শ্রাবণের মধ্যদুপুর পর্ব-৩৪+৩৫+৩৬

0
22

শ্রাবণের মধ্যদুপুর
৩৪

সবুজের গামছা নাড়তে উঠানে আসে মিলি। সুপারি বনের ফাক দিয়ে দেখা যায়, নিম্মি আর সাধনা বসে কি যেন আলাপ করছে এক মনে, মিলির মনে হয় নিম্মি হয়তো নিজেকে মানিয়ে নিত, সে যদি মাঝখানে এসে না পড়তো, নিম্মি ঠিক সবুজের মন জয় করত। যা হবার তো হয়েছে। এরকম আচরণ আর করা যাবে না। তার কি ক্ষমা চাওয়া উচিত? নিম্মি বড় বউ হলেও বয়সে ছোট। অস্বস্তি লাগে মিলির। বুঝতে পারছে না কি করা উচিত।

• কিছু লাগবে? পিছন থেকে সবুজ জিজ্ঞেস করে

• আমি মনে হয় বলে আসলেই ভালো করতাম

• তোমার বাড়ি যখন খুশি আসতে পারো

• না মানে তখন আসলে….

• কিছু জিনিস চোখে যেমন দেখা যায় বাস্তবে তেমন হয় না, নিম্মি আর আমার মাঝে যোজন যোজন দূরত্ব

• স্বামী-স্ত্রীর এই দূরত্ব কাটতে বেশিদিন লাগে না

• তাহলে এটা কাটতে দিও না

• চা খাবে?

• মাটির চুলায় কে বানাবে এখন? আমি কাল-পরশুর মধ্যেই স্টোভ আর গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবস্থা করছি

• খুব চাপ দিয়ে ফেলেছি না তোমার উপর?

• আসলে তোমাকে পাবার নেশায় আমি নিজেই বুঝতে পারিনি, তোমাকে এই পরিবেশে রাখা সম্ভব না, আরেকটু গুছিয়ে তারপর বিয়ে করতে হতো, অথবা বিয়ে পড়িয়ে তোমাকে বাড়িতেই রেখে আসতে হতো

• আচ্ছা যা হয়েছে হয়েছে, আমি বরং চেষ্টা করে দেখি

• দরকার নেই নিম্মিকে বলছি

• না থাক ওরা গল্প করছে, গল্প করতে দাও

• বেশ তারপর ওরা নিজেরাই চা বানাবে

নিম্মির চায়ের নেশা ছিল আগে থেকেই। তখন এ বাড়িতে দুধ, চা পাতা, চিনি আসেনি। মিলির আগমনে সবকিছু একবারে চলে এসেছে। সাধনা জোর করে নিম্মিকে সরিয়ে চা বানাতে বসলো। সালেহা দুপুরবেলা খেয়ে ভাত ঘুম দিয়েছিলেন। উঠে দেখেন হেলাল উঠানে বসে আছে, নিম্মি সাধনা চা, নাস্তার ব্যবস্থা করছে, তার মাথায় অন্য চিন্তা। ভেবেছিলেন নিম্মিকে তার কার্যকলাপ বলে চাপে রেখে এইচএসসি পরীক্ষার একদম আগে বাড়ি পাঠানোর। কিন্তু মিলির এই কর্মকাণ্ডে কালই বাড়ি চলে যাবে নিম্মি। সবুজ নিজে তাকে দিয়ে আসতে চেয়েছে। সাধনার কর্মকাণ্ডেও কিছুটা ছোট হয়েছেন তিনি। নিম্মিকে চাপে রাখার উপায় নেই, ভাইকে ফোন করার সাহস পান না।

• কি বানাইছস? খালি মুখে চা খাইবো জামাই?

• পিয়াজু আর মুড়ি মাখা হবে, পাশ থেকে বলে নিম্মি

• আচ্ছা তাহলে ঠিক আছে, চানাচুর আছে বাড়িতে?

• ভাই আইনা দিছে, সাধনা বলে

• তুই রান্না ঘরে কি করিস? একটা দিনে মায়ের বাড়িতে আসছিস, সারাদিনে তোমার কাছে বসলি না,

• রাতে বসব আম্মা, উনি চা ভালবাসেন, একটু মাপ দেইখা নিলাম, নিম্মি ভাবীর হাতের চা মজা

