হলুদ বসন্ত পর্ব-০৬

0
19

#হলুদ_বসন্ত
#পার্ট_৬
জাওয়াদ জামী জামী

” অবনী, কি হয়েছে তোর? দুইদিন ধরে মনমরা হয়ে থাকছিস কেন? মুখটাও কেমন চুপসে গেছে। অস্থিরভাবে বাড়িময় ঘোরাঘুরি করছিস। ” নাজমা আক্তার জিজ্ঞেস করলেন অবনীকে।

বড়মার প্রশ্নবানে জর্জরিত অবনী এড়িয়ে যেতে চাইল বড়মার প্রশ্ন।

” আমার কথা বাদ দাও। হঠাৎ করে তোমার কি হল, যে বিছানা নিলে? তুমি ছাড়া এই বাড়িটা অচল তুমি জানোনা? মা বলল, সকাল থেকে না খেয়ে আছ। কেন খাওনি? ”

” তোর বড় চাচার সংসারে এসে খাটতে খাটতে শরীরে জং ধরে গেছে। চিন্তা করে দেখলাম, কয়েকদিন বিছানায় শুয়ে শুয়ে শরীরের জং ছাড়িয়ে নেই। বুদ্ধিটা ভালো নয়? ”

” কে খাটতে বলেছে তোমাকে? বাড়ির কাজ করার জন্য সখিনা ফুপু আছেনা? ফুপু থাকতে তুমি কেন কাজ করতে যাও? আজকের পর থেকে কোন কাজে হাত দিবেনা। ফুপুকে আমরাও কাজে সাহায্য করব। তুমি শুধু আমাদেরকে দেখিয়ে দিও কি করতে হবে। এবার ওঠ, খেয়ে নাও। ”

অবনীর ধমক শুনে হাসলেন নাজমা আক্তার। তিনি অবনীকে নিজের কাছে টেনে নিয়ে বললেন,

” এত বড় হলি কবে? সেইদিনই না আমার চোখের সামনে জন্ম হলো তোর? একটা ছোট্ট পরীকে জন্ম নিতে দেখে সবার আগে আমি কোলে নিলাম তোকে। বাকিসব বাচ্চাদের রেকর্ড ভেঙে না কেঁদে পিটপিটিয়ে তাকাচ্ছিলি আমার দিকে। সেদিনের সেই মেয়েটা আজ আমাকে শাসন করছে, ভাবা যায়! এবার বল দেখি, তোর কি হয়েছে? দুরন্ত অবনীর সাথে অস্থিরতা কিছুতেই যায়না। সত্যি করে বল কি হয়েছে? ”

অবনী বুঝল বড়মাকে ফাঁকি দিতে পারেনি ও। কিন্তু সে কি বলবে বড়মাকে? যেই কথা ওরা তিনজন ব্যাতিত আর কেউ জানেনা, সে কথা অবনী কিভাবে বড়মাকে বলবে? কিছুক্ষণ ভেবে সিদ্ধান্ত নিল সাতপাঁচ কিছু বোঝাবে বড়মাকে।

” আচ্ছা বড়মা, রিশাপু কাউকে কিছু না জানিয়ে বিয়ে করল কেন? আমি তো দুইদিন আগেই আপুর কাছে গিয়েছিলাম, কিন্তু সে একবারও বললনা বাড়ি থেকে বিয়ের কথা বলছে! কেন, বড়মা? জানোতো, আপুকে আমার ভিষণ স্বার্থপর মনে হচ্ছে? ”

” ভালো পাত্র পেলে কেউ কি হাতছাড়া করতে চায়? বলতে পারিস, এই গ্রামের কয়জন মেয়রর স্বামী মেজর? একজনও নয়। রিশার বাবা-মা যখন দেখল ভালো পরিবার থেকে সম্মন্ধ এসেছে, তখন ওরা কি মানা করবে? কখনোই করবেনা। ”

” কিন্তু রিশাপু তো মানা করতে পারত? সে কেন রাজি হল? ”

” কেন রাজি হবেনা? পাত্র মেজর, পাত্রের বাবা এক্স ব্রিগেডিয়ার, পাত্রের ভাই-ভাবী ডক্টর, ঢাকায় তাদের তিন-চারটা ফ্ল্যাট আছে। এমন পরিবার থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসলে যে কেউই চোখ বন্ধ করে রাজি হবে। রিশাকে নিশ্চয়ই তোর বোকা মনে হয়না? নিজের ভালো পাগলেও বুঝে। ”

” কিন্তু রিশাপুতো এমন মেয়ে ছিলনা! ”

” স্বার্থের কাছে অনেক মানুষই একটা সময় হার স্বীকার করে। রিশা হয়তো ভেবেছে, ঐ পরিবারে বিয়ে হলে ওর ভাগ্য সুপ্রশন্ন হবে, কোনদিন পেছন ফিরে তাকাতে হবেনা। তাই রাজি হয়েছে। ”

” ভাইয়া কেমন আছে, বড়মা? কথা বলেছিলে ভাইয়ার সাথে? ” উৎকণ্ঠা চেপে রাখতে না পেরে জিজ্ঞেস করল অবনী।

” তোর ভাইয়া কাল আসছে। ”

” তুমি না বললে ভাইয়ার পরীক্ষা, এখন সে কিছুতেই আসতে পারবেনা? ”

” মা অসুস্থ শোনার পর আমার ছেলেটা কি না এসে থাকতে পারে? তুই আমার ছেলেকে পাষান ভাবিস নাকি? ”

” পাষান নয়, তোমার ছেলেকে যম ভাবি আমি। সারাক্ষণ দাদাগিরি ফলাতে চায় সবার ওপর। এটা করিসনা, ঐটা করিসনা, দিনরাত বইয়ে মুখ গুঁজে বসে থাক এসব বলে বলে কানের পোকা মেরে ফেলে। ”

” তোদের খারাপের জন্য বলে এসব? ও সব সময় মন দিয়ে পড়াশোনা করত জন্য বুয়েটে ভর্তি হতে পেরেছে। ছোট থেকেই বইয়ের মাঝে ডুবে থেকেছে। তার ফল পেয়েছে সে। কিন্তু তোরা কি করিস? সারাক্ষণ ধেই ধেই করে নেচে বেড়াস। ”

” হয়েছে বড়মা, ছেলের হয়ে এত ওকালতি করতে হবেনা। কয়দিন থাকবে তোমার ছেলে? যমটা যে কয়দিন থাকবে, সেই কয়দিন পড়ার অভিনয় করে কাটাতে হবে আমাকে। ”

” পড়া চোর একটা। ”

” ভুল কিছুই বলোনি। মনে রেখ, এটাও একটা প্রতিভা। আমি সেই প্রতিভার স্বর্ণশেখড়ে অবস্থান করা একটা মেয়ে। এবার একটু উঠে বস। আমি খাবার নিয়ে আসছি। ”

” তোকে কষ্ট করে খাবার আনতে হবেনা। আমাকে রান্নাঘরে নিয়ে চল, সেখানে বসেই দুই মা-মেয়ে খেয়ে নেব। ”

” তোসার সাথে বসে খাই, সেটা তোমার শ্বাশুড়ি দেখে আমার পিণ্ডি চটকাক, এটাই তুমি চাও? ”

” কথা না বলে আমার সাথে রান্নাঘরে চল। তে তি বলে সেটা আমি দেখব। ” নাজমা আক্তারের ধমক শুনে চুপসে গেল অবনী। বড়মাকে নিয়ে রান্নাঘরে গেল।

***

” ঐ সাদাইফ্যা, আগেই বলেছি পাকা পেয়ারাটা কিন্তু আমার। তুই ঐটা নিয়েছিস কেন? দে আমাকে। ”

” পেয়ারার গায়ে কি তোর নাম লেখা আছে? কই আমিতো দেখতে পাচ্ছিনা! আমি আগে এটা দেখেছি, গাছ থেকে ছিঁড়েছি তাই এটা আমার। গাছে আরও পেয়ারা আছে সেগুলো তুই খা ফকিন্নী। ” সাদাফ কাঙ্ক্ষিত পেয়ারা ছিঁড়ে গাছ থেকে লাফিয়ে নিচে নামল।

গাছের মগডালে বসে অসহায় চোখে সাদাফকে বাড়ির বাহিরে যেতে দেখছে অবনী। রাগে ওর কান্না পাচ্ছে। সকাল থেকে ঐ পেয়ারাটাকে চোখে চোখে রেখেছিল। কিন্তু সুযোগ পেয়েই সাদাফ ঐটা নিজের করে নিল। অবনী রাগে হাতে থাকা একটা কাঁচা পেয়ারা ছুঁড়ে মারল সাদাফের দিকে। কিন্তু অবনীকে অবাক করে দিয়ে পেয়ারা লাগল ইশরাকের কাঁধে।

বাড়িতে ঢুকতেই কাঁধে এসে কিছু পরায় চমকায় ইশরাক। বামে তাকিয়ে দেখল মাটিতে একটা পেয়ারা গড়াগড়ি খাচ্ছে। ওর বুঝতে বাকি রইলনা কি ঘটেছে। সরাসরি তাকাল ওপরের দিকে।

ইশরাককে দেখে ভয়ে ঢোক গিলল অবনী। ও বুঝতে পারছে, ভুল সময়ে ভুল কাজ করে ফেলেছে।

” তুই গাছের ওপর কেন? তোকে কতবার নিষেধ করেছি, গাছে উঠবিনা, ভুলে গেছিস? ” শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করল ইশরাক।

ইশরাককে দেখে তড়িঘড়ি করে নিচে নামল অবনী। এক নজর তাকাল ইশরাকের দিকে। মুখভর্তি খোঁচা খোঁচা দাড়িতে বড্ড রোগা লাগছে তাকে। উদাস ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে সে। ইশরাকের বিধ্বস্ত চেহারা দেখে কেঁপে উঠল অবনীর ভেতরটা। ও বুঝতে পারছে দুইটা দিন ভাইয়ার কিভাবে কেটেছে।

” আর উঠবনা, ভাইয়া। তুমি ভেতরে যাও। বড়মা সকাল থেকেই তোমার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। ”

ইশরাকও কথা বাড়ায়না। জোড়ে পা ফেলে বাড়ির ভেতর যায়।

” অবনী, ভাইয়াকে এমন লাগছে কেন? মনে হচ্ছে কতদিন ধরে খায়না, ঘুমায়না। ”

সাদাফ এসে দাঁড়িয়েছে অবনীর পাশে। ভাইয়াকে এমন অবস্থায় দেখে সে-ও ভড়কে গেছে।

” মনে হয় অসুস্থ। তুমি ভেতরে গিয়ে ভাইয়ার সাথে কথা বল। ” ভাইয়ার মুখোমুখি হওয়ার সাহস নেই অবনীর। দৌড়ে নিজের ঘরে ঢুকল।

***

মায়ের কোলে মাথা রেখে অঝোরে কাঁদছে ইশরাক। গতকাল যখনই শুনেছে মা অসুস্থ, তখনই বাড়িতে ছুটে আসতে চেয়েছে কিন্তু ওর রুমমেটরা আসতে দেয়নি। ওর শরীরে জ্বর থাকায় রুমমেটদের কথা ফেলতে পারেনি।

” কাঁদিসনা বাবা, বাড়িতে এসেছিস এবার মা সেবাযত্ন করে তোকে সুস্থ করে তুলবে। কি অবস্থা হয়েছে তোর! আমার রাজপুত্রের মত ছেলেটার চেহারা কেমন চুপসে গেছে। ” জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছেন নাজমা আক্তার।

” আমি নিজের জন্য কাঁদছিনা, মা। আমি কাঁদছি তোমার জন্য। নিজের খেয়াল রাখোনি কোনকালেই। বয়স হয়েছে, এবারতো নিজের দিকে নজর দাও। ”

” বয়স হয়েছে, একটুআধটু অসুস্থ হবই। কিন্তু তোর কি অবস্থা হয়েছে দেখেছিস? তোকে এই চেহারায় দেখে আমার কেমন লাগছে তুই-ই বল? ” ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন নাজমা আক্তার। ইশরাক এসে তাকে বিছানায় বসিয়ে দিয়েছে। তিনি ঠিকমত বসেও থাকতে পারছেননা।

” সামান্য জ্বর এসেছে, মা। এত অস্থির হচ্ছ কেন তুমি? আমি নিজেকে সামলে নিতে পারব কিন্তু তুমি? অসুস্থ শরীর নিয়ে কিভাবে কাজকর্ম করবে? দাদু-দাদির সেবা করবে? তোমার কিছু হয়ে গেলে বাবার কি হবে একবারও ভেবে দেখেছ? আমিতো আর কাছে থাকিনা যে তোমাকে সাহায্য করব। তোমার নিজের জন্য হলেও নিজের খেয়াল রাখতে হবে, মা। সখিনা ফুপু কোথায়? সে আসেনি আজকে? সে তোমার যত্ন করছে তো? ” উদগ্রীব হয়ে জিজ্ঞেস করল ইশরাক।

” সখিনা আমার খেয়াল কিভাবে রাখবে? ওর সাথে আমার সম্পর্ক বাড়ির কাজের। কাজ শেষ করে ও নিজের বাড়িতে চলে যায়। ওর পরিবার আছে। স্বামী-সন্তান ফেলে কি আমার সেবা করতে আসবে ও? ও আমার সেবা করতে পারবেনা। আর তাছাড়া ওর রান্নাও খেতে পারেনা তোর বাবা। রান্নাবান্না সব আমাকেই করতে হবে। ” দুর্বল গলায় বললেন নাজমা আক্তার ।

” বাবা কার রান্না খাবে আমাকে বল? বিছানা থেকে উঠতে পারছনা তুমি। এই অবস্থায় কিভাবে রান্না করবে? বল কে করতে পারবে তোমার সেবা? তাকেই আমি তোমার কাছে নিয়ে আসব। ”

