সংস্পর্শে তুমি পর্ব-১১

0
212

#সংস্পর্শে_তুমি
#পর্ব_১১
#নাহিদা_ইসলাম

শুভ্র অহনাকে তার সামনে দাড় করিয়ে রেখেছে। অহনাকে দেখছে সে। হঠাৎ বলে উঠলো,
–তোমার ঠোঁট থেকে চকলেটের স্মেইল আসছে কেনো? চকলেট আমার বেশ পছন্দ বলে ই অহনার আরো কাছে চলে আসে। শুভ্র অহনার কোমড় দুইহাতে জড়িয়ে ধরে। অহনা মাথা পেছন নিতে ই শুভ্র অহনার দিকে ঝুঁকে।
–ভাইয়া
শুভ্র দরজার দিকে তাকাতে ই দেখলো তমা জিনিয়া।
শুভ্র সোজা হয়ে অহনাকে সামনে রেখে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বললো,
–আসছি আমরা একটু ওয়েট করো।
তমা জিনিয়া দ্রুত নিচে চলে গেলো। অহনা শুভ্রের হাতে জোরে চিমটি কাটে। ব্যথা পেয়ে হাত সরিয়ে ফেলতে ই অহনা নিজেকে ছাড়ুয়ে শুভ্রের বুকে মধ্যে কয়েকটা থাপ্পড় দিয়ে বললো,
–আমার মান সম্মান গিলে ফেলবেন নাকি। ওদের সামনে এসব কি করেছেন।
–সমস্যা কি আমার একটা মাত্র বউ। তার সাথে একটু রোমান্স করছি ওরা এসে ডিস্টার্ব করছে কি করবো।
অহনা শুভ্রকে আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে দ্রুত নিচে চলে যায়। নিচে যেতে ই দেখে তমা জিনিয়া ও তিয়াস বসে আছে।
অহনা, তমা জিনিয়াকে নিয়ে গাড়ির পেছনে সিটে গিয়ে বসে পড়ে। তিয়াস সামনে বসে। শুভ্র সবার পরে এসে
গাড়িতে বসে পিছনে অহনার দিকে তাকিয়ে বলে,
–অহনা আসো আমার কোলে বসো তোমাকে নিয়ে ড্রাইভ করি।
–ওদের সামনে এসব বলতে আপনার লজ্জা করে না।
–আমার নিজরে বিয়ে করা বউকে বলেছি লজ্জা কেনো করবে।
–বেশি শখ হলে তিয়াসকে কোলে বসিয়ে ড্রাইভ করুন।
—তিয়াস কি আমার বউ। তোমার ফিলিংস দিবে?
অহনা রেগে গিয়ে বললো,
–আর একটা শব্দ উচ্চারণ করলে আমি গাড়ি থেকে নেমে যাবো।
তমা জিনিয়া হাসছে। তাদের হাসি দেখে অহনার বেশ রাগ হচ্ছে। রাগ হচ্ছে শুভ্রে উপর এমন লাগামহীন কথার জন্য।

শায়লা রহমান হামিদা বেগমের সাথে বসে আছে।
–শুভ্র চেঞ্জ হয়ে গেছে অথচ ভাবি আপনি কিছু ই করতে পারছেন না।
শায়লা পায়ের উপর পা তুলে বলে
–তাহলে হামিদা তুমি করো। আমি করতে পারবো না।
–আরে ভাবি আপনি রাগ করছেন কেনো। আজ থেকে আমি আপনাকে সাহায্য করবো।
শায়লা হেসে হামিদার দিকে তাকালো,
— আচ্ছা এতো তাড়া কিসের হামিদা।
–ভাবি আমার মেয়ের শান্তি ই আমার শান্তি।

ডিনার শেষ করে শুভ্র অহনার হাত ধরে বসে আছে। তমা তিয়াস জিনিয়া অন্য টেবিলে বসেছে।

শুভ অহনার হাত ধরে বললো,
–আজকে তোমাকে কিছু কথা বলার জন্য এখানে নিয়ে এসেছি। মন দিয়ে শোনো আমার মা ছোটবেলায় মারা গিয়েছে। ছোট বেলা থেকে আমি মায়ের আদর পাইনি বললে ই চলে। তবে বাবা আমাকে খুব ভালোবাসতো।
আমার আর অবন্তী সম্পর্ক যখন হয় তখন আমি ইচ্ছে করে অবন্তীর সাথে সম্পর্কে জড়াইনি। অবন্তী আমাকে তার ভালোবাসার কথা প্রথম জানিয়েছিলো। আমি ও আগ্রহ দেখেছিলাম অবন্তীর আমার প্রতি কেয়ার দেখে। আমাকে ঐরকম ভাবে কেউ কেয়ার করতো না।
অহনা শুভ্রের হাত ছাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে শুভ্র অহনার হাত শক্ত করে ধরে বললো,
–প্লিজ আমার কথাগুলো শেষ করতে দেও। অবন্তী বিয়ের অনেকদিন আগে থেকে ই আমাকে ইগনোর করতো শুরু করে। তার বাসা থেকে বিয়ের ডেট ফিক্সড করে রেখেছিলো বলে সম্পর্কটা ভেঙ্গে দিতে পারছিলো না। আমি ও পারছিলাম না সম্পর্ক ভেঙ্গে দিতে কারণ বিয়ের ডেট ফিক্সড সবাই আমাদের বিয়ের কথা জানতো। কিন্তু আমি ভেবেছিলাম বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু দেখো বিয়ের দিন সে পালিয়ে গেলো আমার সব মান সম্মান ও শেষ। তুমি ঐদিন বললে না, যে তোমাকে দোষারোপ কেনো করছি আমার ভালোবাসা ঠিক থাকলে কি সে পালিয়ে যেতো। সত্যি ই তো আমার ভালোবাসা মধ্যে ঘাটতি ছিলো। তাই এমন হয়েছে। আমি আজও জানি না আসলে কি কারণ সে আমাকে ইগনোর করেছে বা পালিয়ে গিয়েছে। তবে অবন্তী আমার অতীত। তুমি বর্তমান। আমি আগের সব ভুলে যেতে চাই। আমি ক্ষমা চাচ্ছি আমার সব অপকর্মে জন্য। আমি জানি তুমি অনেক কষ্ট পেয়েছো। আমার মনে হয়েছে বিয়ের দিন এমন অপমানের থেকে মৃত্যু শ্রেয় নয় কি? আমি জানি না তুমি ক্ষমা করবে কিনা তবে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
অহনা শুভ্রের হাত ছাড়িয়ে বললো,
–ইচ্ছে মতো মেরে তারপর সরি বললে কি ব্যথা চলে যায়। ক্ষমা তাদের করা যায় যে ভুল করে কিন্তু আপনি ইচ্ছে করে আমাকে মেরেছেন কষ্ট দিয়েছেন।
কথাটা বলে ই অহনা বসা থেকে উঠে সোজা গিয়ে গাড়িতে বসেছে। অহনাকে এভাবে চলে যেতে দেখে তমা জিনিয়া ও অহনার সাথে গিয়ে গাড়িতে বসে।
শুভ্র বুঝেছে অহনা রেগে গিয়েছে তাই কথা না বলে গাড়িতে বসে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
______________________________
অহনা ফ্রেশ হয়ে সাদা রংয়ের থ্রিপিস পড়ে বেলকনিতে নিচে দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বসে আছে।শুভ্র রুমে ডুকে অহনাকে না পেয়ে বেলকনিতে উঁকি দিতে ই দেখে সে নিচে বসে আছে। শুভ্র আস্তে করে অহনার পাশে গিয়ে বসলো।
শুভ্রের উপস্থিত লক্ষ্য করে সোজা হয়ে বসলো। শুভ্র বললো,
–তোমার মনে কি চলছে জানতে পারি?
অহনা উত্তর দিলো,
—আমি খুব সস্তা যখন ইচ্ছে হবে মারবেন আবার যখন ইচ্ছে হবে আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবেন শেষ হয়ে গেলো। তাই না মিস্টার শুভ্র
__অহনা প্লিজ এতো কঠোর ভাবে কথা বলো না। আমি সুস্থ্য ভাবে শান্তিতে তোমাকে নিয়ে বাঁচতে চাই।
–আমি আপনার সাথে বাঁচতে চাই তা কে বললো। আমি চলে যাবো আপনি জানেন না হয়তো আমি বিয়ের পর থেকে ই চাকুরী জন্য চেষ্টা করছি হয়ে গেলে ই আপনি মুক্তি। আর যা ই হক আপাতত আমি আপনাকে ক্ষমা করতে পারছি না।
শুভ্র অহনার পা জড়িয়ে ধরে বললো,
–অহনা আমার ভুল শিকার করছি। তুমি চলে গেলে আমি একা।
অহনা পা ছাড়িয়ে উঠে চলে যায়। তমা জিনিয়া রুমে গিয়ে তাদের সব কিছু গুছিয়ে রাখার কথা বলেছে। তাদের সাথে কথা শেষ করে রুমে এসে শুয়ে পড়ে। ফ্লোরে শুয়ে পড়তে ই শুভ্র অহনা যেদিকে মুখ ঘুরিয়ে শুয়েছে শুভ্র ও সেদিকে গিয়ে শুয়ে পড়ে। শুভ্র পাশে শুয়ে পড়তে ই অহনা অন্যদিকে ফিরে যায়। শুভ্র অহনার ঘাড়ে মুখ গুঁজে বললো,
–মেয়েরা নরম মনের হয় তুমি এতো কঠোর হচ্ছো কেনো জানপাখি।
–নরম বলে ই তো আপনার ইচ্ছে মতো, যা ইচ্ছে করতে পেরেছেন। আপনার মা নেই। আর আমার মা বাবা কেউ নেই। ছোট থেকে আদর ভালোবাসা কিছু পাইনি। কষ্ট ছাড়া ভাগ্য অন্যকিছু জুটেনি। বিয়ের পর আপনি তো আমাকে প্রতিশোধ নেওয়া পাত্রী ছাড়া কিছু ই ভাবেন নি। যাচাই করে দেখতেন আমি কতটুকু দোষী তারপর না হয় শাস্তি দিতেন।
–প্লিজ ক্ষমা করে দেও। সারাজীবন তোমাকে আগলে রাখবো তোমার কোনো কষ্ট হতে দিবো না।
–আমার নিয়ে এতো ভাবতে হবে না।
তাদের মধ্যে বেশকিছুক্ষন কথপোকথন হওয়ার পর অহনা ঘুমিয়ে পড়ে।
সকালে সবার আগে ঘুম থেকে উঠে অহনা। দ্রুত তমা জিনিয়াকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। তমা প্রশ্ন করলো,
–অহনা আমাদের সাথে যাচ্ছিস ভালো কথা কিন্তু এভাবে লুকিয়ে কেনো?
অহনা বেশকিছুক্ষন চুপ থাকার পর উত্তর দিলো,
–এই বাসা থেকে একেবারে চলে যাচ্ছি আর আসবো না……
চলবে,