#সংস্পর্শে_তুমি
#পর্ব_১০
#নাহিদা_ইসলাম
শুভ্রের গায়ে প্রচন্ড জ্বর অহনা পাশে বসে মাথায় জলপট্টি দিচ্ছে। জ্বর কিছুটা কমার পর অহনার দুহাত শক্ত করে ধরে আছে শুভ। অহনার কোলে মাথা রেখে বললো, আমাকে ছেড়ে প্লিজ যেওনা। অহনা বার বার হাত ছাড়ুনোর চেষ্ট করছে কিন্তু শুভ্র ছাড়ছে না।শুভ্র ঘুমাচ্ছে এটা বুঝতে পেরে অহনা তার কোল থেকে মাথা সরিয়ে বালিশে রেখে পাশে শুয়ে পড়লো।
সকালে ঘুম ভাঙ্গতে ই দেখে শুভ্র আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে।
–ছাড়ুন, এভাবে জাপটে ধরে আছেন কেনো।
শুভ্র কোনো উত্তর দেয়নি। অহনা ভেবেছে শুভ ঘুমিয়ে আছে তাই নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে ই শুভ্র আরো শক্ত করে ধরে।
–এমন ভাব ধরে আছেন যে গভীর ঘুমে। ছাড়ুন আমাকে নয়তো
—নয়তো কি করবে?
চোখ বন্ধ করে ই শুভ্র অহনাকে জিজ্ঞেস করলো।
–আপনি চাচ্ছে কি আমাকে বলবেন?
শুভ্র এবার চোখ খোলে উত্তর দিলো।
–আমি ভেবেছিলাম তুমি আমার কোলবালিশ ভুলবশত ধরে ফেলেছি। অন্যদিন তো তোমার জায়গায় কোলবালিশ থাকে।
–এসব বানানো গল্প বাদ দিয়ে আমাকে ছাড়ুন।
শুভ্র অহনাকে ছেড়ে ধাক্কা দিতে ই অহনা বেড থেকে নিচে পড়ে যায়। নিচে পড়ে অহনা ব্যথায় কান্না করে দেয়। শুভ্র দ্রুত অহনাকে উপরে তুলে
–সরি আমি বুঝতে পারিনি তুমি পড়ে যাবে।
–আপনি ইচ্ছে করে ই আমাকে ফেলে দিয়েছেন।
–তোমার আমার প্রতি ধারণা ই এমন হয়ে গেছে আমি কিছু না করলে ও আমাকে ই তুমি অপরাধী ভাববে।
— আমার ভাবা টা কি ভুল? আপনি তো বিয়ের পর থেকে আমার সাথে যেমন ব্যবহার করে আসছেন আমার ভাবনা টা এমন হওয়া স্বাভাবিক।
__________________________
অহনা দুপুরের সব কাজ শেষ করে রুমে ডুকতে ই দেখে বেডের উপর বড় একটা বক্স রাখা এবং উপরে একটা চিরকুট । কৌতুহল বসত অহনা চিরকুট টা নিয়ে খোলে। বড় বড় অক্ষরে লিখা আমার সুন্দর বউ অহনার জন্য। অহনা বক্সটা খুলতে ই দেখে একটা শাড়ি রাখা। হোয়াইট পিংক কম্বিনেশন শাড়ি। সাথে চুড়ি সহ সাথে পড়ার জন্য জুয়েলারি। নিচে ছোট আরেকটা বক্সে মেকআপ আইটেম রাখা।
হঠাৎ অহনাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরতে ই অহনা বললো,
— এসব গিফট কেনো?
–বউকে গিফট দিতে কারণ লাগে নাকি?