• এরপর তো আইসা গ্যাস পাবি, চুলা সিলিন্ডার সবকিছু কিনতেছে সবুজ

• ভালো তো

• নাস্তা নিয়ে ঘরে আয়

• উনারে দিয়ে আসি

• না তাহলে জামাই এর সাথেই বস

• আচ্ছা

দুপুরে শরতের মুক্ত আকাশ ছিল। এখন ঘন ঘন মেঘ ডাকছে। বেশ ঠান্ডা হাওয়া খেলছে, হেলাল সাধনা পুকুর পাড়ে বসে আছে, সবুজ আর মিলি রুমেই আছে, উঠানে বসে নিম্মি। কারেন্ট চলে গেছে। মেঘের ডাকে কেঁপে কেঁপে উঠছে নিম্মি। কালি গোলা অন্ধকারে, বিদ্যুৎ চমকে একদম দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সালেহা মেয়ে জামাইকে ডাক দিলেন। ওরাও ঘরে গিয়ে উঠলো। নিম্মি বসে রইলো অপাংক্তেয় হয়ে। চোখে জল আসি আসি করে আসলো না, মুখ গলা ব্যথা হয়ে গেছে। ফোনের একটা মেসেজ এর শব্দ চমকে ওঠে। না কোন ভুলভাল মেসেজ না। কোচিং সেন্টার থেকে তার আগামী ক্লাসের তারিখ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাল ফিরেই একবার দেখা করতে হবে।

ভোরবেলা উঠে তৈরি হয় সবুজ, মিলি ঘুম থেকে এখনো ওঠেনি। এত সকালে নাস্তা করতে পারেনা নিম্মি, তাই কিছু মুখে না দিয়েই বেরিয়ে পড়ে। নিম্মির হাতে হালকা ব্যাগ। সবুজ ব্যাগটা চায়না। সে অন্য কিছু ভাবছে। সে কেনই বা তাকে আনলো, আর কেনই বা এখন তাকে ফিরিয়ে দিতে যাচ্ছে? একটা ছেলের সাথে রাস্তায় কথা বললে কি যায় আসে? সবুজ মিলিকেই ভালোবাসে। তার সাথে সংসার করতে চায়, সন্তানের পিতা হতে চায়। নিম্মি এখানে কোথায়? সে চাইলেই তালাক নিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারে। যে তাকে ভালবাসবে, আপন করে নেবে। মিলি যদি সন্তানসহ এই সুযোগটা পায়, নিম্মি কেন পাবে না? তার চেয়ে বড় কথা সে কেন বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে? সে তো সবসময়ই নিম্মির পক্ষে ছিল। নিজের মন নিজেই বুঝতে পারে না সবুজ।

শহরে পৌঁছায় যখন সবুজ আর নিম্মি তখন মুষলধারে বৃষ্টি। ভিজে ভিজে বাসায় যায় দুইজন। পলিথিন থাকলেও এত বৃষ্টি ঠেকাতে পারে না। আজ নাজিমউদ্দিন সাহেব অফিসে যেতে পারেননি। দরজায় মেয়েকে দেখে খুব খুশি হয়ে যান। সাথে সবুজ দিতে এসেছে এটাও তাঁর ভালো লাগে। যদিও সবুজের বলা কথাগুলো শালীন ছিলনা।

• আসসালামু আলাইকুম মামা

• ওয়ালাইকুম আসসালাম কেমন আছো বাবা

• জি আলহামদুলিল্লাহ

• আপনার শরীর ভালো?

• আলহামদুলিল্লাহ, বাইরে ভীষণ বৃষ্টি, তুমি দুপুরে খেয়ে যাও, রাস্তায় পানি উঠে যাচ্ছে

• রাস্তায় পানি উঠলে তো আমার ফিরতে সমস্যা হবে

• একবার ভিজে আসছো আবার যদি ভিজে যাও ঠান্ডা লাগবে তো

• আচ্ছা মামা আমি অপেক্ষা করি

• মিনতির মাও মনে হয় আজকে আসতে পারবেনা

• সমস্যা নাই ও বাড়িতে তো করতেই হয়, এখানেও রান্না করবো নিষ্প্রাণ কন্ঠে বলে নিম্মি

সবুজকে গামছা এগিয়ে দেয় নিম্মি। নিজেও কাপড় বদলে একটা গামছা পেঁচিয়ে রাখে চুলে। ফ্রিজে দেখে তেমন কিছুই নাই বাজার, চাল ডালে খিচুড়ি বসিয়ে দেয়, আর বেশি করে পেঁয়াজ মরিচ দিয়ে ডিম ভাজি করে। দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছে বৃষ্টি থামছে না। খাওয়া দাওয়া করে নেয় তারা। অবিরাম মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। রাস্তায় পানি উঠে গেছে।

সবুজ বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। মিলি ঘুমিয়ে ছিল, তাকে বলেও আসা হয়নি। সে ভেবেছিল বাসস্ট্যান্ডে বিদায় নেবে নিম্মির কাছ থেকে। কিন্তু এই তুমুল ঝড় বৃষ্টি তার আর হতে দিল কই। বিকেল থেকে শরীর ব্যথা করছে, মাথা ভার হয়ে আছে। এ বাড়িতে আর কোন ঘর নেই। নিম্মির ঘরেই তাকে থাকতে হচ্ছে। বৃষ্টি না পড়লে সে বাগানের চৌকিতে ঘুমাতে পারতো। অন্তত সেখানে একটা ছোট ছাউনি দেয়া উচিত। অবশ্য নিম্মি তার বিয়ে করা বউ। তার ঘরে থাকা তো অপরাধ নয়। কিছুক্ষণ পর রান্নাঘর গুছিয়ে নিম্মি ঘরে আসে।

• এমন দেখাচ্ছে কেন আপনাকে?

• ভীষণ মাথা ও শরীর ব্যথা করছে

• জ্বর এলো নাকি? বলে নিম্মি হাতটা কপালে ছোঁয়ায়, সত্যি তো তাপমাত্রা অনেক

• আপনার তো জ্বর এসে গেছে

• ও কিছু না, ঠিক হয়ে যাবে

• নাপা দিচ্ছি নাপা খেয়ে নেন

সবুজ ওষুধ কখনো পছন্দ করেনা। বাড়িতে থাকলে সে কিছুই খেত না। মাকে বলতো আদা চা করে দিতে। চা খেয়ে কাথা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে যেত। কিন্তু আজ বাধ্য ছেলের মত চুপচাপ খেয়ে নিল। শুয়ে পড়ল। নিম্মি টেবিলে বসে পড়ছে। মাগরিবের নামাজের পর চা বানিয়ে আনলো। বৃষ্টি এখনো থামেনি। আকাশের বুকে যে কত বেদনা, ঝর ঝর ঝরেই যাচ্ছে কেবল। চা খাওয়ার জন্য সবুজকে ডাকতে গিয়ে আবার চমকে যায় নিম্মি, কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এসেছে। বাবাকে ডাক দেয়। বাবা মেয়ে মিলে মাথা ধোয়ার ব্যবস্থা করে। কোলে মাথা রেখে চুল মুছে দেয় নিম্মি। সবুজের জ্ঞান আছে বলে মনে হচ্ছে না। প্রলাপ বকছে। নিম্মি কান এগিয়ে দেয়, কিন্তু কিছু বুঝতে পারেনা। সারারাত বাবা, মেয়ে মিলে জ্বর নামানোর চেষ্টা করে, ফজরের নামাজ পড়ে নাজিমউদ্দিন ঘুমিয়ে যান। জ্বর কিছুটা আয়ত্তে এসেছে। সবুজের যখন ঘুম ভাঙল দেখে, নিম্মি বিছানায় পিঠের নিচে বালিশ ঠেস দিয়ে অদ্ভুত ভাবে ঘুমিয়ে আছে। তার মানে সে সারারাত ঘুমায়নি? অপরাধবোধ হয় সবুজের। সে হাত দিয়ে বালিশ ঠিক করে দিতে যায়, নিম্মি চমকে উঠে বসে,

• আপনার ঘুম ভেঙে গেছে? এখন কেমন লাগছে?

• মাথা হালকা ভারভার লাগছে আগের চেয়ে ভালো লাগছে

• যাক আমি আপনার জন্য কিছু একটা বানিয়ে আনি

• এখন আবার কি বানাবে? রাতে তো মনে হয় ঘুমাতেও পারোনি

• সমস্যা নেই আমি দেখছি

রান্না ঘরের শেলফে স্যুপের প্যাকেট খোঁজে নিম্মি। বাবার জন্য কেনা হয়েছিল। কিন্তু বাবা খেতে পছন্দ করেনি। সেই স্যুপ বানিয়ে আনে। সবুজ মুখ হাত ধুয়ে বসে আছে। খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে তাকে। একদিনের জ্বরেই কাবু হয়ে গেছে বেচারা! স্যুপ খেয়ে সে বাড়ি যেতে উদ্যত হয়। নিম্মি বাবাকে ডাকে। নাজিমুদ্দিন বুঝিয়ে এবেলা শান্ত করেন। সালেহা আর মিলির সাথে কথা বলেন। মিলি চুপচাপ ছিলো, কোন উচ্চবাচ্য করেনি। সবুজ নিজের ফোন দেখে, কোন মেসেজ, মিসড কল নেই। তার মানে মিলি খুব রেগে আছে। এখন আর বুঝিয়ে লাভ নেই।

