শ্রাবণের মধ্যদুপুর পর্ব-৬৪+৬৫+৬৬

0
25

শ্রাবণের মধ্যদুপুর
৬৪

বাসায় থমথমে পরিবেশ। সবুজ সবাইকে বাসায় ডেকে এনেছে। রিয়াজুদ্দিন সাহেব সহ আরো প্রতিবেশি উপস্থিত। নিম্মি বাসায় ঢুকেই জমে গেল। এত মানুষ দেখে।

• তোমার নাগর কই? তারে ডাইকা আনো বলে সালেহা

নিম্মি চুপ করে দাঁড়িয়ে। তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। মনে হচ্ছে তার চারপাশের বাতাসে অক্সিজেন নেই! সে পানিতে ডুবে যাচ্ছে।

জীবনের সেই মোড়ে সে আবার দাড়িয়ে, সামান্য মেসেজ বিনিময়ের অপরাধে তার জীবনে যে বিপর্যয় ঘটেছিলো। রিফাত ঢুকলো। তার অঙ্গভঙ্গিতে একটা নির্ভীক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। নিম্মির পাশে দাঁড়ালো সে। সবুজ এসে বললো,

• চমৎকার, সাহস আছে তোমার

• আমার তো সাহস আছেই, কিন্তু তোমার দুঃসাহস আছে

• বেহায়াপনা করে আবার বড় কথা? আমার বৌকে নিয়ে কেন গেছিলি কটেজে?

• আমি কটেজের বাইরে বসেছিলাম ,কিছু কথা বলার ছিলো

• পরের বৌয়ের সাথে এত কথা কিসের, পরকিয়ার মামলা দিব

• প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে ও তার ভরণপোষণ না দেয়া একটি ফৌজদারি অপরাধ। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৬ ধারামতে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সালিশি পরিষদের কাছে অনুমতি না নিলে বিয়ে নিবন্ধন হবে না। আর তাই প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ বলে গণ্য হবে।

এবার সবাই একটু নড়েচড়ে বসে। সালেহা এগিয়ে আসে,

• বাবা কথায় কথা বাড়ে, বলি কি এগুলো বাদ দাও তোমরা, আমাদের ঘরের বৌ আমরা নিয়ে যাই, আর তুমি মাঝখানে ঝামেলা কইরো না, আমাদের মাইয়ার রক্তের বন্দোবস্ত করছো…. তোমারে মাফ কইরা দিলাম

• আপনার পুত্রবধূকে নিয়ে যান, আমার কোন আপত্তি নাই, যাকে গৃহকর্মী বানিয়ে রেখেছেন তাকে ছেড়ে দেন
বলে রিফাত

সবুজ চিৎকার করে রিফাতের কলার ধরে ঝাকি দেয়, উপস্থিত প্রতিবেশীরা সামলে নেয়। রিয়াজুদ্দিন ছেলের এই রুদ্রমূর্তি দেখে বিস্মিত! তার বাড়িতে আরেক কুরুক্ষেত্র অপেক্ষা করছে। জেসমিন বেগমকে কিভাবে মানাবেন নিজেও বুঝতে পারছেন না। সবুজ কি করে এসেছে তিনি শুনেছেন এক স্টাফের কাছে। ওরা বাইরে বসে কথা বলছিলো, ওদের পুলের পানিতে ফেলে দিয়েছে! ভিজে যাওয়ার পরেই তারা কটেজে ঢুকতে বাধ্য হয়েছিলো! আজব একটা ছেলে, নিম্মিকে নিয়ে চুপচাপ চলে যেতে পারতো। অকারণ নাটুকেপনা করার কি দরকার ছিলো!

সাধনা, হেলাল বাচ্চা নিয়ে হাজির। সাধনা এসে নিম্মির পাশে দাড়িয়েছে।

• এই মেয়েটা গতরাতে আমাদের বাড়ির মেয়ের জীবন বাঁচানোর উসিলা ছিলো, সেটাও রিফাত ভাইয়ের সাহায্যে, অন্তত এই কাজের জন্য কি তারা এতটুকু সম্মান পেতে পারতো না? এই আলোচনা তো তিন পরিবার মিলে হতে পারতো আর ভাই তাদের সাথে কি করেছে, সেটাও শুনেছি আমি

• হ! এখন আমার পোলার যত অন্যায়, ভাইয়ের কথায় এমন নষ্ট মেয়ে বিয়া দিয়াই ভুল হইছে সালেহা বলে ওঠে

• বেশ! যাও বাড়ি যাও সবাই। সময় মতো তালাকের কাগজ পেয়ে যাবা। অনেক দেখছি তোমাদের নাটক, সালেহা এই কন্ঠ কোথায় ছিলো? তোমার ছেলে যখন এক মাসের মাথায় অন্য মেয়ের সাথে বিয়ে বসে? কই তখন তো ছেলের সব কাজে সাথে ছিলে

• আপনার মেয়ে চেষ্টাই করেনি, স্বামীর দরকার কি? তার তো নাগরের অভাব নাই!

• যাও, এতদিন আমাদের ভাই বোনের সম্পর্কের সম্মানে কিছু বলিনি, আজ থেকে সেটাও শেষ। আর হ্যাঁ আমার স্ত্রীর সব গহনা হিসাব করে ফেরত দেবে, ওতে তোমাদের কোন অধিকার নেই…

নিম্মি যেন হঠাৎ করে অক্সিজেন ফিরে পায় বাতাসে। এতক্ষণ জড়ভরতের মতো দাঁড়িয়ে থাকলেও এখন নীরবে চোখের পানি ফেলে।

শ্রাবণের মধ্যদুপুর
৬৫

কিছুক্ষণ সবাই চুপচাপ বসে রইলো। তারপর রিয়াজ সাহেব বাকি প্রতিবেশীদের নিয়ে বের হয়ে এলেন। রিফাতকেও টেনে বের করলেন। সবাই চলে গেল। সালেহা, সবুজ আর মিলি বসে রইলো। সবুজ দাঁড়িয়ে গেল।

• আমি নিম্মির সাথে একা কথা বলতে চাই

• ঘাড় ধাক্কা খেতে না চাইলে বের হও, নাজিমুদ্দিন বলেন

নিম্মি দৌড়ে ঘরে গিয়ে দরজা দেয়। নাজিমুদ্দিন সাহেব ক্লান্ত বোধ করছেন। তিনিও ঘরে চলে গেলেন। হার্টের ওষুধ খেয়ে নিলেন, খুবই বুক ধড়ফড় করছে। মেয়েটার একটা গতি দেখতে চেয়েছিলেন! এমন গতির চাইতে তার কাছে থাকলেই ভালো হতো।

নিম্মি ঘরে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে গেল, ঘুম ভাঙল সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নেমেছে। বিছানা থেকে উঠতে গিয়ে মাথা ঘুরে উঠলো! সারাদিন ঐ কফি আর কুকিজ ছাড়া তো কিছু পেটে পড়েনি। মিনতির মা অনেক ডেকে ডেকে বিফলে রান্নাঘরে বিশ্রাম করছে, বাপ, মেয়েকে না খাইয়ে বাড়ি যায় কি করে?

নিম্মির জানালায় নিকষ কালো আঁধার। নিম্মি ভাবছে যে ভালোবাসার জন্য সে সংসার ভাঙতে চাইছে, ভালোবাসা কি? চোখের নেশা? নাকি শরীর? পুরোটাই শরীরের খেলা? নাকি আত্মনিবেদন? রিফাত তো তার কাছ থেকে কিছুই পায়নি তাহলে কেন এই আত্মদান? আর সে কেনই বা স্বার্থপরের মতো বারবার মানুষটা ডাকে? মানুষের তো প্রথম দেখায় প্রেম হয়। রিফাত ভাইকে তো প্রায় রোজ দেখত। লম্বা, ফরসা, সুদর্শন, এলাকায় একমাত্র নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র! মেয়েদের পছন্দ তো সে ছিলোই! যখন ক্লাস নিত কই তার মন কখনো অন্য কিছু ভাবেনি। আজ এতকিছুর পরে যখন মানুষটা পুল থেকে তুলে ভেজা শরীরের দিকে না তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিল! কি হলো তখন? ঐ নামানো চোখের ভেজা পাপড়িতে কি ছিলো ? যা আবার তাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিলো? কোনদিন লোলুপ দৃষ্টিতে তাকায়নি মানুষটা। চোখে ছিলো একরাশ সরলতা! বাবার হয়ে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে নিজের জীবনে ঝড় বয়ে যাচ্ছে! অদ্ভুত এই মানুষটার জন্য এক বুক মায়া নিয়ে নিম্মি হয়তো আজীবন টেনে বেড়াতো জীবনভর। কিন্তু এই সমাজ, সংসারের বেড়াজাল কোনদিন তার পক্ষে ভাঙা সম্ভব ছিলো না। কিন্তু আজ বাবা যা বললো…. বাবা না বললেও যে মানুষ তাকে এত অপমান করলো তার সাথে থাকা তো দূর, তার ছায়া মাড়ানোর রুচি নেই নিম্মির।

সালেহা হাসপাতাল থেকে সুমনার চিকিৎসা সম্পূর্ণ না করিয়ে বাড়ি নিয়ে গেল। সবুজের উপর ভয়াবহ ক্ষেপে গেছেন তিনি। সুমনাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে শুইয়ে এসেই উঠানে চেঁচামেচি শুরু করলেন,

• বড় শিক্ষিত হইছ তোমরা, বড় শিক্ষিত ঘরের মাইয়া আনছো বিয়া কইরা, কোন কাম না কাজ না, দিন রাত ঘরে শুইয়া থাকে, আরেকটা আনছিলাম আমি, আর কিছু না হোক বাড়ির কাম,কাজ করতো! সেইটা বিদায়ের ব্যবস্থা করলা, এখন সংসার কেমনে চলব?

• মা শান্ত হন৷ এটাই হওয়ারই ছিলো, সবুজ বলে শান্ত কন্ঠে

• কি হইত? যাই করুক বাড়ির সব কাজ, সাধনার বাচ্চা এক হাতে সামলাইতো, অহন কি হইব?

• সে বাড়ির কাজ করত বইলা যা মনে চায় করবো? আমাদের মান সম্মান নাই? ঐ চরিত্রহীন মেয়ে এই বাড়ির চৌকাঠ মাড়াতে পারব না

• কি দেখছ তুমি? কি করছে সে? খুলে বল

• একা একা ঐখানে গেছে, ঘর ভাড়া করছে…. আপনি আমার মা আমি আর কি বলবো?

• আম্মা আপনি নিম্মি না সুমনারে নিয়ে ভাবেন। সুমনার চিকিৎসা শেষ না করেই বাড়ি আসলেন, এখানে সুমনার দোষ কি? মিলি বলে

• তোমার জবান ফুটছে তাইলে? সুমনার জন্য এত দরদ? আর সংসারের উপর কোন দায় দায়িত্ব নাই?

• বুচির মা করছে…. টাকা কি আমার স্বামী কম দিচ্ছে? যে আমাকেও দিতে হবে?

• আমার ভাস্তি গয়না আনছিলো,শহরে ঘর ছিলো, তোমারে তাও দেয়নাই, আগের জামাইয়ের ঘরে কি করছো? তাগো ঠ্যাঙানি খাইয়া আমার দুয়ারে আইসা মরণ হইলো তোমার?

• মা…. ঘরে যান, এখনি ঘরে যান

বুক ধড়ফড় করছে সুমনার। অল্প বয়সী মেয়ে ডাক্তারটা তাকে বলেছিল তার কিচ্ছু হবেনা, নিয়ম করে ওষুধ খেলে আর রক্ত দিলে সে আবার সুস্থ হবে, স্কুলে যাবে…. বিকালে কতদিন খেলেনা। বুচি, ময়না, রমিসার সাথে কাঁচা আম কুড়িয়ে মাখা খাওয়া, দূর দূরান্তে পাড়া বেড়ানো, পাশের গ্রামে নতুন বৌ দেখতে যাওয়া, গ্রামের মেলায় চুড়ি, ফিতা কেনা, মাখা খাওয়া, সাধনা তখন ছিলো তার সখী! হঠাৎ করেই তার জীবন স্থবির হয়ে গেল, আগে বান্ধবীরা দেখতে আসতো, এখন আর কেউ খোঁজ নেয়না, মুখে অরুচি হলে ভাই সুগন্ধি লেবু আনতো, বিদেশ থেকে অনেক জিনিস আনত ভাই, সবকিছু এখন স্বপ্নের মতো লাগে। মাকে কতদিন জড়িয়ে ধরতে পারেনা। অসুখ হওয়ার পর থেকে মা সাধনায় মনোযোগী হলো, সুমনা পিছিয়ে পড়লো, এবার তো রক্ত দাতারা রিফাত ভাইয়ের খরচে এসেছে, কেউ নিজ থেকে এসেছে। সরকারি হাসপাতাল, খরচ আর কি এমন? মা বাড়ি এসেছে নিম্মি ভাবীকে আবার ফিরিয়ে আনার ফন্দি আঁটতে। মায়ের মনে তার জন্য জায়গা নাই। সে ধীর পায়ে পুকুর পাড়ে বসে, তার অনেকগুলো হাস ছিলো, পুকুরে সাতার কাটতো, বিকেলে নিজেই ফিরে আসত, সাদা একটা হাস ছিলো নাম ছিলো ধবলা…. আজ তার কেউ নাই! কিছু নাই!

শ্রাবণের মধ্যদুপুর
৬৬

সাধনা বাচ্চা কোলে ঝিমাচ্ছে। সালেহা ছেলের সাথে ঝগড়াঝাটি করে প্রেসারের বড়ি খেয়ে শুয়ে আছে। হেলাল দিনে দোকান সামলে রাতে বাচ্চা দেখে কাহিল। নিম্মি এতদিন কি কষ্ট করছিলো তা আজ স্বামী স্ত্রী বুঝতে পারে। সাধনা অবশ্য খুশি, নিম্মির নিজের একটা ঘর হোক, ভালোবাসার ঘর। যেখানে সে শুধু দায়িত্ব না অধিকার পাক। ধীর পায়ে ঘরে ঢোকে সুমনা। বিছানায় বসে। চমকে ওঠে সাধনা।

• সুমনা তুই? বিছানা থেকে উঠছস কেন?

• আর কত ঘরে থাকুম? পুকুর পাড়ে বসলাম, ভাবলাম তোমার সানজিরে দেইখা যাই

• সানজি! বাহ দারুণ ছোট নাম

• আচ্ছা বুবু মা কি আমাকে কোলে নিত? এমনে কইরা?

• নিব না কেন?

• তুমি যে কইতা আমারে কুড়ায় পাইছে, সেটাই সত্য তাই না?

• ধুর পাগলী, কুড়ায় পাইবো কেন? ছোটবেলায় সব বড় ভাইবোন এইগুলান কয়, ছোট ভাইবোনদের

• না বুবু কথাটা সত্য, তা না হইলে মা আমারে ভালোবাসেনা কেন?

• না রে…. মা আসলে নিম্মিরে ফিরায় আনতে চায়

• মামা কিন্তু মেয়ের সাথে আছে, আমার মা আমার সাথে নাই

• কিসব কথা?

• আমার চিকিৎসা শেষ না কইরা, বাড়িত আনলো কেন?

• নিম্মি আর ভাইয়ের বিষয়টার জন্য

• মানুষের জীবনের চাইতে একটা বিয়া বড়?

• তোর দুলাভাই সকালে নিবার চাইলো, উঠলি না কেন?

• ভ্যানে খুব কষ্ট হয়….ভাইয়ের কি অনেক খরচ হইবো যদি গাড়ি ভাড়া করে?

• সেইটা বল! আচ্ছা কাইল তোর দুলাভাই গাড়ি ভাড়া কইরা আনবো যাইস, অহন কিছু খাইয়া শুইয়া থাক

• আমার লাইগা আর দুধ রাখে না মা

• আমারটা খা, ঐ যে টেবিলে রাখা

• দুলাভাই আইনা দিছে?

• হ! জ্বাল দিয়া গেছে

• মানুষটা বড় ভালা, তারে দেইখা রাইখ

• ওরে পাকা বুড়ি

জীবন সুমনাকে অনেক অভিজ্ঞ করেছে। কাছের মানুষের কদর্য রূপ দেখে আর বিচলিত হয়না সে। কিন্তু কিশোরী মন এখনো ভালোবাসার কাঙাল। বোনের বলাতেই সে খুশি, সে দুধ খাবেনা। মায়ের ঘরের দরজা দেওয়া। উঠান পেরিয়ে আবার পুকুর পাড়ে বসে। নিম্মি আপু তাকে বহুবার মুখে তুলে খাইয়েছে। তার জন্য হাসপাতালে রাত জেগেছে, মানুষটার ভালো হোক। অনেক ভালো…. ভেজা চোখের কোণ হাত দিয়ে মুছে ফেলে সুমনা। মায়ের ঘরের দরজা খুলে গেল। বুচির মায়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ বাকবিতন্ডা সেরে মা এদিকেই এলো। তারপর কর্কশ গলায় বললো,

• তুই এইখানে কেন?

সুমনা উত্তর না দিয়ে তাকিয়ে রইলো। মানুষ কুকুর দেখলেও কি এমন করে? মা কি কদিন পর তাকে ঢিল ছুড়বে?

• কথা কছ না কেন?

• তুমি আমার লগে একটু বসবা?

• সন্ধ্যা বেলা এইখানে বসা ভালো না, ঘরে যা

• আমার আর খারাপ কিছু হইবো না

মা বসলো না পাশে। চলে গেল, তার গৃহস্থালি কাজ দেখতে। ভাইয়ের খামারের কর্মচারী ডেকে বাড়ির গরুর পরিচর্যা করায় মা। গরুকে যাতে মশা না কামড়ায়। ধুপ দেওয়া হয়। সুমনা সন্ধ্যা মিলিয়ে রাত নেমে আসা দেখে।

ফজর পড়ে একটু ঘুমিয়েছেন সালেহা। সবুজ সারারাত সাধনার মেয়ের কান্নাকাটিতে ঘুমাতে পারেনি। সেও আজকাল বেলা করে ওঠা আরম্ভ করেছে। হেলাল উঠে ব্রাশ করছে। বুচির মা বাড়িতে ঢুকে সেই আবিস্কার করে, সুমনার শীতল, অসাড় দেহ। তার চিৎকারে বাড়ির মানুষ, আত্মীয়, প্রতিবেশী জড়ো হলো। সালেহা ডাঙায় তোলা মাছের মতো তড়পাচ্ছেন আর মূর্ছা যাচ্ছেন। সবুজের চাচীরা সামলে পারছেনা। পল্লী চিকিৎসক এসে মৃত ঘোষণা করলেন। ভাড়া গাড়ি ডেকেছিলো হেলাল, তাকে আসতে নিষেধ করলো। নিম্মির ফোনে কল দেয় হেলাল। এত সকালে এমন একটা দুঃসংবাদ। নিম্মির উপর পুরো দায়ভার চাপিয়ে দিলেন সালেহা। নিম্মি যদি শহরে নোংরামি না করতো…. কিন্তু কথা শুরুর আগেই সবুজ থামিয়ে দেয়। সবুজ আর সাধনা মিলে মাকে ঘরে নিয়ে যায়। পল্লী চিকিৎসক কড়া ঘুমের ওষুধ ইঞ্জেকশন দেন সালেহাকে। নিম্মির কথা গ্রামে ছড়ানোর প্রয়োজন নেই। তালাক হলে হবে, কিন্তু একটা মরা বাড়িতে মানুষ দোয়া দরুদপাঠ না করে কেচ্ছা-গিবত করবে সেটা ঠিক না।

আগামী পর্বে সমাপ্তি