শ্রাবণের মধ্যদুপুর
১
তারানা তাসনুবা বৃষ্টি
সময়টা ২০০৬ সাল। নিম্মি সবে এসএসসি পাশ করে কলেজে ভর্তি হয়েছে। মফস্বলের মেয়ে নিম্মি জিপিএ ফাইভ পেয়ে এসএসসি পাশ করেছিলো। বাবার স্বপ্ন মেয়ে অনেক পড়াশোনা করে, ভালো কিছু করবে৷ নিম্মির মা মারা গেছেন যখন সে অনেক ছোট। বাবা আর বিয়ে করেননি। নিম্মির দেখভাল আর ছোট একটা চাকরি করেই দিন পার করছেন। নিম্মি কলেজের ক্লাস সেরে, কোচিং এ যায়, দুপুরে লাঞ্চ করতে বাসায় আসেনা, বিকালে একটা টিউশনি করে একবারে ফিরে এসে, গোসল সেরে ভাত রান্না করে। দুপুরে এক খালা এসে ঘরের বাকি কাজ করে যায়। নিম্মি তার হাতের অতিরিক্ত ঝাল মসলার রান্না খেতে দিতে চায়না বাবাকে তাই নিজেই হাতে তুলে নিয়েছে দায়িত্ব। যদিও তারও ভুল হয়৷ কেউ তো হাতে ধরে শিখিয়ে দেওয়ার নেই। আর ঐ বাটন ফোনের যুগে ইউটিউব দেখে রান্না করার উপায় ছিলো না। মাঝে মাঝে লবণ কম বেশি হয়ে যায়৷ তবে বাবা নাজিমুদ্দিন কিচ্ছু না বলে হাসিমুখে খেয়ে নেন। নিম্মি দ্রুত চা বানিয়ে বাবাকে দিয়ে কলেজে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়,
• কিরে নাস্তা করবি না? জিজ্ঞেস করেন বাবা
• বাবা অনেক দেরি হয়ে গেছে, ইংরেজি ক্লাস মিস করা যাবে না
• আচ্ছা যা
দ্রুত পায়ে কলেজের দিকে হাঁটতে থাকে নিম্মি। গোলাপি কামিজ, সাদা সালওয়ার আর ওড়না মাথায় জড়ানো, মাঝারি গড়নের মেয়ে নিম্মি। রাস্তা ঘাটে কেউ তাকিয়ে দেখার মতো সুন্দর নাহলেও একটা অদ্ভুত মায়া আছে তার চোখে মুখে। একবার সে মায়ায় কেউ জড়িয়ে গেলে, নিম্মির কথা, হাসিতে মুগ্ধ হতে বাধ্য!
কোচিং এ অংক করলেও ইংরেজিটা কোচিং করা না সে। তাই ইংরেজি ক্লাস মিস দেওয়া সম্ভব না। আজ উঠতে যে কেন দেরি হলো!
তার বিশ্বাস সে নিজেই পারবে। যদিও আশেপাশের সবাই বলছে, এখনকার পড়া খুব কঠিন। সব সাবজেক্টে যদি কোচিং না করে তাহলে এইচএসসিতে সে এ প্লাস পাবেনা। সে চেষ্টা করে দেখতে চায়। সে জানে তার জীবনের সীমাবদ্ধতা। সব বান্ধবীর মতো সে ঢাকায় গিয়ে কোচিং করতে পারবে না। বাবাকে এখানে একা ফেলে রেখে তার পক্ষে ঢাকায় গিয়ে থাকা সম্ভব না। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা তো আছেই। মাঝে মাঝে হতাশ লাগে এই কারণে। আবার মনে হয় তার জন্যই বাবা বিয়ে না করে এভাবে একা একা জীবন পার করে দিল। বাবা কখনো টাকার পেছনে ছোটেনি । বরং নিজের হাতে মেয়েকে বড় করতে পারার আনন্দ নিয়ে তিনি বেঁচে আছেন। বাবাকে কোন ভাবে বঞ্চিত করতে চায় না নিম্মি। একদিন হঠাৎ করে অফিসে অসুস্থ হয়ে যান বাবা। মিমি খবর পায় বিকেল বেলা। টিউশনি সেরে বিকেলে বাসায় এসে শোনে বাবা অফিসে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। কলিগরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দিয়েছে। বাবা তাকে আস্বস্ত করে মলিন হাসে হাসে, নিম্মির অনেক ভয় লাগে। এই পৃথিবীতে বাবা ছাড়া তার কেউ নেই। পরের মাসে টিউশনির টাকা হাতে পেয়েই একটা ফোন কিনে ফেলে নিম্মি। বাসায় এসে বাবাকে বাক্সটা ধরিয়ে দেয়।
• কি এতে?
• খুলে দেখ
• ওমা! মোবাইল ফোন, অনেক দাম বুঝি?
• খুব বেশি দাম না এখন বাবা
• কার জন্য
• কার জন্য আবার? তোমার জন্য, তোমার যেকোন খবর যেন আমি তাড়াতাড়ি পাই
• আমি কি করবো এটা দিয়ে? অফিসে তো ফোন আছে
• তাতে কি? তোমার কোন সমস্যায় আমাকে জানাতে পারবে
• তোকে কিভাবে জানাবো?
• কলেজে ফোন আছে, কোচিং-এর স্যার, টিউশনির ছাত্রের মায়ের নম্বর আমি টুকে আনবো
• তার চেয়ে বরং তোর কাছেই রাখ, আমি অফিসের ফোন থেকে তোকে ফোন করবো
• কিন্তু বাবা
• কোন কিন্তু না! আর এটা দিয়ে সময় নষ্ট করবি না?
• আচ্ছা বাবা
শ্রাবণের মধ্যদুপুর
২
নিম্মি ফোন রেখে নিজের কাজে চলে যায়। রান্না সেরে, একটু জিরিয়ে পড়তে বসে। গ্রীষ্মের লম্বা বিকেল। কি মনে হতে বই হাতে ছাদে চলে যায়। নারিকেল, সুপারি গাছের বেশ ছায়া আছে ছাদে। আম,লিচু, কাঠাল তেজপাতা সব বাবা মেয়ে নিজ হাতে লাগিয়েছে। কিছুক্ষণ হেটে পড়তে বসে নিম্মি। বাংলা বইটা এনেছে, সে চেয়ার টেবিল ছাড়া পড়তে পারেনা। বাংলা পড়া যায় যেকোন জায়গায়। কেউ কেউ আবার বাংলা কোচিং করছে। নিম্মি মন দিয়ে পড়ে। মাগরিবের আজানের কানে এলো দূরের মসজিদ থেকে। সে দ্রুত নেমে এলো। এসে দেখে ফোনে একটা নম্বর থেকে মেসেজ এসেছে। নম্বরটা তার নম্বরের কাছাকাছি। এটা কার নম্বর, বাসা কোথায় এসব জিজ্ঞেস করেছে। উত্তর দেয়না নিম্মি। কি দরকার অযথা ঝামেলা বাড়ানোর! কিন্তু মেসেজ আসতেই থাকে। কবিতা, ছোট ছোট কৌতুক, সকালে শুভ সকাল, রাতে শুভ রাত্রি! চলতেই থাকে!
আঁধার এই রাতে, ঝোনাকির সাথে
এক ঝুড়ি সুখ পাঠিয়ে দিলাম
তোমার জানালার কাছে আর
ঝোনাকির ডানায় লিখে দিলাম
শুভ রাত্রি
প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল দিয়েছে। নিম্মি সব বিষয়ে এ প্লাস পেয়ে প্রথম হয়েছে। অংক নিয়ে খুব ভয় পাচ্ছিল নিম্মি, কিন্তু অংকেও এ প্লাস চলে এসেছে। খুশি মনে বাড়ি ফেরে। আজ বৃহস্পতিবার। কোচিং বন্ধ ছিল পরীক্ষার জন্য। শনিবার থেকে কোচিং আবার চালু হবে। অনেকদিন পর এ সময়টা সে বাসায় আছে। আরে ছোট্ট বাড়িটা খা খা করছে এই একলা দুপুরে। বাবা আর সে মোটে দুজন মানুষ। একাই তো থাকতে হয় তারপরও তার যেন কেমন অস্থির অস্থির লাগে। আজ বই ছাড়াই ছাদে উঠে যায়। দুপুরবেলা কিছু খেতে ইচ্ছে করছিল না। এখন হালকা ক্ষুধার উদ্রেক হচ্ছে। অসময়ে ভাত খেতে ইচ্ছে করছে না। দোকান থেকে কিছু আনবে? নাকি একটু বেলা গড়িয়ে গেলে পুরি পিয়াজু কিনে আনবে? না নিজে বেরোবে না। বাবাকে একটা ফোন করলে কেমন হয়? যেই ভাবা সেই কাজ। বাবার অফিসে ফোন করে নিম্মি। অন্য একজন অফিসার ফোন রিসিভ করে, বাবাকে ডেকে দেয়। মেয়ে একা একা বাসায় শুনে বাবা একটু অস্থির হয়ে যান। ফেরার পথে তিনি নাস্তা কিনে আনবেন বলেন। বাবা কিভাবে বুঝল সে ক্ষুধার্ত? বাবাদের মনে হয় অনেক কিছু বুঝতে হয়। হাতের মোবাইল ফোনটা একটা মেসেজের আগমনের বার্তা জানায়। আজ খুশি মনে উত্তর দেয়। তার প্রথম সাময়িকের ফল বেরিয়েছে। মেসেজ করা মানুষটা খুশি হলো বলেই মনে হচ্ছে। অগণিত গান কবিতার মাঝে তার নামটা সে কখনো বলেনি। সে জানতেও চায়নি। আজ প্রথম উত্তর দিয়েছে তার মেসেজের। অদ্ভুত শিহরণ ফেলে যায় তা দেহ মনে। কি নাম রাখা যায় এই অচেনা বন্ধুর? মানুষটাকে আসলেই এভাবে চিন্তা করে? যা সে কবিতায় লেখে? নাকি নিছক ছন্দ মেলায়? কাউকে না দেখে ভালোবাসা যায়? আগে যখন চিঠির যুগে মানুষ চিঠি আদান প্রদান করে ভালবাসতে একে অপরকে! এই ভালোবাসা কি তবে তখন কার মত? ছি ছি এতদূর ভেবে ফেলছে সে? কেবল তো মানুষটা শুধু কবিতা পাঠায়। নাম ঠিকানা কিছুই বলেনি। তার নামটাও জানতে চায়নি। সে কি কথা বলবে? বাবা মেয়ের নিত্যদিনের কথা তো তাকে বলা যায় না। তার তেমন কাছের বন্ধু নেই। তবে হ্যাঁ ক্লাসে একজন আছে, নাম ইসরাত। তার কাছে অংক করে। মাঝে মাঝে বন্ধুসুলভ কিছু কথাবার্তাও বলে। কিন্তু ওভাবে তার কোন প্রাণের সখী নেই। নাকি আছে? ফোনের ওপারের মানুষটা?
কোনদিনও আমরা কোন গ্রহের ফেরে
থাকবনা কেউ কখনো তো কাউকে ছেড়ে
স্বর্গ করে তাই রাখবে
ধরে দুজনার কাদাহাসা
এ যে অন্তরের ভালোবাসা
তোমার আমার ভালোবাসা
স্বপ্ন রঙিন এক আশা
এ যে অন্তরের… ভালবাসা… নিম্মি পড়ে আর মুচকি হাসে। এটা কি শুধুই গান?
