#রাখি_আগলে_তোমায়_অনুরাগে💕
#written_by_Liza
#৯ম_পর্ব
আরাশ মালিকের দিকে তাকিয়ে হেসে বলে “আজ লাঞ্চ করবো বলে এসেছি, ম্যানু কি?”
মালিক খুশিতে উদ্ধীগ্ন হয়ে বলছে “সত্যি স্যার? দাড়ান ম্যানু কার্ড টা আনি”
ম্যানু কার্ড আনতে চলে গেলো মালিক৷ আরাশ ফোনে ক্লাইন্টদের সব ডিটেইলস দিচ্ছিলো,
“সাইফ আপনার উচিৎ আজাদের উপর নজরদারি করা,এর বেশি আপনাকে কাজ দেই নি আমি। আর হে স্যালারিটা আপনার একাউন্টে পৌছে যাবে,কাজ যেনো নিখুঁত হয়” কথা শেষ করে ফোন রেখে দিলো আরাশ। বুক থেকে যেনো পাথর নামলো।
আরাশ খাওয়াদাওয়া শেষ করে সাথে করে আনা পেনড্রাইভটিতে চোখ বোলাতে লাগলো,আরাশ ক্যাফ থেকে বেরিয়ে ফুলের দোকানে গিয়ে তাজা গোলাপ ফুল কিনে আনলো, খুব সুন্দর করে গোলাপ ফুলগুলো রঙিন কাগজে মোড়ানো হলো।
বেলা তিনটা ছুঁই ছুঁই, উষ্মী ইন্সিয়াকে নিয়ে ক্যাফে ঢুকলো,ইন্সিয়া উষ্মীর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দেয় “কোন স্পেশাল গেস্ট আসবে তোর? এত তাড়াহুড়ো করে এইখানে আনার মানে কি?”
উষ্মী গম্ভীর স্বরে বলে “সময় হলেই দেখতে পারবি,এখন এত কথা না বললেও চলবে তোর। বস এখানে”
ইন্সিয়া কথা না বাড়িয়ে উষ্মীর সাথে ক্যাফে বসে রইলো,আরাশ হাতে ফুল ও কাগজে মোড়ানো ব্যাগ নিয়ে ক্যাফে প্রবেশ করলো। আরাশকে দেখার সাথে সাথে ইন্সিয়া রেগেমেগে আগুন। উষ্মী ইন্সিয়ার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলছে “আল্লাহ বাঘে মহিষে যুদ্ধ যেনো না হয় এখানে,আবহাওয়া তেমন একটা ভালো ঠেকছে না”
আরাশ সোজা উষ্মী ইন্সিয়ার সামনে এসে দাড়ালো, উষ্মী আরাশকে চেয়ারে বসতে বললো, আরাশ ফুলের তোড়া টেবিলের একপাশে রেখে উষ্মীর দিকে তাকালো, উষ্মী ইন্সিয়াকে আড়চোখে দেখছে। ইন্সিয়া না পারছে কিছু বলতে, না পারছে উঠে যেতে। আরাশ ইন্সিয়ার দিকে তাকিয়ে উষ্মীকে জিজ্ঞেস করছে “আপনার সেই ফ্রেন্ডটি আসে নি?”
উষ্মী ইন্সিয়ার দিকে তাকিয়ে আরাশকে আমতা আমতা করে বলছে, “এইতো এটা আমার বেস্টফ্রেন্ড, সে আর কি আপনার বোনকে রক্ত দিয়েছে।”
আরাশ রহস্যময় হাসি দিয়ে বলে “ওহ আই সি সিস্টাহ,”
ইন্সিয়া পারছেনা উষ্মীকে গলা টিপে দিতে,উষ্মী বিড়বিড় করছে আর বলছে “আচ্ছামত ফেঁসে গেলাম। আল্লাহ রক্ষা করো। ইন্সু যেনো কোনো কান্ড না বাধায়”
আরাশ ওয়েটারকে ইশারা দিয়ে কি যেনো বললো, সাথে সাথে ওয়েটার তিনটা কোল্ড কফি ও পেস্ট্রি এনে দিলো।আরাশ ইন্সিয়াকে আড়চোখে পর্যবেক্ষণ করছে। উষ্মী গলা ঝাড়ি দিয়ে মনোযোগ পেতে চাইলো। আরাশ উষ্মীর দিকে মুচকি হেসে বলে “থ্যাংকিউ সিস্টাহ,”
উষ্মী হতভম্বের মতো আরাশের দিকে তাকিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবে তার আগেই ইন্সিয়া বলে উঠে “এখানে কি শুভদৃষ্টি হচ্ছে কারোর? কেন এনেছিস আমায় উষ্মী,এখানে আমার কাজ কি?”
আরাশ টেবিলে থাকা কোল্ড কফির দিকে তাকিয়ে স্ট্র নড়াচড়া করতে করতে বললো “কথাটা আমাকে বলুন মিস ইন্সিয়া,আপনার ফ্রেন্ডকে নয়। তার কোনো দোষ নেই। আপনার সাহস কি করে হয় আমার সামনে উচ্চস্বরে কথা বলার”
ইন্সিয়া বসা থেকে উঠে দাড়ায় আর বলে ” এটা একান্ত আমার ব্যপার আমি কাকে বলবো কি বলবো না,আপনি কে যে এমন? আমি কথা বলতে পারবো না। আপনার পারমিশন লাগবে!”
আরাশের প্রচুর রাগ হচ্ছে। আরাশ হাতের মুষ্টিবদ্ধ করে দাঁতে কিড়মিড় করছে। উষ্মী তা দেখে ইন্সিয়াকে টেনে বসিয়ে দেয় আর বলে “হচ্ছেটা কি ইন্সু? সিনক্রিয়েট করছিস কেন? যে ডেকেছে তাকে বলার সুযোগটা তো দে”
ইন্সিয়া আশেপাশে থাকা লোকজনের কানাঘুষো দেখে চুপ হয়ে যায়। আরাশ নিজেকে কন্ট্রোল করে বলে “উষ্মী আপনার নাম রাইট সিস?”
উষ্মী আরাশের অবস্তা দেখে ভয়ে কাচুমাচু করে অস্ফুটে স্বরে উওর দেয় “জ্বী ভাইয়া”
ফুলটা আপনার জন্য এনেছি সিস,আমার তরফ থেকে ছোট্ট উপহার। এই বলে আরাশ ফুলের তোড়াটা ইন্সিয়াকে দেখিয়ে উষ্মীকে দেয়।ইন্সিয়া উষ্মী আর আরাশের দিকে তাকিয়ে রাগে ফুসছে। উষ্মী ইন্সিয়ার দিকে একবার তাকাচ্ছে আরাশের দিকে একবার তাকাচ্ছে। আরাশ ইন্সিয়ার দিকে তাকিয়ে রহস্যময় ছোট্ট হাসি দেয়।
উষ্মীর ফোনে রিং পড়তেই উষ্মী ইন্সিয়াকে বসিয়ে কথা বলতে চলে যায়। ইন্সিয়া আর আরাশ মুখোমুখি বসে আছে, আরাশ কাগজে মোড়ানো ব্যাগটা ইন্সিয়ার দিকে এগিয়ে দেয় আর বলে,”আমার আপুকে রক্ত দিয়ে বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ, নিন এটা”
ইন্সিয়া কাগজে মোড়ানো ব্যাগটার দিকে তাকিয়ে মুখ ফিরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। আরাশ ফোন বের করে কাকে যেনো কল দিয়ে বলে “যতক্ষণ না আমি আসছি ততক্ষণ তাকে আটকে রাখুন। আমি আসার পর সব হিসাব ক্লিয়ার করবো”
ইন্সিয়া চোখ বড় বড় করে আরাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলছে “আস্ত একটা গুন্ডা এটা,এগুলার সাথে সুস্থ মানুষ থাকতে পারে না৷ উষ্মীটা যে কই গেলো”
আরাশ ইন্সিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে ” এভাবে বিড়বিড় করে আমাকে গুন্ডা বললেই যে আমি শুনতে পাইনি, এটা ভাবলে ভুল করবেন মিস ইন্সিয়া ”
ইন্সিয়া আরাশের কথা শুনে থ বনে গেলো মনে মনে বলতে লাগলো “আচ্ছা মুশকিল তো, গুন্ডার কান এত শার্প। মাই গড,ভাগ্যিস অন্যকিছু শুনে নি”
আরাশ ইন্সিয়াকে বলে “এভাবে ভাবার কি আছে? আমি তো সব শুনেছি তাই বলেছি। বিড়বিড় করছিলেন তখন ভালো কথা,কিন্তু মাইকিং করে বিড়বিড় করতে বলেছে কে? কাগজের প্যাকেট টা বাসায় গিয়ে খুলে দেখবেন,ভদ্রতার খাতিরে”।
ইন্সিয়াকে ভদ্রতার খাতিরে বলাতে ইন্সিয়ার ইগোতে লাগে, ইন্সিয়া বুঝতে পেরেছে আরাশ লোকটা তাকে ইন্ডাইরেক্টলি অভদ্র বলেছে, ইন্সিয়া রাগে দুঃখে পারছে না লোকটাকে ধরে কয়েকটা কথা শুনিয়ে দিতে। ইন্সিয়া কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ উষ্মীকে উঁকি দিয়ে দেখছে। আরাশ ইন্সিয়ার কান্ডে হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছে না। আরাশ কোল্ড ড্রিংক এগিয়ে দেয় ইন্সিয়ার দিকে আর বলে ” এটা ফিনিশ করুন।”
ইন্সিয়া খাবে না বলে জবাব দেয়, আরাশ ইন্সিয়ার না জবাব শুনে প্রতুত্তরে বলে “অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই”
এই বলে স্ট্র ডুবিয়ে নিজের মতো করে আরাশ কোল্ড ড্রিংক খেতে লাগলো, ইন্সিয়া চোখ বড় করে তাকিয়ে দাঁতে কিড়মিড় করে মনে মনে বলছে
“এই লোকটা আমাকে একেরপর এক অপমান করেই যাচ্ছে,কখনো শয়তানের ভাই বলছে,নয়তো অভদ্র বলছে। আমি আর নিতে পারছিনা। ইন্সু তুই কি করে চুপচাপ এসব শুনে যাচ্ছিস? এই লোক তোকে শুরু থেকেই অপমান করছে। কিছু একটা কর ইন্সু।কিছু একটা কর।”
খানিকক্ষণ পর উষ্মী এসে বসে ইন্সিয়ার পাশে।
সরি আসলে আমার একটা ইম্পর্ট্যান্ট কল এসেছিল (উষ্মী)
ইন্সিয়া রাগে ফুসতে ফুসতে উষ্মীর দিকে তাকাচ্ছিলো,উষ্মীর আর বুঝতে বাকি রইলো না, আবহাওয়া ঘূর্নিঝড় ঘটে গিয়েছে। আরাশ উষ্মীকে বলতে লাগলো “সিস আমার একটা আর্জেন্ট কাজ আছে বেরোতে হবে। আমি আসি এবার”
উষ্মী আরাশকে বিদায় দিয়ে ইন্সিয়াকে বলতে লাগলো “কিরে এমন মুখ গোমড়া করে আছিস কেন? কি হয়েছে?”
ইন্সিয়া উষ্মীকে কিছু না বলে কোল্ড কফিতে স্ট্র নাড়ছে, উষ্মী ইন্সিয়ার কান্ডে কোনো রিয়েক্ট না করে সে মহা আনন্দে কোল্ড কফি খাচ্ছে।
ইন্সিয়া খাবো না বলে কফি একপাশে রেখে দেয়, পরক্ষনে কি ভেবে কফিটা হাতে নিয়ে দেখছে, উষ্মীর এবার খটকা লাগে। উষ্মী ইন্সিয়াকে বলে “কি রে না খেয়ে কি ভাবিস,”
ইন্সিয়া অন্যমনস্ক হয়ে বলে “আমি অভদ্র, শয়তানের ভাই নই মিস্টার আরাশ।”
উষ্মী ইন্সিয়ার কান্ড দেখে ফিক করে হেসে দেয়, ইন্সিয়ার ভাবনার ঘোর ভেঙ্গে যায় উষ্মীর হাসির শব্দে। ইন্সিয়া তথমত খেয়ে কোল্ড কফির স্ট্র মুখে দিয়ে খেতে লাগলো।
উষ্মী ইন্সিয়ার এমন কান্ডে মনে মনে হাসছে আর বলছে “ইন্সু মনে হচ্ছে তোর গায়ে প্রেমের হাওয়া লেগেছে, ইন্সু তুই তো এবার গেলি”
চলবে..