুস্থ তাই সকালে চা বানাতে পারে নাই। তাই যদি একটা হয়ে যেতো তাহলে খারাপ হবে না “।

হিয়া কথাটা শুনে খুশি হলো কিন্তু জুলেখা খালার জন্য একটু খারাপ লাগে সত্যি কতো অসুস্থ খালা। হিয়া রান্নাঘরে গিয়ে চা বানিয়ে নিয়ে আসে তবে কালকে রাতের ঘটনা মনে করে লজ্জা পায়। হিয়া বলে –

“- বাবা এই নেন চা “।

হিয়া রান্নাঘরে গিয়ে খাবার বানাতে শুরু করে জুলেখা খালা নাই রান্না কে করবে বাড়িতে অন্য কাজের লোক রয়েছে। কিন্তু কারো রান্না এই বাড়ির লোক খায় না আসলে জুলেখা খালা সেই হৃদানের সময় থেকে থাকে। তাই হৃদানের মা যেমন রান্না করতো জুলেখা তেমন পারে আর বাড়ির সবাই তাকে সম্মান করে হিয়া গিয়ে রান্না ঘরে রুটি বানাতে থাকে । হৃদান ঘুম থেকে উঠে উঠে ওয়াশরুমে যায় কিন্তু প্রতিদিন তার জন্য কফি এসে পড়ে কিন্তু আজ কফি নাই দেখে সে নিচে নামে।

রায়হান চৌধুরী একটু বাগানে যায় হৃদান নিচে এসে জুলেখাকে কিছু বলতে যাবে কিন্তু তার আগে হিয়াকে দেখে সে অবাক হয়। হিয়া এখন পাক্কা রাধুনির মতো রুটি তৈরি করতে বিজি হৃদান কাছে এসে বলে-

“- আপনি সকাল সকাল রান্নাঘরে কি করেন পড়াশোনা নাই “।
“- হুম আছে কিন্তু সারাক্ষণ পড়াশোনা থাকে না আমার আজকে জুলেখা খালার অসুস্থতার জন্য বিছানা থেকে নামতে পারে নাই। তাই আমি রান্না করতে এসেছি কোনো আপনার কোনো সমস্যা “।

“- না আমার কি সমস্যা থাকবে জুলেখা খালা নাই তাই না খেয়ে থাকার চেয়ে আপনার হাতের পুড়া রুটি খাওয়া অনেক ভালো। কি করার বলুন বিয়ে করে কপাল পুড়েছে এখন রুটি পুড়বে “।

“- ওহ তাই না আমি পুড়া রুটি তৈরি করি ঠিক আছে সমস্যা নাই একটা কাজ করুন আপনি এসে একটা রুটি তৈরি করেন। সবাইকে কি অর্ডার করতে পারেন নাকি নিজে কোনো কাজ করতে পারেন “।

হৃদান এগিয়ে এসে রুটি বানাতে থাকে সে কি রুটি বানাতে পারে না নাকি যদিও জীবনে কোনোদিন বানায় নাই তো কি হয়েছে। চেষ্টা করলে সব পারবে হিয়া কোনো কথা না বলে পিছনে সরে যায় একটু পরে এসে হৃদানের রুটি দেখে হাসতে হাসতে বলে –

“- কি হলো ম্যাজিস্ট্রেট স্যার রুটি বানাতে পারলেন না তো এইটা রুটি না বাংলাদেশের মেপ। হিহিহিহি জমির কাগজ দেখা রুটি বনানো এক কথা না দেন আমাকে দেন “।

“- দেখুন আর কথা শুনাতে হবে না ভালো হয়েছে আমার রুটি আর আমি কফি খেতে এসেছি সেটা নিয়ে চলে যাবো “।

হিয়া ওর কথা শুনে আরেক চুলায় কফির পানি দেয় হৃদান দেখে রুটি বানাতে গিয়ে হিয়ার চুলে একটু আটা লেগে গেছে। হৃদান ওর হাত দিয়ে চুলগুলো সরিয়ে আটা মুছে দেয় এরপর একটু কাছে এসে বলে –

“- কফি বানিয়ে দিচ্ছেন ঠিক আছে তবে কালকে রাতের মতো মিষ্টি হবে কি। আমি কিন্তু সুগার একটু বেশি পছন্দ করি “।

