রোদ্দুরে মেঘের বর্ষন পর্ব-১৮

0
1115

#রোদ্দুরে_মেঘের_বর্ষন
#লেখিকা:#তানজিল_মীম
— পর্বঃ১৮

“ভেজালো শরীর নিয়ে চোখ গরম করে তাকিয়ে আছে রিয়াদ তানজুর দিকে!’আর তানজু রিয়াদের চাহনী দেখে তাড়াতাড়ি কল অফ করে আমতা আমতা করে রিয়াদের দিকে তাকিয়ে বললোঃ

—“বিশ্বাস করুন স্যার আমি ইচ্ছে করে কিছু করিনি,আসলে হঠাৎ করে পাইপের পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমি চেক করছিলাম কি হলো,তারপর হঠাৎই আবার পানি আসায় আমি ভিজে যাচ্ছিলাম তাই পাইপটাকে সরিয়ে ছিলাম,কিন্তু পাইপের পানি গিয়ে আপনার গায়ে পড়বে বুঝতে পারি নি,সরি স্যার…

“তানজুর কথা শুনে মুখের পানিগুলো থু দিয়ে বাহিরে ফেললো রিয়াদ!’রিয়াদের কাজে আরো ঘাবড়ে যায় তানজু,হাতের পাইপটাকে ছাঁদের রেলিং এর ওপর রেখে সে দৌড়ে চলে যেতে নেয় রিয়াদের দিকে!’তখন ঘটে আরেকটা ঘটনা!’ছাঁদ জুড়ে পানি থাকায় তানজু পায়ে সিলিপ কেটে সোজা গিয়ে পড়ে রিয়াদের গায়ের ওপর!’

“রিয়াদের গলা জড়িয়ে ধরে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে তানজু রিয়াদের চোখর দিকে!’আর রিয়াদ মুখ ভাড় করে তাকিয়ে আছে তানজুর দিকে!’দেখে বোঝাই যাচ্ছে সে অসম্ভবভাবে রেগে আছে তানজুর ওপর!’তানজু রিয়াদের চোখ দেখে ভয়ে ঢোক গিললো!’তারপর রিয়াদের গলা ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে বললোঃ

—“আই এক্সট্রিমলি সরি স্যার…

“তানজুর কথা শুনে রিয়াদ গম্ভীর কণ্ঠে বললোঃ

—“শুধু সরিতে চলতে না তানজু তোমাকে এর জন্য শাস্তি পেতে হবে…

“রিয়াদের কথায় শুকনো ঢোক গিললো তানজু!’তারপর রিয়াদের দিকে তাকিয়ে বললোঃ

—“কি শাস্তি স্যার…

—“তোমার শাস্তি হলো?’

“বলেই রিয়াদ এগিয়ে যেতে লাগলো তানজুর দিকে!’রিয়াদকে এগিয়ে আসতে দেখে ঘাবড়ে যায় তানজু!’তারপর পা টিপে পিছনের দিকে যেতে যেতে ঠোঁট কামড়ে আমতা আমতা করে বলেঃ

—“আপনি এগোচ্ছেন কেন স্যার..?’

—“কেন তোমার ভয় হচ্ছে নাকি…!

“রিয়াদের কথা শুনে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে তানজুঃ

—“ভ…য়…হ…বে কেন?

—“তাহলে ভয় হচ্ছে না তোমার..

“মাথা নাড়ায় তানজু!’তানজুকে মাথা নাড়াতে দেখে বলে উঠল রিয়াদঃ

—“ভয় যখন হচ্ছে না তাহলে কাঁপছো কেন?

—“দেখুন স্যার এটা একটা এক্সিডেন্ট জাস্ট,আর দেখুন আপনি একা তো ভিজে যান নি আমিও তো ভিজে গেছি,

—“তা তো দেখতেই পাচ্ছি….

—“দেখুন স্যার আপনি কিন্তু৷ এমনটা করতে পারেন না…

“বলতে বলতে ছাঁদের রেলিং এর সাথে লেগে যায় তানজু!’এদিকে রিয়াদ এগোতে এগোতে তানজুর অনেকটা কাছে চলে এসে বললোঃ

—“আমি কি পারি আর কি না পারি তা সম্পর্কে তোমার বিন্দুমাএ ধারনা আছে তানজু…?”

“রিয়াদের কথার শব্দে কেঁপে উঠলো তানজু সাথে রিয়াদ এতটা কাছে চলে আসায় তার নিঃশ্বাসও ভাড়ি হয়ে আসছে!’বুকের ভিতর ধুকপুকানি জোরে জোরে ছুুটছে তানজুর!’তানজু রিয়াদের চোখের দিকে তাকিয়ে ঘাবড়ানো কন্ঠে বললোঃ

—“ভুল করে হয়ে গেছে,সরি স্যার প্লিজ…

“তানজুর কথা শুনে রিয়াদ তানজুর আর একটু কাছে গিয়ে বলে উঠলঃ

—“এক্সিডেন্টলি হোক বা ভুল করে, ভুল যখন করেছো শাস্তি তোমায় পেতেই হবে তানজু!’

“এই বলে ঝুঁকে পড়ে রিয়াদ তানজুর দিকে!’সাথে সাথে ঘাবড়ে গিয়ে তানজু চোখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলে!’তানজুকে চোখ বন্ধ করতে দেখে রিয়াদ মুচকি হাসে তারপর অল্প কিছুক্ষন তানজুর চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে তার পাশে থাকা কলটাকে ফুল স্পিডে অন করে রেলিং এর ওপর তার হাতের পাশেই থাকা পানির পাইপটাকে হাতে নিয়ে তানজুর মাথার উপর ধরে!’সাথে সাথে পাইপ বেয়ে পানি পড়লো তানজুর মাথার ওপর….

“হঠাৎই মাথায় ঠান্ডা কিছু অনুভব হতেই চোখ খুলে তাকায় তানজু!’তানজু তাকাতেই রিয়াদ তানজুর মুখের ওপর পানির পাইপটাকে ধরে হেঁসে বলে উঠলঃ

—“এটাই তোমার শাস্তি তানজু…

“রিয়াদের কাজে আবারো চোখ বন্ধ করে ফেলে তানজু!’তারপর বলেঃ

—“আহ্ স্যার ভিজে যাচ্ছি তো..

“তানজুর কথা শুনে রিয়াদ পিছনে দিকে এগিয়ে এসে বলেঃ

—“ভেজার জন্যই তো দিচ্ছি…

“রিয়াদের কাজে অবাক তানজু!’তারপর চোখ খুলে রিয়াদের দিকে তাকিয়ে বলে সেঃ

—“ঠিক আছে স্যার,আমিও দেখে নিচ্ছি আপনাকে?’…

“এতটুকু বলে তানজু এগিয়ে যায় রিয়াদের দিকে!’
তানজুকে এগোতে দেখে রিয়াদও ছুট লাগায় পিছনে!’তারপর শুরু হয় পানির পাইপ নিয়ে দুজনের মধ্যে লাফালাফি!’পুরো ছাঁদ জুড়ে ছোটাছুটি করছে রিয়াদ তানজু,দুজনেই পানিতে ভিজে যাচ্ছে তাই অবস্থা!’কিন্তু সেদিকে তাদের কোনো হুস নেই তারা তো নিজেদের কাজে ব্যস্ত,পুরো ছাঁদ ভিজে একাকার হয়ে গেছে!’

” হঠাৎই তানজু পাইপটাকে রিয়াদের হাত থেকে নিয়ে রিয়াদের গায়ের ওপর ধরলো!’তারপর হেঁসে বলে উঠলঃ

—“কেমন স্যার,আমার গায়ে পানি দেওয়া না এখন বুঝুন কারো গায়ে ইচ্ছেকৃতভাবে পানি দিলে কেমন লাগে হুহ….

“এদিকে রিয়াদ তানজু তার চোখের ওপর পানি দেওয়ায় চোখ খুলে তাকাতে পারছে না সে!’তাই চোখ বন্ধ করেই সামনের দিকে এগোতে লাগলো রিয়াদ পায়ের কাছে পাইপ থাকায় পাইপের সাথে পা বেজে পড়ে যায় রিয়াদ সোজা তানজুর গায়ের ওপর!’ঘটনাটা হুট করে হয়ে যাওয়াতে তানজু তাল সামলাতে না পেরে পড়ে যায় নিচে আর ওর ওপর রিয়াদ!’ঘটনাচক্রে তানজুর হাতের পাইপ ছিঁটকে পড়ে যায় নিচে!’পাইপের পানি এসে পড়ছে সোজা তানজুর মুখের ওপর!’

“রিয়াদ চোখ খুলে তাকিয়ে আছে তানজুর চোখের দিকে,এক অন্যরকম কিছু একটা ফিল হচ্ছে তার!’আজকের মতো আনন্দ এর আগে কখনো করে নি সে!’একরাশ মুগ্ধতা,একরাশ ভালো লাগা আর এক অদ্ভুত অনুভূতি নিয়ে তাকিয়ে আছে রিয়াদ তানজুর মুখের দিকে!’পানিতে তানজুর মুখ ভিজে একাকার হয়ে গেছে!’রিয়াদ হাল্কা হাসলো তানজুর দিকে তাকিয়ে!’

অন্যদিকে…

“চোখে মুখে পানি পরায় চোখ খুলতে পারছে না তানজু,তারপরও বহুত কষ্টে চোখ খুলে তাকালো সে!’সামনেই রিয়াদকে তার দিকে তাকিয়ে হাসছে,,রিয়াদের হাসিতে চোখ আঁটকে যায় তানজুর!’তানজুও তাকিয়ে আছে রিয়াদের দিকে,হঠাৎই হুস আসলো রিয়াদ তানজু দুজনের তাড়াতাড়ি রিয়াদ উঠে পড়লো তানজুর ওপর থেকে!’তারপর বলে উঠল রিয়াদঃ

—“তাড়াতাড়ি চেঞ্জ করে নিও তানজু না হলে ঠান্ডা লেগে যাবে…

“বলেই রিয়াদ চলে যায়!’তানজু কিছুক্ষন রিয়াদের যাওয়ার পানে তাকিয়ে থেকে তাড়াতাড়ি কল অফ করে চলে যায় নিচে….

“পুরো ছাঁদ পানিতে ভিজে একাকার অবস্থা!’গাছের পাতারাও ভিজেছে খুব,,

______

“দুপুর ১২ঃ০০টা…..

“পুরো বাড়ি জুড়ে হুল্লোড় পড়ে গেলো বিয়ের!’কাল তাসলিমার গায়ের হলুদের অনুষ্ঠান শুরু তাই সেই সুবাদে পুরো বাড়ি সাজানোতে ব্যস্ত সবাই!’কখনো হিয়ামিনি তানজুকে ডাকছে আবার কখনো তানজু তাসলিমাকে ডাকছে!’তানজুর বাবাও ছোটাছুটিতে ব্যস্ত!’সবাই এটা ওটা করছে..

.

“সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে পুরো জিনিসটা দেখছে রিয়াদ!’বেশ লাগছে তার, এইভাবে সবাইকে একসাথে আনন্দ নিয়ে কাজ করতে দেখে আরো বেশি ভালো লাগছে রিয়াদের!’তারও ইচ্ছে করছে সবার সাথে মিলে একসাথে কাজ করতে কিন্তু সে জানে এরা তাকে না কোনোকিছু করতে বলবে আর না কিছু করতে দিবে,তাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে নিচের সবার কাজ দেখছে!’হঠাৎই রিয়াদের চোখ যায় তানজুর দিকে!’তানজু একটা টুলের ওপর দাঁড়িয়ে দরজার সামনে ফুল লাগাচ্ছে!’পরনে তাঁর ব্লাক চুড়িদার,চুলগুলো খোলা,কোমড়ে ওড়না বেঁধে নিয়েছে তানজু!’তানজুর পাশেই আদি ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,আদিকে মটেও ভালো লাগছে না রিয়াদের!’কিন্তু তারপরও তেমন কিছু করলো রিয়াদ!’

.

—“ওই তুই পারবি না পেত্নী,…(আদি)

কিছুটা বিস্মিত কন্ঠের তানজুর দিকে তাকিয়ে কথাটা বলে উঠল আদি!’আদির কথা শুনে তানজু আদির কাছ থেকে ফুল নিতে নিতে বললোঃ

—“তোকে কে বলছে আমি পারবো না, একশো বার পারবো…

—“এতো বেশি বুঝোস কেন তুই তারপর পড়ে গিয়ে কোমড় ভেঙে গেলে তোকে কে বিয়ে করবে শুনি…

—“সেটা নিয়ে তোকে না ভাবলেও চলবে…

—“হুম জানি শেষমেশ তো আমার কাছেই আসতে হবে…

—“তোর কাছে যামু কেন,লাগলে আমি রাস্তার পাগলরে বিয়া করমু তারপরও তোরে করুম না…

—“হ তোর জন্য রাস্তার পাগল রা সব বসে আছে…

—“বসে থাক বা শুয়ে তাতে কি আসে যায় আমি তো শুধু ভাবি….

—“কি ভাবোস…

—“এটাই তোকে কে বিয়ে করবে?’

“বলতে বলতে দরজার ওপর ফুল লাগিয়ে নিচে নেমে পড়ে তানজু!’তানজু নামতেই আদি একটু ভাব নিয়ে বললোঃ

—“আমি যাকে বিয়ে করবো দেখবি সে খুব সুন্দরী হবে,,সাথে আমায় খুব ভালো বাসবে…

—“হুম দেখিস আবার সুন্দরী খুঁজতে গিয়ে কয়লা না পাস…

—😒

“আদির চোখের চাহনী দেখে তানজু আদির মাথার ওপর হাত রেখে বললোঃ

—“দোয়া করি তুই যেন আমাদের পাশের বাড়ির ওই কুচুটে বুড়ির মতো সুন্দরী একটা বউ পাস…

“তানজুর কথা শুনে রাগী কন্ঠে বলে আদিঃ

—“তানজুর বাচ্চা তোকে তো আমি,আমার বউ যদি ওই ঝগড়ুটে বুড়ির মতো সুন্দরী হয় তাহলে তোর জামাইও যেন আমাদের ওই মন্টু মিয়ার পোলা ওই চিকনা-চাকনা মোকলেসের মতো হয়,

“আদির কথা শুনে তানজু ভাব নিয়ে বললোঃ

—“ওসব মোকলেস ফোকলেসের বেইল আছে নাকি আমার জামাই তো খুব সুন্দর আর ভদ্র হবে দেখিস…

—“হ একছের…

“এরই ভিতর ট্রাকে করে প্যান্ডেল সাজানোর লোকেরা হাজির!’ওদের দেখে আদি আর কিছু না বলে চলে যায় সেদিকে!”আর তানজুও চলে যায় অন্য কাজের দিকে!’

____

“রিয়াদ কিছুক্ষন আশেপাশে তাকিয়ে থেকে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে চলে যায় তার রুমের দিকে!’এরই মাঝে ফোন বাজলো তার উপরে ডিরেক্টরের নাম্বার দেখে রিয়াদ বেশই অবাক হয়, সে বুঝতে পেরেছে আরজেন্ট কোনো দরকার আছে,, তখন তো ছাঁদে বসে কিছু শুনতেই পারলো না রিয়াদ!’রিয়াদ ফোনটা তুলে চলে যায় তার রুমের ভিতরে!’তারপর কানের পাশে ফোন রেখে বলেঃ

—“হ্যালো….

“রিয়াদের কথা শুনে হতভম্ব কন্ঠে বলো ডিরেক্টরঃ

—“তোমায় কেন পাওয়া যাচ্ছে না রিয়াদ…

—“আই এক্সট্রিমলি সরি…

—“তুমি কোথায় আছো রিয়াদ,তুমি তো দেখছি সোশ্যাল মিডিয়ার একদমই বাহিরে আছো,তোমার ফেসবুক, ওয়াট’সআপ,ইন্সট্রাগ্রাম,টুইটার সবকিছুই তো বন্ধ প্রায়….

—“হ্যা ওই একটু,আসলে আমি একটু রাজশাহীর এদিকে একটা গ্রামে এসেছি আর এখানে নেটওয়ার্কে খুব প্রবলেম,কেন কি হয়েছে?’

—“ওহ কিন্তু তোমাকে যে কাল বা পরশুর ভিতর ঢাকা আসতে হবে রিয়াদ…?’

—“কেন?’

_____

“আজ তাসলিমার গায়ে হলুদ পুরো বাড়ি জুড়ে হুল্লোড় পড়ে গেছে মানুষের, সাথে বাচ্চাদের ছোটাছুটি তো আছেই!’পুরো বাড়ি কাঁপিয়ে লাউডে মিউজিক বাজছে!’বাড়ির সামনেই বড় প্যান্ডেল বেঁধে হলুদের স্টেজ তৈরি করা হয়েছে!’রাতের জোৎসা ভরা আলোতেই হলুদের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে তাসলিমার!’হলুদ রঙের শাড়ি গ্রামীণ পদ্ধতিতে পড়ানো হয়েছে তাসলিমাকে,সাথে হাতে,গলায়,মাথায় গাধা ফুল দিয়ে তৈরি জুয়েলারি পড়ানো হয়েছে তাকে,মুখে হাল্কার ভিতর জর্জিয়াস লুকিং এ সাজানো হয়েছে!’সবমিলিয়ে অসম্ভব সুন্দর লাগছে তাসলিমাকে!’তাসলিমাকে সাজিয়ে বসানো হয়েছে স্টেজে!’তার পাশেই বসে আছে হিয়ামিনি সেও শাড়ি পড়েছে আজকে!’হঠাৎই তাসলিমা বলে উঠল হিয়ামিনিকেঃ

—-“তানজু কই?’
!
!
!
!
!
!
!
!
!
!
#চলবে………

[ভুল-ত্রুটি ক্ষমার সাপেক্ষ!”আর গল্প কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবে কিন্তু!]

#TanjiL_Mim♥️