শ্রাবণের মধ্যদুপুর পর্ব-৫৮+৫৯+৬০

0
24

শ্রাবণের মধ্যদুপুর
৫৮

রবিবার ইশরাত নিম্মির সাথে বাসার বাইরে দেখা করতে চাইলো। নিম্মি কিছু না ভেবেই রাজি হয়ে গেল। ভাবলো সন্ধ্যা হয়ে গেলে নাহয় বাসায় থাকবে আজ, গ্রামে ফিরবেনা। বাবার সাথে অভিমানের বরফ গলতে শুরু করেছে। রেস্তোরাঁয় ইশরাত অপেক্ষা করছে, কলেজের কাজ সেরে রেস্তোরাঁ আসতে দেরি হয় নিম্মির। এসেই বান্ধবীকে জড়িয়ে ধরে নিম্মি।

• কেমন আছিস? উচ্ছ্বসিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করে নিম্মি

• কি হাল করেছিস? এত শুকিয়ে গেলি কিভাবে? ওরা খেতে দেয়না বুঝি?

• না রে…. সাধনার ছোট বাচ্চা সামলে, সকালেই বাসে করে কলেজে ক্লাস করতে আসা

• শুনলাম আবার ক্লাস করাবি কোচিং-এ?

• হ্যাঁ হাতের অবস্থা ভালো না, বাবার ওষুধ কিনতে হয়

• তোর অপদার্থ জামাই কি কোন কাজ করেনা?

• বাবার দায়িত্ব কি তার?

• তাহলে কার?

• আমার

• তাহলে আর ঘরের লোক বিয়ে করে লাভ কি? যদি এতটুকু সাপোর্ট না দেয়?

• না যাতায়াতের টাকা দেয়

• তুই যে শ্রম দিয়েছিস এতদিন তার তুলনায় নগণ্য

• দেখ সম্পর্ক তো এভাবে টাকাপয়সার হিসেবে চলেনা

• কিসের সম্পর্ক? কি ভবিষ্যৎ আছে এই সম্পর্কের?

• দেখ…. আমি….

• কোন জবাব নেই তো?

• না নেই

• আমি যা বলবো শুনবি? আমি তোর খারাপ চাইনা!

• রিফাত ভাইয়ের সম্পর্কে কিছু শুনতে চাইনা

• বেশ আমি কিছুই বলবো না, নিজেরাই কথা বল
নিম্মিকে স্তব্ধ করে ইশরাত চলে যায়, এগিয়ে আসে রিফাত। একে অপরের দিকে কতক্ষণ তাকিয়ে ছিলো নিজেরাও জানেনা। ধ্যানভঙ্গ হয় ওয়েটারের ডাকে, দুই কাপ কফি দেয় ওয়েটার। মাথা নিচু করে বসে আছে নিম্মি।

• কিছুই বলবে না? নাহয় রাগ করো?

• কি অবস্থা করেছেন নিজের?

• আমার? আর তুমি?

• নিজেকে ব্যস্ত রাখি, রাতে ঘুম আসেনা

• আমার কিভাবে ঘুম আসে?

• আমি কিভাবে জানবো?

• জানার চেষ্টা করো

• না কিছু কথা না জানাই ভালো

• যদি মাকে রাজি করাই…. তুমি….

• প্লিজ… কফিটা ভালো, কফি খান

• মনে আছে একদিন কিভাবে চলে গেলে

• হুম… কিছুই ভুলিনি

• এভাবে দুটো জীবন নষ্ট হবে? আমার সামান্য ভুলে?

• আপনি অপরাধবোধ থেকে বের হয়ে আসুন। আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি, আমার আপনার উপর কোন রাগ নেই

• আর কিছুই নেই?

• না

• তাহলে তো রাগটাই ভালো ছিলো, অন্তত কিছু তো ছিলো

• কিছু তো আছে, ভীষণ গোপন, যা আমিও জানতে চাইনা

• কেন?

• ভয় হয়

• কিসের?