শ্রাবণের মধ্যদুপুর
৩৫

রিফাতের খুব অস্থির লাগছে। মা সকাল সকাল খিচুড়ি, আর নানা পদের ভর্তা বানিয়ে ডাকাডাকি করছে, আলস্য ভর করেছে শরীরে, মায়ের ডাকে শুধু পাশ ফিরে শোয় রিফাত, মিনিট পাঁচেক পর লাফ দিয়ে ওঠে। আজও তুমুল বৃষ্টি। এর মধ্যে কোচিং সেন্টারে ক্লাস হবে বলে মনে হয় না, তার মানে আজ দেখা হওয়ার সুযোগ নেই, সে ঢাকা থেকে বাড়ি এসেছেই এই উদ্দেশ্যে! এসে একবার বসে কথা বলার পরেই ওর জামাই এসে নিয়ে যায় ও কে। কোচিং এর বন্ধু সাদেক জানায় গতকাল ফিরেছে, এক রাত ছিলো শ্বশুরবাড়ি, খুশি হয় রিফাত। কিন্তু এই আবহাওয়ায় দেখা কিভাবে করা যায় ভাবতে ভাবতে ফ্রেস হয়, মা আবার ডাকতে এসে অবাক হয় দেখে ছেলে মুখে ব্রাশ নিয়ে জানালা দিয়ে অপলক বাইরে তাকিয়ে, জানালা দিয়ে একটা পুরাতন বাড়ি দেখা যায়, ঝোপঝাড় দিয়ে ভরে গেছে। বর্ষাকালে সাপের ভয় পান, কিন্তু পাশের জমিতে তিনি কিছু করতে পারেন না, এদিকের বারান্দায় কার্বলিক এসিড রাখা, বাড়ির মালিক সেই যে ঢাকা গেছে, আর খোঁজ নাই।

• কিরে উঠলি শেষ পর্যন্ত!

• হুম…. দুর্বোধ্য ভাষায় কি যেন বলে রিফাত

• যা মুখ ধুয়ে আয়

তাড়াতাড়ি মুখ ধুয়ে, কোনমতে মুখে খিচুড়ি গুজে দৌড়ে যায় কোচিং সেন্টারে বৃষ্টি মাথায় করে। এই বিল্ডিংয়ের দোতলায় থাকে সাদেক সাথে আরো বাসিন্দা আছে, মেস মতো বানিয়েছেন বাড়ি ওয়ালা। নিচেই কোচিং সেন্টার। সাদিক দরজা খুলে অবাক হয়,

• কিরে এই বৃষ্টিতে তুই?

• জরুরি একটা কাজে এলাম

• এইচএসসির ফাইনাল সাজেশনটা দে

• ওটা তো প্রিন্ট করতে পারিনি, দোকান বন্ধ, আজ সবাই ঘুমাচ্ছে

• ঘুমাক আমাকে সফট কপি দে

• পেন ড্রাইভ আছে?

• হ্যাঁ নে

পার করে নেয় সাজেশন গুলো। ভালো দামে এই শিট বিক্রি হবে। অনেকেই বিশ্বাস করে এর থেকেই নাকি প্রশ্ন হবে, আসলে টেস্ট পেপার ঘেটে ঘেটে এই শর্ট সাজেশন বানানো, পাশ করার জন্য এটা যথেষ্ট! রিফাত কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে দেখে সত্যিই দোকান বন্ধ! সে দোকানদারের বাসায় গিয়ে হাজির! দোকানদার মামা কিছুতেই আসবেন না। প্রতি কপিতে দ্বিগুণ দাম দেবে এই আশ্বাসে তিনি দোকান খোলেন, রিফাতের সাথেই রিকশায় আসেন! প্রিন্ট আউট বের করে। এবার কি করবে সে? ভাবনায় পড়ে রিফাত। এতক্ষণ যা করেছে উত্তেজনার বসে করেছে, বাড়িতে গেলে ভালো দেখায় না, কোচিং সেন্টারে আজ ক্লাস হবেনা, কাগজের তাড়া শার্টের ভিতরে নেয় সে। তারপর সোজা হাটা দেয় নিম্মিদের বাড়ির উদ্দেশ্যে! আংকেল বা সবুজ সামনে পড়লে কি করবে সে জানেনা। উন্মুখ হয়ে গেছে সে একবার দেখা করার জন্য। কাল ঢাকা ফিরতে হবে, সামনে পরীক্ষা, সেমিস্টার লস করা যাবেনা, নিজের জীবন না গুছাতে পারলে নিম্মির জীবন সে কিভাবে গুছাবে?

দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে রিফাত,কোন শব্দ করেনি। কারণ হাপরের মতো ওঠা নামা করছে তার বুক। শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক হলে দরজায় শব্দ করবে, কিন্তু তার আগেই দরজা খুলে যায়। স্বয়ং নিম্মি দাঁড়িয়ে!

• আপনি?

• আমি একটা জিনিস দিতে এসেছি

• ভিতরে আসুন, ভিজে গেছেন একেবারে

রিফাত বেশ অবাক হয়। সেদিন বেশ এড়িয়ে চলছিল মেয়েটা। আজ এত তার এত আন্তরিক ব্যবহার!
ভেতরে বসিয়ে গামছা দেয় নিম্মি।

• এবার বলুন কেন এসেছেন?

হাচি দেয় রিফাত। নিম্মি উঠে দাঁড়িয়ে বলে, চা করে আনি। বেশ দ্রুত মসলা চা বানিয়ে আনে নিম্মি।

• ধন্যবাদ

শার্টের ভেতর থেকে সিটগুলো বের করে রিফাত।
• কি এটা?

• এটা শর্ট সাজেশন

• এটা তো কোচিং সেন্টার থেকে দেবে

• হ্যাঁ দেবে, কিন্তু একদম শেষ সময়ে তাও স্পেশাল ব্যাচে ভর্তি হলে

• তাহলে আপনি এটা আমায় দিচ্ছেন কেন?

• তোমার এমনিতেই অনেক সময় নষ্ট হয়েছে আর তুমি কোচিং-এর ছাত্রী না শুধু শিক্ষক। তুমি ভালো করলে তো কোচিং এর সুনাম তাইনা?

• বুঝলাম। আপনি ক্লাস নিবেন কবে থেকে?

• এই তো ফাইনাল দিয়ে, চাকরি খুঁজবো, তার ফাঁকে ক্লাস

• ঢাকা ফিরছেন কবে?

• কাল, পরশু চলে যাবো,(বিদায় করতে পারলে বেচে যাও তাই না? কথাটা মনে মনে বলে রিফাত)

সবুজ অদূরে দাঁড়িয়ে সব দেখে। যার কারণে আজ সে আর নিম্মি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ, সেই মানুষ এই আবহাওয়ায় কাক ভেজা হয়ে এসেছে নিম্মিকে এক নজর দেখবে বলে! সাজেশন যে বাহানা সেটা স্কুলের বাচ্চাও বুঝবে। নিম্মির গামছা এগিয়ে দেওয়া, চা বানানো, তাহলে নিম্মির পক্ষ থেকে সায় আছে…. মাঝে অযথাই ঝুলে আছে সে। প্রচন্ড রাগান্বিত অবস্থায় বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় সবুজ। শরীরের পরোয়া করেনা। যে করেই হোক তার আজ বাড়ি পৌঁছাতে হবে!

নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি সবুজ! নিম্মি নির্বিকার চিত্তে দেখতে আসে। বাবা অনেকগুলো মুরগি কিনে দিয়েছে, তার স্যুপ বানিয়ে নিয়ে যায় নিম্মি। মিলির ভাইয়ের বাসা হাসপাতালের কাছেই। কিন্তু ফুপু এসে কথা শোনালেন, নিম্মিকে। নিম্মি কেন মিলিকে বাসায় নিয়ে যায় না, বিশ্রাম নিতে বলেনা! দুই বৌ দেখে হাসপাতালে লোকজন বেশ কৌতুক করে। যদিও নিম্মি পরিচয় দেয়নি, ফুপুর রাগারাগিতে মানুষ বুঝতে পেরেছে। ফুপু আর মিলি গেল নিম্মিদের বাড়ি। নিম্মিকে হাসপাতালে রেখে। মিলি চাইছিল না। এখন মনে হচ্ছে ভাইয়ের বাসা থেকে বিশ্রাম করে এলেই ভালো করতো। মিলি নিম্মির বাবার চোখে চোখ রাখতে পারেনা। বিপত্নীক মানুষটার একটাই চোখের মণি তার মেয়ে। অদ্ভুত একটা বেদনা তার চোখ জুড়ে।

সবুজ জীবনে প্রথম সবার মধ্যমণি হতে পেরেছে। মা সবসময় নিজেকে নিয়েই ভাবত, আর ছিলো সাধনার বিয়ের চিন্তা, সুমনার চিকিৎসা। মিলি তো শুরু থেকেই তার কাছে আছে, নিম্মি নিয়মিত আসছে, স্যুপ বানিয়ে আনছে, মুখে তুলে খাইয়ে দিচ্ছে। এত গুরুত্ব পেতে ভালো লাগছে সবুজের। জীবনে প্রথম সে এই অনুভূতি পেয়েছে। বাড়ির বড় ছেলে হয়ে সে শুধু দিয়েই গেছে। সবার চোখে সে খারাপ, কারণ সবার মন পাওয়া সহজ কথা না। বাবার জমিজমা নিয়ে চাচাদের সাথে বিরোধ। মামার সাথে বিরোধ এখন নিম্মিকে নিয়ে। কেউ তাকে বোঝার চেষ্টা করেনা। সেও একটা মানুষ, তারও চাওয়া পাওয়া আছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিম্মির দিকে তাকায় সবুজ।

শ্রাবণের মধ্যদুপুর
৩৬
তারানা তাসনুবা বৃষ্টি

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিম্মির দিকে তাকায় সবুজ।

• তালাক নিয়ে ঐ ছেলের সাথে বিয়ে বসবা?

হঠাৎ এমন প্রশ্নে থতমত খেয়ে যায় নিম্মি। কোন উত্তর দেয়না।
• জবাব দাও?

• সেরকম কিছু না,আপনি যেভাবে বেরিয়ে গেলেন, অহেতুক রাগ দেখিয়ে নিজেই কষ্ট পেলেন

• সব বাস বন্ধ, রাস্তায় পানি উঠে গেছে, সিএনজি অটো কিছু নাই, আমি অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকলাম বাসস্ট্যান্ডে, জনমানব নাই, তুমুল বৃষ্টি সেই সাথে বাতাস, ঝড় উঠবে মনে হচ্ছে, দুপুরেই অন্ধকার হয়ে গেছে, এক বন্ধুকে ফোন দিলাম, বললাম বাসস্ট্যান্ডে আটকে গেছি যেভাবেই হোক আমাকে নিয়ে যা, ও বলল আসছে, ওই ঝড় বাদলের মধ্যে বাইকে করে বাড়ি গেলাম, যে জ্বরে পড়লাম, জ্বর তো আগে থেকেই ছিল, আরো বাড়লো, শ্বাসকষ্ট শুরু হতে, আমার হাসপাতালে আনলো মিলি

• নিজেকে অকারণে কষ্ট দিছেন

• অকারণ? ওই দৃশ্য দেখে আমি তোমাদের বাসায় বসে থাকব?

• কি দৃশ্য?

• ঐ ছেলে তোমাকে ভালবাসে

• আপনি ভালবাসেন মিলিকে

• তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই?

• আছে নামকাওয়াস্তে

• সে নামের সম্মানে তুমি এসব করতে পারো না

• আমি কি সব করেছি?

• তুমি সাহস না দিলে সে বাড়ি আসে কিভাবে?

• বাবার বন্ধুর ছেলে, কোচিং সেন্টারে একসাথে আমরা শিক্ষকতা করি

• কয় পয়সা পাও কোচিং সেন্টারে?

• যা পাই হাত খরচ চলে যায়

• কেন মামা তোমারে টাকা দেয় না?

• বাবার রিটায়ারমেন্টের আর বেশি সময় বাকি নাই, আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই

• এইসব বেহায়াপনা করে?

• আপনি রেস্ট নেন, আমি বাইরে বসি, ওয়ার্ডে আরও মানুষ আছে, অসুস্থ রোগী আছে

• এখন তোমার খুব রোগীদের কথা মনে পড়ল? ঐদিন তোমার মন কই ছিল?

নিম্মি উঠে হাসপাতালে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ায়। তার চোয়াল, গলা ব্যথা করছে কিন্তু চোখ দিয়ে পানি আসছে না। আর কত অপমান লেখা আছে তার নসিবে? সেদিন কেন রিফাতকে বাসায় ঢুকতে দিল? কেনইবা তার ডাকে সাড়া দিয়ে কফিশপে দেখা করতে গেল? তার মনের মধ্যেও কি রিফাতের জন্য কিছু আছে?

ভাবনার সুতা ছিঁড়ে গেল মিলির ভাবীর কণ্ঠে,

• ডাক্তারের রাউন্ড নাকি?

• না বিকালে ডাক্তার আসে না

• তাহলে বাইরে কেন?

• আসলাম একটু খোলা বাতাসে

• সারাদিন থাকে মিলি, আর খোলা বাতাস লাগে তোমার? স্বামীর প্রতি টান না থাকলে যা হয়, ছেলেটাকে একদিনে একেবারে হাসপাতালে পৌঁছায় দিলা, যাইহোক আসো তোমারে ডাকে, নিম্মি কোন জবাব দেয় না।

মিলির ভাবি আর মিলি রিকশায় বাসায় যাচ্ছে। রাতে আজ নিম্মিকে থাকতে বলেছেন সালেহা।

• মেয়েটা কিন্তু সাংঘাতিক

• কোন মেয়ে?

• কে আবার নিম্মি

• কি রকম?

• আমি এতগুলো কথা শোনায় দিলাম, কোন জবাব দিল না

• ও এমনই জবাব দেয় না

• দেখো ভালো মেয়ে সেজে আবার সবুজের মনে জায়গা না করে নেয়

• সেটা পারলে তোর আমাদের বিয়ে হতো না

• পুরুষ মানুষের মন তুমি বুঝবানা

• না সবুজ আমাকে অনেক ভালোবাসে

• সে তো অয়নের বেলাও ছিল…অনেক ভালোবাসা! রিমি হঠাৎ করে এমন জ্বালাময়ী আচরণ কেন করছে নিজেও জানেনা। সবুজ, মিলির সংসারে ফাটল ধরুক এটা সে কোনভাবেই চায়না। মিলি ফিরে এলে মিষ্টি আবার তার কাছছাড়া হয়ে যাবে। মিলন অনেক বুঝিয়েছে একটা বাচ্চা দত্তক নেওয়ার জন্য কিন্তু রিমির মন সায় দেয়না। কোন না কোন বংশের নাজায়েজ বাচ্চা! মিলন খোঁজখবর করে পরিচিতের মধ্যে এতিম বাচ্চা খুঁজে আনতে চেয়েছে, তাতেও সায় দেয়নি রিমি! আজব এক জেদ নিয়ে পড়ে আছে!

চুপ হয়ে যায় মিলি। এই একটা ক্ষত হয়তো জীবনেও ভরবে না। মিষ্টিকে সবুজ মেনে নিয়েছে। কিন্তু নিজের সন্তান হয়ে গেলেই হয়তো আর, আগের মতো ভালোবাসবেনা। ভালোবাসার খেলায় জিতে গেলেও
এই একটা জায়গায় হেরে গেছে মিলি। বাসায় অনেক লম্বা সময় ধরে গোসল করলো, ভাবীর ব্যাপারটা সেও ধরতে পেরেছে, ভাবী মিষ্টিকে নিজের কাছে রাখতে চায়, ভালোবাসে মেয়েটাকে।

মিলি আজ নিম্মিদের বাসায় গোসল করেছে, দুপুরে ভাত খেয়েছে। নিম্মির বাবার জন্য একটা বিশাল পরীক্ষা। সবকিছু তাকে চেয়ে চেয়ে দেখতে হচ্ছে। মিলির খুব ইচ্ছা করছিল, উনাকে বলতে, আমিও তো আপনার মেয়ের মত! মা-বাবা নেই বলেই হয়তো মিলি এসব অনুভব করে। নিম্মি তার হিংসার যোগ্য না। সবুজ তাকে মনে প্রাণে ভালবাসে। তাহলে কোথায় কি যেন একটা কাঁটা হয়ে আছে! বুঝতে পারছে না মিলি। রাতে খাবার টেবিলেও সেটা এমন কোন কথা বলল না। ভাইয়া খোঁজখবর করল সবুজের। মিষ্টি অনেকদিন বাদে মাকে কাছে পেয়েছে। মাকে বুকে জড়িয়ে ঘুমাচ্ছে।

রাতে হাসপাতালে, নিম্মি কোথায়? পাশে বসে আছে? সবুজের মনের গহীনে কি নিম্মির বসবাস আছে? নাকি বারান্দায় গিয়ে চাঁদ দেখছে? মেয়েটা প্রকৃতিপ্রেমী। অপলক দৃষ্টিতে বৃষ্টি, পূর্ণিমা দেখে। নাকি এসব দেখার ভান করে নিজের দুঃখ লুকায়? ঘুম আসছে না। ভাবিকে তো বড় মুখ করে বলে দিল, কিন্তু নিজের মনের খচ খচ দূর করতে পারছে না।

#
পরীক্ষা পড়াশোনা নিয়ে একেবারে বিপর্যস্ত রিফাত। বাড়ি থেকে টাকা নেয় না বহুদিন। কিন্তু এবার আর ছাত্র পড়াচ্ছে না সে। তাকে পাশ করতে হবে। বিসিএস, ব্যাংকের চাকরি, না হলে সরকারি কলেজে চাকরির চেষ্টা করে যেতে হবে। নিজের জীবন গুছিয়ে না নিলে, নিম্মির জীবন সে গুছাতে পারবে না। ক্লাস করে বের হয়ে ফাহিমার সাথে দেখা। অনেক দিনের কথা হয়না।

• কিরে কেমন আছিস?

• ভালো তুই?

• একেবারে ভুলেই গেছিস

• সেটা তোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য

• আমি ভুললাম কোথায়?

• হুটহাট বাড়ি চলে যাস, না বলে কয়ে

• হ্যাঁ একটু কাজ ছিল

• কি কাজ সে তো জানি

• চলো কোথাও বসি

• আজ না, একটু কাজ আছে

• আজ তো সামনে পড়ে গেছিস তাই পালাতে পারছিস না, তোকে তো পাওয়াই যায় না

• আচ্ছা চল এক কাপ চা খাওয়া

ফাহিমার হঠাৎ এই এড়িয়ে যাওয়াটা রিফাতের চোখে পড়ে না। পুরনো বোরকা, আর স্কার্ফের ভিতর গোলগাল মুখটা কেমন চুপসে গেছে, বিষন্ন বিবর্ণ। রিফাত তাও দেখতে পারছে না। চায়ের বেশ আলাপ করল। উঠার সময় ফাহিমা বলে,

• তোর সব স্বপ্ন পূরণ হোক, পৃথিবীতে কেউ তো সুখী হোক

• ব্যাপারটা যত সহজ মনে করছিস তত সহজ না, একটা বিবাহিত মেয়ে সে কি তার স্বামীর হাত ছেড়ে আমার কাছে আসবে? তাও আবার তার এই জীবনের জন্য আমি দায়ী

• এভাবে চিন্তা করিস না, ভালো চিন্তা কর, ভালো ফল পাবি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে গেল ফাহিমা

হাসপাতালে সবুজ ছুটি পেয়েছে। নিম্মি ছিলো রাতে, ব্যাগ, জিনিসপত্র গুছিয়ে দিয়েছে, মিলি এসেছে সকাল সকাল, সালেহা রাতে ভাইয়ের বাসায় ছিলেন তিনিও এসেছেন, নাজিমুদ্দিন গাড়ি ভাড়া করেছেন। ভাড়া গাড়ি চলে আসলেই, সবকিছু গুছিয়ে তুলে দেয় নিম্মি। সালেহা তাকে তাদের সঙ্গে যেতে বলে। সামনে পরীক্ষার অজুহাতে, নাকচ করে নিম্মি, সবুজ হঠাৎ বলে ওঠে,

• ও যাবে কেন? ওকে অনেক বড় পাশ দিতে হবে
কিছুটা অবাক হয়ে তাকায় মিলি। সবুজের কন্ঠে কি অভিমান ছিল? নিম্মি অবশ্য বিশেষ পাত্তা দেয় না, সবাইকে গাড়িতে তুলে নিজের বাবার সাথে রিক্সায় বাড়ি চলে যায়। সারা রাস্তা মিলি ভাবতে থাকে, তাহলে কি ভাবী সঠিক? যেকোনো সময় ওদের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে? তখন মিলির কি হবে? হয়তো এখনো তাকে মেনে নিতে পারছে না!

বাড়িতে সাধনা অপেক্ষা করছিল। ভাইকে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। সাধনা অনেক ফল নিয়ে এসেছে, সেগুলো ধুয়ে কেটে সবার সামনে এনে দেয়। মিলি বেশ অবাক হয়। সাধনা কুটোটি নাড়েনা । সুমনার হাতে ডালিমের বাটি দেয় বলে,

• পুরোটা শেষ করবি

সুমনা এই যত্নে খুশি হয়। সবুজের জন্য জুস বানিয়ে আনে সাধনা।

• নিম্মি আসলো না?

• ওর বলে কি পরীক্ষা

• ও হ্যাঁ সামনে তো এইচএসসি

• তা অসুস্থ জামাইয়ের সাথে আসা উচিত ছিল না? বলে সালেহা

• অসুস্থ জামাইয়ের সাথে তার বউ আছেই, ও বরং নিজের জীবনটা গুছায় নিক

মিলি অবাক হয়ে সাধনাকে দেখছে।

• তোর জামাই কই?

• ঢাকায় গেছেন

• ঢাকায় কি কাজ?

• উনার ভাগ্নেকে ইতালি পাঠাবে

• টাকা-পয়সা কে দিচ্ছে?

• উনি দিবেন

• আহারে তোর সংসারটা তুই গুছায় নে, এখন মনে হয় একটা বাচ্চা নিলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে

• সবকিছুর সমাধান যদি বাচ্চা হতো তাহলে তো ভালই হতো

সাধনা উঠে রান্নাঘরে চলে যায়। আনাজপাতি তেমন কিছু ছিল না কেনা। সাধনা কিনিয়েছে জিনিসপত্র। নিজেই রান্না বসালো।
মিলি, রান্না ঘরে পিড়ি পেতে বসলো,

• ভাবী এখানে বইসো না

• কেন?

• গরমের মধ্যে বইসা কি করবা

• তোমার সাথে কথা বলি

• রান্না হইলে কথা বইলো

• সমস্যা নাই, আমার গরম লাগছে না

• আচ্ছা

• তোমার কি কোন সমস্যা হয়েছে?

• কিসের সমস্যা

• না মানে আজ তোমাকে অন্যরকম লাগছে

• তুমি আমারে কয়দিন দেখছো? আমি তো বাড়িতে থাকি না, তুমিও ঘর থেকে বের হও না

• তা ঠিক

• আমি এরকমই, যাও গোসল দিয়া নাও ভাইকেও বলো গোসল দিতে

খেতে বসে সবাই অবাক। দারুন রান্না করেছে সাধনা। সালেহা একটু আস্বস্ত হন। অন্তত একটা সন্তান কিছু তো শিখেছে!

চলবে