#সংস্পর্শে_তুমি
#পর্ব_৮
#নাহিদা_ইসলাম
অহনা কাপড় মেলে রুমে এসে ওয়াশরুমে যাবে এমনি দেখে ভেতরে শুভ্র। ভেজা কাপড় নিয়ে কতক্ষণ দাড়িয়ে থাকা যায়। কাপড় ধুয়ে গিয়ে অহনাও অনেকটা ভিজে গেছে। কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে দরজায় ঠকঠক করতে ই শুভ্র দরজা খুলে টান দিয়ে অহনাকে ভেতরে নিয়ে যায়।
–আমাকে ভেতরে নিয়ে আসলেন কেনো?
শুভ্র শ্যাম্পুর বেতল হাতে নিয়ে মাথায় শ্যাম্পু দিয়ে অহনার দিকে তাকিয়ে বললো,
–তোমাকে দেখবো বলে। বাহিরে বার বার দরজায় ঠকঠক করছিলে কেনো? আমার গোসল শেষ হলে তো আমি বাহিরে ই বের হবো। তোমার তো আর তর সইছে না এখন ভেতরে থেকে দেখো আমি কি করছি।
অহনা রুমের দরজা খুলে বের হতে গেলে শুভ্র হাতে ধরে ফেলে। রাগে অহনা শুভ্রকে ধাক্কা দিতে ই টাল সামলাতে না পেরে শুভ্র নিচে পড়ে যায় কিন্তু অহনার হাত ছাড়ে না অহনাও শুভ্রের উপরে পড়ে। ঝর্ণা ছাড়া ছিলো অহনা এখন পুরোদমে ভিজে গেছে।
–আপনার জন্য এসব হলো।
–তুমি আমাকে ধাক্কা দিলে কেনো। এই জন্য ই তো আমি পড়ে গেলাম।
–আপনি এতো আহ্লাদ করছেন কেন। তুই থেকে হঠাৎ তুমি? এসব আহ্লাদ করা ছাড়ুন আমার তুই ডাক শুনতে ই ভালো লাগে।
–তোমার যা ভালো লাগবে তা তো আমি করবো না। প্লিজ আমার উপর থেকে উঠো নয়তো আমার হাড় গুড়ো হয়ে যাবে।
অহনা উঠতে গিয়ে আবার পা পিছলে পড়ে যায়। শুভ্র জোরে চিৎকার দিয়ে বলে আমার পাঁজরের হাড় সবগুলো ভেঙ্গে গেছে।
চিৎকার দেওয়া সাথে সাথে শুভ্র মা রুমে ডুকে শুভ্র বলে ডাক দিতে ই শুভ্র ডাকা সারা দিতে গেলে অহনা মুখ চেপে ধরে।
–আপনি পাগল, উনি আমাদের এভাবে দেখলে কি ভাববে।
রুমে শুভ্রকে খুজে না পেয়ে ওয়াশরুমের দরজা খোলা থাকায় শায়লা দরজার কাছে গিয়ে উকি দিতে ই শুভ্রকে আর অহনাকে দেখে উনি রুম থেকে বের হয়ে যান। শায়লা মৌয়ের সাথে কথা বলার জন্য মৌয়ের রুমে যাচ্ছিলো শুভ্রের রুমের সামনে দিয়ে। শুভ্রের চিৎকার শুনে দেখতে গিয়েছিলো কোনো সমস্যা হয়েছে কি না।
অহনা কপালে হাত দিয়ে বলে,
–এটা শুধু বাকি ছিলো আর সব অঘটন তো আমার সাথে হয়ে ই গেছে।
অহনার রিয়াকশন দেখে শুভ্র হাসছে।
–আপনি আবার হাসছেন লজ্জা সরম সব গিলে ফেলেছেন।
–তুমি এতো ভয় পাচ্ছো কেনো। আমরা হাসবেন্ড ওয়াইফ। আর দরজাটা তুমি ই খোলে রেখেছিলে।
অহনা কোনো কথা না বলে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে বাহির থেকে দরজা আটকে দাড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর শুভ্র গোসল শেষ করে বের হতে যাবে তখন দেখে বাহির থেকে দরজা আটকানো। বেশকিছুক্ষন ডাকাডাকির পর অহনা দরজা খুললো। শুভ্রকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে অহনা ওয়ায়রুমে ডুকে দরজা বন্ধ করে দিলো।
_________________________
গাড়িতে বসে তিয়াস ভাবছি, এতোবছর পর বিদেশে থেকে পড়াশোনা করে দেশে ফেরার পর ও সব কাজে শুভ্রের সাথে তার তুলনা করবে সবাই। তার জীবনের সব চেয়ে অপছন্দের শুভ্রের সাথে তার তুলনা। শুভ্র বরাবরই তার থেকে ভালো পড়াশোনা বা বিজনেস সব ক্ষেত্রে। সবাই এটা বলে কিন্তু তিয়াস তা বিশ্বাস করে না। তাই নিজেকে শুভ্র থেকে ভালো প্রমাণ করার জন্য যা যা করা দরকার সব সে এবার করবে।
