সত্য ঘটনা পর্ব-০২

0
725

২….
সত্য ঘটনা
Nusrat Haq

সকালে ঘুম থেকে উঠে গোয়াল ঘরে যেয়ে দেখি আমার একটি দূধের গরু নাই।
আমি তো পাগল হয়ে যায়। চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকি।
তখন তারা বলে যে সকালে বেলা তোমার জামাই আর তোমার ভাসুর এর ছেলে এসে গরুটা নিয়ে যায়।

আমি পাশের প্রতিবেশী কে আমার হাস মুরগি, গরু দেখতে বলে, কোন রকমে বোরকা পরে ওদের বাড়িতে রওনা দি৷

ওদের বাড়িতে গিয়ে দেখ গরুটা জবাই করে মাংস কাটতেছে।
আমি চিৎকার দিয়ে কান্না করে উঠি।
আমার শাশুড়ী আমাকে বলতেছে কালা মা*গি এখানে নাটক করতে আসছে।
আমার স্বামীকে বললাম আমাকে বলতাম গরুটা কেন নিলা।
আমার স্বামী আমাকে বললও আমার যা ইচ্ছে তা করবো তুই বলার কে।
আমি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি চলে আসি৷

ওই গরুর মাংস দিয়ে আমার ভাসুর এর মেজবানি দিয়েছে।
আর এটা ওদের গ্রামের সবাইকে নিয়ে খেয়েছে। আমার প্রতিবেশীদের ও দাওয়াত দিয়েছে শুধু আমার জন্য ১ মুঠ ভাত উঠে নি।

সারা দিন কিছু খায় ও নি শুধু গোয়াল ঘরের দরজার পাশে বসে কেঁদেছি।
প্রতিবেশী কয়েকজন মুরব্বি বলেছে তোর কপালে সুখ উঠে গেছে রে বউ তোর কপালে সুখ নাই। একজনে আমাকে ভাত দিয়ে গেছে।
খায়নি।
পরের দিন সকালে সেগুলো পানি দিয়ে খেয়েছি।

পরের দিন সকালে গরুর গোবর দিয়ে খুঁটো বানাচ্ছি সেল করার জন্য।
এগুলো জ্বালানি হিসাবে ভীষন ভালো কাজে দেয়৷ আমার স্বামী কয়েকজন লোক নিয়ে আসে।
তাদের গোয়াল থেকে বের করে গরু দেখাচ্ছে।

আমার এখন ২ টা গরু একটা বাছুর সহ মোট তিনটা।

আমার স্বামীকে বললাম গরু গুলো সেল করিও না। আমি এদের ছাড়া থাকতে পারবো না।

আমার স্বামী আমাকে বলে তোকে থাকতে বলছে কে চলে যা।
এগুলো নিয়ে ওর আর আমার মধ্যে অনেক ঝগড়া হয়।
আমি তো গরু বিক্রি করতে দিবো না।
তখন সে আমাকে অনেক মারে ওই মানুষ গুলোর সামনে।
প্রতিবেশিরা ধরতে আসলে তাদের ও গালাগালি করে এবং আমার ভাতার বলে তাদের।

পরে গরু গুলো নিয়ে যায় পিকআপ গাড়িতে করে।

আমার গোয়াল ঘরটা হাহাকার এ ভরে উঠে।।

চুপচাপ কষ্ট গুলো হজম করি কারণ যাওয়ার জায়গা নাই।
ভীষণ গরিব এর মেয়ে আমি। আমার বাপ ছিলো অনেক কোটিপতি কিন্তুু আমাদের সাথে বেইমানি করে গেছে।
আমার বাপ আমার মাকে শখের বসে বিয়ে করে। কখনও সামাজিক মর্যাদা দেয় নি। আমার ও তেমন চালাক চতুর ছিলো না।
আমার বাপের কোটি কোটি টাকা। উনার শহরে ১৩ টা বিল্ডিং রয়েছে।
এবং ১৫ টা কাভারভ্যান, পিকআপ,বাস এ ধরনের গাড়ি রয়েছেন।
উনার ১ম সংসার এ এক ছেলে এক মেয়ে।
তারা ভাই বোন দুজনেই Mbbs ডাক্তার।

আমার মাকে বিয়ে করার ৫ বছর পর আমার বাবা মারা যায়।
আমার মা সেখানে গিয়েছিলো কিন্তুু কোন কিছু পায় নি।
উল্টো আমাদের জারজ বলে বের করে দিয়েছে।
আমার ভাইর তখন সাড়ে ৩ বছর আর আমি আম্মুর গর্ভে ছিলাম।
এরপর মা আমাদের নিয়ে মানুষ এর বাসায় কাজ করে সুখে দুঃখে মানুষ করে।
আমার ভাই কৃষক। পড়ালেখা একদম করিনি৷
ও ৭ বছর বয়স থেকে মানুষ এর দোকানে কাজ করতো৷
আমি কোন রকমে ক্লাস নাইন পযন্ত পড়ি৷
এরপর উনার সাথে বিয়ে হয়ে যায়।।

একদিন আমার ওরা সবাই এ বাড়িতে বেড়াতে আসে।
আমি রান্না বান্না করে খাওয়াই।
কাজের অযুহাতে রান্না ঘরে বসে থাকি৷ আমার স্বামীর সামনে খুব একটা বেশি যাই না।

কিন্তুু আমি তাদের খুশি দেখেছি তাদের কত সুন্দর সংসার।
৩ টা বাচ্চা। আমার স্বামীর সাথে তার বউয়ের মাশাআল্লাহ খুব ভাব। একজন আরেকজনকে চোখে হারাচ্ছে।
আমার শাশুড়ী তো ভীষণ খুশি।
দেখে মনে হলো তাদের কত সুখি পরিবার আমি শুধু মাএ একটা আগাছা।

নিজেকে সবসময় এটায় বলতাম বাপে করছে বেইমানি৷ বাপে তো মারে কাগজে কলমে বিয়ে করে নি। হুজুর ডাকি আকদ পড়ছে এরপর ভাড়া ঘরে রাখছে।
সামাজিক কোন পরিচয় দেয় নি। সাপ্তাহে ১ দিন বা ২ দিন আসতো।
আহা জীবন। জীবন সত্যি কঠিন৷
তারপর একজনে দয়া করে আমাদের জায়গা টাতে থাকতে দেয়।
ওখানে আম্মা কোন রকমে ঘর তুলে আমাদের নিয়ে ছিলো।
বর্ষায় পানি পড়তো বাতাসে ঘর ভাঙতো।
তারপর ভাই বিয়ে করার আগে কোন রকমে ঘরটা ঠিক করে।।
আমার ভাবি খুব ভালো মানুষ।। ছোট বেলা থেকে আমাকে খুব দেখতে পারতো।
উনি ইয়াতিম ছিলেন। ঘরে ভাই – ভাবি উনার।
আমার ভাইয়ের সাথে প্রণয়ের বিয়ে। এরপর কখনও উনি কোথায় ও যায় নি ১ দিনের জন্য ও।
কারণ উনার ভাই ভাবি উনাকে দেখতে পারতো না।

আমার এই ভাবি আমার জন্য অনেক করছে। ঈদে নিজে জামা কাপড় না কিনে আমাকে কিনে দিতো৷। এই ভাবি কাথা সেলাই করে আমাকে নাইন পযন্ত পড়াইছে।
আমি যখন ক্লাস ৬ এ পড়ি তখন ভাবির সাথে বিবাহ হয়। এরপর উনি বাকি টুকু পড়াই। কাথা সেলাই করে।
না হলে পড়তে পারতাম না।
ভাবি আমাদের সংসার এর জন্য অনেক করতো৷ দিন রাত কাথা সেলাই করতো মোড়া বানাতো৷
এমনকি মানুষের ধান ও শুকিয়ে দিতো আমার মায়ের সাথে।।

আহারে এগুলো বলতে বলতে নামাজের টাইম হয়ে গেলো।
জোহরের নামাজ আদায় করে খেতে বসলাম৷
একাই খায় ওদের সাথে খায় না৷
আমার স্বামী কোথা থেকে যেন রান্না ঘরে আসলো।
এসে আমাকে বললও ভাত খায়তেছো।
আমি বললাম জি।
তখন বললও দা টা দাও ২ টা রাতা মুরগি জবাই করি।
আমি বললাম আমার মুরগি কেন আপনি জবাই করবেন।
কিনে আনেন। দয়া করে এগুলো জবাই করিয়েন না।
তারপর ঝগড়া লেগে গেলো।
ভাত খায়তেছিলাম ওখানেই আমাকে চামিচ দিয়ে কয়েকটা বাড়ি মেরে দিলো।।

আমি আর কিছু বলি নাই। জা ধরতে আসছিলো কিন্তুু জা কে ও বকা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

এরপর আমার মুরগি সব গুলো ইচ্ছে করে জবাই করে দেয়।
আমার মুরগীর ছানা ছিলো অনেক গুলো।
৭ টা মুরগি জবাই করে দেয়।
আমার জা আর শাশুড়ি মিলে মুরগি গুলো পরিস্কার করে কেটে কসিয়ে রাখে আমি দুয়ারে বসে শুধু চোখের পানি মুছতেছিলাম।

কোথা থেকে আমার ভাবি আসে আল্লাহ জানেন।
এসে আমাকে চড় মেরে বলে মাগি তোরে মাইনষের মাইর খায়তে কইছিলাম।
কত কষ্ট করে খাওয়াই পড়াই মানুষ করছি এই অমানুষ গো অত্যাচার সহ্য করার জন্য।
কুওার বাচ্চার গুলোর উপর গজব ও পড়ে না।
বাজার বাচ্চা আমার বইনের জীবন টা শেষ করে দিছে।
এরপর আমার শাশুড়ীর সাথে তুমুল ঝগড়া।
আমার শাশুড়ী আর স্বামী মিলে আমার ভাবি আর আমাকে মেরে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।
এবং প্রতিবেশীদের সামনে আমাকে মেরে তিন তালাক দেয়।
আমাকে মারছে দুঃখও নাই কিন্তুু আমার ভাবিকে মারলো এটার জন্য লজ্জায় ঘৃণায় আমি শেষ।।

আমি আমার ভাবি থেকে পা ধরে মাফ চাইলাম। ভাবি বললও দূর বাল মাফ কেন চাইবি আল্লাহ বাচাইছে।
আজকে এই কাহিনী না হলে তুই জীবনে ও আসতি না।
পরে তোর লাশ টা নিয়ে কাঁদতে হয়তো।
জীবন সুন্দর আমি মরি যাই নি আমি তোরে পালমু।
তুই আমার ছানা।

চলবে…

আহা জীবন….