লোভ পর্ব-০২

0
1616

#লোভ
#পর্বঃ২
লেখনীতে: #সুমাইয়া_আফরিন_ঐশী

নিস্তব্ধতায় প্রতিটি প্রাণে শুট বুট পরিহিত গমগমে আওয়াজটা যেন এক যু/দ্ধবা’জের পদচারণা। তার প্রতিটি পদক্ষেপে পথটা কেঁপে ওঠে, আর সেই শব্দেই ভেঙে যায় নীরবতা, ক্ষণে ক্ষণে তাজা হয় এক নতুন শক্তি, সাহসের উন্মেষ।
রুমের প্রতিটি মানুষ মুহূর্তের জন্য সেই শব্দে থমকে যায়, দৃষ্টি চলে যায় দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লম্বা-চওড়া, সুঠাম দেহের যুবকটির দিকে। তার হালকা চেহারা, মসৃণ ফর্সা ত্বকে উজ্জ্বল বর্ণটাও সবার নজরে পড়ে, ক্লিন সেভ করা মুখটাতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে গম্ভীর এক ভাব। মাথায় ছোট ছাঁটের, সোজা চুলগুলো সুন্দরভাবে সাজানো, যা তার পরিষ্কার চেহারার সঙ্গে একদম মানানসই। তবুও, যুবকটির ঘোলাটে চোখ দু’টোতে রয়েছে এক অদ্ভুত গভীরতা, যেন তার ভাবনাতে, দৃষ্টিতে নতুন-নতুন কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে। এই রহস্য বোঝার ক্ষমতা যে সাধারণ মানুষদের ধরা-ছোয়ার বাইরে তা-ও স্পষ্ট।
আচমকা আগমনকারী এই যুবকটির গায়ে পেশাদার ইউনিফর্ম, আর মাথায় সঠিকভাবে বসানো ক্যাপ, যা তার সৈনিক সত্ত্বাকে আরও প্রাধান্য দিলো।

ছেলেকে দেখেই মা সবার আগে এগিয়ে আসলো, চোখে তার উদ্বেগের ছাপ। সেভাবেই, মা আনমনা স্বরে বললেন,

“কখন এলে, বাপ? তুমি আজ মেসে যাওনি?”

ইরফান মায়ের দিকে একবার শান্ত চোখে তাকিয়ে স্পষ্ট স্বরে বললো,

“আমি তো কয়েকটা দিন ছুটিতেই ছিলাম, মা। তাই ইমারজেন্সি ডিউটি শেষ করে,সরাসরি বাসায় চলে এসেছি।”

মৌসুমি তালুকদার আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল। তার আগেই ইরফান মা’কে থামিয়ে দিলো। সবার দিকে একবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে, টানটান সোজা হয়ে দাঁড়ালো। গম্ভীর কণ্ঠে বললো,

“হোয়াট আর ইউ অল ডুইং ইন মাই রুম? আস্ক এভরিওয়ান টু লিভ রাইট নাউ, মা।
আই অ্যাম ভেরি টাইয়ার্ড। আই নিড সাম রেস্ট। আই উইল টক টু ইউ লেটার।”

মৌসুমি তালুকদার এরপর আর ছেলের কথা পিঠে কিছু বললো না। সবাইকে চলে যেতে বললো। ইশতিয়াক তালুকদার, আরাফাতকে আসামির ন্যায় শক্ত হাতে ধরে নিয়ে গেলো বসার ঘরটাতে। যাবার আগে আরাফাত একবার ইরফান তালুকদারের দিকে নিষ্পাপ চোখে তাকালো। এরপর মনেমনে কি বললো,

“ইরফান ভাই, আমি নির্দোষ। আমাকে বাঁচান।”

হয়তো বললো। যা কোনো কিছুই ইরফানের দৃষ্টির অগোচর হলো না।

ইরফান ভাইকে দেখে অধরার গুণগুণ করা কান্নার স্বরটা আরো স্পষ্ট হলো, ক্ষণে ক্ষণে নাক টানার শব্দটাও বাড়লো। সেদিকে ভুলেও একবার তাকালো না, ইরফান তালুকদার।
অধরা নিজের নিচু মাথাটা আরো নিচু করে নেয়। ইরফান ভাইয়ের দিকে আজ আর একবারও তার তাকানোর সাহস হচ্ছে না। এতোগুলো মানুষের সামনে, লজ্জায়, অপমানে তার ইচ্ছে করছে ম/রেও যেতে। অথবা এক ছুটে কোথাও পালিয়ে যেতে। কিন্তু, সে উপায় নেই। বড় খালা তার হাতটাও ধরে রেখেছেন। তাকে-ও নিয়ে এসেছেন বসার ঘরটাতে। তার পিছনে পিছনে বিপর্যস্ত এলোমেলো চেহারায় মমতাও এলো। তার মাথাটা এখনো ভনভন করে ঘুরছে। হায় আফসোস, নিজ হাতে নিজের মেয়েটার কি সর্বনা/শটাই না সে করলো!

