Home "ধারাবাহিক গল্প অনুভবে শুধুই তুমি অনুভবে শুধুই তুমি পর্ব-২৫+২৬+২৭

অনুভবে শুধুই তুমি পর্ব-২৫+২৬+২৭

0
641

#অনুভবে_শুধুই_তুমি
#রুখসাত_রুষা
#পর্ব২৫ (একটু বেশিই রোমান্টিক)

**************************

মৌ-রা বরিশাল থেকে ফিরেছে আজ এক সপ্তাহ হলো। বরিশাল থেকে ফিরে ওরা সোজা হসপিটালে গিয়েছিলো। মুবিন চারদিন হসপিটালেই ছিলো। তিনদিন হলো বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে ওকে। সবাই বারবার জিজ্ঞেস করেছে কি হয়েছে? কে মেরেছে কিন্তু ও কিছুই বলে নি। উল্টো থানায় জিডি করতে চাইলেও বাঁধা দিয়েছে। বলেছে একটা ভুলবোঝাবুঝি হয়েছে এই আরকি। এছাড়া আর কিছুই বলেনি ছেলেটা। তবে সবাইকে জানিয়েছে পরীক্ষার পর ও কানাডা চলে যেতে চায়। সেখানে গিয়েই বাকি পড়াশোনা কমপ্লিট করবে। ছেলে অসুস্থ তাই আপাতত আর কেউ কিছু বলেনি এ ব্যাপারে । পরেরটা পরে দেখা যাবে।

রাত প্রায় সাড়ে আট টা। মাহির সবে মাত্রই অফিস থেকে ফিরেছে। মৌ বিছানায় আধশোয়া হয়ে একটা গল্প পড়ছিলো। কাজিন রিলেটেড। এডমিশন টেস্ট শেষ। সামনের মাসেই রেজাল্ট দিবে। তারপর মৌ ভার্সিটিতে ভর্তি হবে। তাই আপাতত পড়াশোনার চাপ নেই তেমন একটা। মিম মিতুকে পড়ায় হেল্প করে বাকি অবসর সময় সে মোবাইলে টুকটাক গল্প পড়ে। হঠাৎ একটা রিলস্ থেকেই গল্পের জগতে প্রবেশ তাঁর। এখন সময় পেলেই গল্প পড়ে মেয়েটা। গল্পের মাঝে এতোটাই মগ্ন ছিলো যে মাহিরকেও ঘরে ঢুকতে দেখেনি সে। ওদিকে মাহির ঘরে ঢুকেই সোফায় গা এলিয়ে দিলো। বেশ ক্লান্ত দেখালো ওকে। কপাল কুঁচকে তাকালো বউয়ের দিকে তারপর হাতের ঘড়িটা খুলতে খুলতে মৌয়ের উদ্দেশ্যে বললো….

—- অন্যের বউয়েরা স্বামীর প্রতি আসক্ত হয় আর আমার বউ মোবাইলের প্রতি আসক্ত । কি কপাল আমার।

বলেই দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। ওদিকে মাহিরের কন্ঠ শুনতে পেয়েই তড়িৎ গতিতে উঠে বসলো মৌ। সাথে সাথে মোবাইলটা বন্ধ করে ফেললো। হাপ ছেড়ে বাঁচলো মেয়েটা। একটা রোমান্টিক পর্ব খুব মনোযোগ সহকারে পড়ছিলো সে। ভাগ্যিস মাহির সোফায় গিয়ে বসেছে। কি হতো যদি দেখে ফেলতো বা পড়ে ফেলতো? লজ্জায় মাথা কা’টা যেতো না ওর? মাহির বউয়ের হাবভাব দেখে কিছুক্ষণ চুপ থেকে তারপর বললো….

—– বরফ দিয়ে এক গ্লাস লেবুর শরবত করে আনো। সামান্য চিনি দিবে। খুবই সামান্য, ঠিক আছে? ততক্ষণে ফ্রেশ হয়ে আসছি আমি।

~~~ হু।

মৌ মোবাইলটা রেখেই তাড়াহুড়ো করে বাহিরে চলে গেলো। মাহির আলমারি থেকে একটা টি-শার্ট আর ট্রাউজার নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালো তবে ঢোকার আগে পেছন ফিরে বিছানার উপরে রাখা মৌ এর মোবাইল ফোনের দিকে একবার তাকালো।

**********

রেহানা খান রান্নাঘরে, মোবাইলে কথা বলছিলো । ভাত বসিয়েছেন কিছুক্ষণ হলো। একটু পরেই তো মুশতাক আহমেদ এবং মুজাহিদ আহমেদ চলে আসবে। এসেই ফ্রেশ হয়ে ভাত খেতে বসবেন। রাতের খাবার সবাই একসাথেই খায় উনারা। তানিশা আহমেদ গেছেন মুবিনের ঘরে। ওকে খাইয়ে দিয়ে ঔষধ দিয়ে তবেই নিচে নামবেন। আজ রেহানা খান মিম এবং মিতুর সাথে ওদের কোচিং-এ গিয়েছিলেন। একটু লেইট করেই মেয়েদেরকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। মনটা বেশ ফুরফুরে তাঁর। মৌ রান্না ঘরে ঢুকে দেখলো রেহানা খান ফোনে কারো সাথে কথা বলছেন। মৌ ঢুকতেই কল কেটে দিলো। মৌ চুপচাপ ফ্রিজ খুলে লেবু বের করলো। তারপর শরবত বানাতে ব্যস্ত হলো।

“মাহির এসেছে?”

~~~ জ্বি।

“চিনি অল্প পরিমাণ দিও কিন্তু”

~~~ জ্বি আচ্ছা।

রেহানা খান মৌ এর সাথে স্বাভাবিক আচরণ করেন এখন। সেদিনের বলা মাহিরের কথাটা হয়তো বিশ্বাস করে নিয়েছেন তাই। তবে মৌ মনে মনে খুবই অনুতপ্ত হয়। মাহির তো সেদিনও মিথ্যেই বলেছিলো।

শরবত বানানো শেষ করে মৌ গ্লাস হাতে উপরে চলে গেলো। রেহানা খান আবারো কল করে একজনকে গেইটের সামনে আসতে বললো। নিচে আপাতত কেউ নেই। তানিশা আহমেদ মুবিনের ঘরে আর এটাই মোক্ষম সময়। তাই চুপচাপ গিয়ে গেইট খুলে দেখলো তাঁদের ড্রাইভার দাঁড়িয়ে আছে হাতে কয়েকটা ব্যাগ নিয়ে। রেহানা খান সেগুলো নিয়ে তড়িঘড়ি করে নিচের একটা রুমে রেখে আবারো রান্নাঘরে চলে গেলেন।

*********

মৌ রুমে ঢুকে দেখলো মাহির সবেমাত্র ওয়াশরুম থেকে বের হয়েছে। উন্মুক্ত শরীরে পরনে শুধু একটা ট্রাউজার। ভেজা চুল থেকে টপটপ পানি পরছে এখনো। পেটানো ভেজা উন্মুক্ত শরীর অষ্টাদশী মনে শিহরণ বইয়ে দিলো। শ্বাস আটকে যাচ্ছে মেয়েটার। মৌ শুকনো ঢোক গিললো একটা। ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থেকে নিজেই নিজের মনকে প্রশ্ন করলো….