অহনা হেসে নিজেকে ছাড়িয়ে কিছু দূরে চলে যায়।
–আজকে সন্ধ্যায় এই শাড়িটা পড়ে রেডি থাকবে। আমি তিয়াস তমা, জিনিয়া তুমি আমরা সবাই মিলে ঘুরতে যাবো এবং রাতে ডিনার করে ফিরবো।
তমা আর তিয়াস বাগানের একটা বেঞ্চে বসে কথা বলছে। দূর থেকে জিনিয়া দাড়িয়ে দেখছে, আস্তেধীরে বেঞ্চের পাশে এসে দাড়ায়। জিনিয়াকে দেখে তারা দুজন ই অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছে।
–আমাকে না জানিয়ে এখানে কি করছিস তমা। তুই তো আমাকে ছেড়ে একা আসিস না।
তিয়াস জিনিয়াকে বসতে বলে বললো,
–আমি নিয়ে এসেছি তুমি মোবাইল দেখছিলে তাই ডাকেনি তমা।
–কিরে কথা বলতে ভুলে গেছিস তোর উত্তর ও অন্যজন দিতে হচ্ছে।
তমা নিরবতা ভেঙ্গে বললো,
–মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত ছিলি তাই আর ডাকিনি।
তমা কথাটা বলে ই বসা থেকে উঠে জিনিয়াকে নিয়ে বাগানে হাঁটছে। তিয়াস পেছন পেছন হাটছে।
_________________________
শায়লা রহমানের ডাকে সেই ঘন্টাখানেক আগে অহনা উনার রুমে ডুকেছে এখন ও আসছে না। শুভ্র রুমেবেশ কিছুক্ষন পায়চারি করে এখন মায়ের রুমের দিকে যাচ্ছে। ঘুরতে যাওয়ার কথা কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে গেলে ও অহনা এখনও রুমে ডুকছে না।
অহনা পা টিপে ক্লান্ত সেই কখন থেকে শুরু করেছে শায়লার নাকি পা ব্যথা। সে শুয়ে শুয়ে ফোনে ভিডিও দেখছে। শুভ্র বলেছিলো সন্ধ্যায় বের হবে তাই অহনাকে ব্যস্ত রাখছে যেনো না যেতে পারে।
শুভ্র রুমে ডুকতে ই শায়লা শুয়া থেকে উঠে বসে। শুভ্র কিছু বলার আগে ই শায়লা বলে উঠলো,
–বাবা আমার পা টা অনেক ব্যথা করতেছিলো তাই অহনাকে বললাম
মাকে থামিয়ে দিয়ে শুভ্র গম্ভীর হয়ে বললো,
–অহনা একটু আসো তো
শুভ্রের কথা শুনে বুঝা যাচ্ছে রেগে আছে হয়তো তাই শায়লা আর কিছু বললো না। অহনা দরজার বাহিরে আসতে ই শুভ্র হাতে টান দিয়ে অহনাকে নিজের কাছে নিয়ে আসে। সামনে দাড় করিয়ে কোলে তুলে নেয়।
–আমার পা আছে আমি যেতে পারি।
–তো কি করবো?
–নামিয়ে দেন কেউ দেখবে।
–নামানোর জন্যে কোলে নিছি।
–নামিয়ে দেন নয়তো চিৎকার করবো।
শুভ্র হেসে বললো,
–জোরে চিৎকার দিয়ো সবাই যেনো শুনতে পায়, বাহিরে থাকা ড্রাইভার চাচার কান পর্যন্ত যেনো পৌঁছে।
অহনা আস্তে করে বললো,
–বদের হাড্ডি।
–কি বললে জোরে বলো নয়তো ফেলে দিবো।
— জোরে বললে ও ফেলে ই দিবেন।
–তোমার ভাগ্য ভালো রুমে চলে এসেছি।
শুভ্র অহনাকে বেডের উপর শুইয়ে দিয়ে তার উপর শুয়ে পড়লো।
–হাড়গোড় ভেঙে গেছে?
–এটা কি আমার উপর শুয়ে বলতে হবে। দূরে গিয়ে বললে শুনবো না?
শুভ্র অহনার মুখে কাছে নিজের মুখ নিয়ে নাকে নাক ঘষে বললো,
–যদি না শুনতে পাও তাই বললাম। প্রয়োজন পড়লে আরো কাছে গিয়ে বলবো।
অহনা চোখ বন্ধ করে আছে, শুভ্র অহনার দিকে তাকিয়ে হাসছে।
–চোখ খোল নয়তো তুমি যা ভাবছো তাই করবো।
অহনা সাথে সাথে চোখ খুলে বললো,
–আমি কিছু ভাবছি না উঠুন আমি না ঘুরতে নিয়ে যাবেন আমাকে রেডি হতে হবে।
শুভ্র অহনার নিচের ঠোঁটে আস্তে করে কামড় দিয় বললো,
–যাও দ্রুত রেডি হও।
অহনা বড় করে নিশ্বাস নিয়ে বেডে কিছুক্ষন শুয়ে আছে। শুভ্র ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে বললো,
–শুয়ে আছো কেন আবার আসবো।
–বদ লোক
–বদ লোকের বউ।
তিয়াস সবার আগে রেডি হয়ে নিচে বসে আছে। শায়লা ছেলেকে দেখে বললো,
–তিয়াস তুই আসছিস কিসের জন্য মেয়েদের পিছনে ঘুরার জন্য। তুই অহনার বোনদের পিছনে ছাড়ছিস না। কাকে মনে ধরেছে একটাকে নাকি দুইটাকে ই।
–মা তুমি এসব আবার কখন খেয়াল করলে।
–যখন তোর খেয়াল মেয়ে থাকে তখনই।
–শোন এক ফকিন্নি মেয়ে ঘরে তুলেছি তুই কিন্তু এইভুল করবি না। তাহলে তোর অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে।
–মা মন কি ধনী গরিব বুঝে।
শায়লা পা থেকে জুতা খুলে তিয়াসের দিকে মারতে যাবে তখন ই তমা জিনিয়া নিচের দিকে নামছে। তাদের দেখে জুতা আবার পড়ে তিয়াসের পাশে গিয়ে বসে বললো,
–তোকে এখন জুতা দিয়ে দিতাম বেঁচে গেলে। আমি এখন বসে দেখবে তুই কি করিস।
তিয়াস নিচের দিকে তাকিয়ে বসে আছে, খুব করে ইচ্ছে করছে তমাকে একটু দেখুক কিন্তু শায়লা এক দৃষ্টিতে ছেলের দিকে তাকিয়ে আছে। তমা বার বার তিয়াসের দিকে তাকাচ্ছে। কিন্তু তিয়াস মাথা নিচু করে আছে।
হঠাৎ মাথা উচু করে তমার দিকে তাকিয়ে বললো,
–ভাবি এখনও রেডি হয়নি।
জিনিয়া উত্তর দিলো,
–রেডি হলে তো নিচে ই আসতো।
–তোমরা দুজন যাও তো ভাবিকে নিয়ে এসো আর কতক্ষণ বসে থাকবো।
শায়লা ছেলে দিকে তাকিয়ে বললো,
–কত বদ বুদ্ধি মাথায়, ঠিকই আমাকে ফাঁকি দিয়ে তাকিয়েছিস। তোর বয়স পার করে এসেছি বুঝি সব।
–মা তুমি ও এসব করতে?
ছেলের এমন প্রশ্নে শায়লা কিছু না বলে উঠে চলে যায়।
শুভ্র অহনাকে তার সামনে দাড় করিয়ে রেখেছে। অহনাকে দেখছে সে। হঠাৎ বলে উঠলো,
–তোমার ঠোঁট থেকে চকলেটের স্মেইল আসছে কেনো? চকলেট আমার বেশ পছন্দ বলে ই অহনার আরো কাছে চলে আসে ……..
চলবে,
[ভুলক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ]