সায়েবা আসক্তি পর্ব-৩৮+৩৯

0
782

#সায়েবা_আসক্তি
#লেখিকা_সানজিদা_বিনিতে_সফি
#পর্ব_৩৮

একটা ছেলের গা ঘেষে থাকতে তোমার লজ্জা করে না!

ফায়জার গম্ভীর গলায় উক্ত বাক্যটি শুনে লাজুক হাসলো মেয়েটি।চেহারায় ন্যাকা ন্যাকা ভাব এনে বললো,
— এমন ড্যাশিং একটা ছেলের গা ঘেষে থাকতে পারা তো ভাগ্যের ব্যাপার। আমার আদিব কে দারুণ লাগে।অসম্ভব কেয়ারিং একটা ছেলে।এই দেখুন, আমার শাড়ি টা ও নিজে সিলেক্ট করে দিয়েছে।

— পড়িয়ে দেয় নি?(দাতে দাত চেপে)

— ইসস,,কি যে বলেন না আপু!শাড়ির কুচি গুলো তো সে ই ঠিক করে দিয়েছে। আমার তো তখন খুশিতে ম*রে যেতে ইচ্ছে করছিলো।

— তাহলে বেচে আছো কেন?

ফায়জার কথা শুনে হচকচিয়ে গেলেও নিজেকে সামলে নিল সে।কপালের উপর পরে থাকা চুক গুলো কানের পাশে গুজে লাজুক ভঙ্গিতে বললো আশা।সম্পর্কে আদিবের ছোট খালার মেয়ে।তার মা বাবা ইতালি প্রবাসী। সে ও তাদের সাথেই থাকে।কয়েক দিন আগে আদিবের জরুরি তলবে দেশে এসেছে আশা।

ফায়জা কটমট করে তাকিয়ে আছে আশার দিকে। তাতে বিন্দুমাত্র পাত্তা দিচ্ছে না সে।চোখ ঘুড়িয়ে এদিক ওদিক আদিব কে খুজে চলেছে। মনে হচ্ছে আদিব কে এক মুহুর্ত না দেখে সে মা*রা যাচ্ছে।

ফায়জার বিরক্তি এবার আকাশ ছুয়েছে।ছোট ছেলের প্রেমে পড়লে এই এক জ্বালা।রিজেক্ট কি করেছে, সাথে সাথেই আরেক জনের গলায় ঝুলে পড়েছে।আবার শাড়ি ও পড়ানো হচ্ছে। বেহায়া মন টার ও শেষ পর্যন্ত এই ঢিলা ছেলের প্রেমে পড়তে হলো! প্রেমিক হওয়ার বেসিক কোন গুণ ই নেই ফালতু ছেলের।অথচ তার ভাই কে দেখো!বউয়ের প্রেমে দিওয়ানা হয়ে আকাশে বাতাসে উড়ছে।আরেক জন গোপন ভালোবাসার পি এইচ ডি করে ফেলেছে।একমাত্র সে ই এভাবে পাবদা মাছের মতো হা করে আছে। ফায়জা গমগমে পায়ে এগিয়ে গেলো ফারহানা বেগমের দিকে। শাহানা বেগম,সাহেরা বেগম সহ অনেকেই সেখানে গল্প করছে।আফরিন বেগম ও আছেন সেখানে।পাশেই এক ছেলের সাথে কথা বলছে আদিব।সম্ভবত কোন কাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে। ফায়জা আগুন চোখে সেদিকে একবার তাকিয়ে ফারহানা বেগম কে ডাকলো।ফারহানা বেগম শুনে ও না শোনার ভান করে আছে।পর পর কয়েকবার ডাকতেই ফারহানা বেগম কপাল কুচকে বললেন,

— ছাগল ছানার মতো ম্যা ম্যা করছো কেন?কি চাই তা বলো।বড় হয়েছো, এখন আর আম্মু কে লাগবে কেন?সব সিদ্ধান্ত তো নিজেই নিতে পারো।

ফায়জা কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো মায়ের দিকে।ফারহানা বেগমের কথা সম্পুর্ন অগ্রাহ্য করে গম্ভীর গলায় বলল,

