#সংস্পর্শে_তুমি
#পর্ব_১৪
#নাহিদা_ইসলাম
শায়লা রহমান রুমের মাঝখানে দাড়িয়ে আছে। অহনার দিকে তাকিয়ে বললো,
–খুশিতে আত্মাহারা হয়ে যাচ্ছো। কি হয়েছে?
অহনা হাসি বন্ধ করে বললো,
–হওয়ার মতো এখনও কিছু হয়নি মা।
–এই মেয়ে তুমি এতো নির্লজ্জ কেনো?
অহনা কোনো কথা না বলে রুম থেকে বের হয়ে কিচেনে গিয়ে দেখে রহিমা রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অহনা বাসা থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে শায়লা আবার রহিমাকে কাজে নিয়েছে। ভেবেছিলো অহনা একেবারে চলে গেছে। ব্যাপারটা মনে হয়ে অহনার খুব হাসি পাচ্ছে। অহনা বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাদের সে কি প্ল্যান। সব এখন শেষ।
রাতের খাবার খাওয়া সবার শেষ শুধু শুভ্র বাদে। শুভ্রকে কয়েকবার ডাকার পর ও সে আসছে না। সবাই খেয়ে চলে যাওয়ার পর শুভ্র এসেছে। অহনা খাবার টেবিলে বসে বসে মোবাইল দেখছে সব মনোযোগ তার মোবাইলের দিকে। শুভ্র এসে কতক্ষণ পিছনে দাড়িয়ে ছিলো অহনা একটু ও বুঝতে পারেনি। শুভ্র চেয়ার টেনে সামনে বসতে ই অহনা শুভ্রের দিকে তাকায়। অহনা তাড়াহুড়ো করে প্লেটে খাবার দিতে গেলে শুভ্র হাতের ইশারায় শান্ত হতে বলে।
–আরে বসো না তোমাকে আগে ভালো করে দেখি।
অহনা হেসে বললো,
— কতবছর হলো দেখেন না। আপনার রিয়াকশন দেখে বুঝা যাচ্ছে নতুন নতুন প্রেমে পড়েছেন।
–তুমি প্রেমে পড়নি বুঝি?
অহনা চুপ করে আছে আর হাসছে। খবার প্লেট সামনে দিয়ে বললো,
–খেয়ে নিন।
শায়লা রহমান শুভ্রের সামনে চেয়ার টেনে বসে বলে
–তোর সাথে কাল থেকে তিয়াসকে ও অফিসে নিয়ে যা। তিয়াস বাসায় বসে থাকবে আর কত।
–কালকে রেডি থাকতে বলো মা। আমি তিয়াসকে নিয়ে অফিসে যাবো। আর বলে দিয়ো যা কাজ দিবো ঠিকমত যেনো করে। কাজ না করলে অফিসে যেয়ে তো কোনো লাভ নেই।
–কাজ করবে না কেন। ভুলে যাস না অফিসটা তোদের দুজনের ই। তোরা দুজন সমান অধিকার পাবি। আমার ছেলে যেনো বঞ্চিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখিস। ওর ও তো ভবিষ্যত আছে।
কথাটা বলে শায়লা সময় নেয়নি দ্রুত নিজের রুমে চলে যায়। যাওয়ার আগে অহনাকে বলে যায় শুভ্রে খাবার শেষ হলে তার রুমে যেতে।
শুভ্র খাবার শেষ করে উঠে যায়। হাত ধুয়ে অহনার সামনে আসতে ই খেয়াল করে মুখটা মলিন।
–কি দেখছো এই ভাবে।
–কষ্ট পেয়েছেন? মন খারাপ মনে হচ্ছে।
শুভ্র মুখে হাসি টেনে অহনার কপালে চুমু খেয়ে বললো,
—হ্যাঁ আমার বেশ মন খারাপ কারণ আমার সুন্দরী বউটা আমার থেকে দূরে।
শায়লা অহনাকে ডাকছে বুঝতে পেরে অহনা দৌড়ে চলে যায়। শুভ্র পেছন থেকে বললো,
–আমারটা বাকি তো আমার গুড নাইট চুমুটা দিয়ে যাও জান।
অহনা যেতে ই দেখলো শায়লা রহমান বেডের এক সাইডে বসে আছে। অহনা কাছে গিয়ে বসতে ই বললো,
–তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে মা।
কথাটা শুনে ই অহনা অবাক হয়। হেসে বলে,
–এতো আদর কেনো মা। কি চাই বলুন।
–তুমি অনেক চালাক বুঝে ফেলেছো কিছু বলবো।
–আপনাকে আমি কিছুটা হলে ও চিনতে পেড়েছি তাই জানি আপনার কতরুপ।
অহনার কথা শুনে শায়লা রেগে গেলেন নিজের সম্পর্কে এমন কথা শুনতে কারো ই ভালো লাগবে না
–রেগে গেলে মা?
–রাগ মাঝে মাঝে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। ভালো কিছু পাবার জন্য।
–আপনার জীবনে সব আছে আর কি ভালো কিছু চাই। যার যত আছে সে তত চায়।
–এসব বাদ দিয়ে কাজের কথায় আসি। আমি তোমাকে দশ লাখ টাকা দিচ্ছি তুমি শুভ্রের জীবন থেকে চলে যাও। তুমি প্রথম থেকে ই শুভ্রকে ভালেবাসো না তাই এই অফারটা তোমার জন্য বেশ ভালো বলে আমি মনে করি।
অহনা হেসে বললো,
–উহু দশ লাখ কম হয়ে যায় বিশ লাখ দিলে চিন্তা ভাবনা করতে পারি।
শায়লা রহমান হেসে বললো,
–দেখলে তো তোমাদের মতো মেয়েরা কত নিচ। টাকা ছাড়া কিছু ই বুঝে না।
–তাই নাকি তাহলে আপনি আমার থেকে নিচ। টাকা ছাড়া তো আপনি ও কিছু বুঝেন না।
–টাকা দিন তারপর ভেবে দেখবো।
শায়লা একটা লাগেজে বিশ লাখ টাকা অহনার হাতে দিয়ে বললো,
–নেও টাকা এখন কাজ করো।
অহনা কাঁথা টেনে বালিশ ঠিক করে শুয়ে বললো। বেড সাইডে রাখুন সকালে উঠে বাকি কথা বলছি।
শায়লা অহনাকে যতটা চালাক ভেবেছে অহনার তার থেকে ও কয়েকগুন বেশি চালাক। সাবধানে তার সাথে কাজ করতে হবে।
লামিয়া শুভ্র আর তার ছবি দেখছে। ফোনের ওয়ালপেপার শুভ্রের আর তার ছবি সেইভ করে রেখেছে যেনো চোখের আড়াল না হয়। সব সময় শুভ্রকে দেখতে পারে। এতো রাত হয়েছে তাও শুভ্রের চিন্তা ভাবনা ই মাথায় ঘুরছে। আর সব চিন্তা যেনো উড়ে গেছে।
_____________________
সকাল নয়টা, শুভ্র নাস্তা টেবিলে এসে দেখে অহনা নেই। মাকে ডেকে জিজ্ঞেস করতে ই বললো,
–তুই খেয়ে নে তারপর বলছি।
শুভ্র চেয়ার থেকে উঠে শান্ত ভাবে বললো,
— মা অহনা কোথায়।
–তুই নাস্তা শেষ কর তারপর বলছি।
শুভ্র এবার চিৎকার করে বললো,
–আমি তোমাকে লাস্ট বার জিজ্ঞেস করছি অহনা কোথায়।
–ও আর আসবে না চলে গিয়েছে।
কথাটা বলা মাত্র শুভ্র চোখগুলো রক্তেবর্ণ ধারন করেছে।
–কোথায় গিয়েছে?
–এটা আমাকে বলে যায়নি।
শুভ্র দেরি না করে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যায়। তমা জিনিয়াকে বার বার কল দেওয়ার পর ও কল রিসিভ করছে না। তাই তাদের বাড়ির উদ্দেশ্য যাচ্ছে।
শায়লা রহমান সোফায় বসে বসে ভাবছে সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে টাকার ব্যাগ ও নাই অহনা ও নাই। এতোদিন টাকা দিলে ই হতো কবে ই আপদ বিদায় হতো।
শুভ্র মাঝরাস্তায় যেতে ই জিনিয়া শুভ্রকে কল ব্যাক করেছে, শুভ্র রিসিভ করে জিজ্ঞেস করেছে,
–অহনা তোমাদের বাসায়?
জিনিয়া বললো,
–ভাইয়া আপুকে নগর স্টেশনের গেলে পাবেন। আমাকে কল দিয়েছিলো সকালে নগর স্টেশনে যাওযার জন্য কেনো তা বলেনি।
শুভ্র গাড়ি ঘুরিয়ে স্টেশনের দিকে ছুটে।
রাসু বেগম দূর থেকে জিনিয়ার কথা শুনতে পায়। জিনিয়ার কাছে এসে জিজ্ঞেস করে,
–অপয়াটা আবার কি করেছে রে।
–যা ই করুন তোমার কাছে তো আর আসে না। বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছো এখন তার ব্যাপারে শুনতে এতো আগ্রহী কেনো?
–বেশ বড় বড় কথা বলতে শিখেছিস দেখছি। আমি যা করি তোদের ভালোর জন্য ই করি। তোরা তা কখনো বুঝবি না।
–কাউকে কষ্ট দিয়ে বঞ্চিত করে আমাদের ভালো খোঁজ মা। আদৌও কি এই সে ভালো হওয়া সম্ভব।
শুভ্র স্টেশন গাড়ি রেখে ভেতরে গিয়ে অহনাকে খুঁজছে। সব দিকে ভালোভাবে তাকিয়ে দেখলো কোথাও অহনাকে দেখতে না পেয়ে কিছুদূর সামনে এগোতে ই অনেকগুলো বাচ্চা দেখতে পাচ্ছে। তাদের মাঝখানে একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে। সাদা একটা জামা পড়া। লাল ওড়না মাথায়। শুভ্র আস্তে আস্তে গিয়ে দেখে এটা অহনা। অহনাকে দেখে দৌড়ে গিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে মুখে অনেকগুলো চুমু খায়। বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে রাখে।
—তুমি এখানে কি করছো আর আমাকে না বলে কেনো এসেছো। আর তুমি এই স্টেশনে কি করছো।
এভাবে ধরে আছেন কত মানুষ দেখছে। ছাড়ুন আমাকে।
শুভ্রকে দেখে বাচ্চারা হাসছে। শুভ্র অহনাকে ছেড়ে পাশাপাশি দাড়িয়ে পেছন দিক দিয়ে ডান হাত দিয়ে ধরে বললো,
–এখন বলো।
অহনা নিজেকে ছাড়িয়ে বললো,
–এমন করছেন কেনো। আমি কোথাও চলে যাবো নাকি।
–মা কেনো বললো তুমি বাসা আর আসবে না…..
চলবে,
[ভুলক্রটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ]