#হৃদমাঝারে ( দ্বিতীয় পর্ব )
#ঈপ্সিতা_মিত্র
<৩>
শ্রীদীপদের ব্যাচে , ইংলিশ অনার্স | হঠাৎ সবটা কেমন বদলে যেতে থাকলো | ক্যান্টিনের আড্ডা , বাস-স্টপের অপেক্ষা , লাইব্রেরিতে নোটস নেয়া সব জায়গায় শ্রীদীপের সঙ্গে অনুশ্রী | তিয়াসার মনে হতে লাগলো , ও আছে , কিন্তু তা ও যেন নেই | অনুশ্রীকে দেখে শ্রীদীপ যেভাবে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকতো , অনুশ্রীর কথা বলতে বলতে শ্রীদীপ যেইভাবে আনমনে হেঁসে উঠতো , সেইসবই তিয়াসাকে কেমন একটা দূরের করে দিতো | ভীষণ রাগ হতো ওর | আর ভয়ও | যদি শ্রীদীপ ওর থেকে দূরে চলে যায় ! ওদের সম্পর্কটা ভেঙে যায় ! আর যেদিন শ্রীদীপ কথায় কথায় অনুশ্রীকে যে ও আলাদা চোখে দেখে , অনুশ্রী যে ওর কাছে কতটা স্পেশাল , সব কিছু তিয়াসার সামনে হাঁসি মুখে বলে দিলো ,আর সঙ্গে এটাও বললো যে কাল ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে শ্রীদীপ অনুশ্রীকে প্রপোজ করবে , নিজের মনের সব কথা বলে দেবে |
সেইদিন তিয়াসার যেন সবটা ভেঙে গেলো | ভেতরটা খাঁ খাঁ করতে থাকলো | হঠাৎ মনে হলো সবটা মিথ্যে ! শ্রীদীপ ওকে কখনো প্রপোজ করেনি , ভালোবাসি এই কথাটা বলেনি , ও ভালোবাসে কি না সেই কথা ও জিজ্ঞেস করেনি , তার মানে কি ওদের কখনো কোনো রিলেশন ছিল না ! এতদিন যা যা তিয়াসা ভেবেছে সবটাই ভুল ! আর শুধু তিয়াসা কেন , কলেজের সবাই তো ভাবতো যে ওদের রিলেশন আছে | কিন্তু কিছু নেই বলেই কি শ্রীদীপ কথাটা শুনে হেঁসে উড়িয়ে দিতো ! শ্রীদীপ তো এতদিন কলেজের কারোর কাছে স্বীকার করেনি ওদের সম্পর্কের ব্যাপারে | আজ যেন সব হিসেবগুলো উল্টে পাল্টে যেতে থাকলো | সারাটা রাত তিয়াসা জেগেই কাটিয়ে দিলো | বার বার চেষ্টা করলো হিসাব মেলাতে | সেইদিন ভোরবেলা ও ঠিক করলো ভুল হিসেবটাকে গোঁজামিল দিয়ে হলেও মেলাতেই হবে | শ্রীদীপকে ও কিছুতেই হারাতে পারবে না | অন্য কারোর হতে দিতে পারবে না | তাই মোবাইলের গ্যালারিতে রাখা ওদের এতো বছরের ফটো , মুহূর্তের কোলাজগুলো অনুশ্রীকে ও মেইল করলো | আর সঙ্গে এটাও লিখে দিলো যে ক্লাস টেন থেকে ওদের রিলেশন আছে | এমন কি ওদের এনগেজমেন্টও ঠিক | ও জানতো এতো কিছু জেনে অনুশ্রী শ্রীদীপকে কখনোই হ্যাঁ বলবে না | শ্রীদীপ সবটা জেনে হয়তো প্রথমে খুব রেগে যাবে , কিন্তু তারপর যখন তিয়াসার এতদিনের জমে থাকা ফিলিংস গুলো জানতে পারবে তখন ওকে কিছুতেই ফেরাতে পারবে না | আর তিয়াসার ফিলিংস এর কথা জেনে হয়তো শ্রীদীপ নিজেও নিজের ফিলিংস গুলো কে চিনতে পারবে , বুঝতে পারবে | শ্রীদীপ ওকে ভালোবাসে, নইলে কেউ কারোর জন্য এতো কিছু করে না | এই ভাবে আগলে রাখে না | এইসবই ভেবেই বিকেলবেলা একটা লাল গোলাপ নিয়ে শ্রীদীপদের বাড়ি গিয়েছিলো | শ্রীদীপ যতই রাগুক, কিন্তু তিয়াসাকে কখনোই ফেরাতে পারবে না | কিন্তু শ্রীদীপের ঘরে গিয়েও বুঝলো সবটা শেষ | শুধু শ্রীদীপ আর অনুশ্রীর মধ্যে না, শ্রীদীপ আর তিয়াসার মধ্যেও | রাগে অপমানে লাল হয়ে গিয়েছিলো শ্রীদীপের মুখটা | অনুশ্রী আজ ওকে সবার সামনে মিথ্যেবাদী বলেছে , পার্ভাট বলেছে | যাকে পছন্দ করে তার কাছ থেকে এতটা অপমান শ্রীদীপ নিতে পারেনি | আর এটা ভাবতে আরো কষ্ট হচ্ছে, খারাপ লাগছে , এই সব অপমানগুলো ওর ছোটবেলার বন্ধুর জন্য ওকে পেতে হয়েছে | যাঁকে ও সব থেকে বেশি বিশ্বাস করে , সব থেকে বেশি কেয়ার করে তার জন্য আজ অনুশ্রী ওকে ছেড়ে দিলো | তিয়াসাকে দেখে সেইদিন ও চিৎকার করে উঠেছিল , —— ” তোর লজ্জা করে না ! এতটা ছোট মনের তুই ? এতদিন ধরে তোকে আমি আলাদা ভাবতাম | তোকে ভালো ভাবতাম, বিলিভ করতাম | আর তুই এতগুলো মিথ্যা কথা, আমাদের ফটোগ্ৰাফ সব কিছু ইউজ করে একটা গল্প বানিয়ে অনুশ্রীর চোখে আমাকে এতটা নিচে নামিয়ে দিলি | আর এরপরও তুই এই বাড়িতে এসেছিস, আমার কাছে মুখ দেখাতে !” ….. সেইদিন তিয়াসা অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল , যা করেছে কেন করেছে | শ্রীদীপের হাতটা শক্ত করে ধরে ওর মনের কথাগুলো বলেছিলো , ——– ” আমি তোমার জন্য ফিল করি , সেই ক্লাস টেন থেকে | কিন্তু কখনো বলিনি কারণ আমি ভাবতাম তুমিও আমাকে ভালোবাসো | আর সব কথা বলার দরকার হয় না | আমি জানি এখন তুমি আমার ওপর রেগে যাচ্ছ , কিন্তু কিছুদিন বাদে সব আবার আগের মতন হয়ে যাবে | তুমি সব ভুলে যাবে | ” …. তবে সেই কথা গুলো শ্রীদীপ শুনেও শোনেনি | ওর হাতটা ধরে টেনে ওকে ঘর থেকে বার করে দিয়েছিলো | এক সেকেন্ডে এতো বছরের বন্ধুত্ব ভেঙে দিয়েছিলো , কারণ সেইদিন শ্রীদীপের বিশ্বাস ভেঙেছিল | তিয়াসার মুখটাও দেখতে চায়নি তারপর আর কখনো | কলেজের লাস্ট সেমিস্টার মার্চ এ ছিল | সেটা শেষ করেই কানাডা চলে গিয়েছিলো এম.বি.এ পড়তে | এর মধ্যে যতবার তিয়াসার ওর সাথে কথা বলতে এসেছে , শ্রীদীপ মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে | কলেজের ক্লাসরুম, কি পাড়ার রাস্তা , শ্রীদীপ আর তিয়াসাকে দেখে চিনেও চেনেনি | ওর ফোন কলস রিসিভ করা তো দূরে থাক, ওর একটা মেইল এর ও রিপ্লাই দেয়নি | শ্রীদীপের কানাডা যাবার দিন তিয়াসা শেষবার শ্রীদীপকে দেখতে এসেছিলো , অনেক বার ওর ঘরে দরজাটাকে ধাক্কা দিয়েছিলো , শেষবার সরি বলতে চেয়েছিলো | কিন্তু শ্রীদীপ সেইদিনও দরজা খোলেনি | সেই মুহূর্তে তিয়াসা বুঝেছিলো সবটা শেষ | সেইদিনের পর তিয়াসাও আর চেষ্টা করেনি | বরং নিজের জীবনে নতুন একটা অভ্যাস এর শুরু করেছিল , শ্রীদীপের সাথে কথা না বলে থাকার অভ্যাস |
আজ এতগুলো দিন পর সবই বদলে গেছে | তিয়াসার মামা মামী গ্রাজুয়েশন শেষ হতেই ওকে জোড় করে একটা পাগলের সাথে বিয়ে দিয়ে দিয়েছিলো পুরুলিয়াতে | সেই পাগলের কাছে তিয়াসা ছিল একটা খেলনা | ওকে আঁচড়াতো , কামড়াতো , মারতো , আদর করতো , আবার কখনো চুলের মুঠি ধরে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে দিতো , কিন্তু শ্বশুরবাড়ির একটা লোকও কখনও ওকে বাঁচাতে আসতো না | তিয়াসা বিয়ের কয়েকদিন বাদে জানতে পেরেছিলো যে মামা মামী মোটা টাকা নিয়ে তিয়াসাকে বিক্রি করেছে ওর শ্বশুরবাড়ির কাছে | সেইদিন যেন তিয়াসার চোখের সামনে সবটা অন্ধকার হয়ে গিয়েছিলো | এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল মরে গেলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে | কিন্তু পরের মুহূর্তে মনে হয়েছিল মা বাবার এক্সিডেন্টের পর যদি ও মৃত্যু কে না জীবনকে বেঁছে নেয় , তাহলে আজ কোনো না ! শেষ চেষ্টা ও করবেই , বেঁচে থাকার চেষ্টা | তাই সেই রাতে শ্বশুরবাড়িতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর তিয়াসা বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়েছিলো | লাল মাটির অন্ধকার রাস্তা পেরিয়ে স্টেষনে এসে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটাতে উঠে পড়েছিল | জানতো না , এই ট্রেনটা ওকে কোথায় নিয়ে যাবে , তা ও একবার শেষবার বাঁচার চেষ্টা করেছিল | দু দিন বাদে কলকাতা ফিরে যখন নিজের চেনা বাড়ির কলিংবেলটা টিপেছিলো, তখন দরজা খুলেছিলো অচেনা একটা মুখ | মামা মামী তিয়াসার সই জাল করে দু মাস আগেই বাড়ি বিক্রি করে দিয়েছে , আর শুধু তাই না, ওর একাউন্ট এর সব টাকাও নিজেদের একাউন্ট এ ট্রান্সফার করে নিয়েছে | এইসব কথা জানার পর তিয়াসার বেশ কয়েকটা দিন কেটেছিল রাস্তায়, ফুটপাতে | উঠে দাঁড়ানোর মতন ক্ষমতা ছিল না শরীরে | ওর মন যেন আর ধকল সহ্য করতে পারছিলো না | কিন্তু ওই যে, বাঁচার ইচ্ছা বার বার চেপে ধরছিল তিয়াসাকে | তাই মনকে শক্ত হতেই হতো | সেইদিন নিজের শেষ সম্বল আঙুলের সোনার আংটি , যেটা একটা জন্মদিনে ওর বাবা ওকে গিফ্ট করেছিল , সেটা বিক্রি করে দিলো | তারপর শুরু হলো নতুন করে শুরু করার চেষ্টা | একটা গার্লস হোস্টেলে একটা রুম পেয়েই গেলো কয়েকদিনে , আর তারপর এই সেলস-গার্ল এর চাকরিটা | হ্যাঁ, সারাদিন খুব খাটনি পরে , অনেক পরিশ্রম হয় , সব সময় কপালে একটা ভাঁজও থাকে , টাকার চিন্তা মাঝে মাঝেই রাতের ঘুম ভাঙিয়ে দেয় , কিন্তু তা ও তিয়াসা থেমে থাকে না | নিজের মতন করে , রোজ একটু একটু করে, বাঁচার চেষ্টাটা চালিয়েই যায় |
<৪>
আজকের সকালটা একটু রোদেলা | কাল রাত্রে বৃষ্টি হওয়ায় একটা ঠান্ডা হাওয়া ছড়িয়ে আছে চারিদিকে | আগের দিনের গুমোট ভাবটা আজ আর নেই | আজকের সকালের মধ্যে কেমন একটা নতুনের গন্ধ আছে ! এইসবই ভাবছিলো তিয়াসা একা ঘরে বসে | আজ রোববার | আজকের দিনটা সেলস গার্ল এর চাকরি থেকে ছুটি | তাই একটু সকালের রোদ নিয়ে ভাবার সময় আছে ! নইলে তো রোজ এই সময়টা দৌড়োতে হয় বাসের ভিড়ে, ট্র্যাফিকের জ্যামে | এই সময়েই হঠাৎ ওর ঘরের দরজায় টোকা , হোস্টেল এর কাজের মাসি এসে হাজির ….
” তোমার সাথে একজন দেখা করতে এসেছে |অফিস রুমে বসে আছে | ” ….
” আমার সাথে দেখা করতে এসেছে ! কে ? কি নাম ?”
” অতো সব জানি না | তুমি নিজেই গিয়ে দেখো |” .. কথাটা শেষ করেই কাজের মাসি চলে গেলো | তিয়াসা তখনও ঘরে বসে | ওর সাথে হঠাৎ কে দেখা করতে আসবে ! কলকাতায় তো বিশেষ কারোর সাথে যোগাযোগই নেই ! তাহলে কি জিনিয়া এসেছে ? ওই একটা বন্ধুর সাথেই মাঝে মাঝে এখনো কথা হয় | সেই কলেজ থেকে ওরা বন্ধু | জিনিয়া একটা সময় ওকে খুব হেল্প ও করেছে, এই সেলস গার্ল এর চাকরি টা পেতে | হ্যাঁ ও ই এসেছে তার মানে | আর জিনিয়া ছাড়া এই হোস্টেলের ঠিকানাও তো আর কেউ জানে না ! এইসব ভাবনার ভিড়েই অফিস ঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালো তিয়াসা , আর হঠাৎ পা টা থমকে গেলো | সামনের চেয়ারে সেই চেনা মুখটা | শ্রীদীপ ! এখানে ?
সেইদিন কি ভাবে কথা বলবে , কি কথা দিয়ে কথা বলা শুরু করবে তিয়াসা কিছুতেই ভেবে পাচ্ছিলো না | হোস্টেল এর ছোট্ট বাগানটায় কেমন যেন স্ট্যাচুর মতনই দাঁড়িয়ে ছিল | কি করে যে শ্রীদীপ এই হোস্টেলের ঠিকানা পেলো, সেটাই মাথায় আসছিলো না ! তখনি শ্রীদীপ ওর মনের কথাটাই বলে উঠলো নিঃস্তব্ধতা ভেঙে , —– ” কি ভাবছিস ? কি করে এই এড্রেস টা পেলাম ? ” …. তিয়াসা তখনও চুপ | কোনো শব্দই যেন আসছে না আজ ওর মুখে | শ্রীদীপ আবার বলে উঠলো , — ” কলেজের রিইউনিয়ন ছিল দু দিন আগে | জিনিয়ার সাথে দেখা হয়েছিল | ওর কাছ থেকে জানলাম সব | আর তোর এই হোস্টেল এর এড্রেস ও | সো , চুপ কেন ? বল | কেমন আছিস ?” .. ওর গলার মধ্যে অদ্ভুত একটা রাগ ছিল | তিয়াসা এই আওয়াজটাকে চেনে | অনেকদিন আগে ঠিক এই রকম গার্জেন এর মতন কথা বলতো শ্রীদীপ , যখন তিয়াসার ওপর রেগে যেত | তবে তিয়াসা আজ আর রাগ ভাঙানোর চেষ্টা করবে না | তাই এক কথায় ই উত্তর দিলো , — ” ভালো আছি | “….
“সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি তিয়াসা , তুই কতটা ভালো আছিস ! আই মিন সিরিয়াসলি ! আমি কয়েকদিন রাগ দেখালাম আর তুই সত্যি সত্যি কথা বলা বন্ধ করে দিলি ! পুরো লাইফ থেকে ডিলিট করে দিলি ! এতদিন এতকিছু হয়ে গেলো, একটা পাগলের সাথে তোর বিয়ে, টর্চার , তোর মামা মামী তোর ব্যাংক ব্যালান্স শেষ করে বেপাত্তা হয়ে গেলো, তুই ফুটপাথে অব্দি রাত কাটালি , কিন্তু তা ও আমাকে একটা কল করতে পারলি না ! এতো রাগ ? ” ……. শ্রীদীপ প্রায় চেঁচিয়ে কথাগুলো বলে গেলো | অনেকদিনের রাগ অভিমান জমে ছিল ওই গলার স্বরে | অনেকদিনের না বলা কথা জমে ছিল |তিয়াসা এবার নিঃস্তব্ধতা ভেঙে শান্ত গলায় বললো , —- ” আমি রাগিনি তোমার ওপর | তুমি রেগেছিলে | আর রেগে থাকাটাই স্বাভাবিক | কারণ ভুলটা আমার ছিল | ওই ভাবে মিথ্যে কথা বলে তোমাদের রিলেশনটাকে ভেঙে দেয়া আমার কখনোই উচিত হয়নি | যাই হোক, আমার ভুলের জন্যই আমাদের বন্ধুত্বটা শেষ হয়ে গেছে | আর নতুন করে কিছু শুরু করার মতন মন আমার নেই | তোমাকে তারপর কখনো ফোন করিনি কারণ আমি নিজের প্রব্লেম নিজে হ্যান্ডেল করতে শিখে গিয়েছি | নিজের মতন করে বাঁচতে শিখে গিয়েছি | সেটা কতটা ভালো বা কতটা খারাপ আমি জানি না, কিন্তু তা ও এই বাঁচাটা খুব নিজের | এখন একা থাকতেই ভালো লাগে | নিজের হয়ে থাকা যায় | যাই হোক , তুমি এড্রেস জোগাড় করে দেখা করতে এসেছো, ভালো লাগলো | কিন্তু প্লিজ আমাকে কোনো ভাবে হেল্প করতে যেও না | আমি যেমন আছি, ঠিক আছি | আমি কোনো চ্যারিটি কেস নই |”
শ্রীদীপ অবাক হয়ে এতক্ষন ধরে কথাগুলো শুনছিলো ! কিন্তু এই চ্যারিটি কেস কথাটা শুনে আর চুপ করে থাকতে পারলো না, —
” তুই ভাবলি কি করে যে আমি তোকে চ্যারিটি কেস হিসেবে দেখি ? ইউ আর ইম্পরট্যান্ট ফর মি .. আমি কানাডা যাবার পরে তোর সাথে অনেক ভাবে কন্ট্যাক্ট করার চেষ্টা করেছি | বাট আই গেস ততদিনে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছিলো | কিন্তু আজ যখন আমি তোকে আবার খুঁজে পেয়েছি তখন আর একা থাকতে দেব না | আর তোর ওই মামা মামীকে তো আমি দেখে নেবো | ওদের এগেনস্ট এ আমি লিগ্যাল স্টেপ নেবো | তোকে একটা পাগলের কাছে বিক্রি করে দেবে, তোর সই জাল করে তোর সব টাকা নিয়ে আরামে দিন কাটাবে এটা কখনোই হতে পারে না | ”
” না , শ্রীদীপ , তুমি কিছু করবে না | আমার কাছে এত টাকা নেই এখন যে আমি আমার মামা মামীর এগেনস্ট এ কেস চালাবো | আর আমি তোমার কাছ থেকে কোনো হেল্প নেবো না | প্লিজ তুমি এইসব ব্যাপার থেকে দূরে থাকো | এতদিন বাদে কলকাতায় ফিরেছো, এনজয় ইওর ডেজ… আর একটাই রিকুয়েস্ট , প্লিজ আমার সাথে আর কখনো দেখা করতে এসো না | আমি একা থাকার অভ্যেসটা করে ফেলেছি | আমি এটা চেঞ্জ করতে চাই না |” … কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বলেই তিয়াসা চলে গেলো | আজ শ্রীদীপ একা দাঁড়িয়ে | ও জানে ও অনেকটা দেরি করে ফেলেছে | তবে সময় এখনো হারিয়ে যায়নি | পুরোনো সময়, পুরোনো মুহূর্তগুলোকে ও আবার ফিরিয়ে আনবেই ! এতো সহজে ও সবটা ছাড়বে না | তিয়াসাকে ছাড়বে না |
চলবে।