হলুদ বসন্ত পর্ব-০৭

0
17

#হলুদ_বসন্ত
#পার্ট_৭
জাওয়াদ জামী জামী

” ভাইয়া, বাবা তোমাকে ডাকছে। ”

অবনীর ডাকে মাথা তুলে চাইল ইশরাক। ওর মুখখানা দেখে অবনীর বুকের ভেতর ছ্যাৎ করে উঠল। ভাইয়ার শ্যামলা মুখখানা কৃষ্ণবর্ন ধারন করেছে। চোখের নিচে জমেছে কালি। যেন কত রাত নির্ঘুম কেটেছে তার।

” চাচাকে গিয়ে বল, দশ মিনিটের মধ্যে আসছি। ”

” একি অবস্থা হয়েছে তোমার? খুব কষ্ট পেয়েছ, ভাইয়া? ” সাহস করে জিজ্ঞেস করল অবনী।

অবনীর প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ওর দিকে উদাস নয়নে তাকিয়ে থাকে ইশরাক। চোখ দুটো নোনাজলে পরিপূর্ণ। ঠোঁট কামড়ে চোখের জল আটকে রাখার চেষ্টা করছে। এদিকে অবনী নিজের মনে বলেই চলেছে,

” সেদিন রিশাপুর কথাবার্তা আমার ভালো লাগেনি। সে বলেছিল, ভার্সিটিতে তার নাকি অনেক বন্ধু জুটেছে! ছেলে বন্ধুও ছিল তার। সে আর আগের মত ইম্যাচিউর নেই। আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখেছে। ” অবনী একে একে রিশার বলা কথাগুলো বলল।

অবনীর কথা শুনে বদলে গেল ইশরাকের চেহারা। ওর চোখে একটু আগ পর্যন্তও জমে ছিল অশ্রুবিন্দ। কিন্তু সেখানে এখন ঠাঁই নিয়েছে রাগ আর বিস্ময়।

” রিশা কবে ফুলতলা এসেছিল? আর তুই সেকথা আমাকে বলিসনি কেন? আমি প্রতিদিন বাড়িতে ফোন দিয়েছি। সবার সাথে কথা বলেছি। কিন্তু কথাটা তুই একবারও আমাকে জানাসনি কেন? ”

” তুমি জানতেনা! কিন্তু রিশাপু যে বলল, তুমি জানো? ”

” আমার প্রশ্নের উত্তর দে, তুই আমাকে জানাসনি কেন? তুই তো জানতিস ও গ্রামে এসেছে? নাকি ইচ্ছে করেই আমার কাছে লুকিয়েছিস? ”

” লু…লুকাব কেন! আপু বলেছিল, তার গ্রামে আসার কথা তুমি জানো। রেগে গেছ তুমি? বিশ্বাস কর, আমি ইচ্ছে করে কিছুই করিনি। ”

” তাহলে আমাকে জানালিনা কেন? ” একই প্রশ্ন আবারও করল ইশরাক।

” আমি ভেবেছিলাম তুমি জানো। সেজন্যই আর বলিনি। ”

” ওর কথাবার্তায় তোর যখন সন্দেহ হয়েছিল, সেই কথা ভেবেও জানাতে পারতিস আমাকে। নাকি তুই জানতিস ওর বিয়ের কথা? ”

” নাহ্। সত্যিই আমি জানতামনা। স্কুল থেকে এসে শুনলাম আপুর বিয়ে হয়েছে। তবে মাসখানেক আগে রিশাপুর চাচী পাশের বাড়ির দাদির সাথে গল্প করছিল, আপুর বিয়ের কথা চলছে। তারপর আপু যখন গ্রামে এসেছিল, তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম সেকথা। কিন্তু আপু আমার কথা হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল। ”

” এটাও তুই জানতিস, কিন্তু আমাকে বলার প্রয়োজন মনে করিসনি? এবার আমি মোটামুটি নিশ্চিত, তুই ইচ্ছে করেই সবকিছু আমার কাছে লুকিয়েছিস। কেন করেছিস এমন? ” বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন করল ইশরাক।

” বিশ্বাস কর ভাইয়া, আপুর কথায় আমি তোমাকে বিয়ের কথাটা জানাইনি। আপু বলেছিল, তোমাকে না জানাতে। তুমি শুনলে টেনশন করবে। আর আপু তোমাকে টেনশন দিতে চায়না। আমিও ভেবে দেখলাম, আপু ঠিক বলেছে, তাই তোমাকে জানাইনি। ” অবনী মিনমিন করে বলল।

” সিদ্ধান্ত নিতে শিখেছিস? কিন্তু আমার সেটা মনে হচ্ছেনা কেন? আমার কেন মনে হচ্ছে, তুই ইচ্ছে করেই সবকিছু জেনে-বুঝে এমনটা করেছিস? হিংসে হয় আমাকে? নাকি অন্য কারনে? ” ইশরাক তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অবনীর দিকে।

” আমি জেনে-বুঝে কিছুই করিনি, ভাইয়া। আমার কথা বিশ্বাস কর। ” অবনীর গলা কাঁপছে।

” চুপ, একদম চুপ। ছোট থেকেই তোকে মাথায় তুলে রেখেছি, তার এই প্রতিদান দিলি? কি করিনি তোর জন্য? অকৃতজ্ঞ মেয়ে। যা আমার রুম থেকে বেরিয়ে যা। আমার সামনে আর আসবিনা। আমার গোছানো জীবনটাকে তুই এলোমেলো করে দিয়েছিস। ভেঙে চুরমার করেছিস আমার সকল স্বপ্ন। এত হিংসা তোর মনে? ” রাগে দাঁতে দাঁত পিষে বলল ইশরাক।

” ও ভাইয়া, বিশ্বাস কর আমি কিছুই করিনি। এই যে দেখ, তোমাকে ছুঁয়ে বলছি। ” নিজেকে নিরপরাধ প্রমান করতে চেষ্টা করছে অবনী।

অবনীর হাত ইশরাকের বাহু ছুঁয়ে যেতেই এক ঝটকায় ওর হাত সরিয়ে দিল ইশরাক। সপাটে চড় মারল অবনীর গালে। থাপ্পড় খেয়ে মাথা ঘুরে উঠল অবনীর। দু ফোঁটা অশ্রু ঝরল চোখের কোন বেয়ে।

” বলেছিনা বেরিয়ে যা? আর কোনদিনও আমার সামনে আসবিনা তুই। ঘৃণা হচ্ছে তোর ওপর। ” অবনীকে টেনে ঘর থেকে বের করে দিল ইশরাক।

দরজার সামনে কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল অবনী। কিছুই বুঝলনা কি থেকে কি হয়ে গেল। নিজে থাপ্পড় খেয়েছে সেটাকেও গুরুত্ব দিলনা। ও চিন্তা করছে, ভাইয়ার রাগ কিভাবে কমানো যায়।

***

সেদিন সন্ধ্যায় বিছানা থেকে নামতেই মাথা ঘুরে মেঝেতে পরে গেলেন নাজমা আক্তার। খাটের কোনা লেগে কেটে গেল কপালের একপাশ। অঝোরে ঝরছে রক্ত।

ইশরাক মায়ের ঘরে এসে দেখল ওর মা মেঝেতে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝে। পাগলের মত মায়ের কাছে ছুটে গেল। আলতোভাবে ধরে মায়ের মাথা নিজের কোলে রাখল। জ্ঞান হারিয়েছেন নাজমা আক্তার।

হসপিটালের কেবিনে শুয়ে আছেন নাজমা আক্তার। স্যালাইন চলছে। পাশেই অধৈর্য্য হয়ে পায়চারী করছে ইশরাক। ইসহাক আজাদ মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। অসহায় চোখে তাকিয়ে আছেন স্ত্রী’ র দিকে। তাকে শান্তনা দিচ্ছে তারই ছোট ভাই ওয়াহাব।

দুইদিন পর হসপিটাল থেকে ছাড়া পেলেন নাজমা আক্তার। তার শরীর এখনো দুর্বল রয়েছে।

মিনারা খাতুন দুই বাড়ির রান্না একা হাতেই করছেন। যত্ন করছেন বড় জায়ের। নাজমা আক্তার চাইলেও তাকে কোন কাজই করতে দিচ্ছেননা তিনি।

” ইশু, আমার কাছে এসে বসবি, বাবা? ” করুণ গলায় জিজ্ঞেস করলেন নাজমা আক্তার।

” আসছি, মা। ” মায়ের পাশে গিয়ে বসল ইশরাক। এরপর জিজ্ঞেস করল,

” কিছু বলবে, মা? নাকি শরীর খারাপ লাগছে? ক্ষুধা লেগেছে? ”

” আমার সেদিনের কথাটা ভেবে দেখেছিস? কোন উত্তর দিলিনাতো? ”

” কোন কথা, মা? ”

” ছেলের বউয়ের মুখ দেখতে চাই। আমার কখন কি হয়ে যায়, সেটা বলতে পারিনা। আমার ইচ্ছেটা পূরণ করবিনা, বাবা? ”

” আমি সবেমাত্র ভার্সিটিতে ভর্তি হলাম, মা। এরইমধ্যে এতবড় দ্বায়িত্ব আমাকে নিতে বলোনা। আর তাছাড়া বিয়ে নামক জিনিসটার ওপর থেকে মন উঠে গেছে আমার। এসব স্রেফ পাগলামি ছাড়া কিছুই মনে হয়না এখন। বিয়ে কথাটা শুনলেই বিরক্ত লাগে এখন। ”

” কেন বিয়ে করবিনা শুনি? দ্বায়িত্ব পালনের ভয়ে? তবে আমরা আছি কেন? ছেলে আর ছেলের বউয়ের দ্বায়িত্ব তোর বাবা নিতে পারবেনা? আল্লাহ যেখানে মুসলমানদের জন্য বিয়ে করা ফরজ করেছেন, সেখানে তুই বলছিস এসব পাগলামি? ”

” ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করছ, মা! লাভ নেই। বিয়ে আমি করছিনা। দুনিয়ার কোন মেয়েকেই বিশ্বাস করিনা আমি। ওরা সবাই স্বার্থপর। ”

” তবে কি আমিও স্বার্থপর? তোর মা স্বার্থপর? ভালো বলেছিস। আর এই আমি কিনা নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য ছেলের মুখাপেক্ষী হয়েছি! আমি ভুলে গিয়েছিলাম, আম্মার মৃত্যুর সাথে সাথেই আমার সকল স্বপ্ন, শখ আর ইচ্ছের জলাঞ্জলি হয়েছে। আমি ভেবেছিলাম, দুনিয়ার কেউই আমার পাশে না থাকলেও, আমার ইশু আমার পাশে থাকবে। আমার সকল কথা রাখবে। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। যার জন্মদাতা পিতাই ছোটবেলায় নিজের মেয়েকে পর করে দিয়েছিল, সেখানে তুই আমার সন্তান হয়ে যে আমার কথা রাখবিনা এটা আমার বোঝা উচিত ছিল। ভুলে যা, আমি কি বলেছি। ” মলিন হেসে বললেন নাজমা আক্তার।

” মা, এভাবে বলোনা। আমার ভেতরে যে কি ঝড় বইছে, তা যদি তুমি জানতে তবে আমার ওপর রাগ করতে পারতেনা। ”

” তুই না জানালে আমি কিভাবে জানব তোর ভেতরে কি চলছে? মাকে বল কি হয়েছে? তারপর দেখ তোর ভেতরের ঝড় আমি শান্ত করতে পারি কিনা। ”

” এ ঝড় শান্ত হওয়ার নয়, মা। তুমি কিছুই করতে পারবেনা। ”