— তোমার মেয়ে বুড়ো হয়ে যাচ্ছে সে খেয়াল আছে?ছেলে দেখো আমার জন্য। যত দ্রুত সম্ভব বিয়ে করবো আমি। ,ছেলে যাতে শাড়ী পড়াতে না পারে এমন ছেলে খুজবে।শাড়ি পড়াতে পারা ছেলে আমার একদম পছন্দ না।

ফারহানা বেগম মেয়ের উপর বেজায় বিরক্ত।এ কেমন কথা!এখন কি ছেলে ধরে ধরে জিজ্ঞেস করবে শাড়ি পড়াতে পারো কি না!আমার মেয়ে শাড়ি পড়াতে জানা ছেলে একদম ই পছন্দ করে না।আদিব স্থির চোখে তাকিয়ে আছে ফায়জার দিকে।মনে মনে এই মেয়েকে একশ বার খু*ন করে ফেলেছে সে এতক্ষণে। এখন শুধু হাতে করা বাকি।তবে খু*ন করার আগে সে একটা ভয়ংকর লজ্জাজনক চুমু খেয়ে নিবে।তার সন্দেহ, এতেই এই মেয়ে লজ্জায় ম*রে যাবে। রক্তা রক্তির কোন প্রয়োজন নেই। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে কঠোর গলায় বলল,

— আমাকে শক্ত করে ধরে থাক।যাতে আমি ওই মেয়েটার ধারে কাছে ও এখন যেতে না পারি।আজ যদি মেয়েটা আমার হাতে খু*ন হয় তাহলে তোকে আমি দেখে নিবো।তোর ভুলের জন্য আমি সারা জীবন সিঙ্গেল থাকতে পারবো না।নে ধর,শক্ত করে হাত ধরে থাকবি।

ছেলেটা বোকার মতো তাকিয়ে রইলো কয়েক সেকেন্ড। এখানে তার ভুলটা কি খোজার বিন্দুমাত্র চেষ্টা না করে আদিবের হাত ধরে রাখলো শক্ত করে। আদিবের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফায়জাতে নিবদ্ধ।

🌸

সায়েবা অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে ফারহানের দিকে।জ্ঞান ফিরতেই সে নিজেকে ফারহানের বাহুবন্ধনে আবিস্কার করেছে।মনের মধ্যে প্রশান্তি বয়ে গেলেও আচানক ফারনার উষ্ণ স্পর্শে কেপে উঠে সে।ফারহান একের পর এক চুমু খেয়ে যাচ্ছে সায়েবার পেটে।এদিকে সুরসুরিতে অবস্থা নাজেহাল সায়েবার।ফারহান কে বলতেই সে চুমুর গতি বাড়িয়ে দিয়েছে।

— এবার থামুন প্লিজ।কি করছেন কখন থেকে।

— বিবাহিত মেয়েদের সুরসুরি থাকতে নেই বউ। আজ সুরসুরি শেষ করার ব্যবস্থা করছি।আর কোথায় কোথায় সুরসুরি আছে বলে দাও তো।প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সায়েবা কথা বলতেই ভুলে গেলো। মুখ ফুলিয়ে ফারহানের দিকে তাকিয়ে চুপ করে রইলো। ফারহান পেট থেকে সরে এসে সায়েবার মাথা টা নিজের বুকে চেপে ধরলো। ভরাট গলায় বলল,

— আমাকে এতো খুশি দেয়ার জন্য ধন্যবাদ বউ।আমাকে বাবা ডাক শোনার সুযোগ করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমরা পেরেন্টস হচ্ছি।

সায়েবা অবাক চোখে তাকালো ফারহানের দিকে। চোখ থেকে কয়েক ফোটা অশ্রু ঝড়ে গেলো সাথে সাথে। কাপা কাপা হাত টা পেটে রেখে ডুকরে কেদে উঠলো সে।ফারহান আগলে নিলো তার প্রেয়সী কে।শব্দ করে চুমু খেলো সায়েবার মাথায়।আর অপেক্ষা করতে লাগলো সুখের কান্না থামার।এখনো যে ভালোবাসায় সিক্ত হওয়া বাকি।

🌸
ফরহাদের ফোন রিসিভ করছে না নীতি। কি নিয়ে রেগে আছে হাজার বার চিন্তা করে ও খুজে পায়নি সে।তাই একের পর এক কল করেই যাচ্ছে। উদ্দেশ্য হবু বউয়ের রাগ ভাঙানো।

— কি সমস্যা??

নীতির প্রশ্নে মুচকি হাসলো ফরহাদ।শান্ত গলায় বলল,।

— কোন সমস্যা নেই তো?

— তাহলে এতো বার কল দিচ্ছেন কেন?(রেগে)

— তুমি বড় আম্মু হচ্ছো সেই সংবাদ দিতে।

— মানে?

— মানে আমি বড় আব্বু আর তুমি বড় আম্মু হবো খুব তাড়াতাড়ি। সায়েবা কনসিভ করেছে।

— সত্যিই!!!
নীতি খুশিতে চিৎকার করে উঠেছে।সাবা ওর পাশেই ছিলো। সে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নীতির দিকে।

— আমার আর তর সইছে না।ইসস কখন যেতে পারবো ও বাড়িতে।

শেষের কথাটা মন খারাপ করে বললো নীতি। ফরহাদ মুচকি হেসে মন্থর গলায় বলল,

— তুমি চাইলে এখনি আসতে পারো।আমি বরবেশে তোমার সামনে হাজির হয়ে যাবো।

ফরহাদের কথায় লজ্জায় লাল হয়ে গেলো নীতি। লাজুক গলায় কথা এড়ানোর চেষ্টা করে বললো,

— সায়েবা কোথায়?ও কেমন আছে এখন?

— আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে।নিজের রুমে রেষ্ট করছে।

— ও আচ্ছা। আপনি কি এজন্য ই আমার কল রিসিভ করেন নি?(মিনমিনে গলায়)

— হুম।আম্মু আর ফায়জা তো বাসা মাথায় তুলেছিলো। আমি ও ভাগদার হচ্ছিলাম ওদের খুশির। পুরো বিল্ডিং নিজের হাতে মিষ্টি বিলিয়েছি।ছোট ভাই বাবা হয়ে যাচ্ছে,আর এদিকে আমার ঘরে বউ আসার ই খবর নাই।তারাতাড়ি চলে আসো আমার ঘরে। আমি ও ঝটপট বাবা হয়ে যাই।

সাথে সাথে কল কেটেছে নীতি। লোকটা দিন দিন লাগামহীন হচ্ছে।

— কি হয়েছে সায়েবার?

সাবার দিকে তাকিয়ে বিস্তর হাসলো নীতি। হাসি মুখে বললো সায়েবার মা হওয়ার কথা। সাবা কাদো কাদো মুখ বানিয়ে বসে রইলো।

— এভাবে মুখ ফুলিয়ে বসে আছিস কেন? (ভ্রু কুচকে)

— তো কি করবো? এক বান্দপি মা হয়ে যাচ্ছে আরেক বান্দপির বিয়ে খেতে এসে চেপ্টা হয়ে পরে আছি।আমি সিঙ্গেল ই মরবো।এই তোর শ্বশুর আরেকটা ছেলে পয়দা করলে কি তার বিল্ডিংয়ের একতালা আমি নিয়ে নিতাম?(ঝাজালো গলায়)।এখন আমার কি হবে!

নীতি হেসে জড়িয়ে ধরলো সাবা কে।

— তুই সিঙ্গেল ই থাক।আর আমাদের সাথেই থাক।তোর বিয়ে হয়ে গেলে আমাদের কি হবে! তোকে আমি আজীবন সিঙ্গেল ঘোষণা করলাম।

চলবে,,,

#সায়েবা_আসক্তি
#লেখিকা_সানজিদা_বিনতে_সফি
#পর্ব_৩৯

বারান্দায় দাঁড়িয়ে আশার সাথে কথা বলছে আদিব।সেদিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল ফায়জা।মন কে শান্তনা দিলো,যা হচ্ছে ভালো হচ্ছে। বাস্তবিক অর্থে এটাই হওয়ার ছিলো। পাশাপাশি বারান্দায় দাঁড়িয়ে দুজন। একজন অন্যকে নিয়ে ব্যাস্ত।আরেকজন নিকষ কালো অন্ধকার আকাশ দেখতে।আড়চোখে ফায়জা কে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে আদিব।ফায়জার উদাস দৃষ্টি ভাবিয়ে তুলছে তাকে।সে ডাক্তার না হলেও এটা খুব ভালো করেই জানে ডিপ্রেশন মানুষ যে বারবার আত্মহত্যার দিকে নিয়ে যায়।ফায়জা কে এখন যথেষ্ট হাসিখুশি রাখা উচিত। কিন্তু এই মেয়ে নিজেই ডিপ্রেশন কে আমন্ত্রণ করে বসে আছে। এখানে তার ই বা কি করার আছে!

— ওদিকে এতো কি দেখছো?আমি তোমার সামনে দাঁড়িয়ে।

আদিব আতংকিত গলায় বলল,

— দূরে সর। কাজিন জাতি কে আমি খুব ভয় পাই।এই কাজিন জাতির জন্য আমার জীবন সাত তালায় এসে ঝুলে আছে। প্রেমিকার কাজিন যে আগুন লাগিয়েছে তাই এখনো নিভাতে পারলাম না।তুই আবার কোন আগুন লাগাস না বোন।

আশা মুচকি হেসে আদিবের গা ঘেষে দাড়ালো। ফিসফিস করে কানের কাছে বললো,

— তোমার এবার বিয়ে করে ফেলা উচিত ভাইয়া।কানের কাছের দুটো চুল পাক ধরেছে।এর পর আর মেয়ে পাবে না। তাই যা করার তারাতাড়ি করতে হবে। বুঝেছো?

বিজ্ঞের মতো মাথা নাড়ালো আদিব।কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো,

— কিন্তু বউ তো রাজি না।

আশা চেহারায় গম্ভীর ভাব এনে বললো,

— রাজি না হলে রাজি করাতে হবে। আজকে এর একটা হেস্তনেস্ত করেই আমরা দম নিবো।আজ বিয়ে করবে না হলে জটাধারী হয়ে বাড়ি ছাড়বে।

— এই তুই আমাকে ঘর ছাড়ানোর প্ল্যান করছিস না তো।এই নিষ্ঠুর মেয়ে কোন দিন ও রাজি হবে না।তাহলে আমার বাড়ি ছাড়া অনিবার্য।

আশা কুটিল হেসে আদিব কে বিভ্রান্ত করে ফেললো।

— সে আজ ই তোমাকে বিয়ে করবে।বিয়ের প্রিপারেশন নিয়ে ফেলো।চট করে গিয়ে শপিং টা করে ফেলো। এদিক টা আমি সামলে নিচ্ছি।

আদিব ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো আশার দিকে।এদিকে ফায়জা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাদের দিকেই তাকিয়ে।

আরো কিছুক্ষন কথা বলে আদিব চলে গেলো বারান্দা থেকে। আশা নিজের ফোনে ব্যস্ত হয়ে গেলো। ভাব টা এমন সে ফায়জা কে দেখেই নি।ফায়জার দৃষ্টি আশার দিকে। মেয়েটার হাবভাব ভালো লাগছে না তার কাছে।

আশা আড়চোখে ফায়জার দিকে তাকিয়ে ফোন কানে ধরলো। গোপনীয় ভঙ্গিতে বলতে লাগলো,

— হ্যালো আম্মু।হুম এদিকে সন ঠিক আছে।সব প্ল্যান মতো ই হচ্ছে। আদিব বলেছে ওই মেয়েটা রাজি না হলে সে এবার আমাকেই বিয়ে করে ফেলবে।মেয়েটা রাজি হয়নি বুঝেছো।তাই তারাতাড়ি বিয়েটা সেরে ফেলতে হবে। তারপরেই আমাদের আসল খেলা শুরু। পৈচাশিক হাসি তে ফেটে পড়লো আশা।এদিকে ফায়জা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে আশার দিকে।এই মেয়েটার মধ্যে অনেক ঝামেলা আছে নিশ্চিত। আদিবের কোন ক্ষতি করতে চাইছে না তো!ফায়জার মাথা ঘুড়তে লাগলো।তড়িঘড়ি করে কল করলো আদিব কে।কয়েকবার রিং হতেই কল রিসিভ করলো আদিব।

— আসসালামু আলাইকুম আপু।হঠাৎ কল দিলেন!কোন প্রয়োজন ছিলো?

ফায়জা হতভম্ব হয়ে সালামের জবাব দিতে ভুলে গেলো। তব্দা খেয়ে দাঁড়িয়ে রইলো কিছুক্ষণ। সম্ভতি ফিরিতেই গম্ভীর গলায় বলল,

— ওয়ালাইকুম আসসালাম।শুনলাম বিয়ে করছো?

— হ্যা।আর কতো অপেক্ষা করবো বলুন?

আদিবের গলায় হতাশা স্পষ্ট। ফায়জা বুঝতে পেরে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। অস্পষ্ট গলায় বলল,

— কাকে বিয়ে করছো?

— আমার কাজিন কে।আশা নাম ওর।চেনো নিশ্চয়ই?

— হুম।

— আশা খুব ভালো মেয়ে।

— আদিব,ঠান্ডা মাথায় আমার কথা গুলো শুনবে। রিয়্যাক্ট করবে না।আশা কি বিয়ে করো না।ও কোন উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য তোমাকে বিয়ে করতে চাইছে।

ফায়জার অস্থির গলা শুনে মলিন হাসল আদিব।মলিন গলায় বলল,

— তুমি ছাড়া আমার জীবনে যদি অন্য কেউ আসে তাহলে সে কি উদ্দেশ্য নিয়ে এলো তাতে আমার কিছু যায় আসে না।সে যদি আমাকে মেরে ও ফেলে তাতে ও আমার কিছু যায় আসে না। অনুভূতিহীন হয়ে বেচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ই ভালো।

— তাই বলে জেনেশুনে,,,

— শেষ বারের মতো জিজ্ঞেস করছি,বিয়ে করবে আমায়?ভালোবাসার মানুষকে পাওয়া সবার নসিবে হয় না জান।তুমি বারবার তাকে পায়ে ঠেলে দিচ্ছো।ভালোবাসা ছাড়া থাকতে পারবে তো সারাজীবন? কাটাতে পারবে তো একটা জীবন আমিহীন?আমি যদি একবার আশা কে বিয়ে করে নেই তাহলে সারাজীবনের জন্য আমাকে হারাবে।শত ভালোবাসা থাকলে ও ফিরে তাকাবো না তোমার দিকে।তাই ভেবে উত্তর দিয়ো।

চোখ বন্ধ করে লম্বা শ্বাস নিলো ফায়জা।সে কিছুতেই আদিব কে অন্য কারো সাথে সহ্য করতে পারবে না।সামনে আদিবের বিপদ দেখে তো আরো আগে পারবে না।

— আমি রাজি।

সাথে সাথেই কল কেটেছে ফায়জা।বুক অসম্ভব ভাবে কাপছে।এদিকে মাঝ রাস্তায় টান টান হয়ে শুয়ে পড়েছে আদিব। এই মাঝ রাস্তায় ই তো এতো সুখের একটা মুহুর্ত পেয়েছে সে।ইচ্ছে করছে এখানেই ঘর বাড়ি বানিয়ে সংসার শুরু করতে।আচ্ছা, সরকার কি তাকে দিবে এই রাস্তাটুকু?চারিদিকে এতো সুখ সুখ লাগছে কেন?

🌸

–আমি রেগে আছি।

— কেন?

— আপনি আর আমাকে ভালোবাসেন না।
বলতে বলতে ফেচফেচ করে কেদে দিয়েছে সায়েবা।ফারহান হতাশ চোখে তাকিয়ে আছে সায়েবার দিকে।

— তোমার এমন কেন মনে হলো?

