
#রাখি_আগলে_তোমায়_অনুরাগে💕
#written_by_Liza
#২৮তম_পর্ব
করবো না এই কথা তো বলিনি,সত্যিকারের বউ হতে না পারি ফেইক বউ তো হবোই হবো। ঠিকাছে স্যার। আপনি আপনার মনের মানুষকে পেয়ে যাবেন।বলুন আমায় কি করতে হবে (রীধী)
আরাশ রীধীকে সব প্লান বলে দেয়, রীধী আরাশের কথায় হেসে বলে “আচ্ছা আচ্ছা স্যার হয়ে যাবে, যদি ও আমার কষ্ট হবে। তবুও করবো।”
রীধী আপনার কাছে ভালোলাগাটাই ভালোবাসা মনে হয়। আচ্ছা রীধী বলুন তো, আমি যদি আপনাকে আঘাত করি আপনি কি আমার উপর প্রতিশোধ নেবেন? আঘাতের কারণে? (আরাশ)
রাগ উঠলে তা তো নেবোই (রীধী)
এটাই কথা, যারা ভালোবাসে তারা আঘাতের উওর দেয় না,নিরবে সয়ে যায়। তারা চাই না যে ব্যথা তারা পেয়েছে সেই ব্যথা তাদের ভালোবাসার মানুষটা পাক। এবার বুঝলেন কিছু? (আরাশ)
রীধী আরাশের কথায় চুপ হয়ে আছে, আরাশ আবারো বলে উঠে “দেখুন ইন্সিয়াকে আমি বার বার আঘাত করেছি। সে আমাকে যাই বলুক।কিন্তু কখনো আমাকে আঘাত করে তার মনের তৃপ্তি মেটাতে যায় নি। এবং ইন্সিয়া আমাকে ভালোবাসে আমি জানি কিন্তু সে মুখ ফোটে কখনোই বলবে না। এবার বুঝলেন রীধী আপনার আর ইন্সিয়ার তফাৎ?”
রীধী মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সম্মতি দেয়, রীধী মনে মনে ভাবছে “আসলেই তো। আরাশ স্যারকে যতক্ষণ দেখি ততক্ষণ ভালো লাগে।এরপর আরাশ স্যারের কথা মনেও পড়ে না। তার মানে এটা ভালোলাগা? এই ভালোলাগাকে আমি ভালোবাসা মনে করতাম?”
কি হলো রীধী চুপ করে আছেন যে, আরাশের ডাকে রীধীর ভাবনা ঘোর ভাঙ্গে, রীধী আমতা আমতা করে “কিছু না” বলে এড়িয়ে যায়।
আরাশ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে “আপনি কখনো কেঁদেছেন কাউকে হারানোর ভয়ে?”
নাহ স্যার। কাঁদবো কেন? হারানোর আগেই হাসিল করে নিবো জোর করে হলেও (রীধী)
কিন্তু ইন্সিয়া কেঁদেছে এবং কেঁদেই যাচ্ছে,সে চাইলে আপনার মতোই হাসিল করার চিন্তায় থাকতো। কিন্তু সে সেটা করে নি। কারণ জোর করে কিছু হয়না। ভালোবাসা ত্যাগী হতে শেখায়। সে আমাকে ভালোবাসে বলেই আমার দেওয়া সকল কষ্ট মুখ বুজে সয়ে নেয়। আমি যাকেই চাইনা কেন,সে আমার চাওয়াটাকে সম্মান করে, সম্মতি দেয়। যদিও সে মুখে বলে না তবুও আমি সব বুঝি। (আরাশ)
রীধীর আর বলার রইলো না কিছু। রীধী চুপ করে আছে। আরাশ মৃদু হেসে বলে,
“ইন্সিয়া আমায় ভালোবাসে এবং আমিও ইন্সিয়াকে খুব ভালোবাসি। নতুন করে সব শুরু করতে চাই।আপনার হেল্প দরকার”
বুঝেছি স্যার। ধন্যবাদ আমাকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য (রীধী)
আরাশ রীধী কথা সেরে প্লান অনুযায়ী এগোতে লাগলো
দুপুর বেলা পুরো বাড়িতে ডেকোরেশন করা হলো, ইন্সিয়ার বাবা-মা এর কারণ জানতে চাইলে আরাশ বলে উঠে “সব বলবো। আগে কাজ সেড়ে আসি”
অরীন সব জানে আরাশ রীধীর প্লান, তাই অরীন কিছু না বলে চুপচাপ যা হচ্ছে হতে দিচ্ছে। ইন্সিয়া এসে অরীনকে জিজ্ঞেস করছে “আপু এখানে এত ডেকোরেশন সাজগোছ হচ্ছে কেন বাড়িতে? আজ কি স্পেশাল কিছু আছে?”
