#রোদ্দুরে_মেঘের_বর্ষন❤️
#লেখিকা:#তানজিল_মীম❤️
— পর্বঃ২০
“রাতের জোৎসা ভরা আলোতে ছাঁদের ওপর নীরবে দাঁড়িয়ে আছে রিয়াদ!’কিছুটা মন খারাপ হচ্ছে তার!’অল্প কিছুদিনেই তানজুর পরিবারকে খুব ভালোবেসে ফেলেছে রিয়াদ!’তানজুর মায়ের মুখে “বাবা” ডাক শুনতে বেশ লাগে রিয়াদের!’সাথে তানজুর বাবার ব্যবহারও,না চাইতেও তানজুর গ্রাম সাথে তানজুর পরিবারকে ভালোবেসে ফেলেছে সে!’এই মুহূর্তে রিয়াদের মনে হচ্ছে এখানে না আসলেই হয়তো ভালো হতো!’বাড়ির নিচে সাজানো প্যান্টেলের বাতিগুলো এখনও জ্বল জ্বল করছে সাথে সবকিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে!’রিয়াদ সেদিকেই নীরবে তাকিয়ে অাছে!’
“আজকে রাতের আকাশের তাঁরাগুলোও জ্বল জ্বল করছে খুব!’রিয়াদ ছোট্ট শ্বাস ফেলে আকাশের দিকে তাকালো!’এমন সময় শাড়ির কুঁচি ধরেই ছাঁদে প্রবেশ করলো তানজু!’রিয়াদকে ছাঁদের কিনারায় নিরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কিছুটা অবাক হয় সে!’তারপর তেমন কিছু না ভেবে নিজেকে স্বাভাবিক করে এগিয়ে গেল তানজু রিয়াদের দিকে!’তানজু হেঁটে রিয়াদের কাছে এসে ছোট্ট শ্বাস ফেলে বলে উঠলঃ
—“আমায় ডেকেছিলেন স্যার?’
“হঠাৎই তানজুর আওয়াজ শুনে রিয়াদ তার ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসলো তারপর তানজুর দিকে ঘুরে বললোঃ
—“হুম কিছু কথা ছিল…
—“ঠিক আছে বলুন স্যার..
“তানজুুর কথা শুনে রিয়াদ কিছুক্ষন চুপ করে রইলো!’রিয়াদকে চুপ থাকতে দেখে তানজু তাকিয়ে রইলো রিয়াদের মুখের দিকে!’সে বেশ বুঝতে পেরেছে কিছু একটা হয়েছে রিয়াদের!’তানজু রিয়াদের সামনে দাঁড়িয়ে বললোঃ
—“কিছু কি হয়েছে স্যার আপনার চোখ মুখ ঠিক লাগছে না…
“তানজুর কথা শুনে রিয়াদ ছোট্ট শ্বাস ফেলে বলে উঠলঃ
—“না তেমন কিছু হয় নি…
—“ওহ আচ্ছা, তাহলে বলুন কি বলবেন আমায়?’
“এই বলে তানজু ছাঁদের রেলিং এর ওপর বসে পড়ে!’তানজুর কাজে রিয়াদ তানজুর হাত ধরে বলে উঠলঃ
—“এটা কি করছো পড়ে যাবে তো…
—“না স্যার পড়বো না আপনি বলুন?’
“তানজুর কথা শুনে রিয়াদও আর জোর করলো না তানজুর হাত ছেড়ে দিয়ে পিছন ঘুরে বলে উঠল সেঃ
—“আমাকে যেতে হবে তানজু….
“রিয়াদের কথা শুনে তানজু তেমন কোনো রিয়েকশন না দিয়ে বলে উঠলঃ
—“কোথায় যাবেন স্যার…?’
—“আমাকে কালই ঢাকা বেক করতে হবে তানজু….
“রিয়াদের কথা শুনে চমকে উঠলো তানজু ফট করে রেলিং থেকে নেমে রিয়াদের সামনে দাঁড়িয়ে বলে সেঃ
—“কেন স্যার আপনার এখানে ভালো লাগছে না…
“তানজুর প্রশ্ন শুনে রিয়াদ তানজুর দিকে তাকালো, তারপর বললোঃ
—“না তেমন কোনো ব্যাপার নয় তানজু,সত্যি বলতে আমার তোমার পরিবার আর তোমার গ্রাম দুটোই বেশ ভালো লেগেছে…
“রিয়াদের কথা শুনে কিছুটা হতাশা নিয়ে বললো তানজুঃ
—“তাহলে কেন যাবেন স্যার?আপুর বিয়ে শেষ হলে তো আমরা এমনি ফিরে যাবো….?’
—”ব্যাপারটা সেটা নয় তানজু?
—“তাহলে কোন কারনে আপনি যাবেন স্যার?’
—“আসলে কাল রাতে আমার নতুন মুভির ডিরেক্টর ফোন করেছিল…
“রিয়াদের পুরো কথা শেষ হওয়ার আগেই তানজু বলে বিষন্ন স্বরে বলে উঠলঃ
—“কিন্তু কেন স্যার আপনার নতুন মুভির শুটিংএর তো এখনো এক সপ্তাহের বেশি বাকি…
—“সেটা ছিল তানজু, বাই এনিচাঞ্জ কোনো কারনে সেটা ক্যান্সেল হয়ে গেছে আর শুটিং শুরু হবে পরশু থেকে তাই আমাকে কালই যেতে হবে?’
—“কিন্তু স্যার কাল তো আপুর বিয়ে?’…
—“ডোন্ট ওয়ারি তানজু, তোমাকে যেতে হবে না আমার সাথে এমনিতেও তোমার ছুটির ডেট এখনো শেষ হয় নি তাই তুমি থাকো, আমি আমার কিছু লোককে ফোন করে দিয়েছি ওরা আসবে কাল আমায় নিতে…
—“ওহ্
—“হ্যাঁ আর তুমি তোমার সময় মতো চলে যেও ডোন্ট ওয়ারি….
“রিয়াদের কথা শুনে তানজু কিছুু বললো না চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো সে!’তানজুর ভাবনার একদমই বাহিরে ছিল এই বিষয়টা সে ভাবে নি রিয়াদ তাকে এই কথা বলার জন্য ডাকবে!’রিয়াদ চলে যাবে ভেবে তারও খারাপ লাগছে!’
“তানজুকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রিয়াদ গিয়ে বসে পড়ে ছাঁদের ওপরে থাকা দোলনার ওপর!’আর তানজুর কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে রিয়াদের পাশে বসে বলে উঠলঃ
—“আপনি কাল কখন যাবেন স্যার…?’
“তানজুর কথা শুনে রিয়াদ ছোট্ট শ্বাস ফেলে নীরবে বললোঃ
—“এই ধরো কাল দুপুরের দিকে,বা তার আগে আমার লোকেরা চলে আসলেই আমি বেরিয়ে পড়বো…
—“ওহ,
—“হুম…
“তারপর নেমে আসলো দুজনের মধ্যেই কুটকুটে নীরবতা!’রিয়াদের মটেও ইচ্ছে করছে না এখান থেকে যেতে কিন্তু কিছু করারও তো নেই!’আর অন্যদিকে তানজু তো চাইলেও আটকাতে পারবে না রিয়াদকে!’একরাশ বিষন্ন নিয়ে বসে আছে দুজনেই কারো মুখেই কোনো কথা নেই!’
“কিছুক্ষন ওভাবে কাটিয়ে হঠাৎই রিয়াদ আকাশের দিকে তাকিয়ে বললোঃ
—“আজ তাঁরারা খুব জ্বলছে তাই না তানজু…
“রিয়াদের কথা শুনে তানজুও তাকায় আকাশের দিকে তারপর তাঁরাদের দিকে তাকিয়ে বললোঃ
—“হুম….
“তানজুর ‘হুম’ শুনে রিয়াদ আনমনেই বলে উঠলঃ
—“জানো তো তানজু আমার যখন বাবা মায়ের কথা খুব বেশি মনে পড়ে তখন আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি,আর সবচেয়ে কাছে যে তাঁরা দুটো থাকে সে দুটোর সাথে নীরবে কথা বলি….