হিয়ার কান গরম হয়ে যায় হৃদানের কথা শুনে লোকটার মুখে সবসময় আজেবাজে কথা বিরক্তিকর বিষয়। হিয়া একটা ধাক্কা দেয় পরে কফি দিয়ে বলে –

“- এতো সুগার খেতে হবে না ডায়াবেটিস হয়ে যাবে যান এখান থেকে এখন। বিরক্তার লোক একটা যান “।

হৃদান হেঁসে চলে যায় হিয় আবার রুটি বানাতে মনোযোগ দেয় হৃদান নিজের রুমে যায় রাব্বি ফোন করছে ওকে হৃদান ফোন তুলে বলে –

“- কি রে এতো সকাল সকাল হঠাৎ আমাকে মনে পড়লো তোর “।

“- তুই মনে করার মতো মানুষ আচ্ছা শোন হিয়াতো আমাদের কোচিং সেন্টারে ক্লাস করছে কিন্তু। কোচিং হিয়াকে এডমিট করতে হলে ভালো করে ওর জন্ম নিবন্ধন সহ বিভিন্ন জিনিস লাগবে। তাই সেইগুলা জমা দিতে হবে “।

হৃদান রাব্বির কথা শুনে হিয়াকে যখন ওর মামা বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছে তখন ওর সাথে কোনো কাগজ ছিলো না। মনে হয় সব কাগজ ওর মামার বাড়িতে তাহলে কি করে জন্ম নিবন্ধন জমা দিবে তাছাড়া পরে কলেজে এডমিট হওয়ার সময় কাগজ লাগতে পারে। কিন্তু এখন কি করবে হিয়াকে কে কি বলবে সে।

হিয়া খাবার রান্না করে সবাইকে খায়িয়ে নিজের রুমে চলে আসে যা গরম পড়েছে রান্নাঘরে অনেক গরম যদি ও পুরো বাড়িতে এসি রয়েছে। হৃদান জাহিদকে কল করে আর বলে

“- হ্যালো জাহিদ অফিস থেকে কি এখন ছুটি নেওয়া যাবে “।

“- হুম নেওয়া যাবে কারণ পূজার বন্ধ শুরু হয়ে যাবে কালকে থেকে তুমি চাইলে একদিনের ছুটি নিতে পারে “।

“- ওকে বুঝতে পেরেছি “।

হিয়া রুমে এসে একটু হাতমুখ ধুয়ে বসতে যায় তখন হৃদান আসে ওর রুমে এসে বলে –

“- হিয়া আপনি রেডি হয়ে যান আমাদের যেতে হবে “।

হিয়া অবাক হয়ে যায় আবার কোথায় যেতে হবে তাকে শপিংমল থেকে পরশুদিন এসেছে। হিয়া বলে –

“- কোথায় যাবো আমারা “।

“- আপনার মামার বাড়ি “।

হিয়া হৃদানের কথা শুনে বুঝতে পারে না কি বলতে চাইছে মামার বাড়ি যাবো মানে। মামি তাদের সেই বাড়িতে ঢুকতে দিবো না তার উপর গ্রামের মানুষ রয়েছে লোকটার কি মাথা খারাপ হয়েছে যে মামার বাড়ি যাবে বলছে হিয়া বলে –

“- কি বললেন আপনি মামার বাড়ি যাবো মানে আপনি যানেন না মামি আমাকে সয্য করতে পারে না। আর এখনতো বিয়ে থেকে পালিয়ে এসেছি মামি কিছুতেই ওই বাড়িতে ঢুকতে দিবো না পরে গ্রামের মানুষকে ডেকে এনে সমস্যা করবে “।

হিয়ার কথা হৃদান বুঝতে পারে কিন্তু ও জানে কি করে ওর মামিকে টাইট দিতে হবে। হৃদান বলে –

“- আপনাকে এতো কিছু ভাবতে হবে না রেডি হয়ে যান আমরা যাবো। আমি অফিসে একটা আবেদন করব আজকের ছুটির জন্য আর আপনার কোচিং বন্ধ থাকবে পূজা উপলক্ষে “।

#চলবে