শ্রাবণ ধারায় পর্ব-১৯+২০

0
255

#শ্রাবণ_ধারায় |১৯|
#সাদিয়া_আক্তার_জ্যোতি

চিনির চোখের সামনে ভেসে উঠলো সেদিনের কথা যেদিন তার বিয়ে হয়।এবং সে প্রথম বারিশের হাত ধরে এ বাড়িতে বারিশের ঘরে প্রবেশ করে।সেদিন ঘর একদম সাধারণ আর পাঁচটা দিনের মতোই ছিল।না কোথায় ফুলের ছোঁয়া আর না কোথাও মৃদু আলোই জ্বলা মোমবাতির হদিস পাওয়া গেল।চিনি বেশ অবাকই হলো।তার জানা মতে বাসরঘর তো ফুলে সজ্জিত থাকে। সাথে থাকে সুগন্ধি মোমবাতি মিষ্টি আলো আর ঘ্রাণ। চিনি অবাক চোখে পাশে নির্বিকার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা বারিশের দিকে তাকায়।বারিশ একটা হাই তুলে চিনির উদ্দেশ্যে বলে,
– সারারাত কি এভাবে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকবে ভেবেছ?তাই ভাবলে দাঁড়িয়ে থাকো আমি বরং ঘুমাতে যাই।খুব ঘুম পাচ্ছে।

চিনি চোখ নামিয়ে নেয়।ধীর পায়ে প্রবেশ করে ঘরের ভিতর।বারিশও পিছু পিছু ঘরে প্রবেশ করে।চিনি বারিশকে সরাসরি কিছু জিজ্ঞেস করতে পারেনা।নতুন বউ সে!ঘরে ঢুকেই তো আর জিজ্ঞেস করতে পারে না ঘর সাজানো নেই কেন?চিনি চুপচাপ সবকিছু স্বাভাবিকভাবে নেয়।বারিশ কাবার্ডের বড় গ্লাস সরিয়ে চিনির উদ্দেশ্যে বলল,
– এখান থেকে যেটা পছন্দ সেটা পরে নাও।

বারিশের কথায় ঘুরে তাকায় চিনি।কাবার্ডে চোখ যেতেই থমকে যায় সে।রং বেরঙের অসংখ্য শাড়ি!জরজেট, সিল্ক, জামদানী,কাতান আরো হরেকরকম শাড়ি।বারিশ চিনিকে বিস্ময় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল,
– শাড়ি পরতে পারো?

চিনি কোনো উত্তর দিলো না।ফ্যাল ফ্যাল করে বারিশের চোখে তাকিয়ে থাকে।বারিশ আবারও বলে,
– আমার জন্য প্রতিদিন শাড়ি পরতে পারবে?

এবারও মুখ থেকে কোনো শব্দ বের হলো না চিনির।সে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে বারিশের মুখের দিকে চেয়ে থাকে।তা দেখে গলা পরিষ্কার করে বারিশ।এগিয়ে আসে চিনির দিকে। চিনির সামনে দাঁড়িয়ে ঘাড় বাঁকিয়ে ভ্রু কুঁচকে চিনিকে দেখে।মুখে মুচকি হাসি লেপে তর্জনি দিয়ে চিনির নাকে আলতো ছুঁয়ে দেয়।ভরাট কন্ঠে বলে,
– তুমি বোধহয় একটু বেশিই অবাক হয়ে যাচ্ছ!

বার কয়েক ঘন পলক ফেলে চিনি।বারিশের হলুদ ফর্সা মুখে ঠোঁট বাঁকানো হাসি।খয়েরী আর সোনালী সেরোয়ানিতে তাকে একদম রাজকুমারের মতো লাগছে।এতোক্ষণে মুখ খোলে চিনি শীতল কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
– আপনি আগে থেকেই জানতেন আমার সাথে আপনার বিয়ে হবে?

– না তো!ঘটক ছবি দেখানোর পর জেনেছি।

আর কোনো কথা বলে না চিনি।শাড়ি নিয়ে চলে যায় ওয়াশরুমে।বারিশও এই সময়ে নিজে ফ্রেশ হয়ে নেয়।পরিবেশটা কেমন যেন থমথমে। কারো মুখে কোনো কথা নেই।শুধু বাতাসের শব্দ আর বাতাসে প্রেমের গন্ধ। চিনি একটি বেগুনি রং য়ের জর্জেটের শাড়ি পড়ে ওয়াশ রুম থেকে বের হয়। খাটের এক কোনায় থম মেরে বসে আছে বারিশ দৃষ্টি তার নিচে সাদা টাইলসের মেঝেতে। খট করে ওয়াশ রুমের দরজা খোলার শব্দ হতেই শ্বাস আটকে গেল তার। তবে সে বাহির থেকে তা বুঝতে দিল না। পূর্বের নেই স্থির হয়ে বসে রইল চিনি এককদম দু কদম করে বারিশের সামনে এসে দাঁড়ালো দুটো কোমল পা বারিশের চোখের সামনে দৃশ্যমান হতে আবারো শ্বাস আটকে গেল বারিশের।চোখ বন্ধ করে বড় এক শ্বাস টানলো।মাথা তুলে চিনির চোখের দিকে তাকালো।চিনি চুপচাপ দাঁড়িয়ে হাতের নক খুঁড়ছে আর চোখের মণি এদিকে ওদিকে ঘুরিয়ে নিজেকে শান্ত করার বৃথা চেষ্টা করছে।বারিশ চিনিকে টেনে তার সামনে বসালো।ঠোঁট নাড়িয়ে মনে মনে কিছু একটা পড়লো তবে তা শোনা গেল না।পড়া শেষ করে চোখ বন্ধ করে চিনির কপাল থেকে বুক পর্যন্ত ফুঁ দিলো।সঙ্গে সঙ্গে চোখের পাতা এক হয়ে গেল চিনির।বারিশের শীতল ঠোঁটের স্পর্শ কপালে পড়তেই শিরদাঁড়া সোজা করে ফেলল সে।

– এই চিনি কোথায় হারালে?

হঠাৎ উচ্চ স্বরে এমন উক্তি শুনে কেঁপে উঠল চিনি। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো বারিশ তার সামনে কোমরে হাত বেঁধে কপাল কুঁচকে সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।চিনিকে বোকার মতো তাকিয়ে থাকতে দেখে বারিশ চোখ মেরে চিনিকে ফিসফিস করে বলল,
– বাসর রাতে ফিরে গিয়েছিলে বুঝি?তা আমাকেও নিয়ে যেতে আরেকবার বাসর করে আসতাম।আমাকে রেখে একা একাই ঘুরে এলে একদমই বেইনসাফি করলে!

ঠোঁট উল্টিয়ে শেষের কথাটি বললো বারিশ।চিনি বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বারিশের বুকে মৃদু আঘাত করলো।বারিশ ব্যাথা পাওয়ার ভ্যান করে হালকা চেঁচিয়ে উঠলো,
– আহ্!হার্ট অ্যাটাক!

চিনি সহসা ধমক দিয়ে বলল,
– চুপ! শুধু আজেবাজে কথা।এখন দিনে দুপুরে উনি বাসর করবে।আর সকাল সকাল এসব কি নাটক হ্যাঁ?ঘরটাকে এমন সার্কাসের মতো সাজিয়ে রেখেছেন কেন?

চিনির কথায় সাত আসমান থেকে পড়লো বারিশ। চোখ কপালে তুলে মুখে একটা বড় হা ঝুলিয়ে অবিশ্বাস্য সুরে বলল,
– হ্যাঁ….!সার্কাসের মতো সাজিয়েছি?নাটক করছি?এটা তুমি বলতে পারলে ছকিনার মা?

চিনি ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়াবে বারিশের কথা শুনে তৎক্ষনাৎ কোনো কিছু না ভেবেই উত্তর দিয়ে দিলো,
– হ্যাঁ পারলাম।

আচমকা বারিশের বলা “ছকিনার মা” কানের কাছে প্রচন্ড জোরে বারি খেতেই থেমে গেল চিনি।কোমরে হাত দিয়ে পিছন ফিরে রাগে কিড়মিড় করে বলল,
– এই আপনি ছকিনার মা কাকে বলছেন?

বারিশ তর্জনির ইশারায় নিজেকে এবং চিনিকে দেখিয়ে দেখিয়ে বলল,
– কেন আমার মেয়ে ছকিনা আর ছকিনার মা আমার বউ তুমি।

– এই আমার মেয়ের নাম মোটেও ছকিনা না।

– তাহলে কি?আমার যেটা ভালো লেগেছে আমি সেটা রেখেছি।তোমার ভালো না লাগলে তুমি একটা নাম বলো।

– মেয়ে আগে আসুক তারপর নাম বলবো।

– ওকে!

ঘাড় সংকুচিত করে ঠোঁট উল্টিয়ে বলল বারিশ।চিনি ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলো।ফিরে এসে ঘর আর সাজানো পেল না।ডাইনিং-এ গিয়ে দেখলো বারিশ খুব তাড়াহুড়ো করে খাবার খাচ্ছে। চিনি একটি চেয়ার টেনে বারিশের পাশে বসতে বসতে বলল,
– এতো তাড়া কিসের আস্তেধীরে খান।

বারিশ মুখে খাবার নিয়ে “আও আও” শব্দ করে কি বললো তা বোঝা গেল না।ভ্রু কুঁচকে ফেলল চিনি।মুখ দিয়ে চ্ শব্দ করে বলল,
– আগে গিলে নেন তারপর বলুন।

বারিশ খাবার গিলেই বলতে শুরু করলো,
– হাসপাতালে যেতে হবে গতরাতে ফারিশের জ্ঞান ফিরেছে। ওকে দেখতে যেতে হবে তারপর আবার অফিসে মিটিং রয়েছে।

চিনি নিজেও খাবার খেতে শুরু করলো।খেতে খেতেই চিনি গম্ভীর স্বরে হঠাৎ বলে উঠলো,
– ওরা আপনার সাথে এতো কিছু করলো।আপনার সম্পত্তির জন্য আপনাকে পাগল বানিয়ে মানসিক হাসপাতালে রাখল তাও আপনার ওদের প্রতি এতটুকু ঘৃণা নেই?

বারিশ মুখে বানটা ঢোকাবে এমন সময় চিনির কথায় থেমে যায় সে।বানটা কাঁচের প্লেটে রেখে একটি শ্বাস ফেলে বলে,
– দেখ চিনি আমি একজন শান্তিপ্রিয় শান্ত একটা ছেলে। আমার এসব দ্বন্দ, আগ্রাসন, লড়াই,হিংসা, হিংস্রতা এসব ভালো লাগে না।আমি সবাইকে নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকতে চাই।

চিনি একটি হতাশার শ্বাস ফেলল।সামান্য রাগি চোখে বারিশের দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,
– আপনি সবাইকে নিয়ে থাকতে চায়লেও সবাই আপনাকে নিয়ে থাকতে চায়না।সবাই আপনার মতো শান্ত নয়।আর আপনি! আপনি তো এতই শান্তিপ্রিয় যে আপনার সামনে আপনার ভাই আপনার বউয়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করে আর আপনি চুপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেন।কারণ শান্তিপ্রিয় শান্ত একটা ছেলে।তারপর আপনাকে মেরে মানুষজন ভর্তা বানিয়ে দেয় আর আপনি তাদের দু চার ঘা দেওয়ার বদলে আপনি এসে বলেন আপনি মারামারি করেন না আপনি ভদ্র ছেলে।আপনার মা আপনাকে পাগল বানিয়ে মানসিক হাসপাতালে পাঠালো আর আপনিও সুর সুর করে চলে গেলেন।

বারিশ গোমড়া মুখে বলল,
– মায়ের ইচ্ছা হয়েছে আমাকে পাগলাগারদে দেখবে আমি কি করবো।

চিনি টেবিল থেকে উঠে দাঁড়িয়ে রাগে কটমট করে বলল,
– হ্যাঁ এবার পাগল সাজিয়ে পাঠিয়েছিল এর পরেরবার সত্যি সত্যি পাগল বানিয়ে পাঠাবে।তারজন্য তৈরি থাকেন।

বলেই মুখ ঝামটি মেরে চলে যায় চিনি।পিছন থেকে শোনা গেল বারিশের গলা উঁচিয়ে বলা,
– আরে খাবারটা তো খেয়ে যাও..!

কিন্তু কোনো কথা কানে তুলল না চিনি সে গটগট করে হেঁটে রুমে চলে এলো।

– মিসেস রাণী মৃধা আপনি ফারিশ মৃধাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছেন।এটা অ্যাটেম টু মার্ডার তাই আপনাকে আমাদের সাথে থানায় যেতে হবে।

ছেলেকে নিজে হাতে খাবার মেখে খাইয়ে দিচ্ছিল রাণী।হঠাৎ কোথ থেকে একদল পুলিশের জামা পরা সুঠাম দেহের অপরিচিত মুখ কেবিনে প্রবেশ করল।তাদের ডান পাশেই বারিশ নির্বিকার ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে রাণীর চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে আছে।আচমকাই এমন কথা শুনে ক্ষেপে গেল ফারিশ।ক্ষিপ্র স্বরে বলল,
– এসব কি বলছেন আপনারা? আমার মায়ের সাথে এভাবে কথা বলার অধিকার কে দিয়েছে আপনাদের?

চলবে..

(এলোমেলো কি লিখেছি জানিনা।মাথা ঠিক নেই কি করছি কি লিখছি কিছুই বুঝতে পারছিনা।আউলায় ঝাউলায় গিয়েছি একদম।মনে হচ্ছে অন্য জগতে আছি আমি।)

#শ্রাবণ_ধারায় |১৯|
#সাদিয়া_আক্তার_জ্যোতি

চিনির চোখের সামনে ভেসে উঠলো সেদিনের কথা যেদিন তার বিয়ে হয়।এবং সে প্রথম বারিশের হাত ধরে এ বাড়িতে বারিশের ঘরে প্রবেশ করে।সেদিন ঘর একদম সাধারণ আর পাঁচটা দিনের মতোই ছিল।না কোথায় ফুলের ছোঁয়া আর না কোথাও মৃদু আলোই জ্বলা মোমবাতির হদিস পাওয়া গেল।চিনি বেশ অবাকই হলো।তার জানা মতে বাসরঘর তো ফুলে সজ্জিত থাকে। সাথে থাকে সুগন্ধি মোমবাতি মিষ্টি আলো আর ঘ্রাণ। চিনি অবাক চোখে পাশে নির্বিকার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা বারিশের দিকে তাকায়।বারিশ একটা হাই তুলে চিনির উদ্দেশ্যে বলে,
– সারারাত কি এভাবে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকবে ভেবেছ?তাই ভাবলে দাঁড়িয়ে থাকো আমি বরং ঘুমাতে যাই।খুব ঘুম পাচ্ছে।

চিনি চোখ নামিয়ে নেয়।ধীর পায়ে প্রবেশ করে ঘরের ভিতর।বারিশও পিছু পিছু ঘরে প্রবেশ করে।চিনি বারিশকে সরাসরি কিছু জিজ্ঞেস করতে পারেনা।নতুন বউ সে!ঘরে ঢুকেই তো আর জিজ্ঞেস করতে পারে না ঘর সাজানো নেই কেন?চিনি চুপচাপ সবকিছু স্বাভাবিকভাবে নেয়।বারিশ কাবার্ডের বড় গ্লাস সরিয়ে চিনির উদ্দেশ্যে বলল,
– এখান থেকে যেটা পছন্দ সেটা পরে নাও।

বারিশের কথায় ঘুরে তাকায় চিনি।কাবার্ডে চোখ যেতেই থমকে যায় সে।রং বেরঙের অসংখ্য শাড়ি!জরজেট, সিল্ক, জামদানী,কাতান আরো হরেকরকম শাড়ি।বারিশ চিনিকে বিস্ময় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল,
– শাড়ি পরতে পারো?