রাত এগারোটা, তিয়াস চুপিসারে বাসায় ঢুকে শায়লা রহমানকে সারপ্রাইজ দেয়। ছেলেকে দেখে শায়লা রহমান খুশিতে আত্মহারা। ছেলে দেশে ফিরেছে তার নিজের ছেলে। কতদিন ছেলেকে দেখেনি। তিয়াস এসেছে শুনে শুভ্র অহনা দুজন ই নিচে নেমেছে। অহনাকে দেখে তিয়াস এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। অহনাকে সে ভালোভাবে চেনে বিদেশে যাওয়ার আগে যখন শুভ্র অবন্তী সাথে দেখা করতে যেতে তখন কয়েকবার তিয়াস ও তার সাথে গিয়েছিলো সেখানে ই অহনার সাথে কথা হয়েছিলো।
শুভ্র তিয়াসের সাথে কথা বলছে। শুভ্রের বিয়ের দুদিন আগে তিয়াসের সাথে কথা হয়েছিলো এরপর এতদিনের ঘটনা তিয়াস জানে না। কারণ সে ফোন অফ করে রেখেছিলো। তিয়াস এমন ই বাসায় একদিন কথা বললে বেশ কয়েকদিন আর তার কোনো খোঁজ থাকতো না।
রাসু বেগম পাঁচ বার কল দিয়েছে অহনাকে। একবার ও রিসিভ করেনি। তার মেজাজ এমনি খারাপ তার উপর কল না ধরায় ইচ্ছে করছে তার, অহনাকে কষিয়ে থাপ্পড় মারতে। ছয় বার কল দেয়ার পর অহনা কল রিসিভ করলো,
–হ্যালো অহনা তোর কি মায়া দয়া কিছু নাই। কিভাবে পড়লি আমাকে এমন ভাবে ফেলে রেখে চলে যেতে
–কেমন ভাবে ফেলে রেখে গেলাম চাচি?
–শুনো মেয়ের কথা, তোরা আসায় কত টাকা খরচ হয়েছে জানিস। ছয় হাজার চারশো তেতাল্লিশ টাকা।
কথাটা শুনে অহনা অবাক হলো না। শুধু এটুকু বললো,
–চাচি তোমারও তো দুইটা মেয়ে আছে। তাদেরকে বিয়ে দেওয়ার পর তোমার বাসায় গেলে কত টাকা হয়েছে তা হিসাব করে দিতে বলবে।
—আমি তো তোর মা না তাই আমার সব কথা তোর খারাপ মনে হয়।
__ থাক চাচি এসব নেকামু করার দরকার নাই আমি একসপ্তাহে মধ্যে তোমার টাকা দিয়ে দিবো।
বলে ই অহনা কল কেটে দিলো। কান্না পাচ্ছে খুব এখন এই টাকা দিবে কি করে।
____________________________
সকাল দশটা চল্লিশ,
শুভ্র লামিয়াকপ কয়েকটা ডিজাইন দিলো,নরমাল খাতায় পেন্সিল দিয়ে আকাঁ কিন্তু ডিজাইন গুলো সুন্দর তা মানতে হবে বেশ ইউনিক। গ্রাউন আর শাড়ির ডিজাইন। লামিয়া শুভ্রের দিকে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছে। শুভ্র ডেস্কে রাখা ফাইলগুলো দেখছে।
–আজকে কি আমরা লাঞ্চ একসাথে করতে পারি?
শুভ্র লামিয়ার কথায় তার দিকে তাকিয়ে বললো,
—না। বাসায় গিয়ে লাঞ্চ করবো।
–আগে তো অফিসে ই লাঞ্চ করতে শুভ্র কদিন যাবৎ কি হলো বাসায় চলে যাচ্ছো?
শুভ্র হেসে বললো,
— চলো আজকে আমার সাথে বাসায় লাঞ্চ করে আসবে।
লামিয়া শুনে বেশ খুশি হলো সে তো শুভ্রের সাথে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। গাড়ি দিয়ে যতক্ষণ যাবে শুভ্রকে দেখতে পারবে বাসায় গেলে ও তার সাথে থাকতে পারবে।
অহনা সকাল থেকে একা একা রান্না করছে। সব কেটে ধুয়ে একা রান্না করা চারটে খানি কথা না। অহনা আজকে দুপুরের জন্য রান্না করছে, চিংড়ির মালাইকারি, সর্ষে ইলিশ, ডিমের কোরমা, গরুর মাংস,ভেড়ার মাংস আর ডাল। রান্না শেষ করে সব খাবার টেবিলে নিয়ে রাখতে ই কলিং বেলের আওয়াজে অহনা দরজা খুলে দিলো। শুভ্রে সাথে লামিয়াকে দেখে হাসি মুখে কথা বললো। আর কোনে কাজ না থাকায় অহনা রুম আসলো। রুমে ডুকে অহনা সোজা গোসল করতে চলে গেলো। গোসল শেষ করে বের হতে ই শুভ্র ও লামিয়াকে রুমে দেখলো। অহনা ওয়াশরুম থেকে বের হতে ই শুভ্র টান দিয়ে অহনাকে নিজের সামনে নিয়ে আসে তারপর তাওয়াল নিয়ে অহনার চুলগুলো মুছে দিচ্ছে আর লামিয়াকে বললো” কি যেনো বলছিলে এখন বলো”
চলবে,
[ভুলক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ]