লীলাবালি পর্ব-১৩+১৪+১৫

0
486

#লীলাবালি🌺
#পর্ব_১৩
আফনান লারা
.
এই গ্রামের নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে যে জায়গাটা একেবারেই নির্জন ঠিক সেই যায়গায় আস্তানা পেতেছে এক বিশাল জলদস্যুর দল।
পঞ্চাশ জনের দলটা এখানের স্থায়ী বাসিন্দা।তবে মাঝে মাঝে কাজের কারণে অন্য স্থানে ভ্রমণ করে বেড়ালেও ঘুরেফিরে এই জায়গাতেই চলে আসে তারা।দলের প্রধান আমির তিয়াজি।তার বংশদর মিলেই পঞ্চাশ জন হয়েছে।আমির তিয়াজির একমাত্র নাতি রাখাল তিয়াজি।কুসুমের যখন পাঁচ বছর বয়স তখন আমির তিয়াজি প্রস্তাব রাখে কুসুমের সাথে রাখালের বিয়ের ব্যাপারে।তাদের রীতিতে মেয়েদের এমন বয়সেই বিয়ে হয়।কুসুম বাচ্চা বলে একমাত্র এই বাহানা দিয়ে কুসুমের বাবা প্রস্তাব প্রত্যাখান করে দিয়েছিলেন।আসল কারণ হলো জলদস্যুদের সাথে সম্পর্ক গড়তে চাননা তিনি।
কিন্তু এটাই কাল হয়ে দাঁড়ালো।শুরু হলো তাদের অত্যাচার।আমির তিয়াজির মেয়ে সারাদিন কুসুমদের বাড়িতে আসতো ওকে দেখার জন্য।শুধু তাই নয়।তাদের দশ বছর বয়সী রাখালও আসতো সঙ্গে সঙ্গে।বিষয়টা কেউই ভালো চোখে দেখেনি।গুরুজনেরা বুদ্ধি দিলো কুসুমকে যেন দূরে কোথাও পাঠিয়ে দেওয়া হয়।কারণ আমির তিয়াজি অনেক মারাত্নক লোক।তার থেকে রেহায় পাওয়া মুখের কথা না।
এই বুদ্ধিটা মানতে চাইলোনা কুসুমের বাবা।যার কারণে তিনি চুপ রয়ে গেলেন।কিন্তু রাখাল একদিন কুসুমকে একা পেয়ে ওর হাত ধরে ওদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া ধরেছিলো জোর করে টেনে হিঁচড়ে।কুসুমের দাদি ছুটে এসে ওকে আটকালেন।ঘটনাটা কুসুমের বাবার কানে আসতেই তিনি সেদিনই সিদ্ধান্ত নিলেন কুসুমকে ভারতে পাঠিয়ে দেবেন ওর নানির কাছে।সেবার কুসুম চলে গিয়েছিল রাতের অন্ধকারে।সবার চোখের আড়ালে।
এরপর রাখালের পরিবার তন্নতন্ন করে খুঁজেও ওকে কোথাও পায়নি।তবে তারা হাল ছাড়েনি।কয়েক বছর পর অন্য জায়গায় চলে গিয়েছিল অন্য কাজে।সেসময়ে কুসুমের ১৩বছর হয়েছিল।তাই ওর পরিবার ওকে দেশে ফিরিয়ে আনে আমির তিয়াজির পরিবারের অনুপস্থিতিতে।
যে কোনে সময় তারা আবার ফিরে আসতে পারে সেই ভয়ে কুসুমের বাবা এখনও রাতে ভাল ঘুমাতে পারেননা।
কুসুমের বিয়ের কথা শুনে মনে শান্তি লাগলেও বিয়েটা যখন ভেঙ্গে গেলো তখন ভয় করলো।অনেকেই বলেছে আমির তিয়াজি এত পুরনো কথা মনে রাখবেনা।কিন্তু তাদের ধারণা সম্পূর্নটাই ভুল।সেদিন বাজারে মাফলার পরিহিত রাখালকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাওতে দেখে কুসুমের বাবার বুকে ব্যাথাটা খুব বেড়ে গেছে।কিছুই জানতে দেননি কাউকে।শুধু কুসুমের মাকে বিষয়টা জানিয়েছেন।স্বামীর অসুস্থতা তার নজরে সবার আগে পড়েছে।বাধ্য হয়ে তিনি কারণ বললেন।
ওদের মধ্যে যে আগুন জ্বলছে তা নেভানোর জন্য তারা একদিন না একদিন বিপদ ডেকে আনবেই।
যে করেই হোক কুসুমের জীবন বাঁচাতে হবে।তাই দ্রুত তিনি ওকে ভারতে পাঠিয়ে দেবার ব্যবস্থা করে ফেলেছেন।
কুসুম যে তার বাড়িতে এটা মনে হয় রাখালের পরিবার এখনও জানেনা।জানলে মহা সর্বনাশ!!আর ধরে রাখা যাবেনা কুসুমকে।
এমন বয়সে,এমন রুপে ওকে দেখলে ওদের হাত থেকে বাঁচানো যাবেনা কিছুতেই।
এসব ভেবে কুসুমের বাবার শরীর খারাপ হয়ে গেছে কদিন ধরে।রাখালের ওমন তীক্ষ্ণ নজর দেখে তার বুকের ভেতর কাঁপছে।এমন একটা হিংস্র মানুষের সাথে তিনি মরে গেলেও তার ওমন ফুটফুটে মেয়েটাকে তুলে দেবেননা।

