#লীলাবালি🌺
#পর্ব_১০
আফনান লারা
.
কুসুমের বাবাকে খবর দিতেই তিনি আর দেরি না করে চলে এসেছেন ওকে নিয়ে যেতে।অর্ণবের বাবা অপমানিত হয়েছেন অর্ণবের এমন ব্যবহারে।লজ্জায় মাথা নত করে বসে ছিলেন কুসুমের বাবার সামনে।কুসুমের বাবা মুখটা ফ্যাকাসে করে বললেন,’ভাইসাব এভাবে থাকবেন না।আমরা গরীব মানুষ।আপনাদের বড় ঘর হতে মেয়ের জন্য প্রস্তাব আসছে এই অনেক।বললেই তো বিয়ে হয়ে যায়না।দুজনের মত লাগে।যে সারাজীবন সংসার করবে তার মতামত সবচাইতে জরুরি।তাছাড়া অর্ণব বাবা উচ্চশিক্ষিত। তার পছন্দ কি টিনেরঘরের অশিক্ষিত কুসুম হবে?
তার জন্য শিক্ষিত মেয়ে আছে।তাকেই সে বিয়ে করবে।যাক যা হয় ভালোর জন্য হয়।সে ভালো থাকলে আমরাই বা আর কি করবো?
তবে সে যদি জানতো কেন আমরা আমাদের এমন মেয়েকে পড়াশুনো করাইনি তাহলে সে হয়ত কখনও তার পড়াশুনা নিয়ে বিয়ের ভাঙ্গার কারণ দেখতোনা, বয়স বাদই দিলাম।বয়স কোনো কারণ হতে পারেনা।মেয়েটাকে আমার বাড়িতেও মনে হয় আর রাখতে পারবোনা আবার ভারতে পাঠিয়ে দিতে হবে।আচ্ছা ভালো থাকবেন।আমার কুসুমের জন্য মাঝে মাঝে মনে পড়লে একটু দোয়া করিয়েন।মেয়েটার সামনে অনেক বিপদ।জানিনা অর্ণব বাবার মতন ভাল ঘরের কাউকে পাবো কিনা।না পেলে উপায় নাই, রক্ষেও নাই’
কুসুম অর্ণবের রুম থেকে ওর ছবিটা নিয়ে ব্যাগে পুরেছে।এটা চুরি।হয়ত চাচিকে বললে তিনি হেসে বলবেন নিয়ে যেতে।
কিন্তু লজ্জার কারণে চাচিকে বলা হয়ে উঠবেনা বলে কাউকে না বলেই সে ছবিটা নিয়ে নিয়েছে।
বাবার হাত ধরে চলে যাবার সময় বারবার করে অর্ণবদের এক তলা বাড়িটা সে দেখছিল পেছনে তাকিয়ে।
হলুদ রঙের দালানটা যতদূর দেখা গেলো দেখেছে সে।একটুও মন চাইলোনা বাবার সঙ্গে ফিরে যেতে।মন বলছে আর একটু থাকি।কেন এই বাড়ি আমার হলোনা!
——
অর্ণব মেসে ফিরে এসে বইয়ে চোখ বুলাচ্ছে সেই আধঘন্টা ধরে।মৃদুল গামছা পরে ‘জাবসে তেরে নে না’ গানটা গাইছে ঘুরে ঘুরে।সেদিকে ওর খেয়াল নেই।বইতেও নেই।মনে মনে কষ্ট লাগছে কুসুমের জন্য।তাকে যে আজ সে আঘাত দিয়েছে এটা সে ঠিক করেনি।তবে নিরুপায় হয়ে এমনটা করতে হয়েছিল।
কুসুমের চেহারা ভাল করে দেখা হয়নি তার।বাবা মায়ের কাছে তার রুপের বর্ণনা শুনে মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলাম চোখে চোখ রাখবোনা।শুনলাম রুপসী নারীদের চোখে চোখ রাখলে প্রেমে পড়তে বাধ্য হতে হয়।তাদের চোখের ঝলকে নেশা মেশানো থাকে এই ভয়ে তার চেহারার কি কি দেখেছি মনে করতে পারছিনা।মনে হয় ঘাম বেয়ে পড়ে থুঁতনিতে গেছিল ঐটুকুই দেখেছিলাম।আর কিছু দেখা হয়নি। তার সাথে দেখা সাক্ষাৎ,আমার চলে আসা মিলে সময় ছিল পাঁচ -ছয় ঘন্টা।
ঈদে আবার যাব।আর কোনো ধরা বাঁধা নেই।এতদিনে বাবা জোর করে বিয়ে দেওয়ার কথা মাথা থেকে নামিয়েছে।আমি এবার শান্তিতে পরীক্ষা দিয়ে তারপর বাড়ি যাব।
ওয়াইফাই অন করা ছিল বলে যতজন মেসেজ করছে টুংটাং আওয়াজ আসছে।শেষে বই রেখে অর্ণব ফোন হাতে নিলো।ফার্স্ট ইয়ারের কটা মেয়ের মেসেজ।ইগনর করে ফোন রাখতে যেয়ে হঠাৎ দেখলো জুথির ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এসেছে।ওর রিকুয়েস্ট না নিয়ে উল্টে কেনসেল করে দিলো সে।ওমা সাথে সাথে আবার রিকুয়েস্ট দিলো।শুধু তাই নয় এবার মেসেজ ও দিয়েছে।
-‘কি সমস্যা? আমার রিকুয়েস্ট নিচ্ছেন না কেন?একদম হাহা মেরে দিব’
-“আমি ব্লক দিয়ে দিব’
জুথি হাসির ইমুজি পাঠিয়ে লিখলো,’পারবেননা।আনব্লক করার ৪৮ঘন্টা হওয়া ছাড়া পুনরায় ব্লক দেওয়া যায়না।হিহি’
অর্ণব মেসেঞ্জারে ব্লক মেরে ফোন রাখলো তারপর মনে পড়লো জুথি তো গিয়ে আইডিতে হাহা রিয়েক্টের ঝড় তুলবে তাই আবার আনব্লক করে দিলো।জুথি চুপ।সেও চুপ।
কিছুক্ষণ পর জুথি লিখলো,’এত ভাব ভালোনা’
অর্ণব মেসেজটাকে সিন করে রেখে দিয়ে বিছানা থেকে নেমে ব্যাগ খুলেছে।মেসে তার যে জামাকাপড় ছিল তার চেয়ে বেশি ছিল বাড়িতে।আজ আসার সময় সব সাথে করে নিয়ে এসেছে সে।এখন গোসল করে একটা পরবে।ব্যাগের চেইন খুলতে যেতেই চেইনে লাগানো একটা দড়ি দেখে সেটা হাতে ছুটিয়ে নিলো।দড়ির মতন দেখতে ছিল তবে এটা একটা ঝিনুকের মালা।ঘুরিয়ে দেখে অর্ণব ভাবলো তার ব্যাগে আটকানো এই মালাটা কে রাখলো?
মালাটাকে ভাল করে দেখে ওয়ালে পেরেক লাগানো ছিল সেটাতে ঝুলিয়ে দিতেই এক ঝলক মনে আসলো এই মালা তো সে কুসুমের গলায় দেখেছিল।মালাটা সে কখন দিলো?
টেরই তো পেলাম না।
মৃদুল মালাটার দিকে তাকিয়ে থেকে বললো,’কক্সবাজার গেলি কবে?’
-‘আমিও তাই ভাবছি।কুসুম কি কখনও কক্সবাজার গিয়েছিল?’
-“মানেহ!ঐ মেয়েটার সঙ্গে তোর দেখা হয়েছে নাকি?’
-“হুমম।তার গলায় এই মালা দেখেছিলাম।ওহ মনে পড়েছে ওদের বাড়ির সামনে তো নদী।সেখানে মেলা বসে সিজনালি।মনে হয় ওখান থেকে কিনেছে’
-‘তো মালাটাকে ওমন সাজিয়ে রেখেছিস কেন?আমায় দে।আমি চারুকলার সুজনের কাছে সেল দিয়ে ঐ টাকায় সিঙ্গারা খাবো’
অর্ণব মালাটা নিয়ে ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলে বললো,’নাহ থাক।হয়ত ভুলে আমার কাছে রয়ে গেছে। কোনো একদিন দেখা হলে ফেরত দেবো।’
মেসেঞ্জারে কল এসেছে।অর্ণব ফোন হাতে নিয়ে দেখলো জুথির কল।
এই মেয়েটা ইচ্ছে করে জ্বালাচ্ছে নাকি আর ৫টা মেয়ের মতন সেও প্রেমে পড়ে গেলো।হ্যালো?’
-“ও মোর রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’
(গানটা বাজছে)
মৃদুল হাসতে হাসতে শুয়ে পড়েছে।অর্ণব ফোন রেখে বললো,’এই মেয়েটা নিজে একটা পাগল। আমাকেও পাগল বানাতে হাত ধুয়ে নেমেছে।তার বাবা আবার আমায় দায়িত্ব দিয়েছে তারে নিয়ে কুমিল্লা যেতাম।মানে যত জুট ঝামেলা সব আমার ঘাঁড়ে এসে পড়ে।
জুথি ইচ্ছে করেই অর্ণবকে জ্বালাচ্ছে।কারণটা হলো যাতে অর্ণব রাগ করে এসে বলে সে জুথিকে কুমিল্লা নিয়ে যেতে পারবেনা।জুথির ইচ্ছা নাই কুমিল্লা যাওয়ার।কারণ ওখানে চাচার বাসার পাশের বাসার একটা ছেলে তার জন্য অতিরিক্ত মাত্রায় পাগল।ওর ভয়ে সে যেতে চায়না।কিন্তু বাবাকে বিষয়টা বলার পর তিনি সিরিয়াস নেননি।চাচা দেখতে চান বলে এখন বলছেন একবার গিয়ে দেখে আসলে কিছু হবেনা।সে ট্রিপটা কেন্সেল করতেই অর্ণবকে জ্বালাচ্ছে যেন সে মানা করে দেয়।তেমনটাই হলো
অর্ণব মেসেজ করে বললো সে ওকে নিয়ে কুমিল্লা যেতে পারবেনা।জুথি মনের আনন্দে ফোন রেখে কফি বানাতে চলে গেছে।
বিকালবেলা গোসল করে বেরিয়ে অর্ণব আসরের নামাজ পড়তে মাথায় টুপি পরে চললো মসজিদে।সেখানে দেখা হয়ে গেলো জুথির বাবার সঙ্গে।সে তাঁকে বললো কুমিল্লা গেলেও তার দেরি হবে।জুথিকে সে নিতে পারবেনা।তার অনেক সমস্যার বাহানা দিয়ে দিলো উনাকে।কিন্তু জুথির বাবা ওকে এমন পেঁচিয়ে ধরলো সে আর না করতে পারেনি।
এদিকে তার মেয়ে যে কি পরিমাণ জ্বালাতন করছে তা বললে তো মনে হয় না বিশ্বাস করবে।কারণ বাপের সামনে সে তো ভদ্র হয়ে থাকে।
——-
-‘নদীর ওপারে ঢাকায় যাবার পথ।ওখানে বুঝি তিনি থাকেন।বুঝি জীবনে আর কখনও তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হবার সুযোগ হবেনা?ইশ! যদি ভারত চলে যাবার আগে একটিবার দেখা পেতাম।কতইনা ভাল হতো।শেষ দেখা দেখে নিতাম।’
ব্রেসলেট টাকে উঁচুতে তুলে কুসুম অর্ণবের কথা ভাবছিল।দূর থেকে কলি ছুটে এসে বললো,’বোন মায়ে তোমারে ডাকে।ভারতে নাকি তোমায় ঈদের আগেই পাঠাবে’
কুসুম চমকে কলির দিকে তাকিয়ে বললো, ‘এত তাড়াতাড়ি কেন?আমি যামুনা’
-‘চলোই না।মায়ে কইছে সজনে খালার বাড়িতে যাবে তোমারে কিসের ঝাড়ফুঁক দেওয়াবে।’
-‘আমি ওসবে বিশ্বাস করিনা।আর এখন ওসবের কি প্রয়োজন?’
-‘আমি তো তা জানিনা।জলদি আসতে বললো।সজনে খালা নাকি শহরে যাবে।তার সময় নাই তেমন।তোমার কাজ সেরে তিনি চলে যাবেন।তাই তো আমি ছুটতে ছুটতে এলাম তোমায় নিয়ে যেতে’
-‘মাকে গিয়ে বলবি আমি ওসবে বিশ্বাস করিনা।যাবনা আমি’
চলবে♥
#লীলাবালি🌺
#পর্ব_১১
আফনান লারা
.
অর্ণব মেসে ফিরে বই পড়াতে যে ডুব দিয়েছিল রাত নয়টা বাজে এখনও তার কোনো খোঁজ নেই।পড়ছে তো পড়ছেই।মৃদুল বাইরে থেকে দশবার গিয়ে ঘুরে ফিরে এসেছে তাও ওর নড়চড় দেখলোনা।মিনিট পাঁচেক হলো বারান্দায় উদ্ভট আওয়াজ হচ্ছে।যেন কিছু একটা বার বার করে পড়ছে।
বই থেকে মুখ তুলে অর্ণব সেদিকে তাকালো সন্দেহের চোখে।চোখের সামনে একটা কঙ্কর উড়ে এসে পড়তে দেখলো সে।বিছানা থেকে নেমে বারান্দায় পা রাখতেই আরেকটা এসে ওর কপালে লাগলো বরাবর।
কপাল ঘষতে ঘষতে নিচে তাকিয়ে দেখলো একটা মেয়ে নিচে বসে আরও কণা খুঁজছে মারবে বলে।হাতে কয়েকটা ধরে রেখেছে মনে হয়।হাত মুঠো করা।থ্রি পিস পরা গায়ে।খোঁপা করে ক্লিপ বেঁধে রেখেছে।সাথে জিন্সের জ্যাকেট।ল্যাম্পপোস্টের আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল মেয়েটাকে।মুখ তুলতেই দেখলো ওটা জুথি।
এমন অসময়ে ওকে এখানে দেখে চেঁচিয়ে অর্ণব বললো,’কি সমস্যা আপনার?মাথা কি গেছে?’
