#হারানো_হিয়া (পর্ব ৬)
ময়মনসিংহ শহরের নতুন বাজার পেরিয়ে একটু সামনে এগোলেই টাউনহল। সেখান থেকে বামে কলেজ রোড। কলেজ রোড ধরে একটু এগোলেই ডান পাশে কে,সি রয় রোড। এখানেই নাফিসার বাবার বাড়ি। সুমন একটা প্রাইভেট কার ঠিক করে দিয়েছিল। সকালে নাস্তা করেই ওরা বের হয়েছে। তূর্য যথারীতি সামনে বসেছে। পেছনে জুঁইকে নিয়ে নাফিসা।
গাড়িটা কে, সি রয় রোডে ঢুকতেই নাফিসা খুশি খুশি গলায় বলে, ‘তূর্য, তোমার নানু বাড়ি চলে এসেছি।’
তূর্য আগ্রহ নিয়ে জানালার কাচে মুখ লাগিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকে। দুপাশে বাড়িঘর, সুপাড়ি গাছের সারি। বাচ্চারা শীতের কাপড় পরে খেলা করছে। নাফিসাও তাকিয়ে ছিল। ওর চোখ বিশেষ একটা বাড়ি খুঁজছিল। গাড়িটা একটু এগোতেই পেয়ে যায়। কালো একটা লোহার গেট এর একটা পাল্লা খোলা। ভেতরে সেই একতলা বাড়িটা। গেটের কাছেই শিউলি গাছ। নাফিসার হঠাৎ করেই পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে যায় যখন ও এই সময়টায় শিউলি ফুল কুড়োত। বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ে। মুখ ফিরিয়ে নেবার আগে হঠাৎ করেই খোলা গেটের ভেতর দিয়ে আঙিনায় চোখ পড়ে। দুটো ট্রাউজার, কতগুলো টি-শার্ট শুকোতে দেওয়া। কেউ কি এল এ বাড়িতে? মাহিন কি বিদেশ থেকে ফিরল? বুকটা ধক করে ওঠে। ভালো করে দেখার আগেই গাড়িটা পথটুকু পেরিয়ে যায়। নাফিসা পেছন ফিরে তাকানো থেকে নিজেকে সামলায়। টের পায় বুকের ভেতর একটা প্রতারিত হবার কষ্ট। খুব জানতে ইচ্ছে করে আমেরিকা গিয়ে ও কি খুব সুখী হতে পেরেছিল?
বাড়ির কাছে গাড়ি থামতেই শোভন এগিয়ে আসে, ‘আপা, চলে এসেছিস!’
শোভন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এগ্রোফরেস্ট্রি নিয়ে পড়াশোনা করছে। জুঁই আর তূর্য লাফিয়ে নেমে একসাথে চিৎকার করে বলে, ‘মামা!’
শোভন তূর্যকে জড়িয়ে ধরে, আর জুঁইয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে, ‘পরীক্ষা ভালো হয়েছে তো তোদের?’
তূর্য মাথা নেড়ে বলে, ‘হ্যাঁ মামা। এবার কিন্তু নৌকায় চড়াতে হবে।’
এমন সময় পেছন থেকে মেহেরুন্নেসার গলা পাওয়া যায়, ‘আমার নানা ভাইরা চলে এসেছে?’
শোভন গাড়ি থেকে ব্যাগ নামাতে এগিয়ে যায়। নাফিসা হাতব্যাগ, সাথে মিষ্টির দুটো প্যাকেট নিয়ে নামে। সুমন আসার সময় কিনে দিয়েছিল।
ততক্ষণে জুঁই আর তূর্য নানুকে জড়িয়ে ধরেছে। মেহেরুন্নেসা জুঁঁইয়ের মুখটা তুলে বলে, ‘বাহ, তুই তো দেখি আগের চেয়ে ফর্সা হয়েছিস।’
জুঁইয়ের মন খারাপ হয়ে যায়। নানু সারাক্ষণ গায়ের রঙ নিয়ে কথা বলে। আম্মুও এমন। তূর্যকে সবাই এজন্য বেশি বেশি আদর করে।
নাফিসা এবার কাছে এসে বলে, ‘আম্মা, কেমন আছ? আব্বা কোথায়?’
মেহেরুন্নেসা ওদের নিয়ে ভেতরে যেতে যেতে বলে, ‘তোর আব্বা বাজারে গেছে৷ খেজুরের গুড় আর নারিকেল আনতে৷ আমার নানা ভাইদের আমি ভাপা পিঠা বানিয়ে খাওয়াব তো।’
বাড়িতে ঢুকতেই একটা শান্তি টের পায় নাফিসা। কেমন একটা নিশ্চিন্ত ভাব ওকে ঘিরে ধরে। সংসারের দায়িত্ব থেকে কিছুদিনের জন্য ছুটি পাওয়া। এখানে ও-ও এখন বাবার মেয়ে।
সুমনকে একবার ফোন করে জানায় যে ও এসে পৌঁছেছে।
দুপুরে খেয়ে বহুদিন পর একটা ভাতঘুম দেয় নাফিসা। বিকেলে পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙে। ওদের এই বাড়িটা এখনও একতলা। বাইরে বড়ো উঠান। বাড়ির সীমানা দিয়ে গাছের সারি। সন্ধ্যের আগে কোথা থেকে যেন পাখিরা এসে কিচিরমিচির জুড়ে দেয়। আজ পাখিদের সাথে তূর্য আর জুঁইয়ের কিচিরমিচির শোনা যাচ্ছে।
সন্ধ্যায় গরম গরম কুমড়ো ফুলের বড়া ভাজে আম্মা। মুখে দিতেই মুচমুচে স্বাদ টের পায়। আহ, কতদিন পর খেল। বাবা ওদের সঙ্গে গল্প করছে।
মেহেরুন্নেসা চা বানিয়ে সবাইকে দেন। নিজেও এক কাপ নিয়ে মেয়ের সঙ্গে বসেন। তারপর বলেন, ‘সুমনকে নিয়ে এলি না কেন?’
সুমনকে ও বার বার সঙ্গে আসতে বলেছিল। একটা দিন থেকেও যেতে বলেছিল। তা ওর কোথায় যেন একটা কনস্ট্রাকশন এর সাইট চলছে, তাই নিয়ে ব্যস্ততা। মনের কোণে একটা সন্দেহ উঁকি দেয়, ও ওর সেই বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার জন্য রয়ে গেল না তো?
নাফিসা চায়ে চুমুক দিয়ে বলে, ‘ও হলো সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। সারাক্ষণ নানান সাইট চলে। আর এখন তো শীতকাল। বাড়িঘর করার ভর মৌসুম। তাই আসতে পারেনি।’
মেহেরুন্নেসা মাথা নাড়েন, ‘পুরুষ মানুষ কাজেকর্মে ব্যস্ত থাকাই ভালো। অলস বসে থাকলে তখন উল্টাপাল্টা চিন্তা আসে।’
নাফিসা কোন কারণ ছাড়াই কেঁপে ওঠে। নিজেকে সামলে নেয়। তারপর জিজ্ঞাসু গলায় বলে, ‘মাহিনদের বাড়িতে কেউ এসেছে নাকি? আসার সময় দেখলাম গেট খোলা, ভেতরে জামা কাপড় ঝুলছে।’
মেহেরুন্নেসা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। মেয়েটা আজও মাহিনকে ভুলতে পারল না। ছেলেটাকে ওনারও খুব পছন্দ ছিল। একদম রাজপূতত্রের মতো দেখতে।
মেহেরুন্নেসা অনিশ্চিত গলায় বলে, ‘শুনিনি কিছু। ওর মা মারা যাবার পর ওদিকটায় আর যাওয়া হয়নি।’
রাতে খাওয়া শেষে শোভন আসে। গল্প করে অনেকক্ষণ। ওর ইউনিভার্সিটির গল্প শোনে। গাছ গাছালি নিয়ে অনেক কিছুই বলে। নাফিসা আগ্রহের গলায় বলে, ‘শোভন, আমার কিছু গাছের ছবি লাগবে। ক্লাশ নাইন, টেনে আমি বায়োলজি পড়াই। এরা তো কোনো গাছই দেখেনি। ওদের বইয়ে কিছু গাছের নাম আছে যেগুলো ইন্টারনেটেও খুঁজে পাই না। বাংলা নামে আছে সেজন্য। আচ্ছা, তোদের ইউনিভার্সিটির ভেতর বোটানিক্যাল গার্ডেনটাতে পাব না সব?’
শোভন গর্ব নিয়ে বলে, ‘পাবি না মানে। ছয়শ প্রজাতির প্রায় কয়েক হাজার গাছ আছে। কী কী গাছের ছবি লাগবে আমাকে বল। আমি তুলে নিয়ে আসব।’
নাফিসা চিন্তিত গলায় বলে, ‘নাগেশ্বরচাপা,স্বর্ণঅশোক, কালোমেঘ, নিলকান্ত। আরও অনেকগুলো নাম। আমাকেই যেতে হবে। গাছের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক নামটাও নিতে হবে। আমি একবার অনেক আগে গিয়েছিলাম, তখন দেখতাম গাছের গায়ে নাম ঝুলানো থাকত।’
শোভা মাথা নেড়ে বলে, ‘এখনও থাকে।’
নাফিসা উৎসাহের সঙ্গে বলে, ‘আমি তাহলে একদিন যাব।’
রাতে ঘুমিয়ে যাবার আগে একবার সুমনের খোঁজ নেয়। বেচারার রান্নার অভ্যাস নেই। বলল ভাত রান্না করেছিল। আর ফ্রিজ থেকে ওর রান্না করে রাখা তারকারি গরম করে খেয়েছে। আচ্ছা, ও যে নেই এই সুযোগে আবার ওই মেয়েটা চলে আসবে না তো?
সেদিন রাতে নাফিসার একদমই ঘুম হয় না। স্বপ্নে কী কী সব উল্টোপাল্টা দেখতে থাকে।
২.
‘আপনি বুঝি সুমনের বন্ধু মীরা?’
প্রশ্নটা যিনি করেন তার না উম্মে কুলসুম রিপা। ক্যান্টমেন্ট স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক। সকালে সুমনকে একবার ফোনে বলেছিল আজ ইহানের ভর্তি পরীক্ষা। একটু যেন বলে দেয়। ওর ভরসাতেই এত বড়ো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখানে ভর্তি হতে না পারলে খুব ঝামেলা হয়ে যাবে।
মীরা তাকায়। মোটসোটা একটা মহিলা, চোখে ভারী ফ্রেমের কালো চশমা। সুমন বলেছিল ইনি ওর বউয়ের কলিগ আবার ওর কোন এক বন্ধুরও স্ত্রী।
মীরা মাথা নেড়ে বলে, ‘জি, আমি মীরা। সুমন আমার বন্ধু। আমার ছেলে ইহান রহমান, ক্লাশ নাইনে ভর্তি পরীক্ষা চলছে।’
রিপা ভালো করে একবার দেখে। সুমন ভাইয়ের বন্ধু মানে ওর হাসব্যান্ড শরিফেরও বন্ধু হবার কথা। ওরা দুজন একই পলিটেকনিক থেকে পাশ করেছিল। ইনিও কি ওদের সঙ্গে পড়ত?
রিপা কৌতুহলী গলায় বলে, ‘আপনিও বুঝি ওদের সঙ্গে পলিটেকনিকে পড়তেন? তাহলে আমার হাজব্যান্ড শরিফকেও হয়ত চিনবেন।’
এই রে, এখন যে জেরা শুরু হলো। মীরা মাথা নাড়ে, ‘না ভাবি, আমি পলিটেকনিকে পড়িনি। এখানকার একটা কলেজ থেকে একাউন্টিংয়ে অনার্স নিয়ে পাশ করেছি। সুমন আর আমরা একই বিল্ডিংয়ে থাকতাম। সেখান থেকেই পরিচয়। শরিফ ভাইকে তেমন করে চিনি না, নাম শুনেছি এক দু’বার।’
উত্তরটা রিপার মনঃপুত হয় না। ক্লাশমেট না হলে আবার কীসের বন্ধু? একই বিল্ডিংয়ে থাকলে বন্ধু হয় কী করে? হয় বড়ো ভাই হবে সম্পর্কে না হলে ছোট ভাই। দেখে তো ছোটই মনে হয় মেয়েটাকে। সুমনকে নাম ধরে বলছে অথচ তারই বন্ধু শরিফকে ভাই বলছে। নাহ, কোথাও ঝামেলা আছে। পুরনো প্রেম নাকি আবার! তাহলে তো নাফিসাকে সাবধান করতে হয়। এই বয়সে দেখা যায় পুরনো প্রেম নতুন করে জেগে ওঠে।
রিপা ওর মনের ভাবটা বুঝতে না দিয়ে বলে, ‘সুমন ভাই আমাকে ফোন করেছিল, আর নাফিসাও বলে রেখেছিল। আপনি চিন্তা করবেন না। আমরা ওকে ভর্তি করে নেব। ওর ক্লাস এইটের রেজাল্ট তো খুব ভালো।’
মীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। ইহানের রেজাল্ট বরাবরই ভালো। এটা নিয়ে ও সব সময় গর্ববোধ করে। ছেলেটাকে কখনোই পড়ার কথা বলতে হয় না। বাবা মারা যাবার পর একটু চুপচাপ হয়ে গিয়েছে।
ঘন্টাখানেক পর ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়। ইহান হাসিমুখেই বেরিয়ে আসে। সব ঠিকঠাকই দিতে পেরেছে। ওকে নিয়ে রিক্সা নেয়। বাসার কাছাকাছি নিমতলি বাজারে এসে নামে।
একটা কেকের দোকানে ঢুকে রেড ভেলভেট পেস্ট্রি নেয়। ইহানের খুব পছন্দের। তারপর ওকে নিয়ে বাসার দিকে এগোয়।
সামনে এগোতেই হঠাৎ একটা মোটরসাইকেল ওদের পাশ ঘেঁষে এসে থামে। মীরা চমকে তাকাতেই দেখে সুমন।
সুমন মোটরসাইকেল থেকে নেমে কাছে এসে জিজ্ঞাসু গলায় বলে, ‘ইহান আঙ্কেল, পরীক্ষা কেমন হলো?’
ইহান লাজুক গলায় বলে, ‘জি আংকেল ভালো হয়েছে।’
সুমন ওর কাঁধে হাত রেখে বলে, ‘বাহ, খুব ভালো তো। তোমার মা কিন্তু খুব ভালো ছাত্রী ছিল।’
মীরা হাসে, ‘সে আর বলতে। মুখস্থ বিদ্যা দিয়ে বেঁচে গেছি।’
সুমন মাথা নাড়ে, ‘তোর তো ছিল ফটোগ্রাফি মেমোরি। একবার দেখলেই সব মনে রাখতে পারতি।’
মীরা ছোট্ট একটা নিশ্বাস ফেলে। সব মনে রাখার মতো যন্ত্রণা কজন জানে। ও কথা ঘুরিয়ে বলে, ‘ওরা কই? নানু বাড়ি?’
সুমন মাথা নাড়ে, ‘হ্যাঁ। দুদিন আগেই গেল।’
মীরা উদবিগ্ন গলায় বলে, ‘তাহলে তোর রান্না করে দেয় কে? রান্নার লোক আছে বুঝি?’
সুমন মাথা নাড়ে, ‘ওই আমি দু’চারটা ডাল ভাত ফুটিয়ে নেই।’
মীরা ব্যথিত চোখে তাকায়। হঠাৎ করেই একটা ঘটনা মনে পড়ে যায়৷ সেবার কী একটা কারণে সুমনকে কটা দিন বাসায় একা থাকতে হয়েছিল। ওর বাবা মা ভাই বোন সবাই গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। বেচারা পরীক্ষার জন্য যেতে পারেনি। এক দুপুরে বাসায় গিয়ে দেখে সুমন কলা আর পাউরুটি খাচ্ছে।
‘কী রে, ভাত রেখে অমন কলা খাচ্ছিস কেন? তুই কি বানর মানব হয়ে গেলি?’
সুমন মুখ ভেঙচে বলে, ‘তাহলে কী করব? বাসায় কেউ নেই। আমি রান্না পারি না। তা তুইও তো আমার একটু খোঁজ রাখতে পারতি। নাকি তুইও আমার মতো বানর মানবী, রান্না বান্না কিছু পারিস?’
মীরা চোখ পাকিয়ে বলে, ‘আমি তোর মতো অকর্মা না। সর দেখি। আমি রান্নাঘরে যাচ্ছি, এক ঘন্টা সময় দে। আর খুঁজে দেখ তো বাসায় ডিম আছে কিনা।’
খুঁজেপেতে বাসায় তিনটা ডিম পাওয়া যায়। মীরা দ্রুত হাতে ভাত, ডিম ভুনা, আর ডাল করে। সব মিলিয়ে এক ঘন্টাও লাগে না। সুমন পাশে বসে টুকটাক এগিয়ে দেয় আর মুগ্ধ চোখে ওকে দেখে। মীরা কোমরে ওড়না পেচিয়ে রান্না করতে বসেছে।
রান্না শেষে সুন্দর করে ও একটা প্লেটে খাবার বাড়তেই সুমন রাগত গলায় বলে, ‘একটা প্লেট কেন, তুইও খাবি আমার সঙ্গে।’
মীরার আসলেই ভীষণ ক্ষুধা পেয়েছিল। ও আর না করে না। খেতে বসে মনে হয় ওদের টোনাটুনির সুখের সংসার।
সব মিলিয়ে তিনটে বেলা এমন সংসার করার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু জীবন সেই ক্ষণস্থায়ী সুখটা আর স্থায়ী হতে দেয়নি।
আজ ওর মুখে এমন একা একা রান্না করে খাওয়ার কথা শুনে খুব ইচ্ছে হচ্ছিল সেই আগের মতো দুজনে মিলে রান্না করে। কিন্তু পুরনো সেই সুরটা যে কেটে গেছে অনেক আগেই। সমাজ এখন ওর এই বেসুরো আবদার মানবে কেন?
মীরা সেদিন বিদায় নেবার সময় বলে, ‘সাবধানে রান্না করিস। হাত পুড়িয়ে ফেলিস না আবার।’
সুমনের বলতে ইচ্ছে করে যেখানে মন পুড়ে গেছে অনেক আগেই সেখানে এখন আর হাত পোড়ার ভয় হয় না।
(চলবে)
মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সুবাস
শিমুলতলী, গাজীপুর