#রাখি_আগলে_তোমায়_অনুরাগে💕
#written_by_Liza
#১১তম_পর্ব এবং ১২ তম পর্ব
আজাদকে আটকে রাখার কারণ একটাই আরাশের বোনকে আজাদ মার্ডার করতে চেয়েছিলো।
কিন্তু আজাদ ভেবেছে আরাশ তাকে সেই অফিসের সম্পত্তি জন্য আটকে রেখেছে।
বর্তমান…. রাত এগারোটা
রাজুর ডাকে আরাশের ভাবনার ঘোর ভেঙ্গে যায়, রাজু ডাকছে “সাব (সাহেব) খাইতে ডাকে অরীন আপা”
আরাশ রাজুকে যেতে বলে উঠে দাড়ালো,রাজু আরাশের কথামত চলে গেলো। আরাশ পেনড্রাইভ ও কিছু প্রমাণ যোগাড় করে রেখেছে কালকের জন্য।
আরাশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা করার আইনের আওতায় এনে করা উচিৎ। একা নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়াটা ঠিক হবে না ভাবছে।
সব গোজগাজ করে আরাশ খেতে চলে গেলো।
খাওয়াদাওয়া শেষ করে এসে আরাশ কাকে যেনো মেইল করে বললো সকালে রেডি থাকতে।
সবাই যে যার মতো কাজ সেরে ঘুমিয়ে পড়ে, আরাশ বসে বসে বারান্দায় চাঁদ দেখছে আর ভাবছে “কি থেকে কি হয়ে গেলো। মা-বাবা না থাকার কারণে কত দুর্যোগ তাদের পার করতে হয়েছে আরাশ ভাবছে”
আরাশ এসে রাজুর পাশে শুয়ে পড়ে,এপাশ ওপাশ করছে কিন্তু ঘুম আসছে না।কাল আবার আরাশের ক্যাফে গিয়ে উকিলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে৷ উকিলকে সকল প্রমাণ ডকুমেন্টস আরাশ অগ্রীম দিয়ে দিবে,যাতে পরবর্তীতে আরাশের উপর এট্যাক আসলেও কোনো প্রমাণ যেনো হারিয়ে না যায়। আরাশ ভাবতে ভাবতে কবে যে ঘুমে তলিয়ে গেলো তার আয়ত্তা নেই
সকাল বেলা আরাশ ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে রেডি হচ্ছে,আর কাকে যেনো ফোনে বলছে “চারদিকে ঘেরাও দিয়ে ফেলো, যাতে পালাতে না পারে৷ সবাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থেকো,সব আপডেট আমাকে দিবে যা যা হচ্ছে সব”
আরাশ তড়িঘড়ি ফাইল হাতে নিয়ে যাবতীয় প্রমাণ নিয়ে বেরিয়ে পড়ে,ক্যাফে উকিল এসে অপেক্ষা করছে আরাশের জন্য ব্যক্তিগত কথা তারা ক্যাফেই সেরে নিবে এই কারণে।
আরাশ গাড়ি পার্ক করে ক্যাফের সামনে রাখে, উকিল হ্যান্ড প্রেস করে আরাশকে আসতে বলছে জলদি, আরাশ ঘড়ি পড়তে পড়তে উকিলের সামনে গিয়ে বসলো আর বললো “সো সরি ফর লেট,প্লিজ কিছু মনে করবেন না”
আরে সমস্যা নেই। সব এনেছেন তো মিঃ আরাশ? (উকিল)
ইয়াহ,চ্যাক করে দেখুন (আরাশ)
উকিল সকল প্রমাণ ভিডিও ক্লিপ চ্যাক করে আরাশকে বললো
“ভালো করেছেন আপনি আইন নিজের হাতে তুলে নেন নি। এবার বাকিটা আদালত বুঝবে। পুলিশ কন্সটেবলরা পৌছে গেছে চলুন আমরা বেরিয়ে পড়ি”
আরাশ ওয়েটারকে বলে দুইকাপ কফি অর্ডার করলো দ্যান কফি শেষ করে বিল পে করে রওনা হলো কারখানাতে,
কারখানায় পুলিশের সমাগম, আজাদ বসে আছে চেয়ারে হাত পা বাঁধা, আকুতি মিনতি করছে পুলিশের কাছে, আরাশ উকিল নিয়ে কারখানায় আসে। পুলিশ আরাশকে দেখা মাত্র হ্যান্ডশেক করে বলে
“এতক্ষণ আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম, একটু আগে আপনার উকিল বাবু ফোন দিয়ে বললো। সব অভিযোগ সঠিক।তাই তাকে হাতকড়া পরিয়ে রেখেছি। এখন নিয়ে যাবো”
ধন্যবাদ। তাকে নিয়ে যা যা প্রমাণ সব আমার লয়ারকে দেওয়া হয়েছে। আশা করি সে এই জীবনে আর বেরোতে পারবেনা কারাগার থেকে, (আরাশ)
আজাদকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলো। আরাশের বুক থেকে যেনো পাথর সরলো। আরাশ দুটো পুলিশ কন্সটেবলকে নিজের সাথে নিয়ে ম্যাসেজে আসা লোকেশন অনুযায়ী সেইখানে চলে গেলো। আশেপাশে সবাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মেইন কালপ্রিটকে ধরার জন্য। আরাশ সোজা বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ে, বাড়ির ভেতর এক আধবয়স্ক বুড়ো লোক পায়ের উপর পা দিয়ে চা খাচ্ছে আর পত্রিকা পড়ছে। আরাশকে দেখে আধবয়স্ক লোকটি দাড়িয়ে পড়ে,আরাশকে চিনতে না পারলেও আরাশ ঠিকই চিনেছে, ঐ আধবয়স্ক বুড়ো লোকটাই হলো আরাশের চাচা আজহার আহমেদ।
আরাশ কোনো কথা না বলে ইশারায় পুলিশ কন্সটেবলকে দেখিয়ে দেয় গ্রেফতার করার জন্য। অমনি পুলিশ কন্সটেবল আজহারকে হাতকড়া পরিয়ে টানতে টানতে বের করে বাড়ি থেকে।
আরাশ হাসছে আর বলছে
“এই শুনুন, চিনতে পারছেন আমায়?”
আজহার আহমেদ থমকে দাড়ায় আর পেছনে ফিরে দেখে, আরাশ তখন হাসছে জোরে জোরে। ভয়ংকর বিকট শব্দে। আজহার আহমেদকে আরাশ বলে উঠে “আমি সেই আরাশ, যার বাবা-মাকে সম্পত্তির লোভে মেরে আপনি পালিয়েছিলেন, চিনতে পারছেন কি আমায়?”
আজহার আহমেদ আরাশকে পা থেকে মাথা অব্দী পর্যবেক্ষণ করে চুপচাপ দাড়িয়ে আছে, আরাশ পুলিশকে বলে “নিয়ে যান এদের। এদের জন্য সম্পর্কের উপর বিশ্বাস উঠে গিয়েছে।”
আজহার আহমেদ ও আজাদকে একই দিনে গ্রেফতার করা হয়। আরাশ আজ ভীষণ খুশি সে তার বাবা-মায়ের খুনি ও বোনের শত্রুকে একসাথে পুলিশের হাতে তুলে দিতে পেরেছে।
বেলা দেড়টা আরাশ অফিসে গিয়ে সবাইকে এনাউন্স করে কথাটা বলে
“আজাদ পুলিশের আন্ডারে আছে,বর্তমানে কারাগারে”
সবাই কংগ্রাচুলেশনস জানায় আরাশকে। আরাশ সেই খুশি উপলক্ষে কাল বাড়িতে পার্টি থ্রো করে, একসাথে দুই ভাগ্নীর নামকরণ ও হবে সেদিন।অফিসের সবাইকে আরাশ ইনভাইট করে।
আরাশ সব কাজ সেরে ক্যাফে চলে যায়,ক্যাফের মালিককে ইনভাইট করার জন্য। আরাশ ক্যাফে এসে বসেছে,ক্যাফের মালিক দৌড়ে এসে বলে “সব কাজ হয়েছে সাক্সেস?”
