লীলাবালি পর্ব-১৬+১৭+১৮

0
463

#লীলাবালি🌺
#পর্ব_১৬
আফনান লারা
.
-‘মা কেমন আছো?বাবা কি আমার সাথে বেশি রাগ করে আছে?’

কুসুম চুপ করে অর্ণবের গলার আওয়াজ শুনছিল মনযোগ দিয়ে।অর্ণব কোনো সাড়া না পেয়ে আবার বললো,’হ্যালো??’

-‘আমি কুসুম’

অর্ণব অবাক হলো কুসুমের কণ্ঠ শুনে।কুসুম মায়ের ফোন পেলো কোথায়?পরে বুঝলো মা হয়ত তাদের বাড়ি গেছে।কুসুম আর কিছু বলেনি।নিজের নাম বলে সেও চুপ করে আছে।অর্ণব গলা ঠিক করে বললো,’কেমন আছেন?’

-‘এই আছি এক রকম। মরি নাই’

কথাটা যেন কুসুম খোঁচা মেরে বললো।অর্ণব বেশ বুঝতে পেরেছে।
এরকম কথারই যোগ্য সে।তাই রাগ না করে ফের বললো,’পায়ে কি কামড় দিয়েছিল আপনার?’

-“পোকা’

-‘এখন সুস্থ বোধ করছেন?’

-‘হুম।আচ্ছা রাখছি।

কুসুম ফোন রেখে দিলো।অর্ণবের কথা শুনে মনে শান্তি পেলেও বারবার করে মনে পড়ছে এই মানুষটা তাকে চায়না।তার ভাগ্যে এই মানুষটা নেই।
যার কারণে বাধ্য হয়ে সে কলটা কেটে দিয়েছে।অর্ণব ফোন সামনে ঘুরাতে ঘুরাতে ভাবলো ঐটুকুন একটা মেয়ের আবার কি রাগ!
-‘আমি মোটেও তাকে দোষ দিচ্ছিনা।আমার উপর তার রাগ একেবারে স্বাভাবিক।
যা হয়েছে ভালোই হয়েছে।আমার উপর রাগ থাকলে আমাকে ভুলতে তার কম সময় লাগবে।কিন্তু মা বাবা এটা বোঝেননা।কি দরকার সবসময় ওর খোঁজখবর রাখার?এমন করলে সে তো চেয়েও আমায় ভুলতে পারবেনা।বারবার গিয়ে তারা ওকে মনে করিয়ে দিচ্ছে অর্ণব নামের একটা ছেলের সঙ্গে একবার কুসুমের বিয়ের কথা চলছিল।তা ভেঙ্গে গেছে এখন।’

-‘কুসুমের জন্য কি আপনারা ছেলে দেখছেন ভাই?’

-‘না কি যে বলেন!চাইলেই কি আর আমার কুসুম মায়ের জন্য ভাল একটা ছেলে পাবো?তাছাড়া বয়স হোক আরও।এখনও ছোট সে।ভাবছি ঈদের আগে ভারত পাঠিয়ে দেবো’

অর্ণবের বাবা চমকে বললেন,’সেকি!কেন?এখানে থাকলে কি সমস্যা? ‘

-‘সমস্যা বলতে কিছুইনা।ভারতে ওর নানি একা তো।তাই সেখানে পাঠিয়ে দিচ্ছি। হাওয়া বদল করলে মনটাও ভাল হয়ে যাবে ওর।এই ভেবে সিদ্ধান্ত নিলাম’

অর্ণবের বাবা মন খারাপ করে বসলেন।এরপর বললেন,’তাহলে তো আর কুসুমের দেখা পাবোনা তাহলে।আহারে তারে আমার খুব মনে পড়বে।’

কুসুমের বাবা দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়লেন তার আর কিছু বলার নেই।সব নিয়তি।এসব কি আর আমাদের হাতে আছে?

বাবা চা খেতে খেতে একটা পুরোনো দিনের গান শুনছিলেন।
জুথি তার সামনে এসে বসেছে পাঁচ মিনিট হয়ে গেছে কিন্তু তিনি এখনও টের পাননি।
চোখ বুজে চা খেয়ে যাচ্ছেন।শেষে অডিও স্পিকারটা বন্ধ করে দিয়ে জুথি বললো,’বাবা আমি এসেছি।দেখেছো?’

-‘আরে তুই।কখন এলি?’

-“অনেক আগে।তুমি তো খেয়ালই করলেনা।যাই হোক, একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবার জন্য এখানে এসেছিলাম’

বাবা চায়ের শূন্য কাপটা টেবিলের উপর রেখে দিয়ে নড়েচড়ে বসে বললেন,’কি প্রশ্ন?’

-‘আমার কি শিক্ষার অভাব?’

-‘এত বড় কথা কে বললো তোকে?’

-“বলেছে একজন।বলোইনা উত্তর’

-“না।আমার মেয়ের মাঝে কোনো খুঁত নেই।তবে সে এই কথা কেন বললো তাই ভাবছি।এর পেছনে কি কেনো কারণ আছে?
নাহলে হুট করে একটা মানুষ এসে কেন বলবে তোর শিক্ষার অভাব?’

-‘না কিছুনা।যা বোঝার বুঝা হয়ে গেছে।আচ্ছা শোনো, আমি বলে দিচ্ছি আমি কুমিল্লা যাবোনা’

বাবা চশমা পরে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে যেতে বললেন,’তুই এমনিতেও কেনো আত্নীয়ের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করিসনা।এবার নিজের আপন চাচাদের বাড়ি যেতেও মানা করলে লোকে বলবে সমাজ নাই।’

জুথি পিছু পিছু এসে বললো,’আমার অর্ধেক আত্নীয় বিদেশে থাকে।এখানে আত্নীয় বলতে চাচা চাচিই আছেন।’

-‘সেজন্য তাদের সঙ্গে তোর দেখা করতেই হবে।আমি আর কিছু শুনতে চাইনা।বাজারে যাচ্ছি কিছু লাগলে বল’

জুথি মুখ ঘুরিয়ে তার রুমে চলে আসলো।সবাই যেন জোট পাকিয়েছে ওর বিরোধিতা করার জন্য।ভাগ্যে মনে হয় লেখা আছে ঈদের আগে কুমিল্লা যাবার কথা।ধ্যাত!
কত কি করলাম কোনো কিছুতেই লাভ হচ্ছেনা।’

-‘কিরে অর্ণব?ওমন মূর্তির মতন বসে আছিস কেন?তোর বাচ্চা বউ কল করেছিল নাকি?’

মৃদুলের কথা শুনে অর্ণবের মুখা চুপসে গেলো।গোল গোল চোখে চেয়ে রইলো ওর মুখের দিকে।মৃদুল ওর এমন চাহনি দেখে ভাবলো সে কি অপরাধ করে ফেলেছে নাকি কথাটা বলে।পরে ওর সামনে বসে চুটকি মেরে বললো,’কিরে?কোন জগতে আছিস?আমি তো ফান করলাম’

-“ফান করে সত্যিটাই বললি’

-“ঐ কুসুম তোর নাম্বার পেলো কই?’

-“ঐ যে ভাগ্য!মাকে কল করলে কুসুম যে স্থানেই থাকুক না কেন কোনো না কোনো উপায়ে তার সঙ্গে আমার কথা হয়ে যায়’

মৃদুল পা গুছিয়ে বসে বললো,’তা কি কথা হলো ঐ পিচ্চির সাথে?’

-“ম্যাচিউর একটা মেয়ে রাগ করলে সে রাগ ভাঙ্গানোর জন্য আমরা সচরাচর অধিক সময় ধরে ভাবনাচিন্তা করে থাকি।কিন্তু পিচ্চি একটা মেয়ে যখন রাগ করে তখন হাসবো নাকি কাঁদবো তা ভাবতে থাকি।তার রাগ তো নামেই রাগ।এই রাগকে মূল্য দিতে গেলেও মনে হয় ফলাফল একটা চকলেট দিলে শেষ’

মৃদুল হাসতে হাসতে লুটোপুটি খাচ্ছে।অর্ণব মাথা ঘুরিয়ে বললো,’হাসছিস?অবশ্য হাসিরই কথা এটা।ঐ টুকুন একটা মেয়ে আবার রাগ করে আমার সাথে।সে জানে তার রাগ আমি কখনও ভাঙ্গাবোনা তাও রাগ করে।কি অধিকারত্ব তার একটু ভেবে দেখ’

মৃদুল ঠিক হয়ে বসে বললো,’অধিকার নিশ্চয় আছে’

-“মানেহ্?’

-‘মানেটা সহজ।তুই ইদানিং কুসুমের কথা অনেক ভাবিস।যদি আগের অর্ণব হতি, কুসুমের গলা শুনেই লাইন কেটে দিতি।কিন্তু তুই সেটা করলি না।বরং দু চারলাইন কথাও বললি ওর সঙ্গে,এখন আবার তার রাগ নিয়ে গবেষণা করছিস।কুসুম পিচ্চি হলেও বুঝ জ্ঞান তার যথেষ্ট হয়েছে। যার কারণে সে তোর মনের কথা বুঝতে পেরে অধিকার খাটাচ্ছে।আমার মনে হয় তুই বিয়েটা ভেঙ্গে দিয়েছিস ঠিক তবে এর অনুশোচনা তোকে বিয়ে পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবে।হায়রে অর্ণব!ফেঁসে গেলি!’

মৃদুলের কথা যেন তীরের মতন লাগলো।বুকে হাত রেখে অর্ণব পুনরায় মূর্তির মতন বসে রইলো।যেটা হচ্ছে সেটা সে চায়না।মোটেও চায় না।তাহলে সেটা কেন হচ্ছে?কেন ঘুরে ফিরে ভাগ্য সেই জায়গায় গিয়ে আঁটকাচ্ছে যাকে প্রত্যাখান করে সে ঢাকায় ফিরে এসেছিল।
-‘তাহলে কি কুসুমের সাথেই আমার বিয়ে হবে?
মৃদুল তুই আমাকে ভয় লাগালি ক্যান একটু বলবি?
তোর কাছে মন খুলে কিছু কথা বললাম,কোথায় একটু সাহস জুগাবি তা না করে ভুলভাল চিন্তাভাবনা মাথায় ঢুকিয়ে দিলি?ছ্যাঁকা খাওয়ার প্রতিশোধ এখন অনামিকাকে না পেয়ে আমার উপর দিয়ে ঝাড়ছিস?’

-‘একদমই না।আচ্ছা তুই কি শুনতে চাইছিস?তাই বলছি।তোর বিয়ে জুথি ম্যাডামের সঙ্গে হবে।তোর স্বপ্নের সেই নারী।অতিরিক্ত ম্যাচিউর।অতিরিক্ত দুষ্টু!অতিরিক্ত বুঝদার!অতিরিক্ত….. ‘

-‘জুথি ছাড়া আর কোনো মেয়ে নেই?ওরে বিয়ে করলে আমার জীবন শেষ হয়ে যাবে। জাস্ট টিচার হয়ে ওরে সামলাতে আমার হিমশিম খেতে হচ্ছে।বিয়ে করলে আমি মরেই যাবো।ওরে সামলানোর জন্য একজন কোমল মনের অধিকারী পুরুষ দরকার।সংসারে একজনের মন নরম হতে হয়।জুথির মন শক্ত,ওর জন্য নরম মনের ছেলে লাগবে।ওর সঙ্গে আমার খাটবেনা।সংসারে তাহলে ইট ছোঁড়াছুঁড়ি হবে সারাক্ষণ।’

মৃদুল অর্ণবের ঘাঁড় ঝাঁকিয়ে বললো,’তাহলে বলবো জুথি তোর জীবনে আসার পর থেকে তোর মন শক্ত থেকে নরমের দিকে যাচ্ছে।এটা কিসের লক্ষণ ভাই?তুমি তো মাইয়াদের ধারের কাছেও ঘেঁষতা না।এখন রাত বিরাতে জুথির সাথে তোমারে দেখা যায়।ব্যাপার কি?’
চলবে♥

#লীলাবালি🌺
#পর্ব_১৭
আফনান লারা
.
দুইদিন পরেই চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা শুরু হয়ে যাবে।এই দুইদিন ক্লাস করতে যাবেনা অর্ণব।গেস্ট টিচার হিসেবে মৃদুল যাবে।দুইদিন ধরে পড়াতে মন দিতে গিয়ে বাকিসব ভুলে বসেছে সে।পরীক্ষাটা কবে শেষ হবে আর কবে ঈদে বাড়ি যাওয়া হবে।এবার বাড়ি যেতে কোনো ভয় হবেনা।কারণ যেটার ভয়ে এতটা বছর সে বাড়ি যেতে চায়নি সে কারণটা ধামাচাপা হয়ে গেছে।
জুথি ক্লাসে অর্ণবকে খুঁজেছিল।লোকটাকে অপছন্দ করতে করতে কেমন যেন চেনাপরিচিতর কাতারে নিয়ে এসেছে সে।এখন তাকে না দেখলে মনে হয় দেখা উচিত ছিল।
মন খারাপ করে লাইব্রেরীতে ঢুকেছে জুথি।একটা উপন্যাস নিয়ে পড়বে ভেবে।মনটা ভালো হোক এটাই উদ্দেশ্য।
সেখানে দেখা হয়ে গেলো অর্ণবের সঙ্গে।অর্ণব একটা বই রাখতে এসেছিল।লাইব্রেরী থেকে কল করেছিল ফেরত দেবার জন্য তাই বাহিরে বের হয়ে ট্রেনিং সেন্টার ঘুরে এসে শেষে এদিকে আসলো।দূরে একটা বই নিয়ে চশমা ঠিক করে মনযোগ সহকারে পড়ছিল সে।জুথি প্রথমে ভাবলো গিয়ে কথা বলবে।পরে কি ভেবে আর গেলোনা।পছন্দের একটা উপন্যাস নিলো”কপালকুণ্ডলা ‘

সেটা নিয়ে এক কোণায় পড়তে বসে পড়েছে।অর্ণব ঘুরে দাঁড়ানোর পর জুথিকে দেখতে পেলো।কাল শিক্ষার অভাব কথাটা বলা ঠিক হয়নি।সরি বলা উচিত বলে সে এগিয়ে এসে জুথির সামনে চেয়ার টেনে বসলো।আন এক্সপেক্টেড ছিল একেবারে।জুথি চোখ বড় করে তাকিয়ে আছে।অর্ণব বইয়ের পাতা উল্টে হাত দিয়ে পৃষ্ঠা মিহিন করে বললো,’সরি।কাল ঐ কথাটা বলা উচিত হইনি আমার’

জুথি ভাবেওনি অর্ণব নিজ থেকে সরি বলবে।কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো,’সমস্যা নেই’

অর্ণব জুথির চোখে পানি দেখলো হঠাৎ।পানিটা চোখ ছেড়ে নিচে নামেনি অথচ ঝলঝল করছে।আসলেই কথাটা ব্যাথা দেওয়ার মতন ছিল।এটা বুঝতে ওর একদিন লেগে গেলো।মন খারাপ হলো জুথির চোখে পানি দেখে।তাই বইটা বন্ধ করে দিয়ে বললো,’আমার কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের পাশে যে ক্যানটিন আছে সেটায় অনেক ভালো কফি পাওয়া যায়।
বিগ ফ্যান আমি।আপনি চাইলে আমার থেকে বিনাকারণের একটা ট্রিট নিয়ে নিতে পারেন’

জুথি একের পর এক অবাক হচ্ছে।নড়েচড়ে বললো,’সত্যি?’

-‘হুম।তবে যদি আপনার রাগ কমে তবে।জোরজবরদস্তি নাই।’

জুথি রাজি হলো।লাইব্রেরী থেকে বের হবার পর অর্ণব।সোজা হাঁটা ধরেছে।জুথিও ওর সাথে আসতে আসতে বললো,’যখন বিয়ে করবেন তখনও কি বউকে হাঁটিয়ে ঘুরাবেন?’

-‘সেটা নির্ভর করে আমার বউ হাঁটতে ভালোবাসে নাকি অসহ্য বোধ করে।সে যদি এটার সাথে সহজবোধ না হয় তাহলে আমি কেন মিছে তাকে কষ্ট দিতে যাবো?রিকশা নেবো তখন।’

-‘আমি যদি এখন বলি আমার পায়ে ব্যাথা করছে?’

-‘তাহলে আপনি আপনার টাকা দিয়ে রিকশা নিতে পারেন।প্রথমত, আপনি আমার বউ না।সে সূত্রে আপনার খরচ আমি বহন করবো না। দ্বিতীয়ত, আপনার কাছে টাকা আছে।’

জুথি মিটমিট করে হাসতে হাসতে চললো।অর্ণবের কথায় শুধু হা করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

দশ মিনিট হেঁটে এসে কফি হাউজে ঢুকে একটা সুন্দর মনোরম জায়গাট সিট দেখে বসলো দুজন।অর্ণব অর্ডার দিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে বললো,’আসলে আমি একটা বিষয় নিয়ে অনেক চিন্তিত ছিলাম যার কারণে মেজাজ গরম ছিল।তাই আপনাকে উল্টো পাল্টা বলে ফেলেছি।আমার আপনাকে হার্ট করার কোনো ইনটেনশন ছিলনা’

-‘কোন বিষয়ে জানতে পারি?’

-‘ফ্যামিলি প্রবলেম।আপনার জানার প্রয়োজন নেই।আমিও চাইনা কেউ আমার দুঃখে দুঃখী হোক।’

জুথি হেলান দিয়ে বসে বললো,’আমাকে বললে আমি দুঃখী হই বা না হই অন্তত আপনার দুঃখ কিছু হলেও কমবে।বলতে পারেন।আমি শুনি।কথা বললে সময় কাটে।’

অর্ণব টেবিলের উপর থেকে একটা প্লাস্টিকের ফুল নিয়ে ঘুরাতে ঘুরাতে বললো,’আগে একটা প্রশ্ন করি।ধরুন আপনি একজনকে পছন্দ করেননা।তার কোনো দোষ নেই কিন্তু আপনার ওকে ভালই লাগেনা।বিয়ের কথা ভাবতেই পারেননা তার সাথে।কিন্তু আপনার বাবা মা ঐ মানুষটার সঙ্গেই আপনার বিয়ে ঠিক করে রেখেছে।এক প্রকার সারপ্রাইজ দিয়ে বসেছে আপনাকে।এখন এই বিষয়ে তারা জোর করছে রীতিমত।কল করলেই বিয়ের কথা।বোঝেন তো?
তখন আপনি সেই সিচুয়েশনে কি করবেন বলুন?’

জুথি সোজা হয়ে বসে মুখ এগিয়ে এনে বললো,’আপনি বরং আমাকে বিয়ে করে নিয়ে যান।আপনার আব্বু আম্মুকে সারপ্রাইজ দিয়ে দেন।সারপ্রাইজে সারপ্রাইজে কাটাকাটি হয়ে যাবে।ব্যাপারটা মারাত্নক না?’

অর্ণব কপালে হাত দিয়ে টিপতে টিপতে বললো,’হুমমম।একদম! আচ্ছা আপনি মজা ছাড়া আর কিছু জানেননা?কোনোকিছুতে আপনার সিরিয়াস হতে কত বছর লাগবে?’

জুথি আবারও দুষ্টুমি করে বললো,’কেন?আমায় বিয়ে করবেন সে বয়সে?’

-“আপনার যে বয়স তাতে এখন বাচ্চা কোলে থাকার কথা।যাউ হোক, আপনাকে যে বিয়ে করবে তার কপালে শনি,বুধ, বৃহস্পতি সব আছে শুধু মঙ্গল থাকবেনা’

ওয়েটার কফি দিয়ে গেছে।জুথি কফির মগটা দুহাত দিয়ে ঝাপটে ধরে মুচকি হাসলো তারপর বললো,’আমার বাবাও এই কথা বলে।’

অর্ণবও এবার একটু দুষ্টুমি করে বললো,’আমাকে বিয়ে করবার ইচ্ছা হয় আপনার?জাস্ট তার একটা কারণ দেখান’

জুথি কফিতে চুমুক দিয়ে চুপ করে আছে।অর্ণব ওর চোখে চোখ রেখে উত্তরের অপেক্ষায় সে নিজেও চুপ।জুথি হেসে দিয়ে বললো,’আমি দুষ্টুমি করি অনেক।আপনাকে জ্বালানোর বাহিরে আমি আর কিছু ভাবিনা আপনাকে নিয়ে।
বিয়ে করার তো প্রশ্নই আসেনা।দুষ্টুমি করি বলে হয়ত অনেকেই আমায় পছন্দ করেনা।কিন্তু আপনাকে ব্যাতিক্রম দেখলাম।আমি এত জ্বালানোর পরেও আপনি আমায় কফি খাওয়াতে নিয়ে আসলেন।বেশ ভালো,আমাকে খুব কম সংখ্যার মানুষ এমন বোঝে।’

-‘উত্তর দিলেন না।আমার কি করা উচিত?’

-“দুইটা বুদ্ধি দিতে পারি।আগে বলুন আপনি কাউকে ভালোবাসেন বা পছন্দ করেন?’

-‘আপাতত নাহ’

-‘তবে শুনুন।আপনি যদি বাবা মায়ের বাধ্য হয়ে থাকেন তাহলে বিয়েটা করে ফেলুন।তারা অনেক আশা নিয়ে আছে।আর যদি নিজের জীবনটাকে গুরুত্ব দিতে চান তবে সময় নিন।’

অর্ণব চোখ ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করলো জুথি হলে কি করতো।জুথি কফির খালি মগটা রেখে বললো,’আমি হলে চুটিয়ে একটা প্রেম করতাম।তারপর তাকে বিয়ে করতাম।একদিন না একদিন তো পরিবার মানবেই।
শুধু শুধু কেন তাদের বাধ্য হতে গিয়ে নিজের জীবন নিয়ে কম্প্রোমাইজ করতে যাবো?বিয়ে কি ছেলেখেলা নাকি?’

অর্ণব হেসে বললো,’এটাই শুনতে চেয়েছিলাম।ধন্যবাদ। সুন্দর একটা মূহুর্ত উপহার দেবার জন্য।আজ আসি’
——
অর্ণবের মা আসতে দেরি করছিলেন আর কুসুম অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে শুয়ে ছিল।কলি চুপিচুপি এসে উনার ফোনটার গ্যালারিতে গিয়ে অর্ণব আর তার ভাই সাগরের ছবি পেলো।মাথা চুলকে ভাবতে লাগলো কোনটা অর্ণব হতে পারে।দুজনের চেহারাই একি রকম।দুজনকেই জোয়ান লাগে।ফোন রেখে চোখ বড় বড় করে দেখতে দেখতে কলি বললো,’আচ্ছা অর্ণব ভাইয়ার কি নাক চিকন?’

কুসুম মাথা নাড়ালো।কলি আবার বললো,’উনি কি লম্বা?’

কুসুম মাথা নাড়িয়ে উঠে বসে দেখলো কলি ছবি দেখতে দেখতে প্রশ্ন করছে।থাবা দিয়ে ফোনটা নিয়ে সে বললো,’চাচি দেখলে রাগ করবেন।’

-‘আহা দেখতে দাওনা!ওমন করো কেন?আমিও দেখি কোন ছেলের এত সাহস আমার বোনকে বিয়ে করতে মানা করে’

-“দেখে কি হবে?তার চেহারায় কি বোঝা যায় তিনি আমায় পছন্দ করেন না?মানুষের চেহারা বলে এক কথা আর মন বলে অন্য কথা।উনার হয়েছে তাই বুঝলি?’

কলি মুচকি হেসে চিমটি কেটে বললো,’ভাইয়া কি সুন্দর!তুমি সামনে থেকে দেখেছিলা?একদম এমন ছিল?’

-‘হুম।
এরকম পাঞ্জাবি পরা ছিল।উনি সবসময় পাঞ্জাবি পরেন।মাথা উঁচু করে তাকাতে হয় এমন লম্বা উনি।থাক ওসব ভেবে আমার কাজ নেই।ধর ফোনটা চাচিকে দিয়ে আয়।আর ধরবিনা বলে দিলাম।
আর একটা কথা,আমার সামনে কখনও উনার নাম নিবিনা।তুই যে একদিন নদীতে তোর শখের কানের দুল হারিয়ে ফেলেছিলি তারপর আমাদের সবাইকে মানা করে দিয়েছিলি আর যেন ঐ দুলের নাম না নিই।মনে পেলে কষ্ট হবে তাই
এটাও সেরকম।আমাকে উনার কথা কখনও মনে করিয়ে দিবিনা’

কলি মুখটা ফ্যাকাসে করে বললো,’কিন্তু বোন,মনে করিয়ে দেবো কি!তুমি তো সবসময় উনার কথাই ভাবো।আমার তো ঘটা করে মনে করিয়ে দিতে হবেনা’

কুসুমের মুখের কথা বন্ধ হয়ে গেলো।কলি সত্যি কথাই বলেছে।
চলবে♥

#লীলাবালি🌺
#পর্ব_১৮
আফনান লারা
.
কুসুমকে বিদায় দিয়ে অর্ণবের বাবা মা চলে গেছেন।মাথা মুছে অনেক দোয়া করে দিয়েছেন তারা।হয়ত আর কখনও দেখা হবেনা ওর সাথে,ভারত চলে যাবার পর ফের কবে আসা হবে তা তো কারোর জানা নেই।
কুসুম পায়ের ব্যাথা নিয়ে জানালার পাশে বসে ছিল।।সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হয়ে গেছে তখন।
কলি পাশের রুমে পড়ছে।মা বাবা বাহিরে কি নিয়ে যেন কথা বলছেন।কিঞ্চিত অন্ধকার হলেও আকাশে চাঁদ।ভরা চাঁদ।
চাঁদের আলোয় সব কিছুর সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পেয়েছে আপন গতিতে।
পুকুরে মাছদের আনাগোনার শব্দ পর্যন্ত শোনা যায়।গাছের পেছনে দূর আকাশে চাঁদ।গাছের ঢাল নড়লে মনে হয় চাঁদ বুঝি লুকোচুরি খেলছে।এসময়ে নদীর পাড়ে গিয়ে বসতে মন চাইছিল খুব করে।কিন্তু যাওয়া তো সম্ভব না।পায়ে যে অনেক ব্যাথা।
বাবা মা কলিকে ডেকে বললেন কুসুমের পাশে থাকতে।তারা একটু মেইন রোডের দিকে যাবে একটা কাজে।
কাজটা হলো ওখানে এককন তাদের অপেক্ষা করছেন।একজন সাংবাদিক।সাংবাদিক উনাদের থেকে ঐ দস্যুদের ব্যাপারে খবর নিয়ে স্ক্রিপ্ট লিখবেন।কুসুমদের বাড়িতে যেতে মাটির রাস্তা বের হতে হয়।নির্জন এলাকা হলেও উনার আসতে অসুবিধা হতোনা কিন্তু উনি আসলে পাড়া প্রতিবেশীর কানে খবরটা চলে যেতো।ফলে বাতাসের গতিতে আমির তিয়াজির কানেও যেতো সাংবাদিকের কথা।এর কারণে তারা নিজেরা মিলে ঠিক করেছে তারাই যাবেন মেইন রোডের দিকে।
কলি বই নিয়ে কুসুমের পাশে বসে পড়ছে।মা বাবা যাবার ঠিক পনেরো ষোল মিনিট পর দরজা ধাক্কানোর আওয়াজ পেয়ে কুসুম বই রেখে এক ছুটে গিয়ে দরজা খুলে দিলো।সে ভেবেছিল মা বাবাই এসেছে।তাই জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন মনে করলোনা।
দরজা খুলে দেখলো চার /পাঁচ জন দাঁড়িয়ে আছে বাইরে।তিনজন মহিলা,দুজন পুরুষ।হাতে আগুনের মশাল।
কলি ভয় পেয়ে কুসুমের দিকে মাথা ঘুরিয়ে তাকালো।কুসুম জানালার দিকে চেয়ে বসে ছিল অন্যমনস্ক হয়ে।মহিলা তিনজন কলিকে সরিয়ে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বললো,’কুসু মা কেমন আছে?তার নাকি পায়ে ব্যাথা’

কুসুম চমকে তাদের দিকে তাকালো।আমির তিয়াজির মেয়ে,পুত্রবধূ আর তার মা এসেছেন কুসুমকে দেখতে।কুসুম তাদের কাউকেই চিনতে পারলোনা।সালাম দিয়ে চুপ করে থাকলো।বাহিরে ছিল আমির তিয়াজি আর তার ছেলে মিঠু তিয়াজি।
কুসুমের পাশে মহিলা তিনজন বসলেন।কুসুম তাদের দিকে তাকিয়ে থেকে বললো,’আপনারা কারা?চিনলাম না তো’

-“চিনবে কি করে।কখনও তো দেখোনি।দেখি তোমার ভালো হাতটা দাও তো’

কুসুম হাত দিলোনা।জিজ্ঞেস করলো কি কারণে হাত দেবে।আমির তিয়াজির মেয়ে মুন্নি জোর করে কুসুমের হাত টেনে ধরে একটা স্বর্নের বালা পরিয়ে দিতে দিতে বললেন,’এইটা তোমার উপহার’

কুসুম হাতের বালাটা দেখলো অনেক মোটা আর ভারী।আগামাথা কিছুই বুঝলোনা সে।বালাটা খুলতে খুলতে বললো,’আপনারা কে?’