চিনি কোনো উত্তর দিলো না।ফ্যাল ফ্যাল করে বারিশের চোখে তাকিয়ে থাকে।বারিশ আবারও বলে,
– আমার জন্য প্রতিদিন শাড়ি পরতে পারবে?

এবারও মুখ থেকে কোনো শব্দ বের হলো না চিনির।সে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে বারিশের মুখের দিকে চেয়ে থাকে।তা দেখে গলা পরিষ্কার করে বারিশ।এগিয়ে আসে চিনির দিকে। চিনির সামনে দাঁড়িয়ে ঘাড় বাঁকিয়ে ভ্রু কুঁচকে চিনিকে দেখে।মুখে মুচকি হাসি লেপে তর্জনি দিয়ে চিনির নাকে আলতো ছুঁয়ে দেয়।ভরাট কন্ঠে বলে,
– তুমি বোধহয় একটু বেশিই অবাক হয়ে যাচ্ছ!

বার কয়েক ঘন পলক ফেলে চিনি।বারিশের হলুদ ফর্সা মুখে ঠোঁট বাঁকানো হাসি।খয়েরী আর সোনালী সেরোয়ানিতে তাকে একদম রাজকুমারের মতো লাগছে।এতোক্ষণে মুখ খোলে চিনি শীতল কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
– আপনি আগে থেকেই জানতেন আমার সাথে আপনার বিয়ে হবে?

– না তো!ঘটক ছবি দেখানোর পর জেনেছি।

আর কোনো কথা বলে না চিনি।শাড়ি নিয়ে চলে যায় ওয়াশরুমে।বারিশও এই সময়ে নিজে ফ্রেশ হয়ে নেয়।পরিবেশটা কেমন যেন থমথমে। কারো মুখে কোনো কথা নেই।শুধু বাতাসের শব্দ আর বাতাসে প্রেমের গন্ধ। চিনি একটি বেগুনি রং য়ের জর্জেটের শাড়ি পড়ে ওয়াশ রুম থেকে বের হয়। খাটের এক কোনায় থম মেরে বসে আছে বারিশ দৃষ্টি তার নিচে সাদা টাইলসের মেঝেতে। খট করে ওয়াশ রুমের দরজা খোলার শব্দ হতেই শ্বাস আটকে গেল তার। তবে সে বাহির থেকে তা বুঝতে দিল না। পূর্বের নেই স্থির হয়ে বসে রইল চিনি এককদম দু কদম করে বারিশের সামনে এসে দাঁড়ালো দুটো কোমল পা বারিশের চোখের সামনে দৃশ্যমান হতে আবারো শ্বাস আটকে গেল বারিশের।চোখ বন্ধ করে বড় এক শ্বাস টানলো।মাথা তুলে চিনির চোখের দিকে তাকালো।চিনি চুপচাপ দাঁড়িয়ে হাতের নক খুঁড়ছে আর চোখের মণি এদিকে ওদিকে ঘুরিয়ে নিজেকে শান্ত করার বৃথা চেষ্টা করছে।বারিশ চিনিকে টেনে তার সামনে বসালো।ঠোঁট নাড়িয়ে মনে মনে কিছু একটা পড়লো তবে তা শোনা গেল না।পড়া শেষ করে চোখ বন্ধ করে চিনির কপাল থেকে বুক পর্যন্ত ফুঁ দিলো।সঙ্গে সঙ্গে চোখের পাতা এক হয়ে গেল চিনির।বারিশের শীতল ঠোঁটের স্পর্শ কপালে পড়তেই শিরদাঁড়া সোজা করে ফেলল সে।

– এই চিনি কোথায় হারালে?

হঠাৎ উচ্চ স্বরে এমন উক্তি শুনে কেঁপে উঠল চিনি। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো বারিশ তার সামনে কোমরে হাত বেঁধে কপাল কুঁচকে সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।চিনিকে বোকার মতো তাকিয়ে থাকতে দেখে বারিশ চোখ মেরে চিনিকে ফিসফিস করে বলল,
– বাসর রাতে ফিরে গিয়েছিলে বুঝি?তা আমাকেও নিয়ে যেতে আরেকবার বাসর করে আসতাম।আমাকে রেখে একা একাই ঘুরে এলে একদমই বেইনসাফি করলে!

ঠোঁট উল্টিয়ে শেষের কথাটি বললো বারিশ।চিনি বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বারিশের বুকে মৃদু আঘাত করলো।বারিশ ব্যাথা পাওয়ার ভ্যান করে হালকা চেঁচিয়ে উঠলো,
– আহ্!হার্ট অ্যাটাক!

চিনি সহসা ধমক দিয়ে বলল,
– চুপ! শুধু আজেবাজে কথা।এখন দিনে দুপুরে উনি বাসর করবে।আর সকাল সকাল এসব কি নাটক হ্যাঁ?ঘরটাকে এমন সার্কাসের মতো সাজিয়ে রেখেছেন কেন?