জুথি অর্ণবের দিকে তাকিয়ে বললো’নিচে আসুন, বলছি।নাহলে এই গোটা ইটটা ছুঁড়ে মারবো ধরে’
অর্ণব ডানে বামে তাকিয়ে বাসা থেকে বের হলো।নিচে এসে আবারও ডানে বামে তাকিয়ে কেউ আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে বললো,’আপনার কি শরীর খারাপ?মানে মাথার মগজ কি একেবারেই গুলে গেছে?আজ এমন জ্বালাচ্ছেন কেন বলুন তো?মানুষ দেখলে কি বলবে জানেন?বলবে প্রেম করছি’
-“আপনি বাবার আকুতি মিনতি শুনে গলছেন কি জন্যে আগে সেটা বলুন?সাফ সাফ বলে দিতে পারলেন না যে আপনি আমায় সাথে নিয়ে কুমিল্লা যেতে পারবেননা?আমার বাবা আমি ভয় পাবো,আপনি কেন ভয় পাবেন?আশ্চর্য! ‘
-“আপনার বাবা কিন্তু আমার স্যার।তাকে আমি ভয় পাব না তো কে ভয় পাবে?
কথা এটা বলার জন্য এত রাতে একা একা এখানে চলে আসলেন?সাহস আপনার দশ তলা দালানের সমান!’
-‘একা না।আমার ছোট ভাইও এসেছে।ঐ তো আইস্ক্রিম কিনতে দোকানে গিয়েছে।তা এখানে এসে বলবো না তো কি করবো?আপনি অফলাইন হয়েছেন চৌদ্দ ঘন্টা ধরে।সেই বিকালে যে কথা বলছিলেন আর কোনো খবর নাই আপনার।বিয়ে সাদি করে নিয়েছেন নাকি?’
-‘আমার পরীক্ষা সামনে।যান বাসায় যান।আপনার বাবাকে অনেক বুঝিয়েছি তিনি আমার কোনো কথাই শুনলেন না।আমার আর কিছু করার নেই’
জুথি বিড়বিড় করে কিসব বলতে বলতে চলে গেলো।অর্ণব মাথা তুলে উপরে তাকাতেই দেখলো মৃদুল আর তপন বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভিডিও করছে।এটা দেখে ছুটে গেলো সে।
ওরা এবার এই ভিডিও ফেসবুকে ছাড়বে নির্ঘাত।
——-
-‘বোন এই পাথরের ব্রেসলেটটা কে দিলো তোমায়?’
চৌকিতে দুবোন মিলে কাঁথার নিচে শুয়ে শুয়ে মাথার উপরের চাল দেখছিল।কলির প্রশ্ন শুনে কুসুম ব্রেসলেটটাকে লুকিয়ে ফেলে বললো,’পেয়েছি এক জায়গায়।এখন থেকে এটা আমার।আচ্ছা এটার নাম কি বললি?’
-‘ব্রেসলেট ‘
-‘ওহ।আচ্ছা তোকে কতদিন বলেছি আমায় পড়াশুনা শিখিয়ে দে।তুই পারবি আমি জানি।একবার চেষ্টা কর না!’
কলি উঠে বসে বই খাতা বিছিয়ে বললো,’তোমায় কতদিন শিখাতে বসেছি??তুমিই তো এক কানে ঢুকিয়ে আরেক কান দিয়ে বের করে ফেলো সব।এগুলো মাথায় ঢুকিয়ে রাখতে হয়।নাও বসো দেখি।আমি যেটা লিখলাম সেটা লিখো।তারপর নাম বলছি অক্ষরটার’
কলির দেখাদেখি ত্যারাব্যাঁকা করে কুসুম “অ” লিখলো।কলি বললো এটা “অ”
কুসুম খাতাটাকে সামনে ধরে মুখ ঢেকে চোখ একটা বের করে বললো,'”অ” এর সাথে কি যোগ করলে অর্ণব নাম লেখা যাবে?’
কলি ব্রু কুঁচকে বললো,’কেন শিখবে?সে কি তোমায় বিয়ে করবে?তাহলে তার নাম শিখে তোমার কি উপকার হবে?’
কুসুম মুখটা ফ্যাকাসে করে বললো,’শিখিয়ে দে না!!দেখ আমি লিখতে পেরেছি।
পুরো নামটা শিখিয়ে দে।তোরে দোয়া করে দেবো অনেক’
—–
রুমে পা রাখতেই মৃদুল আর তপনের দাঁত কেলানো দেখে অর্ণব ব্রু নাচিয়ে বললো,’কি??এমন দাঁত কেলাচ্ছিস কেন তোরা?’
-‘কেলাবো না?গভীর রাতে একটা মেয়ে আসে দেখা করতে।তুইও পড়াশুনা ছেড়ে নিচে যাস দেখা করতে।আমরা কিছু বুঝিনা??শাক দিয়ে মাছ ঢাকার কোনো প্রয়োজন নেই।আমরা সব বুঝে গেছি।’
-‘ভুল বুঝেছোস তোরা।এসব কিছুইনা….’