মুন্নি তিয়াজি এক ধমক দিলেন ওকে।শেষে বললেন,’আমি তোমার মুরব্বি! যত্ন করে বালা পরিয়ে দিয়েছি খুলে ফেলার জন্য?ওটা হাতে পরে থাকো।বেয়াদবি করবেনা।’

কলি মুখে হাত দিয়ে সব দেখছে আর বারবার বাহিরে তাকিয়ে অপেক্ষা করছে বাবা মায়ের।
কুসুম ধমক শুনে চুপ হয়ে গেছে।মুন্নি তিয়াজি একটা সোনালি রঙের ওড়না কুসুমের মাথায় পরিয়ে দিয়ে বললেন,’দেখছো তোমরা! কেমন মেয়ে পছন্দ করেছি আমি?’

বাকি দুজন হাসলেন।একজন বললেন,’এটা ঠিক করলেনা।আমার ও তো জেয়ান দুটো ছেলে আছে।সুন্দরটা তুমি নিয়ে গেলে কি করে হয়?’

-“সে যাই বলো,আমি এরে ছাড়ছিনা।তোমরা দরকার হলে এর বোনরে নিয়ে যাও ক্ষণ’

কুসুম হাতের বালাটা খুলে ফেলতে চাচ্ছে তাই হাত দিয়ে খোঁচাখুঁচি করছিল।মুন্নি তিয়াজি বিছানা থেকে উঠে বললেন,’যাই বউ।ঐ বালা ভুলেও খুলবেনা।খুব শীঘ্রই দেখা হবে আমাদের।আসি।নিজের খেয়াল রেখো’

সবাই চলে গেলো।আমির তিয়াজি আর তার ছেলে ভেতরে আসেননি।বাহিরেই ছিলেন।তারা সবাই চলে যাবার পর কলি ছটফট করছিল কখন বাবা মা আসবেন।এত বড় ঘটনা ঘটে গেলো।তাদের জানাতে হবে।
কুসুম বালাটাকে ঘুরিয়ে দেখতে দেখতে বললো,’হ্যাঁ রে কলি!উনাদের চিনিস তুই?’

-“নাহ।ওটা কি আসল সোনার??নাকি নকল টকল দিয়ে ফুটানি দেখাইলো? ‘

-‘আমি কি জানি!তবে আসলই মনে হয়।
মা কখন আসবে?কই গেছে তারা?’

মা বাবা তখন ভেতরে ঢুকে বললেন,’কিরে আমাদের আসার এত অপেক্ষা করছিলি?
কথাটা বলে মা বাবা কুসুমের দিকে চেয়ে মূর্তি হয়ে গেলেন।
পরক্ষনেই মা ছুটে এসে কুসুমকে ভাল করে দেখে বললেন,’এগুলো আসলো কই থেকে কুসুম?’

কলি এগুয়ে গিয়ে বললো,’তোমরা যাবার পরেই এক দল ব্যাটা,ব্যাটি আসলো।তারা দিয়েছে’

মা বাবার দিকে একবার তাকিয়ে কুসুমের হাত ধরে বালাটা খুলে নিলেন।
ওড়নাটাও মাথা থেকে সরিয়ে বললেন,’কলি!দরজা খুলতে গেলি কেন?তোকে কতদিন বললাম না জিজ্ঞেস করে দরজা খুলবিনা?’

-‘কিন্তু মা,তারা তো কোনো ক্ষতি করলোনা।বরং এতসব দিয়ে গেলো’

কুসুমের মা ওড়না আর বালা নিয়ে ওর বাবার হাতে দিয়ে বললেন কিছু একটা করতে।কুসুম মাকে জিজ্ঞেস করলো এসব কি হচ্ছে।
মা বাবা কোনো উত্তর দিলেন না।বাবা এসব একত্র করে একটা পুটুলি করে নিয়ে যাচ্ছিলেন গ্রামের মাতব্বরের কাছে।
মাটির পথটা শেষ হবেনা।তার ডান পাশ দিয়ে যে গলি যাবে সেখানে মাতব্বরের বাড়ি।চাঁদের আলোয় তিনি সেদিকেই যাচ্ছেন।এই জিনিসগুলো কাছে রাখতেও ঘৃনা হয়।ভয় হয়।
হঠাৎ তার পথ আটকে দাঁড়ালো আমির তিয়াজির লোকেরা।শুধু তাই নয় সেখানে ছিল আমির তিয়াজি নিজেও এবং রাখাল।তাদের হাতের আগুনের আলোতে স্পষ্ট সবার মুখ দেখা যাচ্ছে।পাশেই বাঁশের বাগাম।হুট করে ওখান থেকে তারা পথে নেমে আসায় কুসুমের বাবা আঁতকে উঠেছেন।
রাখালকে দেখে তার নিজেরই ভয় হচ্ছে।ওরকম চেহারার একটা ছেলেকে দেখে তার এত ভয় হয়, তার মেয়ের ঠিক কি অবস্থা হতো তাই ভাবছেন আপাতত। রাখাল তাচ্ছিল্য করে হাসছে।হাসিতে তার তাচ্ছিল্য কেন আসছে তা বুঝতে পারলেননা তিনি।রাখাল এগিয়ে এসে কুসুমের বাবাকে জোর করে জড়িয়ে ধরলো।পিঠে হাত রেখে বললো,’শ্বশুর আব্বা কেমন আছেন?আপনার বড় মেয়ের শরীর ভালো?’