~~~ এই লোকটাকে এতো সুদর্শন হতে কে বলেছিলো? আরেকটু কম হলে কি এমন ক্ষতি হতো? এই যে এখন এরকম একটা হট লুকে সামনে এসে মৌকে এলোমেলো করে দিচ্ছে!! এখন যদি মৌ এই লোকের হটনেসের কারণে নিঃশ্বাস নিতে না পেরে ম’রে যায় তো এর দায়ভার কে নেবে? হুম? একটা টি-শার্ট পরে বের হতে পারতো না বুঝি?

—– কি হলো? শরবত টা তো দাও!

মৌ এর হুশ ফিরলো মাহিরের ডাকে। সাথে সাথে লজ্জায় লাল হলো ধবধবে ফর্সা মুখটা। ছিঃ! কি একটা বি’শ্রী অবস্থা। এতোক্ষণ এভাবে চোখ দিয়ে গি’লে খাচ্ছিলো লোকটাকে? কি ভাববে এখন মাহির ওকে? অবশ্যই নি’র্লজ্জ!! নিজের উপরই নিজে বিরক্ত হলো মেয়েটা। তারপর মাহিরের হাতে শরবতের গ্লাসটা দিলো। মাহির এক নিঃশ্বাসে শরবতটা খেয়ে ফেললো। মৌ গ্লাসটা নিতে হাত বাড়াতেই মাহির গ্লাসটা টি-টেবিলে রেখে ওর হাত ধরে একটানে ওকে নিজের কোলের উপর বসিয়ে দিলো। ঘটনার আকস্মিকতায় মৌ হতভম্ব হয়ে গেলো । ক্লেচারে বাঁধা চুলগুলো খুলে পিঠে ছড়িয়ে গেলো সাথে সাথেই। মাহির নিজের মুখটা মৌ এর গলার খুব কাছে নিয়ে আসতেই মৌ হাসফাস করতে লাগলো।

~~~ক….কি করছেন?

—— যেটা তুমি এতোক্ষণ চোখ দিয়ে করছিলে সেটা আমি এখন আমার মুখ দিয়ে করবো…..

মাহির মৌ এর কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বললো। মাহিরের গরম নিঃশ্বাসে মৌ এর শরীর অবশ হয়ে আসছে মনে হচ্ছে। শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিক হচ্ছে ওর।

~~~ ক… কি করছিলাম আমি?

—- আমাকে গি’লে খাচ্ছিলে। এখন আমি তোমাকে গি’লে খা’বো। সবার আগে তোমার এই ধবধবে ফর্সা গলাটাকে টেস্ট করতে করতে তোমাকে পাগল বানিয়ে ফেলবো। তারপর হামলে পরবো তোমার ঐ গোলাপের পাপড়ির মতোন নরম তুলতুলে ঠোঁট দুটোতে। আমার হাতের অবাধ্য বিচরণে যখন তুমি দিশেহারা হয়ে আমার বশে চলে আসবে ঠিক তখনই তোমায় পাজো কোলে তুলে বিছানায় নিয়ে যাবো। তারপর একে একে তোমার কপালে,দু চোখের পাতায়,গালে,নাকে,ঠোঁটে আমার অধরের স্পর্শে পাগলপাড়া করবো তোমায়। আবারো তোমার গলার ভাঁজে ভাঁজে আমার ওষ্ঠপুটের ঝড় তুলবো। তারপর গলা থেকে আরেকটু নিচে নেমে তোমার বু…….

এতোক্ষণ কথাগুলো মৌ এর গলায় মুখ ডুবিয়েই হাস্কিটোনে বলছিলো মাহির। মৌ ওর কথাতেই দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে, আর সহ্য করতে পারলো না। এক হাত মাহিরের ঠোঁটের উপর চেপে ধরলো। রুখসাত রুষা পেইজে ফলো এবং লাইক দিয়ে নতুন নতুন গল্প পেতে পাশে থাকুন।

~~~ প….প্লিজ থামুন।

—— শুরুই তো করলাম না। মুখে বলছি তাতেই যদি এই অবস্থা হয়, করতে গেলে তোমাকে তো আস্ত খুঁজেই পাওয়া যাবে না। রোমান্টিক গল্প পড়ে তাহলে কি লাভ হচ্ছে বলো যদি রোম্যান্স-ই না নিতে পারো?

মাহিরের কথাটা শুনেই চোখ বড় বড় হয়ে গেলো মৌ এর। তারমানে? তারমানে মাহির ওর মোবাইল চেক করেছে ? এতোক্ষণের আবেগ সাইডে ফেলে মৌ কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো…

~~~ আপনি আমার মোবাইল চেক করেছেন?

—– বউ যদি স্বামী ছেড়ে মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয় তাহলে দেখতে হবে না মোবাইলে কি এমন আছে ?

মৌ লজ্জায় হাসফাস করতে লাগলো। মান সম্মান সব শেষ বেচারির । মাহিরের বুক ঠেলে ওকে সরিয়ে উঠতে চাইলো কিন্তু পারলো না উল্টো মাহির ওর কোমরে এক হাত পেঁচিয়ে আরো কাছে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। চুলগুলো কানের পাশে গুজে দিয়ে বললো…

—— আমিও তোমার কাজিন + স্বামী। আমাদের সম্পর্কও হালাল। আমাদের বাসরটাও এখনো হয়নি। তোমার ঐ গল্পের সাথে মিলে গেছে অনেকটাই। বাসর পর্বেই যেহেতু আছো তাহলে আগে নিজে সেড়ে তারপর না হয় পড়ো, তাহলে আরো ভালো করে রিলেট করতে পারবে আই গেইস।

লজ্জায় কান গরম হয়ে গেলো মৌ এর। লোকটা ওর পড়া লাস্ট পর্বটাই দেখেছে তাহলে। সত্যি বলতে বাসর পর্বটা দেখেই ও খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলো।

—— তবে বিশ্বাস করো তোমার ঐ গল্পের নায়কের মতো তোমাকে কোলে তুলে বিছানা অব্দি নিয়ে যাওয়ার মতো ধৈর্য্য আমার হবে না মনে হচ্ছে। প্রথম বা’সরটা না হয় সোফাতেই হোক পাখি…বিকজ রাইট নাও, আ’ম রিয়েলি ক্রেভিং ফর ইউর বডি….

বলেই মৌ এর গলা থেকে ওড়নাটা টেনে কোথাও একটা ফেলে দিয়ে মুখ ডুবালো গলার ভাঁজে। ভেজা চু’মুতে দিশেহারা করতে লাগলো মেয়েটাকে। ওদিকে স্বামীর এমন অ’স্থির ছোঁয়ায় নিজেও পা’গলপাড়া হয়ে যাচ্ছে মৌ। সামলাতে পারছে না নিজেকে। তবে আবার মনে পরলো দরজাটাও লক করা নেই….

~~~ দ…দরজা খোলা… কেউ এসে পরবে…

ফিসফিস করলে বললো মৌ।

—– নক না করে কেউ আসবে না….

প্রত্যুত্তোরে ফিসফিসালো মাহির ও। গলা ছেড়ে এবার মৌ এর অধরের দখলদারি নিলো মাহির। চু’মু এবং কা’মড়ে অস্থির করে তুলতে লাগলো নিজ অর্ধাঙ্গিনীকে। নিজেকে সামলাতে মৌ এক হাতে আঁকড়ে ধরলো মাহিরের ভেঁজা চুল আর অন্য হাতে খাঁমচে ধরলো সোফার কভার। মাহিরের অবাধ্য হাতের বিচরণে গুঙিয়ে উঠলো মেয়েটা। মৌ কে একটু বিরতি দিলো মাহির। ওর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো…..

—— কন্টিনিউ করবো? থামতে পারছি না তো….পারবো ও না…. তুমি. কি… আই মিন ক্যান আই?

মৌ বুঝলো মাহির ওকে কি জিজ্ঞেস করলো। বরিশাল থেকে ফিরেই মৌ এর পি’রিয়ড শুরু হয়েছিলো। সেটাই ঠিক হয়েছে কি না জিজ্ঞেস করতে চাইছে মাহির। মৌ নিচের ঠোঁট কামড়ে সম্মতিসূচক মাথা নাড়ালো শুধু।

মাহির আবারো আঁকড়ে ধরলো মৌ এর ওষ্ঠপুট। চু’মু খেতে খেতেই মাহির যখন মৌ এর জামার চেইনে হাত দিলো ঠিক তখনই বাহির থেকে শোনা গেলো নিলার কন্ঠ….

“ভাবি, আপনেরে ছোট খালাম্মায় ডাকতাছে।”

নিলার কন্ঠ শুনেই মৌ ছিটকে সরে গেলো মাহিরের কাছ থেকে। মাহির ওর মাঝে মত্ত থাকায় আটকানোর সুযোগ পায় নি। মৌ সরতেই সোফায় দু’হাত মেলে দিয়ে উপরে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে হাঁপাতে লাগলো ছেলেটা। এদিকে মৌ নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। দ্রুত উঠে ওড়না খুঁজতে লাগলো মেয়েটা। পেয়েও গেলো একটু পর। আয়নার সামনে গিয়ে তড়িঘড়ি করে নিজেকে ঠিক করে মাথায় জড়িয়ে নিলো ভালো করে। গলায় হালকা হালকা লালচে দাগ। বেশি গাঢ় না। দেখে ভালোভাবে ঢেকে নিলো। একবারও আর তাকালো না আর মাহিরের দিকে। তবে দরজার সামনে যেতেই মাহির বললো….

——- বি রেডি ফর টুনাইট! আ’ম নট প্ল্যানিং টু বি অ্যা জেন্টলম্যান এট অল!

#চলবে?

#অনুভবে_শুধুই_তুমি
#রুখসাত_রুষা
#পর্ব২৬

**************************
রাত এখন প্রায় পৌনে এগারো টা। খাবার খেয়ে একটু আগেই সবাই যার যার ঘরে এসেছে । মাহির একটু বাহিরে গিয়েছে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনতে। তবে যাওয়ার আগে আবদার করে গেছে মৌ যেনো একটা শাড়ি পরে। লাস্ট মৌকে শাড়ি পরা দেখেছিলো ওদের বিয়ের দিন।তারপর আর শাড়ি পরা মৌকে দেখেনি মাহির। সব সময় থ্রি-পিস পরাই দেখেছে। তাই আজকের রাতটাকে আরেকটু স্পেশাল বানাতে শাড়ি পরার আবদার রেখেছে ছেলেটা।

ওদিকে মৌ লজ্জা রাঙা বদনে হাস ফাঁস করতে করতে অবশেষে শাড়িটা পরেই নেয়। ভেতরে ভেতরে কেমন যেনো লাগছে মৌ এর। না জানি কি হতে চলেছে আজ তাঁর সাথে। বয়স আঠারো হলেও স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক সম্বন্ধে মোটামুটি ধারণা আছে তাঁর। এস এস সির পর ওর ক্লাসে পড়ুয়া অনেক মেয়েদেরই বিয়ে হয়ে যায় । ভালো সম্পর্ক ছিলো এমন দু চারজনের বিয়েতে গিয়েছিলো ও। বাড়ির কাছাকাছি থাকায় দু একবার দেখাও হয়েছে। আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে কতশত বেফাঁস কথাবার্তা বলে ফেলতো মেয়ে গুলো। সেখান থেকেই মোটামুটি ধারণা আছে। তবে পুরোপুরি বিষয়ে অবগত নয় সে। তবে বিগত কয়েক দিনে মাহিরের ছোঁয়ায় নিজের মধ্যে অনেক কিছুরই পরিবর্তন লক্ষ্য করেছে মৌ।

এখন তো মাহিরের সামান্য স্পর্শও ওকে পাগল করে দিতে সক্ষম। বেহায়া মনটা বারবার শুধু ঐ স্পর্শ চায়। চায় মাহির যেনো থেমে না যায়,আরোও গভীরভাবে ছোঁয় ওকে। কিন্তু এরূপ চাওয়ার কারণটা ঠিক বুঝতে পারে না মৌ। এর থেকে বেশি আর কি করেই বা ছোঁবে ওকে!! বোঝেনা মৌ। তবুও কেমন যেনো লাগে ওর কাছে। ইদানীং মাহিরের অফিস যাওয়াটাও ওর কাছে ভালো লাগে না। মনে হয় সারাক্ষণ মাহির ওর সাথেই থাকুক। ওকে বুকে নিয়ে শুয়ে থাকুক কিংবা ওর পাশে বসে ওর সাথে রাজ্যের গল্প করত থাকুক আথবা দুজন খুনসুটি করতে করতে সারাদিন কাটিয়ে দিক তবুও যেনো মাহির ওর কাছেই থাকুক। মাহির যে এভাবে ওকে বশ করে ফেলবে ভাবলেও অবাক হয় মৌ। অথচ এক সময় দুজন দুজনকে চিনতো ও না। একপ্রকার বাঁধ্য হয়েই দুজন দুজনকে কবুল বলেছিলো অথচ সেই পবিত্র সম্পর্কের কি জোড়! কেবলমাত্র চার মাসেই মাহির বলতে পা’গল সে!! আচ্ছা মাহিরও কি ওর জন্য এমন পা’গল? মাহিরও কি সারাক্ষণ ওকে কাছে চায়? নাকি আর দশটা দম্পতির মতোন সম্পর্কটাকে স্বাভাবিক করবে বলেই এসব? না তা কেনো হবে? এ চার মাসে ওদের সম্পর্ক যতটা এগিয়েছে সবকিছু মাহিরের উদ্যোগেই । মাহির সবসময় ওকে প্র’টেক্ট করে গেছে,আগলে রেখেছে,ওর জন্য লড়াই করেছে তাই মাহিরের মনেও যে মৌ এর জন্য কিছু আছে তা বেশ আগেই বুঝতে পেরেছে মৌ। শুধুমাত্র দায়িত্ব থেকে কেউ এতোকিছু কেনো করবে? তাহলে কি আজ ওদের সম্পর্কটা পূর্ণতা পাবে? মাহির ওকে সারাজীবনের জন্য নিজের করে নিতে যাচ্ছে ওকে?

ভেবেই গাল দু’টো লজ্জায় লাল হলো মৌয়ের। আয়নাতে নিজেকে একবার দেখে নিজেই মুগ্ধ হলো। মাহিরের পছন্দ হবে এই সাজ? ওর জন্যই সেজেছে মৌ। যদিও একদম সিম্পল কিন্তু এতেই যেনো মৌকে পরীর মতো লাগছে । আচ্ছা মাহির ওকে দেখে কিভাবে রিয়েক্ট করবে ? ঐ নায়কদের মতো ওর রুপে মুগ্ধ হয়ে চোখ বন্ধ বুকে হাত রেখে পরে যাবে কি? মনে করে নিজেই লজ্জা পেলো মেয়েটা।

দরজায় টোকা পরতেই কল্পনার জগৎ থেকে বাস্তবে ফিরলো মৌ।

“ভাবি, ও ভাবি দরজা খোলো।”

মৌ একবার ঘড়ি দেখল, বিশ মিনিট কম বারোটা বাজছে। এতো রাতে মিম আর মিতু এই ঘরে কেনো? কিছু কি হয়েছে নাকি? ওরা তো এতো রাত অব্দি জেগে থাকে না! তাহলে? তড়িঘড়ি করে দরজা খুললো মৌ। মৌ কে দেখেই চোখ বড় বড় হয়ে গেলো দুজনের। রুখসাত রুষা পেইজে ফলো এবং লাইক দিয়ে নতুন নতুন গল্প পেতে পাশে থাকুন।

“একি ভাবি, তুমি তো দেখছি পুরোপুরি তৈরি হয়ে বসে আছো। আর আমরা ড্রেস অব্দি চেইঞ্জ করলাম না? এটা কোনো কথা বলতো মিম? তুমি আগে বলবে না তুমি শাড়ি পরবে? তাহলে আমরাও ড্রেস চেইঞ্জ করে ভালো জামা পরতাম!”

অসহায় কন্ঠে বলা মিতুর কথাগুলো মৌ এর মাথার উপর দিয়ে গেলো। মাহিরের আবদারে না ও শাড়িটা পরলো। তাহলে মিম আর মিতুকে কেনো জানাতে যাবে একথা? কি বলবে? তোমাদের ভাইয়া আমাকে শাড়ি পরতে বলেছে? আর ওরাই বা ড্রেস চেইঞ্জ করবে কেনো?

~~~ আমি তো এমনি……

“আচ্ছা আচ্ছা সমস্যা নেই। আমাদের জামা পাল্টে রেডি হতে সর্বোচ্চ দশ মিনিট লাগবে। আমরা এই যাচ্ছি আর এই আসছি। তুমি একটু ওয়েট করো,ওকে?”

কথাগুলো বলেই মিতু, মিমকে নিয়ে দৌড় দিয়ে ওদের ঘরে চলে গেলো। মৌ হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে রইলো দরজাতেই। আশ্চর্য!! ওরা কেনো জামা পাল্টাবে? ও না হয় মাহিরের আবদার রাখতে শাড়ি পরেছে, অল্প সেজেছে। ওরা সাজবে কেনো? কিছুই বুঝতে পারছে না মৌ।

ঠিক পনেরো মিনিটের মধ্যে মিম আর মিতু আবারো হাজির হলো মৌ এর কাছে। মৌ কিছু বলার আগেই ওর হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যেতে যেতে বললো….

“চলো চলো ভাবি, সময় নেই বেশি। বারোটা বাজলো বলে….উফফ আমাদের দেরি হয়ে গেলো…ধ্যাত!!”

মৌ কিচ্ছু বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে ওর সাথে। কেনোই বা ওরা ওকে নিয়ে যাচ্ছে আর কোথায়ই বা নিয়ে যাচ্ছে। ওদিকে মাহিরের ও আসার নাম নেই। লোকটা কোথায় গেছে কে জানে।

এসব ভাবতে ভাবতেই মিম আর মিতু মৌকে নিয়ে নিচে নেমে এলো। রেহানা খান আর মুজাহিদ আহমেদ আগে থেকেই দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। মৌ তাঁদের দেখে আরোও অবাক হলো। রেহানা খানের হাতে একটা কেক। কারো জন্মদিন নাকি আজকে? কার? মৌ বুঝতে পারলো না । এমন সময়ই মাহির সদর দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলো। সবাইকে একসাথে দেখে হাতের প্যাকেট টা চটজলদি পকেটে গুজে রাখলো। তারপর এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো…..

—— সবাই এই সময় এখানে কেনো তোমরা?

আড়চোখে একবার মৌকে দেখে হার্টবিট মিস করলো কি মাহির? কি জানি! ভাবাবেগ বুঝা গেলো না।

“তুমি তো ভুলে গেছো কিন্তু আমরা ভুলিনি ভাইয়া। আর আমি ঠিকই বড় আম্মুর কাছে বলে দেবো যে তুমি ভুলে গেছো”

—– কি ভুলে গেছি আমি?

কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো মাহির…

“এখন চুপ থাকো সবাই। আর মাত্র দুই মিনিট বাকি। দাদার ঘরের সামনে চলো।”

বলেই সবাই আস্তে আস্তে এগিয়ে গেলো মুশতাক আহমেদের ঘরের দিকে। মিতু তখনো মৌ এর হাত ধরা। অগত্যা মৌ ও চুপচাপ হাঁটা ধরলো মিতুর পিছু পিছু। এতোক্ষণে মাহিরের মস্তিষ্ক জানান দিলো আজকের তারিখ এবং দিনটি সম্পর্কে। তবে ততক্ষণে অনেক লেইট হয়ে গেছে। রেহানা খান অলরেডি দরজায় টোকা দিয়ে ফেলেছে। তানিশা আহমেদ দরজা খুললো বলে।

মাহির পারছে না মৌকে সেখান থেকে টেনে নিয়ে যেতে। ও কি করে আজকের তারিখটা ভুলে গেলো। আগে জানলে মৌকে নিয়ে কোথাও চলে যেতো। কিন্তু কাজের চাপ,বরিশালের ঐ কাহিনী এবং মুবিনের ঘটনা সবকিছু মিলিয়ে ওর মাথা থেকেই চলে গিয়েছিলো ব্যাপারটা। এখন ও কি করবে! কি করে পরিস্থিতি সামাল দিবে! কিচ্ছু বুঝতে পারছে না বেচারা!!

#চলবে?

#অনুভবে_শুধুই_তুমি
#রুখসাত_রুষা
#পর্ব২৬(২)

**************************
তানিশা আহমেদ দরজা খুলতেই সবাই একসাথে বলে উঠলো……

“Happy Anniversary”

বাক্যটা শুনেই মৌ এর মুখটা ছোটো হয়ে গেলো। সাথে সাথে চোখের কোণে জলও জমলো। এতোক্ষণের জমিয়ে রাখা কৌতুহল সব হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। আজ তাহলে মুশতাক আহমেদ এবং তানিশা আহমেদ এর বিবাহ বার্ষিকী !! এজন্যই সারপ্রাইজ প্ল্যান করেছে সবাই। ততক্ষণে মুশতাক আহমেদও দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে। মৌ একবার তাঁর দিকে তাকালো। মুশতাক আহমেদও মৌয়ের দিকে তাকিয়েছে সেসময়। চোখাচোখি হতেই চোখ নামিয়ে নিলেন ভদ্রলোক। প্রায় প্রত্যেক বছরই রাত বারোটার সময় সারপ্রাইজ পায় উনারা। সবকিছুর মাস্টারমাইন্ড হন রেহানা খানই। ভাসুর এবং বড় জা-য়ের বিবাহ বার্ষিকী ভুলেন না কখনো৷ সাথে কার কবে জন্মদিন, কে কি খেতে ভালোবাসে সবকিছুই রেহানা খানের নখদর্পনে। অতি পরিবার ভক্ত এই ভদ্রমহিলার কাজই যেনো পরিবারের সবাইকে সবসময় হাসিখুশি রাখা,সবসময় সবার আবদার পূরণ করা।

মিম গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে আহ্লাদী কন্ঠে বললো….

“Happy anniversary Abbu”

মুশতাক আহমেদও মেয়ের কপালে চুমু খেয়ে বললেন….

“Welcome Maa”

দুর থেকে দেখে গেলো মৌ। ইতোমধ্যে কান্নারা দলা পাকিয়েছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে মেয়েটার। অন্যদিকে ফিরে হা করে একটা লম্বা শ্বাস টানলো। এসব সবার চোখের আড়ালে হলেও চোখ এড়ায়নি মাহিরের। সাথে সাথে এসে মৌ এর পাশে দাঁড়িয়ে ওর হাতটা মুঠোয় নিয়ে নিলো মাহির। মৌ ও শক্ত করে ধরলো সেই হাত।

“মিম সর তুই,বড় আব্বুকে আমি উইশ করবো এবার”

মিতুর কথায় মিম সরে মায়ের কাছে গেলো আর মিতু গিয়ে ওর বড় আব্বুকে জড়িয়ে ধরে উইশ করলো। তারপর একে একে সবাই তাঁদের উইশ করলো।ইতোমধ্যে সবাই এসে লিভিং রুমে জড়ো হয়েছে। তানিশা আহমেদ এবং মুশতাক আহমেদ মিলে কেক কাটলো এবং একে একে সবাইকে খাইয়ে দিলো।

তানিশা আহমেদ মৌ এর সামনে কেক ধরতেই মৌ কোনোমতে সামলালো নিজেকে। পরে নামমাত্র কেক ঠোঁটে ছুঁইয়ে খাওয়ার অভিনয় করলো। কারণ এই কেক ওর গলা দিয়ে কখনো নামবে না এটা ও ভালো করেই জানে। অপলক তাকিয়ে রইলো বাবা নামক ঐ লোকটার দিকে। কি সুন্দর সবার সাথে হেসে খেলে কথা বলছে। বিবাহ বার্ষিকী পালন করছে। অথচ গত মাসেই এই লোকটার সাথে ওর মায়ের বিবাহ বার্ষিকী ছিলো। আদৌ কি মনে ছিলো এই লোকটার? একবারও কি ওর মায়ের মুখটা মনে পরেছে এই লোকের? মনে পরেছে আজ থেকে উনিশ বছর আগের ঐ দিনে ওর মাকে বিয়ে করেছিলো এই লোক? নানুমনির মুখে শুনেছিলো এক রাতেই নাকি তাঁকে রাজি করিয়ে বিয়ে করেছিলো ওর মাকে! এতো ভালোবাসতো নাকি! আজ কই সেই ভালোবাসা? চোখ থেকে নিজের অজান্তেই পানি পরলো মৌ এর। সাথে সাথেই তা আবার মুছেও ফেললো।

শুরু থেকেই সবকিছু লক্ষ্য করছিলো মাহির। কিন্তু শুধু দেখে যাওয়া ছাড়া কি-ই বা আর করার আছে ওর! পরিস্থিতি তো এখন আর ওর হাতে নেই। ও শুধু মনে মনে দোয়া করছিলো সবকিছু যেনো এখানেই থেমে যায়। তাড়াতাড়ি এসব কিছু শেষ করে মৌকে নিয়ে ঘরে ফিরতে পারে। নয়তো ওর মনে চলতে থাকা আ’শঙ্কাটা যদি কোনোমতে সত্যি হয়ে যায় আর মৌ এতোদিনের লুকিয়ে রাখা সেই সত্যিটাও জেনে যায় তো ওকে সামলানো আরোও কঠিন হয়ে পরবে। তাই মনে মনে দোয়া করছে যেনো এসব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। কিন্তু সবকিছু কি আর আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়? মাহিরের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হলো। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে যোগ হলো মিমের বলা কিছু বাক্য….

“মুবিন ভাইয়ার অসুস্থতা আর সবকিছু মিলিয়ে এবারের বিবাহ বার্ষিকীটা শর্টকাটে পালন করলেও সামনে কিন্তু বিশ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে আব্বু। তখন কিন্তু তোমাদের দুজনের বড় করে অনুষ্ঠান করবে বলেছেন ছোট আম্মু। আবারও বিয়ে দিবো আমরা।তুমি কিন্তু না করতে পারবে না আর ”

মিতু সাথে সাথেই খুশিতে লাফিয়ে উঠলো। রুখসাত রুষা পেইজে ফলো এবং লাইক দিয়ে নতুন নতুন গল্প পেতে পাশে থাকুন।

“ইয়েএএএএ!!! ফাইনালি আমরা আবারো বড় আব্বু এবং বড় আম্মুর বিয়ে খেতে পারবো”

“এরা যে কবে থেকে এই দিনটার অপেক্ষা করছে। আমাকে আজকেও বলছিলো কবে বিশ বছর পূর্ণ হবে আর কবে এরা আবারো ধুমধাম করে অনুষ্ঠান করবে যেমনটা আমাদের সময় করেছিলো। সত্যি বলতে আমিও অপেক্ষা করছি। নিজ হাতে সবকিছু করবো এবারও। যদিও প্রথমবারও সবকিছু আম্মা আমাকে দিয়েই করিয়েছিলেন।”

পুরোনো স্মৃতি ভেসে উঠলো রেহানা খানের চোখে। সবকিছু তাঁর শ্বাশুড়ি তাকে দিয়েই তো করিয়েছিলেন। ছোট হয়েও বড় ভাসুরের বিয়ের শপিং থেকে শুরু করে বড় জা কে বরণ সবকিছু করেছিলেন তিনি নিজে । সেই অধিকারটুকুও তাঁর শ্বাশুড়ি তাঁকেই দিয়েছিলেন।

তানিশা আহমেদও মুচকি হাসলেন। সবকিছু যেনো চোখের সামনে ভেসে উঠলেন ভদ্রমহিলারও। বিয়ের পর তিন থেকে চার মাস সময় লেগেছিলো তাঁদের সম্পর্কটা এগোতে। প্রথম ধাপটা ছিলো বন্ধুত্বের। তারপর ধীরে ধীরে কিভাবে যেনো সম্পর্কটা আর দশটা দম্পতির মতো হয়ে গেলো। হঠাৎ করেই বন্ধুত্ব থেকে আরোও একধাপ এগিয়ে গেলো। এখন সে তাঁর মায়ের বান্ধবীর সেই গম্ভীর ছেলেটার দু সন্তানের জননী। বিশটা বছর কাটিয়ে দিয়েছে এই লোকটার সাথেই। মুশতাক আহমেদের দিকে তাকাতেই চোখাচোখি হলো দুজনের।

*************

মাহির দৌঁড়ে মৌ এর পিছু পিছু ওদের ঘরে চলে এলো। মৌ ততক্ষণে আলমারি থেকে ব্যাগ বের করে তাতে কাপড়চোপড় ভরতে ব্যস্ত। মাহির দ্রুত হাতে দরজা লক করে মৌ এর কাছে ছুটে আসলো…

—— ক….কি করছো? জামা কা…কাপড় গো….গোছাচ্ছো ক…..কেনো?

মাহিরের কাঁপা কাঁপা কন্ঠ শুনতেই মৌ হাতে থাকা জামাটা ব্যাগের উপর আছড়ে ফেলে মাহিরের কাছে গিয়ে দু হাতে ওর টি-শার্টের কলার চেপে ধরলো….

~~~ আপনি….আপনি আগে থেকেই জানতেন তাই না? আপনি জানতেন ঐ লোকটা….ঐ লোকটা আমার মা জীবিত থাকতেই বড় আন্টিকে বিয়ে করেছিলো? আমার মাকে জীবিত অবস্থাতেই ঠকিয়েছিলো ঐ লোকটা? আপনি সব জানতেন তাই না? বলুন? সব জানতেন আপনি? তবুও সবকিছু এতোদিন লুকিয়ে গেছেন? সত্যিটা আমাকে বলেন নি? কেনো? কেনো?

মাহির এই ভয়টাই পাচ্ছিলো এতোক্ষণ। তারমানে মৌ ঠিকই হিসেব করে বের করে ফেলেছে সবকিছু। মাহিরের কলার ছেড়ে নিজের কপালে হাত রাখলো মৌ। কাঁদতে কাঁদতে আর্তনাদ করে বললো….

~~~ আর আমি, আমি কিনা এতোদিন ধরে ভাবছিলাম যে আমার মা মারা যাওয়ায় তিনি দ্বিতীয় সংসার পেতেছেন। কিন্তু সত্যিটা হলো আমার মা থাকতেই ঐ লোকটা দ্বিতীয় সংসার পেতেছিলো। আমার মাকে বিয়ে করার এক মাসের মাথায় দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলো ঐ প্র’তারক লোকটা…

চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো মৌ। সবকিছু অসহ্য লাগছে ওর কাছে। মাহির গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করলো কিন্তু মৌ শান্ত তো হলোই না বরং ধাক্কা মেরে মাহিরকে সরিয়ে দিলো….

~~~ গত মাসে….গত মাসে আমার মা আর ঐ লোকটার বিবাহ বার্ষিকী ছিলো। আমি নামায পড়ে আমার মায়ের জন্য দোয়া করেছি সেদিন। অনেক দোয়া করেছি। তারপর সারাদিন আমি ঐ লোকটাকে পর্যবেক্ষণ করেছি। আমার সাথে দু তিনবার দেখাও হয়েছে। কিন্তু একবারও তাঁর চোখে এই দিনটি নিয়ে অন্যরকম কোনো কিছু দেখিনি। আর দশটা দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিলো ঐ লোক। তবুও কোনো বদ’দোয়া করিনি আমি। অথচ আজ কি সুন্দর হেসে হেসে দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে বিবাহ বার্ষিকী উদযাপন করছিলেন। কেনো? কেনো ঠকালো আমার মাকে? আমাকে? কি দোষ ছিলো আমার মায়ের? গ্রামের মেয়ে বলে? আআআআআআ…..

নিজের চুল খামচে ধরলো মৌ। মাহির আবারো ওকে শান্ত করতে চাইলো কিন্তু মৌ এবারও ওকে দুরে সরিয়ে দিলো….

~~~ সরুন,একদম আমাকে শান্ত করার চেষ্টা করবেন না, থাকবো না আমি এ বাড়িতে….আর এক মুহুর্ত ও না। সবাই স্বার্থপর, সবাই। কেউ আমার আপন না। কেউ না। আপনিও না। থাকবো না আমি,থাকবো না।

বলেই মৌ আবারো ব্যাগ গোছাতে লাগলো। মাহির এবার গিয়ে মৌকে পেছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। মৌ সমানে কেঁদেই যাচ্ছে। নিজেকে ছাড়াতে ব্যস্ত হলো মাহিরের বাহুডোর থেকে।

—– প্লিজ পাখি, শান্ত হও। এভাবে হাইপার হইয়ো না। অসুস্থ হয়ে যাবা। একটু শান্ত হও। আমরা বসে কথা বলি। প্লিজ।

~~~ ছাড়ুন আমাকে।।। ছাড়ুনননননন….. কিসের কথা? আর কোনো কথা বলার নেই। আমার সিদ্ধান্ত নেওয়া শেষ। থাকবো না আমি এই বাড়িতে।।। এক মুহুর্তও না।

বলেই আবারো নিজেকে ছাড়াতে চেষ্টা করলো মৌ। কিন্তু পারলো না। উল্টো ক্লান্ত হয়ে নেতিয়ে পরলো এবার. মাহির চুপ হয়ে আছে। কিচ্ছু বলচে না। কি সাফাই দিবে বড় আব্বুর তরফ থেকে? অন্যায় করেছেন উনি। তাই কোনো সাফাই গাইবে না ও। কিছুক্ষণ পর নিরবতা ভেঙে মৌ নিজেই বললো…

~~~ আরো কত কিছু জানা বাকী আমার? আর কতো সইতে হবে আমাকে? আর কতো? এই ছোট্ট জীবনটায় এতোকিছুর মুখোমুখি হয়েই তো হাপিয়ে গেছি। আর পারছি না তো। ছাড়ুন না,যেতে দিন না আমায়, প্লিজ। এখান থেকে দুরে যেতে চাই আমি। অনেক দুরে। ঐ লোকটাকে সহ্য করতে পারবো না আর আমি। পারবো না।

মাহির সেভাবেই আগলে রাখলো ওকে।ছাড়লো না। বরং আরেকটু নিবিড়ভাবে আগলে নিলো….

—– আমাকে ছেড়ে যেতে পারবে? থাকতে পারবে? আমি কি কেউ না? আমার জন্য কি থাকতে পারবে না? মায়া হয় না আমার জন্য? আমার জন্য থেকে যাও না, জান! প্লিজ?

মাহিরের এমন অসহায় কন্ঠে কিছুটা নরম হলো কি মৌ এর মন? কি জানি বোঝা গেলো না,তবে পরক্ষনেই মৌ মাথা এলিয়ে দিলো মাহিরের প্রশস্ত কাঁধে।

~~~ আমাকে দুরে কোথাও নিয়ে চলুন না মাহির ভাই? সবকিছু ভুলিয়ে দিন না। আমি এসব আর জানতে চাই না। মনে রাখতে চাই না। কি করলে সব ভুলে যাবো? আমার মাথাটা ফে’টে যাচ্ছে ব্যথায়। প্লিজ আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলুন…. সবকিছু ভুলিয়ে দিন…প্লিজ…. কি করবো আমি? কি করে ভুলবো এসব? এসব ভুলার জন্য কোনো ঔষধ থাকলে দিন না। প্লিজ? সহ্য হচ্ছে না তো।

মাহির কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো….

—– আমি ভুলিয়ে দেই সব কিছু?

#চলবে?

#অনুভবে_শুধুই_তুমি
#রুখসাত_রুষা
#পর্ব২৭ (বা*সর পর্ব)

(প্রাপ্ত বয়স্ক এবং মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত)

**************************

মধ্যরাত থেকেই ধরনীজুড়ে চলছে বৃষ্টির রিনিঝিনি নৃত্য। সবুজ ঘাসের ওপর মুক্তোর মতো ঝলমল করছে শিশিরবিন্দু।মে মাসের ভ্যাপসা গরমের মধ্যেও আজকে চারপাশজুড়ে যেনো হালকা শীতের আমেজ বইছে। এরকম একটা আবহাওয়া তারউপর ফুল ভলিউমে চলছে মাহিরের ঘরের ফ্যানটা। বিশাল বড় খাটের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে আছে মাহির। কোমর অব্দি পাতলা কম্ফোর্টার টানা বাকী পুরো শরীর উদোম। শীত শীত লাগতেই ঘুম ছুটে গেলো মাহিরের। পিটপিট করে চোখ খুলেই একবার পাশ ফিরে চাইলো। মৌ কে দেখতে না পেয়েই তড়িৎ গতিতে উঠে বসলো। তারপর পাশ ফিরে তাকিয়ে দেখলো গত রাতে উ’ত্তেজনা বশত বিছানা থেকে ফেলে দেওয়া মৌ এর গুছানো ব্যাগটাও নেই। অজানা আ’শঙ্কায় শরীরটা কেমন ঝাঁকি দিয়ে উঠলো মাহিরের। তড়িঘড়ি করে উঠেই দরজার সামনে যেতেই পা’জোড়া আটকে গেলো। দরজা ভেতর থেকে লকড। তারমানে মৌ ঘরের বাইরে বের হয়নি। ওয়াশরুমে দেখলো, নেই। গিয়ে পর্দা সরাতেই চোখের সামনে ভেসে উঠলো খুবই মনোমুগ্ধকর এবং স্নিগ্ধ একটা দৃশ্য।

মিষ্টি কালারের টি-শার্ট এবং একটা সাদা প্লাজো পরে বারান্দায় রকিং চেয়ারে পা গুটিয়ে হেলান দিয়ে বসে আছে মৌ। হাঁটু অব্দি চুলগুলো ছেড়ে রাখা হয়তোবা শুকোতে দিয়েছে। হাতে ধোঁয়া উঠা এক মগ কফি। কফিটা ও ঘরেই কফি মেকারে বানিয়েছে বুঝতে পারলো মাহির। মৌ সাধারণত চা খায়। অলসতা করে যখন নিচে যেতে ইচ্ছে করে না তখন কফি খায় মেয়েটা। আজও হয়তো নিচে যেতে শরীর সায় দেয়নি তাই কফি বানিয়েছে। একটু পরপর চুমুক দিচ্ছে আর প্রকৃতি উপভোগ করছে বারান্দায় বসে। মাহিরের বারান্দা থেকে বাগানের পেছন সাইড টা দেখা যায়। রঙ বেরঙের ফুল ফুটে আছে বাগানে। দু তিনটা প্রজাপ্রতি উড়ো উড়ি করছে, সেগুলোর দিকেই এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে মৌ।

মৌকে দেখেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো মাহির। পাশে না দেখতে পেয়ে ভেবেছিলো হয়তোবা রাগের বশে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছে। কিন্তু না,মাহিরের ভালোবাসায় আটকে গেছে মৌ। চিরতরে আটকা পরেছে মাহিরের বাহুডোরে। চাইলেও আর ওকে ছেড়ে যেতে পারবে না। মাহির যেতেই দিবে না। যেভাবে গত রাতেও যেতে দেয়নি। নিজের ভালোবাসা দিয়ে আটকে রেখেছিলো ঠিক সেভাবেই আজীবন আটকে রাখবে। এক মৃ’ত্যু ব্যতীত মাহিরের কাছ থেকে মৌ এর আলাদা হওয়া বারণ।

বিগত রাতের কথা মনে পরতেই ঠোঁটের কোণে হাসি খেলে গেলো মাহিরের। অবশেষে গত রাতে পুরোপুরি মৌকে নিজের করে পেয়েছে মাহির। এখন ওদের সম্পর্কটা পরিপূর্ণ। না কোন জোর’জবরদস্তির সম্পর্ক, না কোনো দায়-দায়িত্ব আর না আছে কোনো বাধ্যবাধকতা। যা আছে তা কেবলমাত্র দুজন দুজনের প্রতি বিশ্বাস,ভরসা এবং ভালোবাসা। জোড় করে,বাঁধ্য হয়ে হওয়া বিয়েটাকেই অবশেষে ভালোবাসা দিয়ে গত রাতে পূর্ণতা দিয়েছে মাহির এবং মৌ দুজন মিলে। মাহির আহ্বান জানিয়েছে আর ওর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছে মৌ। সেসব মনে পড়তেই ঠোঁট কামড়ে হাসলো মাহির।

***********************
(বিগত রাত)

—— আমি ভুলিয়ে দেই সবকিছু?

মৌ কে ওর দিকে ঘুরিয়ে কথাটা বললো মাহির। মাহিরের এমন কথায় মৌ একবার মাহিরের দিকে তাকালো। চোখ দিয়ে অনবরত পানি পরছে ওর। নাক টানছে সমানে।

~~~ আপনি পারবেন না মাহির ভাই। পারবেন না আপনি। এসবকিছু, ঐ লোকটার ধোঁকা, আমার মাকে,আমাকে ঠকানো এসব কিছু ভুলে যাওয়া এতো সহজ না। ঐ লোকটাকে দিনের পর দিন চোখের সামনে দেখে কিছুতেই ভুলতে পারবো না আমি। কিছুতেই না। তারচেয়ে বরং আপনি আমাকে যেতে দিন প্লিজ। আমি একটু শান্তি চাই, স্বস্তি চাই। আমাকে যেতে দিন মাহির ভাই। দোহাই লাগি যেতে দিন।

কাঁদতে কাঁদতে মৌ আছড়ে পরলো মাহিরের প্রশস্ত বুকে। মাহিরও ওকে আগলে নিলো। ওর মাথায় এক হাত রাখলো।

—– আমি জানি তোমার জন্য এসব কিছু ভুলা এতো সহজ নয়। ইনফেক্ট কারো জন্যই সহজ নয়। কিন্তু ভুলতে তোমাকে হবেই মৌ। এসবকিছু ভুলতে হবে। এখানে থেকেই ভুলতে হবে। তুমি দুর্বল নও মৌ। তুমি স্ট্রং। তোমাকে আরোও স্ট্রং হতে হবে। আমি চাইলেই তোমাকে নিয়ে অন্য কোথাও শিফ্ট করতে পারি কিন্তু আনি তা করতে চাই না। আমি চাই তুমি এখানে থেকেই এগুলো ফেইস করো। উনার সামনে থেকেই তোমাকে দেখিয়ে দিতে হবে তোমার উনার পরিচয়ের দরকার নেই। এমনকি আমার পরিচয়েরও দরকার নেই তোমার। তুমি নিজে নিজের পরিচয় বানাবে মৌ। নিজের পরিচয়ে বাঁচবে তুমি। তোমার অন্য কারোর পরিচয়ের প্রয়োজন নেই। এজন্য তোমাকে আগে স্ট্রং হতে হবে মৌ,এভাবে দুর্বল হলে চলবে না। এখানে থেকে বড় আব্বুকে দেখিয়ে দাও তোমার উনাকে প্রয়োজন নেই। তুমি নিজেই তোমার জন্য যথেষ্ট।

