রৌদ্রর শহরে রুদ্রাণী পর্ব-৩৩+৩৪

0
908

#রৌদ্রর_শহরে_রুদ্রাণী
#পর্বঃ৩৩
#Saiyara_Hossain_Kayanat

“মিস আরু??”

“হুম বলুন। আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছিলেন কেন!!”

রৌদ্র আরশির মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ালো। আরশির দিকে তাকিয়ে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। আরশির আজ রৌদ্রর সাথে কোনো দ্বিধাবোধ ছাড়াই কথা বলছে। তা দেখে রৌদ্রর মনে কিছুটা আশার আলো খুঁজে পেল। রৌদ্র একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল-

“কাল বিকেল থেকে আপনি আমার।”

রৌদ্রর কথায় আরশি হকচকিয়ে উঠলো। হতভম্ব হয়ে ছোট ছোট চোখ করে জিজ্ঞেস করলো-

“কি বললেন! আমি ঠিক বুঝিনি আপনার কথা।”

রৌদ্র ডান হাতে সামনের চুল গুলো পেছনে ঢেলে দিলো। একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে বলল-

“মানে কাল বিকেলে আপনার কোনো প্ল্যান থাকলে সেটা ক্যান্সেল করে দিন৷ আপনি কাল বিকেলে শুধু আমার মানে আপনাকে কিছু সময়ের জন্য বাহিরে নিয়ে যাবো। এখন যান ঘুমিয়ে পরুন।”

আরশিকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই রৌদ্র চলে গেল। আরশি হতাশ হয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রুমে চলে আসলো। “এই লোক কখনো ঠিক হবে না। কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সব সময় নিজের মতো হুকুম দিয়েই চলে যায়। অসভ্য ডাক্তার।” আরশি বিছানায় বসার সাথে সাথে ফোনের মেসেজ টোন বেজে উঠলো। আরশি টেবিলের উপর থেকে ফোন হাতে নিয়ে ইনবক্স ওপেন করতেই রৌদ্রর মেসেজ স্কিনে ভেসে উঠলো।

“চিরকুট দেওয়া নেওয়াটা কমে গেছে। তবে ভাববেন না যে বন্ধ হয়ে গেছে অনুভূতির চিঠি লেখা। অপেক্ষা করুন সব একসাথে ফিরে দিব আপনাকে।”

আরশি মেসেজটা পড়ে আনমনেই হেসে ফেলল। ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা নিয়েই বিছানায় শুয়ে পরলো। ফোনটা সামনে নিয়ে আবারও মেসেজটি পড়ে মুচকি হেসে ফোন রেখে দিল।

—————————

নীলা আজ ভোর সকালেই আরশির আর কাসফিয়ার জন্য নাস্তা নিয়ে এসেছে। আরশি নীলাকে রুমে বসিয়ে রান্না ঘরে কাসফিয়ার সাথে খারাব রেডি করছে। হয়তো নীলাকে কাসফিয়া থেকে দূরে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করছে আরশি। নীলা রুমে কিছুক্ষন বসে থেকে বারান্দায় চলে আসলো। রেলিঙের উপর হাত রেখে আনমনে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। নিজেকে যতটা পারছে শক্ত রাখার চেষ্টা করছে। আদ্রাফ এখন অন্য কারও মনকে বার বার এই কথাটাই বোঝাচ্ছে। নির্বান শার্ট পরতে পরতে তাড়াহুড়ো করে বারান্দায় আসলো। শার্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে পাশের বারান্দায় তাকিয়ে ভ্রু কুচকে ফেলল। এটা তো তার পাশের বারান্দা নয়। মেয়েটার দিকে তাকানোর ফলে শার্টের বোতাম গুলোও উল্টাপাল্টা লাগিয়ে ফেলেছে নির্বান। সাথে সাথেই মাথায় ঝেকে বসলো একরাশ বিরক্তি৷ এই মুহূর্তে পাশের বারান্দায় আরশির জায়গায় অন্য কাউকে দেখে মেজাজ যেন কিছুটা বিগড়ে গেল। এমনিতেই দেরি হয়ে যাচ্ছে তার উপর আবার কাঙ্ক্ষিত মানুষের জায়গায় অন্য কেউ। সকাল থেকেই সব কিছু গুলিয়ে ফেলছে নির্বান। সব হয়েছে তার রোদ ভাইয়ের জন্য। সকালে তাকে ঘুম থেকে না তুলে দিয়েই হসপিটালে চলে গেল আর এইদিকে নির্বানের ভার্সিটি যাওয়ার জন্য খুব বেশির দেরি হয়ে গেছে। নির্বান তেজি কন্ঠে বললো-

“এই মেয়ে আপনি আমার পাশের বারান্দায় এসেছেন কেন?? আমার ক্রাশ ভাবি কোথায়?? পাশের বারান্দা কোথায় ডাকুন ওকে।”

নীলা হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। কিছুটা বিস্ময় নিয়ে নির্বানকে জিজ্ঞেস করলো-

“কি সব আবোলতাবোল বলছেন আপনি!! পাশের বারান্দাকে আবার ডাকবো কিভাবে? আর আপনার ক্রাশ কে আমি কিভাবে জানবো?? পাগল না-কি আপনি??”

নির্বান শার্টের কলার ঠিক করতে করতে তীক্ষ্ণ গলায় বললো-

“আপনার এতো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় আর ইচ্ছে কোনোটাই আমার নেই। আপনি এখানে এসেছেন কেন?? আমার পাশের বারান্দা কোথায়??”

নীলে এবার প্রচন্ডরকম ক্ষেপে গেল। রাগে তেঁতে উঠে ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলল-

“আপনি তো ভারি অসভ্য লোক। আমাদের বারান্দায় আমি দাঁড়িয়ে আছি তাতে আপনার কি?? আর একটা অপরিচিত মেয়ের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় সেই ভদ্রতাও দেখছি আপনি জানেন না। যত্তসব পাগল।”

নির্বান তাড়াহুড়ো করে শার্টের হাতা ভাজ করতে লাগলো। নীলার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে শক্ত গলায় বলল-

“আপনার সাথে ফালতু ঝগড়াঝাটি করার সময় নেই। তাড়াতাড়ি পাশের বারান্দাকে ডাকুন আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।”

নীলার রাগ জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠলো। রাগান্বিত কন্ঠে বললো-

“কি বার বার পাশের বারান্দা পাশের বারান্দা করছেন!! কাকে ডাকতে বলছেন আপনি?”

নির্বান বিরক্তি প্রকাশ করে আরশিকে নিজেই ডাকতে লাগলো-

“ধুর অকর্মা মেয়ে। পাশের বারান্দা… এই পাশের বারান্দা… তাড়াতাড়ি বারান্দায় আসো। আমি চলে যাচ্ছি।”

নীলা ধমকে বলল-

“আজব তো এভাবে ষাড়ের মতো চেচাচ্ছেন কেন??”

নির্বানের চেচামেচির শব্দ শুনে আরশি রান্নাঘর থেকে দৌড়ে বারান্দায় আসলো। নীলা আর নির্বানকে একে অপরের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে আরশি ভ্রু কুচকে ফেললো। নির্বানের দিকে তাকিয়ে বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করল-

“কি হয়েছে এভাবে ডাকছেন কেন নীড়??”

নির্বান আরশির দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বললো-

“আমি চলে যাচ্ছি তাই ভাবলাম তোমার সাথে দেখা করে যাই। কিন্তু তোমার বারান্দায় এসব ঝগড়াটে মেয়ে কিভাবে আসলো সেটাই বুঝতে পারছি না।”

“আপনি কিন্তু…”

নীলা রেগেমেগে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরশির নীলার হাত চেপে ধরে চোখের ইশারায় চুপ করিয়ে দিল। নির্বানের দিকে তাকিয়ে বলল-

“ওর নাম নীলা আমার ফ্রেন্ড। আপনি কি এখনই চলে যাবেন!!”

নির্বান নীলার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো। আবারও আরশির দিকে শান্ত চোখে তাকিয়ে বলল-

“হুম.. এখন ভার্সিটিতে যাবো তারপর বাসায়।”

“ওহহ আচ্ছা। চুল ঠিক করুন এলোমেলো হয়ে আছে। মানুষ পাগল ভাববে।”

নির্বান নিজের চুল ঠিক করে আবারও রাগান্বিত চোখে নীলার দিকে তাকালো। নীলার থেকে চোখ ফিরিয়ে আরশির দিকে চেয়ে একটা মুচকি হাসি দিল। তাড়াহুড়ো করে যেতে যেতে বলল-

“আচ্ছা পাশের বারান্দা আজ আসি। আবারও দেখা হবে। ভালো থেকো ক্রাশ ভাবি।”

নির্বার চলে গেল। আরশি আর নীলা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দুজনেই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নির্বানের যাওয়ার পথে। আরশি নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে বলল-

“বাদ দে নিলু উনি এমন-ই দূষ্টু আর অস্থির মানুষ। তুই রুমে চল।”

আরশির কথায় নীলা নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে পাশের বারান্দার দিকে একবার তাকিয়ে রুমে চলে আসলো। রুমে এসেই আরশিকে জিজ্ঞেস করলো-

“এই ছেলেটা কে আশু?? পাগলের মতো কি সব উদ্ভট কথাবার্তা বলছিল।”

আশু চুলে খোপা করতে করতে আয়নার দিয়ে তাকিয়ে নির্লিপ্ত কণ্ঠে বললো-

“ডক্টরের মামাতো ভাই। উনিই এই চিঠির আদান-প্রদান শুরু করেছিলেন। খুবই চঞ্চল স্বভাবের একজন মানুষ। সব সময় হাসিঠাট্টা করতেই থাকে। কিন্তু আজ হয়তো দেরি হয়েছে বলে মেজাজ চড়ে আছে। তুই কিছু মনে করিস না।”

নীলা আর কথা বাড়ালো না। তবে মনে মনে নির্বানকে ধুয়ে দিচ্ছে বকা দিয়ে। “হুটহাট করে একটা অচেনা মেয়ের সাথে কেউ এভাবে ব্যবহার করে না-কি!! আস্ত একটা বজ্জাত ছেলে। মাথায় বুদ্ধি বলতে কিছুই নেই!! অসহ্যকর লোক।”

————————

“আরু নিচে আসো আমি দাঁড়িয়ে আছি।”

আরশি ফোন রিসিভ করতেই অপরপাশ থেকে রৌদ্রর শীতল কন্ঠে তুমি সম্মোধন করা কথা গুলো কানে এসে তীরের মতো বিধলো। আরশি মনে হচ্ছে কোনো এক ঘোরের মধ্যে চলে গেছে। রৌদ্রর আরশির কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আবারও নরম গলায় বললো-

“আরু শুনতে পাচ্ছো আমাকে!! চুপ করে আছো কেন!! তাড়াতাড়ি নিচে নামো আমি অপেক্ষা করছি।”

আরশি জোড়ালো কন্ঠে বললো-

“হুম আসছি।”

আরশি ফোন কেটে দিয়ে বুকে হাত রেখে বড় বড় করে কয়েকবার শ্বাস নিলো। আয়নায় নিজেকে একবার দেখে নিয়ে রৌদ্রর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরলো। গাড়ির সামনে রৌদ্রকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে থমকে দাঁড়ালো আরশি। বড় বড় চোখ করে রৌদ্রর দিকে তাকিয়ে আছে। কালো শার্ট-প্যান্ট পরা, হাতে কালো ঘড়ি। রৌদ্র আজ সব কিছুই কালো রঙের পরেছে। রৌদ্র গাড়িতে হেলান দিয়ে বেশ ভাব নিয়ে ফোন টিপছে। এই মুহূর্তে কোনো নায়ক থেকে কম মনে হচ্ছে না রৌদ্রকে। আরশি নিজের ড্রেসের দিকে তাকিয়ে মনে মনে কাসফিয়া ইচ্ছে মতো বকতে লাগলো। কাসফিয়ার কথাতেই আজ কালো রঙের ড্রেস পরেছে আরশি। যদি জানতো আজকেও রৌদ্রর সাথে তার ড্রেসের রঙ মিলে যাবে তাহলে কখনো এই কালো জামা পরতো না। আরশি রৌদ্রর দিকে এগিয়ে গেল। রৌদ্র ফোনের স্ক্রিন থেকে দৃষ্টি তুলে আরশির দিকে তাকালো। মুহুর্তের মধ্যেই রৌদ্রর মুখের ভঙ্গি বদলে গেল। চোখ দুটোতে হানা দিক অসীম মুগ্ধতা। মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে আরশির দিকে। আজ মেয়েটাকে বড্ড বেশিই মোহনীয় লাগছে। রোদের তীর্যক রশ্মির মতো আরশির মুখে মায়া উপচে পরছে। রৌদ্র তার রুদ্রাণীর মায়ায় হারিয়ে ফেললো নিজের হুশ জ্ঞান। নিজের মধ্যে থেকেও যেন নিজেকে খুজে পাচ্ছে না। ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার রুদ্রাণীর দিকে। আরশি রৌদ্রকে একবার ডাক দিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে এবার খানিকটা জোরেই ডাক দিল-

“ডক্টর স্যার… আপনি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন না!!”

আরশির ডাকে রৌদ্রর ঘোর ভেঙে গেল। অপ্রস্তুত হয়ে আমতা-আমতা করে বলল-

“গাড়িয়ে উঠে বসো আরু।”

আরশি রৌদ্রর ব্যবহার দেখে অবাক হলো। কিন্তু তা প্রকাশ না করে চুপচাপ রৌদ্রর কথা মতো গাড়িতে উঠে বসে পরলো।

আরশি বার বার রৌদ্রর দিকে আড় চোখে তাকাচ্ছে। রৌদ্র আরশির তাকানোর কারন বুঝতে পেরে বলল-

“কিছু জিজ্ঞেস করতে চাইলে কোনো প্রকার দ্বিধাবোধ না করে জিজ্ঞেস করো আরু।”

আরশি নিম্ন স্বরে মিনমিনিয়ে বলল-

“আমরা কোথায় যাচ্ছি??”

“কিছুটা সময় অপেক্ষা করো তুমি নিজেই দেখতে পারবে কোথায় যাচ্ছি।”

আরশি নিরাশাজনক দৃষ্টিতে রৌদ্রর দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিল। মুখ গোমড়া করে জানালা দিয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে আরশি। রৌদ্র আরশির দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে গাড়ি চালানোয় মনোযোগ দিল। প্রায় আধঘন্টা পর গাড়ি ব্রেক কষলো। আরশি জিজ্ঞাসু চোখে রৌদ্রর দিকে তাকাতেই রৌদ্র বলল-

“এসে পরেছি। এখন গাড়ি থেকে নেমে দেখতে পারো কোথায় নিয়ে এসেছি তোমাকে।”

আরশি চুপচাপ গাড়ি থেকে নেমে গেল। চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিয়েই আরশির মুখে মুচকি হাসি ফুটে উঠলো। উৎসুক কন্ঠে বলল-

“আগে বললেই তো হতো আপনি আমাকে এই ব্রিজে নিয়ে আসবেন। তাহলেই তো আমাকে আর এতো ভাবতে হতো না।”

রৌদ্র আরশির কাছে এসে বলল-

“বলে দিলে কি আর সারপ্রাইজ থাকতো না-কি!!”

আরশি সরু চোখে রৌদ্রর দিকে এক ঝলক তাকিয়ে ব্রিজের দিকে এগিয়ে গেল। রৌদ্র আরশির পিছু পিছু যাচ্ছে। আরশিকে আজ একটু বেশিই হাসিখুশি লাগছে তার কাছে। আরশি ব্রিজের উপর এসে দাঁড়িয়ে সামনের দিকে দৃষ্টি দিয়ে শান্ত গলায় বলল-

“প্রথম দিন এখানে নিয়ে এসেছিলেন তখন আমার সকল মন খারাপ সাক্ষী ছিল এই জায়গায়। কিন্তু এবার আর কোনো মন খারাপ নেই। আচ্ছা আজ হঠাৎ করে এখানে নিয়ে এসেছেন কেন??”

রৌদ্র কিছু বলল না। চুপচাপ আরশির পাশে দাঁড়িয়ে আছে। একটু পর পর আরশির দিকে আড় চোখে তাকাচ্ছে। আরশি রৌদ্রকে বার বার আড় চোখে তাকাতে দেখে খানিকটা ভাব নিয়ে বলল-

“কিছু জিজ্ঞেস করতে চাইলে কোনো প্রকার দ্বিধাবোধ না করে জিজ্ঞেস করো রোদ।”

রৌদ্র আরশির কথা শুনে চমকে আরশির দিকে বড় বড় চোখে তাকালো। রৌদ্রর চাহনি দেখে আরশি খিলখিল করে হেসে দিল। আজ আরশির সকল অস্বস্তিবোধ যেন রৌদ্রর উপর এসে হামলে পড়েছে। রৌদ্র নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে আরশির হাসির দিকে তাকিয়ে আছে। “মেয়েটাকে এই হাস্যজ্বল মুখেই বেশ মানায়। ইশশ.. কেন যে এই মেয়েটা সব সময় হাসে না!! এই হাসির জন্য আমি সব কিছু করতে রাজি। নিজের সব কিছুর বিনিময়ে হলেও এই হাসি দেখতে চাই।” আরশির হাসির মাঝে রৌদ্র শান্ত গলায় বললো-

“আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই আরু।”

আরশি হাসি থামিয়ে রৌদ্রর দিকে চেয়ে বলল-

“হুম বলুন।”

“একটু দাঁড়াও আমি আসছি।”

রৌদ্র দৌড়ে গাড়ির দিকে চলে গেল আরশি ভ্রু কুচকে রৌদ্রর দিকে তাকিয়ে আছে। আরশি বুঝতে পারছে না রৌদ্র কি করতে চাইছে। মনে মনে নানানরকম চিন্তা ভাবনা করছে রৌদ্র এমন অদ্ভুত আচরণের জন্য। রৌদ্র দু এক মিনিটের মধ্যেই আরশির দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো।

চলবে….

#রৌদ্রর_শহরে_রুদ্রাণী
#পর্বঃ৩৪(It’s Love)
#Saiyara_Hossain_Kayanat

“ভালোবাসি আরু”

আচমকা রৌদ্র আরশির কাছে এসে হাটু গেড়ে বসেই এই অপ্রত্যাশিত কথাটা বলে ফেলল। পেছন থেকে একটা কাচের জার আরশির সামনে এনে ধরলো। আরশি অবাক দৃষ্টিতে রৌদ্রর হাতের কাচের জারটার দিকে তাকিয়ে আছে। পুরো কাচের জার ভর্তি রঙিন চিরকুট। রৌদ্র নানান রংবেরঙের কাগজে চিরকুট লিখে মুচড়ে গোলাকার করে পুরো জার ভরেছে। রৌদ্রর চোখে মুখে হাল্কা লজ্জার আভা। শীতল চোখে চেয়ে নরম গলায় আবারও বলে উঠলো রৌদ্র-

“আমি তোমাকে ভালোবাসি রুদ্রাণী। কতটা ভালোবাসি তা প্রকাশ করতে পারবো না। আর প্রকাশ করতেও চাই না। আমি চাই আমার ভালোবাসা তোমাকে অনুভব করাতে। কতটা ভালোবাসি জানি না। কিন্তু আমার ভালোবাসার পরিমাণ কখনো কোনো শব্দে ব্যাখ্যা করতে পারবো না। তবে এই রঙিন চিরকুট গুলোর মতো তোমার সকল অনুভূতি গুলোকে রাঙিয়ে দিতে চাই।”

রৌদ্র আরশির হাতে রঙিন চিরকুটে ভর্তি কাচের জার ধরিয়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। সাথে সাথেই আরশি মুখে একরাশ লজ্জা এসে হানা দিন। লজ্জায় মাথা নুয়ে ফেলল। স্থির চোখে তাকিয়ে আছে হাতের রঙিন চিরকুট গুলোর দিকে। রৌদ্র আরশির দিকে এক নজর তাকিয়ে পাশ ঘুরে দাঁড়ালো। পুরনো জর্জরিত হয়ে উঠা ব্রিজের রেলিঙের উপর আলতো করে হাত রাখলো। ছোট একটা শ্বাস ফেলে শীতল চোখে দূরের আকাশে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো। সহজ গলায় বলল-

“তোমাকে কিছু বলতে হবে না আরু। আমি তোমার কাছ থেকে কোনো উত্তর চাইনা। তাই এসব নিয়ে নিজের উপর কোনো প্রকার চাপ সৃষ্টি করো না। তুমি স্বাভাবিক ভাবেই থাকতে পারো। আর হ্যাঁ এখন থেকে এসবের প্রতি অভ্যস্ত হয়ে যাও। অবশ্য অভ্যস্ত না হয়ে প্রতিবার আমার কথায় এভাবে লজ্জায় নুয়ে পরলে আরও বেশিই ভালো হবে। বাসে তোমাকে লজ্জায় অস্থির হতে দেখেই আমার মাথা আর মন দুটোই এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে তোমাকে যতবারই লজ্জায় নুয়ে পরতে দেখি ততবারই তোমার ভালোবাসায় নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করি। আমার সামনে যতবার তোমার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে নুয়ে পরবে ঠিক ততবার আমার মনে তোমার প্রতি ভালোবাসা নতুন করে জন্ম নিবে।”

রৌদ্রর কথায় আরশি হকচকিয়ে উঠলো। বিস্ফোরিত চোখে রৌদ্রর দিকে তাকালো। রৌদ্রর দৃষ্টি এখনো দূর আকাশেই স্থির। কপালের চুল গুলো বাতাস বার বার চোখে সামনে এসে পরছে। দুই হাত আড়াআড়ি ভাবে ভাজ করে রেখেছে। রৌদ্রর ফর্সা ত্বকে যেন কালো শার্টটা খুব বেশিই মানিয়েছে। আরশি চোখ নামিয়ে ফেলল। রৌদ্রর শীতল কন্ঠে এসব কথা শুনে আরশিকে আরও দ্বিগুণ পরিমাণ লজ্জা আঁকড়ে ধরেছে। নিচের দিকে তাকিয়ে ঘনঘন চোখের পলক ফেলছে। আরশি নিজেকে সামলানোর জন্য বড়বড় করে কয়েকবার শ্বাস নিল। ধীর পায়ে রৌদ্রর পাশে যেয়ে দাঁড়ালো। ব্রিজের মোটা ইঁট সিমেন্টের তৈরি রেলিঙের এক পাশে কাচের জারটা রেখে দিল। দু হাত এক করে অনবরত হাত কচলাতে লাগলো। রৌদ্র আরশির হাতের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বলল-

“হাত কচলানোর জন্যই জারটা রাখতে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছো বুঝি!!”

আরছি চমকে রৌদ্রর দিকে তাকালো। মুখে দূষ্টু হাসি রেখে আবারও বলল-

“সমস্যা নেই। অস্থিরতায় তোমার হাত কচলানো দেখলেও আমি ফিদা হয়ে যাই। তবে একটা রিকুয়েষ্ট একটু আস্তে যত্ন করে হাত কচলিও নাহলে হাতের অবস্থা নাজেহাল হয়ে যাবে।”

কথা গুলো বলে রৌদ্র শব্দ করেই হেসে দিল। আরশি হাত কচলানো বন্ধ রৌদ্রর হাসি দেখতে ব্যস্ত হয়ে পরলো। রৌদ্রর দিকে শান্ত চোখে দৃষ্টি দিতেই আনমনে আরশির ঠোঁটের কোণে একটা মুচকি হাসি ফুটে উঠলো। কিছুটা সময় পর রৌদ্র আবারও চুপ হয়ে গেল। সামনে দিকে তাকিয়ে আছে শান্ত চোখে। আরশিও চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে রৌদ্র পাশে। দুজনের মধ্যেই নিরবতা বিরাজমান। কারও মুখে কোনো কথা নেই। রৌদ্র আরশির দিকে তাকালো। আরশির খোলা চুল গুলো মৃদু বাতাসে একটু পর পর উড়িয়ে দিচ্ছে। চোখে পাপড়ি গুলো ঘনঘন পলক ফেলছে। রৌদ্র ঘোরলাগা দৃষ্টিতে কিছুক্ষন আরশির দিকে তাকিয়ে থাকার পর রেলিঙের উপর রাখা আরশির হাতের দিকে তাকালো। এই মুহূর্তে আরশির হাত খুব শক্ত করে ধরতে ইচ্ছে করছে কিন্তু এক ঝাঁক অস্বস্তি এসে রৌদ্রর ইচ্ছেকে চাপা দিয়ে দিচ্ছে। বার বার হাতের কাছে হাত নিয়েও আবার দূর সরিয়ে নিচ্ছে। আরশির হাত ধরতে চেয়েও সাহস পাচ্ছে। আরশি আড় চোখে রৌদ্রর এমন কাজ দেখে অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে ফেললো। রৌদ্রর চোখের আড়ালেই ঠোঁট চেপে হাসতে লাগলো। কিছুক্ষন আগেই বিনা দ্বিধায় কত কথা বলে দিল আর এখন সেই মানুষটাই হাত ধরতে লজ্জা পাচ্ছে। লোকটা বড্ড বেশিই অদ্ভুত। আরশি নিজের ভাবনায় রৌদ্রকে নিয়ে নানানরকম জল্পনাকল্পনা করে মনে মনেই হাসছে। ভাবনার মাঝে হঠাৎই আরশির কানে ভেসে আসলো এক শান্ত শীতল সুরেলা কন্ঠ। আরশি কৌতুহলী চোখে রৌদ্রর দিকে তাকালো। রৌদ্র সুর তুলে গান গাইছে।

চলতি সময়, থমকে দাঁড়ায়
জেগে জেগে স্বপ্ন দেখি হায়
তোমার এই হাত ধরতে চায়
ফাগুন হাওয়ায়।

কি মায়ার কোন, সে নেশায়
বারে বার মন ছুঁতে চায়
চেনা মুখ ঘুরপাক খায় চোখের পাতায়।

আমি বার বার বহুবার তোমাকে চাই
আমি বার বার হাজার বার তোমাকে চাই।

তুমি আমি আর নিরবতা,
শুনতে কি পাও এই মনে কথা
ভোর আঁধারেও তোমায় দেখি,
তুমি কবিতা, তুমি কবি।

আজকাল মন ডুবে যায়
অনুভবে তুমি ভাসো তাই
এই আমি না চিনি আমায়,
চেনা আয়নায়।

আমি বার বার বহুবার তোমাকে চাই
আমি বার বার হাজার বার তোমাকে চাই।

আরশি মুগ্ধ হয়ে রৌদ্র গান শুনছে। রৌদ্রর পুরোটা গান আরশির দিকে তাকিয়েই গেয়েছে। রৌদ্রর কন্ঠস্বর আরশির কাছে নেশার মতো লাগছে। আরশি মনে হচ্ছে রৌদ্রর গানের মাঝেই হারিয়ে গেছে। রৌদ্র কিছুটা এগিয়ে এসে ঝুঁকে আরশির চোখের দিকে তাকিয়ে বলল-

“মৃত্যু আমৃত্যু আমি শুধু তোমাকে চাই। তোমার ব্যর্থতা, মন খারাপ সব কিছু চাই। তোমার চোখের অশ্রুজল, তোমার ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা হাসি দুটোই চাই। তোমার লজ্জা, অস্বস্তি, রাগ সব কিছু চাই। শুধু তোমার ঘৃণা নয় ভালোবাসাটা-ই চাই।”

আরশি লজ্জায় রৌদ্রর কাছ থেকে খানিকটা দূরে সরে গেল। আরশিকে লজ্জা পেতে দেখে রৌদ্র হাসতে হাসতে বলল-

“তুমি লজ্জা পেয়ে আবারও আমাকে বাধ্য করছো তোমার ভালোবাসায় নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করতে। আর কতো শত বার তোমার ভালোবাসায় নিজেকে হারাতে বাধ্য করবে আরু??”

পশ্চিম আকাশে সূর্য ডুবে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। চারপাশ অন্ধকারে আবছা হয়ে গেছে। ঝিঝি পোকার ডাক আস্তে আস্তে বাড়েই চলছে। নিরবতা ভেঙে আরশি নিম্ন স্বরে বলল-

“ডক্টর রোদ!!”

রৌদ্র আরশির দিকে জিজ্ঞাসুক দৃষ্টিতে তাকাতেই আরশি বলল-

“রাত হয়ে যাচ্ছে এখন আমাদের এখন থেকে যাওয়া উচিত।”

রৌদ্র মাথা দুলিয়ে হ্যাঁ জানাতেই আরশি রেলিঙের উপর থেকে কাচের জারটা নিয়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে হাঁটা শুরু করলো। রৌদ্র পেছন থেকে উচ্চস্বরে বলল-

“তোমার ডাকা নামটা আমাকে জানিয়ে দিচ্ছে তোমার মনে আমাকে নিয়ে থাকা সকল অনুভূতির উপস্থিতি।”

আরশি থমকে দাঁড়িয়ে গেল। স্থির হয়ে কিছুক্ষন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে দ্রুত পায়ে গাড়ি এসে বসে পরলো। জানালা দিয়ে রৌদ্রর দিকে তাকিয়ে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।

—————————

বেশ কিছুক্ষন ধরে জ্যামে বসে আছে রৌদ্র আর আরশি। বিরক্তিতে আরশি চোখমুখ কুচকে বসে আছে। আর রৌদ্র ফোনে কথা বলা নিয়ে ব্যস্ত। হসপিটাল থেকে হয়তো কল এসেছে। আরশি বার বার ক্লান্তচোখে রৌদ্রর দিকে তাকাচ্ছে আবার বাহিরে তাকাচ্ছে। রৌদ্রর কথা বলা এখনো শেষ হচ্ছে না দেখে প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে জানালা দিয়ে বাহিরের দিকে নরজ দিল। মুখ গোমড়া করে বসে আছে আরশি।

“আরশি আমি তোমাকে ভালোবাসি। অনেক চেষ্টা করেও আমি তোমাকে ভুলতে পারছি না। আমি তোমার সব কিছু মেনে নিয়েই বিয়ে করতে রাজি আরশি।”

হঠাৎ পুরুষালী কন্ঠে এমন কথা শুনে রৌদ্র তৎক্ষনাৎ মানুষটার দিকে তাকালো। সুদর্শন এক যুবক আরশির জানালার কাছে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে আছে। চোখমুখে খুশির ঝলক স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। রৌদ্র ফোন কেটে দিয়ে শক্ত চোখে আরশির দিকে তাকালো। আরশি লোকটার দিকে নির্লিপ্ত ভাবে তাকিয়ে আছে। এই মুহূর্তে হয়তো এই মানুষটাকে এখানে আশা করেনি। আরশি একটা জোড়ালো শ্বাস ফেলে বলল-

“আহান আপনি এখানে!!”

আরশির মুখের নিজের নাম শুনে আহান অতিমাত্রায় উত্তেজিত হয়ে বলল-

“আমি ভেবেছিলাম তুমি হয়তো আমাকে ভুলে গেছো।”

“আমি এত তাড়াতাড়ি কাউকে ভুলে যাই না আহান।”

আহান উৎকন্ঠিত হয়ে বলল-

“তোমাকে এখনই এখানে দেখতে পাবো আশা করিনি। বিজনেসর কাজে বিদেশ গিয়েছিলাম। তোমাকে কতবার ফোন দিয়েছি কিন্তু প্রতিবারই ফোন বন্ধ এসেছে। এইকয়দিনে মনে হচ্ছে আমি তোমাকে আরও বেশি ভালোবেসে ফেলেছি। আমি আজকেই দেশে ফিরেছি ভেবেছিলাম কাল তোমার সাথে দেখা করবো।”

আরশি শান্ত গলায় বললো-

“মিস্টার আহান শান্ত হোন। উত্তেজিত হচ্ছেন কেন??”

আহান আগের মতোই উত্তেজনা নিয়ে বলল-

“এই মুহুর্তে তোমাকে এখানে দেখে কতটা খুশি হয়েছি তোমাকে বলে বোঝাতে পারবো না। আমি সব কিছু মেনে নিয়েই তোমাকে বিয়ে করতে চাই আরশি। তোমার ওইদিনের কথায় আমার কোনো আপত্তি নেই। তুমি চাইলে আমি এখনই তোমার বাসায় বিয়ের জন্য কথা বলতে পারি।”

“আমি এখন এসব নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না আহান। ভালো থাকবেন।”

আরশি রৌদ্রর দিকে ফিরে রৌদ্রর হাতে আলতো ছুঁয়ে চোখের ইশারায় গাড়ি চালাতে বলল। জ্যাম ছুটে গেছে কিছুক্ষণ আগে। পেছনের গাড়ি গুলো অনবরত হর্ন বাজিয়ে চলছে। রৌদ্র সাথে সাথেই ড্রাইভ শুরু করলো। আহান আহত দৃষ্টিতে আরশির গাড়ির দিকে তাকিয়ে আছে। পুরো রাস্তা আরশি গম্ভীরমুখে বসে ছিল। রৌদ্র রাগে দ্রুত ড্রাইভ করে বাসায় চলে আসলো। আরশি চুপচাপ কিছু না বলে বাসায় চলে এসেছে। রৌদ্র রক্তিম চোখে আরশির দিকে তাকিয়ে আছে। আরশির চুপ করে থাকাটা রৌদ্রর রাগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আরশি নিজের রুমে এসে খুব যত্ন সহকারে কাচের জারটা রেখে দিল। রঙিন চিরকুট গুলোর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেল। ওয়াশরুম থেকে বের হতেই আরশির ফোন বেজে উঠলো। ফোন রিসিভ করতেই অপরপ্রান্ত থেকে আরশির আব্বু বলল-

“আশু কাল বিকেলের মধ্যে তুমি আর তোমার বন্ধুরা সবাই বাসায় আসবে।”

“কিন্তু বাবা হঠাৎ করে বাসায় যেতে বলছো কেন??”

আরশির আব্বু গম্ভীর গলায় বললো-

“যা বলেছি তা করো। এতো বেশি প্রশ্ন করতে হবে না। এখন রাখছি আর কাল বিকেলে মধ্যে যেন অবশ্যই তোমাদের সবাইকে আমার সামনে দেখতে পাই।”

আরশিকে কিছু বলার আগেই ফোন কেটে কেটে গেল। প্রচন্ড চিন্তা এসে আরশির মাথায় ঝেকে বসলো। এভাবে হঠাৎ করে বাসায় যেতে বলার কারন কি হতে পারে??

চলবে…