অরীন মৃদু হেসে ইন্সিয়াকে বলে “জানো না তুমি? আজ রাতে আরাশ আর রীধী এংগেইজ মেন্ট”
অরীনের মুখে এই কথা শোনামাত্র ইন্সিয়ার মাথায় যেনো বাজ পড়লো। ইন্সিয়া আর এক মুহুর্ত দাড়ালো না সোজা তার মা-বাবার রুমে চলে গেলো। ইন্সিয়া তার মাকে বলছে “আম্মু আমরা বাড়ি যাবো তৈরি হও।”
অমনি ইন্সিয়ার মা বলে উঠে “তা তো যাবো মা। ঘরে নাকি অনুষ্ঠান তাই যেতে নিষেধ করছে আরাশ”
ইন্সিয়া রেগেমেগে তাকিয়ে তার মাকে বলছে
“তোমরা থাকো আমি চলে যাবো। চাবি দাও ঘরের”
ইন্সিয়ার মা-বাবা দু’জনের মনেই খটকা লাগে ইন্সিয়ার ব্যবহারগুলো। দু’জনেই একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে। অরীন এসে পেছন থেকে ইন্সিয়াকে বলে “কোথাও যাওয়া হবে না ইন্সু৷ এংগেইজ মেন্ট পার্টি এটেন্ড করে তারপর যাবে তুমি। কোনো কথা চাই না আমি। আমার আদেশ এটা”
ইন্সিয়া অরীনের উপর আর একটা কথাও বললো না। ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো। ইন্সিয়ার বাবা-মা রুম থেকে বেরিয়ে নিচে চলে গেলো ডেকোরেশনের কাজ দেখতে।
ইন্সিয়া দরজা বন্ধ করে কাঁদছে গুটিশুটি মেরে, ইন্সিয়া পারছে না চিৎকার করে কাঁদতে। কান্না গুলো গলায় দলা পাকিয়ে যেনো বসে আছে। ইন্সিয়া কোনোভাবে নিজেকে সামলে বসে আছে ঘাপটি মেরে।
সন্ধ্যা হয়ে আসছে ইন্সিয়া সেই যে দরজা বন্ধ করে রুমের ভেতর নিজেকে বন্দি করেছে এখনো বের হচ্ছে না। অরীনের চিন্তা হচ্ছে খুব তবুও চুপ করে আছে।
এদিকে আরাশের প্রায় কেনাকাটা করা শেষ।
পুরো বাড়ি সাজানো হয়েছে, আলোকসজ্জায় ভরপুর। এক এক করে মেহমান আসছে।
আরাশের এসিস্ট্যান্ট সাইফ এসে আরাশের সাথে হাত মিলিয়ে সব করছে।
রীধী এসে আরাশকে বলছে “আমি আপনার কথায় বুঝলাম আমি একজনকে ভালোবাসি, কিন্তু বুঝতে পারি নি।।যদিও সে অনেকবার আমাকে প্রপোজ করেছে,আমার অপেক্ষা করছে আমি জানি। আমার কি উচিৎ হবে তাকে আপন করে নেওয়াটা”
আরাশ চোখ বড় বড় করে রীধীর দিকে তাকিয়ে আছে আর বলছে “সত্যি? কে সেই মহান ব্যক্তি যাকে আপনি ভালোবাসেন, আমার কথাগুলোর সাথে মিল রয়েছে?”