কুসুম এ ব্যাপারে কিছুই জানেনা।তাকে বলা হয়েছে বিশেষ একটা কারণে ভারতে পাঠানো হয়েছিল।এই কারণটা হিসেবে ওরে মা বলেছিলেন তাদের আর্থিক সমস্যা। কিন্তু রাখালের ব্যাপারে তারা ওকে কিছুই জানায়নি।জানানোর প্রয়োজন মনে করলেন না।কি দরকার মেয়ের মনে ভয় ঢুকানোর??
কুসুম মাঝে মাঝে ভাবে মা বাবা কেমন রক্ষণশীল ব্যবহার করে সবসময়।
কলির জন্য তো এমন করেনা যতটা তার জন্য করে।দাদি মাঝে মাঝে বেড়াতে আসলে তার কাছ এই প্রশ্ন সে করে। তিনি বলেন কুসুম দেখতে সুন্দর এটাই আসল কারণ।দেখতে সুন্দর মেয়েদের নিয়ে তাদের পরিবারের চিন্তা বেশি থাকে।
কুসুম আর জিজ্ঞেস করেনা এ ব্যাপারে।।
—–
পড়ার টেবিলে বই সব ব্যাগ থেকে বের করে রেখে একটা বই খুললো জুথি।কবিতার বই।নাম অগ্নিবীণা।কয়েকটা পৃষ্ঠা উল্টানোর পর দেখলো সেখানে শুকনো গোলাপ একটা।
হা করে চেয়ে থেকে গোলাপটা হাতে নিলো সে।এটা এখানে আসলো কি করে??গোলাপের নিচে একটা চিরকুট। তাতে লেখা-‘আমার কথা আমি রাখলাম।গোলাপ আপনাকে দিয়েই ছাড়লাম।আর কোনো অভিযোগ করতে পারবেননা আপনি’

এই কান্ড কখন ঘটাইলো?
জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে ফোন হাতে নিলো জুথি।অর্ণবকে মেসেজ করে বললো,’মরা ফুল দিয়ে কি করবো আমি?’

অর্ণব নেটে ছিলনা।কয়েক মিনিট পর নেটে এসে ওর মেসেজ দেখে লিখলো,’অর্নব কাউকে ফুল দেয়না।তাও নিজের পকেট খরচে।ঐ ফুল ভার্সিটি কর্তৃক ‘

-“তাই নাকি?তো আজ ফটোকপির টাকা নিলেননা কেন?’

অর্ণব থতমত খেয়ে চুপ করে থাকলো।কোনো মেসেজ করলোনা।জুথি মিটমিট করে হাসছে শুধু।সেসময়ে মায়ের ফোন আসায় রিসিভ করে বিছানায় এসে বসলো সে।মা ওর খোঁজখবর নিলেন।বললেন তিনি আসতে পারেন খুব শীঘ্রই।হয়ত ঈদের পরে হবে হয়তবা ঈদের আগে।ঠিক করে বলতে পারছেননা।

অর্ণব ব্যাগ থেকে সব শার্ট বের করে আলমারিতে রাখছিল।হঠাৎ একটা শার্টের ভেতর থেকে ঝুনঝুন আওয়াজ করে সেই ঝিনুকের মালাটা নিচে পড়ে গেলো।অর্ণব নিচে বসে সেটা হাতে তুলে দেখলো একটা ঝিনুক ভেঙ্গে গেছে।যার কারণে অটোমেটিক পুরো মালাটা ছিন্ন হয়ে গেলো।অর্ণব ফ্লোরে গোল হয়ে বসে সবগুলো ঝিনুক কুড়িয়ে নিয়ে একটা বক্সে রেখে সুই সুতা খোঁজা শুরু করে দিয়েছে।কিন্তু কোথাও সে পেলোনা সুই সুতা।পরে ভাবলো কাল আসার সময় সুই সুতা কিনে আনবে।
—–
কুসুম অর্ণব লেখার চেষ্টা করছিল নদীর ধারের সেই বটগাছটার নিচে বসে।ঠিক সন্ধ্যা পর্যন্ত চেষ্টা করে সে সফল হলো কলির মতন করে অর্ণব লিখতে।তার খুশি আর ধরেনা।
হঠাৎ পায়ে কিসের যেন কামড় লেগেছে বলে কাগজ ফেলে পা খাঁমছে ধরলো কুসুম।চিকন করে একটা পোকা।কামড় বসিয়ে দিয়েছে ।কুসুম পোকাটাকে দেখে বেশ ভয় পেয়ে গেলো।সেই জায়গা থেকে উঠে সামনে না তাকিয়ে ছুটতে গিয়ে একটা ছেলের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে নিচে পরে গেলো সে।হাঁপাতে হাঁপাতে মাথা তুলে তাকালো উপরে।তার সামনে মাফলার পরা একটা ছেলে।পরনে লুঙ্গি। গায়ে মোটা শালের কালো চাদর।আর চিকন মাফলার দিয়ে অর্ধেক মুখ ঢাকা।কুসুম এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।ছেলেটা নিচে বসে খপ করে কুসুমের পা ধরে দেখতে লাগতেই কুসুম চেঁচিয়ে পা সরিয়ে নেওয়ার বৃথা চেষ্টা করতে করতে বললো,’আপনি কে?আমার পা ধরছেন কেন?কেউ আছে বাঁচাও!’

