রাখি আগলে তোমায় অনুরাগে পর্ব-০৫

0
821

#রাখি_আগলে_তোমায়_অনুরাগে💕
#written_by_Liza
#৫ম_পর্ব

ছেলেটি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সম্মতি দিলো। আরাশ ছেলেটিকে রেখে ক্লিনিকে যেতে লাগলো। একটু পর তাঁর বড় আপুকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হবে এইজন্য। আরাশ দৌড়ে ক্লিনিকের ভেতর চলে গেলো, ছেলেটি গায়ে জ্যাকেট জড়িয়ে আরাশের যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছে।

এসেছেন মিস্টার আরাশ! আমরা আপনাকেই খুঁজছিলাম। আপনার আপুকে নিয়ে যাওয়া হবে,তাই দেখা করে নিন। (ডক্টর)

আরাশ ডক্টরের কথা শোনামাত্র তাঁর বড় আপুকে দেখতে চলে গেলো। আরাশের আপু শুয়ে আছে আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ। আরাশকে দেখে আরাশের আপু হাত ধরে নিজের কাছে বসিয়ে রাখে। একমাত্র ভরসার হাত আপনজন বলতে আরাশ। আরাশ ছাড়া কেউ নেই, মা-বাবা সেই ছোট বেলায় এক্সিডেন্টে মারা গেছে। আরাশের শৈশব কেটেছে খুব ভয়াবহ। ছোট থেকেই আরাশের ঢাল হয়ে ছিলো তাঁর বড় আপু। আর আজ আরাশ তাঁর বড় আপুর গার্জিয়ান, ছোট হওয়া স্বত্তেও বিরাট দায়িত্ব পালন করছে বোনের।

আরাশের বোন অরীন নিরবতা ভেঙ্গে কাঁপা কাঁপা গলায় আরাশকে বলে

“তো তোর জিজু ফোন করেছে? তাঁর খোঁজ পেয়েছিস? সে আমাকে একটু ও দেখতে আসলো না রে”

আরাশ তীব্র রাগে মাথা নিচু করে দাঁতে কিড়মিড় করছে,আরাশ চায় না তাঁর বোনের মুখে সেই জানোয়ারের কথা শুনতে। আরাশ কথাগুলো উপেক্ষা করে অরীনকে বলতে লাগলো
“ছাড় তো আপু।এখন নিজেকে নিয়ে ভাব।ওসব কথা পরে হবে।”

আরাশের মুখে কথাটা শোনামাত্র অরীন মুখ গোমড়া করে অন্যদিকে ফিরে তাকিয়ে আছে। আরাশ এটা বুঝতে পারলেও তাঁর কিছু করার নেই। কারণ আরাশ চায় না তাঁর বোনের আশেপাশে কোনো হিংস্র জানোয়ারের ছায়া থাকুক।

ডক্টর এসে অরীনকে নিয়ে যেতে লাগলো। আরাশের হাতটুকু ছেড়ে দিয়ে অরীন থিয়েটার রুমে চলে গেলো। আরাশ দাড়িয়ে আছে,আরাশের চোখদুটো লাল বর্ণ ধারণ করেছে। আরাশ চাইলেও কাঁদতে পারে না। কাঁদা যে তাঁর বারণ। আরাশ চোখ মুছে বারান্দার বেঞ্চিতে বসে আছে।

অন্যদিকে ইন্সিয়া বাড়ি পৌছে কারো সাথে কোনো আলাপ না করে সোজা রুমে গিয়ে একদফা ঘুম দিয়ে নিলো। ইন্সিয়ার মা বাবা দু’জনই জানতো ইন্সিয়া কোনো প্রসূতি নারীকে রক্ত দিয়েছে,তাই তারা বেশি কিছু বললো না।ইন্সিয়াকে ইন্সিয়ার মত রুমে একা ছেড়ে দিলো।

রাত একটা পনেরো মিনিট…

ইন্সিয়া এপাশ ওপাশ করছে, একটু আগে ইন্সিয়ার ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছে ক্ষুদার্ত থাকার কারণে। ইন্সিয়া উঠে বসে আশেপাশে কেউ সজাগ আছে কি না দেখতে লাগলো,বাড়ির সকলে খেয়ে ঘুম, পড়ার টেবিলের উপর ইন্সিয়ার জন্য খাবার রেখে দেওয়া হয়েছে। ইন্সিয়া ফ্রেশ হয়ে খাওয়াদাওয়া করে, রুমে পায়চারি করতে লাগলো।

এদিকে আরাশ নিচে যেতে লাগলো ছেলেটার কাছে। ছেলেটা অপেক্ষা করতে করতে কবে যে ঘুমিয়ে পড়লো তাঁর কোনো আয়ত্তা নেই। আরাশ ছেলেটির মাথার পাশে বসে,ছেলেটির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো। অমনি হকচকিয়ে ঘুম থেকে উঠে বসে গেলো ছেলেটি। আরাশ খানিকটা হেসে দিলো এমন কান্ডে আর বলতে লাগলো
“ভয় পেয়েছিস?ওটা আমি। ঘুমা। আমি এদিকটাই বসে আছি।”

ছেলেটা গুটিসুটি মেরে বসে বলে “আচ্ছা সাব (সাহেব) এনো কিল্লাই আইছেন? কেউ আছে নি আন্নের?”

আরাশ হতাশ হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে, ছেলেটি পূণরায় একই প্রশ্ন করে। আরাশ এরপর বলতে শুরু করে “আমার বড় আপুর জন্য আসছি,সে ঐ ক্লিনিকটাতে আছে। জানিস? আমার না মা-বাবা কেউ নেই। ছোট বেলায় আমিও বাবা-মা’কে হারিয়েছি একটা এক্সিডেন্টে। এরপর বড় আপু আমার দেখাশোনা করতো। বড় আপুই আমার গার্জিয়ান। এখন দেখ আমি নিজেই আপুর গার্জিয়ান হয়ে বসে আছি। হাহাহাহা”

ছেলেটি আরাশের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর বলছে “আফার জামাই কই,জামাই আইছেনি এনো?”

আরাশ ঢোক গিলে চুপ করে আছে, হঠাৎ কি ভেবে যেনো বলে উঠে অস্ফুট স্বরে
“হুম আছে, আটকে রেখেছি।সে আপুর কাছে আসতে পারবে না”

আরাশ খেয়াল করে দেখে ছেলেটি ভয়ে আরাশের কাছ থেকে একটু দুরে চলে গেলো। আরাশ তা দেখে খিলখিল করে হাসি দিয়ে উঠে। হাসিটা কেমন যেনো রহস্যময়। আরাশ হাত বাড়িয়ে ছেলেটি নিজের কাছে টেনে আনে আর বলে
“আরে পাগল মজা করছি। তুই ভয় পাস আমায়?”
আরাশ ছেলেটির সাথে বসে কথা বলতে বলতেই রাত দেড়টা পার হয়ে যায়। আরাশ ছেলেটিকে বলে,

“ঐ যে কালো কার টা দেখতে পাচ্ছিস? ওখানের ভেতর গিয়ে ঘুমা।এখানে বেশি ঠান্ডা তোর ঠান্ডা লাগবে। যা ওখানে গিয়ে ঘুমা,আমি একটু আপুর কাছে যাই”

ছেলেটি আরাশকে বিশ্বাস করে সেই কালো গাড়ির ভেতর ঘুমাতে চলে গেলো।আরাশ গাড়ির চাবি নিজের সাথে করে নিয়ে এসেছে। যদিও বাহিরের কেউকে বিশ্বাস করা যায় না হুটহাট করে, তবুও ছেলেটিকে দেখে আরাশের মায়া হচ্ছিলো,তাই আরাশ ছেলেটিকে এত হেল্প করছে।

আরাশ ছেলেটিকে পাঠিয়ে দিয়ে ভেতরে চলে গেলো “একটু পর ডক্টর এসে আরাশকে বলে, কংগ্রেস আপনি মামা হয়েছেন। আপনার দুটো ভাগ্নী হয়েছে।টুইন বুঝেন তো? টুইন হয়েছে।”

আরাশের চোখে খুশির পানি। মুখে হাত গুজে আরাশ এক প্রকার কেঁদেই দেয় খুশিতে।ডক্টর আরাশের কাঁধে হাত রেখে বলে “তবে একটা দুঃসংবাদ ও আছে”

মুহুর্তেই আরাশ ভয়ে শক্ত হয়ে যায়,আর বলে “আমার আপু কেমন আছে ডক্টর?”

ডক্টর হাতের গ্লাভস খুলতে খুলতে বলে “আপনার আপু ঠিক আছে কিন্তু”

কিন্তু কি ডক্টর? (আরাশ)

আপনার ভাগ্নী দুটোই আল্লাহর হাতে,আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে ত ভালো। নাহলে কিছু করার নেই (ডক্টর)

আরাশ কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। আরাশ নিশ্চুপ হয়ে পড়ে, ডক্টর আবারো বলে উঠে
“এত আপসেট হলে আপনার আপুকে সাহস যোগাবে কে? একটু পর পেশেন্ট আর বেবিকে একসাথে দেওয়া হবে অন্য ব্যাডে, দেখা করতে পারবেন তখন। বেবিগুলোর হেলথ কন্ডিশন খুব খারাপ।”

আরাশ মৃদু হেসে বেঞ্চিতে গিয়ে বসে, রাতের দুইটা বাজে অরীনকে ও তাঁর টুইন বেবিদের অন্য ব্যাডে পাঠানো হয়। আরাশ রুমের বাহিরের গ্লাসের পাশে উঁকি দিয়ে বোন আর বেবিগুলোকে দেখছে।

অরীন অচেতন শুয়ে আছে ব্যাডে।বাচ্ছাগুলোর হাতে স্যালাইন দেওয়া। আরাশ দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছে সবটা বাহির থেকে।

ভোরের আজান পড়ছে…

চারদিকে মানুষের আনাগোনা, আরাশ নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। অরীনের সেন্স ফিরেছে। আরাশ গিয়ে অরীনের পাশে বসলো। অরীনের হাতটা ধরে বলে “আপু কেমন আছিস? জানিস আপু? আমার ভাগ্নী দুটো দেখতে মা শা আল্লাহ,টুইনস পেয়েছি”

অরীন আরাশের কথায় হেসে উঠে,ভাই বোন দু’জনই অনেকদিন পর যেনো হাসছে। বাচ্ছা দুটো নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে।

নার্স এসে অরীনকে মেডিসিন খেতে দিলো। অরীন খাচ্ছে আর আরাশকে জিজ্ঞেস করছে “তুই রাতে কিছু খেয়েছিলি?নাকি এভাবেই পাহারা দিচ্ছিলি?”

অমনি ডক্টর এসে বলে
“পেশেন্টের অবস্তা এখন যেহেতু ভালো আপনারা বাড়ি যেতে পারবেন পেশেন্টকে নিয়ে,বাচ্ছাগুলো কাল রাতের তুলনায় আজ বেশ সুস্থ। ঠান্ডা লাগাবেন না বাচ্ছাগুলোকে। নবজাতক শিশু তাই বি কেয়ারফুল। মা ও বেবি এদের ঠান্ডার আশেপাশে যেতে দেওয়া যাবে না, মিস্টার আরাশ আপনার ঘরে দুইটা রাজকন্যা যাচ্ছে,খেয়াল রাখবেন তাদের।”

আরাশের চোখমুখে খুশির আভা। আরাশ বিল পে কাউন্ট সেন্টারে, বিল পে করে যাবতীয় মেডিসিন নিয়ে নেয়। আরাশ নিচে গিয়ে গাড়ির ভেতর উঁকি দিয়ে দেখে, ছেলেটি এখনো ঘুম গুটিসুটি মেরে। আরাশ ছেলেটির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে “ঘুম হয়েছে? নাকি আরেকটু ঘুমাবি।”

ছেলেটি ঘুম চোখে হায় তুলতে তুলতে উঠে পড়ে,
উঠে বেরিয়ে যেতেই আরাশ নিষেধ দিয়ে বলে
“কই যাস? আমার সাথে যাবি তুই। যা এই নে টাকা, হাত মুখ ধুয়ে নাস্তা করে নে। আমি এখানে অপেক্ষা করছি।জলদি আই”

আরাশের ফোনে রিং পড়ছে, আরাশ ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বলে উঠে কে যেনো “স্যার আজ কি অফিসে আসবেন? অনেক গুলা ফাইল জমা হয়েছে।একটু যদি আসতেন”

নাহ আজ সম্ভব না ব্যস্ত আছি। কাল এই ব্যাপারে আলোচনা হবে (আরাশ)

ফোন কেটে দিয়ে আরাশ তার বোন ও বাচ্ছাকে নিয়ে আসতে গেলো ক্লিনিক থেকে৷

অরীন পেছনের সিটে বসলো তার দুই বাচ্ছাকে নিয়ে৷ আরাশ ড্রাইভিং সিটে বসে অপেক্ষা করছে ছেলেটির জন্য। একটু পর ছেলেটি এসে আরাশের পাশের সিটে বসে পড়লো। অরীন কিছু জানতে চাইলে আরাশ কথা এড়িয়ে যায়।

গাড়ি এসে ব্রেক করলো আহমেদ মেনশনের সামনে। দারোয়ান গেইট খুলে দিতেই গাড়ি নিয়ে ভেতরে চলে এলো আরাশ। ছেলেটি গাড়ির জানালার গ্লাস দিয়ে বাহিরের দৃশ্য দেখছে হা করে। ছেলেটি এত বড় রাজকীয় বাড়ি কখনো দেখেনি। শুধু স্বপ্নেই ভাবতো এসব কাল্পনিক,কিন্তু বাস্তবে এমন বাড়ি আছে ছেলেটির অজানা।

আরাশ ছেলেটির মাথায় চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে বলে “কি রে কি দেখছিস?”

ছেলেটি আরাশের দিকে তাকিয়ে বলে “সাব এডা কার বাড়ি? আন্নের? ”

আরাশ অট্টহাসি দিয়ে উঠে এমন প্রশ্নে আর বলে “অন্যের বাড়িতে কি আমাদের ডুকতে দিবে? হুম? পাগল, এবার নেমে যা ভেতরে যাবো আমরা”

ছেলেটি লজ্জায় ফিক করে হেসে দেয়। গাড়ি থেকে নামার পর বাড়ির ভেতর থেকে একটা মহিলা আর একটা অল্পবয়সী মেয়ে এগিয়ে আসে বাচ্ছাগুলোকে কোলে নেওয়ার জন্য। অরীন বাচ্ছা দুটোকে দুই জনের কোলে দিয়ে আস্তে আস্তে হেটে বাড়ির ভেতর যেতে লাগলো।

ছেলেটি আবারো প্রশ্ন করে আরাশকে “সাব এডি কেডা?”

আরাশ এবার ধীরেসুস্থে এক এক করে সবার পরিচয় দিচ্ছে
“শোন এখন যে মহিলা এসেছে ঐ মহিলা হলো আমার জন্মের পর এই বাড়ির দেখাশোনা করতো।তার নাম মুনিয়া খালা। আমার বাবা কাজের জন্য রেখেছিলো তাকে৷ সে এখন পরিবারের অংশ।আমি তাকে খালামনি ডাকি।তুই ও খালামনি ডাকবি।সাথে যে মেয়েটা এসেছে ওটা ঐ মহিলার মেয়ে বয়সে আমার ৪/৫ বছরের ছোট,তার নাম মিশু।আমাকে ভাইয়া ডাকে, ছোট বোন হয় আমার বলতে পারিস। তুই ওকে আপু বলে ডাকবি, আর এদিকের এরা যারা গেইটের পাশে দাড়িয়ে আছে তারা হলো দারোয়ান। এই ফ্লাটের দেখাশোনা করে”

এবার বুঝেছিস?চল ভেতরে। আরাশ ছেলেটির হাত ধরে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলো। আরাশ ছেলেটিকে বলতে লাগলো আচ্ছা তোর নামটা তো জানা হয়নি। তোর নাম কি?

ছেলেটি আরাশের দিকে তাকিয়ে বলে
“আম্মায় আমারে রাজু কইয়া ডাকতো”

ওহ তোর নাম রাজু? বেশ তো সুন্দর নাম। আমার নাম কি জানিস? আরাশ আহমেদ (আরাশ)

আইচ্ছা সাব (রাজু)।

আরাশ রাজুকে নিয়ে সোজা নিজের রুমে চলে গেলো।মিশু দৌড়ে এসে আরাশকে বলে “ভাইয়া চা কফি কোনটা দিবো?”

আরাশ মিশুর দিকে তাকিয়ে বলে
“তুই খেয়েছিস? খালামনি খেয়েছে?”

হে ভাইয়া খাইছি, আপনাদের খাবার টেবিলে দিছি। অরীন আপুরে রুমে দিয়ে আসছি খাবার। (মিশু)

আচ্ছা ঠিকাছে যা।আমরা আসছি (আরাশ)

আরাশ ও রাজু ফ্রেস হয়ে টেবিলে খেতে বসে,খাওয়াদাওয়া সেরে রুমে এসে গা এলিয়ে দেয় আরাশ। রাজু আরাশের রুমে দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখা ছবি গুলো পর্যবেক্ষণ করছে। আরাশ শুয়ে শুয়ে ভাবছে “আপুকে যে রক্ত দিলো যার জন্য আপু বেঁচে ফিরলো তার সাথে একটিবার কথা বলা উচিৎ। সাথে কিছু গিফট হলে মন্দ হয় না”

আরাশ কিভাবে ইন্সিয়া অব্দী পৌছাবে ভাবছে শুয়ে শুয়ে, আরাশ কারো কাছে ঋনি থাকতে চায় না। এতে তাঁর ইগোতে লাগে। তাই আরাশ তার বোনের উপকার করা ব্যক্তিটিকে যেকোনো মুল্য চুকিয়ে দিয়ে হিসাব বরাবর কর‍তে চায় সে..

চলবে