#রাখি_আগলে_তোমায়_অনুরাগে💕
#written_by_Liza
#৪র্থ_পর্ব
একটু পর মিস্টার আরাশ এসে হাতে এক ব্যাগ ব্লাড নিয়ে ডক্টরকে বলতে লাগলো আমি এসে গিয়েছি ডক্টর। জলদি করুন।ডক্টর মুখ থেকে মাস্ক খুলে বলে, “এখন এসবের দরকার পড়বে না”
আরাশ শক্ত হয়ে দাড়িয়ে আছে আর বলছে “মানে?”
ডক্টর আরাশের হাতের থেকে ব্লাড ব্যাগ নিয়ে বলতে লাগলো “মানে কিছুই না, পেশেন্টকে ব্লাড দেওয়া হয়েছে”
ইন্সিয়া ব্লাড দিয়ে বেরিয়ে পড়ে পেশেন্টের রুম থেকে, ঠিক তখন’ই নার্স এসে ডক্টরকে বলে “পেশেন্টের অবস্তা আগের চেয়ে স্বাভাবিক হয়েছে,এবার হয়তো ডেলিভারি করা যাবে”
ডক্টর আরাশকে বসতে বলে তাড়াহুড়ো করে চলে গেলো নার্সকে নিয়ে পেশেন্টের কাছে, পেশেন্ট ঝাপ্সা চোখে চারদিকটা দেখছে। চোখ বেয়ে পানি ঝড়ছে পেশেন্টের। ডক্টর পেশেন্টের দিকে তাকিয়ে বলে
“ভয় পাবেন না, সব ঠিক হয়ে যাবে৷ মনোবল ঠিক রাখুন,
ইন্সিয়া আস্তে আস্তে হেটে উষ্মীর পাশে বসলো, উষ্মী ইন্সিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে “আজ তুই যা করলি বোন, কোনো মেয়ে এতটা রিস্ক নিবে না। একটু বস চাবিটা দিয়ে আসি ঐ ভাইয়া টাকে, ব্লাড খুঁজতে বেরিয়ে পড়েছিলো তাই চাবিটা দেওয়া হয়নি। এখন গিয়ে চাবিটা দেবো। তারপর আমরা বাড়ি যাবো ঠিকাছে ইন্সু?”
ইন্সিয়া মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সম্মতি দেয়। উষ্মী চাবি হাতে নিয়ে আরাশের সামনে দাড়ায়, আরাশ বেঞ্চিতে মাথায় হাত গুজো দিয়ে বসে আছে। উষ্মী কিভাবে ডাকবে বুঝতে পারছে না। উষ্মী কাঁপা কাঁপা গলায় বলতে লাগলো
“এ,এ এই ভাইয়া… শুনুন”
আরাশ মাথা উপরে তুলে উষ্মীর দিকে তাকিয়ে চারপাশে দেখছে আর বলছে
“আপনি কি আমায় বলছেন?”
উষ্মী গলা ঝাড়ি দিয়ে বলছে “জ্বী ভাইয়া, আপনার গাড়ির চাবি গাড়িতেই ফেলে এসেছেন।দিতে এসেছি”
আরাশ চিন্তামগ্ন অবস্তাই বেশি কিছু না বলে হাত বাড়িয়ে চাবি নেয় আর বলে অস্ফুট স্বরে “থ্যাংকস”
উষ্মী চাবি দিয়ে দ্রুতগতিতে হাঁটতে লাগলো, আরাশ উষ্মীর যাওয়ার পানে তাকিয়ে আবার চিন্তায় ডুব দিলো।
ইন্সিয়া হেলান দিয়ে বেঞ্চিতে বসে আছে, উষ্মী এসে ইন্সিয়াকে বলে “চল ইন্সু চাবি দিয়ে এসেছি আমাদের দায়িত্ব কর্তব্য শেষ”
ইন্সিয়া আর উষ্মী যেই না বেরোতে পা বাড়িয়েছে ঠিক অমনি নার্সের ডাক পড়ে। “এখানে ইন্সিয়া চৌধুরী কে? তাকে ডক্টর ডাকছেন”
ইন্সিয়া উষ্মীর দিকে তাকিয়ে বলে “আচ্ছা ভাবে ফেঁসেছি মনে হচ্ছে ইয়ার। দাড়া আমি আসছি”
ইন্সিয়া নার্সের সাথে ডক্টরের কাছে যেতে লাগলো।
সামনের বেঞ্চিতে আরাশ বসে ফোন টিপছে আর বলছে
“দোস্ত ব্লাড এক ব্যাগ অলরেডি কে যেনো দিয়ে গেলো। আর লাগবে না বলে দিস। ব্লাড পেয়েছি। আরেক ব্যাগ ইন্টেক। কাল অথবা আজ রাতের মধ্যে হয়তো ব্লাড আরেক ব্যাগ ওগুলা লাগবে”
ইন্সিয়াকে নিয়ে নার্স সেই পেশেন্টের রুমে ঢুকে, অমনি আরাশ বসা থেকে দাড়িয়ে রাগে ফুলতে থাকে আর বিড়বিড় করে বলতে থাকে
“ডিজগাস্টিং তো, যাকে তাকে পেশেন্টের রুমে এলাউ করছে তারা। আমি পেশেন্টের ছোট ভাই। কোথায় আমাকে ডাকবে তা না,কোত্থেকে কাকে পেশেন্টের রুমে ডুকিয়ে নিলো”
ইন্সিয়া পেশেন্টের রুমে ডুকা মাত্র নার্স বলে উঠে ডক্টরকে “এসেছে, যিনি রক্ত দিয়েছেন।”
ডক্টর ইন্সিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,
“আপনি আমাকে না বলে এভাবে বেরিয়ে গেলেন কেন ইন্সিয়া ম্যাম,আপনার ও তো জানা উচিৎ আপনি যাকে ব্লাড দিয়েছে তার অবস্তাটা এখন কেমন। আমাদের তো দায়িত্বের মধ্যে পড়ে আপনার খোজ নেওয়া পরামর্শ দেওয়া।”
ইন্সিয়া মৃদু হেসে বলে
“আমি ঠিক আছি ডক্টর।আমার তাড়া আছে একটু।মেয়ে মানুষ আমরা দুই বান্ধবী এখনো ঘরের বাহিরে।এটা শোভা পায় না,বুঝেতেছেন তো ব্যাপারটা।তাই আমার যত দ্রুত সম্ভব বেরিয়ে পড়তে হবে”
ডক্টর কি যেনো ভেবে ইন্সিয়াকে বলতে লাগলো
“হুম বুঝলাম। আপনাকে যার জন্য ডাকা হয়েছে। পেশেন্ট আমাকে ইশারা দিয়ে বলছিলো আপনার সাথে দেখা করিয়ে দিতে,তিনি আপনাকে একটিবার দেখবে।আপনার জন্যই তো তাঁর বেছে ফিরা। তাই আমাকে অনুরোধ করেছে আপনাকে ডাকার জন্য”
ইন্সিয়া পেশেন্টের কাছে গিয়ে পেশেন্টের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় আর বলে “আপু চিন্তা করবেন না। আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন।আমি তো মাত্র একটা উছিলা। বাঁচানোর মালিক আল্লাহ।”
পেশেন্টের মুখে অক্সিজেন মাস্ক থাকার কারণে পেশেন্ট কথা বলতে পারছে না,ইন্সিয়ার হাত দুটো ধরে আছে পেশেন্ট আর এক দৃষ্টিতে ইন্সিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। ইন্সিয়া পেশেন্টের চোখ মুছে দিয়ে ডক্টরকে বলতে লাগলো,
“ব্লাডের দরকার হলে আমাকে জানাবেন,আমি ব্লাড দেবো জোগাড় করে”
ডক্টর হেসে বলে “ইন্সিয়া ম্যাম আপনি আর ব্লাড দিতে পারবেন না,ব্লাড দেওয়ার ও নির্দিষ্ট কিছু সময় নিয়ম আছে”
ইন্সিয়া বলে উঠে “জানি আমি আমার ফ্রেন্ড সার্কেল থেকে জোগাড় করে দিবো। এটা আমার আব্বুর নাম্বার। কল দিবেন যখন’ই আপুর প্রয়োজন হয়”
ইন্সিয়া কথাগুলো বলে বিদায় নেয় ডক্টরের কাছ থেকে, ইন্সিয়া পেশেন্টের রুম থেকে বের হতেই আরাশ ইন্সিয়ার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে আছে। ইন্সিয়ার এতে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। ইন্সিয়ার ভীষণ তাড়া বাড়ি যাওয়ার। ইন্সিয়া আরাশকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো উষ্মীর কাছে। আরাশ পেশেন্টের রুমের গ্লাসে উঁকি দিয়ে দেখতে লাগলো তাঁর বড় আপুর কি অবস্তা।
ইন্সিয়া উষ্মীর কাছে গিয়ে বলতে লাগলো “চল আমার শরীরটা ভালো লাগছেনা।বাড়ি যাবো”
উষ্মীর ইন্সিয়ার হাত ধরে বেরিয়ে পরলো ক্লিনিক থেকে, ক্লিনিকের সামনে ডাব বিক্রেতা বসে আছে,উষ্মী ইন্সিয়াকে দাড় করিয়ে ডাব কিনে ইন্সিয়ার হাতে দিলো আর বললো
“এটা খেয়ে নে একটু ভালো লাগবে,ব্লাড দেওয়ার পর ডাব খেলে শরীরটা দুর্বল কম লাগে”
ইন্সিয়া ডাব খেতে লাগলো। উষ্মী ফোন করে ইন্সিয়ার আম্মুকে বলতে লাগলো “আন্টি আমরা আসতেছি, চিন্তা করবেন না”
আরাশ উপর থেকে ইন্সিয়াকে তাক করে তাকিয়ে আছে, কিন্তু ইন্সিয়াকে বকা দেওয়ার বা জিজ্ঞেস করার সময় আরাশের নেই। আরাশের চিন্তা তার বড় বোনকে নিয়ে।
আরাশকে পেছন থেকে ডক্টর ডেকে বলে “মিস্টার আরাশ শুনুন,”
আরাশ পেছন ফিরে ডক্টরের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করে “আপনাদের ক্লিনিকটা খুব স্ট্রিক্ট ভেবেছিলাম। কিন্তু আপনারা কোনো ভাবে দায়িত্ব পালন করতে জানেন না। নেহাৎ আমার কাছে অপশন ছিলো না অন্য ক্লিনিক চ্যুজ করার তাই এখানে আসা। নয়তো আসতাম না আমার বোনের রিস্ক নিতে”
ডক্টর চশমা খুলে আরাশের দিকে তাকিয়ে ভাবান্বিত অবস্তায় বলতে লাগলো “আরাশ আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে৷ আপনি একটু ক্লিয়ার করে বলুন।আমি আপনাকে কিছু কথা বলতে এসেছি পেশেন্টের ব্যপারে”
আরাশ শার্টের হাতা ফোল্ড করতে করতে বলছে ডক্টরকে “আমি একটা কথা সেকেন্ডবার রিপিট করা পছন্দ করি না।”
ডক্টর আরাশের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলে “পেশেন্ট আপনার বড় বোন? রাইট? আপনার বোনকে রাত দেড় টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হবে, তাই আপনার সাথে কথা বলিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। আপনার বোনের কন্ডিশন আগের চেয়ে কিছুটা ভালো তাই আমরা দেরী করতে চাইছিনা। ইঞ্জেকশন দিয়ে দিয়েছি, রাতের মধ্যেই নরমাল ডেলিভারি হবে বলে আমরা আশা করছি”
আরাশ বোনের কথা শুনতেই শান্ত হয়ে যায়, আর ডক্টরকে বলে “আমার বোন এবং বেবির যেনো কোনো ক্ষতি না হয়, আর হ্যাঁ আমি আমার বোনের গার্জিয়ান, সেখানে বাহিরের লোককে কেন এলাউ করেছেন?”
এবার ডক্টর বুঝতে পারে আরাশের সমস্যাটা ঠিক কোন জায়গায়, ডক্টর আরাশের কাঁধে হাত রেখে বলে
“এই ব্যপার! মিস্টার আরাশ আমরা চোখে যা দেখি তা সব সত্য নাও হতে পারে। চোখের দেখা জিনিসকে সব সময় বিশ্বাস করতে নেয়। আমি যেই মেয়েটাকে এলাউ করেছি,সেই মেয়েই আপনার বোনকে ব্লাড দিয়েছে তখন, ঠিক সময়ে যদি ব্লাড না দিতো তাহলে আমাদের বাঁচানো মুশকিল হয়ে পড়তো। আপনি ব্লাড আনার আগেই সে এক ব্যাগ ব্লাড আপনার আপুকে দিয়েছে।সর্বশেষ কথা, আপনার আপু’ই ইশারা দিয়ে বলছিলো বারবার মেয়েটিকে দেখতে,তাই ডেকেছি। কারো সম্পর্কে না জেনে কথা বলা অন্যায়। মিস্টার আরাশ, আমি জানি আপনি আপনার বোনের বিষয়ে কতটা সেন্সিটিভ তবুও বলছি, না জেনে কিছু বলা ঠিক না,চলুন। আপনার আপুর সাথে দেখা করে আসুন।কিন্তু উত্তেজিত করবেন না প্লিজ”
আরাশ কিছু না বলে চুপচাপ ডক্টরের পিছু পিছু পেশেন্টের রুমে ডুকে, আরাশের বড় আপু আরাশের দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে আরাশকে ডাকছে।আরাশ তাঁর বড় আপুর পাশে বসে হাতটা ধরে চুমু খাচ্ছে আর বলছে
“আপু আমি আছি তো, ভয় পাস না।”
আরাশের বড় আপু আরাশের মুখে হাত বুলিয়ে দিয়ে ইশারায় জিজ্ঞেস করছে কেউ ফোন দিয়েছে কি না,
আরাশ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে “ওসব কথা এখন থাক। তুই নিজের চিন্তা কর। আমি থাকতে এত ভয় পাওয়ার কিছু নেই।খুব জলদি সেরে উঠ”
ডক্টর তাদের ভাই-বোনকে ছেড়ে দিয়ে অন্যান্য পেশেন্ট দেখতে লাগলো। আরাশের ফোনে রিং পরতেই আরাশ বাহিরে চলে আসে আর বলে “কাজ হয়েছে? নজর রাখো তাঁর উপর আর সকল ইনফরমেশন আমাকে পাঠিয়ে দিবে। আমি এদিকের ঝামেলা শেষ করেই তাঁকে ধরবো। আর হ্যাঁ এত বেশি ফোন দিবে না এখানে,আমার বড় আপু জানলে কষ্ট পাবে”
রাত সাড়ে বারোটা বাজে,আরাশ বাহিরে তাকিয়ে আছে,রাস্তা ফাঁকা, দু একটা লোক নিচে চায়ের স্টলে বসে চা খাচ্ছে,তার একপাশে একটা ৮/৯ বছরের ছেলে বস্তা বিছিয়ে শুয়ে আছে। আরাশের চোখ পড়তেই আরাশ মোবাইল পকেটে রেখে নিচে চলে গেলো। আরাশ নিচে গিয়ে ছেলেটার মাথার পাশে বসলো। ছেলেটা ভয়ে শোয়া থেকে উঠে একপাশে গুজে বসে রইলো। আরাশ হাত বাড়িয়ে দেয় ছেলেটার দিকে, ছেলেটা আস্তে আস্তে করে আরাশের সাথে ঘেষে বসে। আরাশ ছেলেটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে
“এখানে ঘুমাচ্ছিস কেন পিচ্ছি? তোর মা-বাবা কই?”
ছেলেটি অনেকটা ভয় কাটিয়ে হাসিমুখে জবাব দেয় “আম্মা মারা গেছে আব্বার আরেকডা বিয়া করছে”
আরাশ মৃদু হেসে ছেলেটিকে বলতে লাগলো “তোর ঠান্ডা লাগে না? এই ময়লা বস্তায় ঘুমাতে তোর ভালো লাগে?”
ছেলেটি খিলখিল করে হেসে বলে “আমার ঠান্ডা লাগে না।আমি ফতিদিন (প্রতিদিন) ঘুমাই এনো (এখানে)”
আরাশ ছেলেটিকে বসিয়ে চলে গেলো গেলো কোথায় যেনো,একটু পর কলা পাউরুটি একটা জ্যাকেট নিয়ে এসে ছেলেটির পাশে বসলো আর বললো
“নে পিচ্ছি খা, আমারো খুব খুদা লেগেছে তাই ভাবলাম তোর সাথে শেয়ার করি, ফিফটি ফিফটি কি বলিস?,নে ধর”
ছেলেটি আর আরাশ রাস্তার একপাশে বসে পাউরুটি কলা খেতে লাগলো, আরাশ গাড়ির ভেতর থেকে আনা জ্যাকেটটি ছেলেটির গায়ে জড়িয়ে দিলো। ছেলেটি আরাশের দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে বললো,
“আচ্ছা সাব (সাহেব) আন্নের ঘেন (ঘৃণা) লাগে না?আন্নে বড় মানুষ আমার মতো গরীবের পাশে বস্তার উপর বইসা আছেন”
এক চড় দেবো তোকে, এসব পরখ করা কোত্থেকে শিখেছিস? আমার গায়ে কি বড়লোক লেখা আছে? এসব কথা বলবি না, আমার অপছন্দ (আরাশ)
ছেলেটি কথা না বলে আরাশের সাথে বসে রইলো। রাত বাজে একটা। অমনি আরাশ ছেলেটিকে বলে “তুই বস আমি একটু উপরে যাচ্ছি। কোথাও যাবি না ঠিকাছে? তোর সাথে অনেক কথা আছে আমার”
ছেলেটি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সম্মতি দিলো। আরাশ ছেলেটিকে রেখে ক্লিনিকে যেতে লাগলো। একটু পর তাঁর বড় আপুকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হবে এইজন্য।
চলবে….