সংস্পর্শে তুমি পর্ব-০৯

0
241

#সংস্পর্শে_তুমি
#পর্ব_৯
#নাহিদা_ইসলাম

রুমে ডুকে অহনা সোজা গোসল করতে চলে গেলো। গোসল শেষ করে বের হতে ই শুভ্র ও লামিয়াকে রুমে দেখলো। অহনা ওয়াশরুম থেকে বের হতে ই শুভ্র টান দিয়ে অহনাকে নিজের সামনে নিয়ে আসে তারপর তাওয়াল নিয়ে অহনার চুলগুলো মুছে দিচ্ছে আর লামিয়াকে বললো” কি যেনো বলছিলে এখন বলো”

— অহনা কেয়ারিং কিনা জিজ্ঞেস করছো, অহনা অনেক বেশি কেয়ারিং সে আমার সব সময় খেয়াল রাখে। আমি কখন কি খাবো কি পড়বো সব খেয়াল রাখে। সে সব কাজ সময় মতো করে। আমার আফসোস হয় আমি অহনার মতো কেয়ারিং হতে পারছি না বলে।

লামিয়ার মুখের হাসিটা নিমিষেই শেষ হয়ে গেলে। সে এসব সহ্য করতে পারছে না। শুভ্রের বউয়ের প্রতি এতো আদর দেখে সহ্য হচ্ছে না। লামিয়া কোনো রকম রুম থেকে বের হয়ে শায়লা রহমানের কাছে গেলো। রেগে জিজ্ঞেস করলো,
–পঞ্চাশ লাখ নিয়ে তো বসে আছেন কাজের কাজ কিছু ই করতে পারছেন না।
শায়লার আবার কারো দূরব্যবহার পছন্দ না। লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,

–থাপ্পড় দিয়ে দাঁত সবগুলো ফেলে দিবো। টাকা দিয়েছিস বলে কি আমাকে কিনে নিযেছিস। আমি ছাড়া দ্বিতীয় কোন ব্যাক্তি আছে যে তোর কাছে শুভ্রকে এনে দিবে। বললে টাকা এখন দিয়ে দিবো।

শায়লা আস্তে আস্তে আলমারি দিকে এগিয়ে যাচ্ছে টাকা বের করে দেওয়ার জন্য আর মনে মনে ভাবছে লামিয়ে এখনও পিছন থেকে ডাকছে না কেনো।

লামিয়া ভাবলো সত্যি ই তো শায়লা ছাড়া তো আর কেউ নেই যে অহনাকে এই বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারবে। শুভ্রকে তার করে দিবে। মুখে হাসি টেনে শায়লার হাত ধরে বললো,

–আরে মামি রাগ করছেন কেনো? আসলে এই অহনার জন্য ই আমার মাথাটা গরম হয়ে আছে তার একটু রাগ দেখিয়ে ফেলেছি আপনি ছাড়া আমার আর কে আছে বলেন।
শায়লা মনে মনে স্বস্তি পেলো।
–এমন ব্যবহার আমার সাথে আর কখনো করবি না। আর যদি বেশি তাড়া থাকে তো তোর টাকা তুই নিয়ে যা।
–রাগ করে না মামি প্লিজ।

অহনা আয়নার সামনে বসে আছে। শুভ্র বেডের উপর বসে দেখছে অহনা কি করে। অহনা ব্যাপারটা খেয়লা করে জিজ্ঞেস করলো,
–আপনার কি সব কাজ শেষ?
–না
–তাহলে কাজ করেন। আমার দিকে তাকিয়ে আছেন কেনো।
–আমার কাজ আমি করছি তুমি তোমার কাজ করো।
–আমাকে দেখা এটা আপনার কাজ কবে থেকে হলো।

–তুমি ও তো আমাকে দেখো ভেবেছো কি আমি খেয়াল করেনি। গতরাতে ও তুমি বেশ কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে ছিলে। আমি শোয়া থেকে উঠে তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি,তুমি আমাকে কেনো দেখছো?
অহনা আয়নার সামনে থেকে সরে শুভ্রের পাশে গিয়ে বসে জিজ্ঞেস করলো,
–আপনি তো তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। দেখলেন কি করে?
–তার মানে শিকার করছো তুমি আমাকে দেখেছো?
–আমি মশা দেখছিলাম আপনাকে না।
শুভ্র হেসে বললো,
–আমি ও আয়না দেখছিলাম তোমাকে না।
–মিথ্যে বলে লাভটা কি হচ্ছে?
–তোমার ও আমাকে না দেখে মশা দেখে যে লাভ হয়েছে। আমি কিন্তু বলিনি তুমি মিথ্যা বলেছো।
— ভালোই তো পিঞ্চ মেরে কথা বলতে পারেন।
শুভ্র অহনার দিকে তাকিয়ে বললো
— আরেকটা জিনিস ভালো পারি দেখবে?
অহনা মাথা নেড়ে সম্মতি জানালে শুভ্র বলে চোখ বন্ধ করো। অহনা চোখ বন্ধ করতে ই শুভ্র অহনার ঠোঁটে আলতো করে চুমু খায়। অহনা সাথে সাথে চোখ খুলে বলে,
–এটা জন্য ই এতোক্ষন এতোকিছু বলেছেন। ভালো তো বাসেন না তাহলে এসবের মানে কি। কি মনে করেন নিজেকে। যা ইচ্ছে আমার সাথে করতে পারেন তাই না। ইচ্ছে হলো কাছে টেনে নিলেন আবার ইচ্ছে হলো চড় থাপ্পড় দিয়ে চলে গেলেন। তাই না।

অহনা কথাগুলো বলে রুম থেকে বের হয়ে চলে যায়। নিচে যেতে ই দেখলো তার দুই বোন এসেছে। তমা, জিনিয়া। অহনা খুশি হয়ে দুই বোনকে জড়িয়ে ধরেছে। তাদের সোফায় বসতে বলে অহনা তাদের জন্য শরবত বানাতে গেছে।
তিয়াস নিচে নামতে ই তমা,জিনিয়ার দৃষ্টি তিয়াসের দিকে পড়লো কিন্তু তিয়াসের দৃষ্টি শুধু তমার দিকে পড়লো। তমা সুন্দরী, লম্বা, গায়ের রং ফর্সা, চিকনা ও না মোটা ও না। মিডিয়াম। জিনিয়ার লম্বা ঠিকঠাক গায়ের রং শ্যামবর্ণ, চিকন।
তিয়াস নিচে নেমে দুজনের সাথে ই কথা বলেছে কিন্তু তমাকে তার বেশ পছন্দ হয়েছে। অহনা তাদেরকে শরবত দিতে ই শুভ্র ও নিচে নামলো। তমা জিনিয়ার সাথে কথা বললো। তার খাওয়া শেষ হওয়ার পর অহনা তাদের নিয়ে নিজের রুমে গেলো।
–তোরা আসবি আমাকে একবার কল দিয়ে বলতে পারতি।
তমা বললো,
–আমরা নিজেরা ই তো জানি না আমরা যে আসবো। মা বললো তুই নাকি টাকা দিবি এইনজন্য আসতে বললো।
অহনার ইচ্ছে করছিলো নিজের মাথায় নিজে মারুক। এই মহিলা এতো টাকার পাগল। নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,
–আমি তো চাচিকে বলেছিলাম আমি এই সপ্তাহের মধ্যে নিয়ে যাবো। আচ্ছা তোরা এসেছিস কয়দিন থেকে যা। আমার ভালো লাগবে।
অহনার কথা শুনে দুজন ই রাজি। তারা অহনার সাথে থাকতে রাজি। জিনিয়া বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে কারণ তার তিয়াসকে ভালো লেগেছে।
তাদের কথা বলা শেষ হতে ই তিয়াস রুমে নক করে অহনার রুমে ঢুকেছে।
–ভাবি আপনার বোনদেরকে এই বাড়িটা ঘুরে দেখাই।
অহনা হেসে বললো,
–ওরা থাকবে এতো ব্যস্ত হওয়ার দরকার নাই ওরা ফ্রেশ হয়ে নিক তারপর ঘুরে দেখাবে।

অহনা তমা জিনিয়াকে গেস্ট রুমে নিয়ে গেলো। তাদের ফ্রেশ হতে বলে অহনা নিচে কিচেনে চলে আসে।

তিয়াস নিচে সোফায় বসে আছে আর গেস্ট রুমের দিকে খেয়াল রাখছে কখন তমা রুম থেকে বের হবে।

অহনা রান্না ঘরে আসতে ই শুভ্র ও পেছনে এসে দাড়িয়ে আছে। অহনা শুভ্র পেছনে আছে বুঝতে পেরে বললো,
–কি চাই?
–তোমাকে না চা।
অহনা রেগে পেছনে তাকিয়ে বলে,
–আমি কখন প্রশ্ন করেছি যে আপনার আমাকে চাই নাকি?
— করোনি বলে ই তো তোমাকে মনে করিয়ে দিলাম। আবার যখন জিজ্ঞেস করবে কোনো কিছু প্রয়োজন নাকি তখন এভাবে বলবে” আমাকে চাই নাকি অন্য কিছু”
অহনা রেগে পেছনে তাকাতে ই শুভ্র চলে যায়। শুভ্র হাসছে তার কেনো জানি অহনাকে রাগাতে বেশ ভালো লাগে। রাগলে মনে হয় অহনাকে বেশি সুন্দর লাগে।

তমা জিনিয়া রুম থেকে বের হতে ই তিয়াস তাদের সামনে হাজির। তমাকে উদ্দেশ্য করে বলে,
–চলেন আমার সাথে বাসাটা ঘুরে দেখি।
জিনিয়া হেসে বললো,
–চলেন।
তিয়াস তমাকে তার সম্পর্কে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করছে। তমা ও উত্তর দিচ্ছে। জিনিয়া তাদের পেছনে হাটছে তাদের কথা শুনছে আর তিয়াসকে দেখছে।
___________________________
শুভ্রের গায়ে প্রচন্ড জ্বর অহনা পাশে বসে মাথায় জলপট্টি দিচ্ছে। জ্বর কিছুটা কমার পর অহনার দুহাত শক্ত করে ধরে আছে শুভ। অহনার কোলে মাথা রেখে বললো, আমাকে ছেড়ে প্লিজ যেওনা……
চলবে,
[ভুলক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ]