শেহরোজ পর্ব-০৭

0
327

#শেহরোজ — ৭
#ইসরাত_জাহান_দ্যুতি
***

গাড়ির গিয়ার বদলে গতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে শেহরোজ। এগিয়ে চলছে গুলিস্তানের দিকে। রেয়ার ভিউ মিররে দেখতে পেলো, বাইক দুটো আর এলিয়নটা শুধু ফেউয়ের মতো পিছু পিছুই আসছে। আক্রমণের কোনো লক্ষণ নেই। কিন্তু এমনটা তো হওয়ার কথা না! সেই টিএসসি থেকে জ্যামে বসে থাকা অবধি পেছনে লেগে থেকেছে গাড়িটা৷ আর জ্যাম ছাড়ার পরই হঠাৎ করে বাইকদুটো ওর গাড়ির দু পাশে অবস্থান নেয়। তারপর জ্যাম থেকে বের হয়ে সামনে এগোতেই যখন রাস্তায় অল্পস্বল্প গাড়িঘোড়া, মানুষজন দেখল তখনই আক্রমণাত্মক হয়ে পড়ল। তাই ওদের উদ্দেশ্য যে শুধু পিছু করায় নয়, তা বোঝা যাচ্ছে।

“কী হচ্ছে আমাকে বলবেন?” ভীত-সন্ত্রস্ত শাজ মাথাটা নত অবস্থাতে রেখেই জিজ্ঞেস করল।

“অ্যাটাক চলছে!” সতর্ক চোখে পেছনের পরিস্থিতি দেখতে দেখতে শেহরোজ বলল, “আপাতত মাথাটা তুলতে পারো।”

“আপাতত”, বলতে বলতে শাজ মাথা তুলল। “তার মানে কি আবার নিচু করা লাগতে পারে?”

“হয়তো।”

শেহরোজের জলদগম্ভীর গলাটা শাজের কাছে একদম নতুন — একটুখানি চমকেও দিলো। মুখটার দিকে তাকিয়ে দেখল, শুধু গলায় না। পাথুরে চাউনির চোখদুটোও কেমন কঠিন তার। এ মুহূর্তে তাকে গত দুদিন দেখা মানুষ থেকে একদম ভিন্ন কেউ লাগছে। অদ্ভুত লাগছে পুরো পরিস্থিতিটাই। সন্দেহ গলায় বিড়বিড়িয়ে উঠল, “আসিফের ছেলেপুলেরা অ্যাটাক করছে এভাবে?”

উত্তর দিলো না শেহরোজ। গাড়ি দ্বিগুণ গতিতে ছুটছে দেখে শাজের ভয় তড়তড়িয়ে শুধু বাড়ছেই। পুরো ব্যাপারটাই ওর কাছে যতখানি অবিশ্বাস্য, ততখানিই ধোয়াশার।

ব্যস্ত সড়ক বিধায় পেছনের ফেউগুলো আপাতত ঠান্ডা হয়ে আছে। তা বুঝতে পেরেই শেহরোজ জানাল শাজকে, “বাসার শর্টকাট পথ ধরছি। দ্রুত পৌঁছতে হবে আমাদের।”

শাজের বিস্ফারিত চোখ তখন পেছনে। ঘাড় ঘুরিয়ে বাইক আর গাড়িটাকে দেখছে সে। শেহরোজের কথা শুনে জিজ্ঞেস করল, “আমাদের বাসার শর্টকাট আপনি চেনেন? গলিগুলো চেনা আছে?”

“আছে।”

“কতবার যাওয়া আসা করেছেন?”

“একবার।”

“তাহলে তো ভুলে যাওয়ার কথা। গলিগুলো তো আজ পর্যন্ত পিয়াল ভাই-ই ঠিকঠাক মনে রাখতে পারে না।”

“আমি পিয়াল নই।”

বলিষ্ঠ কণ্ঠের সংক্ষিপ্ত জবাবগুলো শুনে শাজের আবারও মনে হলো, দুপুর অবধিও এই লোকটি এমন অন্যরকম হয়ে কথা বলেনি। আবার তার চেহারার নির্ভীকতাও বলে দিচ্ছে, হঠাৎ এ পরিস্থিতিতে সে একটুও ঘাবড়ায়নি। অথচ ঘাবড়ানোর কথা।

“আমরা ট্রিপল নাইনে কল করছি না কেন?” বলল শাজ।

“করে কিছুই হবে না তাই।”

“কেন? এভাবে আমাদের অ্যাটাক করার…” কথা শেষ করা হলো না শাজের। অন্ধকার এক গলির মাঝে প্রবেশ করে ফেলেছে ওদের গাড়িটা। তা দেখে অস্থির গলায় বলে উঠল ও, “আরে এই অন্ধকারে কীভাবে চিনব আমাদের বাসার পথ? আমি তো যতবার আসা যাওয়া করেছি দিনের বেলাতে করেছি।”

“তোমাকে চেনাতে হবে না, শাজ। আমি নিয়ে যাব।” নির্বিকারভাবে জানিয়ে শেহরোজ এতক্ষণ পর ঘাড় বাঁকিয়ে তাকাল শাজের দিকে। মুচকিও হাসল, “এত দ্রুত হতাশ হবে না।”

না, শাজ সহজে হতাশ হয় না। সহজে আশা ছাড়ে না সে। কিন্তু শেহরোজের স্মিত হাসিটা যেন জাদুর মতো ওর ভেতরের মনোবল আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিলো এ মুহূর্তে। “হই না কখনো। আর হবোও না”, নির্নিমেষ তাকে দেখতে দেখতেই স্বগতোক্তির মতো বলল সে।

“গুড জব।”

“কিন্তু এদিকে সব আলো নেভানো কেন?”

“কিছুদিন আগে তোমাদের সাবেক কাউন্সিলের সঙ্গে বর্তমান কাউন্সিলের ঝামেলা হয়েছে। তাই সাবেকজন রাগ দেখিয়ে তার সময়ে যত ল্যাম্পপোস্ট করা হয়েছিল সব ভেঙে দিয়েছে। বেশ বড়ো ঝামেলা চলছে এ নিয়ে।”

“আপনি যে কী করে চিনবেন সেটাই বুঝতে পারছি না। এদিকের সব বিল্ডিংগুলো একইরকম, দেখেছেন? গলিগুলোও তাই একই লাগে। আর আমাদের বাসার পথে ঢুকতে হলে তো বারোটা গলি ঘোরা লাগে।”

“আমি রেকি করেছি। মাত্র বারোটা গলি কি আহামরি কিছু?”

“রেকি করেছেন মানে?” ভ্রু কুঁচকে তাকাল শাজ।

“কাজ কাম নেই। এখানে আসার পর তাই তোমাদের এলাকার পথঘাটে ঘুরে বেড়িয়েছি।” হাসল শেহরোজ, “সেটাই বললাম।”

“ওহ।” অস্ফুটে উচ্চারণ করল শাজ। মাত্র দু মিনিটের কথপোকথনে ফেউগুলোর কথা ভুলেই বসল সে। কে জানে কেন শেহরোজের সঙ্গে কথা বলতে গেলে আশপাশের সব কিছুই ওর মাথা থেকে বেরিয়ে যায়!

গাড়ির গতি কমাবে কিনা ভাবছে শেহরোজ। গলিতে লোকজন যাতায়াত করলে মুহূর্তেই দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু ওর সহজাত অনুভূতি জানে — ফেউগুলো সহজে পিছু ছাড়বে না। একদম জেদি হয়ে পিছু পড়েছে আজ।

ভাবনাটুকু ভাবনাতে থাকতেই শাজ হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠল, “ওরা আসছে!”

বাইকদুটো একদম যেন উড়েই চলে এসেছে। চওড়া গলিতে গাড়ির দুই পাশে জায়গা করে নিতে অসু্বিধা হলো না৷ ওরা বাইকের হেডলাইট জ্বালায়নি। শেহরোজের পাশে থাকা বাইকারটা আচমকা আঘাত হানতে চাইলো জানালার কাচের ওপর৷ কিন্তু এবারও তার আগেই সে গাড়ির ব্রেক কষে ফেলে৷ আর এটারই আশা করছিল বোধ হয় তারা৷ যার জন্য ফিরে এসে আক্রমণ না চালিয়ে সামনে পথ অবরোধ করে দাঁড়িয়ে পড়ল আড়াআড়িভাবে। সেটা দেখে শেহরোজের বুঝতে বাকি রইল না, পেছনের গাড়িটাও একই পদ্ধতি অবলম্বন করে দাঁড়িয়ে আছে৷ অর্থাৎ ফাঁদে আটকে ফেলেছে ওদেরকে। দুটো উপায় এখন — সামনের বাইকারদের ধাক্কা দিয়ে এগোতে হবে সামনে। আর নয়তো লড়াই।

প্রথম উপায়টি আর কাজে লাগাতে পারল না শেহরোজ। ইতোমধ্যে বাইক থেকে চারজন নেমে এসেছে ওদের গাড়ির দিকে বন্দুক তাক করে৷ শাজ অতি ভয় আর বিস্ময়ে তখন বোবা বনে চেয়ে আছে সামনে। চারজন ব্যক্তির কেউই হেলমেট খোলেনি। পরনে তাদের ক্যাজুয়াল পোশাক আর যে ব্যক্তি বন্দুক ধরে আছে, তার ধরার পদ্ধতিটা একদম পেশাদারদের মতো।

“মেয়েটাকে বের করে দাও।” কথাটা মুখে নয়, হাতের ইশারায় বোঝাল একজন শেহরোজকে।

শাজ সে ইশারা বুঝল কিনা কে জানে। সে এখনো ঘোর থেকে বের হতে পারেনি। শেহরোজ তখন দু পাশে লক্ষ করছে৷ যেখানে এসে আটকা পড়েছে ওরা — তার ডান পাশে গোরস্থান আর বাঁ পাশে নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ চলছে। তার মানে ভাগ্য একেবারেই মন্দ!

“মেয়েটাকে চুপচাপ বের করে দাও বলছি!” এবার মুখেই বলল ব্যক্তিটি। কণ্ঠস্বর কোনো তরুণের মতো নয়। চল্লিশের মাঝে হবে তার বয়সটা।

কিন্তু শেহরোজ গোঁয়ারের মতো বসেই রইল সিটে। নির্লিপ্ত চেহারায় পালটা প্রশ্ন করল সে হাতের ইশারায়, “কেন?”

“কোনো কথা না। বলছি বের করে দাও। আমরা বের করতে চাইলে কষ্ট পেতে হবে।”

“কারণটা তো বলবেন, ভাই।”

“মাদার** কথা শোন”, ধমকে উঠল লোকটি। “কপাল ফুটো করে দেবো নইলে।” একদম শেহরোজের কপাল বরাবরই বন্দুকটা তাক করল সে।

হাতে ধরে রাখা মোবাইলটাতে সে সময়ই বিপ শব্দ তুলল শেহরোজের। একবার স্ক্রিনে তাকিয়ে মোবাইলটা গ্লোভ বক্সে রাখতে রাখতে ভারী গলায় শাজকে নির্দেশ দিলো, “গাড়ি থেকে নামবে না। লক দ্য ডোরস!”

শাজের সম্বিৎ ফিরল যেন৷ “কোথায় যাবেন আপনি”, আতঙ্কিত স্বরে জিজ্ঞেস করল ও ৷ কোনো জবাব দিলো না শেহরোজ। ক্ষিপ্রতার সঙ্গে সে গাড়ি থেকে নামতেই শাজ দ্রুত দরজা লক করে তাকাল সামনে।

অস্ত্রধারী চারজনরে সামনে শেহরোজ দীর্ঘদেহী হয়েও নিশ্চয়ই অসহায়। তাহলে সে কেন গাড়ি থেকে নামতে গেল? উত্তরটা পেলো শাজ মিনিটখানিকের মধ্যেই।

সরাসরি বন্দুকধারীর সামনে গিয়ে দাঁড়াল শেহরোজ — দু হাত তুলে আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে। কিছু কথা চলল এক মিনিটের মতো তাদের দুজনের মাঝে। ঠিক তখনই পেছনে থাকা এলিয়ন গাড়িটার কাচ ভাঙার আওয়াজ কানে এলো শাজের। একই মুহূর্তেই মনোযোগ চলে গেল সেদিকে চার দুর্বৃত্তেরও। সে সুযোগটাই কাজে লাগাল শেহরোজ। তার দিকে তাকা করা বন্দুকটা কয়েক সেকেন্ডের মাঝে কেড়ে নিলো লোকটার কব্জিতে বেকায়দাভাবে চাপ দিয়ে ধরে।

পেছনে কী হচ্ছে, অন্ধকারে তা দেখা সম্ভব হলো না শাজের। শুধু ভাংচুরের আওয়াজই পাচ্ছে। সামনে তাকাতেই বুকটা কেঁপে উঠল ওর। হতবাক হয়ে দেখল, শেহরোজ লড়ছে!

বন্দুকধারীর হাঁটু আর বাহুতে গুলি করতে পেরেছে শেহরোজ। বাকি তিনজন ক্ষণিকের জন্য অমনোযোগী হয়ে পড়লেও মুহূর্তেই তারা হুঁশে আসে গুলির ভোতা হালকা শব্দে। সাইলেন্সার যুক্ত পিস্তল বলেই বিকট আওয়াজ হয়নি।

দুজন তেড়েফুঁড়ে এলো শেহরোজের দিকে। বিদ্যুৎ গতিতে প্রথমজনের পেটে বক্সিং চালাল সে। তাল সামলে না উঠতে পেরে সে উলটে পড়েই পেট চেপে ধরল। সঙ্গে সঙ্গেই দ্বিতীয়জন ছুটে এলো। তার সোলার প্লেক্সাসে ঘুষি হাঁকিয়ে দিলো সে। এক সেকেন্ডও না নিয়ে আবার দিলো আপার কাট। দু দুটে মার সহজে সামলে উঠতে পারল না লোকটা।

পেটে ঘুষি খাওয়া প্রথম লোকটি পড়ে গিয়েও আবার উঠে দাঁড়িয়ে পড়েছে এরই মাঝে। তার দিকে নজর দিলো শেহরোজ। গতিবিধি লক্ষ করে বুঝল, এটা ঘাগু জিনিস৷ এবং লড়াইটা দীর্ঘায়িত হতে চলেছে।

সেও সতর্কভাবে ওজন করছে শেহরোজকে। ঠিকঠাক একটা অবস্থান নিয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকল ওকে।

বন্দুকধারী রাস্তায় পড়ে আহ্ উহ্ করলেও তৃতীয়জন শেহরোজরে সঙ্গে লড়ার চেষ্টায় করল না। সে ছুটে এসেই ধড়াম করে শাজের পাশের জানালায় বাড়ি বসিয়ে দিলো নাইটস্টিক দিয়ে। ভয়ে চিৎকার করে সরে গেল শাজ ড্রাইভিং সিটে৷ কাচটা পুরোপুরি ভেঙেই সে দরজার লক খুলে ফেলল। শেহরোজকে ডাকার ফুরসৎটুকুও পেলো না শাজ৷ আর ডাকলেও শেহরোজ ছুটে আসতে পারত কি? ইতোমধ্যে দুজনের সঙ্গে একা লড়াই করতে ব্যস্ত সে।

ওকে গাড়ি থেকে বের করার চেষ্টা করল না লোকটা। উদ্দেশ্য, এই গাড়ি ছুটিয়েই সে নিয়ে যাবে শাজকে। কিন্তু যে হারে ও চিৎকার আর কান্নাকাটি জুড়েছে, তাতে লোকজন চলে এলে মুশকিল হয়ে পড়বে। তাই ভেতরে এসেই ওর চিৎকার বন্ধ করার জন্য রীতিমতো ধস্তাধস্তি আরাম্ভ করল ওর সাথে, চারটা থাপ্পড়ও কষল ওর দু গালে। তবু থামল না শাজের আর্ত চিৎকার। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ওর গায়ের শার্টটা একদম ছিঁড়ে ফেড়ে দিলো লোকটা। টানাটানি করে পুরোটাই খুলে নিতে চাইলো সে৷ পেছন থেকে সে সময় দু হাতে খপ করে তার চুল শক্তভাবে চেপে ধরে গাড়ির বাইরে বের করে আনল শেহরোজ। তার মাথাটা সামনের দিকে নামিয়ে এনেই সাথে সাথে নিজের ডান হাঁটু উপরে চালাল— পরপর আরও দুবার। নাকের হার গুঁড়ো হয়ে গেছে প্রথম আঘাতেই৷ পরের দুই আঘাতে আর টিকতে পারল না লোকটা। জ্ঞান হারিয়ে ধপাস করে লুটিয়ে পড়ল রাস্তায়।

ওদিকে, এলিয়নের ভেতরে যে দুজন বসেছিল, আকস্মিক আক্রমণে তারা ইতোমধ্যে ধরাশায়ী এক যুবকের কাছে — নাম তার সাব্বির।

গাড়ির জানালার কাচ ভাঙা হলে লোক দুজন নিজেদের বিপদ টের পেয়ে যায়। কিন্তু লড়ার আগেই ভাঙা কাচের ভেতর থেকে হুঁশহুঁশ আওয়াজে কী যেন ছুটে আসে। লাগে তাদের কানে, গালে আর কপালে। মুহূর্তেই এমন জ্বালাময়ী যন্ত্রণা আরম্ভ হয় তখন— দিনদুনিয়া ভুলে যেতে বাধ্য হয় তারা সেই যন্ত্রণায়৷ কিন্তু চিৎকার করার সময়টুকুও পায় না। তৎক্ষনাৎ দরজাটা খুলেই সাব্বির ভেতরে ঢুকে পড়ে প্যাসেঞ্জার সিটে বসা লোকটার ঘাড়ের প্রেসার পয়েন্ট যুতসই একটা আঘাত করে অজ্ঞান বানিয়ে ফেলে। ততক্ষণে ড্রাইভিং সিটে বসা লোকটা ছটফটানির মাঝেই গুলি ছোঁড়ে। কিন্তু গুলিটা কাঙ্ক্ষিত মানুষটির গায়ে না লেগে নিজের সাথীর কানের ভেতর ঢুকে পড়ে। কারণ, তাকে বন্দুক তাক করতে দেখে এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের মাঝে সাব্বির নিজেকে আড়াল করে জ্ঞানশূন্য লোকটিকে সামনে ধরে। পর মুহূর্তেই তাকে দ্বিতীয় গুলি ছোঁড়ার সামান্যতম সুযোগ না দিয়ে দু আঙুল সরু করে ঢুকিয়ে দিলো তার এক চোখে৷ সঙ্গে সঙ্গেই পিস্তলটাও কেড়ে নিয়ে আঘাত করল তার ঘাড়ের প্রেসার পয়েন্টেও।

গাড়ি থেকে সে বেরিয়ে আসে এরপর। গাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে আছে তখন আকাশ। দুজন দুজনের সঙ্গে কথা বলবে, এর মাঝেই শেহরোজ তাদের দেখে এগিয়ে এলো৷ ওরা কিছু বলার আগেই ভারী অথচ শান্ত গলায় নির্দেশ দিলো ওদের, “বয়েজ, থ্রি আর গন। ক্লিন আপ দ্য সাইট কুইকলি।”

“এখানেও একটা গেছে, ভাই”, সাব্বির জানাল। “ওদেরই গুলিতে।”

“গেছে চারটে আর আছে দুটো।” ঠোঁট চেপে কী যেন ভাবল শেহরোজ। ভাবা শেষে বলল, “একটাকেও ফিনিশ করার ইচ্ছে ছিল না। কী আর করা! দুটোতেই চলবে।”

“আপনি তাহলে বেরিয়ে যান, ভাই। আশেপাশে কেউ দেখেছে কিনা সেটাও ম্যানেজ করতে হবে আমাদের।” বলল আকাশ।

মৃদু ঘাড় নেড়ে সম্মতি দিয়ে শেহরোজ ফিরে এলো নিজের গাড়িতে। শাজ তার সিটে বসে তখন দু’হাতে বুক ঢেকে মৃগী রোগীর মতো কাঁপছে। সেই সাথে কী যেন প্রলাপ বকছে।

#চলবে।