রীধী গম্ভীরস্বরে বলে “জ্বী, আমি তার সাথে ঝগড়া না করলে থাকতে পারিনা। তার সাথে কথা না বললে ভালো লাগতো না। চোখের আড়াল যেনো না হয় তাই তার কাজে আমিও যোগ দিয়েছিলাম।”
মানে কার কথা বলছেন? (আরাশ)
সাইফ, আমি রিয়ালাইজ করছি এখন সব। আপনার প্রত্যেকটা কথা আমার আর তার সাথে মিলে যাচ্ছে, সে আমাকে ভালোবাসে।কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি। আমি তার সাথে শুরু করতে চাই সব (রীধী)
“সত্যি? ও মাই গড, ও মাই গড। আগে বলবেন না? খুব বড় বাঁচা বাঁচালেন রীধী।” আরাশ খুশি হয়ে রীধীর হাত ধরে হ্যান্ডশেক করে। আরাশ রীধীকে অপেক্ষা করতে বলে সাইফের কাছে গিয়ে সবটা বলে। সাইফ খুশিতে আরাশকে জড়িয়ে ধরে বলে “সত্যি স্যার? ও আমাকে ভালোবাসে? আমি ওকে বিয়ে করতে চাই”
তাহলে শুভ কাজে দেরী কিসের। হয়ে যাক (আরাশ)
আরাশ ডায়মন্ড রিং নিয়ে এসেছে। এংগেইজ মেন্টের জন্য। ওদিকে ইন্সিয়া রুম বন্দি একলা ঘরে বসে আছে। কান্না করে চোখ দুটো বেশ ফুলিয়েছে।
পরিবারের সবাই নতুন পোষাকে সাজিয়েছে নিজেদের। ঘরভর্তি মেহমান। অফিস থেকে ক্লাইন্ট রা চলে এসেছে।
পুরো বাড়ি মেহমান ভর্তি জ্যাম হয়ে আছে। আরাশ সার্ভেন্ট দিয়ে ছাদটা ডেকোরেট করেছে।
রীধী ভারী লেহেঙ্গা পড়েছে,দেখতে খুব সুন্দর লাগছে৷ রীধী এসে ইন্সিয়ার রুমে ধাক্কা দিচ্ছে। ইন্সিয়া অনিচ্ছাসত্ত্বে দরজা খুলে দেয়, রীধী ভেতরে এসে ইন্সিয়াকে বলে “দেখুন তো ইন্সিয়া আমাকে কেমন লাগছে? আজ আমি বড্ড বেশি খুশি,আমি আমার ভালোবাসার মানুষটাকে পেতে যাচ্ছি। যদি জানতাম সে আমাকে আগ থেকে এতটা ভালোবাসে।তাহলে এত দেরী হতো না আমাদের।দোয়া করবেন আমাদের জন্য”
ইন্সিয়া ফুপিয়ে উঠে,ইন্সিয়ার চোখ বেয়ে পানি ঝড়ছে। ইন্সিয়া কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে, রীধী সবটা বুঝতে পেরেও কিছু বলে না। রীধী ইন্সিয়াকে জড়িয়ে ধরে বলে “কাঁদে না বোকা মেয়ে, সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো হারায় না। যদি আপনি সত্য হোন তবে আপনি জিতবেন,”
অমনি রীধীকে অরিন ডাক দেয়, “রীধী নিচে এসো সবাই অপেক্ষা করছে।তোমাদের আংটি বদল হবে”
ইন্সিয়া অরীনের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভাবছে “বাহ অরীন আপু এত তাড়াতাড়ি বদলে গেলেন?বেশ”