চিনির কথায় সাত আসমান থেকে পড়লো বারিশ। চোখ কপালে তুলে মুখে একটা বড় হা ঝুলিয়ে অবিশ্বাস্য সুরে বলল,
– হ্যাঁ….!সার্কাসের মতো সাজিয়েছি?নাটক করছি?এটা তুমি বলতে পারলে ছকিনার মা?

চিনি ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়াবে বারিশের কথা শুনে তৎক্ষনাৎ কোনো কিছু না ভেবেই উত্তর দিয়ে দিলো,
– হ্যাঁ পারলাম।

আচমকা বারিশের বলা “ছকিনার মা” কানের কাছে প্রচন্ড জোরে বারি খেতেই থেমে গেল চিনি।কোমরে হাত দিয়ে পিছন ফিরে রাগে কিড়মিড় করে বলল,
– এই আপনি ছকিনার মা কাকে বলছেন?

বারিশ তর্জনির ইশারায় নিজেকে এবং চিনিকে দেখিয়ে দেখিয়ে বলল,
– কেন আমার মেয়ে ছকিনা আর ছকিনার মা আমার বউ তুমি।

– এই আমার মেয়ের নাম মোটেও ছকিনা না।

– তাহলে কি?আমার যেটা ভালো লেগেছে আমি সেটা রেখেছি।তোমার ভালো না লাগলে তুমি একটা নাম বলো।

– মেয়ে আগে আসুক তারপর নাম বলবো।

– ওকে!

ঘাড় সংকুচিত করে ঠোঁট উল্টিয়ে বলল বারিশ।চিনি ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলো।ফিরে এসে ঘর আর সাজানো পেল না।ডাইনিং-এ গিয়ে দেখলো বারিশ খুব তাড়াহুড়ো করে খাবার খাচ্ছে। চিনি একটি চেয়ার টেনে বারিশের পাশে বসতে বসতে বলল,
– এতো তাড়া কিসের আস্তেধীরে খান।

বারিশ মুখে খাবার নিয়ে “আও আও” শব্দ করে কি বললো তা বোঝা গেল না।ভ্রু কুঁচকে ফেলল চিনি।মুখ দিয়ে চ্ শব্দ করে বলল,
– আগে গিলে নেন তারপর বলুন।

বারিশ খাবার গিলেই বলতে শুরু করলো,
– হাসপাতালে যেতে হবে গতরাতে ফারিশের জ্ঞান ফিরেছে। ওকে দেখতে যেতে হবে তারপর আবার অফিসে মিটিং রয়েছে।

চিনি নিজেও খাবার খেতে শুরু করলো।খেতে খেতেই চিনি গম্ভীর স্বরে হঠাৎ বলে উঠলো,
– ওরা আপনার সাথে এতো কিছু করলো।আপনার সম্পত্তির জন্য আপনাকে পাগল বানিয়ে মানসিক হাসপাতালে রাখল তাও আপনার ওদের প্রতি এতটুকু ঘৃণা নেই?

বারিশ মুখে বানটা ঢোকাবে এমন সময় চিনির কথায় থেমে যায় সে।বানটা কাঁচের প্লেটে রেখে একটি শ্বাস ফেলে বলে,
– দেখ চিনি আমি একজন শান্তিপ্রিয় শান্ত একটা ছেলে। আমার এসব দ্বন্দ, আগ্রাসন, লড়াই,হিংসা, হিংস্রতা এসব ভালো লাগে না।আমি সবাইকে নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকতে চাই।

চিনি একটি হতাশার শ্বাস ফেলল।সামান্য রাগি চোখে বারিশের দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,
– আপনি সবাইকে নিয়ে থাকতে চায়লেও সবাই আপনাকে নিয়ে থাকতে চায়না।সবাই আপনার মতো শান্ত নয়।আর আপনি! আপনি তো এতই শান্তিপ্রিয় যে আপনার সামনে আপনার ভাই আপনার বউয়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করে আর আপনি চুপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেন।কারণ শান্তিপ্রিয় শান্ত একটা ছেলে।তারপর আপনাকে মেরে মানুষজন ভর্তা বানিয়ে দেয় আর আপনি তাদের দু চার ঘা দেওয়ার বদলে আপনি এসে বলেন আপনি মারামারি করেন না আপনি ভদ্র ছেলে।আপনার মা আপনাকে পাগল বানিয়ে মানসিক হাসপাতালে পাঠালো আর আপনিও সুর সুর করে চলে গেলেন।

বারিশ গোমড়া মুখে বলল,
– মায়ের ইচ্ছা হয়েছে আমাকে পাগলাগারদে দেখবে আমি কি করবো।

চিনি টেবিল থেকে উঠে দাঁড়িয়ে রাগে কটমট করে বলল,
– হ্যাঁ এবার পাগল সাজিয়ে পাঠিয়েছিল এর পরেরবার সত্যি সত্যি পাগল বানিয়ে পাঠাবে।তারজন্য তৈরি থাকেন।

বলেই মুখ ঝামটি মেরে চলে যায় চিনি।পিছন থেকে শোনা গেল বারিশের গলা উঁচিয়ে বলা,
– আরে খাবারটা তো খেয়ে যাও..!

কিন্তু কোনো কথা কানে তুলল না চিনি সে গটগট করে হেঁটে রুমে চলে এলো।

– মিসেস রাণী মৃধা আপনি ফারিশ মৃধাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছেন।এটা অ্যাটেম টু মার্ডার তাই আপনাকে আমাদের সাথে থানায় যেতে হবে।

ছেলেকে নিজে হাতে খাবার মেখে খাইয়ে দিচ্ছিল রাণী।হঠাৎ কোথ থেকে একদল পুলিশের জামা পরা সুঠাম দেহের অপরিচিত মুখ কেবিনে প্রবেশ করল।তাদের ডান পাশেই বারিশ নির্বিকার ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে রাণীর চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে আছে।আচমকাই এমন কথা শুনে ক্ষেপে গেল ফারিশ।ক্ষিপ্র স্বরে বলল,
– এসব কি বলছেন আপনারা? আমার মায়ের সাথে এভাবে কথা বলার অধিকার কে দিয়েছে আপনাদের?

চলবে..

#শ্রাবণ_ধারায় |২০|
#সাদিয়া_আক্তার_জ্যোতি

একঝাঁক পুলিশের পোশাক পরিহিত তাগড়া মানুষ হাসপাতালে প্রবেশ করেছে কথাটি সম্পূর্ণ হাসপাতালে ছড়াতে বেশি সময় লাগলো না।সবার মনে এক অদ্ভুত ভীতি কাজ করলো।পুলিশ?হাসপাতালে পুলিশ এসেছে কেন?না জানি কার কপাল পুড়লো।সবাই অতি আগ্রহের সহিত ভিড় জমালো ফারিশের কেবিনের সামনে।কেবিনের দরজা ভিতর থেকে দেওয়া তাই ভিতরে কি চলছে বাইরের উৎসুক জনতার তা অজ্ঞাত।সবাই কৌতুহলের দৃষ্টিতে দরজার কাঁচ দিয়ে ভিতরে কি হচ্ছে তা জানার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।
একজন মধ্যবয়স্ক পুলিশ এগিয়ে এলেন।তাকে দেখে বোঝা গেল সে সিনিয়র পুলিশ অফিসার। সে ফারিশের দিকে তাকিয়ে তার শান্ত কন্ঠে বললেন,
– মি.ফারিশ মৃধা আপনি উত্তেজিত হবেন না।আপনার শরীরের এখন বিশ্রাম প্রয়োজন।

ফারিশ আরো বেশি রেগে গেল।মস্তকে খুন চড়ে গেল তার।শরীর থেকে সাদা চাদর ছুঁড়ে ফেলল মাটিতে।রাণী মৃধা এখনো এঁটো হাতে পুলিশের দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে।সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে নীরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে থাকা বারিশকে পর্যবেক্ষণ করছে।মনে মনে আওড়ালো,”বারিশ বুঝলো কিভাবে পার্সেলটি আমি পাঠিয়েছি?”

সিনিয়র অফিসার তার মাথা নত করে নাক চুলকে ফারিশের উদ্দেশ্য বললেন,
– আপনি যেদিন আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন সেদিন আপনার কাছে একটি পার্সেল আসে।আর সে পার্সেলে এমনকিছু ছিল যা দেখলে আপনি আত্মহত্যা করতে পারেন জানার শর্তেও কেউ ইচ্ছাকৃত পার্সেলটি আপনার কাছে পাঠিয়েছে।আমি কি ঠিক বলছি?মিসেস রাণী মৃধা!

রাণীর শ্বাস কেঁপে উঠলো।সে চোখের মণি এদিকে ওদিকে ঘুরিয়ে ঢোক গিলল।ফারিশ তার রাগকে উগড়ে দিয়ে বলল,
– হ্যাঁ এটা সত্য কেউ ইচ্ছাকৃত পার্সেলটি আমার কাছে পাঠিয়েছে।কিন্তু সেটা মা নয় বুঝেছেন আপনারা?

– আচ্ছা? কিন্তু আমাদের স্বাক্ষী অনুযায়ী তো সব তথ্য আপনার মায়ের বিরুদ্ধে।

– কে আপনাদের স্বাক্ষী?

এতক্ষণে মুখ খুলল বারিশ। প্যান্টের পকেটে হাত গুঁজে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে এগিয়ে এলো ফারিশের সামনে।গম্ভীর গলায় বলল,
– আমি।

ফারিশ অবিশ্বাস্য সুরে উচ্চারণ করল,
– ভাই?

