#৩
সত্য ঘটনা
Nusrat Haq
সালিশ বসে গ্রামে। সেখানে আমি তেমন কোন বিচার পায় নি। শুধু মাএ ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলো সালিশ এ আমাকে।
আমার ভাবি আর ভাই আমাকে বলছে এ টাকা যদি আমি নি তাহলে যেন আমি ঘরে না ঢুকি।
এরপর আমি গ্রামের সালিশ এর মধ্যেই বলছি আমি তে এমনিই গরীব। আমি না হয় তোদের মত মানুষ দের এই ২০ হাজার টাকা দান করলাম।।
গ্রামের সালিশ প্রধান আমাকে বেয়াদব বললও। আমি নাকি বেয়াদব মেয়ে এমন মেয়ের সাথে নাকি সংসার করা যায় না। কারণ সালিশ প্রধান টাকা খেয়েছিলো ওদের থেকে।
তারপর সবার সামনে আমাকে আবার তিন তালাক দিলো।
তখন এত কাগজে কলমের বিয়ে এত প্রচলন ছিলো না আমাদের গ্রামে।
আমার জামা কাপড় গুলো ও দেয় নি কিছু দেয় নি।
উল্টো আমাকে আর আমার ভাবিকে বললও আমরা চরিএহীন।
আজ গরীব বলে বিচার পায় নি।। উল্টো আমার শশুর বাড়ির মানুষ বললও আমরা জারজ সন্তান আমাদের বাপের ও পরিচয় নাই।
সত্যি আমাদের পরিচয় নাই।। আজ পযন্ত বাপের কিছুই পায় নি পরিচয় টা ও না। যাক সব আমাদের নসিব।
সালিশ শেষে চলে আসলাম। একই গ্রামে থাকতাম আমরা।
এবং আমাদের ঘর থেকে ওদের ঘর ছিলো ১ পুকুর এর এপাড় আর ও পাড়।
আমার জা দের ঘর আমাদের ঘর থেকে হেঁটে গেলে ১০ মিনিট লাগতো।
নিজেদের ঘরে চলে আসি। ২ রুমের ঘর ছিলো আমাদের।
১ রুম এ ভাই ভাবি আরেক রুমে আমি আম্মা আর ভাইয়ের ৫ বছরের মেয়ে থাকতাম।
সাথে ছোট রান্না ঘর।
কিন্তুু ভাত খেতাম আমাদের রুমটাতে।
আমি চলে আসার পর অনেক কান্না করি। কলিজায় অনেক ব্যাথা হতো। আজ শ্যাম বর্ণের বলে আমার জীবন টা এমন।
ঘরে বসে কাঁথা সেলাই করতাম। মানুষের ধান শুকাতাম।
কেউ কোন কাজের জন্য ডাকলে করে দিতাম।
মোড়া বানাতাম, শীতল পাটি বানাতাম।
জায়গার অভাব এর জন্য হাস,মুরগি কিনতে পারি নাই।
ভাবি খুব আদর করতো আমাকে।
আমাদের কোন আত্মীয় স্বজন ছিলো না যে কারো বাড়িতে বেড়াতে যাব।
আমার জন্য তখন বিয়ের প্রস্তাব আসা শুরু করলো। বয়স্ক লোক আসতো বেশি।
আমার মা আমার ভাবিকে অনেক বকা দিতো কারণ আমার ভাবি এসব বয়স্ক লোকদের কাছে বিয়ে দিতে চাইতো না বলে।
কিন্তুু মা বলতো এই জামাই তালাক দেওয়া বেডির জন্য রাজপুত্র কই পাবি।
এসব নিয়ে ভাবিকে অনেক গালাগালি করতো আম্মা।
কিন্তুু ভাবি বলতো বুড়া ব্যাটার কাছে কেন বিয়ে দিব।
দরকার হলে ঘরের পালা বাধমু।
এর মধ্যে ভাবি অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে আবার গর্ভবতী হয়ে যায়।
ভাবি অনেক অসুস্থ হয়ে যায়
আমি ঘরের সব কাজ করতাম। ভাবিকে শুধু হাত ধোয়ায় ভাত খাওয়াতাম।
কিন্তুু উনি টুকিটাকি করতে চাইতো।
আমি শুধু আমার স্বামীর সুখ দেখতাম। অনেক সুখে আছে ওরা।
ও যে বাড়িটা করেছিলো সেটা বিক্রি করে দেয়। বিক্রি করে নাকি বউকে গহনা কিনে দেয় আর বাকি টাকা ব্যবসার জন্য রাখে।
ওরা অনেক সুখি পরিবার ছিলো।দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যেত। আর আমার মনে শুধু আগুন জ্বলতো কিন্তুু চোখে কোন পানি আসতো না।
ওরা সবসময় নতুন নতুন জামা কাপড় পরে ঘুরতো গ্রামের মানুষ বলতো।
এর মধ্যে বর্ষা কাল আসে। বর্ষা কালে তেমন কাজ কর্ম থাকে না।
ভাবির শরীর এত খারাপ যে বলার মত না উনাকে ডাক্তার দেখায়তেই জমা টাকা সব চলে যায়।
উনার জরায়ুর মুখ খুলে যায় ৪ মাস এর সময়।
তখন মেডিকেল এ ভর্তি করায় আবার সেলাই করে দেয়।
এসব নিয়ে অনেক অনেক টাকার বিষয় ছিলো।
আমার একটা চেইন ছিলো সেটাও আমি বিক্রি করে দি ভাবির চিকিৎসার জন্য।
আমার ভাবি সবসময় বলতো আল্লাহ আমাকে অনেক সুখি করবেন।।
একদিন সকাল বেলা ঘরে কোন খাবার নাই। আমি বাড়ির পাশে এক চাচির থেকে ১ কেজি চাল ধার আনতে যাচ্ছি লাম।
তখন দেখি আমার স্বামী আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছে।আর আমাকে বলতেছে কালা মাগি..
আমি কিছু বললাম না সাইড কেটে চলে গেলাম। উনাকে একটু দেখলাম৷ এতটুকু তেই যেন অনেক সুখ।
হায় আল্লাহ কতদিন জড়িয়ে ধরিনি৷
দিন চলে যায় থেমে থাকে না।
ভাবির অবস্থা খুব খারাপ হয়।
ডেলিভারির সময় হয়েছে উনাকে যে মেডিকেল নিয়ে যাব সেই টাকা ছিলো না।।
উনার অবস্থা খুব খারাপ ছিলো।
তখন আমি আমার এক বাড়ির পাশের ভাইকে নিয়ে আমার স্বামীর বাড়ির পাশে গেলাম৷
আমি ঘরে যায় নি পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
ভাই টাকে দিয়ে ডাকালাম।
ও আসার পর উনার পায়ে ধরে ১০ টা হাজার টাকা ভিক্ষা চাইলাম। সে বললও ১০ হাজার টাকা নাই ৫ হাজার টাকা আছে দিতে পারি তবে আমার সাথে একবার থাকতে হবে।
আমি বললাম কোথায় থাকবো। তখন বললও বাড়িতে কেউ নাই। ওরা সবাই আমার বউয়ের বাপের বাড়ি গেছে।
ওর মুখে আমার বউ কথাটা শুনে অনেক খারাপ লাগলো। যাক আমি রাজি হলাম।
কারণ তখন হালাল হারামের কথা চিন্তা করার সময় ছিলো না।
আমার একটু ও ইচ্ছে হচ্ছিলো না শারীরিক সম্পর্ক করার।
কিন্তুু ৫ হাজার টাকার জন্য করতে হলো।
তারপর উনি আমাকে আসার সময় ৩ হাজার টাকা দিলো।
বললও শশুর বাড়ি যাব খালি হাতে যেতে পারবো না।
২ হাজার টাকা গুলো লাগবে।
আমি অনেক মিনতি করেছি কিন্তুু দেয় নি।
সেই ৩ হাজার টাকা নিয়ে দৌড়ে দৌড়ে বাড়ির দিকে গেলাম।
ভাইয়ের হাতে টাকা দিলাম।
ভাই আর আমি ভ্যানে করে ভাবিকে মেডিকেল নিয়ে গেলাম।
কিন্তুু আফসোস হাসপাতালে ঢুকার পরপরই ডাক্তার ডেলিভারির জন্য নিয়ে গেলো।
ডেলিভারির সময় একটা পুএ সন্তান জন্ম দিয়ে আমার ভাবি মারা যায়
আমার ভাবির খুব ইচ্ছে হয়েছিলো গরুর মাংস দিয়ে ভাত খাওয়ার। কিন্তুু আফসোস খাওয়াতে পারি নি।
হাসপাতালে বিল আসলো ৬ হাজার টাকা।
পুরো টাকা দিতে পারছিলাম না বলে আমার ভাবির লাশ আর ছেলেকে দিচ্ছিলো না।
পরে হাতে পায়ে ধরে গ্রাম থেকে চাঁদা তুলে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ভাবির লাশ আর ছেলেকে আনলাম।
ছেলেটা খুব কান্না করতেছিলো।
আমার চোখে যেন পানিরা বিদ্রোহ করেছে। তারা আসতেছে ও না।
পরে গ্রামের চাঁদার টাকা দিয়ে দাফন কাজ শেষ হলো।
আমার ভাইয়ের ছেলেটার জন্য যে দুধ কিনবো সেই টাকা ও ছিলো না।
পরে ঘরের কলসি বিক্রি করে ১৭ টাকা দিয়ে এক কেজি দুধ কিনি।
চলবে……