#রোদ্দুরে_মেঘের_বর্ষন❤️
#লেখিকা:#তানজিল_মীম❤️
— পর্বঃ৩২
“সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছে তানজু সবার দৃষ্টি তার দিকে ভাড়ি লেহেঙ্গা সাথে ভাড়ি সাজে সবাই মুগ্ধ প্রায় তাকে দেখে!’
“সিঁড়ির নিচেই লাল গোল্ডেন মিশ্রিত গর্জিয়াস পাঞ্জাবি – পাজামা পড়ে,চুলগুলো রোজকারের মতো সুন্দর করে সাজিয়ে দাড়িয়ে আছে রিয়াদ!’অল্প সাজেই অসম্ভব সুন্দর লাগছে রিয়াদকে!’রিয়াদ-তানজুর দিকে আর তানজু রিয়াদের দিকে তাকিয়ে আছে মুগ্ধ নয়নে!’রিয়াদ আনমনেই তানজুকে দেখে মুচকি হাসলো!’এক পা এক পা করে নিচে নামছে তানজু,আর তার পিছনেই তার ফেমেলির মেম্বার সহ আরো অনেকেই!’তানজু শেষ নিচের সিঁড়ি পর্যন্ত নামতেই রিয়াদ তার হাত এগিয়ে দিল তানজুর দিকে!’তানজুও বেশি কিছু না ভেবে নিজের হাত এগিয়ে দিল রিয়াদের দিকে!’তারপর রিয়াদ তানজু একসাথে এগিয়ে গেল সামনে!’
“শুরুতেই এনগেজমেন্ট হবে রিয়াদ তানজুর তারপর বিয়ে!’ফুল দিয়ে সাজানো স্টেজের ওপর দাঁড়িয়ে আছে রিয়াদ তানজু!’পুরো স্টেজটাই সুন্দর করে সাজানো হয়েছে যার চারদিকেই লাইটিং করা,,তানজু পুরো জায়গাটা দেখেই মুগ্ধ!’এরই মাঝে দুটো মেয়ে আসলো ওদের সামনে তাদের দুজনের হাতেই রয়েছে এনগেজমেন্টের দুটো আংটি!’রিয়াদ তানজু দুজনেই তাকালো ওদের দিকে!’রিয়াদ একটা মেয়ের কাছ থেকে তানজুর জন্য আনা আংটিটা হাতে নিয়ে তাকালো তানজুর দিকে তারপর মুচকি হেঁসে পড়িয়ে দিল তানজুর হাতে!’এরপর তানজুও তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার কাছ থেকে রিয়াদের জন্য আনা আংটিটা হাতে পড়িয়ে দিল রিয়াদের!’ওদের কাজ সম্পন্ন হতেই আশে পাশের সবাই কড়ো তালির মাধ্যমে অভিনন্দন জানালো ওদের!’ওরাও মুচকি হাসলো দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে….
..
“এরপর স্টেজের মাঝখানেই সামনাসামনি বসে আছে রিয়াদ তানজু,তাদের সামনেই টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে বড় সাদা পর্দা!’আবছা আবছা পর্দার ভিতর দিয়েই দেখা যাচ্ছে তানজুকে!’মাথা নিচু করে রয়েছে তানজু,,রিয়াদ তানজুর দিকে একপলক তাকালো!’ভিতর থেকে তার খুশি খুুশি অনুভব হচ্ছে তার সাথে মনে হচ্ছে আজ যেন সে তার আপন কাউকে পাচ্ছে নিজের জন্য!”যদিও সামনে কি ঘটবে জানে না রিয়াদ তবে এই মুহূর্তে হয়তো তার থেকে বেশি খুশি কেউ নয়,মুচকি হাসলো রিয়াদ…
“আশেপাশে প্রেস মিডিয়ার লোকেরা তাদের বিয়ের ভিডিও শুট সহ হাজার হাজার ফটো তুলতে ব্যস্ত!’এরই মাঝে কাজী সাহেব এসে বিয়ে পড়াতে শুরু করলো রিয়াদ তানজুর!’হাল্কা হতাশা আর অদ্ভুত ফিলিংস হচ্ছে তানজুর!’তবে সেটা ভালো লাগা নাকি খারাপ লাগা ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না তানজু…
“এরই মধ্যে কাজী সাহেব কবুল বলতে বললো রিয়াদকে!’রিয়াদ একবার তানজুর দিকে তাকিয়ে সাথে তানজুর সাথে কাটানো মুহুর্তগুলোর কথা মনে করে বলে উঠল ‘কবুল’ রিয়াদের কথা শুনে কাজীসহ সবাই খুশি হলেন,এরপর কাজী চলে যায় তানজুর কাছে,কাজীকে সামনে বসতে দেখে তানজুর অস্থিরতা আরো বেড়ে গেল, সাথে বুকের ভিতর ধক ধক করছে,,এরই মধ্যে কাজী সাহেব তানজুকে কবুল বলতে বললো!’কবুলের কথা শুনে তানজুর ধুকপুকানি আরো বেড়ে গেল মুখ থেকে যেন তার কথাই বের হচ্ছে না,,
“এভাবে এক মিনিট যাওয়ার পর তানজু জোরে শ্বাস ফেলে বলে উঠল “কবুল”…
“তানজুর কবুল বলা শুনে রিয়াদ মনে মনে বললোঃ
—“আজ থেকে তুমি শুধু আমার প্রিয়সী,কখনো ছাড়ছি না তোমায়,,
.
“অবশেষে কবুল বলার মাধ্যমে খুব সুন্দর ভাবেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেল রিয়াদ তানজুর!’সবাই কংগ্রেজ জানালো রিয়াদ তানজুকে!’মোটামুটি সবাই খুশি বিষয়টায় তানজুর মা বাবা হিয়ামিনি আদিসহ আরো অনেকেই….
____
“নিজের রুমের সবকিছু লন্ডফন্ড করে ফেলেছে অনন্যা!’প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে তার সাথে রাগও হচ্ছে!’কিছুতেই সে নিজের রাগকে কন্ট্রোল করতে পারছে না!’রুমের মাঝখানে বসে জোরে চেঁচিয়ে উঠলো সে….
“মেয়ের চিল্লানী শুনে দৌড়ে আসলেন অনন্যার বাবা কিন্তু দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় ভিতরে ঢুকতে পারলেন না উনি,দরজার বাহিরে দাঁড়িয়েই দীর্ঘ শ্বাস ফেললেন অনন্যার বাবা!’মেয়ের কষ্ট দেখে তারও কষ্ট হচ্ছে কিন্তু কি করার?’যেটা হওয়ার সেটা তো হবেই,
“সেটা আপনি চান বা না চান!’তবে এক দিক দিয়ে ভালো হয়েছে একপক্ষ তো তাদের ভালোবাসার মানুষকে পেয়েছে!’রিয়াদ এসেছিল অনন্যা আর অনন্যার বাবাকে ইনভাইট করতে, অনন্যা বাবা চেয়েও যেতে পারেন নি রিয়াদের বিয়েতে যার একমাত্র কারণ হলো অনন্যা…
.
.
.
“রাত_১২ঃ০০টা বেজে ১২ মিনিট….
“ফুল দিয়ে সাজানো বিছানায় বসে আছে তানজু,,চোখে মুখে সাজ বিদ্যমান!’তানজু এখানে আসতে চায় নি কিন্তু না চাইতেও তাকে আসতে হয়েছে এখানে!’কারন রিয়াদের বন্ধুবান্ধবরা তাকে এখানে বসিয়ে রেখে চলে গেছে!’আর তানজু চেয়েও কিছু বলতে পারে নি তাদের!’তানজুর বাবা মা আত্মীয় স্বজনরা চলে গেছে অনেক আগেই,,রিয়াদ অবশ্য বলেছিল ওনাদের থাকতে কিন্তু ওনারা রাজি হয় নি আর যাই হোক এভাবে হুট করে মেয়ের শশুড় বাড়ি থাকা যায় নাকি…তাই ওনারা চলে গেল তানজুও আটকাই নি তাদের ওরা চলে যেতে কষ্ট পেয়েছে তানজু…
“সবকিছুই কেমন যেন ঘোলাটে আর খাপছাড়া লাগছে তানজুর!’হুট করে কি থেকে কি হয়ে গেল বুঝতেই পারলো না,,তানজুর এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না তার বেস্টফ্রেন্ড তার সাথে এমন করলো,তানিশার খোঁজ করেছিল তানজু কিন্তু পায় নি হয়তো অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার ভয়ে পালিয়ে গেছে,ছোট্ট একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো তানজু…
“এত সাজে এখন বিরক্ত লাগছে তার,সাথে রিয়াদের রুমের জন্য আরো অসস্তি হচ্ছে !’মাথায় বার বার ঘুরছে তানজুর আজকে রাতটা কি করে কাটাবে সে রিয়াদের রুমে!’অবশ্য তানজু ভেবে রেখেছে রিয়াদ রুমে আসলেই চলে যাবে সে তার রুমে…
“নানান ভাবনা এসে ভর করেছে তানজুর মাথায়!’এমন সময় দরজায় নক করার শব্দ পেয়ে নিজের ভাবনা থেকে বের হলো তানজু,সাথে এক অজানা ভয় এসে গ্রাস করলো তাকে…কি করবে না করবে কিছুই বুঝতে পারছে না তানজু,হুট করেই বিছানা ছেড়ে উঠে খাটের নিচে লুকিয়ে পড়লো সে..
“অন্যদিকে….
“রিয়াদ দরজা খুলে বিছানার উপর তানজুকে না দেখে কিছুটা অবাক হয়!’কারন তার বন্ধুবান্ধব বলেছিল তারা তানজুকে সেজেগুজিয়ে তার রুমে বসিয়ে রেখেছে আর দরজাও বাহির থেকে অফ ছিল তাহলে তানজু গেল কোথায়?আশেপাশে তাকাতেও কোথাও তানজুকে না দেখে কিছুটা বিব্রত হয় রিয়াদ ,রিয়াদ বেশি কিছু না ভেবে চলে যায় ওয়াশরুমের দিকে কিন্তু না সেখানেও নেই তানজু!’এবার একটু চিন্তিত হয় রিয়াদ,রিয়াদ আশেপাশে আরেকবার তাকিয়ে ডাকলো তানজুকে!’প্রথম ডাকে তানজু সাড়া না দিলেও দ্বিতীয় ডাকে খাটের নিচ থেকে বেরিয়ে হাত উপরে করে বললো সেঃ
—“এই তো স্যার আমি এখানে…
“এতক্ষণ পর তানজুর ভয়েস শুনে পিছন ফিরে তাকালো রিয়াদ!’তানজুকে খাটের নিচ থেকে বের হতে দেখে অবাক হয়ে বললো রিয়াদঃ
—“তুমি ওখানে কি করছো তানজু..?’
“এখন কি বলবে তানজু,নিজের মাথাটা একটু চুলকিয়ে বললো তানজুঃ
—“ইয়ে না মানে কিছু করছিলাম না স্যার আমার ফোনটা নিচে পড়ে গিয়েছিল তাই ওটা আনতে ছিলাম…
“তানজুর কথা শুনে রিয়াদ সন্দেহজনক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললোঃ
—“সত্যি বলছো,
—“জ্বী স্যার…
—“কিন্তু তোমার ফোন তো ওই টেবিলের উপরই আছে…
“সাথে সাথে ঠোঁটে কামড় দিল তানজু তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বললোঃ
—“কি স্যার আপনি এই সামান্য বিষয় নিয়ে গোয়েন্দা গিরি শুরু করে দিলেন…
—“না তেমন কোনো ব্যাপার না…
—“কি না স্যার কখন থেকে রুমে ঢুকে প্রশ্ন করে চলেছেন..
—“আরে তুমি রেগে যাচ্ছো কেন?’
—“রাগছি না স্যার জাস্ট বলছি..
—“আচ্ছা ঠিক আছে তোমায় আর কিছু বলতে হবে না….
“এরপর নেমে আসলো দুজনের মধ্যে কিছুক্ষনের নীরবতা!’নীরবতার দড়ি ছিন্ন করে বলে উঠল রিয়াদঃ
—“তুমি কি এই সাজেই থাকবে তানজু…
—“না স্যার,খুলবো তো একটা কথা বলি…
—“হুম বলো…
—“বলছিলাম কি আমি আমার রুমে চলে যাই,এমনিতেও এখন এখানে কেউ নেই…
“তানজুর কথা শুনে একটু একটু করে এগিয়ে যেতে লাগলো রিয়াদ তানজুর দিকে!’কিছুটা রাগ হচ্ছে তার,এই তানজু কি বুঝতে পারে না সে সত্যি সত্যি ভালোবাসে ওকে.,কিছুটা রাগী মুড নিয়ে এগিয়ে যেতে লাগলো রিয়াদ তানজুর দিকে!’
“অন্যদিকে তানজু হুট করে রিয়াদকে তার দিকে এগোতে দেখে কিছুটা ঘাবড়ে গেল!’হাল্কা পিছনে এগোতে এগোতে বললো সেঃ
—“কি হলো স্যার আমি কি ভুল কিছু বলে ফেললাম…
“উওরে রিয়াদ চুপ!’রিয়াদকে চুপ থাকতে দেখে তানজু কাঁপা কাঁপা গলায় বললোঃ
—“আপনি এগোচ্ছেন কেন স্যার?’
—“কেন তোমার ভয় হচ্ছে বুুঝি,
—“ভ.. য়…কে…ন… হবে…
—ভয় হচ্ছে না…
“মাথায় নাড়ায় তানজু,তানজুকে মাথা নাড়াতে দেখে রিয়াদ রহস্যময়ী হাসি দিয়ে বললোঃ
—“তুমি ভুলে যাচ্ছো কেন আজ আমাদের..
—“কি আমাদের..(কাঁপতে কাঁপতে)
—“আরে কাঁপছো কেন..?’
—“ক…ই…কাঁপছি না তো…
“বলতে বলতে দেয়ালের সাথে লেগে গেছে তানজু!’তানজুকে দেয়ালের সাথে লেগে যেতে দেখে রিয়াদ দেয়ালের দু’দিকে হাত দিল বর্তমানে রিয়াদের দু’হাতের মাঝখানে বন্দী তানজু!’রিয়াদের কাজে কিছুটা ঘাবড়ে গেল তানজু কিন্তু বাহিরে তা প্রকাশ করলো না!’রিয়াদ তানজুর চোখের দিকে তাকিয়ে কিছুটা রাগী কন্ঠে বললোঃ
—“আমার কিন্তু তোমার ওপর খুব রাগ আছি তানজু…?
“রিয়াদের কথা শুনে তানজু চোখ বড় বড় করে মিন মিন কন্ঠে বললোঃ
—“কেন স্যার,,আমি আবার কি করলাম?’
—“কি করলে মানে তোমার জন্যই তো আমার সব প্লানের মাঝখানে পানি পড়ে গেল কতকিছু ভেবে রেখেছিলাম সবকিছু লন্ডফন্ড করে দিলে তুমি,সেদিন রাতে যদি ওই পাগলামিগুলো না করতে তাহলে আজ এমনটা কিছুই হতো না…
“এতক্ষণ পর তানজু বুঝতে পারলো রিয়াদ কিসের কথা বলছে!’তানজু মাথা নিচু করে বললোঃ
—“সরি স্যার…
—“ইট’স ওকে তবে এইবার যদি কোনো গন্ডগোল করো আমি কিন্তু তোমায় ছাড়বো না তানজু,, আমাদের যেহেতু বিয়ে হয়ে গেছে তাই আজ থেকে তুমি আমার সাথে আমার রুমে থাকবে বুঝতে পারছো,,না জানি কখন কোথা থেকে কে কি দেখে বসবে তারপর তার ফটো তুলে নেটে ছেড়ে দিবে তারপর আবার আরেক ঝামেলা,,তাই এইবার কোনো গন্ডগোল হলে তোমার একদিন কি আমার একদিন তানজু…(চেঁচিয়ে)
“রিয়াদের চেঁচানো শুনে তানজু বুঝতে পেরেছে রিয়াদ অসম্ভবভাবে রেগে গেছে!’তানজু মিন মিন করে বললোঃ
—“ঠিক আছে স্যার কিন্তু….
—“আবার কিন্তু তোমায় তো আমি..
বলেই তানজুর দিকে হাল্কা ঝুঁকে গেল রিয়াদ!’রিয়াদ কাজ দেখে সাথে সাথে তানজু ভয় পেয়ে খিঁচে চোখ বন্ধ করে বললোঃ
—“না না স্যার কিছু না,কিছু না আপনি যা বলবেন বলবেন আমি তাই করবো…
.
“চোখ বন্ধ করেই তানজু রিয়াদের নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছে, তানজু বেশ বুঝতে পেরেছে রিয়াদ তার অনেকটা কাছে দাঁড়িয়ে আছে,বুকের স্পন্দন কয়েকশো বেগে চলছে তার!’সাথে নার্ভাস ফিল হচ্ছে তানজুর!’
“অন্যদিকে রিয়াদ তানজুর অবস্থা বুঝতে পেরে হাল্কা হাসলো অনেক কিছু বলতে মন চাচ্ছিল তার কিন্তু বললো না!’জোরে নিঃশ্বাস ফেলে সরে যায় তানজুর কাছ থেকে!’তারপর চলে যায় সে ওয়াশরুমের দিকে!’
“হঠাৎই নিঃশ্বাসে শব্দ না পেতেই আস্তে আস্তে চোখ খুললো তানজু!’আশেপাশে কাউকে না দেখে কিছুটা অবাক হয় পরক্ষণেই ওয়াশরুমের ভিতর থেকে পানির শব্দ পেতেই বুঝতে পারলো তানজু রিয়াদ ওয়াশরুমে গেছে!’সাথে সাথে বুকে হাত দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস ফেললো তানজু!’তারপর বললোঃ
—“বাবা গো আর কিছুক্ষন ওভাবে থাকলে আমার তো দমটাই বেরিয়ে যেত,কিন্তু হুট করে কি হলো রিয়াদ স্যারের এতটা রেগে গেলেন,অবশ্য রাগারি কথা তোকে বিয়ে করেছে কিনা…
”তানজু কিছু্ক্ষন চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে চলে যায় আয়নার সামনে!’মুখে আর চুলে লেপ্টে থাকা গাট্টি বস্তা সব খুলতে হবে তাঁকে!’আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজেই নিজেকে বললো তানজুঃ
—“বাহ্ বিয়ের সাজে কিন্তু তোকে খারাপ লাগছে না তানজু তাই না,ইউ ডোন্ট নো বিয়ের মেকাপে তোকে এত সুন্দর লাগবে এটা কিন্তু তুই আগে জানতিস না,অবশ্য জানবি কেমনে মানুষ যে কতকিছু দিয়ে মেকাপ করে সেটাই জানিস না,ওই বিউটিশিয়ান যে কতকিছু মাখলো তোর মুখে,, বাবা গো বাবা বসতে বসতে আমার কোমড় ধরে গিয়েছিল কিন্তু ওই মেকাপ আর্টিস্টের মেকাপ করা শেষ হলো না,কতো কিছু দিল মুখে ফাউন্ডেশন, আইলাইনার,মাসকারা আরো কতো কি নামও জানি না ঠিক মতো, আমার এই মাথায় যে কয়শো কিলিপ মারছে কে জানে এখন এগুলো খুলে দিবে কে?এগুলো খুলতে খুলতেই তো আজকের রাত কাভার হয়ে যাবে তারপর আমি ঘুমাবো কখন?’এতো কিছু দেওয়া লাগে,মানছি বিয়ে বলে কথা কিন্তু তাই বলে এতো কিলিপ কেউ লাগায়..
“এগুলো বলছে আর মাথার ঘোমটা সরিয়ে একটা একটা করে মাথার কিলিপ খুলছে তানজু!’অন্যদিকে আরেকজন ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে তানজুর কাজ আর কথা শুনে হাসতে হাসতে শেষ!’
“হঠাৎই কারো হাসির শব্দ শুনে তাকায় তানজু পিছনে……
!
!
!
!
!
!
!
!
!
!
#চলবে………