হলুদ বসন্ত পর্ব-০৩

0
17

#হলুদ_বসন্ত
#পার্ট_৩
জাওয়াদ জামী জামী

” আমার সাদাফ বাপে কই? আমার ইশু বাপ, তুমি বাড়িতে আছ? দেখ তোমাদের ফুপু আসছে। আব্বা-আম্মা আপনারা কই? ” ইশরাকের বড় ফুপু আরজু উঠানে পা দিয়েই হাঁকডাক শুরু করে দিয়েছে।

ফুপুর গলা পেয়েই ঘর থেকে বেরিয়ে আসল সাদাফ আর ইশরাক।

” কেমন আছ, ফুপু? ওমা মেজো ফুপু, তুমিও এসেছ? ” অবনী এগিয়ে গেল ফুপুদের দিকে এগিয়ে গেল।

কিন্তু ওর ফুপুরা অবনীর দিকে ফিরেও তাকালনা। তারা ব্যস্ত ইশরাক আর সাদাফকে নিয়ে। মেজো ফুপুতো ওকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে ইশরাককে জড়িয়ে ধরল।

” সামনে থাইকা সরে যা। এম্নে দাঁড়ায় আছস ক্যা? আমার বাপজানগোরে আদর করবার পারতাছিনা তর জন্য। খালি ধেই ধেই কইরা নাচনের স্বভাব গেলোনা তর। ইমুন ফুপু, ফুপু কইরা চিল্লাইতে কেডায় কইছে তরে? কেডায় তর ফুপু? আমরা শুধু ইশু আর সাদাফ বাপেরই ফুপু লাগি, বুজ্জস? পাকনা ছেমরি হইছে একটা। ”

মেজো ফুপুর কথা শুনে মুখের হাসি মিলিয়ে গেল অবনীর। নিজ ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সবটা শুনলেন মিনারা খাতুন। কষ্টে তার চোখে পানি আসল। অবনীও ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।

সাদাফ বিরক্তি নিয়ে তাকায় ফুপুর দিকে। ইশু ঠোঁট কামড়ে চারদিকে এক পলক তাকিয়েই ফুপুর দিকে চোখ ফেরাল।

” তোমরা যদি আমাদের ফুপু হও, তবে অবনী, অর্নির ফুপুও তোমরাই। বাবা তো কখনোই ওদের বলেনা, আমি তোদের বড় চাচা হইনা। বাবা যদি ওদের চাচা হতে পারে, তবে তোমরা কেন ওদের ফুপু হতে পারোনা? চাইলেও কিন্তু অনেকেই ফুপু হতে পারেনা। ”

ইশরাকের দিকে তাকিয়ে মুখের হাসি মিলিয়ে গেল ওর মেজো ফুপু দিলারার। ইশরাক তার দিকে হাসিমুখেই তাকিয়ে আছে। কিন্তু তার চোখ দুটো মোটেও হাসছেনা। বড় ভাতিজার কথাবার্তা কোনদিনই তার ভালো লাগেনা। এই ছেলেটা কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলেনা, যেটা তাদের চার বোনেরই মাথা ব্যথার কারন। ভেতরটা জ্বললেও মুখটা হাসিহাসি রাখল দিলারা।

” ও বাপ, রাগ হয়োনা। চল তো, ঘরে চল। ছুডু মাইষের এত রাগতে হয়না। এই ছেমরির লগে আমি পরে কথা কইয়া নিমুনে। আব্বা-আম্মারে দেখিনা কতদিন হইল। চল ভিতরে যাই। ”

” তোমরা আমাদের দুই ভাইকে ঠিকই বাপ ডাকতে পার। কিন্তু ওদের দুই বোনের বেলায় কেন অন্যথা হবে? ওদেরকে ছেমরি ডাকবে কেন? একই বাড়িতে দুই নীতি কর কেন তোমরা? ”

আরজু বুঝল ইশরাককে এখনই না থামালে বিষয়টা অনেক বড় আকার ধারন করবে। তাই সে এগিয়ে গেল ইশরাকের দিকে।

” ও ইশু বাপ, দিলারায় ভুল করছে। তুমি মাথা ঠান্ডা কর। তুমিতো জানোই তোমার মেজো ফুপুর মাঝেমধ্যেই মাথায় সমস্যা দেখা দেয়? তাই থাইকা থাইকাই উল্টাপাল্টা কথা কয়। ওরে ভিতরে নিয়া মাথায় পানি ঢাললেই আবার সব ঠিক হয়ে যাবে। এই ছেড়ি যা, ভেতরে যা। আর একবার যদি তরে উল্টাপাল্টা কথা কইতে দেখি, তখনই কিন্তু তর মাথা আমি পাত্থর দিয়া থেঁতলায় দিব। ” কথার ফাঁকেই আরজু চোখের ইশারায় দিলারাকে ঘরে যেতে বলল।

***

” ছোট ফুপু তুমিও এসেছ! দাদী সেদিন তোমাদের কথা মনে করে খুব কাঁদছিল। আজকে তোমাদের দেখে দাদী খুব খুশি হয়েছে, তাইনা? ” ছোট ফুপু রওশন আরাকে দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল অর্নি।

” আমার মা কাঁনছে কি কাঁন্দেনাই সেইডা আমরা বুঝব। তর কথা কওয়া লাগবে ক্যা? খুব মাতবরি শিখছস তাইনা? যেই দেখছস আমরা চার বোন আইছি, আর সাথে সাথে তুই আসছস? ভালো কইরাই জানোস আমরা ফলমূল, মিষ্টি নিয়া আসছি। তাই ভাগ বসাইতে আইসা খাড়াইছস? এত লোভী কেন তরা? মায়ে পাঠাইছে আমরা কি খাইতাছি সেইডা দেখবার? নজর লাগাইতে আসছস? যা ভাগ। আমরা যে কয়দিন থাকি, তোগোর দুই বোনের ছায়া যেন না দেখি। যতসব ফকিন্নি আইসা খাড়াইছে। ”

ছোট ফুপুর কথার বানে জর্জরিত অর্নি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। ফুপুরা কেন ওদের পছন্দ করেনা, সেটা আজও জানা হয়ে ওঠেনি ওর।

” আহ্ রওশন, এগুলো কি ধরনের কথা বলছ তুমি? মানুষকে আঘাত দিয়ে কথা বলে কি শান্তি পাও তোমরা? মেয়েটা এসেছে খুশিমনে, কিন্তু তাকে তুমি কাঁদিয়ে ছাড়লে। ও কি কোনদিনও তোমার কাছে খেতে চেয়েছে কিংবা টাকা চেয়েছে? ওরা দুই বোন কোনদিনও আমি দিলেও হাতে কিছু নেয়না, সেই মেয়েদুটোকেই তোমরা বোনেরা আসবার পর থেকেই যাচ্ছেতাই বলে যাচ্ছ? এত মুখ চলে কেন তোমাদের? এজন্যই শ্বশুর তোমাদের কারও সম্মান নেই। তোমাদের জন্য আমরাও মুখ পাইনা। ”

নাজমা আক্তার আজ ভিষণই রেগে উঠলেন। তিনি শ্বশুর-শ্বাশুড়ির সামনেই ননদদের ধুয়ে দিলেন। তার বাকি তিন ননদও ড্রয়িংরুমে বসে আছে। তারা ভাইয়ের বউয়ের কথা শুনে চমকে গেছে। আজ পর্যন্ত নাজমা আক্তার ননদেরকে এভাবে কথা শোনাননি।

” আমার বাকি তিন মেয়ে নাহয় তোমার বড় ননদ। কিন্তু রওশনতো তোমার ছোট ননদ, বউমা। তার দুই গালে দুইটা থাপ্পড় না দিয়ে শুধু মুখেই কথাগুলো বললে? তোমার উচিত ছিল, প্রথমে ওর দুই গালে দু’টো থাপ্পড় দিয়ে তারপর কথা বলা। কিছু সময় বেয়াদবকে থাপ্পড় দিয়ে তার ভুল কোনটা সেটা দেখিয়ে দিতে হয়। মেয়েদের জন্ম দিয়েছি, বড় করেছি কিন্তু তাদের সহবৎ শেখাতে পারিনি। ছেলে দু’টোই শুধু আমার মনের মত হয়েছে। আর হবেইনা কেন? তারা তো তোমার শ্বাশুড়ির মত কুচুটে মহিলার কাছে বেড়ে ওঠেনি। এই মহিলা মেয়েদেরকে নিজের মতই বেয়াদব বানিয়েছে। আজকের পর এদেরকে বেয়াদবি করতে দেখলেই ঠাঁটিয়ে থাপ্পড় বসিয়ে দেবে। বড় ননদ বলে সমীহ করার দরকার নেই। ”

মেয়েকে বেয়াদবি করতে দেখে চুপ থাকতে পারলেননা বৃদ্ধ আব্দুর রহিম। তিনি তার বড় বউমার পক্ষ নিলেন। বৃদ্ধকে রাগতে তার চার মেয়ে কিংবা স্ত্রী কেউ কোন কথাই বললনা।

এদিকে অর্নি কাঁদতে কাঁদতে বড় চাচার বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল।

মেয়েকে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ঢুকতে দেখে ওর দিকে ছুটে গেলেন মিনারা খাতুন।

” অর্নি, কি হয়েছে, মা? কাঁদছিস কেন? ব্যথা পেয়েছিস কোথাও? কেউ মেরেছে? ” উদগ্রীব হয়ে মেয়ের কাছে জানতে চাইলেন মিনারা খাতুন।

” কেউ মারেনি, মা। ফুপু আমাকে কতগুলো কথা শুনিয়েছে জানো? বিশ্বাস কর, আমি তাকে খারাপ কিছুই বলিনি। ” এরপর অর্নি একে একে মাকে সব খুলে বলল।

অর্নির কথা শুনে সব বুঝতে পারলেন মিনারা খাতুন। সকালেই তিনি একবার এমন ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন। মলিন হেসে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন তিনি। মৃদুস্বরে বললেন,

” ফুপুরা যে কয়দিন তোর বড় চাচার বাড়িতে থাকবে, সেই কয়দিন তোরা ওদিকে যাসনে, মা। ফুপুদের সাথে আগ বাড়িয়ে কথা বলারও দরকার নেই। তবে তারা কিছু জিজ্ঞেস করলে হাসিমুখে তাদের সাথে কথা বলবি। ”

অর্নি মাথা নেড়ে মায়ের কথা মেনে নেয়।

***

” বাবা, তোমার বোনেরা বাড়িতে এসেই কি শুরু করেছে সেটা কি জানো? ”

ইশরাকের কথায় তার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকালেন ইসহাক আজাদ।

” কি করেছে তারা? ”

” দুইজন তো উঠানে পা রেখেই অবনীকে অপমান করেছে। আরেকজন অর্নিকে যা নয় তাই বলেছে। ওরা কি কোনদিনও তাদের কাছে কিংবা তোমাদের কাছে কখনো কোনকিছু চেয়েছে? তারপরও কেন তারা কথায় কথায় ওদের ফকিন্নি, লোভী এসব বলে? ”

এবার ইসহাক আজাদ সবটা বুঝতে পারলেন। তিনি বরাবরই বোনদের এরূপ আচরণে মনঃক্ষুণ্ন হন। অনেকবার তাদেরকে সেকথা জানিয়েছেন। কিন্তু তার বোনেরা কোন কথাই শোনেনা। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

” আমি কথা বলব তাদের সাথে। তুই গিয়ে পড়তে বস। বড়দের বিষয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই তোর। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে চাচার পরিবারের প্রতি ছেলের দ্বায়িত্ব পালন করিস। আমার ভাইটা খুব অসহায়। আমরা ছাড়া ওর কেউ নেই। ”

” তোমার মায়ের পেটের বোন হয়ে তোমার আর তাদের আচরণে আকাশপাতাল তফাৎ। এটা আমাকে অবাক করে। আর আমি চাচার প্রতি দ্বায়িত্ব পালনে পিছপা হবনা। ”

ছেলের কথায় ইসহাক আজাদ স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লেন।

পরবর্তী সাতদিন ইশরাকের ফুপুরা ভাইয়ের বাড়িতে থাকল। এই সাতদিন অবনী অর্নি একবারও সেদিকে পা মাড়ালনা। নাজমা আক্তার দেবরের বাড়িতে ননদের আনা ফল-মিষ্টি দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ওয়াহিদ আহমেদ সেগুলো সসম্মানে ফেরত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন বোনদের আনা কোন জিনিস তিনি ছুঁয়েও দেখতে চাননা। ওয়াহিদ আহমেদের সিদ্ধান্ত শুনে হেসেছেন নাজমা আক্তার। তিনি মোটেও অবাক হননি। জানতেন এটাই হবে। কোন বাবাই তার সন্তানদের অপমানকারীর জিনিস নেবেনা এটাই স্বাভাবিক।

***

” সাদাইফ্যা, ঐ সাদাইফ্যা, আজকে রাতে নগেন কাকার বাগানে যাবি? কাকাকে খেজুরের রস বিক্রি করতে দেখলাম। টাটকা খেজুরের রস দেখে জিভে পানি চলে এসেছে বুঝলি? এই যে দেখ খেজুরের রসের কথা মনে হতেই আমার জিভ পানি চলে এসেছে। ” সাদাফকে জিভ বের করে দেখাল অবনী।

” রাক্ষসী, এমন খাই খাই করিস কেন সব সময়? গতকাল না চাচা আমাদের জন্য খেজুরের রস এনেছিল? তুই রাক্ষসীর মত সবার থেকে বেশি খেলি। তারপরও আজ আবার চুরি করে রস খাওয়ার কথা ভাবছিস? ”

” তারমানে তুই যাবিনা? ঠিক আছে আমি বড়মাকে বলব তুই কালকে আমাকে মেরেছিস। আমার চুল টেনে ছিঁড়েছিস। আরও অনেককিছুই বলব বড়মাকে। সেই সাথে বড় চাচাকেও বলব। ”

অবনীর দিকে তাকিয়ে সাদাফ বুঝল শয়তানটা ওকে ভুল বোঝাচ্ছেনা। ওর কথামত কাজ না করলে ও সত্যিই মায়ের কাছে মিথ্যা বিচার দেবে। আর মা-ও নির্দিধায় এই রাক্ষসীর কথা বিশ্বাস করবে। ফলশ্রুতিতে পিঠে দুমদাম কিল পরবে এটা নিশ্চিত। ভিষণ রাগ হলো সাদাফের। থমথমে মুখে বলল,

” ঠিক আছে, ঠিক আছে। রাত বারোটার পর তোকে নিয়ে যাব। অর্নিকেও নিবি নাকি? ”

” হুম নিব। ”

” তোর মত ওকেও বান্দর বানাচ্ছিস। কবে যে তোর বিয়ে দিয়ে, চাচা আমাদের বাড়িকে বান্দর মুক্ত করবে আল্লাহই জানে। ”

” সাদাইফ্যা রে, আর একটা কথাও বললে তোর কান আমি ছিঁড়ে নিব। ”

কান হারানোর ভয়ে সাদাফ আর কিছুই বললনা।

রাত বারোটা বিশে ওরা তিনজন মিলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। সাদাফ ওর এক বন্ধুকে নগেন কাকার বাগানে আসতে বলেছে। বন্ধুর কথা মেনে ছেলেটা চলেও এসেছে। সাদাফ আর ওর বন্ধু পরপর কয়েকটা খেজুর গাছে উঠে দুই বোতল রস সংগ্রহ করল। এরপর ওরা বাড়ির পথে হাঁটতে শুরু করল। সাদাফের বন্ধুও তার বাড়ির দিকে রওনা দিল।

” সাদাফ ভাইয়া, একটু দাঁড়াবে? ”

অবনীর মুখে ভাইয়া ডাক শুনে সাদাফের ভ্রু কুঁচকে গেল।

” হঠাৎ অয়েলিং করছিস যে? কি মতলব? ”

” রিশাপুর কাছে যাব। ”

” কেন? এই রাত-বিরেতে শত্রুপক্ষের সীমানায় যাওয়ার দরকার পরল কেন? আর এজন্যই অয়েলিং করছিলি? ”

” দরকার যে কি সেটা আমি ছাড়া আর কেউই জানেনা। তোমরা রিশাপুর বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকবে। আমি রিশাপুকে জানালা দিয়ে ডাকব। কেউ জানতেও পারবেনা। ”

” কিন্তু কেন? এত রাতে রিশাপুর জানালায় যাওয়ার দরকার কেন তোর? ”

” আপুকে রস খাওয়াব তাই। দেরি করোনাতে চল। আমাদের নিরাপত্তার জন্যই কাজটা করা। চল। ”

অবনীর সাথে কথায় পারে কার সাধ্য। সাদাফ বাধ্য ছেলের মত অবনীকে নিয়ে চলল রিশাপুর জানালার ধারে। অর্নি ঘন ঘন হাই তুলছে। ওর ঘুম পেয়েছে।

” আপু, দেরি করোনা কিন্তু। বাড়িতে যেয়েই ঘুমাতে হবে। ”

” চুপ। কথা কম বল। ”

বোনের ধমকে আর কিছু বলার সাহস হলোনা অর্নির।

***

” কোথায় গিয়েছিলি তিনজন? ”

বাড়িতে ঢুকতেই ইশরাকের মুখোমুখি হল তিনজন। সাদিফ ভয়ে অবনীর পেছনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ধরে রেখেছে অবনীর হাত। ওর হাত এক ঝটকায় ছাড়িয়ে দিযে অবনী গিয়ে দাঁড়ায় ইশরাকের সামনে। ফিসফিস করে বলল,

” নগেন কাকার গাছ থেকে খেজুরের রস চুরি করে এনেছি। রিশাপুকেও দিয়ে এসেছি। ভালো করিনি বলো? সাথে সাথেই আপু সবটুকু রস খেয়েছে। আপু ভিষণ খুশি হয়েছে জানো? আপু বলেছে, আবারও যদি চুরি করি, তবে যেন আবারও তাকে দেই। ”

অবনীর কথা শুনে ইশরাক বুঝল, ওর মুখ বন্ধ রাখতেই অবনী রিশাকে খেজুরের রস খাইয়ে এসেছে। রাগ হলেও অবনীকে কিছুই বললনা। সাদাফকে দরজা বন্ধ করতে বলে নিজের রুমে চলে গেল।

ইশরাক চলে যেতেই সকলেই হাঁফ ছাড়ল।

****

দেখতে দেখতে পরিয়ে গেছে সাড়ে চার বছর। ইশরাক বুয়েটে ভর্তি হয়েছে এবারই। অবনী এবার এসএসসি পরীক্ষার্থি। অর্নি ক্লাস এইটে উঠেছে। সাদাফ কলেজে ভর্তি হয়েছে।

অর্নি আর সাদাফ পড়াশোনায় বরাবরই ভালো। তাদের জন্য বাড়ির কেউই চিন্তা করেননা। সবার চিন্তা অবনীকে নিয়ে। গত চার বছর ওকে অনেক বুঝিয়ে, ঠেলেঠুলে পড়িয়েছেন। নাকের ডগায় এসএসসি পরীক্ষা এসে দাঁড়িয়েছে, তবুও মেয়েটা সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপই নেই। ওর দুরন্তপনা স্বভাব একটুও কমেনি। মিনারা খাতুন প্রতিনিয়ত মেয়েকে বুঝিয়েই চলেছেন। অবনী সবকর কথা এক কানে শুনে আরেক কান দিয়ে বের করে দেয়। নিজের মতই চলতে ভালোবাসে ও।

চলবে…