• সবকিছু ছারখার করে দেবে এই অনুভূতি

• তুমি জানো এই অনুভূতির নাম কি?

• নাম জেনে কি হবে? আর কিছু খান। আজ আমি খাওয়াবো

• কেন?

• কারণ আমরা আর কোনদিন দেখা করবো না, আপনি আমার কাছে প্রতিজ্ঞা করবেন

• এই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার পর আমার গলা দিয়ে কিছু নামবে?

• একটা ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করুন, অনেকদিন বিয়ে খাইনা

• আসবে আমার বিয়েতে?

• দাওয়াত করলে অবশ্যই আসবো

• নিম্মি….

নিম্মি তাকায় না। দুজনের চোখ ভেজা। অনেক অনেক কথা বুকের ভেতর তোলপাড় করছে, কিন্তু মুখ ফুটছে না কারো। কফিটা ঠান্ডা হয়। অনেক টেবিলে মানুষ আসছে, খাচ্ছে, উঠে চলে যাচ্ছে, কিন্তু একটা টেবিল স্থবির। ওয়েটাররাও অজানা কারনে ঐ টেবিল এড়িয়ে যাচ্ছে। তারাও হয়তো কিছু বুঝতে পেরেছে। পুরো দুনিয়া উলোটপালোট করে দেওয়ার শক্তি রাখে এই অনুভূতি….

শ্রাবণের মধ্যদুপুর
৫৯

রিয়াজুদ্দিন স্ত্রীকে নিয়ে ভীষণ বিপাকে পড়েছেন। একদিকে ছেলে জেদ ধরে বসে আছে, অন্যদিকে মা পাত্রী দেখে প্রায় কথা পাকা করে ফেলেছেন! পাত্রী সুন্দরী, শিক্ষিতা, অল্প বয়সী, কিন্তু ঢাকা শহরে বড় হওয়া মেয়ে। গ্রামে বেড়াতে এলেও থাকেনি, আর রিফাতের চাকরি থানা ব্রাঞ্চে। সংসার করতে গেলে সেখানেই করতে হবে। আদৌ কোনদিন ঢাকায় বদলি হবে কিনা…. মেয়ের মামা রাইসার ফুপা শ্বশুর। কোন ঝামেলা হলে দুই ভাইবোনের জীবনে প্রভাব পড়েবে। এটা চাইছেন না রিয়াজুদ্দিন। আর তার প্রথম পছন্দ নিম্মি। মেয়েটা সম্ভাবনাময়ী। শুধু মেয়েটাকে তৈরি করে নিতে হবে। ভীষণ পরিশ্রমী আর ভালো মনের। রিফাতও তাকে পছন্দ করে। এর মাঝে এই বিয়ের প্রস্তাব আসা, আলাপ করা। জেসমিন বেগম শুরুতে খুশি হলেও পরে কেন এত বিচলিত তা অবশ্য জানা যায়নি। একেবারে রক্তচাপ তুঙ্গে উঠিয়ে শয্যাশায়ী!

রিফাত এলো এশার নামাজ পড়ে। বাবার সাথেই ঢুকলো বাসায়। চোখ, মুখ ফোলা। রাফিয়া ভাত রান্না করেছে। কিন্তু বেচারি আর কিছু পারেনা। হোটেল থেকে তরকারি আনছেন রিয়াজুদ্দিন। জেসমিন বেগমকে কড়া ওষুধ দিয়েছেন ডাক্তার। বেশিরভাগ সময় ঘুমান। ইশরাত এসেছিলো কথা বলতে কিন্তু অবস্থা বেগতিক দেখে শুধু কুশল বিনিময় শেষে চলে গেছে। জেসমিন ক্ষীণ স্বরে ডাকছেন রিফাতকে।

• কি হয়েছে মা? ঠিক আছ?

• আমার কাছে একটু বস, কি চেহারা বানিয়েছিস

• গ্রাম গঞ্জের চাকরি

• এমন ভাব করছিস যেন চাষবাস করিস

• তাই করতে হবে মনে হয়

• ভাইয়া ভাত খাবি?