আরাশ হাসোজ্জল মুখে বলে “পারফেক্ট, কাল তুমি ও তোমার ক্যাফের কর্মচারী সবাইকে নিয়ে আমাদের বাসায় চলে এসো।আমার আপুর মেয়েদের নামকরণ করা হবে সাথে ছোট খাটো পার্টি”
অবশ্যই আসবো আপনি আমার অনেক সাহায্য করছেন, এগুলা ভুলবো না (ক্যাফের মালিক)
আরাশ তার আপুকে ফোন দিয়ে বলে “আপু তোর বান্ধবী চেনাজানা যাদের বিয়েতে ইনভাইট করতে পারিস নি,তাদের ইনভাইট করিস। আমার ভাগ্নী দুইটার নাম রাখবো কাল সাথে পার্টি হবে”
আচ্ছা ঠিক আছে রে, কিন্তু আমায় যে রক্ত দিলো তাদের ও বলা উচিৎ।সেদিন কথা বলতে পারিনি,যদি তাঁরা আসতো পার্টিতে তাহলে আমিও একটু কথা বলতে পারতাম। (অরীন)
তোর এত ভাবা লাগবেনা। যাদের ইনভাইট দেওয়ার তাদের দে।বাকিগুলো আমি বুঝবো এই বলে আরাশ ফোন কেটে দেয়। অমনি আরাশ দেখে আরাশের সামনে ইন্সিয়া দাড়িয়ে আছে, আরাশ চোখমুছে ভালো করে দেখছে ভাবছে হয়তো মনের ভুল,কিন্তু না ইন্সিয়া সত্যি সত্যি দাড়িয়ে আছে আরাশের সামনে।
আরাশ ইন্সিয়াকে বসতে বলে সামনের চেয়ারে, ইন্সিয়া বসে পড়ে,আরাশ ওয়েটারকে ইশারা দিয়ে কফি দিতে বলে, ইন্সিয়াকে আরাশ জিজ্ঞেস করছে “হঠাৎ আপনি এইখানে কেন মিস ইন্সিয়া?”
ইন্সিয়া আমতা আমতা করে টাকার বান্ডিল টা আরাশের দিকে এগিয়ে দেয় আর বলে
“এইগুলা আমি রাখতে পারবো না, টাকা দিয়ে সব কেনা যায় না৷ তাই টাকার অহংকার দেখাবেন না৷ ভালো সৎ কাজে টাকাগুলো ব্যবহার করুন।নয়তো গরীব দুঃখীদের দান করুক।”
আরাশ কোনো কথা না বলে ইন্সিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে, ইন্সিয়া অনবরত কথা বলেই যাচ্ছে, চারদিকে নিরবতা বুঝতে পেরে ইন্সিয়া কথা বলা বন্ধ করে দেয়৷ আরাশ তখনো ইন্সিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে, ইন্সিয়ার খুব অস্বস্তি হচ্ছিলো আরাশের এমন চাহনিতে, আরাশ বুঝতে পেরে চোখ নামিয়ে নেয় আর বলে
“ঠিক আছে, টাকাগুলো ফেরত নিবো এক শর্তে, আপনাকে একটা প্রমিস করতে হবে মিস ইন্সিয়া।আমার জন্য নয় আমার আপুর জন্য।”
ইন্সিয়া চোখ বড় বড় করে আরাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করছে “কি আজব, এই লোকটা যেনো আঠার মতো লেগেছে পেছনে,যতই ক্লোজ করতে চাই।ততই নতুন নতুন এক্সকিউজ শুরু”
কি হলো বলুন, প্রমিস করুন (আরাশ)
ইন্সিয়া তথমত খেয়ে বলে, কি প্রমিস?এবং কেন?
আরাশ এবার বলতে থাকে,
“আমার আপু চেয়েছে আপনাদের সাথে দেখা করতে, একটু আগেও বলেছিলো ফোনে। তাই আমি ভাবছি কাল আমাদের ঘরে একটা ফাংশন আছে। আমার ভাগ্নীর নামকরণ অনুষ্টান হবে,আমি চাইছি কাল আপনারা দুই বান্ধবী আসবেন আমার আপুর সাথে দেখা করে যাবেন।”
ইন্সিয়া অতশত না ভেবে আরাশের আপুর জন্য রাজি হয়ে যায় আর মনে মনে ভাবে “এইতো শেষবার,আর তো এমন ভেজালে পড়বো না। তাইলে শেষবার কারো ইচ্ছা পুরণ করতে ক্ষতি কী?”
ওয়েটার এসে কফি দিয়ে যায়,ইন্সিয়া এবার কোনো সিনক্রিয়েট না করে কফি খেয়ে নেয়।আরাশ ইন্সিয়ার কান্ড দেখে বুঝতে পেরেছে কালকের অবস্তাটা৷ আরাশ মিট মিট করে হাসছে।
ইন্সিয়া যেই না উঠতে যাবে তখন’ই আরাশ বলে উঠে “বসুন,আমি আসছি,”
ইন্সিয়া একচোট বিরক্তি নিয়ে বসে পড়ে, আরাশ বাহির থেকে ফুলের তোড়া এনে ইন্সিয়াকে দেয় আর বলে,
“ফুলটা আমি কালকেই আপনাকে দিতাম।আপনি কাল অহেতুক সিনক্রিয়েট করলেন যার জন্য আমি উষ্মী আপুকে দিয়ে দিয়েছিলাম। যাক গে ভালোই হলো। আপনাকে একা দিলে তখন ব্যপারটা খারাপ দেখা যেতো। যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। তাই আজ আপনাকে দিলাম। নিন। আর হে সর্যি আমি কাল অনেকটা কথা শুনিয়েছি। কিছু মনে করবেন না। কাল আমি অনেকটা চিন্তিত ছিলাম ব্যক্তিগত কিছু কাজে। তাই আপনার সাথে রুড বিহেভিয়ার করে ফেলেছিলাম।সর্যি ফর দ্যাট।”
ইন্সিয়া কিছু না বলে ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে উঠে চলে যায়, আরাশ ইন্সিয়ার পিছু পিছু হেঁটে ইন্সিয়া কোথায় যাচ্ছে তা দেখছে।
রাস্তায় পাশে বুড়ো লোক কুজো হয়ে বসে আছে, ইন্সিয়া ফুলের তোড়া আর সাথে দুইশো টাকার একটা নোট ঐ বুড়ো লোককে দেয়, বুড়ো লোকটি ফুল আর টাকা পেয়ে খুশিতে ইন্সিয়ার মুখ টা ছুঁয়ে হাতে চুমু দেয়। ইন্সিয়া গাড়ি ঠিক করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
আরাশ সবটা দেখে হা হয়ে আছে। আরাশ ভেবেছিলো ইন্সিয়া অহংকারী, আরাশের ভাবনা মুহুর্তেই বদলে গেলো। আরাশ ইন্সিয়ার এমন কাজে বেশ খুশি হলো।
অন্যদিকে ইন্সিয়া গাড়িতে বসে বলতে লাগলো নিজে নিজে “ভাগ্যিস ফুলটা বাসায় নিয়ে যাই নি। নয়তো মা আজকেও দিতো ঠাস করে।উফফ কালকে যা লেগেছে না গালে,ফুলটা ঐ দাদাকে দেওয়াতে দাদা বেশ খুশি হলো।এদিকে ঐ লোকটার ফুল যদি রিজেক্ট করতাম তাহলে আবারো অপমান করতো। যাক বাবা বেঁচে গেলাম, সাপ ও মরলো, লাঠি ও ভাঙ্গলো না”
চলবে
#রাখি_আগলে_তোমায়_অনুরাগে💕
#written_by_Liza
#১২তম_পর্ব
ফুলটা ঐ দাদাকে দেওয়াতে দাদা বেশ খুশি হলো।এদিকে ঐ লোকটার ফুল যদি রিজেক্ট করতাম তাহলে আবারো অপমান করতো। যাক বাবা বেঁচে গেলাম, সাপ ও মরলো, লাঠি ও ভাঙ্গলো না”
ইন্সিয়া বাড়ি পৌছে গেলো,এসে তাঁর বাবাকে সবটা জানালো। ইন্সিয়ার এমন কথায় ভরসা না পেয়ে ইন্সিয়ার বান্ধবী উষ্মীর সাথে ফোনে তাঁর বাবা কথা বলে।
না আংকেল আমি ইন্সিয়ার সাথে কারো সম্পর্ক নেই। থাকলে সে আমাকে বলতো। আমাকে না বললেও আংকেল আপনাকে বলতো।সে কিছু লুকোই না আংকেল (উষ্মী)
আচ্ছা ঠিকাছে মা, তাহলে কাল গিয়ে দেখা করে এসো সেই মেয়েটির সাথে, সাথে করে মেয়েটির নাম্বার নিয়ে এসো। আমি মেয়েটির সাথে কথা বললেই বুঝবো সব। (ইন্সিয়ার আব্বু)
আচ্ছা আংকেল। রাখছি আসসালামু আলাইকুম (উষ্মী)
ইন্সিয়ার বাবা ইন্সিয়াকে অনুমতি দেয় যাওয়ার,ইন্সিয়া কোনো কথা না বলে ফ্রেস হতে চলে যায়।
আরাশের বাড়িতে সাজানো হচ্ছে অর্কিড দিয়ে। চারদিকে ব্লাক & পারপল কালার বেলুন দিয়ে সাজানো। আরাশ নিজের রুমে চিন্তামুক্ত শুয়ে আছে আর ভাবছে “আরাশের জীবনে আর কোনো শত্রু নেই, যে বা যারা ছিলো সবাই বন্ধী”
আরাশ গুনগুন করে গান করছে এবং তাঁর বন্ধু ইহানকে ফোন করে বলছে “কাল তাড়াতাড়ি আসিস বাসায়, অনেক কাজ বাকি বুঝলি?”
ঠিক আছে, কোনো সুন্দর রমনী যদি আসে তাহলে আমি আসতে পারি দোস্ত, (ইহান-ঠাট্টা করে)
সেটা কাল’ই দেখতে পারবি আসলে, রাখলাম। কাল মনে করে সকালে চলে আসবি (আরাশ)
আরাশ ফোন রেখে বিছানায় শুয়ে আছে। রাজু এসে আরাশের মাথায় হাত রেখে বলে “কি হয়ছে সাব (সাহেব)?মাথা বেদনা (ব্যাথা) করে?”
আরাশ রাজুর দিকে তাকিয়ে উঠে বসে আর বলে “তুই আমাকে সাহেব ডাকবি না। ভাইয়া ডাকবি।আমি তোর বড় ভাইয়ার মতো বুঝলি?”
রাজু মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে বলে “জ্বী আরাশ ভাইয়া”
রাত হয়ে গেলো…..
রাতের খাওয়াদাওয়া সেরে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে,
সকালে বাড়িতে মেহমানের সমাগম এক এক করে সবাই আসছে বাড়িতে।
আরাশ রাজুকে ডাক দিয়ে বলে “চল এখানে ভালো একটা স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিবো। আচ্ছা তুই পড়াশোনা করেছিস কতটুকু?”
পাঁচ কেলাস পড়ছি আর পড়তাম পারি নাই (রাজু)
ওহ আচ্ছা বলে আরাশ রাজুকে তৈরি করে ভর্তি করাতে নিয়ে গেলো স্কুলে, স্কুলে এসে রাজু মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে ক্লাস ফাইভে ভর্তি হলো।এখন থেকে রাজু বাকি পাঁচটা মানুষের মত জীবনযাপন করবে, পড়াশোনা করবে।
রাস্তায় আসার সময় রাজু আর আরাশ আইস্ক্রীমওয়ালা থেকে আইস্ক্রীম নিয়ে হাটতে হাটতে বাড়ির দিকে এগোচ্ছে আর বলছে
” মন দিয়ে পড়াশোনা করবি। কোনো ফাকিবাজি চলবে না ঠিকাছে। আর হ্যাঁ যা যাবতীয় দরকার লাগে আমায় বলবি।আমি এনে দিবো।পরশুদিন থেকে ক্লাস শুরু করবি রেগুলার”
আরাশ রাজুকে কথাগুলো বলছে আর আইস্ক্রীম খাচ্ছে। রাজু খেয়ে খেয়ে হাতে ব্যাগ নিয়ে বাড়ির দিকে এগোতে লাগলো।
সারা বাড়ি ফুল দিয়ে সাজানো শেষ।আরাশ বাড়িতে ঢোকামাত্র’ই দেখতে পায় ইহান মেহমানদারি করছে।
আরাশকে দেখে ইহান এসে সোজা আরাশের পেটে ঠাট্টা করে ঘুষি বসিয়ে দেয়। তা দেখে রাজু বলে উঠে “খবরদার আরাশ ভাইয়ের গায়ে হাত দিবেন না”
ইহান রাজুর কথা শুনে থ বনে গেলো। আরাশ ইশারা দিয়ে ইহানকে কিছু মনে করতে বারণ করে। ইহান হেসে বলে রাজুকে “কেন মারলে কি করবি?”
রাজু কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরাশ বলে রাজুকে “রাজু এটা আমার বন্ধু,এটা ও তোর ভাইয়া।ও আমাকে মারে নি মজা করেছে পাগল”
রাজু মুচকি হেসে ইহানকে বলে “সু সর্যি সু সর্যি”
ইহান রাজুর মুখে এমন সর্যি শুনে হেসে দেয়। রাজু লজ্জা পেয়ে হাসতে হাসতে ভেতরে চলে যায়। ইহান আরাশের কাঁধে হাত দিয়ে বলে
“আর যাই বল। তোর গায়ে আঁচ আসতে দেবে না সে।”
আরাশ বিস্তারিত সব ইহানকে বলে,কিভাবে রাজুকে পেয়েছে সব। ইহান সব শুনে আরাশকে বলে “তুই তার ঢাল হয়ে দাড়িয়েছিস, আল্লাহ তোর ঢাল হয়ে দাড়ানোর জন্য কেউকে না কেউকে রেখেছে।পড়াশোনা করা। বড় কর। সবাই তো আর খারাপ হয় না।”
আরাশ দীর্ঘশ্বাস ফেলে অস্ফুট স্বরে বলে “হুম”
ইহান আর আরাশ হলো দুই বন্ধু ছোটবেলা থেকেই। কেউ কেউকে ছাড়া যেনো চলেই না।
অরীন এসে মেহমান দারি করতে লাগলো। ইহান সবাইকে খাবার সার্ভ করে দিচ্ছে। আরাশ রুমে গিয়ে ফ্রেস হতে লাগলো।
হুজুর এসে বাচ্ছাদের নামকরণ করে। অরীনের টুইন দুটো বাচ্ছার নাম রাখা হয় আরশি ও আরিয়া।
সন্ধ্যা ছ’টা বাজছে, আরাশের অফিস থেকে সবাই আসতে লাগলো এক এক করে, আরাশের দুটো এসিস্ট্যান্ট আছে, একটা হলো সাইফ আরেকটা হলো রীধী। সাইফ অফিসে না আসলে রীধী আরাশের এসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করে।
রীধী আরাশকে লাইক করে, আরাশ সেটা বুঝতে পারলেও পাত্তা দেয় না। ইগ্নোর করে। আজ পার্টিতে রীধী এসেছে। আরাশকে দেখে রীধী আরাশের কাছে যায় আর বলে “ওহ স্যার, ইউ’র লুক সো হ্যান্ডসাম, আই কান’ট এক্সপ্লেইন”
আরাশ রীধীকে ছোট্ট একটা থ্যাংক্স দিয়ে এড়িয়ে যায়। রীধী রাগে ফুসতে ফুসতে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। অরীন সবটা খেয়াল করে। অরীনের বেশ রাগ হয়।অরীন মনে মনে বিড়বিড় করে বলছে “আমার ভাইয়ের পেছনে কি! তোকে আজ দেখাচ্ছি মজা”
অরীন গিয়ে ওয়েটারের হাত থেকে ড্রিংক্স নিয়ে সেখানে এক চামচ লাল মরিচ মিশিয়ে ওয়েটারকে দেখিয়ে দেয়, স্পেশালি রীধীকে দেওয়ার জন্য।
ওয়েটার কিছু বুঝতে না পেরে রীধীকে এসে ড্রিংক্স দিয়ে বলে
“ম্যাম এটা আপনার জন্য স্পেশাল পাঠিয়েছে”
রীধী খুশি হয়ে গদগদ করতে করতে ওয়েটার কে বলে “ওহ আরাশ স্যার পাঠিয়েছে? প্লিজ দিন”
রীধী কোনো কথা না বলে এক চুমুকে পুরো ড্রিংক্স ফিনিশ করে,অরীন দুর থেকে রীধীর কান্ড দেখে হাসতে লাগলো।
ঐদিকে ইন্সিয়া ও উষ্মী আরাশের দেওয়া এড্রেস অনুযায়ী বাড়িতে চলে আসে। অরীন ইন্সিয়াকে দেখে সামনে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো। পার্টিতে আসা লোকজন হা করে তাকিয়ে আছে ইন্সিয়া আর অরীনের দিকে। ইন্সিয়া মুহুর্তে ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলো অরীনের কান্ড দেখে।
অরীন ইন্সিয়া ও উষ্মীর হাত ধরে ভেতরে নিয়ে এলো আর বলতে লাগলো৷ “কখন থেকে অপেক্ষা করছিলাম তোমাদের দেখবো বলে৷ ভেবেছি আসবেনা। মনটা খারাপ ছিলো খুব।”
ইন্সিয়া অরীনের এমন ব্যবহারে থ বনে গেলো, ইন্সিয়া মনে মনে বলতে লাগলো “বোনের ব্যবহার কেমন আর ভাইয়ের ব্যবহার কেমন।এদের কেউ’ই ভাই বোন বলবে না। কোনো মিল নেই৷ বড় বোন কত অমায়িক।”
আরাশ ইহানের সাথে সাথে কথা বলছে আর ইন্সিয়াদের দিকে তাকিয়ে আছে। ইহান আরাশের দিকে তাকিয়ে বলে “কিরে সেই কখন থেকে কাকে যেনো দেখছিস। কই আমাকেও দেখা কি দেখছিস”
ইহানের কথায় আরাশের কাঁশি উঠে যায়। ইহান তাড়াতাড়ি আরাশকে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দেয় আর বলে “ধর পানি খা,কে জানে কাকে দেখে তোর এই অবস্তা”
ইন্সিয়া উষ্মী অরীন একসাথে বসে গল্প করছে, ইন্সিয়া অরীনের নাম্বার নিয়ে নেয় তাঁর বাবার কথানুযায়ী। অরীন ও ইন্সিয়ার নাম্বার নিয়ে রাখে, চেনাপরিচয়ের কারণে। উষ্মী ও ইন্সিয়া বাচ্ছা দুটোকে কোলে নিয়ে আদর করছে আর অরীনের সাথে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছে। মুহুর্তেই অরীন ইন্সিয়া উষ্মী ভালো ফ্রেন্ড হয়ে উঠে।
রীধী এসে উষ্মীর পাশে বসে আর বলে “তোমরা কারা,আরাশের কে হও?” (ব্যাঙ্গ স্বরে)
অরীন মৃদু হেসে বলে “আমার ফ্রেন্ড এরা হেহে,”
উষ্মী ইন্সিয়া একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুখ টিপে হাসছে। রীধী রেগেমেগে উঠে চলে যায়, রীধী যাওয়ার পর ইন্সিয়া কিছু অরীনকে জিজ্ঞেস করতে গেলেই অরীন বলে উঠে
“আর বলো না।এই মেয়েটা আমার ছোট ভাইয়ের পিছু পিছু ঘুরে সারাদিন। একদম বিরক্তিকর। নেহাৎ আরাশের এসিস্ট্যান্ট তাই কিছু বলিনি।”
ইন্সিয়া বিড় বিড় করে বলে “অরী আপু তোমার ভাই যেমন বলদ, তোমার ভাইয়ের এসিস্ট্যান্ট ও বলদ। সমান সমান”
অরীন ইন্সিয়ার দিকে প্রশ্নসূচকভাবে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে “কিছু বলেছো ইন্সিয়া?”
ইন্সিয়া দাঁতে পাটি বের করে হেসে বলে “না না আপু। কই কিছু না”
পার্টি চলতে লাগলো,সবাই এক এক করে কাপল ডান্স করতে লাগলো। অরীন ইন্সিয়া উষ্মী বসে বসে তা দেখছে। রীধী আরাশকে জোর করে ডান্স করার জন্য। আরাশ এড়িয়ে যেতে চাইলেই রীধী সকলের সামনে আরাশের হাত ধরে ফেলে। অনিচ্ছাসত্ত্বেও আরাশ রীধীকে নিয়ে সোলো বল ডান্স করে। অরীন ইন্সিয়া উষ্মীকে বলছে “দেখেছো কত ছ্যছড়া মেয়ে? কি করছে? কই মেয়ে তো তোমরা ও আছো। তোমরা তো এমন না”
ইন্সিয়া আবারো বিড়বিড় করে বলে “বলদের সাথে আপু মানুষের তুলনা হয় না”
অরীন ইন্সিয়ার কথা বুঝতে না পারলেও উষ্মী কথাটি শুনে হেসে দেয়।,আরাশ বুঝতে পেরেছে নিশ্চয় ইন্সিয়া আরাশকে দেখে কিছু একটা বলে ব্যাঙ্গ করছে
চলবে।