#রোদ্দুরে_মেঘের_বর্ষন❤️
#লেখিকা:#তানজিল_মীম❤️
— পর্বঃ২৫
“কিছুুটা মন খারাপ নিয়ে ট্রেনে বসে আছে তানজু,সকালেই সবাইকে বিদায় জানিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে সে!’
“পরনে তার ওয়াইট চুড়িদার,হাতে সাদা রঙের চুড়ি,খোলা চুল!’কালকে রিয়াদের কথা শুনেই আজ সকালে ট্রেনে উঠেছে সে!’ট্রেন চলছে তার আপন গতিতে,ট্রেনের জানালা দিয়ে আসছে বাতাস!’সবাইকে ছেড়ে আবার চলে যাচ্ছে তানজু,না জানি আবার কবে দেখা হবে সবার সাথে,আসার সময় সবাই কেঁদে ছিল তার জন্য!’ ছোট্ট একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো তানজু!’এক এক করে সব কিছুই সরে যাচ্ছে তানজুর সামনে থেকে গাছ পালা নদী-নালা পুকুর গ্রামীণ পরিবেশ সব পিছনে রেখে তানজু এগিয়ে চলছে তার আপন গন্তব্যে…
_____
“হাফ টাইম শুটিং করে বাড়ি ফিরছে রিয়াদ,বড্ড ক্লান্ত সে,ক্লান্ত শরীর নিয়েই গাড়ি থেকে বের হলো সে!’গাড়ি থেকে নেমে রিয়াদ চলে যায় তার বাড়ির ভিতর,ক্লান্ত শরীর নিয়ে এক পা এক পা করে এগিয়ে যাচ্ছে রিয়াদ তার রুমের উদ্দেশ্যে!’সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই নিচের সোফার দিকে চোখ যায় রিয়াদের, সোফার উপর তানজু একটা সাদা তুলতুলে বিড়ালের বাচ্চাকে কোলে নিয়ে আদর করছে ,রিয়াদ সেদিকে তাকিয়ে ছোট্ট একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো তারপর বললোঃ
—“আর কতভাবে দেখবো তোমায়?এখন বিড়ালকে আদর করছো হয়তো কিছুক্ষণ পর দেখবো ওটা তুমি নও রামু চাচা…
“ভেবেই মাথাটা একবার ঝাকিয়ে চলে যায় রিয়াদ তার রুমের দিকে!’
“এদিকে তানজু….
“রিয়াদকে উপরে যেতে দেখে কিছুটা অবাক হয় রিয়াদ কি তাকে দেখে নি, সত্যি হয়তো দেখে নি দেখলে কথা না বলে যেত না!’তানজু কিছু একটা ভেবে তার হাতে থাকা বিড়ালের বাচ্চাটাকে সোফার উপর রেখে চললো রিয়াদের রুমের উদ্দেশ্যে…
“নিজের রুমে ঢুকে ক্লান্ত শরীর নিয়েই বিছানায় শুয়ে পড়ে রিয়াদ,তারপর চোখ বন্ধ করে বললোঃ
—“আমি হয়তো দিনকে সত্যি সত্যি পাগল হয়ে যাচ্ছি…
“এমন সময় দরজায় নক করলো তানজু!’বলে উঠল সেঃ
—“আমি কি আসবো স্যার…?’
“দরজায় নক করার শব্দ পেয়ে চোখ খুললো রিয়াদ তারপর শুয়ে থেকেই দরজার দিকে তাকিয়ে তানজুকে দেখে বলে উঠলঃ
—“রোজ তো না বলেই রুমে আসো আজ হঠাৎ পারমিশন নিচ্ছো….
“রিয়াদের কথা শুনে তানজু ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়!’
—“সে তো সবসময় রিয়াদের পারমিশন নিয়েই রুমে ঢুকে আর রোজ এলো কোথা থেকে আমি তো আজই এলাম(মনে মনে)
“বিছানায় শুয়ে রিয়াদ এখনও তানজুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে উঠলঃ
—“কি হলো আসছো না কেনো?’
“উওরে তানজু কিছু না বলেই আস্তে আস্তে ঢুকে পড়ে রুমে!’তানজু রুমে ঢুকে দাঁড়িয়ে পড়ে বিছানার সামনেই, তানজু কিছু বলবে তার আগেই রিয়াদ বলে উঠলঃ
—“আচ্ছা তুমি বার বার হুট করে সামনে কেন চলে আসো বলো তো…
“রিয়াদের এবারের কথা তানজুর চোখ বেরিয়ে আসার উপক্রম!’তানজু কিছুটা কনফিউশান নিয়ে এদিক সেদিক তাকায়, কারন সে বুঝতে পারছে না রিয়াদ কথাগুলো তাকে বলছে নাকি অন্য কাউকে!’তানজুকে এদিক ওদিক তাকাতে দেখে বলে উঠল রিয়াদঃ
—“এতো এদিক ওদিক তাকাচ্ছো কেন তোমাকেই বলছি,আমাকে তো পুরো পাগল বানিয়ে ফেলছো,কখনো নাইকা হয়ে আসছো,কখনো ওয়েটার, কখনো শাড়ি পড়ে , আর কিছুক্ষন আগে তো রামু চাচা না জানি এখন কি হয়ে যাবে তুমি…
“রিয়াদের কথার আগামাথা কিছুই ঢুকছে না তানজুর মাথায়!’তানজু কিছুটা বিস্মিত কন্ঠ নিয়ে বললোঃ
—“কি সব বলছেন স্যার,আমি তো আজই রাজশাহী থেকে ঢাকায় আসলাম…
—“হইছে তোমায় আর বলতে হবে না!’
“এতটুকু বলে রিয়াদ শোয়া থেকে উঠে বসলো!’তারপর গায়ের শার্টের বোতম খুলতে খুলতে বললোঃ
—“আমি পুরো পাগল হয়ে যাচ্ছি তানজু…
“রিয়াদকে শার্টের বোতাম খুলতে দেখে তানজুর চোখ বড় বড় হয়ে যায়!’হাত দিয়ে চোখ মুখ চেপে ধরে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠল সেঃ
—“এসব কি করছেন স্যার?’
—“কি করছি…
—“আমার সামনে শার্টের বোতাম খুলছেন কেন?’
—“তাতে কি হয়েছে তুমি তো আর সত্যি সত্যি দেখছো না…
“রিয়াদের এবারের কথা শুনে তানজু চেঁচিয়ে বলে উঠলঃ
—“স্যার আপনার মাথা খারাপ হয়ে গেছে….
“বলেই চোখে হাত রেখেই দৌড়ে বেরিয়ে যায় তানজু!’তানজুর কাজে চমকে উঠলো রিয়াদ!’কিছু একটা ভেবে শার্টের বোতাম আটকিয়ে রুম থেকে বের হয় রিয়াদ!’
_____
“তানজু দৌড়ে চলে যায় সোজা রান্নাঘরে!’তারপর জোরে জোরে শ্বাস ফেলতে থাকে!”তার এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না রিয়াদ স্যারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে!’কিসব আবল তাবল বকলেন উনি!’তানজু জগ থেকে একগ্লাস পানি ঢেলে ঢকঢক করে পুরো পানিটা শেষ করতে লাগলো!’কিছুক্ষন আগে কি হলো সব যেন তার মাথার উপর দিয়ে গেল!’
“রান্না ঘরেই রামু চাচা দাঁড়িয়ে আছে তানজুকে হাঁপাতে দেখে বলে উঠলেন উনিঃ
—“কি হইলো তানজু হাঁপাচ্ছো কেন?’
“তানজু পুরো পানিটা তাড়াতাড়ি শেষ করে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে উঠলঃ
—“আর বইলো না রামু চাচা, রিয়াদ স্যারের মাথা মনে হয় খারাপ হয়ে গেছে…
“তানজুর কথা শুনে হেঁসে উঠলেন রামু চাচা তারপর বললেনঃ
—“কি সব বলো তানজু…
—“সত্যি বলছি রামু চাচা রিয়াদ স্যারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে কিসব সব উল্টো পাল্টা কথা বলছিল…
“এবারও হেঁসে উঠলেন রামু চাচা!’তারপর বললেন উনিঃ
—“তোমার মাথা ঠিক নাই তানজু…
—“আরে রামু চাচা বিশ্বাস করো আমি সত্যি বলছি,কিছুক্ষন আগে…
“তানজু আর কিছু বলবে তার আগেই রিয়াদ বলে উঠলঃ
—“রামু চাচা…
“সাথে সাথে তানজু রামু চাচা দুজনেই তাকালো রিয়াদের দিকে!’তানজুর তো রিয়াদকে দেখেই হাত পা কাঁপতে শুরু করলো!’রামু চাচা রিয়াদের কথা শুনে হাঁটতে হাঁটতে গেলেন রিয়াদের সামনে তারপর বললেনঃ
—“হুম বলো রিয়াদ বাবা…
—“আমার জন্য কড়া করে এক কাঁপ কফি বানিয়ে পাঠিয়ে দিও…
—“কফি তো শেষ হয়ে গেছে, তবে তুমি চিন্তা করো না আমি এহনই নিয়া আইতাছি….
“এতটুকু বলে রামুচাচা বেরিয়ে গেল রান্নাঘর থেকে!’রামু বের হতেই রিয়াদ একপলক তানজু দিকে তাকিয়ে এক পা এক পা করে এগিয়ে চললো তানজুর দিকে!’তার এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না তার সামনে সত্যি সত্যি তানজু দাঁড়িয়ে আছে!’উপরে বসে তানজুকে চিৎকার দিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখে রিয়াদ বুঝতে পারলো তার সামনে এতক্ষন সত্যি সত্যি তানজু দাঁড়িয়ে ছিল!’তারপর রান্না ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে তানজুর রামুর সাথে বলা কথা আর একটু কনফার্ম হলো!’
কিন্তু এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না তার…
“এদিকে রিয়াদকে এগোতে দেখে ঘাবড়ে যায় তানজু!’কিছু না বলেই পিছনে যেতে থাকে সে একটু ঘাবড়ে গেছে তানজু!’কিছুক্ষন আগের ব্যাপারটা এখনও যায় নি তার মাথা থেকে!’
“রিয়াদ সামনের দিক এগোতে এগোতে বললোঃ
—“তুমি সত্যি সত্যি তানজু…
“রিয়াদের কথা শুনে আবারো ভ্যাবাচেকা খায় তানজু কিছুটা বিষন্ন কন্ঠে বলে সেঃ
—“কিসব বলছেন স্যার আপনার বিশ্বাস হচ্ছে না আমি তানজু…
—“রাজশাহী থেকে কখন এলে?’
—“আপনি ভুলে গেলেন স্যার আপনি তো কালকে আমায় আসতে বললেন!’
“এতক্ষণ পর রিয়াদের মনে পড়লো তার কালকের কথা!’দাঁড়িয়ে পড়লো রিয়াদ, রিয়াদকে দাঁড়িয়ে পড়তে দেখে তানজুও দাঁড়িয়ে পড়লো!’তারপর বললোঃ
—“আপনার কি কিছু হয়েছে স্যার?’
“রিয়াদ তাকায় তানজুর চোখের দিকে, এক অদ্ভুত মায়া এসে গ্রাস করলো তাকে!’হঠাৎই কি হলো তাড়াতাড়ি চোখ নামিয়ে নিলো সে!’তারপর হতভম্ব কন্ঠে বলে উঠলঃ
—“কিছুক্ষন আগের সবকিছু ভুলে যাও তানজু…
“বলেই তাড়াতাড়ি রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে যায় রিয়াদ!’কিছুক্ষন আগে রুমে বসে কি করছিল সে ভাবতেই কেমন কেমন লাগছে রিয়াদের না জানি তাকে কি ভাবলো তানজু…
“অন্যদিকে রিয়াদকে বের হতেই তানজু বুকে হাত দিয়ে জোরে নিশ্বাস ফেললো!’এখনও বুক কাঁপছে তাঁর…
.
