#সন্ধ্যায়_সন্ধি
#মম_সাহা
পর্বঃ৫
তেজের হাতে মোবাইলে একটা নিকৃষ্ট ভিডিও। আর তার একহাত দূরে চাঁদের চোখে তাচ্ছিল্য হাসি।তেজের আজ নিজেকে পৃথিবীর সব থেকে অসহায় মানুষ মনে হচ্ছে। মেয়েটাকে অজান্তেই কত কষ্ট দিয়ে ফেলল।
ভিডিও তে একটা মেয়ে আর তেজ খুব কাছাকাছি। মেয়েটার গালে, কপালে তেজের ঠোঁট বিচরণ করছে।ভিডিও টা তেজ যখন বিদেশ গিয়ে ছিলো তখনের।আর ভিডিও টা যখন করা হয় তখন তেজ ড্রাঙ্ক ছিলো।আর ভুলবশত এটা হয়ে যায়।তবে বেশি কিছুই হয় নি এর আগেই তেজের বন্ধুরা তেজকে নিয়ে যায়।মেয়েটা তেজের মতন ছেলেকে হাত ছাড়া করতে চায় নি বলেই এমন বিশ্রী কান্ড করেছিলো যেটা সে পরে স্বীকার করে।
সেই ঘটনা কত আগের চার বছর তো হবে।তেজ ভাবতেও পারে নি এমন একটা ঘটনা তার জীবনে আবার এমন জঘন্য প্রভাব ফেলবে।তেজকে অতিরিক্ত নেশা খাওয়ানোর ফলে তার হিতাহিত জ্ঞান ছিলো না তবে সে এটুকু করার জন্য ও লজ্জিত ছিলো।কারল ছোট বেলা থেকেই তার মনে একজনই ঠাঁই পেয়েছে সেটা চাঁদ।কিন্তু আজ সেই চাঁদেরই কষ্টের কারণ তেজ।
______________________________
ছাঁদের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে দুই মানব মানবী।তেজ চাঁদকে সব টুকু খুলে বলেছে।এতে চাঁদের কান্না আরো বেড়ে গেলো।তার বড্ড রাগ উঠছে মেয়েটার প্রতি আর তার চেয়েও বেশি রাগ তেজের প্রতি।সে জানে তেজ এখানো দ্বায়ী না সে পরিস্থিতির স্বীকার কিন্তু তবুও রাগ উঠছে।কারণ তেজের একটু অসাবধনতার কারণে মেয়েটা তেজের চরিত্রে কালি লেপন করতে পেরেছে।তেজ কেনো সাবধান হলো না।
আর অন্যদিকে তেজ প্রাণহীন চোখে চাঁদের কান্না দেখছে। কি আর করার। মেয়েটাকে থামাতে গেছিলো তখন হুংকার দিয়ে উঠেছিলো সে।
তেজ ভাবলো এবার চাঁদকে চুপ করাতে হবে।মেয়েটা বেশি কান্না করলে অসুস্থ হয়ে পরে।তাই সে ধমকের সুরে বলল,
– চুপ করবে চাঁদ, আর কত কাঁদবে,এই তিন দিন যাবত তো কেঁদেছো এবার চোখের জল থামাও।আমার মরার পর কেঁদো।
চাঁদের কলিজাটা জেনো আৎকে উঠলে তেজের কথাটা শুনে।সে সাথে সাথে তেজের বুকে ঝাপিয়ে পড়ে চড়, ঘুষি দিচ্ছে আর বলছে,
– আপনি খুব খারাপ তেজ ভাইয়া, খুব খারাপ।আমি কত কষ্ট পেয়েছি জানেন? মরা তো আমার উচিত। হ্যাঁ সেটাই করবো আমি দাঁড়ান, এই বলে চাঁদ ছুট লাগালো ছাদের কিনারে যেখানে রেলিং নেই।তেজের শরীর ভয়ে জমে গেছে।সেও চাঁদের পিছে ছুট লাগায়। চাঁদ কিনারে আসার আগেই তেজ ছুটে চাঁদের হাত ধরে দেয় এক চড়।
– তুই কি করতে ছুটছিলি চাঁদ!তোর সাহস কীভাবে হলো এমন জঘন্য চিন্তা মাথায় আনার?তুই কি জানিস একটুর জন্য আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয় যাচ্ছিল।দোষ আমার আমাকে শাস্তি দে মার কিন্তু তুই এটা কেনো করতে গিয়েছিলে চাঁদ।আমার এখনো হাত পা কাঁপছে।
চাঁদ ফুফিয়ে কেদেঁ বলে উঠল,
– আরে তেজ ভাইয়া আপনি এত বেশি বুঝেন কেনো?আমি কি করতে গেছিলাম ঐ খানে সেটা না জেনেই চড় লাগালেন! দেখেন ছাদের কোনায় কারা আছে…আমাদের সন্ধ্যা আর সন্ধি। দেখছেন?ওদের ধরতেই তো ছুটে গেছিলাম।ওদের ছাড়া আমার কি কষ্ট লাগছিলো।আর আপনি কিনা শুধু শুধু চড় লাগালেন?
তেজ সত্যিই কিনারে চেয়ে দেখে তাদের কবুতর গুলা।সে তখন খেয়াল করে নি।মেয়েটা হঠাৎ অমন কথার মাঝে দৌড় দিলো সে তো ভয় ই পেয়ে গেছিলো।কিন্তু তেজ এখন অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো।মেয়েটাকে শুধু শুধু চড় মারলো।চাঁদও তেজের দিকে আড় চোখে তাকিয়ে হেসে দিলো।আজ মন থেকে একটা পাথর সরলো।
হঠাৎ হাসতে হাসতেই তেজ চাঁদকে বলল,
– কিরে চাঁদ ভালো কথা মনে পরলো, তুই এই ভিডিও টা দেখে এত কান্নাকাটি করেছিস কেনো? এমনও হতে পারতো এটা আমার গার্লফ্রেন্ড আর গার্লফ্রেন্ডের সাথে এমনটা তো স্বাভাবিক তাই নয় কি? কিরে তুই জেলাস নাকি! কিরে তোর মনে কি চলছে? সামথিং সামথিং?
– ধূর ভাইয়া আপরি সবসময় উল্টা পাল্টা বলেন তেমন কিছুই না।
এ বলেই চাঁদ ছুট লাগায় নিচে।আর তা দেখে মুচকি হাসে তেজ।আর ভাবে” মেয়েটা আমাকে নিয়ে কত ভাবে,আর কখনোই তোমাকে কষ্ট পেতে দিবো না চাঁদ”।
কিন্তু এই জঘন্য কাজটা করলো কে?যাই হোক এসব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে চাঁদের পিছে পিছে নিচে আসে তেজ।এসে দেখে চাঁদ তাদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তাই সে চাঁদকে ভ্রু কুচকে ইশারা করে বলে, কি হয়েছে?
চাঁদ ঠোঁট উল্টিয়ে দেখায় তাদের ঘরের দরজা ভিতর দিয়ে আটকানো সে ভিতরে যাবে কীভাবে। তেজও খেয়াল করলো এটা।সে বুঝতে পেরেছে প্রহেলিকা হয়তো দরজা আটকিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। তাই সে প্রহেলিকাকে কল লাগালো ততক্ষণে ভোর হয়ে এসেছে।মেয়েটা সারা রাত জেগে ছিলো আজ সারাদিন মাথা ব্যাথায় পড়ে থাকবে সেটা তেজের ভালো জানা আছে।
প্রহেলিকার ঘুম ভেঙ্গে গেলো ফোনের শব্দে।তাকিয়ে দেখে তেজ ভাইয়ার নাম্বার।সে ছুট লাগায় মেইন গেইটের দিকে।যা ভেবেছিলো তাই।চাঁদ দাঁড়িয়ে আছে।সে তাড়াতাড়ি দরজা খুলে চাঁদকে বাসায় ঢুকায়।চাঁদ তাড়াতাড়ি রুমে ঢুকে গোসল করতে চলে যায়। গোসল করে এসে শান্তির ঘুম দেওয়ার উদ্দেশ্যে।
অন্যদিকে তেজ তাদের রুমের দিকে যেতে নিয়ে ও ফিরে এসেছে চাঁদের দরজায়।প্রহেলিকা মাত্র দরজা আটকাতে নিছিলো কিন্তু তেজকে দেখে থেমে যায়। তেজ এসেই বলে উঠলো- ধন্যবাদ প্রহু,আমাকে সাহায্য করার জন্য নাহয় এই মেয়ে মরেই যেতো এমন থাকলে।
প্রহেলিকা ও সন্তুষ্টির হাসি দিয়ে বলল- রাগ কমেছে তাহলে মহারানীর,,দুইটা রাত মেয়েটা না ঘুমিয়ে কাটিয়েছে তাও আবার কেঁদে কেঁদে।তাই তো কাল বিকালে তোমাকে সব খুলে বললাম ওর সাথে আলাদা কথা বলার জন্য।
তেজও বোনের কথায় তৃপ্তির হাসি হেসে বলল- হ্যাঁ রে অনেক ধন্যবাদ তোকে।আমি তো এই মেয়ের কি হয়েছে ভেবেই ভয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছিলাম।
প্রহেলিকা মুচকি হাসি দিলো হঠাৎ কিছু মনো হতেই সে সন্দিহান কন্ঠে বলল- আচ্ছা তোমাদের ব্যাপার কি বলো তো! এক একজন এক একজনের কষ্টে এত ব্যাথিত কেনো?
তেজ এবার একটু শব্দ করে হেসেই বলল- যা ধরেছিস তাই,কিন্তু তোর বলদ বোন বুঝতে পারে না এখনো। আর কিছু দিন পরই তোর তেজ ভাইয়ার ঘড়ে তাকে নিয়ে আসা হবে আগে তোকে বিদায় করি।
এবার প্রহেলিকা আর তেজ দুজনই হেসে উঠলো। তেজ হাসি দিয়েই বলল- আমি যাই, তুই ও গিয়ে ঘুমা আর ওর খেয়াল রাখিস।
প্রহেলিকাও মাথা নারিয়ে দরজা আটকে দেয়।বোনের কথা ভেবে তার শান্তি লাগছে। তার বোন একজন সঠিক মানুষের কাছে যাবে।কিন্তু কোথাও জেনো বুকে ব্যাথা হচ্ছে।তাহলে কি সেও তেজ ভাইয়াকে,
না না সে কি ভাবছে এগুলো।নিজের মাথায় নিজে চড় দেয় প্রহেলিকা। বোনের এত সুন্দর ভবিষ্যতে সে কীভাবে বিষন্নতার শ্বাস ছেড়েছে এটা ভেবেই খারাপ লাগছে তার। কিন্তু কি করার ছোট বেলা থেকে মানুষটার ব্যাক্তিত্বের পখরতা দেখে একটু দুর্বলতা তো সৃষ্টি হয়েছে কোথাও। কিন্তু প্রহেলিকা এগুলো পাত্তা না দিয়েই রুমের দিকে পা বাড়ালো।রুমে গিয়ে দে চাঁদ গুটিশুটি হয়ে বিছানায় শুয়ে আছে।
প্রহেলিকা এগিয়ে যায়।চাদর টা বোনের উপর টেনে দেয়।কপালে হাত বুলিয়ে দেয়।বড্ড আদর করে যে এই পিচ্চিটাকে।পিচ্চিটার অনেক ভালো থাকুক সেটাই চায় সে।বোনের পাশেই শুয়ে পড়লো প্রহেলিকা।
____________________________
সকালে,
হৃদি চাঁদকে ডাকছে- ঐ চাঁদুজান ওঠে পর দেখ না কে এসেছে তাড়াতাড়ি ওঠ।
চাঁদের কোনো হেলদুল নেই।সে উল্টো ফিরে আবার ঘুম।হৃদি না পেরে চাঁদকে হেঁচকা টানে উঠিয়ে দরজার কাছে নিয়ে গেলো।
চাঁদ ঘুমঘুম চোখে সোফায় বসে থাকা মানুষ গুলোকে দেখে ঘুম উবে গেলো।কারণ সোফায় বসে আছে……..
চলবে,,,