বারিশ রাণীর দিকে শীতল চোখে তাকালো।রাণী এঁটো হাতে তার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে।বারিশ শান্ত কন্ঠে বলল,
– হাতটা ধুয়ে নেন।

রাণী ভীমড়ি খেল।তড়িঘড়ি হাতে দিকে তাকিয়ে দেখলো হাতটা শুঁকিয়ে গিয়েছে।তাড়াতাড়ি পানিতে হাতটা ধুয়ে ফেলল।কন্ঠে করুণ আভা এনে বারিশের উদ্দেশ্যে বলল,
– বাবা দেখ তুই যা ভাবছিস তা একদমই সত্য নয়।আমি ওটা ফারিশের কাছে পাঠায়নি।ও ওটা তো চিনি পাঠিয়েছে।

বারিশ ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
– আচ্ছা? তো চিনি জানলো কিভাবে তোমার আর বাবার এমন কোনো ডায়েরি আছে যেটায় ফারিশ সম্পর্কে এতোকিছু লেখা?আমার জানামতে চাচারা অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার সময় সবকিছু নিয়ে গিয়েছে।

থত মত মুখে রাণী ভাবতে থাকলো এখন তার কি উত্তর দেওয়া উচিত। খানিক ভেবে সে বলল,
– ডায়েরিগুলো তো স্টোরুমে ছিল ও তো ওখান থেকেই নিয়েছে নাহলে ও জানলো কিভাবে ফারিশ আমার ছেলে না।মনে নেই সেদিন চিনি ও বাড়িতে দাঁড়িয়ে বলেছি যে ও এমন কিছু বলবে যাতে ফারিশের আর বেঁচে থাকতে ইচ্ছা হবে না।তার মানে ও আগে থেকেই জানতো নাহলে ও কেন এই কথা বলবে।

হুংকার দিয়ে উঠলো বারিশ। দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
– সেট আপ!চিনিকে আমি বলেছি।ডায়েরি সম্পর্কে ও কিছু জানে না।

বারিশের হুংকারে মৃদু কেঁপে উঠল উপস্থিত সকলে।রাণী আবারও চোখের মণি ঘুরিয়ে নিজের অনুভূতি লুকিয়ে রাখতে চেষ্টা করল। বারিশ একই আওয়াজে আবার বলল,
– শুধু মাত্র চিনিকে আমার থেকে দূরে সরানোর জন্য নিজের ছেলেকে খুন করতে চাইছিলে তুমি?সেই ছেলে যার জন্য তুমি কত কষ্ট করেছ জীবনে সেই ছেলেকে ইউজ করলে শেষ পর্যন্ত।আসলে মস্তিষ্কের চিকিৎসা আমার নয় তোমার প্রয়োজন।

বারিশের কথায় চোখ ভরে উঠল রাণীর।ফারিশ রাগে ফোঁস ফোঁস শ্বাস ছাড়ছে।বারিশের দিকে রক্ত চক্ষু নিয়ে চেয়ে আছে।সিনিয়র অফিসার পরিস্থিতি সামলাতে বললেন,
– এতো তর্ক বিতর্কের তো কোনো প্রয়োজন নেই মি.বারিশ মৃধা আমরা ডায়েরি এবং চিঠিগুলো তো ফরেনসিক টেস্ট করতে পাঠিয়েছি।ওটা চলে এলেই বোঝা যাবে শেষ ওটা কার কাছে ছিল আর কে ওটা ফারিশকে পাঠিয়েছে।তাই এতো হাইপার হবেননা।

দমে গেল বারিশ।তবে তার অগ্নিবর্ষণ দৃষ্টির কোনো পরিবর্তন হলো না।চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত চেপে দাঁড়িয়ে রইলো এক কোণায়।অফিসার রাণীকে বললেন,
– যেহেতু আমরা আপনার বিরুদ্ধে স্বাক্ষর ও প্রমাণ পেয়েছি তাই আপনাকে আমাদের সাথে থানায় যেতে হবে।

লাফিয়ে উঠল ফারিশ রাগান্বিত স্বরে বলল,
– এসব কি বলছেন আপনারা? আপনাদের কাছে কি এরেস্ট ওয়ারেন্টি আছে?আপনারা আমার মাকে এভাবে এরেস্ট করতে পারেন না।

মৃদু হাসে অফিসার।ঠোঁটে হাসি নিয়েই বলে,
– দেখুন এটা কোনো নাটক বা সিনেমা নয় যে আসামিকে এরেস্ট করার জন্য আমার ওয়ারেন্ট এর দরকার হবে।ওগুলো নাটক আর সিনেমাতেই হয়।বাস্তবে পুলিশ যখন যাকে চায়বে তৎক্ষনাৎ এরেস্ট করতে পারে,যদি সে সন্দেহভাজন হয়।এতটুকু ক্ষমতা পুলিশের আছে।আপনি এসব নিয়ে এতো মাথা ঘামিয়ে শরীর দূর্বল করবেন না।আপনি রেস্ট নিন।

কথা শেষ করে অফিসার চোখের ইশারায় একজন নারী পুলিশ অফিসারকে হ্যান্ড কাফ করানোর ইশারা করলে।বারিশ ঘাড় বাঁকিয়ে কপালে তর্জনি ছুঁইয়ে তার শুভ্র কপালে জমা বিন্দু বিন্দু ঘামগুলো কপালে লেপ্টে দিলো।বুক ফুলিয়ে শ্বাস টেনে বলল,
– আর তাছাড়া তাকে এই একটা কারণে নয় তাকে সুস্থ মানুষকে পাগল বানিয়ে মানসিক হাসপাতালে রেখে তার সম্পত্তি ভোগ করার অপরাধেও গ্রেফতার করা হয়েছে।অনেকগুলো চার্জ লেগেছে এতো সহজে বের হতে পারবে না।আর না আমি কোনোভাবে সাহায্য করবো।

– ভাই তুমি কিন্তু অনেক বেশি করে ফেলছ।

– বেশি করছি?কেন আমাকে মানসিক হাসপাতালে রাখা হয়নি?

– হ্যাঁ হয়েছিল কারণ তুমি মেন্টালই তখন সুস্থ ছিলে না।তাই তোমাকে সুস্থ করার জন্য হাসপাতালে রাখা হয়েছিল।

– সেট আপ!আমার থেকে তোরা নিশ্চয়ই বেশি জানিস না আমার মেন্টাল হেলথ্ এর ব্যাপারে।হ্যাঁ,চিনি চলে যাওয়ার পর আমি মেন্টালি ডিস্টার্ব ছিলাম তবে সেটা মানসিক হাসপাতালে যাওয়ার মতো এতো বেশি সিরিয়াস ছিল না।

রাণী অবিশাস্য দৃষ্টিতে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।সে বিশ্বাসই করতে পারছে না এভাবে সবকিছু তার বিরুদ্ধে চলে যাবে।হঠাৎ করে সবকিছু এভাবে খোলাসা হয়ে যাবে সে কল্পনাও করেনি।তার কাছে সবকিছু দুঃস্বপ্নের মতো লাগছে।হয়তো ঘুমের ঘোর কেঁটে গেলে আবার সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।নারী পুলিশ অফিসার এগিয়ে এসে তার হাতে হ্যান্ড কাফটি পরিয়ে দিল।হতবাক দৃষ্টিতে নিজের হাতে তাকিয়ে আছে রাণী।ফারিশ ক্ষেপে গেল।হাসপাতালের বেড ছেড়ে তেড়ে এলো মায়ের পাশে থাকা মহিলা পুলিশের দিকে।চেঁচিয়ে বলল,
– কি করছেন এটা খুলুন মায়ের হাত থেকে।

একজন জুনিয়র পুলিশ মহিলাটির সামনে ফারিশপর মুখোমুখি দাঁড়াল। ফারিশ সর্তক করে বলল,
– আপনি একজন অন ডিউটি পুলশ অফিসারের সাথে এভাবে কথা বলতে পারেন না।

বারিশ এগিয়ে এলো ফারিশের দিকে।ফারিশের দুকাঁধে হাত দিয়ে শান্ত কন্ঠে বলল,
– তোর অস্ট্রেলিয়ার টিকেট কেঁটেছি।তুই অস্ট্রেলিয়া যাবি।

অবাক হলো ফারিশ।কাঁধ থেকে বারিশের হাতটি ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে দিলো কপাল কুঁচকে বলল,
– মানেহ কি?আমি কোথাও যাবো না।মাকে ছেড়ে দিতে বলো ভাই।মা যদি আমাকে জানিয়েও থাকে তাতে আমার কোনো অভিযোগ করার নেই।

– মি.মৃধা আমরা এখন আসছি।

সিনিয়র অফিসার দরজা খুলে সবাইকে বের হতে ইশারা করল।রাণীকে নিয়ে মহিলা পুলিশ বেরিয়ে যেতে চায়লো।সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ালো ফারিশ। বারিশের উদ্দেশ্যে বলল,
-ভাই মাকে ছেড়ে দিতে বলো।

বারিশ কোনো কথা বললো না।বেরিয়ে এলো কেবিন থেকে। গাড়ি নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করলো।কিছুদূর যাওয়ার পর অফিসারকে ফোন করে জেনে নিলো রাণীকে নিয়ে তারা বেরিয়েছে কিনা।তারা বারিশকে জানালো তারা রাণীকে নিয়ে বেরিয়েছে।তবে ফারিশ অনেক ঝামেলা করেছে।অবশেষে ফারিশকে উপেক্ষা করে তারা রাণীকে নিয়ে বের হতে সক্ষম হয়েছে।বারিশ মুচকি হেসে গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দিলো।বলল,
– ধন্যবাদ, ইনস্পেকটর।কোনো প্রয়োজনে আমাকে জানাবেন।

– জ্বী অবশ্যই।

হঠাৎই রাস্তার এক কোণে বিশাল ফুলের মাড়কেট চোখে বাঁধল বারিশের।তার মুখের হাসি আরো বেশি চওড়া হলো।গাড়ি দোকানের পাশে থামাল সে।গাড়ি থেকে নেমে চকচক চোখে ফুলগুলোকে দেখতে থাকলো সে।পাশ থেকে শুভ্র রঙের এক ভদ্রমহিলা এসে তার মিষ্টি কন্ঠে বললেন,
– কিভাবে সাহায্য করতে পারি স্যার?

বারিশের দৃষ্টি আঁটকে গেল একগুচ্ছ কালোগোপের তোড়ার দিকে।বারিশ সে দিকে তাকিয়েই বলল,
– এটা দেন।

ভদ্রমহিলা বারিশের দৃষ্টি লক্ষ্য করে তোড়াটির দিকে তাকিয়ে বিগলিত হেসে বলল,
– এটা তুরস্ক থেকে আনা হয়েছে।আপনার পছন্দ খুবই সুন্দর স্যার।ম্যাম অনেক খুশি হবেন।

বারিশ তার দৃষ্টি সরিয়ে মহিলাটির দিকে তাকালো।স্মিথ হেসে মাথা নাড়াল।

চলবে…