#হারানো_হিয়ার_নিকুঞ্জ_পথে
লেখনীতে : তামান্না বিনতে সোবহান
পর্ব – ৩
কোনোমতেই যখন বিয়েটাকে আটকানো গেল না, তখন একদম নিরুপায় হয়েই অর্ণবকে কল করতে বাধ্য হয়েছিল মিঠি। বলেছিল, সে কিছু বলতে চায়!
অর্ণব নিজেও এত তাড়াতাড়ি বিয়ের জন্য প্রস্তুত ছিল না, আর পরিবারের এই সিদ্ধান্তকে তুচ্ছতাচ্ছিল্যও করতে পারছিল না। তবুও একপ্রকার নিমরাজি ভাব নিয়ে মায়ের ইচ্ছে ও সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিচ্ছিল সে। এমতাবস্থায় মিঠির এই ডাক পাঠানোয়, কিঞ্চিৎ চিন্তা ভর করেছিল মনে। সময় বের করে সাড়া দিতে ফোনকলের ঠিক পরদিনই রেস্টুরেন্টে এসে অপেক্ষা করছিল অর্ণব।
আধঘণ্টা অপেক্ষার পর মিঠি এসেছিল সেদিন, সাথে ছিল অর্ণবের বয়সী এক যুবক। সামনে এসে মিঠি নিজেই যুবকটাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে সরাসরি বলল, “ও নুহাশ। আমার বয়ফ্রেন্ড। আমরা দু’জন দু’জনকে ভীষণ ভালোবাসি। চার বছর ধরে রিলেশনে আছি। ওর জন্যই এই বিয়েটা করব না বলে সেদিন আপনার সাথে অমন বাজে ব্যবহার করেছি।”
মিঠি সবে অর্নাসে অ্যাডমিশন নিয়েছিল তখন। এইটুকু বয়সে সিরিয়াস বয়ফ্রেন্ড তার থাকতে পারে ভাবেইনি অর্ণব৷ খানিকটা সন্দেহ মনে গেঁথে রেখে জানতে চাইল, “সত্যিই?”
ঘাড় নেড়ে, নতমুখী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল মিঠি। অর্ণব দু’জনকেই বসতে বলে মিঠিকে বলল, “বাড়িতে জানাননি?”
মিঠি মলিনমুখে বলল, “জানিয়েছি।”
“কী বলেছেন তারা?”
“মানতে নারাজ। কারণ, নুহাশ এখনও বেকার। কোনো চাকরিবাকরি করে না৷ বিয়ে করে বউ পালতে পারবে না। তাছাড়া আমি নিজেও আগে পড়াশোনা শেষ করতে চাই। এরপর কিছু একটা করব। দ্যান বিয়েশাদী।”
অর্ণব বিজ্ঞের ন্যায় মাথা নাড়িয়ে বলল, “বুঝলাম। এখন আমার কী করণীয়?”
“আপনি প্লিজ, এই বিয়েটা ভেঙে দিন।”
“আমি নিজেও এখন বিয়ে করতে আগ্রহী নই। আমার পুরো ক্যারিয়ার সামনে। শীঘ্রই কানাডা যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। এখন এই বিয়ের চক্করে পড়লে আমার ক্যারিয়ার শেষ।”
“তাহলে এই বিয়েতে রাজি হয়েছেন কেন? ”
“গার্ডিয়ানের কথার অবাধ্য হইনি কোনোদিন।”
মিঠি দু’হাত জোর করে অনুরোধের সুরে বলল, “প্লিজ, আপনি কিছু করুন। এখন একমাত্র আপনিই পারেন এই বিয়েটা ভাঙতে।”
অর্ণব উপায়ন্তর না পেয়ে বলল, “কিন্তু কীভাবে?”
“বলে দিন যে পাত্রীকে আপনার পছন্দ হয়নি।”
“আম্মা যেন আমার পছন্দ-অপছন্দের কথা ভেবে বসে আছেন! উনি নিজেই আপনাকে পছন্দ করেছেন। আমার পছন্দ হয়েছে কি না সেটা জানতে চাননি।”
এ পর্যায়ে মিঠিকে খুব চিন্তিত দেখায়। চিন্তায় চিন্তায় ওখানে বসে বসেই ঠোঁটমুখ ভেংচিয়ে কাঁদোকাঁদো মুখে একের পর এক চকোলেট খেয়ে গেল, অথচ কোনো সমাধানে আসতে পারল না।
বয়সের তুলনায় মিঠির এই কাণ্ডকারখানা ভীষণ বাচ্চা বাচ্চা ও আদুরে লাগছিল। চকোলেট খেতে খেতে একসময় গালমুখ ফুলিয়ে কেঁদে উঠল। কান্নার দরুন নাকের ডগা লাল হয়ে গেল। সেইসাথে মিষ্টি চেহারায় নেমে এলো আষাঢ়ের ঘনকালো মেঘ।
অর্ণব খানিকক্ষণ ওই মিষ্টি চেহারা পর্যবেক্ষণ করে, দু’জনের কথা চিন্তা করে বলল, “ঠিক আছে। আমিই বিয়েটা ভাঙব।”
এরপর নুহাশের দিকে তাকিয়ে বলল, “যত দ্রুত পারেন, চাকরি ম্যানেজ করেন। আমি আপনাদের অবস্থা বুঝলেও অন্য কেউ বুঝবে না। তাই খুব বেশি দেরী হওয়ার আগে নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে আপন করে নিন।”
নুহাশ ঝটপট উত্তর দিল, “আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি ভাই।”
অর্ণব যখন বাড়ি এসে জানাল, কোনোভাবেই তার পক্ষে এই বিয়ে করা সম্ভব নয়, দিলারা জামান খেপেটেপে ছেলেকে গালিবকা শুরু করলেন। চিৎকার-চেঁচামেচি করে বলতে শুরু করলেন, “এত সুন্দর একটা মেয়ে! মিষ্টি চেহারা! তাকে না কি পছন্দ হয়নি! বলি তোর চোখ কি কানা?”
“হ্যাঁ, কানাই।”
“চশমা পর, তারপর ভালো করে দেখ। কী সুন্দর চাঁদের মতো মুখখানা ওর। এমন মেয়েকে কেউ রিজেক্ট করতে পারে?”
অর্ণব স্পষ্টকণ্ঠে বলল, “আমি যখন একবার বলেছি, এই বিয়ে হবে না। তখন আর কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি তুমি করবে না আম্মা। এরচেয়েও ঢের সুন্দরী মেয়ে এই দুনিয়ায় আছে।”
“হ্যাঁ, আছে। থাকবে না কেন! কিন্তু এই গ্রামে এমন ভদ্র ও শান্তশিষ্ট মেয়ে ওই একটাই।”
“কেমন ভদ্র আর কেমন শান্তশিষ্ট, সেটা তো আমি জানি। তুমি তার বাঁদরামির কতটা দেখেছ!”
দিলারা জামান ছেলেকে হাত ধরে বুঝাতে চেয়ে বললেন, “ও বাবা, শোন না, গ্রামের মানুষজন ছিঃ ছিঃ করবে।”
“আর এই বিয়ে হলে দুটো মানুষের মন ভেঙে যাবে। ভাঙা মনে দ্বিতীয়বার ভালোবাসার চাষ করা ভীষণ কঠিন আম্মা।”
মনে মনে এইটুকু আওড়ালেও মাকে এই কথা বলতে পারল না অর্ণব। শুধু বলল, “আমার কিছু করার নেই আম্মা। এই বিয়ে হচ্ছে না, এটাই আমার শেষ কথা। জোরাজুরি করলে আমি পালিয়ে যাব।”
ভারাক্রান্ত মন নিয়ে মুঠোফোনের মাধ্যমে ফাতেহা বেগমকে বিয়ে ভাঙার কথা জানালে, ওপাশের মানুষটার মনমর্জি ঠিক বুঝলেন না দিলারা জামান। ঠিক তার একঘণ্টা পরই ফোন এলো, মিঠির বাবা আলমাস কবীর স্ট্রোক করে হসপিটালের বেডে শুয়ে আছেন।
ওইদিনই প্রথমবার অর্ণব বুঝেছিল, একটা নেগেটিভ কথার প্রভাব কত ভয়ংকর হতে পারে। এরজন্য নিজেকে সে শত গালিবকা দিলেও অপরাধবোধ থেকে মুক্তি মিলল না। কেবলই নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছিল তার।
ঠিক সাতদিন পর মিঠির বাবা সামান্য সুস্থ হয়ে বাড়ি, এলে অর্ণব তাকে দেখতে গেল। তিনি দু’হাতে তার হাত দু’খানা জড়ো করে হাতের মধ্যে মাথা ঠেকিয়ে বলে উঠলেন, “তোমার কাছে বুড়ো বাবার একটা অনুরোধ আছে বাবা। আমার মেয়েটাকে অসম্মানের হাত থেকে বাঁচাও। পুরো গ্রামের মানুষের সামনে ও লজ্জায় পড়বে। বিয়ে ভাঙলে যে একটা মেয়ে কী পরিমাণ মানসিক অশান্তির মধ্য দিয়ে যায় তুমি তা এখনই বুঝবে না। তুমি আমার অনুরোধটা রাখো বাবা।”
মিঠি পাশেই ছিল। বাবার অনুরোধ ও আচরণ দেখে দু’দিকে মাথা নেড়ে অর্ণবকে খুব করে নিষেধ করল, সম্মতি দিতে। অর্ণব অসহায় অবস্থায় বসে থেকে ভেবে গেল, এমন একটা সিচুয়েশন কীভাবে সামাল দিবে।
আলমাস কবীর আবারও বললেন, “তুমি তো জানোই, ও আমার বড়ো আদরের মেয়ে। ওর সম্মানে যদি আঁচড় লাগে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না। তুমি ওর সম্মানটা বাঁচাও বাবা। এক অসহায় বাবাকে হেরে যেতে দিয়ো না।”
গভীর করে শ্বাস টেনে অর্ণব ভদ্রলোককে আশ্বস্ত করে উত্তর দিল, “আপনি চিন্তা করবেন না। যে তারিখে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, সেদিনই বিয়ে হবে৷ এবং পুরো গ্রামের মানুষ এই বিয়ের সাক্ষী থাকবে।”
মিঠি ক্ষুব্ধ দৃষ্টিতে অর্ণবের দিকে তাকিয়ে সেখান থেকে চলে গেল। আর অর্ণব একজন সুন্দর মনের মানুষের সান্নিধ্যে বসে থেকে আপনমনে গল্প চালিয়ে গেল। অপরাধবোধ খানিকটা কমে এলো তার।
***
খুব ধুমধাম করে নির্দিষ্ট তারিখেই বিয়েটা হয়ে গেল। বিয়ের রাতে ফুলে ফুলে সাজানো বিছানার কোণে বসে চকোলেট খেতে খেতে মিঠি বলল, “আপনি কাজটা একদম ঠিক করেননি।”
অর্ণব সব গুছিয়ে রেখে, স্বাভাবিক দূরত্ব বজায় রেখে বিছানায় বসে বলল, “আপনি পালিয়ে গেলেই পারতেন।”
“বারে! আব্বুকে ওই অবস্থায় রেখে পালাতাম কী করে?”
“আর আমিও কী করে পারতাম, দ্বিতীয়বার তাঁকে স্ট্রোকের দিকে ঠেলে দিতে?”
মিঠি ভাবুক নয়নে চেয়ে থেকে বলল, “এখন কী হবে?”
“যা হয়, পরে দেখব। এখন ঘুম দরকার। এই বিয়েশাদী এত প্যারা! বাপরে! ক’টাদিন ধরে মাথার ওপর দিয়ে যেন সুনামি যাচ্ছে।”
“এ্যাহ, ঢং। নিজের যে বিয়ের শখ জেগেছে সেটা লুকাচ্ছেন কেন?”
“ঠিক তাই! বিয়ের খুব শখ ছিল বলেই তো, জেনে-বুঝে আপনার মতো একটা ঝামেলাকে কাঁধে তুলেছি।”
মুখের চকোলেট মুখে রেখে মিঠি দাঁত কিড়মিড় করে বলল, “কী বললেন আপনি? আমি ঝামেলা?”
“অবশ্যই ঝামেলা। এমন একটা ঝামেলা যে, বাইরে যাওয়ার আগে আপনাকে আপনার প্রেমিকের হাতে হস্তান্তর করতে হবে। কাজটা কি এত সহজ? ঝামেলার না?”
“মানে!”
অর্ণব ঝেড়ে কাশল, “নুহাশের সাথে কথা হয়েছে আমার। আপাতত বিয়ের অ্যাকটিংটা চলুক। কিছুদিন যাক, এরপর হুদাই ঝগড়াঝাটি করে, সবাইকে বলব, আমরা মানিয়ে নিতে পারছি না। ডিভোর্স চাই। তখন ডিভোর্স হয়ে গেলে আপনাকে নুহাশের হাতে তুলে দিয়ে আমি চলে যাব কানাডায়। নিশ্চিন্তে ছ’সাত বছর কাটিয়ে তারপর দেশে ফিরে নিজেকে নিয়ে ভাবব।”
মিঠির চোখ চকচক করে উঠল। আনন্দে সে লাফিয়ে উঠে ফের চকোলেট মুখে পুড়ে বলল, “সত্যিই?”
“হ্যাঁ, সত্যিই।”
“আমি কি নুহাশকে একটা ফোন করতে পারি?”
“অবশ্যই।”
মিঠি অতি আহ্লাদী হয়ে অর্ণবের একটা হাত ধরে ঝাঁকুনি দিতে দিতে বলল, “থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ সো মাচ্। ইউ আর সো স্যুইট।”
এরপর বেখেয়ালিতে অর্ণবের গাল টেনে দিল। অর্ণব বড়ো বড়ো চোখে চেয়ে বলল, “হয়েছে, আর ঢং দেখাতে হবে না।”
বাসর রাতে, স্বামীকে ফোনের স্ক্রিনে ডুবিয়ে রেখে মিঠি পুরো রাত নুহাশের সাথে দুষ্টুমিষ্টি খুঁনসুটিতে মেতে থাকল। কথা বলতে বলতে কখন যে ফোন কানে রেখে ঘুমিয়ে পড়ল, টেরও পেল না৷ এদিকে তার হাতেও চকোলেট ধরে রাখা।
রাত চারটার দিকে অর্ণব যখন ঘুমন্ত মিঠিকে দেখল, তখুনি সে আবিষ্কার করল, তার ঘরটায় আজ আকাশের চাঁদ নেমে এসেছে। মা ঠিকই বলেছিলেন, মুখটা একদম চাঁদের মতোই। মিঠির সৌন্দর্য, বাচ্চামো, এমনকি তার হাসি ও কথা, সবমিলিয়ে এই ঘরটার ঝিমিয়ে পড়া ভাবটা না-ই হয়ে গেল। সে নিজের ফোন রেখে আলগোছে মিঠির কানের পাশ থেকে ফোন সরিয়ে রাখল৷ হাত থেকে চকোলেট সরিয়ে ডাস্টবিনে ফেলতে গিয়ে হতবাক হয়ে গেল। এরমধ্যে পাঁচ থেকে ছয়টা চকোলেট আস্তো ফাঁকা৷ অর্ণবের গালে হাত আবার ঠোঁটে মৃদু হাসি।
সকালবেলা নাশতা শেষে দু’জনে মিলে ঘুরতে যাওয়ার বাহানায় আগে কোর্টে এলো। ডিভোর্স সম্পর্কিত যত নিয়মনীতি আছে, সব বুঝে নিয়ে নুহাশের সাথে দেখা করতে গেল।
বিয়ের পরদিনই মিঠির দেখা পাওয়া, এটা এক অপার বিস্ময়ের মতো ছিল নুহাশের জন্য। অর্ণবের এই কথা রাখার ধরন ও তাদের স্পেস দিয়ে অন্য টেবিলে বসা, সবকিছু খেয়াল করে নুহাশ যেমন নিশ্চিত হলো, তার ভালোবাসা নিরাপদে আছে, তখন বেশ স্বস্তিও পেল। কোন স্বামী বিয়ের পরদিনই এমন একটা কাজ করে, বউকে প্রেমিকের সাথে ডেটে নিয়ে আসে? বড়ো অদ্ভুত মানুষ এই অর্ণব।
টুকটাক গল্পগুজব ও খাওয়াদাওয়ার ফাঁকে ঘণ্টাখানেক চলে গেল। নুহাশ বিদায় নিয়ে ইন্টারভিউ দিতে রওনা হলো আর নবদম্পতি ফুটপাত ধরে হাঁটতে শুরু করল।
হাঁটতে হাঁটতে চকোলেট মুখে পুড়তেই অর্ণব বলল, “আপনি এত চকোলেট খান কেন?”