“রিয়াদের কথা শুনে তানজু বুঝতে পেরেছে রিয়াদের মন খারাপ!’হয়তো এই জমাজমাট কোলাহল ছেড়ে একাকিত্বে যেতে ইচ্ছে করছে না তার!’
“তানজু বুঝতে পারছে না এই মুহূর্তে তার রিয়াদকে কি বলে সান্ত্বনা দেওয়া উচিত?’তানজু শুধু তাকিয়ে আছে রিয়াদের দিকে আর রিয়াদ আকাশে থাকা তাঁরাগুলোর দিকে..
_____
“সকাল_৬ঃ০০টা….
“ধবধবে সাদা আকাশের নিচে ছাঁদে ওপর দোলনায় ঘুমিয়ে আছে রিয়াদ – তানজু!’তানজু রিয়াদের কাঁধে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে আছে আর রিয়াদ তানজুর মাথার সাথে নিজের মাথা ঠেকিয়ে!’চারপাশে সকালের ফুড়ফুড়ে ঠান্ডা বাতাস বইছে!’কাল রাতে এখানে বসে থাকতে থাকতে কখন যে দুজন ঘুমিয়ে পড়েছে বুঝতে পারে নি দুজনের একজনও…
“হঠাৎই রিয়াদের ঘুম ভেঙে গেল হাল্কা নড়ে চড়ে উঠলো সে!’রিয়াদ নড়তেই তানজু রিয়াদের গলা জড়িয়ে ধরলো!’সাথে সাথে রিয়াদ তাকালো তানজুর দিকে,,তানজুর ঘুমন্ত ফেসের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো সে!’এরই মাঝে মনে পড়লো তার কাল রাতের কথা!’কাল রাতে হয়তো একটু বেশি ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিল রিয়াদ!’রিয়াদ তাকিয়ে আছে তানজুর ঘুমন্ত মুখের দিকে!’সূর্যের হাল্কা তাপ এসে পড়ছে তানজুর মুখে!’কাল রাতের মুখের সাজ এখনও যাই নি তানজুর!’রিয়াদ নীরবে মুচকি হাসলো!’তারপর তানজুর কপালের পাশে লেপ্টে থাকা চুলগুলো হাত দিয়ে সরিয়ে দিল সে!’এরই মধ্যে নড়েচড়ে উঠলো তানজু!’তানজুকে উঠতে দেখে রিয়াদ চোখ বন্ধ করে ফেললো!’
“তানজু চোখ খুলে সামনেই রিয়াদকে দেখে কিছুটা চমকে উঠলো পরক্ষনেই কাল রাতের কথা মনে পড়তেই নিজেকে সামলে নিলো সে!’ হঠাৎই তানজু বুঝতে পারলো সে রিয়াদকে জড়িয়ে ধরে আছে সাথে সাথে লাফ মেরে মাথা তুলে ফেললো তানজু!’তারপর আশেপাশে তাকিয়ে বললোঃ
—“ওহ নো কাল রাতে আমরা এখানেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম,
“তানজুর তাড়াতাড়ি দোলনার উপর বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো!’তারপর রিয়াদের দিকে তাকিয়ে বললোঃ
—“স্যার উঠুন,রুমে গিয়ে ঘুমান এখানে কেউ দেখে ফেললে প্রবলেম হয়ে যাবে…
“তানজুর কথা শুনে রিয়াদ কিছু বললো না চুপচাপ চোখ বন্ধ করে রইলো সে!’রিয়াদকে চুপ থাকতে দেখে তানজুর রিয়াদের একটু কাছে গিয়ে বললোঃ
—“স্যার শুনতে পারছেন আমার কথা…
“এবারের কথা শুনে হাল্কা নড়েচড়ে উঠলো রিয়াদ!’তারপর ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে সেঃ
—“কি হয়েছে তানজু?’
—“স্যার রুমে চলুন তাড়াতাড়ি…
“তানজুর এবারের কথা শুনে রিয়াদ চোখ খুলে ফেললো তারপর হাউসি দিতে দিতে বললোঃ
—“কি হয়েছে তানজু এত সকাল সকাল ডাকছো কেন?”
—“ডাকছি কেন আবার আপনি কোথায় ঘুমিয়ে আছেন স্যার…
—“কোথায়?’
—“ছাঁদে!’ তাড়াতাড়ি রুমে যান স্যার আমিও যাচ্ছি,আমাদের দুজনকে কেউ একসাথে দেখে নিলে প্রবলেম হতে পারে…
“বলেই চলে যায় তানজু!’রিয়াদ কিছুক্ষন তানজুর যাওয়ার পানে তাকিয়ে থেকে মুচকি হেঁসে সেও চললো তার রুমের দিকে….
____
“সারাদিন বিয়ের ব্যস্ততায় কাটছে সবার!’ঘড়ির কাঁটায় দুপুর বারোটা পেরিয়ে গেছে!’আর কিছুক্ষনের মধ্যেই তাসলিমার বিয়ে শুরু হবে!’বরপক্ষরা প্রায় চলে এসেছে!’
.
“আয়নার সামনে বসে আছে তাসলিমা আর ওর পাশেই তানজু হিয়ামিনি সাথে কিছু মেয়েরা তাকে সাজাতে ব্যস্ত!’আজকে তাসলিমাকে বেনারসি শাড়ি পড়িয়ে খুব সুন্দর করে কনের বেশে সাজানো হয়েছে!’এমন সময় ওদের সামনে আসলো তানজুর মা, কিছুটা হতভম্ব হয়ে বললেন উনিঃ
—“তোদের হলো বরপক্ষরা তো চলে আসলো বলে…
—“আরে মা টেনশন নিও না, দেখো আমাদের হয়ে গেছে আর আপুকে কি সুন্দর লাগছে..
“এই বলে তানজু ঘুরালো তাসলিমাকে তার মায়ের দিকে!’তাসলিমাকে দেখে বলে উঠলেন তানজুর মাঃ
—“মাশাল্লাহ!’
“তারপর তানজু আর হিয়ামিনির দিকে তাকিয়ে বললেন উনিঃ
—“আর তোরা তৈরি হবি কখন…!’
—“এই তো খালামনি এখনই হয়ে যাচ্ছি…(হিয়ামিনি)
—“হুম তাড়াতাড়ি কর ওনারা তো চলে আসলো বলে…
“বলেই বেরিয়ে গেলেন তানজুর মা!’তানজু তার মায়ের যাওয়ার পানে তাকিয়ে থেকেই বললোঃ
—“হুম মা তুমি টেনশন নিও না এখনই তৈরি হয়ে যাচ্ছি আমরা..
—“হুম তাড়াতাড়ি কর!’….
____
“সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছে তানজু,পরনে তার গোলাপি আর গোল্ডেন রঙের মিশ্রিত কালারের লেহেঙ্গা, চুলগুলো খোলা, দু’হাত ভর্তি গোল্ডেন আর গোলাপির সংমিশ্রনে রঙিন চুঁড়ি,গলায় ভাড়ি নেকলেস কানে ভাড়ি দুল,মুখে ভাড়ি মেকাপ,সব মিলিয়ে অসম্ভব সুন্দর লাগছে তাকে!’হাতে একটা ছোট্ট কুলা নিয়ে নিচে সে!’হঠাৎই তানজুর চোখ যায় রিয়াদের দিকে!’
“সিঁড়ির নিচেই দাড়িয়ে আছে রিয়াদ!’পরনে তার ওয়াইট শার্টের ওপর ওয়াইট কোট,ওয়াইট প্যান্ট চুলগুলো বরাবরের মতোই সুন্দর করে গোছালো,চোখ তার তানজুর দিকে…
“দুজনই চোখাচোখিভাবে তাকিয়ে আছে একে অপরের দিকে…
!
!
!
!
!
!
!
!
!
!
#চলবে………
[ভুল-ত্রুটি ক্ষমার সাপেক্ষ!”আর গল্প কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবে কিন্তু!’]
#TanjiL_Mim♥️