” ছেলের বউয়ের হাতের রান্না খেতে চাই। বউমার সেবা ছাড়া অন্য কারও সেবা আমার পোষাবেনা। ছেলের বউ নয় তাকে আমি নিজের মেয়ে হিসেবে পেতে চাই। একটা মেয়ের ইচ্ছে ছিল আজীবন। সেই শখ পূরণ হয়নি আজও। নিজের সব ইচ্ছে, শখ অনেক আগেই জলাঞ্জলি দিয়েছি। তাই কারও কাছে নিজের শখের কথা বলতে ভয় হয়। জানি সেগুলো অপূর্ণই থাকবে। একদিন হয়তো মৃত্যুও হবে সকল ইচ্ছে আর শখকে মনের গহীনে পুষে রেখেই। ”

দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন নাজমা আক্তার। খুব ছোটবেলায় তার মা মারা গিয়েছিল। সৎমায়ের সংসারে বেড়ে উঠেছেন তিনি। এসএসসি পরীক্ষার পরপরই আব্বা সৎমায়ের কথা শুনে তার বিয়ে দিয়েছিলেন। কেঁদেকেটেও কোন লাভ হয়নি। তার স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে একটা চাকরি করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বাপের বাড়িতে সৎমায়ের কথাই ছিল আইন। আব্বার ক্ষমতা ছিলনা স্ত্রীর কথার বাহিরে যাওয়ার। বিয়ের পর ইসহাক আজাদ স্ত্রীকে পড়াশোনা করাতে চাইলে মায়ের চাপে পিছিয়ে গেছেন। অনেক শখ অপূর্ণ থেকে গেছে। সংসারের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে শখগুলো।

ইশরাক মায়ের অতীতের সবকিছুই জানে। মায়ের বলা শেষের কথাগুলো ওর বুকে আঘাত করল। মা তো আর জানেনা ও কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কতটা যন্ত্রণা পুষে রেখেছে হৃদয়ের গহীনে। এক ছলনাময়ীর দেয়া আগুনে ছারখার হয়ে যাচ্ছে ওর ভেতরটা। রিশার বিয়ের কথা শোনার পরই ও বারবার ফোন করেছে রিশাকে। কিন্তু রিশা ওর সাথে কথা বলেনি। সাত বছরের সম্পর্ক এক নিমেষেই শেষ করে দিয়েছে রিশা। সেদিন রাতে ঘুমাতে পারেনি ইশরাক। ওর ভালোবাসার মানুষের বাসর। অন্য কারও বুকে মাথা রেখে নিজেকে উজার করছে ভেবেই ওর ভেতরটা ভেঙ্গেচুরে একাকার হয়ে গেছে। দুঃখ ভুলতে বন্ধুর সাথে গিয়ে আকণ্ঠ মদ্যপান করেছে। পরদিন বেঘোরে ঘুমিয়েছে। ঘুম থেকে উঠলেই আবারও কষ্টের নাগপাশ ওকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে নিয়েছে। মদ ভোলাতে পারেনি রিশাকে। মরে যেতে ইচ্ছে করছিল বারবার। একবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সুইসাইড করবে। কিন্তু পরিবারের কথা ভেবে মত পাল্টেছে। ও না পারবে রিশাকে ভুলতে, না পারবে সংসারের মায়ায় নিজেকে জড়াতে। জীবন্মৃত হয়ে ওকে বাঁচতে হবে। কাটাতে হবে বিনিদ্র রজনী। কেউ জানবেনা ওর গোপন দুঃখ।

” ভাইয়া, তুমি কি অসুস্থ? ”

সাদাফের ডাকে ওর দিকে তাকায় ইশরাক।

” তেমন কিছুনা জ্বর এসেছে। ”

” ও সাদাফ, বাপ, তোর চাচীকে ডেকে নিয়ে আয়। ওকে গিয়ে বল, ইশরাককে খেতে দিতে হবে। খাবারগুলো গরম করতে হবে। ”

” যাচ্ছি, মা। ”

” মা, তুমি শুয়ে থাক। আমার খাবার চিন্তা তোমাকে করতে হবেনা। ক্ষুধা লাগলে আমি খেয়ে নেব। ”

” তোর চিন্তা আমি করবেনা তো কে করবে? কোন কথা নয়, আজ আমি তোকে মুখে তুলে খাইয়ে দেব। ”

মায়ের জিদের কাছে হার মানল ইশরাক। কষ্ট হলেও খেতে হবে। গত দুইদিন থেকে পেটে দানাপানি পরেনি। শরীর দুর্বল লাগছে। তবুও খেতে ইচ্ছে করছেনা।

চলবে…