— তা নয়তো কি?আমার দিকে ফিরে ও তাকাচ্ছেন না।বিয়ে তো ও নিয়ে যাচ্ছেন না।আমার বেস্টুর বিয়ে।একটু নিয়ে যান না। প্লিজ।

সায়েবার আকুতি কে ফু দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে ঘড়ি পরায় মন দিলো ফারহান।সায়েবার কান্না বেড়েই চলেছে। ড্রেসিং টেবিলের থেকে চোখ সরিয়ে ধীর পায়ে হেঁটে গেলো সায়েবার দিকে।ফোলা ফোলা চোখে সেদিকে তাকিয়ে টিস্যু দিয়ে সর্দি মোছায় ধ্যান দিলো সায়েবা।নাক মুছতে মুছতে লাল করে ফেলেছে সে।সায়েবার আদুরে মুখের দিকে তাকিয়েই কল করলো ফরহাদ কে।

— আমি তোমার বিয়ে তে না থাকলে কি তুমি কষ্ট পাবে ভাই?

ফরহাদ অবাক হয়ে গেলো ফারহানের কথা শুনে। অস্থির গলায় বলল,

— কি হয়েছে ভাই?এ কথা বলছিস কেন?তুই আমার একমাত্র ছোট ভাই।না গেলে খারাপ লাগবে আমার।

সায়েবা কান্না বন্ধ করে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে ফারহানের দিকে। লোকটার মাথা খারাপ হলো নাকি!কি সব বলছে?

— আমার বউ যেতে পারবে না বলে কেদে কুটে মুখ চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে।তাকে এই অবস্থায় রেখে কি করে যাই বলো তো? নিয়ে ও তো যেতে পারবো না।বাইরে খুব গরম।এই অবস্থায় বোরকা পড়ে এতো ভীড়ের মধ্যে কিভাবে থাকবে ও?ডক্টর রেষ্টে থাকতে বলেছে পুরো পুরি।তোমরা চলে যাও।আমি সময় মতো পৌঁছে যাবো।

ফরহাদ ছোট্ট করে হুম বলে কেটে দিয়েছে।ফারহান সায়েবা কে বিছানা থেকে তুলে নিজের কোলে বসালো।লাল লাল গালে ভালোবাসার পরশ দিয়ে নিজের ফোন ধরিয়ে দিলো সায়েবার হাতে।ভিডিও কলে নীতি আর সাবা কে দেখা যাচ্ছে।

— কাদিস না জানু।কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি ও বাড়ি চলে আসবো। আমার ও খারাপ লাগছে।

নীতির কথা শুনে হাসলো সায়েবা।বন্ধবির মন ভালো করায় লেগে গেল সবাই।ফারহান কে দেখা যাচ্ছে না ভিডিও তে।সায়েবা ওদের সাথে কথা বলে ফোন এগিয়ে দিলো ফারহানের দিকে। ফারহানের ঘোর লাগা দৃষ্টি তার দিকেই।

— ভালোবাসতে ইচ্ছে করছে তো।

— অসভ্য। এই যান তো আপনি। এখানে কি?

— উহু।এখন তো এসব বললে হচ্ছে না।কাদলে কেন?বলেছি না তুমি কাদলে আমার ভয়ংকর আদর পায়।আদর পাওয়ার এতো বাহানা!

সায়েবা লজ্জা, রাগ,অভিমানের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে তাকিয়ে আছে ফারহানের দিকে। যে এই মুহুর্তে সায়েবা কে ভালোবাসতে ব্যাস্ত।

দরজায় একের পর এক কড়াঘাতে সায়েবা কে ছাড়তে বাধ্য হলো ফারহান।দুজনেরই ঘন নিশ্বাস জানান দিচ্ছে তাদের অস্থিরতা। এদিকে দরজার ওপাসের ব্যাক্তির হয়তো এসবে ধ্যান নেই।ফারহানের কপালে সুক্ষ্ম ভাজ পড়লো। সায়েবা কে কোলে করে ওয়াশরুমে নামিয়ে দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিতে বললো। সায়েবা ও সায় দিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো।নিজেকে গুছিয়ে দরজা খুলতেই সাহেরা বেগম আর্তনাদ করে কাদতে লাগলো। ফারহান আকড়ে ধরলো তাকে।

— কি হয়েছে মা?কাদছেন কেন?(অস্থির হয়ে)

সাহেরা বেগম কাপা কাপা হাতে ফোন এগিয়ে দিলো ফারহানের দিকে। ফারহানের দৃষ্টি ফোনের স্ক্রিনে পরতেই স্থির হয়ে গেলো সে।

চলবে,,,