°
মধ্যরাতে, তালুকদার বাড়ির বসার ঘরটাতে আজ মানুষজনে পরিপূর্ণ। সেখান থেকে বাদ পড়েনি, ছোট-বড় বাড়ির একটি প্রাণও। ওদের সবার ভেতরেরই চলছে চা পা উত্তেজনা।

“কি হয়েছে, এরপর কি হবে?”

পরবর্তী কার্যকলাপ দেখার জন্য সকলে মুখিয়ে আছে। কিন্তু, কারো কথা বলার সাহস হচ্ছে না। সবাই আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে, বাড়ির বড় কর্তা ইশতিয়াক তালুকদারের মুখপানে। মানুষটা ভয়াবহ রকমের রেগে আছেন।

কিছুক্ষণের জন্য সুনশান নিরবতায় আছন্ন বসার ঘর। ঘরটার মাঝখানে, দাঁড়িয়ে আছে আরাফাত। অন্যপাশে জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, অধরা। ওদের দু’জনের মাথাটাই নত। আরাফাত তীব্র ত্রাসে রীতিমতো ঘামছে, অধরা কাঁপছে। ওদের কাঁপা-কাঁপির মাঝেই হঠাৎ ইশতিয়াক তালুকদার ব/জ্রকণ্ঠে সর্বপ্রথম আরাফাতকে প্রশ্ন করলো,

“তুমি ইরফানের রুমে কি করছিলে, আরাফাত? তুমি জানো না, ইরফানের রুমে কাউকে ঢোকার অনুমতি নেই।”

আরাফাতের ভয়ার্ত মুখটা আরো আমসি হয়ে এলো। ছেলেটার হাঁটুতে কাঁপন অনুভব হলো। অজানা এক ভয়, মনের মাঝে তল্লিতল্লা চেপে বসলো। সেটা কিরকম ভয়? স্বজন হারানোর ভয়, আশ্রয় হারানোর ভয়।

আরাফাতের মতো রাস্তায় পড়ে থাকা এতিম শিশুকে তালুকদার বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন, মৌসুমি তালুকদার। শুধু আশ্রয় না, মায়ের জায়গায় দিয়ে বুকে জড়িয়ে নিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে মা ডাকার অধিকারও দিয়েছে, দিয়েছে বিলাসবহুল জীবন। পড়ালেখার সুযোগটাও বাদ পড়েনি এতে।

আরাফাতের স্পষ্ট এখনো মনে আছে, ফুটপাতে বসে সদ্য বাবা-মা হারা আরাফাত খুব কাঁদছিল।

“কোথায় যাবে, কী করবে, কী খাবে, কে ঘুম পাড়িয়ে দিবে ওকে?”

এসব নিয়ে যখন ছোট্ট আরাফাত দিশেহারা হয়ে কাঁদছিল, মা মা বলে ডাকছিল, ঠিক কিছুক্ষণ পরই একজোড়া স্নেহময়ী কোনো মায়ের হাত তার কাঁধ ছুঁয়ে বললো,

“তুমি কাঁদছো কেন, বাবা? তোমার মা’কে খুঁজে পাচ্ছো না বুঝি?”

আরাফাত তখনও অঝোর কেঁদে কেঁদে আগন্তুক নারীটিকে বলে দিলো,

“জানো, আমার মা নেই। তুমি আমার মা হবে?”

মৌসুমি তালুকদারের মাতৃমনে অমনি বাচ্চাটার কথায় ধাক্কা খেলো। কেমন ভারি ভারি কথা বলছে ছেলেটা।

“আমার মা নেই।”

এরথেকে ভারি শব্দ আর পৃথিবী আছে?

বাচ্চা ছেলেটার মায়াময় চেহারা আর মায়াময় আবদার সে উপেক্ষা করতে পারেনি। সকল ফর্মালিটি পূর্ণ করে সেদিনই আরাফাতকে তালুকদার বাড়িতে নিয়ে আসেন, মৌসুমি। এরপর থেকেই, ছোট্ট মায়াভরা বাচ্চাটাকে নিজের ছোট ভাইয়ের জায়গাটাও দিয়ে দিলেন ইরফান। প্রথমে প্রথমে তালুকদার বাড়িতে ইরফান ও মৌসুমি ছাড়া কেউই তাকে পছন্দ করতেন না। ধীরে ধীরে ওর আচরণে বাড়ির সকলে মুগ্ধ হলো। এরপর থেকে ওর আর কিছুরই কমতি রইলো না।
বাড়ির সবাই এতিম আরাফাতকে ভালোবাসা দিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ একটি পরিবারের অভাব ঘুচিয়ে দিয়েছে। দিয়েছে স্বাধীনতা, ছেলে হিসেবে কাঁধে তুলেও দিয়েছে কিছু দায়িত্ব।

আড়ালে-আবডালে বাহিরের মানুষেরা আরাফাতকে, তালুকদার বাড়ির কাজের লোক বললেও ও জানে, তালুকদার বাড়ির ২য় ছেলে সে। ইরফানের ছোট ভাই, ইরার বড় ভাই। ওদের দুই ভাইয়েরই তো একটিমাত্র আদরের বোন, ইরা। এছাড়াও রয়েছে, আস্ত একটা কাজিন মহল। রয়েছে বন্ধু মহল। আরাফাতও এদের সবাইকে বড়ো আপন করে নিয়েছে।

এরপর, এরপর তো ভালোই যাচ্ছিলো আরাফাতের দিনগুলো। তবে, এই ঝড় নতুন করে আবার কেন এলো ওর জীবনে? জীবন থেকে কি কম হারিয়েছে আরাফাত? এবার বুঝি ওর থেকে, শেষ আশ্রয়টুকু কেঁড়ে নিতে চাইছে নিয়তি। তার বেলায় নিয়তি এতো নিষ্ঠুর!
এসব ভাবতে ভাবতেই, আরাফাতের চোখ জোড়া চিকচিক করে উঠলো। এরই মাঝে আচমকা আবারও ইশতিয়াক তালুকদারের হুংকার শোনা গেলো,

“কথা বলছো না কেন, ইডিয়ট? আমি কিছু জিজ্ঞেস করছি না?”

আরাফাত ভয়ে ভয়ে একবার মায়ের মুখের দিকে তাকায়। মৌসুমি ইশারায় ছেলেকে আশ্বাস দিলো যেন।

“সত্যিটাই বলো, বাবা। আমি জানি, তুমি নির্দোষ।”

আরাফাত এতে একটু ভরসা পেলো। শুকনো ঠোঁট জোড়া একবার ভিজিয়ে জড়ানো কণ্ঠে আওড়াল,

“আমি সন্ধ্যা থেকে ইরফান ভাইয়ার সাথেই ছিলাম, বড় আব্বু। হঠাৎ ভাইয়ার উপর মহল থেকে ইমার্জেন্সি ডাক পড়লো, আর ভাইয়া তখনই চলে গেলো। আমি আর একা-একা কি করবো, বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলাম ঘুমানোর জন্য। কেননা, আমার রুমে বড় ফুপা আর মেঝো ফুপা আগেই ঘুমাচ্ছিলো। বড়দের মধ্যে ঘুমাতে আমার অস্বস্তি লাগছিল। তাই ভাবলাম, রাতটা বন্ধুদের সাথে কাটাবো কিন্তু ভাইয়া যেতে দিলো না। বারণ করে বললো, কোথাও যেতে হবে না, তুই বরং আজ আমার রুমটাতেই ঘুমাস, আমার রুম তো খালিই পড়ে আছে।”

আমি আর ভাইয়ার কথা অগ্রাহ্য করতে পারিনি, আমি বাসায় এসে, খেয়ে আগে আগে ভাইয়ার রুমে গিয়ে ঘুমাচ্ছিলাম। কিন্তু…..”

এতোটুকু বলেই থামলো, আরাফাত। ফাঁকা ঢোক গিললো বারকয়েক। তান্মধ্যে, ইসাবেলা অধৈর্য হয়ে বললো,

“কিন্তু, কি?”

আরাফাত ফোঁস করে শ্বাস টেনে বললো,

“হঠাৎ, হঠাৎ মাঝরাতে অধরা কোনো কথা বার্তা ছাড়াই ভাইয়ার রুমে এলো, আর আকস্মিক ঘুমন্ত আমার উপর আক্র/মণ করে বসলো। আবার নিজেই চেঁচাল।”

উপস্থিতি সবার বিস্মিত চোখের দৃষ্টি পড়লো এবার অধরার উপর। তবে কি, মেয়েটা আরাফাত বা ইরফানকে ফাঁ/সাতে চাইছে?
অধরা নিজের পিঠ বাঁচাতে আচমকা চেঁচিয়ে উঠলো,

“আরাফাত ভাইয়া মিথ্যা বলছে, মিথ্যা বলছে। আমিই আগে ওই রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম, আরাফাত এটা টের পেয়ে আমার ঘুমের সুযোগ নিচ্ছিল।”