মিঠি বাচ্চামো কণ্ঠে বলল, “ভালো লাগে।”
“অতিরিক্ত চকোলেট খাওয়া কিন্তু ভালো না। এতে আপনারই ক্ষতি হবে। বিশেষ করে দাঁতে।”
“আপনি কি দাঁতের ডাক্তার?”
অর্ণব হেসে বলল, “না।”
“তাহলে উল্টাপাল্টা কথা বলছেন কেন?”
“উল্টাপাল্টা?”
“হ্যাঁ।”
“উল্টাপাল্টা কথা হতে যাবে কেন? এটা তো কমবেশি সবাই-ই জানে, অতিরিক্ত মিষ্টি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।”
“আমার চকোলেট খাওয়া দেখে কি আপনার হিংসে হচ্ছে?”
“তা হবে কেন?”
“যদি নাহয়, এসব নিয়ে সাজেশন দিবেন না।”
“আশ্চর্য! ক্ষতির কথা তো জেনে রাখবেন না কি! খেলে লিমিট মেপে খাবেন। অতিরিক্ত কোনোকিছুই ভালো না, এটা তো জানেন বোধহয়।”
মিঠি একগাল হেসে বলল, “চকোলেট আমার ভীষণ প্রিয়! না খেয়ে থাকতে পারি না। তাই এটা আনলিমিটেড অফারে চলতেই থাকতে।”
অর্ণব আর কথা বাড়ায়নি। নিঃশব্দে পা ফেলে হাঁটছিল। মিঠি তার সাথে পা মিলাতে হিমশিম খেলেও থেমে থাকল না। একটু জোরে পা ফেলে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে বলল, “এত দ্রুত হাঁটছেন কেন! আপনি তো আমাকে ফেলেই চলে যাবেন।”
অর্ণব চোখ নাচিয়ে বলল, “এতে কি সমস্যা হবে কিছু? আপনি একা পথ চলতে পারেন না?”
“একশোবার পারি। কিন্তু এইমুহূর্তে আপনি আমার সাথে আছেন। তাই আমি এখন আপনার দায়িত্বে। আশা করি সব দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করবেন!”
এইটুকু বলে, হাতের চকোলেট অর্ণবের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “খাবেন?”
“উঁহু, এসব আমার অপছন্দ। আপনিই খান। আপনার মতো চকোলেটের জন্য চকোলেটই ঠিক আছে।”
চোখদুটো ছোটো ছোটো করে মিঠি কোমরে হাত গুঁজে বলল, “আমি চকোলেট?”
“হম…। আম্মার চোখে, আপনি চাঁদের মতো সুন্দর। কিন্তু আমার চোখে, আপনি চকোলেটের মতো সুন্দর। যদিও চকোলেট আমার অপছন্দ এবং আপনিও ভীষণ অপছন্দের একজন৷ এজন্যই বললাম।”
মিঠি মুখ ভেংচিয়ে চকোলেট খেতে খেতে বলল, “দেখব, আমি চলে যাওয়ার পর কোন সুন্দরীকে বিয়ে করেন!”
অফিসের কাজের ফাঁকে আজ যেন পিছনের স্মৃতি নিয়ে একটুবেশিই ভাবছিল মিঠি। আচ্ছা, এতদিন পর অর্ণব তাকে দেখল, একটু রাগ-ক্ষোভ-ঘৃণা দেখাতে পারত না? সম্পর্কে ভালোবাসা ছিল না, তাইবলে কি ভুল মানুষের প্রতি ঘৃণাও জন্মাতে নেই? মানুষটা এমন কেন?
***
চলবে…