ছেলেটা কুসুমের পায়ে নিজের কোমড়ে থাকা একটা তীর নিয়ে ঢুকিয়ে দিলো হুট করে।কুসুম আরও জোরে চিৎকার করলো।কিন্তু কেউই শুনলোনা।এদিকটায় এ সময়ে কেউ আসেনা।ছেলেটা ওর পা টিপে ধরে কিছু রক্ত বের করে তার থেকে তীরটা ছুটিয়ে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো।কুসুম নিজের পা ধরে দেখে আবার ছেলেটার দিকে তাকালো।ছেলেটা কুসুমকে দেখতে দেখতে চলে গেছে।কুসুমের সারা শরীর কাঁপছে।কি থেকে কি হয়ে গেলো তাই বুঝে উঠতে পারলোনা সে।১০সেকেন্ডের ব্যবধানে আর কোথাও ছেলেটাকে দেখতে পেলোনা কুসুম।
কুসুম ভেবেছিল ছেলেটা হয়ত ওর উপকার করেছে।কিন্তু এটা ছিল সম্পূর্ণ ওর ভুল ধারণা।পোকার দংশন থেকে বাঁচাতে সে তীর ঢোকায়নি ওর পায়ে।বরং তীর ঢুকিয়েছিল বিষ ওর শরীরে দেওয়ার জন্য।পায়ের অসহ্যকর যন্ত্রনায় ছটফট করছে কুসুম। চারিদিকে অন্ধকার নেমে এসেছে।
কলি এদিকে আসতেছিল কুসুমকে বাড়ি নিয়ে যেতে।মা বলোছিলেন ওকে যেন একা না ছাড়ে।কুসুমকে এখানে বসে কাঁদতে দেখে সে দ্রুত হেঁটে আসলো ওর কাছে।কুসুমের পা কালো হয়ে যেতে দেখে সেও গলা ফাটিয়ে চিৎকার করলো।কেউ ওর আওয়াজ শুনলোনা।শেষে কুসুমকে রেখে সে বাড়ির দিকে ছুটলো বাবাকে ডেকে আনতে।
চলবে♥

#লীলাবালি🌺
#পর্ব_১৪
আফনান লারা
.
কুসুমের চোখের সামনে চারিদিক অন্ধকার হয়ে আসলো।যখন চোখ খুললো নিজেকে হাসপাতালের সাদা বিছানায় দেখে চমকে উঠে বসলো সে।পায়ে প্রচণ্ড ব্যাথা।সাদা কাপড় বাঁধানো।পাশে তাকিয়ে দেখলো কলি হাতের উপর মাথা রেখে জানালার সাথে লেগে ঘুমাচ্ছে।রুমে আর কেউ নেই।মা বাবা সেসময়ে রুমে ঢুকে ওকে উঠে বসে থাকতে দেখে কাছে এসে দাঁড়ালেন দুজনে।কুসুম তার পা ধরে তাদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো তার কি হয়েছিল।

-‘তোর পায়ে বিষ ঢুকে গিয়েছিল রে মা।কলি যখন আমাকে ডেকে নিয়ে আসে তখন তোকে অচেতন অবস্থায় দেখে আমরা হাসপাতালে নিয়ে আসি তোকে।ডাক্তারবাবু দেখে বললেন তোর পায়ে নাকি বিষ ঢুকেছে।তো বিষ তারা বের করে নিয়েছে।তোকে কি কিছু কামড়ে ছিল??’

কুসুম মাথায় হাত দিয়ে ভেবে বললো,’একটা পোকা কামড়ে ছিল।কিন্তু তারপর….’

-‘কেমন পোকা?’

