#শেষ_সূচনা
পর্বঃ১৫
লেখকঃ আরিফুর রহমান মিনহাজ
মিনিট-পনেরো পরে স্বর্ণা কাপড় ছেড়ে ফিরে এলো। তার পরনে খয়েরী রঙের ঢিলেঢালা জামা। আসিক্ত চুল কিছু পিঠে আর কিছু স্কন্ধের বুকপাশে এলানো। চোখে মুখে নির্লিপ্ত সাবলীল ভাব। যেন এমন ঘটনা তার সঙ্গে অহর্নিশি ঘটে, ত্রস্ত হবার কিছুই নেই! আসলেই কিছু নেই। থেকে থেকে তার সুন্দর স্নিগ্ধা মনটাকে এতোটা নির্দয় হয়ে ওঠেছে যে এমন সূচের মতো তীক্ষ্ণ কথাটাগুলোর পরিণাম সে ঠিক বুঝে উঠতে পারেনা। পাশের সোফায় নিঃশব্দে বসে পড়ল সে। আমি বললাম,
— পরশু চট্টগ্রাম চলে যাচ্ছি। এরপরের দিনই জয়েনিং। হাটহাজারী থানায়। ভালোই হলো বলেকয়ে নিজের এলাকায় চলে এলাম। নাহয় আরো দূরে পাঠিয়ে দিচ্ছিল।
— তাহলে তুমিই বোধহয় ছুটবে আমার পিছু পিছু। ছাঁচে ঢালা নিখুঁত ঠোঁটদুটো বাঁকা করে হেসে বলল স্বর্ণা। আমি বাক্যটার ভাবার্থ পুরোপুরি বুঝতে না পেরে বললাম,
— মানে? বুঝিনি বুঝিয়ে বলো।
— মানে আমিও চট্টগ্রাম যাচ্ছি কয়েকদিনের ভিতর।আমার নেক্সট মিশনে। -কি সুন্দর সহজ অনাবিল উত্তর স্বর্ণার! বলার সময় কণ্ঠ কাঁপা তো দূর, ঠোঁটটা পর্যন্ত কাঁপল না! চোখ ভাবলেশহীন। প্রতিশোধের নেশায় এমনধারায় তন্ময় হয়ে গেছে সে। তার রক্তপিপাসু অস্ত্র তাজা রক্ত চুষার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে, উন্মুখ হয়ে আছে, সময়-সুযোগের অভাবে দিনরাত অষ্টপ্রহর হাপিত্যেশ করে বেড়াচ্ছে। আজ সেই সুযোগ এলে হাতছাড়া করাও তো তার মনন নয়, ধর্মও নয়। আমার কাছ থেকে কোনপ্রকার উত্তর না পেয়ে স্বর্ণা শুধালো,
— চুপ করে আছ যে? ভয় পেয়ে গেলে? – তার মুখে সেই কুটিল হাসিটা আঠার মতো লেপ্টে আছে এখনো।
— ভয় পাব কেন?
— তাহলে চুপ করে আছ কেন?
— চুপ করে থাকলেই যে ভয় পায় এমন তো কোন কথা নেই।… আমি ভাবছি অন্য কথা।
— কী কথা?
— সব পুরুষ কামুক? এটার মানে কি? সবার সুত্র ধরে তুমি আমাকেই এই ইঙ্গিত করেছ?
— হ্যাঁ, সব পুরুষই কামুক। এতো কোন সন্দেহ নেই।
— তাহলে তো আমিও বলতে পারি যে সব মেয়েরা কামুক। – মনের অজান্তেই বাচ্চাদের মতো বচসা শুরু করলাম আমি।
স্বর্ণার জোর গলায় বলল,
— না, বলতে পারোনা। কারণ তোমার কাছে কোন যুক্তি নেই।
আমিও পাল্টা জবাবে বললাম,
— তোমার কাছে কি এমন পাকাপোক্ত যুক্তি আছে শুনি?
— বলতে চাইনা। আশেপাশে একবার চোখ বুলিয়ে দেখো, উত্তরটা আপনিই পেয়ে যাবে।
আমি কোন জবাব দিলাম না। হৃদয়ের গভীরতম জায়গা থেকে একটা কালান্তক আবর্তের সমীরণ কালবৈশাখী ঝড়ঝাপটা র মতো দুলে দুলে ফুলে ফেঁপে উঠছে অকৃত্রিম রোষে। সেই ঝড়-ঝঞ্ঝার মধ্যেও স্বর্ণার কথাগুলো গলিত শিসার মতো কানে এসে কুহরিত হচ্ছে বারবার। আমার সমস্ত দেহ-মন যেন শেষে বিকেলের নিঃসঙ্গতার মতোন বিষিয়ে উঠেছে। একজন ভৃত্য এসে ট্রেতে করে চা,বিস্কিট দিয়ে গেল। স্বর্ণা ছোট করে বলল,
— খাও।
আমি সদম্ভে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালাম। মনে মনে বললাম” নাহ এই ঘরে আর এক মিনিটও নয়।” যে ঘরের চতুষ্কোণ থেকে অবাধে আমার জন্য ঘৃণার অনল বেরুচ্ছে সে ঘরে আমার থাকাটা যথার্থ নয়। স্বর্ণা সরু চোখে তাকিয়ে বলল,
— দাঁড়ালে কেন? খাও…
আমি কৃত্রিম হেসে বললাম,
— নাহ, ইচ্ছে নেই। আজ আসি। তবে জেনে রেখো যে, আমার যদি এতোই মেয়ে আসক্তি থাকতো। তাহলে বারবার নির্লজ্জের মতো তোমার কাছে ছুটে আসতে হতোনা। অন্য ব্যবস্থাও করতে পারতাম। দুঃখের ব্যপার হলো, কোনটা ভালোবাসার টান আর কোনটা যৌনতার টান সেটা তুমি বুঝলেনা। তোমার সামনে আর কখনো স্বেচ্ছায় না এসে আমি এটাই প্রমাণ করব। তোমার মাঝে শুধু পাষাণ হৃদয়টা থাকলেও আমার কাছে পাষাণ এবং কোমল দুই-ই একসঙ্গে আছে৷ আসি।- বলে দরজার দিকে আগালাম আমি৷ সঙ্গে স্বর্ণার অতিযত্নে বেঁধে দেওয়া ব্যান্ডেজটা একটানে ছিন্নভিন্ন করে সেখানেই ফেলে দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতস্থানে মুখে অপেক্ষমাণ ডগমগে রক্তকণা ‘চিরিক’ করে দৌড়ে বেরিয়ে হাতের পাঁচিল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল। স্বর্ণা ছুটে এলো আমার পিছু পিছু৷ অনেক্ক্ষণ ধরে কম্পমান ওষ্ঠাধরে ক্ষীণ কণ্ঠে আমার নামটা উচ্চারিত হলো শুধু! আমি আর ফিরে তাকালাম না। গোঁ ধরে গাড়িতে গিয়ে বসে দ্রুত ড্রাইভ করে বাসায় ফিরে এলাম।
ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখলাম ফোনটা বিপবিপ করে ভাইব্রেট হচ্ছে। রাত তখন এগারোটা। নিঝুম রাত নেমেছে তল্লাটে। আননওন নাম্বার। ফোন পিক করতেই আধুনিক তরঙ্গে পষ্ট মেয়েলি কণ্ঠ ভেসে এলো। অতীব পরিচিত কণ্ঠ। আমি ক্যাটক্যাট করে বললাম,
— কেন ফোন করেছ?
স্বর্ণা অনেক্ক্ষণ কোন কথা বললো না। একটু পর ধীরে ধীরে ধরা গলায় বলল,
— স্যরি আসলে আমি তোমাকে ওভাবে বলতে চাইনি…বুঝতেই তো পারছ।
আমি কঠিন গলায় বললাম,
— হয়েছে, আর ন্যাকা কান্না করে কাজ নেই। আর তুমি ওভাবে বলতে চাওনি? জোক করছ আমার সঙ্গে? কী কী বলেছ সব ভেবে দেখো একবার। ছাড়ছি এখন। বলে উত্তরের অপেক্ষা না করে ফোন রেখে দিলাম।
নিজ ইচ্ছেতেই স্বর্ণার সঙ্গে এমন ব্যবহারটা করলাম। কারণ আমি চাই সেও জানুক,বুঝুক যে, অবহেলার একটা সীমা আছে। সেই সীমার গণ্ডি পেরুতেই সেটা অসহ্য, বিরক্তিকর মনে হয়। জীবনটা তো কারো হাতের মোয়া না যে, ইচ্ছে হলো কাছে এলাম আবার ইচ্ছে হলো দূরে সরে গেলাম তা তো হতে পারেনা! এবার সে উপলব্ধি করতে পারবে প্রিয় মানুষটার কাছে অনাদৃত হওয়ার স্বাদটা কেমন! বরং জোর দিয়ে বলা যায়, সেই অনাস্বাদিতপূর্ব স্বাদ আস্বাদন করার পর সে হুড়হুড় করে ছুটে আসবে আমার কাছে। এই বুদ্ধিটা অবশ্য অনিক থেকেই পাওয়া। অনিকের কথার সুত্র ধরেই বলি। চট্টগ্রাম যাবার আগে তার বাসায় একবার চক্কর দিয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু পাকেচক্রে আমার সঙ্গে চট্টগ্রাম যাচ্ছে সে। সঙ্গে থাকছে তার স্ত্রী। কোন অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে অনিকের কুষ্টিয়ার পোস্টিংটা ক্যানসেল হয়েছে। বদলে তাকে কক্সবাজারে সিফট করা হয়েছে। ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাবার ব্যবস্থা ভালো থাকলেও আমার করা অফারে দুয়েকদিন চট্টগ্রামে থেকে তবেই কক্সবাজার রওনা দিবে দু’জন। একটু আগেই এসএমএসে বিষয়টা ফাইনাল হয়েছে আমাদের। বাবা ফোন করে কেয়ারটেকার’কে বলে দিয়েছে যাতে ঘরদোর পরিষ্কার করে বাসযোগ্য করে তুলে। দু’দিন পরে তারাও সেখান থেকে একবার ঘুরে আসবে। মা অবশ্য রয়ে যেতে পারে আমার সঙ্গে। বাবা পুনরায় ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। এরকমই ঝংকার শোনা যাচ্ছে আপাতত। পরে কি হয় সেটা সময়ের ব্যাপার।
..…………………….………….
সমস্ত গুছানো শেষে মায়ের থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। বাবা ছিলনা। খুব সম্ভব বাজারের দিকে গিয়েছে কোন কাজে,তবে তাঁকে আগে থেকেই বলা আছে। বাবা-মার জন্য কেনা কাপড়গুলো দিতে পারলেও মেহনাজের বাসায় যাবার সময়টা হয়ে ওঠেনি। কারণেই, তাদের উপহারগুলো অন্য সময় দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। ট্রেন স্টেশনে পৌঁছে অনিকের পরিবারের সঙ্গে মিলিত হয়ে ট্রেনে উঠে পড়লাম। রাতের ভ্রমণ। সকালেই চট্টগ্রাম গিয়ে পৌঁছুব। টিকিট অনিক কিনে রেখেছিল আগেই।নাহয় শেষের দিকে হুড়োহুড়ি করেও টিকিট সংগ্রহ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। আবার কিছু টিকিট দালালেরা আগে থেকেই সরিয়ে রেখে শেষবেলায় চড়া দামে বিক্রি করে। দিনেদিনে এভাবেই রসাতলে যাচ্ছে দেশটা। ট্রেন ছাড়ার পাঁচ বাকী আরো৷ পাশের সিটে বসা একজন হুজুর টাইপের লোক। তিনি ঝিম ধরে বসে আছেন সিটের সঙ্গে হেলান দিয়ে। অনিক আর তার স্ত্রী তামসী আরো দুই সিট সামনে। এখান থেকেই তাদের আলাপ-আলোচনার মৃদু গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। আমার কানে হেডফোন। অনবরত প্লে লিস্টে গান পরিবর্তন করে যাচ্ছি। কোন গানই পছন্দ হচ্ছেনা।একসময় একটা গানে এসে থমকালাম আমি। এতো দীর্ঘ সময়টা বোধহয় আমার গান শুনতে শুনতে আর উঁচু নিচু মাঠ-ঘাট, দেখেই কাটবে। সহসা পাশের হুজুর টাইপ লোকটা সোজা হয়ে বসায় তাঁর দিকে একপলক তাকাতেই ছোটখাটো একটা ধাক্কা খেলাম আমি। প্রথমে ভাবলাম চোখের ভুল। পরক্ষণেই সেই ভ্রমের অবসান ঘটল। স্বর্ণা লোকটিকে বলল,
— এক্সকিউজ মি। আপনি কি একটু আমার সিটটাতে যাবেন? আসলে কি আমি ওনার সঙ্গে এসেছি। কিন্তু পাশাপাশি সিট মেলেনি।
ভদ্রলোক চোখ তুলেও তাকালেন না। কথামতো স্বর্ণার ইশারা করে সিটে গিয়ে বসে পড়লেন। আমি চোখ ফিরিয়ে পূর্ববৎ ফোনের স্ক্রিনে নিমগ্ন হয়ে গেলাম। স্বর্ণা বসল আমার পাশে। আমি গানের সাউন্ড বাড়িয়ে দিয়ে হেলান দিয়ে চোখ বোজলাম। ক্ষণিক পর চোখের দুই পাটা ঈষৎ উন্মুক্ত করে লক্ষ্য করলাম স্বর্ণার ঠোঁট নড়ছে। নিশ্চয়ই আমাকে কিছু বলছে ; অথচ আমি শুনতে পাচ্ছি না। ভাবতেই হেসে কুটিকুটি হয়ে যেতে মন চাইছে। এক পৈশাচিক আনন্দের ঊর্মি বারবার উদ্বেলিত হচ্ছে শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। চেপে রাখাও যেমন কঠিন। আবার হেসে ফেললেও সমস্য। তাই ঝিম মেরে বসে রইলাম। মিনিট দুয়েক পর ডান উরুতে স্বর্ণার স্পর্শে চোখ খুলে তাকালাম। গানটা পজ করলাম। স্বর্ণা বলল,
— শুনতে পাচ্ছ আমার কথা?
— কী? ভুরু নাচিয়ে বললাম আমি।
— এতক্ষণ কত কিছু বললাম, একটা কথাও শুননি? স্বর্না গভীর চোখে তাকাল।
— নাহ্। বলে আমি আবার হেলান দিয়ে চোখ বুজলাম। কিন্তু গানটা প্লে করলাম না আর। চোখ বন্ধ রেখেও ঠিক বুঝতে পারলাম স্বর্ণা বিস্ময়াভিভূত হয়ে নিষ্পলক তাকিয়ে আছে আমার দিকে। হয়তো এমন হেঁয়ালি আচরণ সে প্রত্যাশা করেনি। অনেক্ক্ষণ নীরবতার পর স্বর্ণা আমার ডানহাতটা হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় গলে আনমনে নাড়তে নাড়তে বলল,
— কী এমন হয়েছে যে এমন করতে হবে? ভুল করে একটা কথা নাহয় বলেছি। জানোই তো আমার জীবনটা…
আমি তড়িৎ মাথা তুলে স্বর্ণার কথায় বাঁধা দিয়ে বললাম,
— সব কথায় একটা ইস্যু তুলে বাঁচার চেষ্টা করোনা। তাছাড়া তুমিতো চাওনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে আমিই তোমার পিছনে ছ্যাঁছড়ার মতো পড়ে ছিলাম। এখন যখন আমিই তোমার পিছনে ঘোরা বাদ দিলাম তখন কেন তোমার এতো জ্বলছে?
অজানা কারণে নিজ মুখনিঃসৃত কথাগুলো নিজের কাছেই অশিষ্ট মনে হলো। উপরে আমি যতোই কঠোর হবার চেষ্টা করি না কেন। স্বর্নার জন্য বরাদ্দ হৃদয়তটের সবটুকু জুড়েই নমনীয়তার রাজত্ব ছাড়া আর কিছুই নেই। শুধুমাত্র অবহেলার সঠিক উপলব্ধিটার জন্যই এই টনটনে আচরণ। জীবনের রঙ্গ মঞ্চে কতকিছুই রটে আর কতকিছুই ঘটে। এইটুকু অভিজ্ঞতা তার হওয়াই উচিত। স্বর্ণা কিছু বললনা জবাবে। নতমুখে চুপ করে রইল সে। কিন্তু হাতটা ছাড়াবার সাহস বোধকরি পেলনা। কাজটা আমিই সেরে নিলাম। হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে দুইহাতে ফোন স্ক্রল করতে লাগলাম। অনেক্ক্ষণ ধরে একজন অল্পবয়সী হেঁড়েলমুখো ছেলে আমাদের বাগবিতণ্ডা শুনে মুখ টিপে টিপে হাসছিল। বয়স আঠারো উনিশের বেশি হবেনা। তার পাশে বোধহয় তার মা নাক ডেকে ঘুমোচ্ছে।স্বর্না রাগে গজগজ করতে উঠে দাঁড়িয়ে কোলের উপর চেপে ধরা ব্যাগটা সবেগে সিটের উপর ছুঁড়ে মারল।। দুই পা এগিয়ে ছেলেটার সিটের সামনে গিয়ে দাঁড়াল কয়েক সেকেন্ড। ছেলেটা হাসি থামিয়ে মুখ হাঁ করে চাইল স্বর্ণার দিকে। স্বর্ণার দীঘল তনুর জন্য আমার সিট থেকে আর কিছু দেখা গেলনা। শুধু দেখা গেল, স্বর্ণা বিদ্যুৎ বেগে হাত ঘুরাল আর ঠাস্ করে একটা শব্দ হলো। সকল যাত্রী হাঁ করে দৃশ্যটা গিলছে। ছেলেটার মা ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠলেন শব্দ শুনে। আগন্তুক একজন মেয়ে ছেলেকে চড় মারতে দেখে তিনি তেড়েফুঁড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,
— এই মেয়ে তোমার এতবড় সাহস। তুমি আমার সামনে আমার বাচ্চার গায়ে হাত তুললে?
স্বর্ণা নিজের জায়গায় অটল থেকে বলল,
— আপনার বুড়া বাচ্চাকে সামলান। নাহয় বাচ্চার মাও চড় খেতে বাদ থাকবেনা।
স্বর্ণা আর দাঁড়াল না। ব্যাগটা আবার কোলে নিয়ে ধপ করে বসে পড়ল আমার পাশে। আমি কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিয়ে বললাম,
— শুধু শুধু আমার রাগটা ঐ ছেলের উপরে ঝাড়লে। লাভটা কি হলো? ফলাফল শূন্য! হুহ!
স্বর্নার রাগটা পানসে হতে সময় লাগলো। ক্ষাণিক পরেই সে মিইয়ে গিয়ে কোমল স্বরে বলল,
— হাতে ব্যথা আছে? সেদিন ব্যান্ডেজটা ওভাবে খুলে ফেললে কেন?
— এতো অল্প দিনে ব্যথা যাবার কথা নয়। ব্যান্ডেজ খুলে ফেলার কোন যুক্তিযুক্ত কারণ নেই। ইচ্ছে হলো তোমার কোন জিনিস রাখবনা তাই ফেলে দিয়েছি।
— হঠাৎ এতো ঘৃণা জন্মাল কেন?
— একথা একদিন আমিই তোমাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। উত্তর তো দাওনি!
স্বর্না শ্লেষমিশ্রিত কণ্ঠে বলল,
— তিলকে তাল করার অভ্যাস হলো কবে তোমার?
আমি বিরক্তি নিয়ে বললাম,
— তোমার সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করছেনা এখন। চুপ থাকো প্লিজ।
স্বর্ণা আর কোন কথা বললনা। আমি রুদ্ধ জানালাটা ঠেলে খুলে দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে এক ঝাপটা বাতাস এসে আঘাত হানলো আমার চোখে-মুখে। বাতাসের দাপটে দু’চোখ সংকুচিত হয়ে এলো আমার। অর্ধনিমীলিত চোখেই মুগ্ধ দৃষ্টি মেলে বাইরে তাকালাম আমি। ঝিকঝিক করে ট্রেন ছুটে চলেছে সমান্তরাল রেললাইন ধরে। সামনে যতদূর চোখ যায় শুধু সুবিশাল তেপান্তরে রাশিরাশি পাকা ধানের শিষ দুলে মৃদু বাতাসে। অল্প দূরের খালের পাশে জারুলগাছে একঝাঁক জোনাকিপোকার ভিড়। এবারের জোনাকিপোকার আলো কেমন নিষ্প্রভ, ম্লান। কোন সদস্য কি বিরহে আত্মহনন করেছে? হবে কিছু একটা। নাহয় এমন অনুজ্জ্বল তো তাদের স্বভাব নয়! অদূরেই ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোডিয়াম আলোয় যানচলাচলের ব্যস্ততা দেখা যায় কিছুদূর পরপর। আবার ঢাকা পড়ে যায় গাছপালায় ঘেরা অরণ্যের মাঝে। এভাবেই রাতের সম্মোহনী প্রকৃতি দেখতে দেখতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি সেটাই মনে নেই। ঘুম ভাঙল চোখে-মুখে প্রবল বৃষ্টির ছাঁটে। চোখ রগড়ে একটু ধাতস্থ হয়ে দ্রুত জানালাটা বন্ধ করতে যাব ঠিক তখনি বুকের উপর ভারী কিছুর অস্তিত্ব টের পেলাম। প্রথমটা এলটু ত্রস্ত হলাম আমি। পরক্ষণেই সেটা স্বর্ণা বলে বুঝতে পেরে ঠোঁটের কোণে দুর্বোধ্য একটা হাসির রেখা ফুটলো আমার। কদাচিৎ নিজেকে নিজেই দুর্বোধ্য, অচেনা মনে হয়। আমি বাঁ হাত দ্বারা জানালার পাল্লা আটকিয়ে ডানহাতটা স্বর্ণার পিঠে ঘুরিয়ে আরেকটু গাঢ় করে বুকের কাছে টেনে নিলাম। স্বর্ণা আদুরে বেড়ালের মতো গুটিশুটি মেরে জায়গা করে নিল আমার বুকে। বুঝতে বেশি অসুবিধে হলোনা যে স্বর্ণা জেগে ছিল এতক্ষণ। একটু পরই তার ননীর পুতুলের মতো দেহটা রুদ্ধ কান্নায় বারংবার ফুলে ফুলে কেঁপে উঠলো। পরক্ষণেই চোখের দেয়াল বেয়ে দরদরিয়ে গড়িয়ে পড়ল জল। শার্ট ভিজল। টি-শার্ট ভিজল। নোনা জল বুক চুইয়ে লোমকূপ দ্বারা শরীরে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ব্যাপৃত হয়ে হৃদয়ভূমিতে স্বর্ণার আসনটা আরো পাকাপোক্ত করতে চায়। কিন্তু শরীর অনুমতি দেয়না!