” আমাকে না জানিয়েই ধরে নিলি আমি কিছুই করতে পারবনা! এই বিশ্বাস তোর আমার প্রতি! নাকি সকলের মত এটা ভেবেই নিয়েছিস, আমি সাধারন একজন নারী হয়ে তোর কি উপকার করতে পারব? ”

” তোমাকে আমি আর পাঁচজনের মত সাধারন নারী ভাবিনা, মা। তুমি আমার কি, সেটা যদি তুমি জানতে তবে আজ একথা বলতে পারতেনা। ”

” আমি তোর কাছে কি, সেটা তুই আজ আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিস। নিজের জায়গা আজ আমি চিনে গেছি। ”

” আমাকে ভুল বুঝোনা, মা। আমি যদি তোমাকে সব খুলে বলতে পারতাম, তবে তুমি আমাকে ভুল বুঝতেনা। ”

” তুই আমাকে খুলে না বললে আমি কিভাবে জানব তোর কি হয়েছে? তুই আমাকে খুলেও বলবিনা আবার আমার কথাও শুনবিনা। এখানে আমার কি করার আছে বল? ” কথার মাঝেই শ্বাসকষ্ট শুরু হল নাজমা আক্তারের। তার স্ট্রং এ্যাজমা থাকায় মাঝেমধ্যেই শ্বাসকষ্ট হয়।

মাকে জোরে জোরে শ্বাস নিতে দেখে ফার্স্ট এইড বক্স থেকে ইনহেলার বের করে মায়ের মুখে ধরল। ইনহেলার নেয়ার কিছুক্ষণ পরই একটু আরামবোধ করলেন নাজমা আক্তার। ক্লান্ত হয়৷ তিনি বিছানায় পিঠ ঠেকালেন। চোখ বুজে নির্জিব হয়ে শুয়ে রইলেন।

মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে হুহু করে উঠল ইশরাকের ভেতরটা। তার এই দুঃখিনী মা এই সংসারে এসে কতটা ঝড়ঝাপটা সয়েছে, সেটা ও ভালো করেই জানে। দাদি , ফুপুরা যে মাকে কতশত কটুকথা শোনাতো তার সাক্ষী সে নিজে। বছরের পর বছর বাবার বাড়িতে উপেক্ষিতা তার মা। তার ভাইয়েরা তাকে সবকিছু থেকে বঞ্চিত করেছে, সেটাও জানে ইশরাক। এতগুলো বছর এই সংসারে শুধু গাধার খাটুনি খেটে গেছেন তিনি। বিনিময়ে বাবা আর দাদু ছাড়া সবার কাছ থেকেই পেয়েছেন অনাদর। এমনকি ফুপারাও মাকে অপমান করতে ছাড়েনি। সেই মাকে এমন নির্জিব শুয়ে থাকতে দেখে কাঁদছে ইশরাকের হিয়া। ছলছল চোখে তাকিয়ে থাকল মায়ের দিকে। পরম ভালোবাসায় ছুঁয়ে দিল মায়ের চোখমুখ।

আজ ভিষণ অভিমান জন্মেছে মনের কোনে। ছেলের স্পর্শ পেয়েও চোখ খুললেননা নাজমা আক্তার। একটু কঠিন হতে ইচ্ছে করছে তার। সারাটা জীবন একবারও নিজের কথা ভাবেননি। এই সংসারে এসেই তিনি হারিয়েছেন জীবনের মধুর দিনগুলো। তবুও কখনোই এসব নিয়ে আফসোস ছিলনা তার। তিনি চেয়েছিলেন, নিজের নাড়ি ছেঁড়া ধনদুটোকে মানুষ করবেন নিজের মনের মত করে। করেওছেন তাই। ইসহাক আজাদ কখনোই ছেলেদের গড়ে তুলতে স্ত্রীকে বাঁধা দেননি। ছেলেরাও মায়ের বাধ্য সন্তান ছিল। তিনি গতকাল পর্যন্তও মনে করতেন, ইশরাক তার কথা রাখবে। মায়ের ইচ্ছে পূরন করবে সে। কিন্তু তিনি ভুল ছিলেন।

এতক্ষণ মাকে চোখ বন্ধ করে থাকতে দেখে ভ্রু কোঁচকায় ইশরাক। ওর মা তো এমন ছিলনা! ওর সামান্য ডাকও কোনদিন মা উপেক্ষা করেনি। তবে আজ কেন ওর ছোঁয়ায় মা চোখ খুলছেনা? তবে কি মা কষ্ট পেয়েছে? ধক করে উঠল ইশরাকের বুক। ও কখনোই জেনেশুনে মাকে কষ্ট দিতে চায়না। মায়ের মলিন মুখখানার দিকে তাকিয়ে অতীতের কিছু তিক্ত স্মৃতি ভেসে উঠল চোখের সামনে। আর নয়। প্রয়োজনে নিজেকে জ্বালিয়ে, পুড়িয়ে ছাই করে হলেও মাকে সুখী করবে সে। তাই চকিতেই সিদ্ধান্তটা নিল। সবকিছুই ছেড়ে দিল ভাগ্যের ওপর। আগুপিছু কিছুই ভাবলনা।

” চোখ খোল, মা। তুমি যা বলবে আমি সেটাই করব। তুমি যদি চাও তবে আমি বিয়ে করতে রাজি আছি। তবুও তুমি রাগ করে থেকোনা। তোমার মলিন মুখ আমার বুকের গহীনে কষ্ট হয়ে ধরা দেয়। ”

ছেলের এমন ডাক উপেক্ষা করার সাধ্য নেই নাজমা আক্তারের। এই ছেলেই একটা সময় তার কোল জুড়ে এসেছিল সুখের আলো নিয়ে। ছেলের মুখের দিকে তাকিয়েই তিনি ভুলে গিয়েছিলেন সকল কষ্ট। এই ছেলেই তার সাত রাজার ধন।
চোখ খুললেন নাজমা আক্তার। ছেলেকে কাঁদতে দেখে উঠে বসতে চাইলেন। কিন্তু পারলেননা। ইশরাক তাকে বসিয়ে দিল। পরম মমতায় ছেলের গালে হাত রাখলেন তিনি।

” সত্যি বলছিস, ইশু? সত্যিই তুই বিয়ে করবি? ”

” তোমাকে সুখী করতে যা যা করার তার সবই আমি করব, মা। ”

” তবে এক্ষুনি তোর চাচার সাথে কথা বলব। তোর বাবা কোথায়? তাকে ডাক। আমাকে নিয়ে তোর চাচার বাড়িতে যাবে। ”

” তুমি এই অবস্থায় চাচার বাড়িতে যাবে! তুমি শুয়ে থাক, আমি চাচাকে ডেকে আনছি। বাবাকেঃ ডাকছি। ”

” দুর পাগল ছেলে, আমি যাব ছেলের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে, তুই অযথা তাকে ডেকে আনতে যাবি কেন? ”

” বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে চাচার বাড়ি যাবে মানে! ”

” মানে আমি অনেক বছর আগেই বউমা ঠিক করে রেখেছিলাম। এতদিন সে বাবার বাড়িতে ছিল, এখন তার বাবার বাড়ি থাকবার মেয়াদ ফুরিয়েছে। তাই এখন তাকে সামাজিক স্বীকৃতি দেয়ার সময় এসেছে। ”

” তোমার কথা কিছুই বুঝতে পারছিনা, মা। কিসব আবোলতাবোল বকছ! ”

” আরে গাধা ছেলে, আমি অবনীর কথা বলছি। আমি আর তোর বাবা অনেক আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, অবনীই হবে আমার বড় বউমা। ”

” কিহ্! ” বিস্ময়ে বাকহারা হয়ে গেল ইশরাক। রাগে ধকধক করে জ্বলছে ওর আঁখিদ্বয়।

চলবে…