• এত তাড়াতাড়ি কেন? একটু চা কর

• আচ্ছা

• না দাড়া, আমি যাই, তুই বরং একটু পড়তে বস

মায়ের মাথায় হাত বুলিয়ে রিফাত রান্নাঘরে যায়। কিন্তু কিছুই বুঝতে পারছে না। রাফিয়া এসে সবকিছু বের করে দিয়ে যায়।

• মায়ের খাবার কি?

• আমাদের খাবারটাই খেতে পারবে

• তুই আজ ভাত রান্না করে ফেলেছিস, নাহলে খিচুড়ি করা যেত, এত তেল মসলা তো খেতে পারবে না

দরজায় শব্দ করছে কে যেন। এত রাতে কে…. বলে এগিয়ে যায় রিফাত। দেখে মিনতির মা দাড়িয়ে, হাতে টিফিন বাটি।

• কি ব্যাপার?

• এইটা নিম্মি খালায় দিছে

• কি?

• তরকারি

• আমি বাটি খালি করে দিচ্ছি

• রাইত হইছে, বাড়ি যামু, কাইল নিমু

• আচ্ছা

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাটির ঢাকনা খোলে রিফাত। শিং মাছের পাতলা ঝোল। আলু আর কাঁচ কলা দিয়ে। মেয়েটা নাকি আর তার সামনে আসবে না! দেখা করবে না! বুকের ভেতরের সেই মরু ঝড় আবার শুরু হলো। ধুলো পড়া স্মৃতিতে আরো প্রলেপ না পড়ে, অমলিন হলো স্মৃতি।

রাইসার ফুপা শ্বশুর খুব তাড়াহুড়ো করছেন। এদিকে রিফাতকে কিছু বলতেই পারেননি জেসমিন। মেয়েটা সুন্দর, সবদিক বিবেচনা করে যোগ্য। কিন্তু রিফাতের মত না নিয়েই পাকা কথা দিয়ে জেসমিন অস্বস্তিতে ভুগছেন। বেশ বেলা করে উঠেছেন। শনিবার বলে, রিফাত বাসাতেই আছে। ইশরাত এসেছিলো, আর কি কি চলছে, কিছুটা আন্দাজ পেয়েই বোধহয় শরীর আরো বিগেড়েছে তাঁর। কিভাবে কথা পাড়বেন, বুঝতে পারছেন না। রাফিয়া চা নিয়ে এলো,

• তোর ভাইকে ডাক

রিফাত ঘরেই ছিলো, এগিয়ে এলো
• কিছু বলবে মা?

• ঘরে আয়
চা নিয়ে ঘরে বসেন জেসমিন।

• ইশরাত এসেছিলো

• হুম

• তোমার বিয়ে ঠিক করেছি আমি, রাইসার ফুপাতো ননদ

• আমাকে না জিজ্ঞেস করে পাকা কথা কিভাবে হয়?

• আমি তোর মা, আমার একটা মান আছে না?

• মান অবশ্যই আছে, তেমনি বিয়ের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আমার আছে, সংসার আমাকে করতে হবে, তাই আমার মতামতের গুরুত্ব আছে

• রাইসার সংসারে সমস্যা হবে, তুই অমত করিস না বাবা

• জেসমিন এবার তুমি অতিরিক্ত করছ, আমি তোমাকে মেয়ে দেখতে যাওয়ার আগেই রিফাতের সাথে কথা বলতে বলেছিলাম,

• তোমরা বাপ, ছেলে যা চাও তা কোনদিন সম্ভব না, এই বিয়ে যদি ও না করে তাহলে…

• মা এমন কিছু বলোনা যা, আমাদের পুরো পরিবারের জন্য অমঙ্গল, প্রয়োজনে আমি রাইসার শ্বশুর বাড়িতে ক্ষমা চেয়ে নেব

রিফাত আর রিয়াজুদ্দিন উঠে চলে গেলেন। জেসমিন মাথায় হাত দিয়ে বসে রইলেন।

শ্রাবণের মধ্যদুপুর
৬০

জেসমিন ঝোঁকের বসে, ফোন করে দিলেন মেয়ের মামাকে। পাকা দেখার তারিখ দিলেন আগামী মাসের প্রথম শুক্রবার। ভীষণ খুশি ভদ্রলোক। কিন্তু ঢাকার মেয়ে এমন অজ পাড়া গাঁয়ে বসবাস করতে পারবে কিনা সন্ধিহান জেসমিন। হঠাৎ কি মনে হতে তিনি ঢাকায় পড়াশোনা করা ভাগ্নেকে কল দেন, ওরা দুই ভাই একসাথে পড়াশোনা করছে, পরাগ আর পরশ। দুষ্ট প্রকৃতির হলেও, এ ব্যাপারে তাকে সাহায্য করতে সক্ষম।

• আসসালামু আলাইকুম খালা

• ওয়ালাইকুম আসসালাম, কিরে খালারে তো ভুলে গেছোস

• আরে না খালা ঢাকা থেকে তো বাড়ি যাই না আর

• কেন কি এত রাজকার্য তোদের?

• ওমা ছাত্র পড়াইতে হয় না?

• তোমার কি কাজ সেটা বল?

• বাব্বাহ আমি বুঝি এমনি খবর নিতে পারি না?

• না সেটা না

• আচ্ছা শোন, কাল তোরে একটা চিঠি কুরিয়ার করব, ওইখানে একটা মেয়ের নাম ঠিকানা সবকিছু আছে

• আমার বিয়ে নাকি খালা?

• তুই দেখতেছি আস্ত বেশরম?

• মা তো ভাবেই না তোমরা যদি একটু ভাইবা দেখতা

• হইছে ফাজলামি রাখ

• আচ্ছা খালা সিরিয়াস বলো?

• মেয়েটার তোর রিফাত ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ের কথা চলতেছে,

• একদম খোঁজ খবর করতে হবে লাইন আছে কিনা, বাড়িঘর আছে কিনা, কোন সমস্যা আছে কিনা

• এইত বুঝছোস!

• খালা সবই বুঝি

• চিঠি পাওয়া মাত্র কাজ শুরু করবি

• বিনিময়ে কি দিবা তো কইলা না

• ফোন রাখ আস্ত বেয়াদব

জেসমিন নিশ্চিন্ত হন। ওরা দুই ভাই ঠিক খোঁজ নেবে। দুষ্ট প্রকৃতির হলেও কাজকর্ম ভালো করে।

এক সপ্তাহ পরে পরাগের ফোন এলো, ফোন আগে রিয়াজউদ্দিন সাহেব নিয়ে বাইরে যেতেন, এখন বাসাতেই রাখেন জেসমিনের জন্য, মা তোমার ফোন…. পরাগ কল দিয়েছে, রাফিয়া জেসমিনের হাতে মোবাইল দেয়,

• হ্যালো

• আসসালামু আলাইকুম খালা

• ওয়ালাইকুম আসসালাম

• খোঁজ ঠিকঠাক নিয়েছিস?

• একদম ভার্সিটিতে গিয়ে, খোঁজ নিয়েছি খালা, সমস্যা দুইটা

• কি সমস্যা বল?

• এক মেয়ের বাড়ি ভাড়া বাড়ি, বায়োডাটাতে লেখা আছে নিজেদের বাড়ি

• এটা কোন বিষয় না, আরেকটা কি সমস্যা?

• বড় বোন পালিয়ে বিয়ে করেছিল, তাই এই মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে

• জোর করছে কেন?

• ভার্সিটিতে একজনকে ভালোবাসে

• কি সর্বনাশ! এগুলো রিফাত শিখাইছে তাই না?

• ভাই তো কারো সাথে কথাই বলে না, কল দিয়েছিলাম রিসিভই করে নাই

• রিফাত জানে না?তাহলে ইশরাত বলেছে?

• না খালা, আমারে বিশ্বাস না হয় আপনি নিজে খোঁজ নেন, ইশরাতের সাথে কথা হয় না

• আচ্ছা রাখলাম অকর্মার ঢেঁকি

জেসমিন ফোন রাখলেও কিছু জিনিস তার মনে এখন খটকা লাগে। মেয়ের মামার আসলেই খুব তাড়াহুড়ো ছিল। ঢাকার মেয়ে, মফস্বলের ছেলেকে বিয়ে করবে আবার গ্রামে এসে থাকবে, জিনিসগুলো আসলেই হজম হওয়ার মতো না। যদিও বিয়ে নসিবের। তারপরও, বিয়ে হতে হয় কুফু মিলিয়ে। এখন তিনি মেয়ের মামাকে কি বলবেন বুঝতে পারছেন না। আজকাল প্রেম ভালোবাসা সব ছেলেমেয়ের মধ্যেই হয়। আর বড় বোন পালিয়ে গেছে বলে এ ধরনের জোরজবরদস্তি উচিত নয়। তাছাড়া রিফাত যা করতে চাইছে সেও তো এই প্রেম ভালোবাসা! পার্থক্য এই যে এই মেয়েটি বিবাহিত না, নিম্মি বিবাহিত, কিন্তু সেই বিয়ের পরিস্থিতি সব জেসমিন জানেন। ছেলের অপরাধবোধ কখন ভালোবাসায় বদলে গেছে, সেটা হয়তো সে নিজেও জানেনা। এখন কি করবেন তিনি?

• আম্মা ওষুধ খাও, রাফিয়া ডাক দেয়

• আজ কি বার?

• বৃহস্পতিবার

• রিফাত আসবে না?

• না…. বলবো কিসব কাজের চাপ

• চাপ না ছাই, মায়ের কাছে থাকতে ইচ্ছা করে না

• মা, তুমি তো বাংলা সিরিয়ালের শাশুড়ির মতো শুরু করলা

• তোদের শাসন করিনা দেখে এত বাড় বাড়ছে, দাড়া তোর বাপ আসুক

• আব্বা বাসাতেই আছে, ডাকবো?

রাফিয়া রান্নাঘরে চলে গেল। মেয়েটা বড় হয়ে গেল। এই দুইদিন আগেও চা ছাড়া কিছুই বানাতে পারত না, সেদিন একেবারে শিং মাছের ঝোল করলো, কাঁচকলা দিয়ে!

বাজার এনেছেন রিয়াজুদ্দিন। শিং মাছ আর কাঁচা কলা এনেছেন জেসমিনের জন্য, শরীরে রক্ত স্বল্পতা আছে,

• শিং মাছ তো আমি ধুতে পারিনা

• ছাই নাই?

• আছে, দে আমি ধুয়ে দেই, তুই মসলা তৈরি কর, কলা কিন্তু পাকা কলার খোসা ছিলবি না, পাতলা করে ছিলতে হবে…..

• আচ্ছা

বাপ মেয়ের কর্মকাণ্ড দেখে বুঝতে অসুবিধা হলো না, সেদিনের রান্না রাফিয়ার না! তাহলে কার? নিম্মির? তার অসুস্থতার কথা শুনে মেয়েটা রান্না করে পাঠিয়েছে? অথচ তিনি মেয়েটার মন বুঝলেন না, শুধু সামাজিক মান মর্যাদার কথা ভেবে গেলেন।

• কি হয়েছে? এত হইচই কিসের?

• তুমিই তো বলো, রাইসা নেই, ঘরটায় নীরবতা ছেয়ে গেছে, তাই আমরা হইচই করি

• বেশ করো, রান্না কিন্তু সেদিনের মতো হওয়া চাই

হইচই বন্ধ! বাবা, মেয়ের টেনশন শুরু হয়ে গেছে। মজা পেলেন জেসমিন।

চলবে।