#সাহেবা
#বোরহানা_আক্তার_রেশমী
___
৫.
সবুর মিয়াকে হাজার বলা সত্বেও সে ডাক্তারকে ডেকে আনেনি। এদিকে সাইরাহ্-র জ্বর একবার কমে তো আরেকবার বাড়ে। তাহেরা অসহায় হয়ে মেয়ের পাশে বসে আছে। সাইরাহ্-র শরীর আগুনের মতো উত্তাপ ছড়াচ্ছে। মাথায় পানি ঢেলে আবার জলপট্টিও দিচ্ছে তাহেরা। মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আফসোস করে বলে,
‘তুই ম’ইরা গেলেই বাঁইচা যাইতি মা। ক্যান তুই বি’ধবা হইলি? তোর স্বামীর জায়গায় তুই ম’রলি না ক্যান?’
মুখে আঁচল চেপে কেঁদে ওঠেন। মেয়েকে একটা মা এই কথাগুলো বলতে পারে! মেয়ের দুঃখ দেখলে তারও যে বুকটা ক্ষ’ত বি’ক্ষ’ত হয়। তার কান্নার মাঝেই উঠান থেকে পুরুষ কন্ঠের হাক ভেসে আসে। তাহেরা একবার সাইরাহ্-র মুখের দিকে তাকায়। জ্বরে মেয়ের হুশ নেই। সেভাবে রেখেই তিনি বাহিরে ছুটলেন। সবুর মিয়া বারান্দায় বসে ছিলেন। তাহেরা বাহিরে গিয়ে দেখে গ্রামের ডাক্তার এসেছে। ডাক্তার এসেই সবুর মিয়ার উদ্দেশ্যে বলে,
‘কি ব্যাপার সবুর মিয়া! তোমার মেয়ের নাকি জ্বর! তা ঔষধ আনো নাই কেন?’
সবুর মিয়া সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে শুধায়, ‘আপনেরে ক্যাডা কইলো?’
‘বলা লাগে? শোনা যায়। তা মেয়ে কই তোমার?’
তাহেরা বলতেই যাবে তার আগেই সবুর মিয়া ফের বলেন, ‘আমার কাছে টেকা পয়সা নাই ডাক্তার সাহেব। মাইয়ারে দেখামু না।’
‘তোমার কাছে টাকা পয়সা কিছু চাইছি? সবুর মিয়া, নিজের মেয়েরে এতো অবহেলা কইরো না। ভাবী! সাইরাহ্ কই?’
‘ঘরে।’
ডাক্তার সাহেব তাহেরার সাথে ঘরের ভেতর যায়। সাইরাহ্-কে পরখ করে ঔষধ দেয়। সাথে আরো কিছু পরামর্শ দেয়। সাইরাহ্ ততক্ষণে চোখ মেলে তাকিয়েছে। জ্বরে তার চোখ জ্বালা করছে। নিভু নিভু চোখে ডাক্তার সাহেবকে দেখে একটু অবাক-ই হয় সাইরাহ্। ডাক্তার সাহেব হেঁসে বলে,
‘তুমি আসলেই ভাগ্যবতী সাইরাহ্।’
সাইরাহ্ বোঝে না। তাহেরা পাশে ছিলো সেও বোঝে না। ডাক্তার সাহেব বেড়িয়ে যায়৷ উনি মেয়েটাকে ভাগ্যবতী কেনো বললো? স্বামী মা’রা যায় কি ভাগ্যবতীদের? দিনের পর দিন কি ভাগ্যবতীরা নিজের ভাগ্য নিয়ে খোঁটা পায়? অপমানিত হয়? কোনদিকে থেকে সে ভাগ্যবতী? সাইরাহ্-র বুঝে আসে না। ডাক্তার সাহেব যাওয়ার আগে একটাবার সাইরাহ্-র ফ্যাকাশে মুখপানে তাকায়। বিড়বিড় করে বলে,
‘আল্লাহ যা করেন তা ভালোর জন্যই করেন। স্বামীকে না হারালে তুমি এই এক আকাশ সমান ভালোবাসা হারাতে। তোমার স্বামী বেঁচে থাকলে তোমাকে কতটা ভালোবাসতো তা জানা নেই কিন্তু এখন যে তোমার জন্য অস্থির হয়ে আমার কাছে এসেছিলো তার মতো ভালো তোমাকে কেউ বাসবে না। মুখে অস্বীকার করুক, গোপনে থাকুক তবুও সে তোমাকে আগলে রাখার যে চেষ্টা করে এটা তোমার আপন কেউও করে না। সুখী হও মা। তুমি এবং তোমরা সুখী হও।’
__
সাইরাহ্ ঔষধ খেয়ে এবং মায়ের যত্নে অনেকটাই সুস্থ হয়ে গেছে। বিকেল হতে হতে তার জ্বরটা ছেড়ে গায়ে ঘাম দেয়া শুরু করেছে। সারাদিন ঘরে শুয়ে শুয়ে শরীরটা যেনো আরো খারাপ হচ্ছিলো তাই নিজ থেকেই উঠে বাহিরে আসে। বারান্দায় তখন তার মা বসে কাঁচা তরকারি কেটে নিচ্ছে রান্নার জন্য। দাদী সম্ভবত ঘরে ঘুমাচ্ছে। সোহেল গেছে খেলতে। সবুর মিয়াও দোকানে। সাইরাহ্ মায়ের কাছে এসে বসে৷ তাহেরা মেয়েকে দেখে ব্যস্ত গলায় বলে,
‘তুই উইঠা আইছোস ক্যান? তোর শরীলডা এহনো ভালা না। শুইয়া থাক যা!’
‘ঘরের মধ্যে আমার দম বন্ধ লাগে আম্মা। আমি একটু বাইরে যাই? প্রকৃতির সতেজ বাতাস গায়ে লাগলে আমার অনেক সুস্থ মনে হয় নিজেকে।’
তাহেরা একবার মানা করবে ভেবেও করে না। মেয়েটার ঘরে বাইরে কোথাও শান্তি নেই। যেখানেই যাক মানুষের দল তাকে ঝেকে ধরে। কটু কথা শোনাতে পিছপা হয় না। হোক তাতে সামনের মানুষটা ক্ষ’ত বি’ক্ষ’ত তবুও তাদের মুখ থামে না। তাহেরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
‘যা। সাবধানে যাইস। কেউ কিছু কইলে হুনবি না। চইলা আইবি।’
সাইরাহ্ মাথা নাড়ে। শাড়ির আঁচল মাথায় তুলে সে ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করে। বিকেলের আবহাওয়াটা একটু কম গরম থাকে। তারওপর গ্রাম এলাকায় গাছপালা বেশি হওয়ায় বাতাসটাও বেশ। সাহেরা দু হাতে নিজের বাহু আঁকড়ে হাঁটতে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে যখন বাগান পায় তখনই পিছন থেকে ডেকে ওঠে সীমান্ত। সাইরাহ্ চট করে পিছনে তাকাতে গিয়েও তাকায় না। মাথায় থাকা শাড়ির আঁচল টেনে মুখ ঢাকে। রয়ে সয়ে পিছনে তাকাতে তাকাতেই সীমান্ত তার কাছ অব্দি চলে এসেছে। ঠোঁটের কোণের হাসি প্রশস্ত করে বলে,
‘তোমার জ্বর কমেছে সাইরাহ্?’
সাইরাহ্ মাথা উপর নীচ নাড়ায়। সীমান্ত হাত বাড়াতে গেলে সাইরাহ্ দু পা পিছিয়ে যায়। সীমান্ত বাড়ানো হাতটা সরিয়ে নেয়। মুখের হাসিটুকুও উধাও হয়ে যায়। সাইরাহ্ বেশ ইতস্তত করে বলে,
‘কিছু বলবেন সীমান্ত ভাই?’
সীমান্ত হাঁসার চেষ্টা করে। নিজেকে সামলে বলে, ‘চলো এগোই।’
‘না থাক। আমি একা যেতে পারবো। আপনি চলে যান।’
সীমান্ত অসহায় দৃষ্টিতে তাকায়। মেয়েটা বার বার তাকে ফিরিয়ে দেয় কেনো? মেয়েটা কখনোই বুঝবে না তার প্রতি এই পুরুষটির ভালোবাসা? মেয়েটা সত্যিই বোঝে না? নাকি বুঝতে চায় না? সীমান্ত ব্যাথিত কন্ঠে বলে,
‘আমাকে বার বার ফিরিয়ে দিয়ে তুমি বড্ড মজা পাও সাইরাহ্। আমাকে এতো ব্যাথা দিয়ে তুমি সুখ পাও? তুমি কি কখনোই বুঝবে না আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি!’
সাইরাহ্ হাসে। অদ্ভুত ভাবে হেঁসে বলে, ‘কিছু জিনিস না বোঝা ভালো সীমান্ত ভাই৷ বুঝলে ব্যাথা বাড়বে, বিরহ বাড়বে। বিশ্বাস করুন! আমি বড্ড ভাঙা। বার বার ভাঙতে আমার যে বড্ড কষ্ট হয়।’
সীমান্ত সাইরাহ্-র দিকে দু পা এগোয়। ঠিক সেভাবেই সাইরাহ্-ও পিছিয়ে যায়। সীমান্তর চোখে স্পষ্ট ব্যাথা ফুটে ওঠে। সাইরাহ্ শ্বাস আটকে রাখে। এই পুরুষে আটকে যাওয়া মানে গোটা এক জীবন ধ্বংস করা। উনি যে নিষিদ্ধ পুরুষ। যে পুরুষের মা তার ছায়াও পছন্দ করে না সেই পুরুষকে কি জীবনসঙ্গী হিসেবে চাওয়া এতো সহজ? সীমান্ত ফাঁকা ঢোক গিলে। ভাঙা স্বরে আওড়ায়,
‘আমি তোমাকে ভেঙে দিতে ভালোবাসিনি। ভালোবাসবো বলেই বেসেছি। তুমি বোঝো না সাইরাহ্, বোঝাে না।’
সাইরাহ্ চুপ থাকে। এর মাঝেই দুর থেকে নাজিরা ডেকে ওঠে সীমান্তকে, ‘সীমান্ত ভাই!’
সীমান্ত, সাইরাহ্ দুজনেই চমকায়। তার থেকেও বেশি চমকায় নাজিরা। সীমান্তের সাথে নারী অবয়বটা মুহুর্তেই তার ভেতরে ঝড় তুলে দেয়। কোনোরকম ফাঁকা ঢোক গিলে এগিয়ে আসে। সামনে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারে নারীটি সাইরাহ্। নাজিরা একবার তার দিকে আর একবার সীমান্তের দিকে তাকিয়ে বলে,
‘আপনি এখানে? কোনো দরকার? আর সাইরাহ্ বুবু!’
সীমান্ত দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরিয়ে বলে, ‘একা হাঁটছিলো তাই এগিয়ে এসেছি। তুমি এখানে?’
‘পড়তে গিয়েছিলাম। বাড়ি ফিরবেন না?’
‘হ্যাঁ। তুমি যাও!’
‘সাহিত্য ভাইজান বাড়িতেই আছে। আপনাকে যেতে বলেছিলো। একসাথে যাই?’
সীমান্ত মুখের ওপর মানা করতে গেলে সাইরাহ্ আগেই বলে, ‘আমি আসি।’
সাইরাহ্ দ্রুত পায়ে এগোতে শুরু করে। সীমান্ত নাজিরাকে ফেলেই তার পিছু পিছু এগিয়ে যায়। ব্যস্ত স্বরে বলে, ‘সাইরাহ্ দাঁড়াও।’
‘আর পিছু ডাকবেন না সীমান্ত ভাই। আমার অসহায় লাগে।’
সীমান্ত শুধু অপলক তাকায়। গলার ভেতরকার কথাগুলো গিলে নিয়ে বলে, ‘আচ্ছা যাও৷ নিজের যত্ন নিও।’
সীমান্ত চলে যেতে নেয়। ‘যত্ন’ থেকে সাইরাহ্-র ডাক্তারের কথা মনে পড়ে। সে একটু জোড়েই সীমান্ত কে ডাকে, ‘সীমান্ত ভাই শুনুন!’
সীমান্ত তাকায়। সাইরাহ্ অকপটে শুধায়, ‘আপনি কি আমাদের বাড়িতে ডাক্তার কাকাকে পাঠিয়েছিলেন?’
সীমান্তের সহজ স্বীকারোক্তি, ‘না তো। কেনো? তোমার আব্বা ডাক্তার ডাকে নাই?’
সাইরাহ্ অবাক হয়। প্রশ্নের জবাব দেয় না। তার বাবা তার জন্য ডাক্তার ডাকার মতো মানুষ নয়। তাহলে? কে পাঠিয়েছিলো ডাক্তার? সাইরাহ্ মাথায় হাজারটা প্রশ্নের চিন্তা নিয়ে উল্টো ঘুরে হাঁটা শুরু করে। সীমান্ত অবাক হয়ে তাকায়। পেছন থেকে দু’বার সাইরাহ্ বলে ডেকেও লাভ হয় না। সীমান্ত নিজের অবাকতা নিয়েই নাজিরার দিকে এগিয়ে যায়। মেয়েটা তখনো সেখানেই দাঁড়ানো। সে সব কথা স্পষ্ট না শুনলেও সব দেখেছে। সীমান্তের চোখে অন্য কিছু ছিলো যা সে স্পষ্ট বুঝেছে। সীমান্ত এগিয়ে এসে বলে,
‘চলো!’
নাজিরা রোবটের মতো মাথা নাড়ায়। দুজনে পা মিলিয়ে হাঁটতে শুরু করে। কিছুটা পথ যাওয়ার পর অনুভূতিশূণ্য কন্ঠে, শ্বাস আটকে নাজিরা শুধায়,
‘আপনি কি সাইরাহ্ বুবুকে ভালোবাসেন?’
সীমান্ত চমকায়, থমকায়। চট করে নাজিরার মুখপানে তাকায়। নাজিরা উত্তরের আশায় তাকিয়ে আছে। মনে রেখেছে সুপ্ত আশা। সেই সুপ্ত আশাকে ভেঙে সীমান্ত বলে দেয়,
‘তুমি ছোট মানুষ। এসব তুমি বুঝবে না। এ নিয়ে প্রশ্নও কোরো না।’
নাজিরা মাথা নামিয়ে নেয়। সীমান্ত ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনোটাই বলেনি। কিন্তু তার কথাতে নাজিরা বুঝে গেছে সীমান্তের মনের খবর। মুহুর্তেই নিজের হৃদয় ভেঙে দুটো টুকরো যেনো হয়ে গেছে। চোখের কোণ জ্বালা করে। নাজিরা চোখ পিটপিটিয়ে নিজের কান্না দমানোর চেষ্টায় থাকে। মনে মনে আওড়ায়,
‘শখের পুরুষের মনে অন্য নারীর বাস। অথচ আমার মনের একটুখানি জায়গাও যে নেই সে ছাড়া অন্য কাউকে দেবার মতো। হায় নিয়তি! আমার ভালোবাসার বিপরীতে ভালোবাসা পেলে বুঝি পৃথিবীর নিয়ম ভঙ্গ হতো?’
—
সাইরাহ্ আজও নদীর পাড়ে এসেছে। মাথার আঁচল মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। সে এক ধ্যানে তাকিয়ে রয় নদীতে থাকা তার প্রতিবিম্বের দিকে। ভাবছে আর মিলাচ্ছে নিজের জীবনের সমীকরণ। তার ভাবনার মাঝেই সাহিত্য সিড়ি ডিঙিয়ে আসতে আসতে বলে,
‘এ্যাই সাহেবা! জলদি মাথায় কাপড় দে। তুই তো আবার বলিস তোর মুখ দেখলে নাকি জনগণের অমঙ্গল হয়! তা আমি দেখলে তো নিশ্চিত আমারও হয়ে যাবে।’
সাইরাহ্ কপাল কুঁচকায়। এই লোকটা আজীবন তার কাটা গায়ে কেবল নুনের ছিটা দিয়েই গেলো। সাইরাহ্ মাথার কাপড় তুলে মুখটাও ঢেকে নেয়। ততক্ষণে নদীর স্বচ্ছ পানিতে সাইরাহ্-র প্রতিবিম্ব সাহিত্য দেখে নিয়েছে। সাইরাহ্-র অজান্তেই সাহিত্য হাসে। তারপর গম্ভীর গলায় বলে,
‘তুই এখানে কি করিস সবসময়? তোর জ্বালায় দেখি নদীর পাড়েও শান্তি নেই।’
সাইরাহ্ কটমট করে ওঠে। দাঁতে দাঁত চেপে বলে, ‘আমি আপনাকে কি জ্বালিয়েছি? আমি আপনার কোন পাকা ধানে মই দিয়েছি বলেন তো? সবসময় আমার পায়ে পা লাগিয়ে কেনো ঝ’গড়া করেন?’
সাহিত্য অবাক হয়ে নিজের পায়ের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘আমি তোর পায়ে কখন পা লাগালাম? দেখ তো তোর থেকে আমার পা কত দুরে! আশ্চর্য সাহেবা! তুই আমার চরিত্রে দাগ লাগাচ্ছিস!’
সাইরাহ্-র ইচ্ছে করে হয় নিজে এই নদীর পানিতে ডুবে ম’রতে নয়তো এই লোকটাকে ডুবিয়ে মা’রতে। কিন্তু দুটোর কোনোটাই সে পারবে না। তাই নিজের রাগ সামলে বলে,
‘আমি আপনার মতো ঝ’গ’ড়ু’টে পুরুষ এ জীবনে একটাও দেখিনি সাহিত্য ভাই।’
‘তুই আমাকে ঝ’গ’ড়ু’টে বলছিস? আমাকে? সাহেবা, তুই আমার মতো শান্ত, ভদ্র, ভালো একটা ছেলের নামে এই কথা বলতে পারলি?’
সাহিত্যের কথার ধরণ শুনে সাইরাহ্ রাগে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। সাহিত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলে, ‘আপনি আমার জীবনে, গলায় এমনকি পথেও একটা কা’টার মতো। যে শুধু আমাকে কাঁটার মতো ফোটাতেই জানে। আপনি আমার তিক্ত জীবনে আরো বেশি তিক্ততা ঢেলে দেন।’
সাইরাহ্ রাগে গড়গড় করে বলে গেলেও একবারও তাকায় না সাহিত্যের মুখের দিকে৷ সাহিত্য অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। সাইরাহ্ রাগের চোটে নিজের শাড়ি না ধরেই সিড়ি দিয়ে উঠতে গেলে সিড়িতে পা বেঁধে উল্টে পড়তে নেয়। আকস্মিক এমন কান্ডে সাহিত্য কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাইরাহ্-র ধাক্কায় সেও নদীতে পিছলে পড়ে যায়। সাহিত্য দ্রুত আঁকড়ে ধরে সাইরাহ্-কে। সাইরাহ্-র মাথার কাপড় সরে গেছে। সাহিত্য কোনোরকম তাকে দাঁড় করিয়ে শক্ত করে ধরে থাকে। সাইরাহ্ ভয়ে সাহিত্যের এক হাত জাপ্টে ধরে তার দিকে তাকায়। তখনো তার হৃদয়ের গতি দ্রুত চলছে। সাহিত্য শান্ত কন্ঠে বলে,
‘অথচ বার বার তোকে শক্ত খুঁটির মতো আগলে ধরি আমি।’
সাইরাহ্ ফ্যালফ্যাল করে তাকায়। বুঝে ওঠে না অর্ধ কথার মানে। সাহিত্য হেঁসে সাইরাহ্-র হাত ধরে তাকে উঠিয়ে দেয়। সাইরাহ্ দ্রুত শাড়ি শরীরে পেচিয়ে ছুট লাগায় বাড়ির দিকে। সাহিত্য সেদিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলে,
‘একটা অ’ন্যায় করেছি তোর সাথে। আর একটা অ’ন্যায় করছি নিজের সাথে। আগেও করেছি, এখনও করছি, ভবিষ্যতেও করবো৷ যে অ’ন্যায় আমি করেছি তার শোধ হিসেবে তোর সুখ আমি এনে দিবো। তুই যার-ই হোস কেবল তুই সুখী হ। সাহেবা তুই দুনিয়া বুঝে গেছিস শুধু এই আ’ধা’পা’গ’ল লোকটাকে বুঝলি না। বুঝবিও না। এই লোকটাকে বোঝা তোর সাধ্যে নেই সাহেবা।’
চলবে..