রৌদ্রর শহরে রুদ্রাণী পর্ব-৪৫+৪৬

0
846

#রৌদ্রর_শহরে_রুদ্রাণী
#পর্বঃ৪৫
#Saiyara_Hossain_Kayanat

আরশি শাড়ি পরেই অগোছালো ভাবে দৌড়ে হসপিটালের ভিতরে আসে। আশেপাশের মানুষগুলোর চোখে বিস্ময়। অদ্ভুত রকমের চাহনি নিক্ষেপ করে আছে আরশির দিকে। হলুদের সাজে কোনো মেয়েকে অশ্রুসিক্ত চোখে নিয়ে হসপিটালে দৌড়াতে দেখা হয়তো তাদের জন্য খুব কৌতুহলের বিষয়। আরশির শাড়ি কিছুটা অগোছালো হয়ে গেছে। তাজা ফুলের অলংকার গুলো সঠিক জায়গা থেকে খানিকটা নড়ে গেছে। ভেজা চোখ দুটো লাল হয়ে উঠেছে এতোক্ষনে। শাড়ির কুচি ধরে আরশি অস্থিরতার আশেপাশে তাকাচ্ছে। চাতক পাখির মতো ছটফট করছে। কোনো কিছু চিন্তা ভাবনা না করেই আরশি রৌদ্রর কেবিনের দিকে দৌড়ে যেতে লাগলো। বিকেলেও যে মেয়েটা শাড়ি খুলে যাওয়ার ভয়ে বিছানায় জড়োসড়ো হয়ে বসে ছিল সেই মেয়েটাই এখন শাড়ি পরে দৌড়াদৌড়ি করছে। এখন আর শাড়িতে পেচিয়ে পড়ে যাওয়ার তার মধ্যে নেই। মন মস্তিষ্কের পুরোটা জায়গায় এখন শুধু রৌদ্রকে হারানোর ভয় দখল করে নিয়েছে। রৌদ্রর কেবিনের কাছে এসেই আরশি থমকে দাঁড়িয়ে যায়। বুকটা তার বড্ড বেশিই ব্যথা করছে। আরশি ক্লান্ত হয়ে বড় বড় করে শ্বাস নিচ্ছে। হাতের উল্টো পিঠে চোখের নোনাপানি গুলো মোছার ব্যর্থ চেষ্টা করলো। নাহ কোনো ভাবেই চোখের পানি বাধ মানছে না। আরশি কেবিনের দরজা খুলে ভেতরে তাকায়। আরশি থমকালো। বুক ফেটে কান্না আসছে তার। কেবিনের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে দেখে আরশির স্তম্ভিত হয়ে যায়। কয়েক সেকেন্ড স্থির চোখে তাকিয়ে থাকে মানুষটার দিকে। মুহূর্তের মধ্যেই ঝাপিয়ে পরে রৌদ্রর উপর। রৌদ্র কেবিন থেকে বের হতেই যাচ্ছিলো হঠাৎ করে আরশির এভাবে জড়িয়ে ধরায় রৌদ্র খানিকটা পিছিয়ে যায়। কোনো রকম নিজের তাল সামলিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। আরশিকে দেখে দু চোখে কৌতুহলের তারা খেলে গেল। কপালে ব্যান্ডেজ করা। চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ। আচমকাই আরশি রৌদ্রর পিঠের দিকের শার্ট খামচে ধরে। ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠে আরশি। এতোক্ষণ নিঃশব্দে চোখের পানি ফেললেও এখন বাচ্চাদের মতো হিচকি তুলে কান্না করছে আরশি। আরশির কান্নার শব্দে রৌদ্র উত্তেজিত হয়ে পরে। আরশিকে নিজের থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। আরশির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে অস্থিরতার সাথে জিজ্ঞেস করলো-

“আরু কি হয়েছে!! কান্না করছো কেন তুমি? আর এখানেই বা আসলে কি করে?”

আরশি কোনো উত্তর দিল না। রৌদ্রর বুকে মুখ গুজে দিয়েই কান্না করে যাচ্ছে। রৌদ্রর কথায় কান্নার পরিমাণ যেন বেড়েই যাচ্ছে। রৌদ্র উত্তেজিত হয়ে আবারও আরশিকে বলল-

“আরু প্লিজ কান্না করো না। তুমি এই অবস্থায় এখানে কি করছো?”

আরশির কোনো ভাবান্তর হলো না। হয়তো রৌদ্রর কোনো কথাই তার কান অব্দি পৌঁচ্ছে না। বেশ কিছুটা সময় পর রৌদ্র আরশিকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নেয়। কান্নার ফলে আরশির চোখমুখ ফুলে উঠেছে। আরশির চোখের পানিতে রৌদ্রর বুকের দিকে শার্ট খানিকটা ভিজে গেছে। আরশি হিচকি তুলে অশ্রুসিক্ত চোখে রৌদ্রর দিকে তাকিয়ে জোরানো কন্ঠে বলল-

“নীড় বলেছে আপনার না-কি এক্সিডেন্ট হয়েছে।”

রৌদ্র হাসলো। আরশির দিকে এক পলক তাকিয়ে চেয়ারে বসিয়ে নিজেও আরশির মুখোমুখি একটা চেয়ার নিয়ে বসলো। আরশি এখনো চোখের পানি ফেলছে মাথা নিচু করে। রৌদ্র দুই হাত আড়াআড়ি ভাজ করে বসে আরশিকে দেখে যাচ্ছে।

“আমার জন্য কান্না করছিলে তুমি? কি ভেবেছিলে আমার কিছু হয়ে গেছে?”

আরশি মাথা দুলিয়ে হ্যাঁ জানালো। রৌদ্র একটা মুচকি হাসি দিয়ে আরশির দিকে ঝুঁকে বসে।

“এখনই এমন করছো যদি মরে যেতাম তখন কি করতে তুমি?”

রৌদ্র কথা শুনে আরশির বুকে মোচড় দিয়ে উঠলো। সাথে সাথেই কান্নার পরিমাণ আবারও আগের মতো বেড়ে গেল। চেয়ারে বসেই রৌদ্রর গলা জড়িয়ে ধরলো। রৌদ্র খানিকটা ঝুঁকে পরে। কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বলল-

“আরে এভাবে কান্না করছো কেন? আমি তো এমনি জিজ্ঞেস করলাম। সত্যি সত্যিই কি মরে গেছি না-কি!”

“আপনি এসব আজেবাজে কথা কেন বলছেন! আপনার কিছু হলে আমি থাকবো কিভাবে?”

আরশি কিছুটা অস্পষ্ট ভাবে কথাটা বলল। রৌদ্র মুচকি হেসে বলল-

“কেন তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?”

আরশি মাথা নাড়ালো। আরও কিছুটা শক্ত করে গলা জড়িয়ে ধরলো রৌদ্রর। কান্না করতে করতেই বলল-

“হুম অনেক।”

রৌদ্র ভ্রু কুচকে সন্দিহান কন্ঠে বলল-

“কি অনেক!”

“আপনাকে ভালোবাসি। অনেক বেশি ভালোবাসি রোদ। আপনার কিছু হলে আমি মরে যাবো রোদ। আমি অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম এক্সিডেন্টের কথা শুনে।”

কান্নারত অবস্থাতেই আরশি কথা গুলো বলে দিল। রৌদ্র মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠেছে। আরশিকে সোজা করে চেয়ারে বসিয়ে দেয়। আরশির চোখের পানি মুখে দিয়ে দু গালে হাত রেখে বলল-

“তুমি আমাকে ভালোবাসো আরু?”

আরশি মাথা দুলিয়ে হ্যাঁ জানায়। রৌদ্রর ঠোঁট খানিকটা প্রসারিত হয়ে এলো। আরশির চুল গুলো ঠিক করে দিয়ে বলল-

“আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি রুদ্রাণী। জানো এখন তোমাকে কতটা সুন্দর লাগছে! তোমার এই কান্নারত মুখটা আমার খুব ভালো লাগে।”

আরশি রৌদ্রর দিকে তাকালো। কান্নার ফলে এখনো বড় বড় করে শ্বাস নিচ্ছে। নাক টেনে কিছুটা অভিমানীর কন্ঠে বলল-

“আপনি আসলেই খুব খারাপ। আমাকে কান্না করাতে আপনার খুব ভালো লাগে তাই না?”

রৌদ্র আরশির দু হাত ধরে শীতল কন্ঠে বললো-

“তোমাকে কান্না করাতে ভালো লাগে না। তবে যে কান্নায় আমার জন্য ভালোবাসা প্রকাশ পায় সেটাই ভালো লাগে। তোমার চোখের পানির প্রতিটা ফোটায় প্রকাশ পায় তুমি আমাকে কতটা ভালোবাসো। কাজলে লেপ্টে যাওয়া এই ফোলা ফোলা চোখ গুলো চিৎকার করে বলতে চাইছে তুমি আমাকে হারানোর কতটা ভয় পাও।”

আরশি চুপচাপ বসে আছে মাথা নিচু করে। কিছুটা সময় পর পর কেঁপে উঠছে তার শরীর। রৌদ্র আরশির দিকে শান্ত চোখে তাকিয়ে বলল-

“এক্সিডেন্টটা হয়ে ভালোই হয়েছে। অবশেষে তুমি আমাকে ভালোবাসার কথা বলেই দিলে মিসেস আরু।”

রৌদ্রর কথায় আরশি অবাক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালো। খানিকটা বিস্ময় নিয়েই জিজ্ঞেস করলো-

“আপনি আমাকে মিসেস বলেছেন?”

রৌদ্র হাসলো। কিছুটা শব্দ করেই হাসলো। হাসি থামিয়ে আরশির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল-

“হুম কারন তুমি নিজের মুখে আমাকে ভালোবাসার কথা বলেছো এটাই আমার অনেক বড় প্রাপ্তি ছিল। তাই তোমাকেও তোমার প্রাপ্তিটা দিয়ে দিলাম।”

আরশি কিছু বলার আগেই নির্বান কেবিনে ডুকলো। আরশিকে এখানে দেখে বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করল-

“পাশের বারান্দা তুমি এখানে কি করছো!”

“আপনিই তো বলেছেন ওনার এক্সিডেন্ট হয়েছে।”

আরশি ভাবুকতার সাথেই নির্বানকে বলল। রৌদ্র নির্বানের রাগী চোখে তাকাতেই নির্বান আমতা-আমতা করে বলল-

“আসলে ভাই ফোনে চার্জ ছিল না। তাই পুরো কথা বলার আগেই ফোন বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু পাশের বারান্দা যে এই কথা শুনে হলুদের সাজেই এখানে এসে পরবে সেটা ভাবিনি।”

কথা গুলো বলেই নির্বান মাথা চুলকিয়ে একটা মেকি হাসি দিল। আরশি রৌদ্র দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করলো-

“কি হয়েছে আমাকে একটু বুঝিয়ে বলবেন আপনারা!!”

রৌদ্র উঠে দাড়ালো। নির্বানের দিকে এগিয়ে এসে বলল-

“হসপিটালে ডক্টর ছিলো না তাই বাধ্য হয়ে আমাকেই ডিউটিতে আসতে হয়। বিকেলে বাসায় যাওয়ার পথে ছোট্ট একটা এক্সিডেন্ট হয়। গাড়িটা নষ্ট হয়ে যায়। আর আমার মাথায় একটু ব্যথা পাই এই টুকুই।”

নির্বান অনুতপ্ত হয়ে বলল-

“আমি তোমাকে ফোন করেছিলাম ভাইয়া একটু পর এসে পরবে তোমরা যেন কোনো চিন্তা না করো এটা বলার জন্য। কিন্তু বজ্জাত ফোনের জন্য এখন পুরোই উল্টো হয়ে গেল।”

আরশি রৌদ্রর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল-

“তাহলে আপনার ফোন কোথায়?”

রৌদ্র দাঁত কেলিয়ে কেলিয়ে একটা হাসি দিয়ে বলল-

“হয়তো বাসায় রেখে এসেছি।”

আরশি রাগান্বিত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে শক্ত গলায় বলল-

“ফোন কি বাসায় রাখার জন্য কিনেছেন না-কি!”

“আচ্ছা এখন এসব থাক। ভাইয়া গাড়ি ঠিক হয়েছে তাড়াতাড়ি চল। বাসায় হয়তো সবাই চিন্তা করছে।”

নির্বানের কথা শুনে রৌদ্র আর কিছু না বলেই আরশির হাত ধরে হাঁটা শুরু করলো। আরশি তেজি কন্ঠে বলল-

“আপনি আমার হাত ধরেছেন কেন?”

রৌদ্র হেঁটে যেতে যেতেই বলল-

“তুমি শাড়ি পরেছো। আর আমি আগেও বলেছি আমি তোমাকে নিয়ে কোনো রিক্স নিতে চাই না। এখন যদি শাড়ী পেচিয়ে পড়ে যাও তখন কি হবে?”

আরশি রৌদ্রর দিকে তাকিয়ে একটা তপ্ত শ্বাস ফেলল। কোনো কথা না বলেই তাদের সাথে চলে আসে।

অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় হলুদের অনুষ্ঠানটা খুব ছোট করেই সম্পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সবাই। আরশিকে আবারও সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। রৌদ্র সাদা পাঞ্জাবি পরে বসে আছে পাশের ছাদের স্টেজে। মাথায় সাদা ব্যান্ডেজ। এক্সিডেন্টে বেশি কিছু না হলেও কপালের দিকে খানিকটা কেটে যায় রৌদ্র। সবাই রৌদ্রর মাথায় ব্যান্ডেজ দেখে কিছুটা ঘাবড়ে যায়। হলুদের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়ার কথাও বলে কিন্তু রৌদ্র সবাইকে বুঝিয়ে সুজিয়ে রাজি করায়। হলুদের অনুষ্ঠান অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ করা হয়। পাশাপাশি ছাদে থেকেই একে অপরকে পুরোটা সময় আড় চোখে দেখে গেছে রৌদ্র আর আরশি।

————————

বউ সাজে স্টেজের সোফায় বসে আছে আরশি। লাল বেনারসি শাড়ি, লাল দোপাট্টা, খোপায় লাল গোলাপ ফুল সব মিলিয়ে একদম লাল টুকটুকে বউ। পাশেই বসে আছে রৌদ্র লাল রঙের পাঞ্জাবি পরে। ফর্সা ধবধবে গায়ে লাল রঙটা ফুটে উঠেছে। মাথার সাদা ব্যান্ডেজের উপরে কিছু চুল আছড়ে পরে আছে। এতেই যেন তার সৌন্দর্য দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। রৌদ্র বার বার আরশির দিকে আড় চোখে তাকাচ্ছে। আরশির চোখে পরতেই চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। রৌদ্রর বার বার এমন চাহনিতে আরশির প্রচন্ড অস্বস্তি হচ্ছে। আরশি আশেপাশে তাকিয়ে চাপা কন্ঠে রাগান্বিত হয়ে বলল-

“বার বার এভাবে তাকাচ্ছেন কেন আপনি?”

রৌদ্র আরশির দিকে একটা লাজুক হাসি দিয়ে বলল-

“তোমাকে বউ সাজে খুব সুন্দর লাগছে তাই বার বার অজান্তেই চোখ চলে যাচ্ছে তোমার দিকে।”

আরশি ফিসফিস করে বলল-

“লাজুক হাসি দিচ্ছেন অথচ লজ্জার ছিটেফোঁটাও নেই আপনার মধ্যে। আস্তে কথা বলুন। মানুষ আপনার শুনলে কতটা লজ্জায় পরতে হবে ভাবতে পারছেন!”

রৌদ্র আরশির দিকে এগিয়ে এসে ফিসফিস করে বলল-

“নিজের বিয়ে করা ভালোবাসার বউয়ের দিকে তাকাচ্ছি তাতে অন্য মানুষের সমস্যা থাকলে আমার কি! আমার ভালোবাসার মানুষকে তো আমি দেখব-ই।”

আরশি হতাশ হলো৷ এই লোকটা দিন দিন কেমন যেন পালটে যাচ্ছে। আগে কত গম্ভীর ছিল আর এখন!! মুখ দিয়ে ভালোবাসার কথা ছাড়া আর কিছুই বের হয় না। ওনাকে কিছু বলেও লাভ নাই। আমার কথায় ওনার মুখে লাগাম হবে বলে মনে হয় না। আরশি কথা গুলো ভেবেই একটা হতাশ নিঃশ্বাস ফেলে। রৌদ্র এখনো তার দিকেই তাকিয়ে আছে মুগ্ধ নয়নে।

—————————

অনুষ্ঠান শেষে আদিব হাসান আরশিকে রৌদ্রর হাতে তুলে দেয়। বিদায়ের সময় আরশি কান্না করতে নিলেই নীল বিরক্তি প্রকাশ করে বলে-

“দেখ বইন হুদাই কান্না করিস না। তোর পাশের বারান্দায়-ই যাচ্ছিস অন্য কোনো দেশে না। কান্নাকাটি করে সবার মুড নষ্ট করে দিস না।”

নীলের কথার সাথে সায় দিয়ে নির্বান বলল-

“হ্যাঁ ক্রাশ ভাবি শুধু শুধু কান্না করো না। তুমি চাইলে ভাইয়াকে বলতে পারো দু বারান্দার মাঝে রাস্তা করে দিবে। তারপর যখন ইচ্ছে আসা যাওয়া করবে। কি বলো ভাইয়া!!”

নির্বানের কথায় আরশি সহ বাকি সবাই হেসে ওঠে৷ আরশি আর কোনো কান্নাকাটি না করেই রৌদ্রদের সাথে পাশের বাসায় এসে পরে।

বেশ কিছুক্ষন ধরে আরশি গুটিসুটি মেরে বসে। এই ক্লান্ত শরীর নিয়ে বসে থাকাটাও খুব কষ্টের মনে হচ্ছে। একে তো না খেয়ে আছে তার উপর আবার সারাদিন কত ধকল গেছে। সব মিলিয়ে পুরো শরীর অবশ হয়ে আছে। একা বসে থাকতে থাকতে প্রায় অস্থির হয়ে পরেছে আরশি। মাথা উঁচু করে ক্লান্ত চোখে আশেপাশে নজর বুলালো। পুরো রুম তাজা ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। বেশ গোছানো একটা রুম। তবে বইয়ের তাক দেখেই আরশির মাথা ঘুরে উঠলো। এই লোকটা এতো এতো বই পড়ে কিভাবে আল্লাহ! মাথার মধ্যে এতো জ্ঞান রাখে কই? ভাগ্যিস আমার ডক্টর হওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না তা না হলে এতো বই পড়তে পড়তেই আমি শহিদ হয়ে যেতাম। আচমকা দরজা খোলার শব্দে আরশির ভাবনায় ছেদ পরলো। দরজার দিকে তাকাতেই রৌদ্রকে দেখতে পেল। রৌদ্রকে দেখার সাথে সাথেই আরশির ভ্রু কুচকে ফেললো। রৌদ্র হাতে খাবারের প্লেট নিয়ে এসেছে। আরশির কাছে এসে খাবারের প্লেট রেখেই ধপাস করে বিছানা বসে পরলো। একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল-

“উফফ খুব খিদে পেয়েছিল। তাই খেয়ে আসলাম আর তোনার জন্যেও নিয়ে আসলাম। আমি ছেলে হয়েই খুদায় ঠিক থাকতে পারছি না আর তুমি কিভাবে মূর্তি মতো বসে আছো এখানে?”

আরশি বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে আছে রৌদ্রর দিকে। সন্দিহান কন্ঠে বললো-

“আপনি এই সময় খাবার নিয়ে এসেছেন কেউ কিছু বলেনি?”

রৌদ্র খাবার গুলো আরশির সামনে এগিয়ে দিয়ে বলল-

“হুহ্ কিছু বলবে কেন? আম্মুই তো খাবার গরম করে রেডি করে দিয়েছে তোমার জন্য। এখন তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও। আমি একটু ফ্রেশ হয়ে আসছি।”

রৌদ্র ওয়াশরুমে চলে গেল। আরশি রৌদ্রর দিকে কিছুক্ষণ অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে খাওয়া শুরু করে দেয়। বেশ কিছুক্ষন পর রৌদ্র আরশির কাছে এসে বলল-

“চল আমার সাথে।”

কথাটা বলেই আরশির হাত ধরে বারান্দায় নিয়ে যায়। আরশি কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই রৌদ্র আরশিকে বারান্দায় রেখে দরজা লাগিয়ে গিয়ে চলে যায়।

চলবে…

#রৌদ্রর_শহরে_রুদ্রাণী
#পর্বঃ৪৬
#Saiyara_Hossain_Kayanat

রৌদ্র আরশিকে বারান্দায় আটকে রেখে রুমের বাহিরে চলে যায়। আরশি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রৌদ্র কাজ দেখে। পরক্ষণেই দরজায় ধাক্কাতে লাগলো।

“ডক্টর রোদ কোথায় আপনি? আমাকে এখানে আটকে রেখেছেন কেন? দরজা খুলুন প্লিজ রোদ..”

আরশি বার বার রৌদ্রকে ডেকে যাচ্ছে কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাচ্ছে না। আরশির মনে খানিকটা ভয় ঢুকে যায়। ধীরপায়ে যেয়ে বারান্দার এক পাশে রাখা লোহার বেঞ্চিতে বসে পরে। মাথা নিচু করে রৌদ্রর এমন অদ্ভুত কাজের কারন খুঁজার চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পরেছে। পাখিগুলো পাখা ঝাপটিয়ে কিচিরমিচির করছে। আরশি মাথা তুলে পাখির খাঁচাগুলোর দিকে তাকালো। কিছুটা সময় পর আরশি উঠে আবারও দরজায় কড়া নাড়তে লাগলো। কিন্তু এবারও আরশি নিরাশ হলো। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ এবারও পাওয়া গেল না। আরশি পুরো বারান্দায় পায়চারী করছে। প্রায় আধঘন্টা পর সশব্দে বারান্দার দরজা খুলে গেল। আরশি ঝটপট মাথা তুলে দরজার দিকে তাকালো। রৌদ্র হাঁপাচ্ছে। বুকে ডান হাত দিয়ে বড় বড় করে শ্বাস টানছে। কিছুটা সময় পর অপরাধীর ন্যায় মাথা নিচু করে আরশির সামনে এসে দাঁড়ালো। আরশি নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে রৌদ্রর দিকে চেয়ে আছে। কোনো কিছু জিজ্ঞেস করছে না। রৌদ্র নিজে থেকে বলবে সে অপেক্ষায় আছে আরশি। রৌদ্র নিম্ন স্বরে বলল-

“সরি আরু। আমি ইচ্ছে করে এমন করিনি। আমি তো অল্প কিছুক্ষণের জন্য তোমাকে এখানে রেখে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওই বদমাইস গুলোর জন্য এমন হয়েছে।”

আরশি কপাল কুচকে তাকাতেই রৌদ্র থতমত খেয়ে যায়। আমতা আমতা করে আবারও বলল-

“মানে নির্বান আর তোমার ফ্রেন্ড গুলো আমাকে আটকে রেখেছিল। ওদেরকে একটা কাজ করতে দিয়েছিলাম তাই একটু দেরি হয়েছে। কিন্তু যখন তোমার কাছে আসতে চেয়েছি তখনই আমাকে বাধা দেয়। তাদের না-কি বখশিশ লাগবে। বখশিশ দেওয়ার পরেও আটকে রেখেছিল তারপর নীল সবাইকে বুঝিয়ে সুজিয়ে আমাকে আসতে দিয়েছে।”

“আমাকে এখানে আটকে কেন গিয়েছিলেন?”

আরশির গম্ভীর কন্ঠে রৌদ্র আহত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালো। আরশি গাম্ভীরতার সঙ্গে বসে আছে বেঞ্চিতে। রৌদ্র একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। কোনো কথা না বলে রুমে চলে যায়। কয়েক সেকেন্ডের মাথায় আবারও ফিরে আসে রৌদ্র। হাতে অনেক গুলো সূর্যমুখী ফুল। রৌদ্র আরশির সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসে পরে। চোখ বন্ধ করে একটা শ্বাস নিল। আরশির দিকে শীতল চাহনি নিক্ষেপ পরে বলল-

“রৌদ্র আর রুদ্রাণীর নতুন জীবন এই সূর্যমুখী দিয়ে শুরু করতে চাই আরু। তোমাকে কতটা ভালো রাখতে পারবো জানি না তবে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে তোমাকে ভালো রাখার চেষ্টা করবো। তোমাকে ঠিক কতটা ভালোবাসি বলে বুঝাতে পারবো না। তবে আমি চাই আমাদের ভালোবাসা যেন কখনো পুরনো না হয়। আমাদের ভালোবাসা কখনো অতীত হোক সেটা আমি চাই না।”

আরশির দিকে রৌদ্র ফুল গুলো এগিয়ে দেয়। আরশি রৌদ্রর দিকে অপলকভাবে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। মুচকি হাসি দিয়ে আরশি সূর্যমুখী ফুল গুলো নিজের হাতে তুলে নিল। সরু চোখে রৌদ্রর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল-

“এই ফুলের জন্য এতো দেরি হয়েছে?”

রৌদ্র মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ জানায়। আরশি রৌদ্রর দিকে হাত বাড়িয়ে দেয় উঠে আসার জন্য। রৌদ্র আরশির হাত ধরে তার পাশেই বসে পরে। দুজনে কিছুটা সময় চুপচাপ একে অপরের হাত ধরেই বসে থাকে। নিস্তব্ধতা ভেঙে আরশি রৌদ্রর দিকে চেয়ে বলল-

“রোদ..আপনার কাছে কিছু চাইলে আপনি আমাকে দিবেন!”

রৌদ্র হাল্কা হেসে বলল-

“একটি বার চেয়েই দেখো তুমি।”

আরশি ফুল গুলোর দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল-

“আমাকে কথা দিন আপনি কখনো পাল্টাবেন না। আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আপনাকে এই রূপেই দেখতে চাই।”

রৌদ্র আরশির হাত আরও শক্ত করে নিজের মুঠোয় বন্দী করে নিল। মুচকি হাসি দিয়ে বলল-

“কথা দিচ্ছি রৌদ্র আর রুদ্রাণীর ভালোবাসা কখনো পুরনো হবে না। হবে না কখনো অতীত। না হবে মলিন, ধূসর বর্ণহীন। আমাদের ভালোবাসা সব সময় সূর্যের আলোর মতো উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। তবে যদি কখনো আমার ভালোবাসার বউয়ের কিছু হয়ে যায় তাহলে তোমার এই হার্টের ডক্টর নিজেই হার্ট এট্যাক করে মরে যাবে।”

কথা বলেই রৌদ্র শব্দ করে হেসে ওঠে। আরশি তার দিকে ভ্রু বাঁকিয়ে তাকিয়ে আছে। রৌদ্র হাসি থামিয়ে আবারও বলল-

“সত্যি বলছি তোমার কিছু হয়ে গেলে। আমি সত্যিই হার্ট এট্যাক করে সাথে সাথেই মরে যাবো।”

আরশি রৌদ্রর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে রাগান্বিত কন্ঠে বলল-

“আপনার কি আজে বাজে কথা না বললে হয় না! অসহ্যকর”

“আমি তোমাকে ভালোবাসি মিসেস আরু। অনেক ভালোবাসি।”

হঠাৎ করেই রৌদ্রর মুখে ভালোবাসার কথা আরশি ভ্রু কুচকে ফেলে। পরক্ষেই লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে। কিছুটা সময় নিয়ে নিম্ন স্বরে বলে-

“আমিও আপনাকে ভালোবাসি রোদ।”

রৌদ্র আরশির লাজুক চেহারা দেখে হাসলো। আবারও দুজনের মাঝে একঝাঁক নিরবতা এসে হানা দিল।

যদি বলি আমার প্রতিটা রাত তোমার কোলে চাই,
বলো ঠোঁটের ছোঁয়ায় আদর মাখাবে গালে?
যদি বলি হ্যাঁ হাসছি আমি শুধুই তুমি আমার তাই,
বলো ছেড়ে তো দেবেনা কখনো মনের ভুলে?

আজ দ্বিতীয় বারের মতো আরশির রৌদ্র কন্ঠে গান শুনছে। রৌদ্রর কন্ঠে গান শুনে মুগ্ধ হয়ে অপলকভাবে রৌদ্র দিকে তাকিয়ে আছে আরশি।

গোধূলি আকাশ মুছে দিলো সাজ
অযথা দূরে তবু তুমি আজ,
অভিমানী ভুল ধরবে আঙ্গুল
মন করে বায়না।
তুমি কি আমায় করবে পাগল
শাড়ির আঁচল, চোখের কাজল,
প্রেমে তুমিও পড়ে যাবে হায়
দেখো যদি আয়না।

আরশির রৌদ্রর দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়। রৌদ্রর কাধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে গাইতে লাগলো-

বাঁচি এই বিশ্বাসে, শেষ নিঃশ্বাসে
তোমাকেই পাশে চাই,
তুমি না থাকলে আমি শূন্য এ মহাদেশে।
যদি ঘুমিয়েও পড়ি
শেষ ঘুমে আমি তবুও তোমাকে চাই,
তুমি স্বপ্নেই এসো রূপকথার ওই দেশে।

রৌদ্র আরশিকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে। আরশির মাথায় আলতো করে ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে আবারও গান গাইতে লাগলো-

আমি বুকের মাঝে জাপটে জড়িয়ে
যত কথা আছে সবই তোমাকেই বলি।
আমি কান পেতে সেই মনের গভীরে
লুকোনো যন্ত্রনা শুনে ফেলি।

আরশি রৌদ্রর কাধে মাথা রেখেই ঘুমিয়ে পরেছে। রৌদ্র গান থামিয়ে আরশির দিকে তাকায়। ঘুমন্ত অবস্থায় লাল শাড়িতে মোহনীয় লাগছে আরশিকে। রৌদ্র আরশির কপালে গভীরভাবে নিজের ওষ্ঠদ্বয় ছুঁয়ে দিয়ে বলল-

“তোমার কিছু হলে এই রৌদ্র কখনো ঠিক থাকতে পারবে না রুদ্রাণী। তোমাকে ছাড়া এক দিন থাকাও আমার জন্য খুব কষ্টকর।”

————————

“আল্লাহর রহমতে কোনো ঝামেলা ছাড়াই বিয়েটা হয়ে গেল। যাক তাহলে বিয়ের চিন্তা শেষ, এখন তো শুধু রৌদ্রর বাচ্চাদের সাথে খেলার অপেক্ষা।”

সকালের নাস্তা করার সময় ডাইনিং টেবিলে সবার সামনেই নির্বানের আম্মু মজার ছলে কথাটা বলল। কথাটা শোনার সাথে সাথেই আরশির মুখের ভঙ্গিমা পালটে গেল। এই মুহূর্তে অন্য কোনো স্বাভাবিক মেয়ে থাকলে হয়তো লজ্জায় নুয়ে পরতো তবে আরশির ক্ষেত্রে হয়েছে ভিন্ন। থমথমে চেহারায় খাবারের প্লেটের দিকে তাকিয়ে আছে আরশি। রৌদ্র স্থির চোখে আরশির মলিন মুখের দিকে চেয়ে আছে। রৌদ্র মা মুচকি হাসি দিয়ে বলল-

“হ্যাঁ সেই অপেক্ষা তো করবোই। আল্লাহ হাতেই তো সব কিছু। উনি যখন ইচ্ছে আমাদের অপেক্ষার পহর শেষ করবেন।”

রৌদ্রর মা’র কথা শুনে আরশি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে উঠলো। নাস্তা শেষে আরশি নির্বানের আম্মুর সাথে সোফায় বসে নির্বানকে নিয়ে কথা বলছে। নির্বানের আম্মু আরশিরকে উদ্দেশ্য করে বলল-

“জানো মা এই ছেলেটা ঘুমালে দিনদুনিয়ার কোনো হুশই থাকে। কুমিরের মতো পরে পরে বেঘোরে ঘুমায়।”

নির্বানের আম্মুর কথা শুনে আরশি হাসছে। তখনই নির্বান সোফায় শুয়ে থাকা অবস্থায় পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায়। তার মার দিকে অলস ভঙ্গিতে চেয়ে বলল-

“উফফ মা বাসার নতুন বউকে এসব কি বলছো তুমি! ক্রাশ ভাবি তুমি আম্মুর কথায় কান দিও না তো।”

নির্বানের আম্মু নির্বানের পায়ে একটা থাপ্পড় দিয়ে বলল-

“বেশি কথা না বলে এখন উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা কর যা।”

আরশি নির্বান আর নির্বানের আম্মুর খুনশুটি দেখে মুচকি মুচকি হেসে যাচ্ছে।

————————

“তখনকার জন্য থ্যাংকস মা।”

রৌদ্র রান্নাঘরে এসে তার মা’কে জড়িয়ে ধরে কথাটা বলল। রৌদ্র মা তার ছেলের পিঠে আস্তে করে থাপ্পড় দিয়ে বলল-

“এখনে থ্যাংকস বলার কি আছে!”

রৌদ্র তার মা’কে ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল-

“তুমি সব কিছু শুনে আমাদের বিয়েতে রাজি হয়েছো তাই থ্যাংকস। আরুকে অস্বস্তি পাওয়া থেকে বাঁচিয়েছো এই জন্য থ্যাংকস ”

ছেলের কথা রৌদ্র মা মুচকি হাসলেন। রান্নাঘরের কাজ করতে করতেই বললেন-

“তুই তো ব্যস্ততায় নিজেকে একদম পালটিয়ে ফেলেছিলি। দিন দিন কেমন গম্ভীর হয়ে উঠেছিলি। কিন্তু আরশি তোর জীবনে আসার পর থেকে তুই আবারও আগের মতো হাসিখুশি থাকা শুরু করেছিস। এই জন্য আমি আরশির কাছে অনেক ঋণী৷ আরশি আমাদের পুরনো রৌদ্রকে আবারও আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। আর তার থেকেও বড় কথা হলো তুই আরশিকে ভালোবাসিস। এখন তোর ভালোবাসা যেমনই হোক সেটা তোর কাছে থাকলেই তুই খুশি থাকবি আর তোর খুশিতেই আমরা খুশি রৌদ্র।”

রৌদ্র তার মা’র কপালে চুমু দিয়ে মুচকি হেসে বলল-

“লাভ ইউ মা।”

রৌদ্রর মা হাসলো। তার ছেলের দিকে তাকিয়ে বলল-

“যা এখন আরশির কাছে যা। আর হ্যাঁ আরশিকে এসব নিয়ে চিন্তা করতে না বলিস। আল্লাহ চাইলে সব কিছুই সম্ভব হবে।”

চলবে…