-“তারপর একটা লোক এসে তীর আমার পায়ে বিঁধে রক্ত বের করলো।তারপর থেকেই পায়ে হঠাৎ ব্যাথা শুরু হলো’

বাবা চমকে কুসুমের পাশে বসে বললেন,’কি বললি?একটা লোক?দেখতে কেমন ছিল?কেমন তীর?’

-‘মাফলার ছিল বলে চিনি নাই।তবে অনেক কালো ছিল দেখতে।আর হাতের তীরটা সবুজ রঙের ছিল।চেনো?

বাবা কুসুমের মায়ের দিকে তাকিয়ে উঠে চলে আসলেন ওখান থেকে।কুসুমের মা পিছু পিছু এসে কেঁদে বললেন,’এটা নিশ্চয় আমির তিয়াজির লোক’

-‘হুমম।এখন কি করবো আমরা??ডাক্তার তো বলেছেন কুসুম আর দশ/বিশদিনেও হাঁটতে পারবেনা।ভারত যাবে কি করে?’

-‘ভারত যেতে এখনও সতেরো /পনেরো দিন বাকি।দেখি কি হয়’

-‘কুসুমকে তো এখন বাড়িতে রাখাও অনিরাপদ হয়ে দাঁড়াবে।কি করবো?কেমন করে বাঁচাবো আমাদের মেয়েটাকে?আচ্ছা ওরা ইচ্ছে করে এমন করেনি তো?যাতে আমাদের কুসুম ভারত না যেতে পারে?তারা কি খবর পেয়ে গেছে কোনোভাবে?’
——
-‘এগারোটা বছর ধরে আমরা অপেক্ষা করেছি ঐ কুসুকে আমাদের ঘরে তুলতে।এগারোটা বছর!!!এটা কি তাদের কাছে কম মনে হয়??
কুসুকে তারা তাহলে ভারতে লুকিয়ে রেখেছিল।ঐ যে একটা কথা আছেনা।ভগ্যে থাকলে তুমি লুকায় পার পাইবা কেমতে??
এখন হইছে তাই।এতবছর আমাদের চোখের আড়াল করে রেখেছিল ওরে, সেই আমরা যখন উত্তর থেকে ফিরে আসলাম সেইক্ষণে মেয়েটাকেও বাড়িতে পেয়ে গেলাম।’

-‘আব্বা তাহলে কি আমরা ঐ মাইয়ারে তুইল্লা আনবো?’

আগুন জ্বালিয়ে মাটিতে পাতা বিছিয়ে আমির তিয়াজি আর তার সাঙ্গপাঙ্গররা কথা বলছিল।পেছনে নারকেল গাছের তলায় রাখাল বসে বসে কুসুমের পায়ের নুপুরটা হাতে নিয়ে দেখতে দেখতে বললো,’তুলে আনবো না তো কি করবো?ঐ লোক তার মেয়েকে আমাদের হাতে তুলে দেবে?আমাদের ভয়ে সেই আবারও ভারতে পাঠানোর ফন্দি আঁটছে”

রাখালের মা মুন্নি তিয়াজি ওর দিকে ফিরে বললেন,’ঘুঘুকে আমরা নিজেরাই ফাঁদে ফেলেছি। মেয়ের পা বিষাক্ত করে দিয়েছি।এবার সে শুয়ে শুয়ে যাওয়া ছাড়া ভারত যাইতে পারবেনা’

রাখাল নুপুরটা মুঠো করে ধরে বুকে হাত রেখে বললো,’ওরে আমার এক্ষুণি লাগবে’

-‘বাপ সবুর কর!ওরে আমি তোর লগেই বিয়া দিমু।কিন্তু অপেক্ষা করা জরুরি।যদি পুলিশ নিয়ে আসে তাহলে বিপদে পড়বো আমরা।’

আমির তিয়াজি কমদামী নেশাদ্রবের একটা বোতল হাতে নিয়ে ছিপি খুলতে খুেতে বললেন,’মাইয়াটাকে তুলে আনলে ওরা মরে গেলেও আর আমাদের ঠিকানা পাবেনা।আমার মনে হয় ওকে তুলে নিয়েই আসা উচিত’

রাখাল উঠে দাঁড়িয়ে বললো, তবে আমি যাই ওরে তুলে আনতে?? আজ রাতেই?’

-‘নাতি তোমায় আরও সবুর করতে হবে।এগারোটা বছর অপেক্ষা করেছো আর এগারোটা দিন অপেক্ষা করতে পারবেনা??তোমায় আমি কি কথা দিছি?কুসু হইলে তোমার হইবে আর নানহইলে কারোর হইবেনা’

রাখাল নুপুরটাকে ধরে রেখে তাদের বাড়ির ভেতর ঢুকে গেলো রেগে।আজকে কুসুমের পায়ের থেকে নুপুরটা সে নিয়ে এসেছিল।।কুসুম বুঝতেই পারেনি।
——
অর্ণব ভোরবেলায় নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে আসার পথে মসজিদের বাহিরে একটা সুই সুতার দোকান খোলা পেয়ে কিনে নিলো সুই সুতা।মেসে ফিরে এসে মশারির ভেতর ঢুকে বসলো মালা গাঁথতে।প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়ে এসে সে আবার ঘুমায়।তারপর আটটায় উঠে রেডি হয়ে ভার্সিটিতে যায়।
আবছা আলোয় মালা গাঁথতে অসুবিধা হচ্ছিল বলে ফোনের ফ্ল্যাশলাইট অন করে গাঁথা শুরু করলো সে।কানের কাছে একটা কথা বাজছে যতবার সে ঝিনুকের মাঝে সুই গাঁথছে।

-‘আপনি হাত পরে ধরিয়েন।’

কাজের ফাঁকে হেসে ফেললো অর্ণব।তারপর মনে আসলো এই মেয়েটার সাথের সব সম্পর্ক সে শেষ করে এখানে এসেছে।
এটা তো সত্যি।তাহলে কেন তাকে ভুলতে এত দ্বিধা?
কেউ নাকি কাউকে ভুলতে না পারা মানে ঐ মানুষটাও তাকে ভোলেনি।তাহলে কি কুসুম ও আমায় ভোলেনি?সে কি আমায় এখনও মনে রেখেছে?আচ্ছা সে কি আমার ব্রেসলেটটা যত্ন করে রেখেছে?
রাখুক!আমার কি তাতে??বাচ্চা একটা মেয়ের বাচ্চামিতে গলে জুস হয়ে গেছি।ধুর ধুর!!মালাটা ওকে ফেরত দিয়ে দিব।নাহলে এই মালা যতদিন আমার কাছে থাকবে আমার রাতে ঘুম হবেনা।
নিজের ইচ্ছেতেই তো ওরে জীবন থেকে বের করে দিয়েছি তাহলে এত মনে কেন পড়তেছে বুঝতেছিনা।ও হ্যাঁ মানুষের যখন কোনো কাজ থাকেনা তখন সে হুদাই উল্টাপাল্টা চিন্তা করে।আমারও হয়েছে তাই।
এত আবেগ ভাল না অর্ণব!বি স্ট্রং!তুমি শক্ত মনেী মানুষ।এটা জুথি বলেছিল।অথচ কথাটা কুসুমের বলা উচিত ছিল।
—–
কুসুম মা বাবার সাহায্যে সকাল সকাল বাড়ি ফিরে এসেছে।বাবা মা ওকে রাখালের কথা এখনও বলেননি।একটা কথাই বললেন আজ থেকে কুসুমের বাহিরে বের হতে মানা।কুসুম ভাবলো তার পায়ে বিষ ঢুকেছে বলে তারা এ কথা বলেছেন।
আজ সকালেই অর্ণবের বাবা ফোন করেছিলেন খোঁজ খবর নিতে।কুসুমের অবস্থার কথা শুনে তিনি বললেন অর্ণবের মাকে সঙ্গে করে এখানে আসবেন কুসুমকে দেখতে।
কুসুম শুনলো তাদের আসার কথা।মনটা হঠাৎ খারাপ হয়ে গেলো।যাদের সাথে কোনো লেনাদেনা নেই, বিচ্ছেদ ঘটেছে তাদের আসার কথা শুনে খুশি হতে চাইলেও বড্ড কষ্ট হয়।
—–
অর্ণব মাকে ফোন করেছিল এমনিতে কথা বলতে।কুসুমের কথা মা জানাতে চাননি ওকে।শেষে কলে থাকাকালীন বাবা চেঁচিয়ে বললেন,’তোমার গুনধর ছেলেকে শোনাবেনা?কুসুমের শরীর খারাপের কথা?নাকি তার কথা শুনলেও উনার অস্বস্তি লাগে?’

-‘জানিস কুসুমের পায়ে কি যেন কামড় দিয়েছিল।এমন বিষক্রিয়া হলো যে ওকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে।মেয়েটার শরীর ভালনা।বিশ দিন নাকি হাঁটতে পারবেনা শুনলাম’

অর্ণব আশ্চর্য হয়ে বললো,’এখন কেমন আছে?সাপে কামড়েছিল নাকি?’

-‘নাহ।বললো তো কিসের যেন পোকা’

-‘ওহ।তোমরা দেখতে যাবে?’

লাউড স্পীকারে ছিল বলে অর্ণবের কথা বাবা শুনছিলেন।শেষের কথাটা শুনে এগিয়ে এসে ওর মায়ের হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে কানে ধরে তিনি বললেন,’তো কি তের মতো অকৃতজ্ঞর মতন ওদের ভুলে যাবার জন্য দিন গুনবো?তোর তো কিছু যায় আসেনা! কুসুম মরলেও বাঁচলেও।কিন্তু আমাদের তো যায় আসে।কারণ আমরা ওকে আপন করে নিয়েছি।তুই তো আর আমাদের মতন না।তোর কাছে ছোট মাছ ভাল্লাগেনা অথচ সেগুলো উপকারী।তোর তো বড় রুই কাতল ভাল্লাগে।তো বিয়ে কর বয়সে বড় একটা মেয়েকে।আমরাও দেখি কেমন করে কুমিল্লায় পা রাখোস।’

অর্ণব থ মেরে বসে আছে।বাবার কথা শুনে নিজেকে আরও বেশি অপরাধী মনে হচ্ছে।আজীবন বাবা খোঁটা দেবে কুসুমকে নিয়ে।যা বোঝা গেলো ভবিষ্যতে বিয়ের পর তাদের মুখ দেখতে গেলেও ডাস্টবিন ছুঁড়ে মারবে কপালে’

-‘কি হলো কথা বলিস না কেন?সাহস দেখা একবার।আমিও দেখাবো তোকে আমার এই বয়সে এসে সাহস এখনও আগের মতনই আছে।আমাদের আর ফোন দিবিনা তুই।মায়ের কিসের খবর রাখতে ফোন দেস?তোর মা যে কুসুমের জন্য কাঁদে তখন তোর মায়ের প্রতি আদর ভালবাসা কই থাকে?’
চলবে♥

#লীলাবালি🌺
#পর্ব_১৫
আফনান লারা
.
অর্ণব রাগ করে কল কেটে দিয়েছিল।

-‘আপনি থামবেন সাগরের বাবা??আমি কাঁদছি তো কি হয়েছে?বিয়েটা অর্ণব করবে।তার মত আমাদের নিতেই হতো।
কুসুমকে আমাদের সবার পছন্দ হয়েছে কিন্তু যে সারাটা জীবন কাটাবে ওর সঙ্গে তার তো পছন্দ হয়নি।তাহলে বিয়েটা আমরা ওর অমতের ভিত্তিতে দিয়ে দুজনকেই অসুখী করে রাখতাম?
যা হয়েছে ভাল হয়েছে।জোর করে বিয়ে দিলে ওরা কেউই ভাল থাকতোনা।
অর্ণব যারে পছন্দ করে বিয়ে করুক না কেন আমি হাসিখুশি মেনে নেবো।আমার কোনো আপত্তি নাই।আপনি আর এই কথা ধরে বসে থাকবেননা।ছেলের সুখই আমাদের সুখ।ওর সামনে পরীক্ষা। ওকে এসব বললে রাগ করে কি না কি করে বসবে।পড়ায় মন বসাতে পারবেনা।তাছাড়া সামনে যে পরীক্ষাটা ও দিবে সেটা তো ফাইনাল পরীক্ষা। আপনার উচিত বকাবকি না করে ওকে বুঝানো।সুন্দর করে বুঝালে হয়ত বুঝবে।আর না বুঝলে কি করার।হয়ড কুসুমের ভাগ্যে আমাদের অর্ণব নেই।জোরাজুরিতে তো আর ভাগ্য বদল হয়না।’
—–
ভার্সিটিতে আসার পর থেকো অর্ণব কোনো কিছুতেই মন বসাতে পারছিলনা।বাবার বলা কথাগুলো খুব খারাপ লেগেছে।
-‘আসলেই কি কুসুমকে বিয়ে করলে আমার ভাল হতো?
কিন্তু আমার মন মানছিলনা বলেই তো বিয়েটা করিনি।শুরু থেকেই ওকে আমার ভালো লাগতোনা।এমন নয় যে সে কুৎসিত,তার মন ভাল না,তার শরীর সুন্দরনা।সে পারফেক্ট কিন্তু আমি তাকে বিয়ে করতে চাইনা।’

ভাবতে ভাবতে দরজা দিয়ে ঢুকতে গিয়ে ওয়ালের সাথে একটা বাড়ি খেয়ে গেলো সে।মাথায় হাত রেখে ক্লাসের দিকে তাকিয়ে দেখলো সবাই চুপ করে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।জুথি নিরবতা ভেঙ্গে ফিক করে হেসে ফেললো।’হাহাহাহা’

অর্ণব কপাল কুঁচকে ক্লাসের ভেতরে ঢুকলো।জুথিকে তার পাশের দুটো মেয়ে বললো কেন সে হাসছে।এটা ঠিক হলোনা।
জুথি কোনো উত্তর দিলোনা।অর্ণব বই টেবিলে রেখে হাত দিয়ে চুলগুলোকে ধরে এক টান দিয়ে চেয়ারে বসলো।প্রচণ্ড মাথা ধরেছে। চোখ বন্ধ করে বড় একটা দম ফেলে বললো,’কি পড়া ছিল যেন??রেডি করো সবাই।আমি কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবো’

জুথি মাথা লুকিয়ে পৃষ্ঠা উল্টাচ্ছিল।অর্ণব বই খুলেই বললো,’জুথি দাঁড়াও।আমি কবিতার লাইন বলছি তুমি ব্যাখা করবে’

