#সুগন্ধি_ফুল
#পর্ব_৩১
#জান্নাত_সুলতানা
[পর্ব টা একটু রোমান্টিক, পড়তে না চাইলে স্কিপ করতে পারেন।]
-“স্যার এতো রাতে দোকানপাট তো বন্ধ সব।”
আবরাজ ধারালো দৃষ্টিতে চাইলো সাব্বির এর দিকে। বেচার ঘুম থেকে ওঠে কোনো রকম দৌড়ে এসছে। চোখের মুখের অবস্থা নাজেহাল। আবরাজ এর মায়া হয়েও হয় না। সে শ্বশুর বাড়ি যাবে। আর খালি হাতে এভাবে যাবে? অসম্ভব। আবরাজ গম্ভীর স্বরে গাড়ির স্টিয়ারিং এর ওপর হাত রেখে বলে উঠলো,
-“যেখান থেকে পারো নিয়ে এসো। নাউ লিভ।”
সাব্বির মুখ ভোঁতা করে নিলো। অসহায় দৃষ্টিতে মাথা ঝাঁকিয়ে একজন গার্ড সাথে চলে গেলো। সময় গড়ায়। সেকেন্ড মিনিট ঘন্টার মাথায় গিয়ে সাব্বির ফিরে এলো। একটা ভ্যান নিয়ে। রাত তখন সাড়ে বারোটা টা। আবরাজ সব দেখে খুশিই হলো। সাব্বির গাড়িতে বসে অটো ভ্যানওয়ালা কে তাদের গাড়ি ফলো করতে বললো। গাড়িতে সাব্বির আবরাজ এর সাথে বসলো সামনের সিটে। সে মিনমিন করে বর্ণনা করছে কিছু। যার ধারা কিছু টা বোঝা যাচ্ছে সে দোকানদারদের ঘুম থেকে তুলে তুলে সদাই-পাতি এনেছে। আবরাজ সন্তুষ্ট হলো।
——–
ছোট একতলা বাড়ি টার উঠোনে দাঁড়িয়ে আবরাজ খান। স্বয়ং আবরাজ খান। এ-ও দেখার ছিলো? এ যেন অবিশ্বাস্য। মোহিতা বেগম গেইটে দাঁড়িয়ে হতভম্ব হয়ে গেলো। ঘুমঘুম ভাব চলে গেলো। অস্থির হলেন। আবরাজ উনার সাথে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলে সালাম দিলো। মোহিতা বেগম বেশ অবাক হলো। আবরাজ যেন একের পর এক চমক দিতে লাগলো। অবিশ্বাস্য সব কান্ডে দিতে ঠিকঠাক কথা বলতে ভুলে গেলো। যে মানুষ সারাক্ষণ ছিলো গম্ভীর দাম্ভিক স্বভাবের। রক্ষ কঠোর বিয়ে করা স্ত্রী কে ফেলে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করে নি। সেই মানুষ টার এরূপ চমক সত্যি চমকপ্রদ। বিয়ে পর আবরাজ খান শ্বশুর বাড়িতে এই নিয়ে তার দ্বিতীয় বার আসা। প্রথম বিয়ের দিন। আর দ্বিতীয় আজ। মোহিতা বেগম মেহরিন কে ডাকলো। ফিজা কে ডাকলেন। তবে দু’জন হয়তো ঘুমিয়ে আছে। তাই কারোর সাড়া পাওয়া গেলো না। আবরাজ শাশুড়ির অস্থিরতা দেখে গম্ভীর থমথমে কণ্ঠে বললো,
-“আন্টি রিলাক্স। এতো হাইপার হবেন না। আপনি বসুন। শরীর ভালো আপনার?”
মোহিতা বেগম তবুও ব্যাস্ত। পানি আনতে গেলেন। পানি নিয়ে ফিরে এসে দেখলো তিনজন মানুষ। তারমধ্যে একজন সাব্বির। সাব্বির কে তিনি চিনেন। বাকি দু’জন আবরাজ এর গার্ড। হাত ভর্তি বাজার। সেগুলো রেখে গার্ড চলে গেলো। সাব্বির কে বসতে বললেন তিনি। সাব্বির বসলো না। রাত হয়েছে অনেক। বউ তার ফ্ল্যাটে একা রয়েছে। ফিরতে হবে তার। তাই বিদায় নিয়ে চলে গেলো। আবরাজ শাশুড়ির থেকে পানির গ্লাস নিলো।
পানি খেয়ে গ্লাস ফেরত দিলো। বললো,
-“আমি খেয়ে এসছি। আপনি গিয়ে রেস্ট করুন।”
মোহিতা বেগম ব্যাস্ত কণ্ঠে বললেন,
-“সে কি কথা নতুন জামাই আর রাতে না খাইয়ে রাখবো! তা হয় না বাবা। তুমি বসো আমি এক্ষুণি কিছু করে দিচ্ছি।”
শাশুড়ির এতো সুন্দর আবদার ফেলে দিলে ভালো দেখায় না ইচ্ছে ও হলো না। আবরাজ বললো,
-“আচ্ছা। তবে বেশি না কিন্তু। আমি মাত্র খেয়ে এসছি।”
মোহিতা বেগম চলে গেলেন মুচকি হেঁসে। আবরাজ ফোনে টাইম দেখলো। ঘড়ি ধরে পঁচিশ মিনিটে মোহিতা বেগম ফিরে এলো এক প্লেট গরম গরম ভাত আর ডিম ভাজা নিয়ে। আবরাজ খুশি মনে হাত ধুয়ে খেতে বসে গেলো। তৃপ্তি নিয়ে খেলো সব ভাত। কত বছর যুগ পর সে এমন খাবার খেলো ঠিক মনে করতে পারে না। তবে খাবার এর স্বাদ দারুণ লাগলো। রান্না ঘরের বেসিনে হাত ধুয়ে আবার সোফায় বসলো। মোহিতা বেগম এবার বললো,
-“আমি মেহরিন কে ডেকে দিচ্ছি। দুই বোন একসাথে ঘুমিয়েছে আজ। তুমি বাবা বসো একটু।”
-“না না আন্টি থাক। মেহরিন কে ডাকতে হবে না। আমি ফিজা কে গেস্ট রুমে থেকে যাব।”
মোহিতা বেগম না করতে গিয়ে ও করলো না। আবরাজ ফিজার রুম চিনে। বিয়ের দিন তো তাদের একসাথে বসানো হয়েছিল সেখানে। দরজা ভিড়ানো। আবরাজ কক্ষে প্রবেশ করে আবছা দেখলো মানুষ। দু’জন শুয়ে বিছানায়। সে ফোন বের করে লাইট অন করলো।
প্রথম বার বিছানার বাঁ পাশে দেখলো। সঠিক হলো অনুমান। বউ তার বাঁ পাশে ঘুমিয়ে। আবরাজ ফোন পকেটে নিলো। গা থেকে কম্ফর্টার সরিয়ে ঝুঁকে আলতো করে বউ কে কোলে তুলে নিলো। ফিজা কেঁপে উঠলো। তবে চোখ মেলে না। আবরাজ আস্তে-ধীরে হেঁটে গেস্ট রুমে চলে এলো। রুম পরিপাটি। লাইট জ্বলছে। আবরাজ আলগোছে রাখলো বিছানায় বউ কে। গায়ের ব্লেজার খুলে ফিজার মুখের দিকে তাকিয়ে হাসি ফুটে উঠলো ঠোঁটে। লাল হয়ে আছে চোখ। ফিজা ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। আচমকাই ঘুম ভেঙেছে মেয়ে টার। তাই কিছু বুঝতে পারে না। আবরাজ দ্রুত ব্লেজার হাত থেকে ফেলে দিলো। ঝুঁকে বউয়ের গালে হাত ছুঁয়ে বলে উঠলো,
-“ওঠে গেলে যে আমি ডাকি নি তো।”
-“আপনি? কখন এসছেন?”
ফিজা ঘুমঘুম স্বরে জিজ্ঞেস করলো। আবরাজ হাতের দামী ঘড়িতে টাইম দেখলো। জানালো,
-“এক ঘন্টা হয় নি।”
-“সত্যি এসছেন আপনি?”
ফিজা অবিশ্বাস্য স্বরে বলে উঠলো। আবরাজ হাসে। মাদকাসক্ত দৃষ্টিতে বউয়ের সাড়া মুখে দৃষ্টি বুলিয়ে নিলো। ঘোরলাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
-“ইয়েস। বাড়িতে গিয়েছিলাম। বাট রুমে গিয়ে জাস্ট পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম। চোখ বন্ধ করলে তোমার এই লিপস! পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম বারবার মনে পরে।”
নিজের বৃদ্ধা আঙুল টা বউয়ের অধর কোণে ঘষতে ঘষতে বলে। ফিজা শিউরে ওঠে। শিরদাঁড়া দিয়ে শীতল স্রোত বয়ে যায়। হাতের নিচের চাদর দুমড়েমুচড়ে যায়। আবরাজ বউয়ের দুর্বলতার সুযোগ হাত ছাড়া করে না। ঝটপট নিজের অধর বউয়ের অধরে চেপে ধরলো। মরুর বুকে এক পলশা বৃষ্টির আগমন হয়েছে বোধহয়। ভালোবাসার তৃষ্ণায় তৃষ্ণার্ত এই পুরুষ উন্মাদ। ফিজা এক এক করে আবরাজ এর শার্ট এর বোতাম খুলতে ব্যাস্ত হলো। আবরাজ তখন হাত রাখে ফিজার হাতের ওপর। ফিজা চোখ খুলে তাকালো। আবরাজ পেছনে দরজার দিকে ইশারা করলো। ফিজা সাথে সাথে আবরাজ কে ছেড়ে দিলো। আবরাজ এলোমেলো পায়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে এলো। ভালোবাসার ছোঁয়া ধীরে ধীরে বদলে গেলো। গভীর হলো আবরাজ এর এক একটা স্পর্শ। ফিজার চোখের পাতা ভিজে উঠলো। সে ভুলেই গিয়েছিল বোধহয় আবরাজ খান তাকে কাঁদাতে ভালোবাসে। আবরাজ বউয়ের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠলো,
-“সৌ সরি মাই লিটল ওমেন।”
ফিজা টুঁশব্দ করে না। নিজের দাঁতের বিশ সে ঢালবে না? এটা হতে পারে? আবরাজ খান যদি হয় বাঘ সে-ও বাঘিনী। আর বরাবরই প্রমাণিত রাজা রানীর কাছে পরাজয়। আবরাজ তাকে ক্ষত-বিক্ষত করে পাড় পাবে এটা ফিজা নামের রমণী মানবে না। আবরাজ ব্যাথা জর্জরিত। চোখ বন্ধ করে রাখলো। বউয়ের কাজে বাদা দিলো না। ফিজা নিজের কাজ শেষ করেই এবার আবরাজ কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। দু’টো দেহ একত্রিত হওয়ার অপেক্ষা যেন। ফিজাও ফিসফিস করে বললো,।
-“আপনি যা দিবেন ঠিক ততটাই ফিরত পাবেন। ফিজা সিদ্দিকী পুষ্প ধারদেনা একদম পছন্দ করে না মিস্টার খান।”
———
বোনের অনুপস্থিতিতে মেহরিন ঘুম ভেঙে গেলো। ওঠে চারপাশে দেখলো। বোন নেই। দ্রুত ওয়াশ রুম চেক করে মেহরিন। বোন নেই সেখানে। সে দ্রুত মায়ের রুমে যেতে গিয়ে সদর দরজার দিকে নজর পড়লো। কালো কুচকুচে একজোড়া সু। মেহরিন এক দেখায় চিনে ফেলে জুতোটা। এটা আবরাজ খান এর। এই ব্র্যান্ড সে আর কারোর কাছে দেখে নি। সে অবাক হলো। আবরাজ খান তবে তাদের বাড়িতে পদধূলি দিয়েছে! মেহরিন গেস্ট রুমের দরজা ভেতর থেকে লক দেখে শিওর হলো। ফিরে গেলো নিজের রুমে। শোয়া মাত্র ফোন হাতে নিলো। ফোন সাইলেন্ট ছিলো। অনেকগুলো মিসড কল ওঠে আছে। সবগুলো আব্রাহাম দিয়েছে। মেহরিন দীর্ঘ শ্বাস ফেলে ফোন রাখতে যাচ্ছিল তখনই আবার কল এলো। মেহরিন কল রিসিভ করে কানে দিয়ে চুপ করে রইলো। ওপাশের পুরুষ রাশভারী কণ্ঠে বলে উঠলো,
-“আব্রাহাম খান কে ইগনোর? খুব বাড় বেড়েছো তুমি। জাস্ট ওয়েট। শুধু ফোন নয় তোমার সর্বাঙ্গে এই আব্রাহাম এর ছোঁয়া থাকবে। অপেক্ষা করে যাও আমার রাতের ঘুম হারামের পাখি।”
কান ঝাঁ ঝাঁ করে উঠলো। গরম ধোঁয়া বেরিয়ে এলো কান দিয়ে। গাল জ্বলে। কি বিশ্রী হুমকি। এভাবে কেউ হুমকি দেয়! মেহরিন তাজ্জব বনে গেলো। আব্রাহাম আবার বললো,
-“এখন বাই। খুব শীগ্রই দেখা হচ্ছে আমাদের মিস মেহরিন সিদ্দিকী।”
#চলবে….
[বিয়ে কি দিয়ে দেবো আব্রাহাম খান এর? ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।]