হলুদ বসন্ত পর্ব-৩৩

0
15

#হলুদ_বসন্ত
#পার্ট_৩৩
জাওয়াদ জামী জামী

একা বাসায় সময় কাটছেনা। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর বেশ ঝরঝরে লাগছে। প্রতিটা ক্ষণ ওর কাছে এক যুগের মত মনে হচ্ছে। সময় কাটাতেই ব্যাগগুলো একটা একটা করে খুলতে শুরু করল। ধীরে ধীরে সব কাপড়চোপড় বের করে আলমারিতে রাখল। এরপর ইশরাকের ব্যাগ থেকে ওর কাপড়চোপড় নিয়ে আলমারিতে গুছিয়ে রাখল। নিজের রুমের কাজ শেষ করে গেল সাদাফের রুমে। সাদাফের সমস্ত পোশাক আলমারিতে গুছিয়ে রাখল। পুরো বাড়ি ঝাড়ু দিল। এবার রাতের খাবার রান্না করার পালা। কিন্তু বাসায় কোন বাজার নেই। কি করবে ভাবতে ভাবতে ফোন দিল সাদাফকে। তাকে চাল, ডাল, সবজিসহ কিছু জিনিস আনতে বলল। কথা শেষ করে সাদাফের বিকাশে টাকা পাঠিয়ে দিল। একটু পরই সাদাফ ওকে ফোন দিল। ফোন রিসিভ করতেই সাদাফ ওকে ধমকাতে শুরু করল। বারবার জানতে চাচ্ছে, কেন টাকা পাঠিয়েছে। অবনীও কম যায়না দ্বিগুণ তেজে সাদাফের সমস্ত ধমক সাদাফের ঘাড়েই গছিয়ে দিল।

প্রায় একঘন্টা পর সাদাফ ব্যাগ ভর্তি বাজার নিয়ে বাসায় আসল। হোস্টেলে থাকার সুবাদে অবনী বাড়ি থেকে ছোট একটা পাতিল, একটা কড়াই এনেছিল। আর একটা রাইস ঢাকায় এসে কিনেছিল। সেই রাইস কুকারেই ভাত রান্না করল। এরপর ডিম ভুনা আর আলু ভর্তা করল।

ইশরাকের আসতে রাত হল। আটটার দিকে বাসায় আসল। বাসায় ঢুকেই অবনীর হাতে শপিং ব্যাগ ধরিয়ে দিল।

” এত দেরি হল কেন, ভাইয়া? তুমি যে বলেছিলে সন্ধ্যার আগেই ফিরবে? ”

” অফিসের কাজ শেষ করতেই দেরি হয়ে গেছে। তুই এসেছিস কখন? ”

” অনেক আগেই এসেছি। অবশ্য আসতে চাইনি কিন্তু এই ঝগড়ুটে মহিলার জন্য না এসে উপায় ছিলনা। ” সাদাফ ইশারায় অবনীকে দেখিয়ে বলল।

” ও আবার কি করেছে? ” ইশরাক হেসে জিজ্ঞেস করল। ইশরাককে হাসতে দেখে অবনী চোখ ছোট করে ওর দিকে তাকিয়ে থাকল।

” কি করেনি তাই বল? আমাকে ফোন দিয়ে বাজার আনতে বলল। এরপর বিকাশে টাকা পাঠাল। আমি অনেকবার না করেছি কিন্তু আমার কথা শুনলে তো। বাধ্য হয়ে বাজার করতে হয়েছে। ”

ইশরাক কপাল কুঁচকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে অবনীর দিকে তাকাল। অবনী ওর দৃষ্টি বুঝতে পেরে জবাব দিল,

” বাহিরের খাবার খেতে ভালো লাগেনা। তাছাড়া সাদাইফ্যার বাচ্চারও তো বাহিরের খাবার পেটে হজম হয়না। সেজন্যই তো বাজার করতে বলেছি। ”

” অবনী, আমি তোর বড় ভাই হই সেটা ভুলে গেছিস? আর যদি উল্টাপাল্টা নামে ডাকিস তবে তোর চুল কেটে দেব বলে দিলাম। ” সাদাফ মুখে কথাগুলো বলল ঠিকই কিন্তু ওর ভেতরটা খুশিতে ভরে গেছে। কত বছর পর অবনী ওর সাথে এভাবে কথা বলল!

দু’জনের কান্ডকারখানা দেখে ইশরাক হাসছে।

” একশোবার বলব, হাজারবার বলব। কি করবি তুই? ”

” আবার তুই বলে! ভাইয়া, দেখেছ এই মেয়ের সাহস? ”

” অবনী, তোরা এভাবে ঝগড়াই করবি নাকি আমাকে খেতে দিবি? প্রচণ্ড ক্ষুধা লেগেছে। ”

” তুমি ফ্রেশ হয়ে এস, আমি খাবার দিচ্ছি। সাদাইফফ্যা তুইও খেতে আয়। ”

***

চাঁদের রুপালি আলোয় ভেসে যাচ্ছে বেলকনি। থালার মত চাঁদ আকাশের বুকে নিজের রাজত্ব জাহির করতে তৎপর। তারকারাজিরও চাঁদের সাথে প্রগাড় বন্ধুত্ব। চাঁদের চর্তুপাশে মিটিমিটি করে জ্বলছে। যেন চাঁদকে সাজিয়েছে বিনি সুতোর মালায়। অবনী বেলকনিতে দাঁড়িয়ে রাতের সৌন্দর্য অবলোকন করছে। ওর পুরো শরীর ভেসে যাচ্ছে আলোর ঝলকানিতে। একনজর রুমের দিকে তাকায় অবনী। ইশরাক বিছানায় ল্যাপটপে মুখ গুঁজে রয়েছে এক ঘন্টা যাবৎ। দুনিয়ার কোন কিছুতেই তার নজর নেই। একমনে কাজ করে যাচ্ছে। মৃদু হেসে রুমে ঢুকল অবনী। শপিং ব্যাগ নিয়ে পাশের রুমে গেল। তার আগে ইশরাকের সামনে রাখল পাঞ্জাবি।

সময় নিয়ে শাড়ী পরল, খোঁপায় বেলি ফুলের মালা জড়ালো। হাত ভর্তি করে পরল কাঁচের চুরি।

রুমে ঢুকে ইশরাককে আগের মতই ল্যাপটপে মুখ গুঁজে থাকতে দেখল। আলতার শিশি ধরা হাতটা অকারণেই ঝাঁকাল কয়েকবার। উদ্দেশ্য ইশরাকের নজরে আসা। কিন্তু ব্যর্থ হল। ইশরাক ওর চুরির রিনিঝিনি শব্দ শুনলইনা। গাল ফুলিয়ে মেঝেতে বসল অবনী। শাড়ীর আঁচল ছড়িয়ে পরল মেঝেতে। পা দুটো মেলে সেদিকে ঝুঁকল সে। ঠোঁট কামড়ে আলতা দিতে শুরু করল।

অনেকক্ষণ বসে থাকায় শরীর আড়ষ্ট হয়ে যাওয়ায় আড়মোড়া ভাঙল ইশরাক। ঠিক তখনই ওর নজর গেল মেঝেতে বসা লাল পরীর দিকে। ধক করে উঠল ওর বুক। শ্বাস নিতে ভুলে গেল। ধীর পায়ে বিছানা থেকে নেমে অবনীর পায়ের কাছে এসে বসল। ওর হাত থেকে আলতার শিশি নিয়ে অবনীর এক পা নিজের পায়ের ওপর রাখল। চোখ বন্ধ করে ভাবল, অবনী আগে কিভাবে পায়ে আলতা দিত। দৃশ্যটা মনে আসতেই ও আলতা পরানো শুরু করল।

অবনী এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে ইশরাকের দিকে। কিন্তু সে গভীর মনোযোগে আলতা পরিয়ে দিচ্ছে। যেন কোন মনযোগী ছাত্র দুনিয়ার সবকিছু ভুলে ক্লাসের পড়া মুখস্থ করছে।

এক পায়ে আলতা দেয়া শেষ হতেই একটু ঝুঁকে ফুঁ দিয়ে শুকাতে চাইছে ইশরাক। ইশরাকের এমন আনাড়িপনা দেখে হাসল অবনী। অবনীর হাসির শব্দ কানে আসতেই ওর দিকে তাকাল ইশরাক। ইশরায় জানতে চাইল, কি হয়েছে? অবনী ইশারায় ওকে আরেক পা দেখিয়ে দিল ।

দুই পায়ে আলতা দেয়া হতেই ইশরাক অবনীর হাত ধরে দাঁড় করাল। অবনী উঠে দাঁড়াতেই ইশরাক ওকে কোলে তুলে নিল। ওকে নিয়ে গেল বেলকনিতে। অবনী ইশরাকের গলা ধরে ওর বুকের সাথে মিশে রইল।

” বলতো কে বেশি সুন্দর, চাঁদ, অন্ধকার, আকাশ, নক্ষত্র নাকি তুই? ”

” চাঁদ,চাঁদ এবং চাঁদের আলো। ”

” হলোনা। ”

” তাহলে? ”

” তুই, তুই এবং তুই। ”

ইশরাকের কথা শুনে খিলখিলিয়ে হেসে উঠল অবনী।

” তুমি পাগল হয়ে গেছ। তাই এমন আজব কথা বলছ। ”

” তোর জন্য পাগল হয়েছি। আমার পুরো দুনিয়াই তোকে ঘিরে, সেটা কি তুই জানিস? তুই ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ। তোকে বিনা আমি কিছুই নই। আর কতদিন আমাকে অপেক্ষায় রাখবি? আর কতদিন আমাকে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে? ”

ইশরাকের ফিসফিসানি কথাগুলো অবনীর তনু মনে শিহরণ জাগায়। ও আরেকটু শক্ত করে আঁকড়ে ধরল ইশরাককে।

” আপনি যদি অবুঝের মত ধৈর্যের পরীক্ষা দেন, তবে আমি কি করতে পারি! ” অবনীও ফিসফিস করে বলল।

ইশরাক হাসি হাসি মুখ করে তাকায় অবনীর দিকে।

” তার মানে আজ রাতেই অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে? অবসান হতে চলেছে আমার দুঃর্বিসহ রাতগুলোর? অবসান হতে চলেছে সকল সকল যন্ত্রণার? ”

অবনী উত্তর না দিয়ে শুধু হাসল। ইশরাক দেখল ওর চোখেমুখে কামনার ঢেউ আছড়ে পরছে।

***

চোখ খুলেই নিজেকে ইশরাকের বুকের ভেতর আবিষ্কার করল অবনী। ইশরাক ওকে শক্ত করে ধরে রেখেছে। এতক্ষণ তার নগ্ন বুকে শুয়ে ছিল অবনী! লজ্জায় অবনীর মুখ লুকাল ইশরাকেরই নগ্ন বুকে। গালে ছোঁয়া লাগল বুকের পশমের। শিরশিরিয়ে উঠল ওর শরীর। সাহস করে মুখ তুলল। আঁকিবুঁকি করছে পশমের ভেতর। মানুষটা বেঘোরে ঘুমাচ্ছে।

” দেখো কেমন পরম নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে! এর নিষ্পাপ মুখখানা দেখে কে বলবে, এটা একটা বজ্জাতের হাড্ডি। নির্লজ্জ একটা। পুরো রাত আমাকে জ্বালিয়ে মেরেছে। ” বিরবির করে বলল অবনী।

” নির্লজ্জ হয়েছি বেশ করেছি। ভবিষ্যতে আরও নির্লজ্জ হব। যা করেছি বিয়ে করা বউয়ের সাথেই করেছি। পাশের বাড়ির ভাবীর সাথে কিছু করতে যাইনি। তাই মেয়ে, এমন অবান্তর অভিযোগ বাদ দিয়ে স্বামীর দিকে নজর দে। ভালোবাসার কাঙাল স্বামীকে ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দে। ” চোখ বন্ধ রেখেই বলল ইশরাক।

হঠাৎই ইশরাকের কথা শুনে চমকে উঠল অবনী। তাড়াহুড়া করে ওর বুক থেকে সরতে চাইল। কিন্তু বিধিবাম। ইশরাক ওকে ধরে রেখেছে শক্ত করে এটা অবনীর মনেই ছিলনা।

” তুমি জেগে আছ? অসভ্য লোক, চুপটি করে আমার কথা শুনছিলে? ”

” ক্ষতি কি? বউয়ের কথাই শুনছিলাম। বুকের ওপর মাখনের মত নারীর শরীর চেপে থাকলে কোন পুরুষের চোখে ঘুম আসতে পারে, এটা আমার জানা ছিলনা। এই শরীরটা ঘুম তো আসতেই দেবেনা বরং ঘুম ভাঙ্গতে উষ্কানি দেবে। এবং দিয়েছেও। ”

ইশরাকের কথা শুনে লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে অবনীর। সারারাত লজ্জা দিয়েও কি এই লোক শান্তি পায়নি?

” ছাড়ো আমি উঠব। ”

” আরেকটু থাক। ”

” উঁহু। তুমি অফিসে যাবেনা? নাস্তা বানাতে হবে তো। ”

” খাবার কিনে আনব। তুই আরেকটু থাক। বেশি না দশ মিনিট। ” ইশরাকের এমন আবদার ফেলবার সাধ্য নেই অবনীর। তাই সে চুপটি করে পরে রইল ইশরাকের বুকে।

ঠিক দশ মিনিট পর অবনী ইশরাকের বন্ধন থেকে ছাড়া পেল। যদিও সেটা ইশরাকের অনিচ্ছায়। অবনী তাতেই খুশি। ইশরাকের বুক থেকে উঠে বসতেই অবনী বুঝতে পারল ওর পুরো শরীরে ব্যথারা রাজত্ব করছে। অজান্তেই ককিয়ে উঠল।

” কি হয়েছে, বউ? ” উদগ্রীব হয়ে জানতে চাইল ইশরাক।

” ব্যথা করছে পুরো শরীর। ” লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে উত্তর দিল অবনী।

ইশরাক দুষ্টু হেসে অবনীর ঠোঁটে চুমু দিল।

” আজকে আর রান্না করে কাজ নেই। আমি খাবার অর্ডার করছি। তুই ফ্রেশ হয়ে আয়। আমি বাহিরে গিয়ে পেইন কিলার নিয়ে আসছি। ”

***

” চুপচাপ শুয়ে থাকবি। দুপুরেও রান্না করার দরকার নেই। আমি খাবার অর্ডার দেব। সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কোন কাজ নয়। আজ মেডিকেলে যাওয়ারও দরকার নেই। বুঝেছিস আমার কথা? ” ইশরাক অফিসে যাওয়ার আগে নানান বিধিনিষেধ জারি করল।

” দুপুরে আমিই রান্না করব। খাবার অর্ডার দিলে সেটা রিসিভ করবনা আমি। অযথা টাকা নষ্ট করার প্রয়োজন দেখিনা কোন৷ ”

” তোদের জন্য খাবার অর্ডার করলে সেটাকে টাকা নষ্ট করা বলে? ”

” অবশ্যই বলে। আমি বাসায় হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে-বসে থাকব, আর তুমি খাবার অর্ডার করবে , সেটাকে কি টাকা নষ্ট বলেনা? আর কোন কথা হবেনা। সুস্থ যাব ঘন্টাখানেকের মধ্যে। আমি বিকেলে সাদাফ ভাইয়ার সাথে বাহিরে যাব। অনেক কেনাকাটা বাকি আছে। টাকা দিয়ে যাও। আজ থেকে বাসার খাবার খাবে নিয়মিত। ”

” লিষ্ট করেছিস কি কি কিনতে হবে? ” ওয়ালেট বের করতে করতে প্রশ্ন করল ইশরাক।

” আজকে আপাতত রান্নার এবং রান্নাঘরের কিছু সরঞ্জাম কিনব। যেগুলো না কিনলেই নয়, সেগুলোই কিনব। ”

” এটা রাখ। প্রয়োজনমত জিনিসপত্র কিনে নিস। ” ওয়ালেট থেকে নিজের গাড়ি ভাড়ার টাকা রেখে ওয়ালেটটাই অবনীর দিকে বাড়িয়ে দিল ইশরাক।

অবনী ওয়ালেট থেকে সাত হাজার টাকা নিয়ে ওয়ালেট ফিরিয়ে দিল ইশরাককে।

” আসার সময় আমার দুই মা এবং দুই বাবা বেশ কিছু টাকা দিয়েছে আমাকে। সেই টাকাগুলো দিয়েই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা হয়ে যাবে। তোমার থেকে টাকা নিলাম শুধু একারনে, তুমি পরে যাতে দ্বায়িত্ব এড়াতে না পার সেজন্য। পরে টাকা নেই, কেন তোকে টাকা দেব, এত টাকা খরচ করতে হয়না, ভবিষ্যতে এসব বলতে না পার সেজন্য তোমার মুখ বন্ধ করতেই আমার এই উদ্যোগ। ”

” মাফ চাই, বইন। স্যালারি পেয়েই সব টাকা তোর হাতে তুলে দেব। তুই যা খুশি করিস। টাকা ইনকামের দ্বায়িত্ব আমার, খরচ করার দ্বায়িত্ব তোর। তা-ও আমার নামে উল্টাপাল্টা চিন্তা করিসনা। ”

” স্বামীদের একটু টাইট দিয়ে রাখতে হয় বুঝলে? তাদের স্বভাব ছাগলের মত। এদিকসেদিক মুখ দিয়ে বেড়ানো তাদের স্বভাব। বাঁধন একটু ঢিলে করেছ তো মরেছ। তাই সংসার জীবনের শুরু থেকেই স্বামীকে টাইট দিচ্ছি। ”

” শেষ পর্যন্ত ছাগল বানিয়ে দিলি! বউকে এত ভালোবেসেও যদি ছাগল উপাধি পেতে হয়, তবে পুরুষ জাতি তোমাদের বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো। ”

ইশরাকের অসহায় মুখভঙ্গি দেখে খিলখিল করে হেসে উঠল অবনী। ইশরাক মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার রমনীর দিকে। কে বলবে, একসময় এই মেয়েটিকে ও বিয়ে করতে চায়নি? ওকে কথার বানে জর্জরিত করেছিল? আজও সবকিছুর জন্য আফসোস হয়, অনুশোচনা করে ইশরাক। এবং আজীবন করবে।

চলবে…