জুথি সোজা হয়ে দাঁড়ালো।অর্ণবের মুখে কবিতার লাইন শুনে ব্যাখা করতে পারলোনা।চোরের মতন দাঁড়িয়ে থাকলো শুধু। অর্ণবের মন চাইলো কানে ধরিয়ে ওরে বিশবার উঠ বস করাতে।কিন্তু পারলোনা করিম স্যারের ভয়ে।মনে মনে নিজেকে আয়ত্তে এনে ঠাণ্ডা মাথায় বললো ওকে বসতে।জুথি ভেবেছিল আজ তাকে অর্ণব যত কঠিন শাস্তি আছে তা দেবে।কিন্তু আচমকা ওর এমন সুন্দর ব্যবহার একদমই আশা করেনি সে।
পুরো ক্লাসে একবারও অর্ণব তাকালোনা ওর দিকে।ক্লাস শেষ করে মেসে চলে এসেছে আবার।
জুথি অহেতুক পুরো ভার্সিটিতে ওকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল।ঐদিনের সপই ছেলেটা,আদিলের কাছ থেকে জানতে পারলো অর্ণব মেসে ফিরে গেছে।
-‘কি ব্যাপার!!উনার কি হয়েছে?আমার উপর রাগ নাকি অন্য কিছু?তখন যে হাসছিলাম একটু সে কারণে নারাজ নাকি?
থাক আমার কি!’
ভাবতে ভাবতে রিকশা একটা নিলো জুথি।অর্ধেক পথ যাবার পর কি মনে করে রিকশা ঘুরিয়ে অর্ণবের মেসের দিকে চললো।সেখানে রিকশা থেকে নেমে দাঁড়ালো দালানটার সামনে।
অর্ণব বই নিয়ে বারান্দায় লম্বা হয়ে শুয়ে ছিল কার্পেট বিছিয়ে।বইতে মন দিতে না পেরে চোখ বুজে শুয়ে ছিল।রুমে মৃদুল ফোনে জোরে জোরে গান বাজাচ্ছে’নিঃস্ব করেছো আমায়!! গানটা’
মন চাইছে গ্রিল ভেঙ্গে ওটা দিয়ে ওর মাথায় একটা বাড়ি দিয়ে আসতে।সবসময় চিল মুডে থাকে সে।ওর চিল মুড দেখে অর্ণবের নিজেরই মাঝে মাঝে হিংসা হয়।একটা মানুষের ভাল লাগবে,খারাপ লাগবে,কিছু লাগবেনা এই টাইপ নিয়েই তো একটা মানুষের মন হয়,আর মৃদুলকে দেখি খোদার বারো মাস চিল মুডে থাকে।জীবনে মন খারাপ করে থাকেনা।অবশ্য এর পেছনে বিরাট বড় একটা কারণ আছে।আর তা হলো অনামিকা নামের একটা মেয়ে ওকে চিট করেছিল।তার পর থেকে মৃদুল এমন হয়ে গেছে।ওর কাছে এখন সব ভাল্লাগে।
ইশ! আমাকে যদি কেউ চিট করতো তাহলে আমিও এমন চিল মুড নিয়ে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে পারতাম।কিন্তু আমি উল্টে একটা মেয়েকে চিট করেছি।সে চিল মুডে আছে কিনা জানিনা।কিন্তু মাঝখান দিয়ে আমার ভালো লাগা ছুটি নিয়ে বাপের বাড়ি চলে গেছে।মন খারাপের সঙ্গে সংসার করতে হচ্ছে।
হঠাৎ নিচ থেকে ইটের টুকরা একটা এসে কপালের মাঝখানটায় এসে পড়লো তাট।আচমকা ভয় পেয়ে মনে হলো কলিজা বুকের চামড়া ছিঁড়ে বের হয়ে এসেছে।বুকে থুথু দিয়ে অর্ণব উঠে বসলো।কণাটা দেখে রেগেমেগে উঠে দাঁড়িয়ে আবারও নিচে কণাটাকে ফেরত মারতে গিয়ে দেখলো জুথি মাথায় হাত দিয়ে বলছে,’আমায় মারবেন না।আমি তো আপনাকে ডাকতে কণা মারলাম’

অর্ণব কণাটা ফেলে পেছনে তাকালো
মৃদুল গান শুনতে শুনতে মরার মতন ঘুমায় এখন।অর্ণব আস্তে করে রুম থেকে বের হয়ে নিচে নেমে আসলো।ওর কাছে এসে বললো,’কি চাই?আপনাকে বললাম না যখন তখন এসে পড়বেননা।আমার প্রব্লেম হয়।আর এটা কোন ধরনের ব্যবহার?কণা দিয়ে কি এবার আমার মাথা ফাটানোর প্রতিজ্ঞা করেছেন?’

-‘সরি।কি করবো বলুন?নিচ থেকে গলা ফাটিয়ে ডাককেও তো শুনেননা। তাই এই পন্থা অবলম্বন করতে হয়।যাই হোক যে কারণে এখানে আসা।আপনি আজ আপনাদের ক্লাস না করেই চলে আসলেন কেন?’

-“আমাদের কদিন পরে ফাইনাল পরীক্ষা। ক্লাস হবেনা’

-‘তো আমি যে দেখলাম তপন ভাইয়া ক্লাসে ঢুকছে?’

-‘তপন তো সেকেন্ড ইয়ারে।’

জুথি হাতের আঙুল খাঁমছে খাঁমছে আস্তে করে বললো,’আপনি কি আমার উপর রেগে আছেন?আমি যে তখন হাসলাম?’

-‘রাগ হয়েছিল।তবে আমার মন ভাল ছিলনা বলে আপনার এমন ব্যবহারে পাত্তা দেইনি।আপনার তো স্বভাবই এমন।শিক্ষার অভাবে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করবেনই তো।এটাই স্বাভাবিক ‘

জুথি রেগে গিয়ে বললো,’বাবা আমাকে সব শিক্ষা দিয়েছে।আমি ওগুলো শিখতে পারিনি এটা আমার দোষ।তাদের নিয়ে কিছু বলবেননা’

অর্ণব আঙুল তুলে বললো,’এটা বয়েজ মেস।গলা নামিয়ে কথা বলবেন।আর কখনও এখানে আসবেন না।মানুষ অন্য কিছু ভাববে।আপনি ভুলে যাবেননা আপনি একটা মেয়ে,আর আমি ছেলে।ছোট হয়ে এত সাহস দেখানো ভালোনা’

জুথি রেগে চলে যেতে যেতে বললো,’যাব না আপনার সাথে কুমিল্লায়। বাবাকে গিয়ে বলবেন আমি নিজে আপনার সঙ্গে যেতে চাইনা।আপনি খুব খারাপ!আপনার জীবনে বিয়ে হবেনা।এই জন্য মানুষের ভাল করতে নেই।মনের কথা কিজ্ঞেস করতে এসেছিলাম আর উনি আমায় এক গাদা কথা শুনালেন।আর কখনও আপনার ক্লাস করবো না ‘

অর্ণব না শোনার ভান করে চলে গেছে ভেতরে।
—-
কুসুম যখন ঘুমিয়ে পড়েছিল অর্ণবের বাবা মা দুজনে সেসময়ে ওকে দেখতে এসেছিলেন।ঘুমন্ত দেখে তাকে জাগাতে মানা করে তারা উঠোনে চেয়ারে এসে বসলেন।
কুসুমের বাবা অর্ণবের কথা জিজ্ঞেস করতেই অর্ণবের বাবা নিরাশ হয়ে বললেন,’কি আর বলবো!ওর কথা জিজ্ঞেস করে আমাদের আর লজ্জা দিবেননা।এত বুঝালাম কিন্তু সে বোঝার পাত্র না।’

-‘আপনারা জোরজবরদস্তি করবেন না দয়া করে।বিয়েতে তার মত না থাকলে এই বিয়েতে দু পরিবার খুশি হলেও তারা দুজন খুশি হতে পারবেনা।’

-‘শুনলাম আপনাদের এদিকে নাকি জঙলের অংশে দস্যুদের আস্তানা আছে?আমার কুসুম,আর কলি মাকে সাবধানে রাখিয়েন।আজকালকার যুগে যুবতী মেয়েদের নিয়ে যত চিন্তা।’

কুসুমের মা বাবা দুজনে একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে চুপ করে রইলেন।উনাদের এ বিষয়ে জানানো উচিত নাকি অনুচিত তাই ভেবে কথাটা গোপন রাখলেন তারা।চা নাস্তা করে তারা নদীর ধারে হাঁটতে বের হলেন।গল্প করতে করতে কিছু সময় কাটাবেন ভেবে।ততক্ষণে কুসুমের ঘুম ভাঙ্গলে দেখা করে একেবারে তারপর যাবেন।কুসুম সারারাত পায়ের ব্যাথায় ঘুমোতে পারেনি বলে এখন ঘুমাচ্ছে।অর্ণবের মা তার ফোন কুসুম যে বিছানায় শুয়ে ছিল সেখানে রেখে ওর মায়ের সঙ্গে পুকুর ঘাঁটে বসে গল্প করছিলেন।ফোন বাজার আওয়াজ হতেই কুসুমের ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো।উঠে বসে ফোনের দিকে চেয়ে দেখলো কল এসেছে।অর্ণবের কল ছিল।ইংরেজি Ornob লেখা ছিল বলো সে বুঝতে পারলোনা এটা কার কল।আন্দাজ করে অর্ণবের কল এসেছে ভেবে রিসিভ করে কানে ধরলো সে
চলবে♥