নিম্মির কল্পনা বিলাসী মনটা আজ পাখা মেলে উড়াল দিয়েছে আকাশে। প্রথম দিন থেকে আজ অব্দি কয়েকশ বার পড়া হয়ে গিয়েছে। মোবাইল মেমোরিতে এত মেসেজ আটে না। প্রথম দিকের কিছু মেসেজ মুছে ফেলতে হয়েছে। আগামীকাল হয়তো মুছতে হবে অনেক মেসেজ। কিন্তু মনের আঙিনায় কেটে যাওয়া দাগ তো ঠিকই রয়ে যাবে। বাবার সাইকেলের শব্দ পেয়ে নিচে নামল নিম্মি।
শ্রাবণের মধ্যদুপুর
৩
বাবার সাইকেলের শব্দ পেয়ে নিচে নামল নিম্মি।
• কি রে মা? আজ টিউশনি নেই?
• ওরা দাদাবাড়ী বেড়াতে গিয়েছে
• আচ্ছা, নে ধর গরম গরম পুরি আর চাটনি, সাথে শষা আছে
• তুমি কি করে জানলে আমি খাইনি?
• দুপুরে একা খাওয়া যায়? আমি হাত মুখ ধুয়ে আসি
• আমি চায়ের পানি বসিয়ে দেই
বাবা মেয়ের বিকেলটা ভালো কাটে। মাগরিবের নামাজ পড়ে রান্না বসায় নিম্মি। আজ সজিনার ডাল আর কই মাছ ভাজা। বাসায় খুব বেশি মাছ, গোসত আসে না। কাল ফুপু আসবে তাই বাবা বাজার করেছে। ফুপু প্রতি মাসেই আসেন চিকিৎসার জন্য। ঘর ছেড়ে বারান্দায় শুয়ে থাকে বাবা। কেবল দুটো ঘর, বারান্দায় ডাইনিং, আর ছোট একটা উঠান, ডানে কলপাড়, তার পিছনে বাথরুম। এখন অবশ্য ঘরেও একটা বাথরুম করা হয়েছে নতুন। মেয়ে বড় হয়েছে। বাবার চিন্তা বেড়েছে।
ফুপু এসেছেন খুব ভোরে। ফজর পরেই রওনা দিয়েছেন। ঘন্টা দুয়েক লাগে। কিন্তু নিম্মির খুব একটা যাওয়া হয় না সেই বাসায়। ছোটবেলায় মাঝে মাঝে গরমের ছুটিতে বাবা রেখে আসতো। খুব অল্প বয়সে বিধবা হয়েছিলেন ফুপু। তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে একেবারে পানিতে পড়ার মতোই অবস্থা হয়েছিল। তারপর ফুপার রেখে যাওয়া জমি, পুকুরে মাছ চাষ, হাঁস-মুরগি পালা, টুকটাক সেলাই করে সংসারটা কোনরকমে চালানো শুরু করলেন। সবুজ ভাই তার বড় ছেলে। সুমনা আর সাধনা দুই মেয়ে। সাধনা এবার এসএসসি দেবে৷ সুমনার সারা বছর অসুখ-বিসুখ লেগেই থাকে কোন মতে ক্লাস ফাইভ এর গণ্ডি পার হয়েছে। রোজ স্কুলেও যেতে পারেনা। পরীক্ষার আগে বেচারি কেন জানি বেশি অসুস্থ হয়ে যায়। মায়া হয় নিম্মির। দরজায় শব্দ পেয়ে বাবা মেয়ে দুজন একসাথে বের হয়েছে। মিনতির মা এসেছে। বাবা দরজা খুলে দেয়। বাবার ঘরটা আগে ঝাড়া মোছা হবে। নতুন বেড কভার, ধোয়া বালিশের কভার, কাথা দেওয়া হলো। আলনায় রাখা সব কাপড় পরিপাটি করে ভাজ করে রাখে নিম্মি। বাবার লেখার টেবিলটাও ফিটফাট করে একটা ফুলদানিতে টকটকে লাল জবা ফুল রাখে। সাদা আর হলুদ জবা আজ ফোটেনি।
মিনতির মা পরোটা করার জন্য ময়দা মাখিয়ে বাবার ঘরে চলে যায়। নিম্মিকে অদ্ভুত মায়া করে মিনতির মা। ফুপু চলে এলেন। দ্রুত পরোটা বানিয়ে ফেলতে লাগল মিনতির মা। নিম্মি ভেজে নিলো। ফুপুর হাতে ব্যাগ দেখে খুব অবাক হয়ে যায়। উনি সাধারণত কিছু হাতে করে কিছু আনেন না। আজ এঁচোড়, সজিনা, কাঁচা আম, ঘানি ভাঙা সরিষার তেল এনেছেন। প্রতিমাসে ফুপু আসেন চিকিৎসার জন্য। আজ জিনিসগুলো দেখে বাবাও খুব অবাক।
• আরে কি দরকার ছিল সালেহা
• কি যে বলেন ভাইজান এটুকু তো আমি আনতেই পারি
• আসসালামু আলাইকুম ফুপু
• ওয়ালাইকুম আসসালাম, কেমন আছো? চেহারা তো দেখছি মাশাল্লাহ দিন দিন খুলছে,মোটা হইছ মনে হয়!