মৌ মুখ উঁচিয়ে মাহিরের দিকে তাকালো। দৃষ্টি মিললো দুজনের।

~~~ আমি পারবো না। পারবো না আমি। যেতে দিন না। চোখের সামনে দেখতে হবে উনাকে আমার। কষ্ট হবে তো। বারবার মনে পরবে সবকিছু। পারবো না ভুলতে। কেনো সহ্য করবো আমি এতো কিছু? কেনো?

মাহিরের বুকে মুখ গুঁজে আবারো ডুকরে উঠলো মৌ।

——- আমার জন্য? আমার জন্য থেকে যাও প্লিজ? আমার কি দোষ বলো? বড় আব্বুর করা অন্যায়ের জন্য আমি কেনো সা’জা পাবো? আমি কেনো আমার বউ ছড়া থাকবো? পারবো না আমি। তাছাড়া তুমি পারবে আমাকে ছেড়ে চলে যেতে? আমাকে ছাড়া থাকতে? আমার জন্য কি তোমার মনে একটু মায়া জন্মায়নি এই কয় মাসে? বলো?

মৌ অনেকক্ষণ যাবত চুপ হয়ে রইলো। হয়তো মনে মনে কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে মেয়েটা। তারপর আবারো মাহিরের চোখের দিকে তাকালো। মাহিরের তখন ঘোর লাগা দৃষ্টি। রুখসাত রুষা পেইজে ফলো এবং লাইক দিয়ে নতুন নতুন গল্প পেতে পাশে থাকুন।

~~~ সবকিছু ভুলিয়ে দিন আমাকে। পারছি না ভুলে যেতে। ভুলে যাওয়ার কোনো ঔষধ থাকলে দিন। আপাতত সবকিছু ভুলে যেতে চাই মাহির ভাই। প্লিজ।

—– আমি প্রমিস করছি সবকিছু ভুলিয়ে দিবো। পুরোপুরি না পারলেও সাময়িক ভুলিয়ে দিবো। তুমি শুধু আমাকে কো-অপারেট করো। বাকিটা আমি সামলে নিবো।

বলেই মৌ এর কপালে,অশ্রুসিক্ত দু’নয়নে, দু’গালে এবং থুতনিতে চু’মু আঁকলো মাহির। মৌ চোখ বন্ধ করে শুধু মাহিরকে অনুভব করছে। মাহির মৌ এর ঠোঁটে স্লাইড করতে করতে বললো….

—— ভালোবাসি কি না জানি না, তবে এতোটুকু ঠিকই জানি তোমার জন্য যা অবুভব করি পৃথিবীর আর কোনো নারীর প্রতি এমন অনুভূতি আসে না আমার। এক কথায় আমার #অনুভবে_শুধুই_তুমি, শুধুই তোমার অস্তিত্ব, শুধুই তোমার বিচরণ। এই অনুভূতির নাম কি,মৌ? ভালোবাসা? যদি তাই হয় তাহলে বলবো,হয়তো আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। আর সেই অধিকার থেকেই আজ পুরোপুরি তোমাকে নিজের করে নিতে চাইছি মৌ। বলো,হবে আমার? আমার ভালোবাসায় সাড়া দিয়ে আপাতত ভুলে যাবে জাগতিক সবকিছু?

মৌ এর কি হলো কে জানে, মন্ত্রমুগ্ধের মতোন শুধু উপর নিচ মাথা দুলিয়ে সম্মতি জানালো। ব্যস সাথে সাথেই মাহির আঁকড়ে ধরলো মৌ এর ওষ্ঠপুট। নিজ অর্ধাঙ্গিনীর অধরে নিজের ওষ্ঠ দ্বারা ঝড় তুলে এগোলো গলার ভাঁজের দিকে।ভেজা চু’মুর সাথে হালকা কা’মড় বসাতেই গুঙিয়ে উঠলো মেয়েটা। তাতে যেনো আরোও উন্মাদ হলো মাহির। নিজ ঠোঁটের স্পর্শে এবং অবাধ্য হাতের বিচরণে পাগলপারা করতে লাগলো মৌকে । মেয়েটা আবারো ব্যথায় গুঙিয়ে উঠলো…

~~~আহ্…..আস্তে প্লিজ।

মৌ এর অর্তনাদে মাহির একটু থামলো বোধহয় তবে সাথে সাথেই আবারো হামলে পরলো । মৌ ও একটু আগের সকল কষ্ট,যন্ত্রণা সব ভুলে গিয়ে সিক্ত হতে লাগলো স্বামী সোহাগে। এক পর্যায়ে দুজনের পরিহিত জামা-কাপড়গুলো স্হান পেলো টাইলযুক্ত ফ্লোরে। মাহির বিছানায় রাখা মৌ এর ব্যাগটাও নিচে ফেলে দিলো কোথাও একটা। মৌকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে আবারো মুখ ডুবালো ওর নরম গলায়। তারপর নিজ অর্ধাঙ্গিনীর কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বললো….

——- যথাসাধ্য চেষ্টা করবো জেন্ট্যাল থাকার। যদি না পারি তো Please tolerate me if I become a little rude.

মাহিরের কথায় শুকনো ঢোক গিললো মৌ।নিজেকে প্রস্তুত করলো সম্পূর্ণরুপে স্বামীর তরে সোপর্দ হতে। এরপর? এরপর সারা ঘরময় ছড়িয়ে পরলো দুজন কপোত-কপোতীর ভারি শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ এবং সাথে মৌ এর মৃদু শীৎকার।

**********************

মাহির সাবধানতার সাথে থাই গ্লাসটা টেনে বারান্দায় গিয়ে মৌ এর সামনে দাঁড়ালো। ওকে দেখেই মৌ লজ্জামাখা একটা হাসি উপহার দিলো। মাহির সামান্য ঝুঁকে মৌ এর কপাল এবং ঠোঁটে চু’মু খেলো। চোখ বন্ধ করে তা সাদরে গ্রহণ করলে মৌ।

—- গুড মর্নিং।

বলেই বসলো মৌ এর সামনে রাখা টি টেবিলটার উপর।

~~~ গুড মর্নিং। কফি খাবেন? বানিয়ে আনবো?

মাহির কিছু না বলেই মৌ এর হাত থেকে কাপটা নিয়ে তাতে এক চুমুক বসালো। মৌ শুধু মুচকি হাসলো আর কিছু বললো না।

—– কখন উঠলে? ক্ষুধা লেগেছে? ডাকলে না যে?

~~~ একটু আগেই উঠেছি। উঁহু,লাগেনি। কফি খেতে ইচ্ছে করছিলো। আপনি ঘুমোচ্ছিলেন তাই আর ডাকিনি। আপনার ক্ষুধা লেগেছে? কিছু বানিয়ে আনবো?

—– হু, লেগেছে তো। আর খাবারও সামনে প্রিপেয়ার্ড করাই আছে।

এমন বেফাঁস কথায় লজ্জায় লাল হয়ে গেলো মেয়েটা।

~~~ আ..আমি নিচে যাচ্ছি, কিছু লাগলে বলেন নিয়ে আসবো।

বলেই উঠে দাঁড়াতে গিয়ে-ই ব্যথায় চোখ মুখ খিঁচে ফেললো মৌ। মাহির সাথে সাথে উঠে ওকে আগলে নিলো।

—- বেশি খারাপ লাগছে?

~~~ ঐ একটু ব্য…ব্যথা করছে।

—— পেইন কিলার নাও নি?

~~~ ছিলো না তো ঘরে। ভেবেছিলাম আপনি উঠলে বলবো নিয়ে আসতে।

—– সরি গতকাল পেইন কিলারের কথাটা মাথায় ছিলো না। নয়তো রাতেই নিয়ে আসতাম।আচ্ছা তুমি একটু রেস্ট করো। আমি ফ্রেশ হয়ে গিয়ে এখনই নিয়ে আসছি।

~~~ হু।

মাহির মৌকে পাজো কোলে তুলে রুমে নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলো।

#চলবে?