-‘আমাদের আর বোঝাতে হবেনা।তোর আর জুথির কাপল ভিডিওটাকে ‘তুম সে মোহাব্বাত হে হা””””বাস তুম সে হা ‘
গানটার সঙ্গে এড করে আমাদের কলেজ ক্যাম্পাসের গ্রুপে পোস্ট করে দেবো।তোর যত মেয়ে পাগলা ফ্যান আছ সব আমাদের খাতায় যোগ হবে।আহা আই এম অগ্রিম সেলিব্রেটি’
অর্ণব বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে কম্বল দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলেছে।তপন ফিসফিস করে বললো,’জুথির ছবি এটা।যদি পোস্ট করিস তো ও তোকে কলেজের সামনের দিঘিতে চুবাবে।চিনিস না ওরে?’
-‘আরে জানি জানি।অর্ণবকে ভয় দেখালাম।’
——
-‘আপনে সত্যি সত্যি কুসুমকে ভারতে পাঠিয়ে দেবেন?আচ্ছা এমন করলে হয় না?ওরে আমরা ঘরে লুকাই রাখবো সারাদিন? ‘
-‘কলির মা বোকার মতন কথা বলবানা।আমাদের মেয়ে পাখি না যে খাঁচায় বন্দি করে রাখতে পারবো।ও মানুষ।প্রয়োজনে তাকে ঘর থেকে বের হতেই হবে।আমি এত বড় রিস্ক নিতে পারবো না।ঈদের আগের দিন ও চলে যাবে।রাজুর বোন পলি আছেনা?ও তো ভারতে যাবার কাগজপত্র সব রেডি করেছে।ওর সঙ্গে কুসুমকে দিয়ে দেবো।মেয়েটা অনেক সাহসী।শক্তিও আছে।একা হাতে দিনে একশো পাঁচহনের টিফিন বানায় স্কুলের।ও আমাদের কুসুমকে আগলে রাখতে পারবে।আমরা তো যেতে পারুমনা।টাকায় কুলাবেনা।’
-‘মেয়েটাকে আবার কবে দেখবো কে জানে।এই তো সেদিন এলো।আহারে আবার কোল খালি হবে।আমার আদরের মেয়েটা শুরু থেকে দূরে দূরে থাকছে পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে।আচ্ছা একটা কাজ করলে হয়না?ভাল একটা ছেলে দেখে যদি ওর বিয়ে দিয়ে দিই?’
-‘ভাল ছেলে বললেই পাওয়া যায়??যাদের পাই তারা তো আর কুসুমের যোগ্যনা।ওরা রুপ দেখে পাগল হয়ে আসে।কিন্তু তাদের ব্যবহারে তো আমি কুসুমের মঙ্গল দেখিনা।একজনের ব্যবহারে আপ্লুত হয়ে ছিলান আর সে আমাদের দূরে ঠেলে দিলো।আহা কতই না ভাল হতো যদি কুসুমের সাথে অর্ণব বাবার বিয়ে হতো।একটু শান্তিতে মরতে পারতাম’
—–
কুসুম বিশটা পৃষ্ঠা নষ্ট করেছে অর্ণব লিখতে গিয়ে।কলি যেমন করে লিখেছে তেমন করে হচ্ছেইনা।বিরক্ত জাগছে নিজের উপর।
-“কেন আমি এত অশিক্ষিত হলাম?কেন আমি সবার মতন পড়াশুনা জানিনা?তাহলে তো আজ এইদিন আসতোনা আমার সামনে।আমি উনার স্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা রাখতাম।কেন আমি পড়াশুনা পারিনা?পোড়া কপাল আমার’
রাগ করে খাতাটা ছুঁড়ে মারলো কুসুম।ঘর থেকে বেরিয়ে সুপারি গাছের সাথে বাঁধা বস্তার দোলনায় গিয়ে বসলো সে।কোমড়ে আটকানো ব্রেসলেটটা হঠাৎ নিচে পড়ে হালকা আওয়াজ হলো। অন্ধকারে আবার সেটা খুঁজতে শুরু করেছে কুসুম।দুপুরবেলা মা একটা প্লেট আলমারি থেকে বের করতে গিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছিলেন সেটার ভাঙ্গা টুকরো ফেলেছেন এখানেই।অন্ধকারে মাটিতে হাত বুলাতে বুলাতে কাঁচের সঙ্গে হাত লাগিয়ে উহুঃ শব্দ করে উঠলো সে। তাও ওসব বাদ দিয়ে ব্রেসলেটটা আগে খু্ঁজে বের করে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো। হাতের সব রক্ত মাথায় মুছে নিলো এবার।ছোট থেকেই রক্ত দেখলে চুলে মুছে ফেলে সে।রক্ত ঝরা দেখা পছন্দ না একদম।আর গায়ে মুছলে দাগ দেখা যাবে তাই মাথায় মুছে এমন ভাব করে যেন কিছুই হয়নি।
চলবে♥
#লীলাবালি🌺
#পর্ব_১২
আফনান লারা
.
পরেরদিন প্রথম ক্লাসেই জুথি হাজির হয়েছে।একটু দেরি করে ফেললো তবে।অর্ণব তখন পড়াচ্ছিল।জুথিকে ওপারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হাতের ঘড়িতে চোখ রাখলো সে। পাক্কা বিশ মিনিট দেরি করেছে জুথি।অর্ণব দাঁত কেলিয়ে বইয়ের পাতা উল্টে পড়ানো শুরু করে দিলো আবার।ওদিকে জুথি বিরক্ত হচ্ছে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে।শেষে আর থাকতে না পেরে বললো,’ভাইয়া আসতে পারি?’
অর্ণব বইতে চোখ রেখে বললো,’না’
জুথি রাগ করে চলে গেলো ক্লাস থেকে।অর্ণব ওকে ডাকার জন্য পাশে তাকিয়ে দেখলো সে নেই।সবাইকে একটা কবিতা পড়তে দিয়ে ক্লাস থেকে বের হলো অর্ণব।দূরের কোণায় ফ্লোরের উপর কাগজ বিছিয়ে গোল হয়ে বসে আছে জুথি।আর হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ মুছতেছে।অর্ণব প্রথমে ভাবলো তার এমন ব্যবহারে হয়ত কাঁদছে।সে ছুটে আসলো সেখানে।কাছে এসে দেখলো হাতে ভাঙা পুতুলের টুকরো নিয়ে কাঁদছে জুথি।
মানে এই ঘটনার জন্য কাঁদছে, তার ব্যবহারে না।তাই হাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে সে বললো,’ক্লাসে আসুন’
-‘যান আপনি।আমি আজ ক্লাস করবোনা।দেখছেননা আমার পুতুল ভেঙ্গে গেছে?
-‘এটা কি আমার দোষ?’
-‘তা নয়ত কি?আমাকে কতক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন।শেষে উল্টো পথে যাওয়া ধরতে গিয়েই তো আমি পড়ে গেলাম নিচে।আর আমার পুতুলটাও ভেঙ্গে গেলো।ব্যাগে ঝোলানো ছিল।কত প্রিয় ছিল এটা’
অর্ণব চলে এসেছে ক্লাসে।
জুথির কথাতে সে কখনওই পাত্তা দেয়না।সবসময় এড়িয়ে চলে।জুথি বিশ /একুশ বয়সী একটা মেয়ে হবার পরেও তার ব্যবহারে সবসময় একটা ছোট মেয়ে মনে হয়েছে।যার কারণে সে সবসময় ওকে ঐ চোখেই দেখে।জুথি পুতুলের ভাঙ্গা টুকরো গুলো কুড়িয়ে পিছু পিছু আসলো ওর।মেয়েরা একজন আরেকজনের সাথে বলাবলি করছে অর্ণব জুথির রাগ ভাঙ্গিয়ে নিয়ে এসেছে।কথাটা অর্ণবের কানে না গেলেও জুথির কানে এসেছে।সে বলতে চাইলো আসল সত্যিটা পরে কি ভেবে আর বললোনা কাউকে।সবাই কেমন হিংসার চোখে তাকাচ্ছে।তা দেখে কেমন একটা প্রাউড ফিল হতে লাগলো।
অর্ণব তার ক্লাস শেষ করে চলে গেছে।জুথি ভাবছিল কুমিল্লা যাবার ট্রিপ কি করলে ক্যানসেল হবে সেসময়ে বাকিরা এসে জোট বেঁধে জিজ্ঞেস করলো অর্ণব তখন করিডোরে গিয়ে ওকে কি বলেছিল যাতে করে সে ক্লাসে আসতে মেনে গেলো।জুথি উত্তর দেওয়ার আগেই তপন এসে বললো জুথিকে অর্ণব ডেকেছে।সবাই তো হা করে তাকালো ওর দিকে।কি এমন জাদু করেছে সে অর্ণব ভাইয়ার উপর।কারোর বিশ্বাস হচ্ছেনা।জুথি ব্যাগ রেখে সেদিকে চললো।অর্ণব স্যারের কেবিনে আছে।সেখানে স্যার কিসব বলছিলেন আর ও খাতায় লিখছিল।জুথি আসার পর স্যার ওকে বললেন বসতে।জুথি তাই অর্ণবের পাশে বসলো।স্যার বললেন সামনে যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে তার জন্য কিছু দল বানাতে হবে।এক দল আবৃত্তি করবে,আরেকদল ছোটগল্প দিবে,কেউবা রচনা দিবে।জুথি যেন সেসব লিস্ট করে রাখে।জুথি জিজ্ঞেস করলো তাকে কেন এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।সে সময় পাবেনা এগুলো করার জন্য।
স্যার যেতে যেতে বললেন,’অর্ণবই তো বললো তুমি অনেক ফ্রি থাকো’
তখন মন চাইলো অর্ণবের মাথার সব চুল ছিঁড়তে।কিন্তু পারলোনা।ওর সাথের বাকি মেয়েগুলো বাহিরে দিয়ে উঁকি বুকি মারছিল।জুথি দাঁত কেলিয়ে ওদের নিজের মুখের হাসি দেখিয়ে অর্ণবের দিকে চেয়ে বললো,’আমাকে আজাইরা দেখলে আপনার গা জ্বলে তাইনা?’
-“একদম ঠিক বলেছো।একা আমি কেন কষ্ট করবো?’
-“আপনার জন্য মেয়ের অভাব পড়েছে তাইনা?’
-‘কি আর করবো বলো!আমার নজরে একমাত্র তোমাকেই অকর্মার ঢেঁকি মনে হয়।সারাদিন টইটই করে ঘুরে বেড়াও, দেখি তো সব।যাও কাজে লেগে পড়ো।সময় নষ্ট করবেনা”
—–
ক্লাসে এসে জুথি খাতা কলম নিয়ে সবার নাম নেওয়া শুরু করেছে।নামের লিস্ট করে সেটা অর্ণবকে দিতে এসে জানতে পারলো ও আরেক ডিপার্টমেন্টে চলে গেছে।এবার সে ছুটলো সেদিকে।
হাঁপাতে হাঁপাতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ডিপার্টমেন্টে এসে অর্ণবকে পেলো অবশেষে।অর্ণব সেখানে কয়েকজনের নাম লিখছিল খাতায়।জুথি এসে ওর হাতে কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বললো,’আমাদের বিভাগের বাইরের বিভাগরের দায়িত্ব ও কি আমাদেরই দেওয়া হয়েছে?’
-“যেহেতু বাংলা বিভাগের আমরা সেহেতু সবার দায়িত্ব ঘুরফিরে আমাদের ঘাঁড়ে এসেই পড়বে।এসেছেন ভাল করেছেন। এবার এই ক্লাসরুমে ঢুকে সবার নাম নিয়ে আসেন’
জুথি মুখ বাঁকিয়ে চললো লিস্ট করতে।
এসব কাজ শেষ করতে করতে বিকাল হয়ে গেছে ওর।শেষে ক্লান্ত হয়ে বটতলার নিচে বসে ফোনে দেখছিল কটা বাজে।অর্ণব ওর পাশে এসে বসলো হঠাৎ।আচমকা ওকে বসতে দেখে জুথি সরে বসলো।অর্ণবের হাতে ফুচকা দুই প্লেট। এক প্লেট ওর দিকে ধরে সে বললো,’স্যারের পক্ষ থেকে ট্রিট’
-‘কেন?’
-‘অনেক খাটনি গেছে আমাদের সে জন্যে।খান নাহলে আমি খেয়ে ফেলবো।
আমার অনেক প্রিয় ফুচকা’
জুথি প্লেটটা কেড়ে নিয়ে আড়চোখে তাকালো,তার নিজেরও অনেক প্রিয় এটা।অর্ণবের ফোন বাজছে।অফিসে নতুন ক্যান্ডিডেট এসেছে।সবসময় নতুন ক্যান্ডিডেটদের অর্ণব নিজেই ট্রেইন করে।তাই জলদি করে ফুচকা শেষ করছে সে।জুথি ওর দিকে ফিরে বললো,’আস্তে খান।আমিও যাব কম্পিউটারের দোকানে।আমার একটা কাজ আছে’
অর্ণব মুখে ফুচকা পুরে বললো,’আমার সঙ্গে যেতে চান?আমি কখনও রিকশা নিইনা।হেঁটে যাই,পারবেন দুই মাইল হাঁটতে?’
জুথি ব্যাগ থেকে টাকা বের করে বললো,’এই যে টাকা।আপনি চাইলে আমার সঙ্গে যেতে পারেন’
-‘আপনার সঙ্গে গেলে হয় আপনি আমায় জ্বালাবেন নাহয় অন্য কিছু করে মেজাজ গরম করবেন।তার চেয়ে বরং আমি যেভাবে যেতাম সেভাবে যাব,আপনি রিকশা করে আসেন’
প্লেট দোকানে রেখে অর্ণব হাঁটা ধরেছে।মিনিট দশেক পর দূর থেকে কারো তেড়ে আসার আওয়াজ পেয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখতে পেলো জুথি দৌড়ে আসছে এদিকে।
অর্ণবের কাছে এসে ওর সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে বললো,’আসলে আমি একা কোথাও যাইনা।আপনি থাকলে একটু সাহস পাবো’
অর্ণব হেসে বললো,’আপনার আবার সাহস কম?সেটাও বিশ্বাস করতে হবে আমায়? ‘
-‘সবসময় সাহস থাকেনা।কুমিল্লায় আমার চাচার বাড়ির পাশের একটা ছেলে অনেক ডিস্টার্ব করে তাই আমি ওখানে যেতে চাচ্ছি না।কিন্তু বাবা তো বোঝেনা।ভাবলাম আপনাকে জ্বালালে আপনি মেনে যাবেন।আপনি মেনেও গেছিলেন কিন্তু হঠাৎ বাবা আবার রিকুয়েস্ট করায় আগের মতে ফিরে গেলেন’
-“আপনার মধ্যে যে সাহস আছে সেটাকে কাজে লাগান।এমন ভীতুর মতন থাকলে হবেনা।আমাকে যে পরিমাণ জ্বালালেন তেমন করে যদি ঐ ছেলেটাকে জ্বালাতেন তাহলে কাজের কাহই হতো।মেয়েদের ডিস্টার্ব করার ভূত নামতো তার ঘাঁড় থেকে’
জুথি হাসতে হাসতে বললো,’যদি সত্যি এমনটা করতাম তাহলে সে আরও বেশি করে প্রেমে পড়ে যেতো।শুধু সে নয়।যত ছেলে আছে সবাই প্রেমে পড়তো কিন্তু প্রেমে পড়ছেননা আপনি।আপনার মন শক্ত’
অর্ণব জুথির দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি দিয়ে বললো,’ঠিক বললেন।আসলেই আমার মন শক্ত। কথাটা শুধু আপনি নয় সবাই বলে।পুরুষদের মন শক্ত হতে হয়।নরম মন তো মেয়েদের হওয়া চাই’
জুথি এর বিরোধিতা করে বললো,’না তা নয়।মেয়েদের ও মন শক্ত হওয়া উচিত নাহলে আপনার মতন শক্ত মনের ছেলেরা তাদের কষ্ট দিবে বারবার আর তারা নরম মনের হয়েছে বলে শুধু কষ্টই পাবে’
অর্ণব থেমে গেলো।হুট করে এই প্রসঙ্গে কুসুমের কথা মনে আসলো।কুসুমের মন ও তো নরম।আর সে শক্ত মনের বলে ওকে কতবড় আঘাত দিয়েছে।সে তো কষ্ট পেয়েছে।জুথি মুখের সামনে হাত নড়াচড়া করে বললো,’আপনিও দিছেন নাকি এমন কষ্ট?’
অর্ণব আবার হাঁটা ধরে বললো,’জানিনা।আচ্ছা যদি কেউ বাধ্য হয়ে নরম মনের কাউকে কষ্ট দিয়ে ফেলে তখন তার কি উচিত?’
-“যদি বাধ্য হয়ে দেয় তবে তার উচিত পুরো ঘটনাটা তাকে খুলে বলা, যে কেন তাকে কষ্ট দিয়েছে।তাহলে নিশ্চয় সে কষ্ট পেলেও অন্তত বুঝবে আপনি ইচ্ছা করে করেননি’
অর্ণবের মনে যেন প্রশান্তি লাগলো জুথির কথায়।মনে হলো ঘাঁড় থেকে চাপ নেমে গেছে।হালকা লাগছে।
অর্ণবের সাথে একটা মেয়েকে অফিসে ঢুকতে দেখে বাকিরা ভূত দেখার মতন মুখ করে রেখেছে।অর্ণব ও বুঝতে পেরেছে সবাই এমন চমকে আছে কেন।তাই শুরুতেই বলে দিলো’ জুথি আমার ডিপার্টমেন্টের জুনিয়র স্টুডেন্ট। একটা ফটোকপি করতে এসেছে এখানে।রাকিব তুমি করে দাও কাজটা আমি নতুন ক্যান্ডিডেটের কাছে যাচ্ছি।’
জুথি কাগজ এগিয়ে ধরে বললো,’আপনারা প্রথমে এমন বাংলার ৫ এর মতন মুখ করে চেয়ে ছিলেন কেন?আমাকে চেনেন নাকি আপনারা?’
-‘আসলে অর্ণব ভাইয়ার সঙ্গে কখনও কোনো মেয়েকে আমরা দেখিনি।বড়জোর ম্যামদের দেখেছি।কিন্তু নরমালি এরকম সিচুয়েশনে কোনো মেয়েকে দেখিনি আগে।তাই সবাই একটু অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।’
জুথি টেবিলে হাত রেখে ফিসফিস করে বললো,’সবাই বুঝি ভাবলো অর্ণব ভাইয়ার গার্লফ্রেন্ড এসে হাজির?হাহাহা’
-‘হুম তাই ভাবলাম।আহা আস্তে বলুন।ভাইয়া শুনলে বকবে আমাদের।ভাইয়ার নামে কেউ এমন কথা বললেও ভাইয়ার রাগ হয়।’
জুথি কাগজ গুছিয়ে অর্ণবের দিকে তাকিয়ে বললো,’ভাইয়া টাকা কত দেবো?’
অর্ণব চশমা পরতে পরতে বললো’ফ্রি’
জুথি দুষ্টুমি করে যেতে যেতে বললো,’দেখলে সবাই?আমি সিরিয়াসলি তোমাদের অর্ণব ভাইয়ার গার্লফ্রেন্ড তাই তো মুফতে কাজ করিয়ে নিতে পেরেছি’
জুথি কথাটা বলে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে।এদিকে অফিসের সবাই অর্ণবের দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।অর্ণব হালকা কেশে বললো,’ও আসলে আমার খালার দেবরের মেয়ের মেয়ে।সম্পর্কে আমি ওর মামা হই।বুঝলে?আজব!!! এখনও মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে কি বুঝাচ্ছো তোমরা?কাজে মন দাও’
চলবে♥