• আমি নাস্তা দিচ্ছি
নাস্তার টেবিলে ভাই বোন আলাপে বসলো,
• আজ তুমি ঘরে নাস্তা কর, আমরা ভাই বোন একটু আলাপ করি, ফুপু বলেন
• জি
নিম্মি পরোটা ডিম নিয়ে ঘরে চলে যায়।
কিন্তু কথা চাপা থাকে না। এত ছোট বাড়িতে ফিসফাস করলেও শোনা যায়।
• মাইয়ার একটা বন্দোবস্ত করবা না ভাইজান?
• মানে
• বিয়া শাদী
• হ্যাঁ সে তো দিতেই হবে,কেবল কলেজে ভর্তি হলো
• যত তাড়াতাড়ি দিবা তত ভালো
• না দিন বদলে গেছে
• মেয়ের সুখ দিয়ে কথা, দিন যতই বদলাক
• নসিবে থাকলে সুখী হবে
• সব কি নসিবের উপর ফেলে রাখলে চলে? বলি কি আমার সবুজের সাথে নিম্মিকে কেমন লাগবে?
• এই প্রশ্ন তুমি আগেও বহুবার করেছো
• আপনি তো কোন উত্তর দেননি
• আজও আসলে আমার কাছে কোন উত্তর নেই
• ঘরের মেয়ে ঘরে থাকবে খারাপ কি?
• খারাপ তো আমি বলছি না
• তাহলে একটা জবাব দিয়ে দেন
• এত তাড়াতাড়ি আসলে আমি ওর বিয়ে নিয়ে চিন্তা করতে চাই না
• আমার সবুজ কম কিসে? সালেহার জেদ আরো বাড়ে
• সবুজ ভালো ছেলে, ডিগ্রী পাস করেছে, মাস্টার্সটা করতো
• আপনি আমার সংসারের সবই জানেন । কত কষ্ট করে সংসার চালিয়ে ও ডিগ্রি পাস করল, আরো পড়তে বলাটা কি অমানবিকতা না? আর এত পইড়া হবেই বা কি? সে জমি জিরাত দেখেই তো খাবে, পুকুরে ভালো মাছ ছাড়ছে, নতুন আমের বাগান দিছে, চাকরি করা ছেলেগুলোর কাছে কি এসব আছে, মাসিক যা বেতন তাই, দেখবেন আস্তে আস্তে অনেক দূর যাবে
• সেটা ঠিক আছে, জার্নি করে আসছো বিশ্রাম নাও
নাজিমুদ্দিন সাহেব আপাতত বোনকে সামলে নাস্তা শেষ করেন। ছুটির একটা দিনে এই উৎপাত সহ্য করছেন বছর খানেক হলো। সবুজ ছেলে খারাপ না। কিন্তু সালেহার আচার-আচরণ সুবিধার না। মা মরা মেয়েটাকে সারাক্ষণ চাপে রাখার চেষ্টা করে। ভালো লাগেনা এই আচরণ নাজিমুদ্দিন সাহেবের। বোনের কাছেই মেয়ে ভালো থাকবে এই আশ্বাস তিনি নিজেকে দিতে পারেন না!
চলবে।