কুসুমের বাবা চুপ করে শুধু দেখে যাচ্ছেন আর কানে শুনে যাচ্ছেন।সবার হাতে ঝোলানো অস্ত্রের শব্দ আসছে রাতের জঙলের পোকামাকড়ের শব্দ ছেদ করে।ভয় যেন শেষ সীমানায় পৌঁছে গেছে।টু শব্দ করবার জো নেই তার কাছে।রাখাল তাকে ছেড়ে সালাম দিলো বড় করে।পেছন থেকে দুটো লোক হাতে বড় বড় রাজহাঁস দুটো এনে কুসুমের বাবার হাতে ধরিয়ে দিয়েছে জোর করে।আমির তিয়াজি হেসে বললেন,’রাজহাঁসের মাংস অনেক সুস্বাদু ।আমাদের কুসুরে খাওয়াইয়েন।সে নাকি পায়ের ব্যাথায় শুকিয়ে গেছে?’

রাখাল ঠাস করে উনার ঘাঁড়ে হাত রেখে খিলখিল করে হাসতে হাসতে বললো,’শ্বশুর মশাই আমাদের ভয় পাচ্ছে নানা শুনছেন!’

-“আহা ভয় পাও কেন??আমরা কি তোমায় কেটে জঙ্গলে ফেলে দেবো নাকি?অবশ্য সেটা আহামরি না।ফেলতেই পারি।কিন্তু ফেলবোনা।আমাদের রত্ন তোমার কাছে তোলা।তাকে যত্ন করবা।তারপর একদিন তাকে আমরা নিয়ে আসবো।তোমাকে তো বাঁচিয়ে রাখতেই হয়।কি বলিস রাখাল?’

রাখাল কুসুমের বাবাকে ছেড়ে বললো,’শুধু রাজহাঁস না শ্বশুর আব্বা!আরও অনেক আছে।হাতের ঐ ওড়না আর বালা কুসুরে ফেরত দিয়েন।
আমার কুসুরে!আর আমরা ফলপাকড় এনেছি ওগুলো ও নিয়ে যান।কুসুরে ভালো করে খাওয়াবেন।না খেতে চাইলে মেরে খাওয়াবেন।বিয়ের আগে দূর্বল হলে চলে?’

কুসুমের বাবা রোবটের মতন হেঁটে বাড়ি ফিরে এলেন।আমির তিয়াজির লোকেরা বাড়ি পর্যন্ত সব দিয়ে আসলো যেগুলো তারা উপহার হিসেবে নিয়ে এসেছিল।
কলি একটা কমলা নিয়ে কুসুমের পাশে বসে খোসা ছিলতে ছিলতে বললো,’আমাদের এত ভালো কে করছে বাবা?’

বাবা মাথায় হাত দিয়ে মাটিতে বসে আছেন।কুসুম ঘুমাচ্ছে।কুসুমের মা উনার পাশে বসে জিজ্ঞেস করলেন সব নিয়ে ফেরত এসেছে কেন।উনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন উত্তর দিতে গিয়ে।এত বড় অভিশাপ লাগলো তাদের মেয়ের উপর।কোনো কিছু করেও এই অভিশাপটাকে দূরে সরাতে পারছেননা তারা।যে দৃশ্য তিনি মাত্র দেখলেন।যে প্রতিশোধের আগুন আমির তিয়াজির চোখে জ্বলছিল তা বলে দিচ্ছে কুসুমকে তারা কিছুতেই ছাড়বেনা।ঐ হিঃস্র রাখালের সাথে বিয়ে দিয়ে তারপর তারা দমবে।ওমন একটা ছেলের ঘরে তার কুসুম কি করে থাকবে ভেবেই কষ্ট হচ্ছে।বুক ফেটে আসছে।বিয়েটা আটকানো যাবেনা কিছুতেই। কেউ এসে বাঁচাতে পারবেনা কুসুমকে।অর্ণবের সঙ্গে বিয়ে বুঝি এ কারণেই ভেঙ্গে গেলো?এই রাখালের ভাগ্যেই বুঝি আমার কুসুম আছে?আমার কুসুমের কপাল বুঝি এতই পোড়া!!’
চলবে ♥