“সময় চলছিল সময়ের মতো,একই রুলসে চলছিল দিন!’রোজ রিয়াদের সাথে শুটিংয়ে যাওয়াসহ রিয়াদের এসিট্যার্স্টের দায়িত্ব খুব ভালোভাবেই পালন করছিল তানজু!’
“দেখতে দেখতে কেটে গেল পুরো ৫ মাস….
“এই পাঁচ মাসে রিয়াদ খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে নিজের অজান্তেই তানজুকে ভালোবেসে ফেলেছে সে!’তানজুর চোখ, মুখ, কেয়ারিং,হাঁটা চলা, ভালো লাগা,খারাপ লাগা, ব্যবহার সবকিছুই রিয়াদের খুব ভালো লাগে!’তানজুকে ছাড়া যেন এখন চলে না রিয়াদের!’কিন্তু কখনো মুখে বলার সাহস হয় নি রিয়াদের!’সে জানে না তানজু যদি তার মনের কথা জানে তাহলে কেমন রিয়েকশন দিবে!’….
______
“মুক্ত আকাশের নিচে সুন্দর সমুদ্রের কিনারায় শুটিং চলছে রিয়াদের!’আজই লাস্ট দিন শুটিং এর,,চেয়ারে বসে আছে রিয়াদ আর রিয়াদের সামনেই মেকআপ আর্টিস্ট তার মেকাপ করছে,রিয়াদের পাশের চেয়ারে বসে আছে তানজু!’রিয়াদের সোজাসুজি কয়েক কদম দূরেই রিয়াদের নাইকা জুথিকে মেকাপ করানো হচ্ছে!’সবাই বেশ এক্সাইটিং এ আছে আজ!’ পুরো শুটিং এ সবাই খুব মজা করেছে,হঠাৎই তানজুর ফোনটা বেজে উঠল উপরে আদির নাম দেখে তানজু হাল্কা হেঁসে ফোনটা হাতে নিয়ে একটু সাইডে চলে যায় তারপর কথা বলতে শুরু করলো আদির সাথে!’
“এরই মাঝে রিয়াদের মেকআপ আর্টিস্ট বলে উঠলঃ
—“ডান স্যার…
“আর্টিস্টের কথা শুনে নিজেকে আয়নায় দেখলো রিয়াদ!’তারপর মুচকি হেঁসে আস্তে বলে উঠলঃ
—“নট বেড”….
“তারপর রিয়াদ তাকায় তানজুর দিকে, তার থেকে বেশ খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে হেঁসে কথা বলছে তানজু,রিয়াদ কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলো তানজুর দিকে!’এমন সময় ডিরেক্টর বলে উঠলঃ
—-“আর ইউ রেডি রিয়াদ…
“হাল্কা চমকে উঠলো রিয়াদ তারপর বললোঃ
—“ইয়েস…
রিয়াদের কথা শুনে ডিরেক্টর দেখলো রিয়াদকে তারপর বললোঃ
—“পারফেক্ট চলো তবে…
“রিয়াদ আরেকবার তানজুর দিকে তাকিয়ে চললো ডিরেক্টরের সাথে..
“অন্যদিকে তানজু তাড়াতাড়ি ফোনটা কাটতে বলে উঠলঃ
—“এখন রাখি আদি,রিয়াদ স্যারের শুটিং শুরু হবে…
“তানজুর কথা শুনে আদিও বলে উঠলঃ
—“ওকে বাই…
—“হুম বাই বাই…
“বলেই ফোনটা কেটে দৌড়ে চলে আসলো তানজু শুটিং এর জায়গায়!’……
!
!
!
!
!
!
!
!
!
!
#চলবে………