স্বর্ণার কান্নার বেগ কালবৈশাখী ঝড়ের মতো থেমে থেমে দ্বিগুন হচ্ছে। আমার কোন শান্তনার বুলি সে শুনতে নারাজ। মিনিট দশেক পর সে কান্না বেগ থামিয়ে অশ্রুবিবশা কণ্ঠে বলল,
— কেন এমন করো? আমি জানি আমি খারাপ। কিন্তু খারাপের কারণটাও তুমি জানো। আমার জায়গায় একবার নিজেকে বসিয়ে প্রশ্ন করো। তুমি হলে কী করতে? আমার খোদাকে আমি জবাব দিব, যে দেশে প্রমাণ পাওয়ার পরও আসামীরা চোখের সামনে ঘুরে বেড়ায় সেখানে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অপরাধ বলে আমি মনে করিনা। আমার আল্লাহ আমার ব্যথাটা অবশ্যই বুঝবেন।
স্বর্ণার মুখটা আমার বুকের কাছে। তার গুনগুনিয়ে কথাবলা আমার বুকের ভেতর মৃদু ঝংকারের সৃষ্টি করল। এই যেন সে চেয়েছিল! আমি বললাম,
— কিন্তু তুমি পুলিশের হাত থেকে রেহায় পাবে কী করে? দেশের এতোগুলা বাহিনী তো তোমায় ছাড়বেনা।
— ছাড়ার আশাও আমি করিনা। আমি শুধু প্রতিশোধ নিতে চাই। জাতি নারীশক্তির এক চরম দৃষ্টান্ত দেখুক। শিক্ষা নিবে। তোমাদের পুলিশ বাহিনী শিক্ষা নিবে। আমার মৃত্যুদ্বারা যতি দেশে একটা ধর্ষন রোধ হয় এতেই আমার আত্মা শান্তি পাবে। বাঁচার ইচ্ছেটা আট বছর আগেই মরে গেছে।শুধু তুমি অবহেলা করোনা।
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম,
— মাত্র একদিনের অবহেলায় এতোটা বিধ্বস্ত তুমি। অথচ আমাকে কত অবহেলা করেছ ভেবে দেখো একটু!
— দেখলাম,বুঝলাম।
— কী দেখলে? কী বুঝলে?
— অবহেলার কষ্টটা।
— আর করবে?
স্বর্না ডানে বাঁয়ে ঢিমে মাথা নেড়ে আরো আষ্টেপৃষ্টে ধরলো আমায়। আমি মনে মনে বললাম,এভাবেই যদি মিশে থাকবে বলে কথা দাও সারাটা জীবন তাহলে শহুরে কোলাহল,ঝঞ্ঝাট ছেড়ে দূর কাননের অতলান্তে মিশে যেতাম। আর ফিরে আসতাম না।
শেষ রাতে বৃষ্টির বেগটা কমল। বাতাসে সোঁদা গন্ধের সঙ্গে হিমজড়ানো ঠাণ্ডা। কামরার সকল যাত্রী ঘুমে বিভোর। স্বর্ণা এখনো আগের মতোই বুকের সঙ্গে লেপ্টে ঘুমোচ্ছে। আমি ঘুমে আছিও আবার নেই,এমনি একটা অবস্থায়!
…….……………………..
সকাল ছয়টার দিকে ট্রেন থামল চট্টগ্রাম স্টেশনে। যাত্রীরা একে একে নেমে পড়ল সবাই। অনিক আর তামসী এখনো ঘুমোচ্ছে। আমি নামার পথে অনিককে ধাক্কা দিয়ে বললাম,
— কীরে এখনো ঘুমাচ্ছ কেন? রাতে টি-টুয়ান্টি নিশ্চয় হয়নি?
তামসী লজ্জা পেয়ে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বোঁচকাগুলো নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। স্বর্ণা আমার পিছন পিছন ছিল। সে প্রশ্রয়ের হাসি দিয়ে চোখ রাঙ্গলো একটু। অনিক আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে বলল,
— টি-টোয়েন্টি হবার মতো মাঠ-ঘাট এখানে নেই ভাই। কাজেই ওসব বলে… তদ্দণ্ডে স্বর্ণার দিকে চোখ পড়তেই সে কৃত্রিম চমকের ভান করে বলল,
— এই পাখি কোত্থেকে জোগাড় করলে? তোমার পাশে না হুজুর ছিল?
আমি বললাম,
— পাখি তাই না? তোমার সব ফাঁস করবো আমি। সবুর করো শুধু।
অনিকের চেহারার রং বদলাতে সময় লাগলোনা।পলকেই ভয়ে কাঁচুমাচু হয়ে কিছু না বলার জন্য চোখে ইশারা করল আমাকে৷ আমি হেসে বললাম,
— এ হচ্ছে স্বর্ণা। যার কথা অনিককে বলেছিলাম।
অনিক দাঁত বের করে বোকা বোকা হেসে হাত বাড়িয়ে বলল,
— নাইস টু মিট ইউ স্বর্ণা।
স্টেশন থেকে বেরিয়ে একটা গাড়ি ভাড়া করে সবাই হাটহাজারী রওনা দিলাম। স্বর্ণা আপাতত আমাদের সঙ্গে হাটহাজারী পর্যন্ত যাবে। এরপরেরটা সে নিজে জানে। হাটহাজারী মফস্বল শহর। তবুও লোকসমাগমে জমজম করে সবসময়। বিভিন্ন কারণে বেশ নামডাক আছে এই এলাকার। বিশেষ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং আরবি বিশ্বিবদ্যালয়ের কারণে বেশ খ্যাতনামা অর্জন করেছে এই এলাকা। আমার জন্ম এই এলাকারই ছোট্ট একটা গ্রামেই। কৈশোরটা আমার নানান হৈ- হুল্লোড়ে এফোঁড়-ওফোঁড় ঘুরে বেরিয়ে এখানেই কেটেছে। শেষে দাদীর একঘেয়েমীর কবলে পড়ে আমাকে এই প্রাণের শহর চট্টগ্রাম ছাড়তে হয়েছে। আজ সুদীর্ঘ সময় পর এই তল্লাটের মাটিতে পা ফেলে আমার শরীরে সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যেন প্রাণ ফিরে পেল। হাটহাজারী এসে স্বর্ণা বিদায় নিল। এখান থেকে গ্রামে যেতে হলে কিছু লোকাল টেম্পু পাওয়া যায়। তিনজনে সেই টেম্পুতে চেপে বসে বাড়ি পৌঁছালাম। কেয়ারটেকার আগে থেকেই সব ধুয়েমুছে প্রস্তুত করে রেখেছিল। আমরা পৌঁছে কোন অসুবিধায় পড়তে হলোনা। দুপুরের মধ্যেই গ্রামে ফিরেছি শুনে কয়েকজন দেখা করতে এলো। সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে ঘুরেফিরেই দিনটা অতিবাহিত হলো। অনিক আর তামসীকেও ঘুরে ঘুরে দেখিয়েছি পুরো এলাকাটা। গ্রামের সহজসরল মানুষের ভাবশুদ্ধি, অতিথিপরায়ণতা, সহমর্মি গুণে বেজায় খুশি দুজনে। পারলে আরো কয়েকটা দিন থেকে যায় এখানে। কিন্তু দু’দিন পরেই অনিকের জয়েনিং। কাজেই ঘুরে বেড়ানোর সময় এটা নয়। একটা জিনিস খেয়াল করেছি, অনিকের সঙ্গে তামসীকে খুব ভালো মানিয়েছে। একেবারে মানিকজোড়! যদিও একথা নব্য বিবাহিত দম্পতির জন্য ভালো প্রযোজ্য। তবে আমার মন যদি একটু দেরি করেও ফেলে এতে আর দোষ কী? রাতে স্বর্ণা ফোন দিল।ফোন রিসিভ করেই আমি মুখবন্ধ ছাড়া বললাম,
— কোথায় উঠেছ?
স্বর্ণা হেসে বলল,
— এতে অস্থির হয়ো না। বাবা- মা অসতী বলে ফেলে দিলেও বান্ধবী কিন্তু ফেলে দেয় নি! ওর বাসাতেই উঠেছি।
আমি একটু দ্বিধা নিয়ে বললাম,
— কিন্তু, তোমার জন্য তো ওরা সমস্যায় পড়তে পারে!
—- পড়বেনা। সেই ব্যবস্থা করেই উঠেছি। আর…কয়েকদিন পরেই চলে যাব শহরে।
আমি এ বিষয়ে আর না এগিয়ে অন্য বিষয়ে পড়লাম।
— তোমার কিন্তু একটা জিনিস পাওনা আছে এখনো। – কৌতুকের ছলে বললাম আমি।
— আবার কী?- স্বর্ণা বলল হাফ ছাড়া গলায়।
— ঐযে কুমিল্লাতে দিয়েছিলে, সেটাতো ফেরত দেয়া হয়নি এখনো।
স্বর্ণা জোরে একটা নিশ্বাস ছাড়ল,
— সারাক্ষণ মাথায় ওটার চিন্তা ঘুরে কেন হ্যাঁ? পাওনাদার যদি না নিতে চাই তাকে কি জোর করে দেবে? যাও কাল তোমার চাকরির প্রথম দিন। ঘুমাও।
— না না, আমি আবার বাকী রাখা পছন্দ করিনা। কোন না কোন সময় ঠিকি ফেরত দিয়ে দিব।
— আচ্ছা ঠিকাছে, দেখা যাবে, কে নেয় আর কে দেয়।
— ঠিকাছে ছাড়ছি এখন।
সকালে উঠে মনটা কেমন উচাটন করছিল বারবার। দাদীর কথা মনে পড়ছে ভীষণ। ছোটকাল থেকে সে-ই তো আমাকে মানুষ করে এতবড় করেছে। অথচ আজকের দিনটাতে সে নেই। অবশ্য এই চাকরী যথেষ্ট ভারী। বলা যায়, নিজ হাতে পুরো এলাকাটা নিয়ে ঘোরার মতো অবস্থা। একটু ঢিমে হলেই সব তোলপাড় হবে। সেখানে আমার ভালোবাসাকে কতটুকু ছাড় দিতে পারবো সেটা আমার অবিদিত। তখন সবার কাছে হয়তো আমি দেশদ্রোহী, বিশ্বাসঘাতক বলে একনামে পরিচিত হবো। যাক আজকের দিনে এসব আগডুম বাগডুম ভেবে লাভ নেই। পুরোপুরি তৈরি হয়ে যথাসময়ে উপস্থিত হলাম থানায় অর্থাৎ আমার কর্মক্ষেত্রে। উপজেলার থানা হওয়ায় এখানে তেমন তৎপরতা নেই বললেই চলে। প্রথম দিনে ভালোই শুভেচ্ছা সংবর্ধনা পেলাম। সিনিয়র অফিসাররা ডেকে সমস্ত কাজ বুঝিয়ে দিল। আপাতত তেমম কর্মব্যস্ততা নেই। কিছু চেকপোস্টে দাঁড়িয়ে তদারকি করা আর ছোটখাটো মামলা সমাধান করা ছাড়া বাইরে তেমন কোন কাজ নেই। প্রথম দিনটা এভাবেই কাটলো। কর্মস্থলটা ভালো লাগলেও নিজের অবস্থান নিয়ে সংশয় হলো আমার। ঘরকুনো ছেলেটা হঠাৎ করে এক বছরের ট্রেনিংয়ের পর এভাবে সারাদিন মুরগির মতো হাঁটাহাঁটি করবে সেটা কে ভেবেছিল! কিন্তু এক বছরের ট্রেনিংয়ের আদলে যদি একবছরও চাকরীটা না করি তাহলে মানসম্ভ্রম টা কোথায় গিয়ে দাঁড়াল? মনে মনে ভাবলাম, নিজের জায়গাটাকে যতো তাড়াতাড়ি আপন করে নিব ততই আমার জন্য ভালো। দ্বিতীয় দিনটাও এভাবে পার হলো। কিন্তু এর পরের দিন সকালে কাঁচা ঘুমটা ভাঙল অনিকের টানাহেঁচড়ায়। আজ তাদের রওনা দেবার কথা ছিল। আমি হয়তো ভেবেছি সকাল সকাল রওনা দিবে ভেবে আমাকে ডাকছে সে। আমি ঘুমজড়ানো কণ্ঠে বললাম,
— একটু বেলা হোক। তারপর রওনা দিও তোমরা। এখন ঘুমোও গিয়ে।
অনিক আমার কথা গ্রাহ্যই করলো না। বরং আরো দ্বিগুণ জোর দিয়ে ডাকতে শুরু করল,
— আর উঠনা ভাই, তাজা খবর দেখে যাও।
আমার ঘুমের ভারটা এবার অধরীভূত হয়ে এলো। ধীরে-সুস্থে উঠে বললাম,
— কীরে? টি-টুয়েন্টি হয়নি বলে সকাল সকাল জেগে গেলে নাকি?
অনিক এই প্রসঙ্গে না গিয়ে আমাকে টেনে টিভির সামনে নিয়ে গেল। চ্যানেল৫২ এর ব্রেকিং নিউজ বার-এ ঘুরেফিরে একটা লেখাই আসছে,
“চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিদেশফেরত দুই বন্ধুর লিঙ্গকাটা লাশ উদ্ধার। পূর্ব ঘোষণাকৃত ফেইসবুক পেইজ DONT ‘এ হত্যার ভিডিও আপলোড। বিস্তারিত আসছে… ”
চলবে…