উপস্থিত সবাই পড়লো এবার মহা দ্বিধায়। ইশতিয়াক তালুকদার থম মেরে বসে রইলো সিঙ্গেল সোফায়। ছেলে-মেয়েদের এসব শুনতেও তার অস্বস্তি লাগছে। বাকিরাও একে-অপরের দিকে তাকিয়ে, মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো। এদিকে আরাফাত ও অধরার চাপা তর্ক চলতে রইলো।

কাকে বিশ্বাস করবে ওরা? কে অপরাধী? এছাড়াও, বিষয়টি বড্ড লজ্জাজনক। সুনামধন্য তালুকদার বাড়ির জন্য তো এটা আরো বড় অসম্মানজনক।
সবাই যখন ভাবনার জগতে ডুবে যাচ্ছিলো, আচমকা বাঁকা হাসলো ইসাবেলা। অধরার কথার পিঠে দাদি চাপা স্বরে বললো,

“আরাফাত যখন তোমার ঘুমের সুযোগই নিচ্ছিল, তাহলে আমি সেটার স্বেচ্ছায় করার একটা সুযোগ করে দেই? কি ববল, অধরা?”

দাদির ইঙ্গিত বুঝতে পেরে, অধরা হকচকিয়ে উঠলো। ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে ফেললো। কিছু বলবে ও, তার আগেই দাদি মমতার দিকে তাকিয়ে বললো,

“আমাদের মানইজ্জত তো যা যাওয়ার গেলোই। মমতা, তোমার কাছে আমি একটা প্রস্তাব রাখি। তোমার মেয়ে’কে আমি আমার নাত আরাফাতের জন্য চাচ্ছি!”

মমতা চমকালো, ভড়কালো! এতক্ষণ ধরে থম মে’রে দাঁড়িয়ে থাকা মমতা মুখ খুললো। ভারি বিস্ময় নিয়ে সে বললো,

“আপনি কী বলছেন, মাওই মা? বাড়ির চাকরের জন্য আপনি আমার মেয়ে’কে চাচ্ছেন?”

ইসাবেলাও খ্যাঁক খ্যাঁক করে উঠলো,

“মুখ সামলে কথা বলো, মমতা। তুমি কাকে চাকর বলছো? আরাফাতকে? তুমি জানো না, আরাফাত এখন এই বাড়ির ছেলে। তোমার মেয়ের ভাগ্য ভালো যে, আমি এরপরও তাকে তালুকদার বাড়ির বউ করতে চাইছি।”

“আরাফাতের জন্য কেন চাইছেন আমার মেয়ে’কে? ইরফানের জন্য চাইতে পারলেন না?”

মমতার মুখের এ বাক্য সরাসরি বলার সাহস হলো না। গিলে ফেলতে হলো একথা। কিছু উপায়ান্তর না পেয়ে, সে ইসাবেলার বড় মুখের কথা খানা অতি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলো। বললো,

“চাকরবাকর যতোই তালুকদার বাড়ি ছেলে হোক, তার র ক্ত তো আর পরিবর্তন করা যাবে না। আরাফাতও আর কখনো ইরফান তালুকদার হবে না। চাকর তো চাকরই হয়।”

থেমে নেই ইসাবেলাও। মমতাকে কঠিন কিছু কথা শোনালো। সেই সঙ্গে এটাও বলে ফেললো,

“এতোকিছুর পরও তোমার এই অসভ্য মেয়ে’কে কে বিয়ে করবে? আমি কিছু বুঝি না, ভাবছো? আমি মুখ খুললে কিন্তু খুব খারাপ হয়ে যাবে মমতা। আবারও বললাম, তোমার মেয়ে’কে বিয়ে দেওয়ার এটাই শেষ সুযোগ।”

মমতা পড়লো অথৈজলে। একমাত্র মেয়ে’কে কি-না শেষমেশ নাম-পরিচয়হীন একটা চাকর শ্রেণির ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে হবে। সে এ-কি করলো? নিজের হাতেই, নিজের মেয়েটাকে শেষ করে ফেললো। আসলেই তো, সবটা জেনে-শুনে এরপর ওর মেয়ে’কে কে বিয়ে করবে?

মমতা অতি শোকে পাথর হয়ে গেলো। সবটা শুনে, অধরা চেতনাহীন হয়ে পড়লো। একে তো মানসম্মান সব গেলো, এর উপর কি-না বিয়ে করতে আরাফাতকে!

এদিকে ইসাবেলা তার সিদ্ধান্তে অটল। ইশতিয়াক তালুকদার, মৌসুমি তালুকদার সহ বাড়ির মেঝো ও ছোট বউও চুপ করে রইলো। মায়ের উপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার মতো দুঃসাধ্য ওদের নেই। সবাই যখন নিজনিজ জগত নিয়ে ভাবছিল, আচমকা সেখানে শোনা গেলো ইরফান তালুকদারের গম্ভীর পুরুষালী কণ্ঠস্বর,

চলবে……