রীধীকে নিয়ে অরীন নিচে চলে যায়। ইন্সিয়ার বাবা-মা রুমে এসে ইন্সিয়াকে বলে “নিচে যাবি না? আরাশের এংগেইজ মেন্ট। যে আমাদের এত সাহায্য করেছে তার খুশির সময়ে সামিল না হলে খারাপ দেখায়। আয় আয় জলদি নিচে আয়”
কথাগুলো বলে তারা নিচে চলে গেলো। ইন্সিয়া চোখ মুছে দরজা বন্ধ করে রুমে বসে আছে।
বেশ খানিকক্ষণ পর নিচ থেকে সিটির আওয়াজ ভেসে আসে, ইন্সিয়া মনে মনে বলছে “তার মানে ওদের সত্যি সত্যি আংটি বদল হয়ে গেছে,”
ইন্সিয়া কেঁদে দেয় ফুপিয়ে ফুপিয়ে। রীধী এসে আবারো ইন্সিয়ার দরজায় ধাক্কা দেয়, ইন্সিয়া চোখ মুছে স্বাভাবিক ভাবে দরজা খুলে দেয়, দরজা খোলা মাত্র ইন্সিয়ার চোখ যায় রীধীর হাতের আঙ্গুলের উপর। ইন্সিয়া খেয়াল করে দেখে রীধীর হাতে ডায়মন্ডের আংটি। ইন্সিয়া এবার পুরোপুরি শিউর হয়ে যায় যে, আরাশ আর রীধীর এংগেইজ মেন্ট হয়ে গেছে।
ইন্সিয়া মৃদু হেসে রীধীকে বলে “কংগ্রাচুলেশনস রীধী৷ সুখী হোন আপনারা”
রীধী থ্যাংকিউ বলে ইন্সিয়াকে আংটি দেখায় আর বলে “কেমন হয়েছে? আমাদের এংগেইজ মেন্ট ফাইনালি হয়ে গেলো”
ইন্সিয়া রীধীর আংটিতে হাত বুলিয়ে হেসে বলে “বেশ সুন্দর মানিয়েছে”
রীধী ইন্সিয়ার গাল টেনে দিয়ে হেসে দেয়, ইন্সিয়া বিছানায় বসে আছে। রীধী রুম থেকে বেরিয়ে নিচে চলে যায়। ইন্সিয়া ফ্রেস হয়ে নিচে চলে যায়, নিচে গিয়ে দেখে সবাই বেশ হাসিখুশি। ইহান ও উষ্মী এসেছে আরাশের এংগেইজ মেন্টে। ইন্সিয়াকে উষ্মী দেখে এগিয়ে আসে আর বলে “কিরে তুই এতক্ষণ কই ছিলি? এদিকে তো রীধীর এংগেইজ মেন্ট হয়ে গেলো। তাদের বেশ মানিয়েছে”
ইন্সিয়া বিষ্ফোরিত চোখে উষ্মীর দিকে তাকিয়ে বলে “জানতে চেয়েছি আমি? আমাকে এসব বলতেছিস কেন?”
উষ্মী ইন্সিয়ার দিকে গাল টিপে হেসে স্যাড স্যাড ফেইস করে বলে “বুঝেছি তোর খারাপ লাগছে। থাক এখানে থাকিস না৷ তুই বরং ছাদে গিয়ে ফ্রেস এয়ার খা দাড়িয়ে দাড়িয়ে।”
ইন্সিয়া রেগেমেগে চলে গেলো ছাদে, ছাদে ঘুটঘুটে অন্ধকার। ইন্সিয়া মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে আর নিচে যাবে না। ছাদেই বসে থাকবে একলা। ইন্সিয়ার ছাদের একপাশে গিয়ে দাড়িয়ে আছে। পেছন থেকে কে যেনো ইন্সিয়ার কাঁধে ফু দিয়ে আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করতে লাগলো। ইন্সিয়ার বুক মুচড়ে উঠে। ইন্সিয়ার হৃদস্পন্দন বাড়ছে। ইন্সিয়া মনে মনে বলছে “এটা তো মিস্টার আরাশের কাজ। মিস্টার আরাশ নিচে। তাহলে কে এখানে? মিস্টার আরাশের এংগেইজ হওয়া স্বত্তেও কেন এসব করছে। কি চায় ইনি?”
ইন্সিয়া কিছু বলার আগেই ইন্সিয়ার হাত চেপে ধরে নিজের দিকে ফিরিয়ে নেয় কে যেনো। ইন্সিয়া অন্ধকারে কিছু দেখছে না। ইন্সিয়াকে কোলে নিয়ে দোলনায় বসিয়ে দেয়। ইন্সিয়া কিছু বলতে যাবে তার আগেই চারপাশে লাইট জ্বলে উঠে। মাটিতে বড় বড় করে ক্যান্ডেল দিয়ে লিখা “I Love You Insiya,Will you Marry Me?”
ইন্সিয়া মাটির দিকে তাকিয়ে আছে,ইন্সিয়ার মাথা কাজ করছে না। ইন্সিয়া আস্তে আস্তে মাথা উঁচু করে তাকিয়ে দেখে, সামনে আরাশ হাটু গেড়ে ফুল হাতে নিয়ে ইন্সিয়ার দিকে তাকিয়ে এক কান ধরে আছে। ইশারায় ইন্সিয়াকে সরি বলছে আরাশ। ইন্সিয়া দৌড়ে এসে আরাশকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দেয়। আরাশকে শক্ত করে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে ইন্সিয়া। আরাশ ইন্সিয়াকে জড়িয়ে ধরে। ইন্সিয়া কান্নারত অবস্তায় আরাশের বুকে মাথা রেখে বলছে “কেন আমাকে এত কষ্ট দেন? কেন? আপনি জেনেবুঝে কেন আমার এত পরীক্ষা নিচ্ছেন।”
আরাশ ইন্সিয়াকে কোনো কথা বলতে না দিয়ে ইন্সিয়ার ঠোঁট দুটো নিজের আয়ত্তে নিয়ে মিশিয়ে ফেলে। ইন্সিয়া চোখ বন্ধ করে আরাশকে জড়িয়ে ধরেছে আরো শক্ত করে। দুজনেই নিরব ভালোবাসার পরশ মাখছে একে অপরকে। আরাশ ইন্সিয়াকে কোলে তুলে নিয়ে দোলনায় বসিয়ে দেয়,আর বলে “আমি এমনটা না করলে বুঝতাম কি করে ইন্সু রানী আমাকে এতটা ভালোবাসে। বসুন আমি আসছি”
আরাশ কেক নিয়ে এসে ইন্সিয়ার সামনে হাটু গেড়ে বসে আর বলে “কাটুন।”
ইন্সিয়ার চোখ মুছে কেক কেটে কেকের টুকরো হাতে নিয়ে আরাশকে খাইয়ে দিতে গিয়ে নিজেই খেয়ে নেয়। আরাশ ইন্সিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে “এটা কি হলো হু?”
অনেক কাঁদিয়েছেন এর শাস্তি তো এভাবেই দিবো দেখবেন শুধু (ইন্সিয়া)
আরাশ হেসে কেকের টুকরো ইন্সিয়াকে খাইয়ে দেয় আর বলে “যথা আজ্ঞা মহারানী, আচ্ছা আমি কিন্তু এখনো আমার উওর পেলাম না”
কিসের উওর শুনি (ইন্সিয়া)
এই যে আমি ভালোবাসি বলেছি।কিন্তু আপনি বলেন নি। (আরাশ)
ইন্সিয়া কেক এক পাশে রেখে আরাশের ঠোঁট দুটো মিশিয়ে নেয় স্বেচ্ছায়, ইন্সিয়া ফিসফিসে বলে আরাশের কানে কানে “i love you too”
সবাই নিচে রীধী আর সাইফকে নিয়ে ব্যস্ত। রীধী আর সাইফের এংগেইজমেন্টে সবাই বেশ খুশি।
এদিকে আরাশ ইন্সিয়াকে কোলে নিয়ে রুমে চলে গেলো। আরাশ ইন্সিয়াকে ড্রেস দিয়ে বলে “এটা আপনার জন্য এনেছি লেহেঙ্গা, জলদি চেঞ্জ করে আসুন নিচে সবাই অপেক্ষা করছে”
ইন্সিয়া আরাশকে বলে “কিন্তু আমার আম্মু আব্বু, তারা তো মানবেনা”
ওটা আপনার ভাবা লাগবে না ম্যাডাম আপনি চেঞ্জ করে আসুন নয়তো এখানেই আমি নিজ হাতে চেঞ্জ করিয়ে দেবো! (আরাশ)
ইন্সিয়া কথাটা শোনামাত্র দৌড়ে চেঞ্জ রুমে গিয়ে চেঞ্জ করে আসে, আরাশ ইন্সিয়াকে আয়নার সামনে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে নিজেই অর্নামেন্টস গুলো পড়িয়ে দিলো।
ইন্সিয়া বসে বসে সাজছে, আরাশ মুগ্ধ দৃষ্টিতে ইন্সিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। ইন্সিয়া রেডি হয়ে লিপ্সটিক মাখানো ঠোঁটে আরাশের কাঁধে লাভ বাইট করে দেয়। আরাশ মুছতে গিয়ে ব্যার্থ, লাল হয়ে আছে বাইটের জায়গা। আরাশ ইন্সিয়াকে বলছে “সময় আমারো আসবে। তখন দেখবেন।”
ইন্সিয়া ভেঙ্গচি কেটে দেয়, আরাশ ইন্সিয়ার হাত ধরে নিচে চলে আসে, ইন্সিয়া আর আরাশকে নিচে আসতে দেখে সবাই সজোরে হাত তালি দেয়, অনেকে শিষ বাজাচ্ছে। রীধী ইন্সিয়ার হাত ধরে ইন্সিয়াকে নিয়ে আসে। সবাই হা করে তাকিয়ে আছে ইন্সিয়া আর আরাশের দিকে। ইন্সিয়ার বাবা-মা মিট মিট করে হাসছে ইন্সিয়াকে দেখে। আরাশের কপালে ইন্সিয়ার মা চুমু দিয়ে বলে “সুখী হও বাবা। তুমি যদি তখন না বলতে সবটা তাহলে বুঝতেই পারতাম না”
ইন্সিয়া ভ্রু কুঁচকে তাদের দেখছে। ইন্সিয়া মনে মনে বলছে “তার মানে বাবা-মা সব জানতো? সবাই সব জানতো, এদিকে আমিই বোকা রয়ে গেলাম”
রীধী এসে এনাউন্সমেন্ট করছে “এখন আরেকটা এংগেইজ মেন্ট হতে যাচ্ছে আমাদের আরাশ স্যারের”
সবাই সজোরে হাত তালি দিয়ে কংগ্রেস জানাচ্ছে। আরাশ ইন্সিয়ার হাতে আংটি পড়িয়ে দেয় আর বলে “ভালোবাসি ইন্সিয়া অনেক বেশি ভালোবাসি”
ইন্সিয়া এদিকে ওদিক তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে বলে উঠে “আমিও অনেক ভালোবাসি করোণা ভাইরাস,থুক্কু মিস্টার আরাশ”
সবাই হো হো করে হেসে উঠে করোণা ভাইরাস কথাটি শুনে।
এর একদিন পর আরাশ, ইন্সিয়ার ও রীধী সাইফের বেশ ধুমধাম করে বিয়ে হয়। যে যার ভালোবাসার মানুষকে পেয়ে যায় একেবারে। আবদ্ধ হয় মিষ্টি বন্ধনে।
সমাপ্ত……..❤
(খুব তাড়াহুড়ো করে গল্পটার সমাপ্তি টেনেছি।জানি না কতটুকু সাজাতে পেরেছি। এত তাড়াতাড়ি গল্পটা শেষ করে দেওয়ার জন্য সবার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। সবার সাপোর্ট আর ভালোবাসা চাই। আবারো দেখা নতুন কোনো গল্প নিয়ে। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। যদি পারেন তো আপনাদের মুল বক্তব্য পেশ করবেন। গল্পটি কেমন হয়েছে জানাবেন।ধন্যবাদ।ভালোবাসা রইলো আপনাদের জন্য অনেক অনেক)